কিছু বুঝে উঠতে না পেরে লিখলাম...

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি
লিখেছেন অনার্য সঙ্গীত (তারিখ: বুধ, ০৭/১০/২০০৯ - ৪:৪৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সচলায়তনে এই লেখাটি প্রকাশিত হবে কিনা সেটি নিয়ে আমি নিতান্ত সন্দিহান। পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত করে তুলবে ভেবে হয়তো লেখাটি অপ্রকাশিত থেকে যেতে পারে। সত্যিকথা হচ্ছে সচলায়তন আমার জায়গা কি না অথবা আমি নিজেই সচলায়তনের যোগ্য কি না সেটি বুঝে উঠতে পারছি না বলে এই লেখাটি লিখছি।

(১)
তানবীরা আপুকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনিনা। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হয়েছে তার কথাকে যে ভাবে নেয়া হয়েছে তিনি সেভাবে বলতে চাননি। আমি জানি না বুঝেও এই কথা লেখা অনেক বড় অন্যায়। তবে আমরা হয়তো আরেকটু সহনশীল হতে পারতাম অন্ততঃ যখন তিনি ভুল স্বীকার করছেন তখন। কিন্তু আমরা সেটা হইনি। এইখানে আমার সচলায়তনকে একটি পরিবার মনে হয়নি।

আলোচনার একপর্যায়ে মনে হয়েছে অনেকেই তানবীরা আপু'র প্রতি রাগে একবার অন্ধ হয়ে গিয়েছেন। নিজেকে সমর্থন করে, ভুলস্বীকার করে, অথবা নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তার বা অন্য কোন ব্লগারের যে কোন কথাকে ঘুরিয়ে উল্টো আরো বেশি উপহাস করা হয়েছে। মনে হয়েছে এটি একটি স্বার্থ সিদ্ধির ইস্যু। এইখানে সত্যি আমার নাকে গোঁড়ামির গন্ধ এসেছে।

প্রতিবাদ অনেকেই করেছেন। অনেকের প্রতিবাদ দেখে, মনে হয়েছে এটি এমন একটি জায়গা যেখানে এমনকি প্রতিবাদও উগ্র নয়।

(২)
সচলায়তনকে আমি সত্যি সত্যি কারো একার অথবা মুষ্টিমেয় কয়েকজনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেছিলাম অরূপ'দার (সচেতন ভাবে বানান ঠিক রাখতে হল হাসি ) মন্তব্য পড়ে। এই লেখাটি আমি লিখতাম না যদিনা গৌতম'দার লেখাটি না পড়তাম। গৌতম'দার লেখায় মনে হল, না, সচল কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি কি না সেটি অন্ততঃ যাচাই করে দেখা যেতে পারে।

যদি সত্যিই সচলায়তন কোন ব্যক্তি বিশেষের হয়ে থাকে তাহলে আমি নিশ্চিত সচল আমার জায়গা নয় (কোনভাবেই বলতে চাচ্ছিনা যে আমার মতো একজর অতিথি সচল না থাকলে সচলায়তনের কিছু যায় আসে)।

(৩)
আমার দু'একবার মনে হয়েছে সচলায়তন নিজের সমালোচনা সহ্য করতে পারেনা। অন্য একটি ব্লগে একটি লেখা পড়ে চমকে উঠলাম। (আমি সচলায়তন ছাড়া অন্য কোন ব্লগের খোঁজও রাখিনা। কেবল বছর তিনেক আগে সা.হো.ইনে একটি লেখা দিয়েছিলাম আর 'আমার ব্লগে' আরিফ ভাইয়ের একটি লেখা পড়েছি একদিন দেঁতো হাসি )। সচলায়তন কি 'মুখ বন্ধ রাখো' নীতিতে বিশ্বাসী! তাহলে তো সচলায়তনে চিত্ত ভয় শুণ্য আর শির উচ্চ হতে পারেনা!

