উড়ুক্কু

আয়নামতি এর ছবি
লিখেছেন আয়নামতি [অতিথি] (তারিখ: বুধ, ৩০/০৫/২০১৮ - ৭:০৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১.

টিঙ্কু পাঁচপেয়ের কাছ থেকে ফিরে আসা অবধি গুম হয়ে আছে উড়ুক্কু। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, কিছু একটা ওকে গভীরভাবে ভাবাচ্ছে। শৈশব থেকেই উড়ুক্কু চিন্তাশীল স্বভাবের। কোন ব্যাপারে না জেনে হুটহাট সিদ্ধান্তে পৌঁছায় না। আজ টিঙ্কু পাঁচপেয়ে পাঁজিসহ আরো বিভিন্ন তথ্যসূত্র দেখিয়ে যা বোঝালো তাতে উড়ুক্কু নিশ্চিত, সে এশিয়ান প্রজাতিভুক্তদের একজন।

নিজের বংশপরিচয় উদঘাটনে মরিয়া ছিলো সে এতোদিন। আজ বুড়োর মুখে তথ্যটুকু পেয়ে সামান্য হলেও বুকের ভার খানিকটা নামলো। সাধারণত প্রজাতি সনাক্তের জন্যে ওরা এক ধরনের সংকেত ব্যবহার করে থাকে। শূঁড় দিয়ে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে সংকেত পাঠিয়ে স্বগোত্রীয় অন্যদের সহজে চিনে নেয়। কিন্তু, ঘোট পাকিয়ে বিদ্রোহ বা ষড়যন্ত্র রুখতে ওদের মত যুদ্ধ বন্দীদের সনাক্তকরণ শূঁড়টি উপড়ে নেয়া হয়। টিঙ্কু পাঁচপেয়ে লক্ষণ বিচারে বিশেষ পারদর্শী। যে কারণে উড়ুক্কুর প্রজাতি সনাক্ত করা তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। উড়ুক্কু যুদ্ধ শিশুদের একজন। ওর মতো যারা খাদ্য, বাসস্হান ইত্যাদি দখলের যুদ্ধে হেরে গিয়ে বিজয়ী পক্ষের হাতে বন্দী হয়, তাদের বেশির ভাগই যোগ্যতার ভিত্তিতে শ্রমিক হিসেবে এই কলোনির নানান কাজে নিযুক্তি পায়। পরবর্তী ধাপে সৈন্য বাহিনিতে নাম লেখানো বাধ্যতামূলক। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে রাণী'র জন্য নির্বাচিত কিছু ছেলে পিঁপড়ে দ্রণ হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে যায়। দ্রণের পদ খানিকটা রাজার মতো, তবে ক্ষমতাহীন। আর কে না জানে ওদের সমাজে সব ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকে রাণী। দ্রণেরা সাক্ষী গোপাল। তাদের তেমন কিছুই করতে হয় না। যেকারণে অনেকের কাছে দ্রণের জীবন আরাধ্য। বিশেষ করে ফাঁকিবাজ অনেকেই নির্ঝঞ্ঝাট একটা জীবনের আশায় রাণী মহলের প্রতি ছুঁকছুঁক করে। পায়ের উপর পা তুলে কাটিয়ে দেবার এর চেয়ে ভালো ব্যবস্হা আর হতেই পারেনা।

বাইরের পৃথিবী জানে ওদের সমাজের সবাই দিন রাত বিরামহীন কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত। কথাটা কলোনির বাইরে মুক্ত জীবনে অভ্যস্হ গোত্রের জন্য হয়ত ঠিক। কলোনির জীবনে শীতকালটা গরমকালের তুলনায় খানিকটা কম খাটুনির, তবে একেবারে শুয়ে বসে কাটানোর নিয়ম নেই। নিয়ম মেনে কাজেকর্মে লেগে থাকতে হয়। বিশেষ করে সৈন্য আর শ্রমিকদের বসবার ফুরসতটুকু মেলা ভার। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ওদের মধ্যেও কাজে ফাঁকি দেবার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পরিশ্রমি পিপীলিকা সমাজের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস ছিল মোটামুটি শ্রেণিহীন। যদিও তাদের মধ্যে খাদ্য বাসস্হান ইত্যাদি নিয়ে কোলাহল ক্যাচাল লেগে থাকতো প্রায়। তাদের পৃথিবীর হিসেব সোজা সাপটা। যোগ্যতাই টিকে থাকবার মাপকাঠি। জাতঁপাতের ধার এরা তেমন ধারেনি খুব একটা। পরে জাতপাতের রেষারেষিটা মনুষ্য সমাজের সাথে পাল্লা দিয়ে তাদের মাঝেও সংক্রামিত হয়েছে। আলস্য বা কাজে ফাঁকি দেবার প্রবণতা এদের সমাজে প্রায় অকল্পনীয়, কিন্তু হালে তা মহামারির আকার নিয়েছে। এই কুপ্রবণতাটি মনুষ্য সমাজে বসবাসকারী পিপীলিকাদের মাধ্যমে কলোনিগুলোতে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়াচ্ছে।

ধারণাটা নিছক পাঁচপেয়ের মনগড়া না। পিপলীবিজ্ঞানীরা রীতিমত গবেষণা করে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছিয়েছে। পাঁচপেয়ে এসব নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। এ বিষয়ে সে পিলপিল গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে একটি ধারাবাহিক প্রবন্ধ লিখছে সপ্তাহিক পিপীলিকাবার্তা'র জন্য। আজ খসড়া দেখে দেবার সময়টুকুতে উড়ুক্কুর কাছে আরো কিছু খবরের সাথে এ তথ্যটাও আগাম ফাঁস করেছে বুড়ো। এ কাজটি সে প্রায়ই করে থাকে। পাঁচপেয়ে এই কলোনির শুধুমাত্র রাজপণ্ডিত নয়, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের প্রথম সারির একজন। ইতিহাস, বিজ্ঞান, সমাজকথা ইত্যাদি বিষয়ে তার বিস্তর লেখালিখি। উড়ুক্কুকে এসব কাজে নিজের সহকারী হিসেবে নিয়োগের অনুমতি সে রাণীর কাছ থেকে আদায় করে নিয়েছে। কাজের ফাঁকে যে কোনো তথ্য বা প্রশ্নের উত্তর পেতে উড়ুক্কুর তেমন বধা নেই। তবে উড়ুক্কু কর্তব্য-কাজে অবহেলার পাত্র নয়। নিয়ম করে নিজের কাজ শুরু'র আগে ও পরে দু'দফায় সে পাঁচপেয়ের কাজে প্রয়োজন মত সাহায্য করে। এই বাড়তি দায়িত্ব পালনে সে বিশেষ আনন্দ পায়। তার জানবার আগ্রহ অসীম।

কলোনির বিশেষ মহলের কানাঘুষো, উড়ুক্কু কে রাণী'র একজন দ্রণ হিসেবে নিযুক্তির আলোচনা চলছে। এ তথ্যও পাঁচপেয়ে জানিয়েছে আজ। লেখার খসড়া দেখাবার ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন ইতিহাস, নিয়মিত লেখে যাওয়া ডায়েরি পড়তে দেয়াসহ কলোনীর অলিতে-গলিতে ঘটে যাওয়া গোপন সব তথ্য উড়ুক্কুর কাছে উজাড় করে দিতে না পারলে বুড়ো যেন ঠিক স্বস্তি পায় না। বুড়ো পাঁচপেয়ে উড়ুক্কুকে কোন এক অজানা কারণে ভীষণ পছন্দ করে। অজানাকে জানার অদম্য আগ্রহ আর শান্ত-চিন্তাশীল স্বভাবের জন্যে উড়ুক্কু বিশেষ প্রশ্রয় আর স্নেহ পায় টিঙ্কু পাঁচপেয়ের। যা কলোনির অনেকের গাত্রদাহের কারণ। পেশায় পাঁচপেয়ে রাজপাঠশালার পন্ডিত। যদিও তাদের এই পেশা নিয়ে কোথাও কোন উচ্চবাচ্য হয় না। ওর মতো বিশেষ কয়েকজন এ পেশায়জড়িত। রাণীর ইচ্ছা অনুযায়ী, তার নির্দিষ্ট সংখ্যক সন্তানকে শিক্ষা দেবার জন্য তাদের কলোনিতে রাজপাঠশালা আছে। সৈন্যদের মধ্যে যারা যুদ্ধে আহত হয়ে শারীরিক ভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করে, দক্ষতার বিচারে তাদের বিভিন্ন কাজে নিযুক্তি দেয়া হয়। জ্ঞানের দৌড়ে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবার কারণে টিঙ্কু পাঁচপেয়ে পাঠশালার প্রধান পন্ডিতের পদটি লাভ করেছে।