আমি সত্যি সচলকে নিয়ে এখনো আমার ভয়গুলো অমুলক ভেবে শান্তি পাচ্ছি...

(৪)
সবকিছুর পরেও তানবীরা আপুর ভুলটি (আমি যেহেতু তিনি এটি ভুল করেছেন বলেই মনে করি এবং তার এই ভুলের জন্য তার সঙ্গে আমিও ক্ষমা চাইছি সবার কাছে) আমাকে সাহায্য করেছে সহনশীলদের চিনতে। যারা আমার মতো ভাবেন (অথবা আমি যাদের মতো ভাবি দেঁতো হাসি ) তাঁদের চিনতে...

প্রশ্ন উঠতে পারে 'ইয়ের খুব তো চিনলি দলের গরুগুলারে, এখন কি মোড়াইতে চাস!'

অবশ্যই কিছু মোড়াতে চাইনা। সন্ধ্যায় যেটুকু সময় আড্ডা মারি সেটুকু ছাড়া বাকি সময় আমার চারপাশে ধর্মান্ধ'রাই বেশি থাকে। আমার বিশেষ কোন সমস্যা হয়না। আমার মনে হয় সচলদেরও হয়না। কারণ সারা দুনিয়াতেই উগ্র ধর্মান্ধদের সংখ্যাই বেশি।

(৫)
আমি জানি, ওঝার ঘাড়ে ভুত থাকলে আর বাঁচার উপায় থাকেনা। মুক্তচিন্তা গোঁড়া হয়ে উঠলেও তেমনি...


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

এই ত্যানা আর প্যাঁচাতে মন চায় না, আপনি মূলত পাঠকের এই পোস্টটা মন দিয়ে পড়ুন।

সচলায়তনে অন্যব্লগে কী হলো না হলো তা নিয়ে ঘ্যানা প্যাচাল একদম শুরু থেকেই দেখেছি মডুরা নিরুৎসাহিত করে আসছে। আমার কামনা থাকবে তারা যেন সেই অবস্থান থেকে না সরে।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

হিমু এর ছবি

আরেকটা কথা বলি সঙ্গীত। সচলায়তনে কোনো বচসা হলে কিছু লোকের চান্দরাত শুরু হয়ে যায়। স্ক্রিনশট নিয়ে তারা নিজেদের টয়লেটের দেয়ালে টাঙিয়ে হিসি করা শুরু করে। যাদের ব্লগিং ক্যারিয়ার ওর ওপর টিকে আছে, তাদের লেখা মন দিয়ে পাঠ করে সিদ্ধান্ত নিন, সেটিকে বিজ্ঞাপিত করবেন কি না। আপনার লেখায় সম্ভবত ওরকম একটা লিঙ্ক মিসিং আছে।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

সৌরভ এর ছবি

সবাই ব্লগ নিয়ে ব্লগিং করতে এতো আগ্রহী ক্যানো? ব্লগিং করার মতো আরো অনেক টপিক আছে।


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

সুমন চৌধুরী এর ছবি
কুবের [অতিথি] এর ছবি

সৌরভ লিখেছেন:
সবাই ব্লগ নিয়ে ব্লগিং করতে এতো আগ্রহী ক্যানো? ব্লগিং করার মতো আরো অনেক টপিক আছে।

ব্লগ নিয়ে ব্লগিং এর নাম হচ্ছে মেটাব্লগিং। বিখ্যাত প্রোগ্রামার-ব্লগার জেফ অ্যাটউডের মেটাব্লগিং নিয়ে ভয়ানক বিরক্তি দেখতে পারেন এইখানে

সৌরভ এর ছবি

হাহা। যুতসই কোন শব্দ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। মেটাব্লগিং !