রাণীর জন্য নির্বাচিত হওয়াটা যেখানে অন্যরা ভাগ্য বলে মানে, সেটাই উড়ুক্কুর জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে আর দশজনের মতো আটপৌড়ে চিন্তা আঁকড়ে দিন পার করতে চায় না। ওর চিন্তা কেবল নিজেকে নিয়েই নয়। পুরোনো শ্রেণীহীন সমাজ ব্যবস্হা ফিরিয়ে আনবার স্বপ্ন দেখে উড়ুক্কু। যার বীজ ঐ টিঙ্কুবুড়োই সযত্নে বুনে দিয়েছে ওর মনে। সেটা কীভাবে সম্ভব, অথবা আদৌও সম্ভব কিনা তার যৌক্তিকতা নিয়ে দিনের পর দিন ভাবছে উড়ুক্কু।

যদিও টিঙ্কুবুড়ো ওকে বার বার সাবধান করেছে। সম্ভাব্য বিপদের কথা বলেছে। কিন্তু সে বাধাদান বা ভয় পাওয়ানোর ব্যাপারটা তেমন জোরালো নয়, সেটা উড়ুক্কু বেশ বুঝে। অর্থাৎ টিঙ্কু পাঁচপেয়ে মনে মনে ঠিকই চায় ওর স্বপ্নের বাস্তবায়নে উড়ুক্কু লেগে থাকুক। যুদ্ধে এক পা হারানো বুড়োটার প্রতি উড়ুক্কু কম ঋণী নয়। আজ ওর জানবার পরিধিতে টিঙ্কুর অসীম অবদান। আর সে এটাও জানে, টিঙ্কু পাঁচপেয়ে তার জীবনের শেষ পর্যায়ে না পৌঁছলে উড়ুক্কুর সঙ্গী হতে দ্বিধা করতো না। কিন্তু টিঙ্কু পাঁচপেয়ের পক্ষে তা সম্ভব নয়, তার পাখার আভাস দেখা দিয়েছে। ওদের জীবনচক্রে পাখার আভাস মানেই মৃত্যুর হাতছানি! অবশ্য রাণী এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। টিঙ্কুবুড়ো না থাকলে উড়ুক্কু সব দিক থেকেই খুব একা হয়ে যাবে। চিন্তাটা তাকে ব্যথিত করলেও আবেগের রাশ টেনে ভবিষ্যৎ কর্তব্য নিয়ে মাথা ঘামাতে চায় উড়ুক্কু। বাঁচোয়া যে, আবেগের অনুভূতি ওর মস্তিস্ক থেকে মুছে যেতে সময় লাগে না।

উড়ুক্কু আপাততঃ রানীমহলে নিযুক্তির ব্যাপারটা নিয়ে বিশেষ চিন্তিত। সম্ভাব্য এই বিপদ কিভাবে এড়ানো যায় সেটা নিয়েই সে গভীর ভাবে চিন্তাগ্রস্হ। বুদ্ধিমানের কাজ হবে আরো দুটো দিন অপেক্ষা করা। কানাঘুষো যখন, ওটা সত্যি নাও তো হতে পারে? নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে যেন উড়ুক্কু।

সম্ভাব্য উত্তরটা তৈরি হবার আগেই হুট করে সামনে এসে দাঁড়ায় শ্রমিক প্রধান হুলোহুলো। ওদের বাকশক্তি বা শ্রবণশক্তি নেই। সাংকেতিক বা লিখিত ভাষায় নিজেদের মধ্যে ভাবের আদান প্রদান সেরে নেয়। এ সময় শরীর থেকে ফেরোমন নামের এক ধরনের গন্ধযুক্ত রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে একে অন্যকে সংকেত পাঠায়। যখন ওরা কোথাও যায় তখন সারা রাস্তায় এই বস্তুটি লেগে যায়। ফেরার সময় সেই গন্ধ শুঁকে শুঁকে কলোনিতে ফিরে আসে। তো, হুলোহুলো সেই সাংকেতিক ভাষায় উড়ুক্কুকে প্রশ্ন করে, 'কাজ নেই তোমার? বিশ্রামের সময় শেষ হয়ে আ--- ধা সেকেন্ড পেরিয়ে গেছে! এখনো বসে কেনো?' আধা শব্দটা বেশ টেনে টেনে বলে মিনিটের খণ্ডাংশ নষ্টের গুরুত্বটাকে ইঙ্গিত করে হুলোহুলো।

নানান ভাবনায় উড়ুক্কু এতোটাই অন্যমনষ্ক ছিলো যে এই ব্যাপারটা খেয়ালই করেনি। নিয়মের প্রতি ওরা সবাই ভীষণ রকমের শ্রদ্ধাশীল। এই আধা সেকেন্ড কর্তব্য কাজে অবহেলা করার জন্য কপালে কি শাস্তি আছে, সেটা ভাবতেই একটা অস্বস্তি ফুটে ওঠে উড়ুক্কুর চোখেমুখে। অপরাধীমুখে কাজে ফিরতে উদ্যোত হতেই, পেছন থেকে বাধা আসে। আঙ্গুল তুলে হুলোহুলো যেদিকটায় নির্দেশ করে, ওদিকটায় রয়েছে শাস্তিগুহা। পৃথিবীর ইতিহাসে পরিশ্রমি প্রাণী হিসেবে পিঁপড়েদের সুনাম আজও অক্ষুন্ন থাকবার পেছনে আইন মেনে চলবার এই কঠোর ব্যবস্হার বিশেষ ভূমিকা আছে। নিয়মভঙ্গকারীর কোন ক্ষমা নেই এখানে। দোষের মাত্রাভেদে বিভিন্ন পর্যায়ের শাস্তির বিধান রয়েছে। শাস্তিগুহার বিটকেলে গন্ধের বিশাল স্যাঁতস্যাঁতে গাছটার কথা ভেবে মনটা বিষাদগ্রস্হ হয় উড়ুক্কুর।

নতমুখে শাস্তিগুহার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে, 'পিপীলিকা ইতিবৃত্তে' বর্ণিত আইনভঙ্গ ও তার শাস্তি বিষয়ক পাতাটায় মনে মনে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়। শাস্তিগুহার গোমড়ামুখো বুড়োটা যেন ওর জন্যেই অপেক্ষা করছিলো। উড়ুক্কুর সেখানে পৌঁছানোর আগেই হুলোহুলোর নিক্ষিপ্ত ফেরোমোনেসের সংকেত গুনগুনবার্তায় বুড়োর কাছে পৌঁছে গেছে। গম্ভীরমুখে সে তার দিকে একখানা প্যাপিরাসের ঢাউস খাতা এগিয়ে দেয়। সেটা পূরণের এক ফাঁকে উড়ুক্কু খেয়াল করে বুড়োর শরীরে পাখার আভাস আসতে শুরু করেছে। তারমানে এই বুড়ো জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে গেছে। আর ক'টাদিন বাদেই বুড়ো মৃত্যু মুখে পতিত হবে।