লিংকটা চমৎকার। জোয়েল স্পলস্কির রেফারেন্স দিয়েছেন ভদ্রলোক। যখন ছাত্র ছিলাম, ততদিন ওনার সেই বিখ্যাত ব্লগ "জোয়েল অন সফটওয়্যার" অনুসরণ করতাম। এখন আর সময় পাই না।


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

মামুন হক এর ছবি

বেচারা নতুন মানুষ, না বুঝতে পেরে বোঝার উদ্দেশ্যেই একটা বিষয় নিয়ে লিখেছে।
আরেকটু সহৃদয়তা ওর হালাল কামাই।
তবে হিমুর সাথে চান্দরাত বিষয়ে একমত। সুযোগ সন্ধানীদের বেহুদা ফুয়েল জোগনোর মানে হয় না।
তুমি বরং ভাই ভাইরাস বিষয়ক আরেকটা ক্লাসিক লেখা ছাড়ো!!

স্মৃতিহারানি এর ছবি

এই লেখাতে তানবীরা তালুকদারের মন্তব্যগুলি পড়ুন। আবার ভাবুন।

মামুন হক এর ছবি

আপনে আবার আসলেন কোত্থেকে ফোড়ন কাটতে, ত্যানা প্যাচানো বন্ধ করেন।
সৎ সাহস থাকলে নিজ নিকে লিখেন আর নাইলে অফ যান। ছদ্মবেশীদের দেখতে পারিনা একদম।

সবজান্তা এর ছবি

ঠিক কী কারণে আপনার মনে হলো এই নিক ছদ্মবেশী ? হাচল হওয়ার আগে যদি কেউ মন্তব্য করে থাকে তাকে তো এভাবেই লিখতে হবে, তাই না ?

এই মন্তব্যে আমি ত্যানা প্যাঁচানোরও কিছু দেখিনি, ফোড়ন কাটারও কিছু দেখিনি। আমার মনে হয় না, শুধু মাত্র পূর্ণ সচল না দেখে একজন অতিথি লেখকের যৌক্তিক মন্তব্যে আমাদের এমন রূঢ় মন্তব্য করার অধিকার আছে। আশা করি বিষয়টা বিবেচনা করবেন।

আর ভাই অনার্য সংগীত, এই বিষয় নিয়ে গত কয়েক দিনে এতো বেশি কথা হয়েছে যে আমি এতে অংশ নিতেই আগ্রহ বোধ করছি না, কিন্তু আপনার লেখা দেখে মন্তব্য না করে পারলাম না। আপনি কি আসলেই মন দিয়ে সেই লেখাটি পড়েছেন? ঠিক কোন অংশে আপনার মনে হয়েছে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন? ক্ষমা তো তিনি চাননি, বরং প্রচুর অজুহাত দেখিয়েছেন। আর তার পূর্বের লেখাটি কি পড়েছিলেন?

আমার ধারণা, এই লেখাটি লেখার পূর্বে আপনার আরেকটু ভাবা দরকার ছিলো। অনেক কিছু না জেনে, না পড়েই হয়তো আপনি একটা সিদ্ধান্তে পৌছে যাচ্ছেন।

আর সবার উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলতে চাই, মেটা ব্লগিং ( একটু আগে শেখা টার্ম) জিনিসটা আমার মনে হয় না ব্লগের জন্য খুব সুস্থ কিছু। জিনিসটা অ্যাডিক্টিভ। বিভিন্ন ব্লগে ঘোরাঘুরির পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে এর কুপ্রভাব সম্পর্কে ভালোই জানি। আমি জানি সচলায়তনের ভালো কেউই কম চান না, তবে আমার মনে হয়, মডারেটরদের কাণ্ডজ্ঞানের উপর ভরসা রেখে আমাদের শুধু নিজস্ব লেখাতেই বেশি মনোনিবেশ করা উচিত, প্রয়োজনে ঠিকানায় মেইল করা যেতে পারে।

সবাই ভালো থাকুন।


অলমিতি বিস্তারেণ

সাদা-মডু এর ছবি

এই ধরনের মন্তব্য সচলদের কাছ থেকে কাম্য নয়। অতিথি হিসেবে সক্রিয় হবার আগে "নিজ নিকে" লেখার সুযোগ কারো