নিজের কৃতকর্মের জন্যে অনুশোচনা আর শাস্তিগুহা নিয়ে বিরক্তির ভেতরও বুড়োটার জন্য কোত্থেকে একধরণের মমতাবোধ উড়ে এলো ওর মনে! উড়ুক্কুর খুব জানতে ইচ্ছে করলো, এই বুড়ো কী ওর মত যুদ্ধ শিশু? সে জানে তার প্রজাতির পরিচয়? ঠিক কোন সময়কালে, কিংবা কোন ধরনের যুদ্ধবন্দী হয়ে তার এই আগুনমুখো কলোনিতে আবির্ভাব? টিঙ্কু পাঁচপেয়ের কাছে লক্ষণ বিচারের হাতেখড়ি চলছে উড়ুক্কুর। ওর প্রাথমিক বিদ্যার সূত্র বলছে বুড়ো আগুনমুখো প্রজাতির না। ওর দৈহিক আকার, মাথার ছাঁচে পার্থক্য সুস্পষ্ট। প্যাপিরাসের বুকে উড়ুক্কু নিজের নামধাম সব লিখে প্রজাতি পরিচয়ের জায়গাতে এসে থমকে যায়। সদ্যই জেনেছে সে এশিয়ান প্রজাতির। কিন্তু সেটি আপাতত গোপন রাখার ব্যাপারে টিঙ্কু পাঁচপেয়ে পইপই করে বলেছে ওকে। কাজেই দক্ষিণ আমেরিকার আগুনমুখোই লিখতে হবে। ওর থমকানো ভাব দেখে বুড়ো শূঁড় তুলে তাগাদা দেয়, 'আহ্ বাপু জলদি করো!'

গম্ভীরমুখে প্রজাতির ঘরে আগুনমুখোর নামটা লিখে উড়ুক্কু। হটকারিতায় অনেক বিপ্লব ভেস্তে যাবার ইতিহাস সে পড়েছে টিঙ্কু পাঁচপেয়ের ডায়েরিতে। বুড়ো হয়ত সেসব চিন্তা করেই পরিচয় গোপনের কথা বলেছে। যাক, কোনো রকমের বোকামী করা চলবে না। মনে মনে নিজেকে শাসায় সে।

খাতা জমা দিয়ে ঘুরে শাস্তি গুহার দিকে পা বাড়াতেই বুড়োর ঘড়ঘড়ে গলা শুনতে পায়, 'ঠিকই ধরেছো বাছা, আমি যুদ্ধ শিশুই বটে। অস্ট্রেলিয়ান জ্যাক জাম্পারের নাম শুনেছো? ওটা আমার প্রজাতি। আজ স্বজাতি হারিয়ে দাসের জীবন কাটাচ্ছি!' কেমন একটু চমকে ওঠে উড়ুক্কু। আশ্চর্য! বুড়ো কী ওর মন পড়ে ফেলেছে! বিস্ময়ের রেশ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায় না হুলোহুলোর তীব্র সংকেতে, 'বলি হচ্ছে টা কী!' বুড়োর দীর্ঘশ্বাস আর নিজের বিস্ময় পেছনে রেখে উড়ুক্কু দ্রুত পা চালায় গন্তব্যের দিকে।

******
শেষপর্বটা আসতে পারে?


মন্তব্য

সোহেল ইমাম এর ছবি

“আসতে পারে” মানেটা কি। আসুক।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

আয়নামতি এর ছবি

যেই গাঁজাখুরি গল্প, হজমে সমস্যা হয় কিনা তাই জানতে চাওয়া। প্রথম পাতা থেকে সরে গেলে পটাং করে ২য় পর্ব দেয়া হবে।
ধন্যবাদ ভাই।

আয়নামতি এর ছবি

এসব কী!!!! চিন্তিত

সোহেল ইমাম এর ছবি

ক্যাপচার ফেরিওয়ালা নাকি? চিন্তিত

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

হিমু এর ছবি

এমন গল্প পুরোটা একসাথেই দিতে পারেন কিন্তু। দুই লেখার মাঝখানের সময়টুকু এখন মাঝেমধ্যে এতো দীর্ঘ যে গল্পের দ্বিতীয় টুকরো এলে খেই হারিয়ে ফেলতে হয়। এরচে পুরোটা একসাথে দিলে লেখাও হয়, পড়াও হয়।

বাম্বল-বির পুরনো তৎসম নাম "দ্রুণ"। ওটা থেকেই সম্ভবত আদি জার্মান, ডেন ভাষা হয়ে ইংরেজিতে ড্রোন এসেছে। মাতৃতান্ত্রিক পোকাসমাজের কলুর বলদ পুরুষ পোকার একটা পৃথক বাংলাও কিন্তু চাইলে গল্পের উছিলায় প্রণয়ন করে নিতে পারেন (যদি এরই মধ্যে না থাকে)। এভাবেই গল্পে গল্পে শব্দ বেড়ে ওঠে। দ্রণ একটু বেশি ড্রোনঘেঁষা হয়ে যায় না?

পোকার কলোনির বাংলা কী হতে পারে, পড়তে পড়তে ভাবছিলাম। একটু খুঁজে দুটো পেলাম, "টুলি" আর "পাটন"। আমার একটা বদভ্যাস হয়ে গেছে শব্দ খোঁজার, আপনার কলমের ওপর যে কোনো চাপ দিতে চাই না, সেটা আলাদা করে উল্লেখ করে যাচ্ছি।

আয়নামতি এর ছবি

আপনার মতামতের সাথে সহমত হিমুভাই। জানা ছিল না ওভাবে দেয়া যায়। লেখা বেশি বড় এই ভয়ে গল্পটাকে ভেঙে দু'টুকরো করেছি।

মাথা কুটে মরলেও সেরকম বাংলা শব্দ পয়দা করা আমার পক্ষে সম্ভব নহে ভাইজান। আপনিই ভরসা। ঠিক। লেখার সময় ভুল করে অনেক জায়গাতে ড্রোন লিখেছি, পরে পড়তে গিয়ে শুধরে নিয়েছি। পটাং করে পুরুষ পিঁপড়ের একটা নাম দিয়ে দেন দেখি।

বলাই বাহুল্য বাংলা শব্দের অভাবে ''কলোনি''র ব্যবহার। এক্ষেত্রে ''টুলি'' বা ''পাটন'' ব্যবহার করা যেতেই পারে। আচ্ছা রাজ্যপাট থেকে কী ''পাটন'' শব্দ এলো? 'টুলি' শব্দটা ছোট্ট পিঁপড়ের মত তুলতুলে লাগছে। এটাকে গল্পে ব্যবহার করতে চাই- অনুমতি প্রার্থনীয়। আপনার শব্দকল্পদ্রুম প্রকল্প সচল থাকুক বাংলা শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হোক। উৎসাহব্যঞ্জক চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ভাইজান।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

স্প্যাম ঝাড়ু দিতে গিয়ে আমার আগের করা মন্তব্যটা উধাও হয়ে গেছে দেখি! যাই হোক এবার আরেকটা নতুন মন্তব্য করি।

এই লাইনটা বিশেষভাবে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

"শরীর থেকে ফেরোমোনেস নামের এক ধরনের গন্ধযুক্ত রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে একে অন্যকে সংকেত পাঠায়"

পতঙ্গদের যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে এমন কিছু থাকাটা যদি সত্যি হয় তাহলে বিষয়টা সত্যি খুব চিত্তাকর্ষক। এটা নিয়ে কেউ গবেষণা করছে কিনা জানার ইচ্ছে।

পরের পর্ব আসুক।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

আয়নামতি এর ছবি

আপনার মন্তব্যের আত্মহুতিতে মর্মাহত হচ্ছি হারুন ভাই। খাইছে

'পোকামাকরের ঘরবসতি' সহ তাদের আচার আচরণ নিয়ে গবেষণার শেষ নাই। বেশ কিছু আর্টিকেল ঘাটাঘাটি করেছিলাম। কত যে মজার আর অদ্ভুতুরে ব্যাপার স্যাপার ওদের। প্রথম পাতা থেকে সরে যাওয়া মাত্রই পটাং করে দিয়ে দেবো। ধন্যবাদ ভাই।

রংতুলি এর ছবি

বেশ লাগলো পড়তে। পরের পর্বটা দ্রুত পাবো আশা করছি।

আয়নামতি এর ছবি

অনেকদিন পর দেখলাম আপনাকে! পরের পর্ব দ্রুত দেবার আশা রাখি। ধন্যবাদ ভগিনী।

নীলকমলিনী এর ছবি

অন্য ধরণের একটি গল্প যা কিনা পড়তে ঝরঝরে, এক নি: শ্বাসে পড়ে ফেলা যায়। তবে আমিও হিমুর মতো বলবো একেবারেই সবটা দিয়ে দিতে যদি লেখা হয়ে গিয়ে থাকে। তোমার গদ্য আমার খুব পছন্দ। বরাবরের মতই পড়তে ভাল লেগেছে। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলুম।

আয়নামতি এর ছবি

এ বিষয়ে আমিও সহমত নীলুদি। গল্প পড়ে ক্ষেপেটেপে যাননি এখন পর্যন্ত কেউ, এতে দারুণ স্বস্তি পাচ্ছি। আপনার মন্তব্যে দারুণ উৎসাহবোধ করছি দিদি। গল্প পড়ে সহৃদয় মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

তুলিরেখা এর ছবি

দারুণ গল্প। পরের অংশের অপেক্ষায় রইলাম।

আচ্ছা, সেই যে রুদাই লিখতেন, উনি আর আসেন না, লেখেন না? এই লেখা পড়তে পড়তে রুদাই এর কথা মনে পড়ে গেল কেন জানি । সেটাও বড় ভালো লেখা ছিল । হাসি

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

সোহেল ইমাম এর ছবি

যিনি রুদাই লিখতেন তিনি এখন “প্রজেক্ট আইবেক” লিখছেন, পড়েননি?

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

তুলিরেখা এর ছবি

প্রোজেক্ট আইবেক পড়ছি তো! হাসি

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

আয়নামতি এর ছবি

ওরে তুমি ভালো কইলে আনন্দে আকাশে বাতাসে ভাসতে ইচ্ছে করে দিদি! পরের পর্ব এলো বলে।

রুদাই গল্পটা শেষ পর্যন্ত পড়া হয়নি। গল্পটা শেষ হয়েছে কিনা আমার জানা নাই দিদি। ওটা মোখলেস ভাইয়ের লেখা। হ্যাঁ, ওটা যতটুকু পড়েছিলাম দারুণ লেগেছিল। ধন্যবাদ জানিও হাসি

তুলিরেখা এর ছবি

রুদাই শেষ হয় নি তো! সেইজন্যেই তো কৌতূহল ! হাসি

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

আয়নামতি এর ছবি

আহারে 'রুদাই' এর ভাগ্যেও কী সচলের অনেক শেষ না হওয়া ধারাবাহিকের সীলছাপ্পর লাগতে যাচ্ছে! চিন্তিত

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

পিঁপড়াদের বিভিন্ন প্রকারের লাইফস্প্যান বিভিন্ন প্রকার, বিভিন্ন প্রজাতির লাইফস্প্যান বিভিন্ন প্রকার। সেটা কয়েক দিন থেকে এক যুগের বেশি হতে পারে। ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির শ্রমিক, পুরুষ, রাণী পিঁপড়া যাদের হায়াত একেক প্রকার, তাদের নিয়ে কোন সম্মিলিত বিপ্লব প্রচেষ্টা কি কল্পনার হালে পানি পায়? যে দু'সপ্তাহ বাঁচবে তার কি ঠ্যাকা পনের বছর বাঁচনেওয়ালার জন্য বিপ্লবের ঝুঁকি নেবার!


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

আয়নামতি এর ছবি

জ্বী, পিঁপড়েদের লাইফস্প্যান ওরকমই বটে। তবে কল্পনায় কতোভাবেই তো অসম্ভব ভাবনা ভেবে নেয়া যায়। এখন এটা বলা যেতে পারে, সেরকম দৌঁড়ের জোর বা যোগ্যতা আমার আছে কিনা। না, সেরকম যোগ্যতা আমি এখনো রপ্ত করতে পারিনি। কল্পকাহিনি লেখবার একখানা বেসম্ভব ইচ্ছা থেকে এই অসম্ভব গাঁজাখুরি গল্প লেখা। যৌক্তিকতা খুঁজতে গেলে হোঁচট খাওয়া ছাড়া আর কিছুরই প্রাপ্তি হয়ত ঘটবে না। আপনার মন্তব্য পাওয়া সৌভাগ্য মানি পাণ্ডবদা। পোস্ট পাঠের জন্য ধন্যবাদ।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

গল্পটা লেখার ক্ষেত্রে তথ্যে যতোটা অথেনটিসিটি বজায় রেখেছেন তাতে এটা 'কল্পকাহিনী'ই 'অসম্ভব গাঁজাখুরী গল্প' নয়। সেক্ষেত্রে ভিন্ন লাইফস্প্যান ও ভিন্ন ভূমিকার শ্রেণীগুলোকে একটা অভিন্ন লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করার জন্য একটা শক্তপোক্ত 'কল্পনা' এবং ' কাল্পনিক যুক্তি' দাঁড় করাতে হবে। তাহলে গল্পটা একটা 'যৌক্তিক' ভিত্তি পেয়ে যাবে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

আয়নামতি এর ছবি

গল্পটাকে যৌক্তিক ভিত্তি দিতে হলে যে দুটো বিশেষত্বের ( আপনি উল্লেখ করেছেন) প্রয়োজন, সেগুলোর প্রচণ্ড অভাব বোধ করছি পাণ্ডব'দা! দেখা যাক, ভবিষ্যতে এটাকে সেরকম গল্পে দাঁড় করানো যায় কিনা। আপনার সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ পাণ্ডব'দা।

তুলিরেখা এর ছবি

"ব্যক্তির মৃত্যু হলেও থেকে যায় প্রজাতি" এই দর্শণ যদি গ্রহণ করে, তাহলে কয়েক ঘন্টা বা কয়েকদিন আয়ুর পিঁপড়েও একযুগ বাঁচা পিঁপড়ের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে প্রজাতিহিতার্থে।
আমরাও হয়তো নানা এলিয়েনদের সঙ্গে স্টারফ্লীট অ্যাকাডেমিতে কাজ কাজ করবো, এই ১০০ বছরের মতন গড় আয়ু নিয়ে, ওদের হয়তো কারুর আয়ু ৫০০ বছর, কারুর ৭০০ বছর, কারুর ১০০০ বছর। হাসি

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

এক লহমা এর ছবি

পরের পর্ব তাত্তাড়ি! তাত্তাড়ি! দেঁতো হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

আয়নামতি এর ছবি

আরেট্টু সবুর করো বাপু, এলো বলে দেঁতো হাসি

অনিকেত এর ছবি

দারুণ লাগল লেখাটা। আর শব্দটা মনে হয় 'ফেরোমন' হবে!
পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

আয়নামতি এর ছবি

আপনার মন্তব্য পেয়ে দারুণ লাগলো অনিকেত'দা। শব্দটা শুধরে দিচ্ছি।
পরের পর্ব আসিতেছে। আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA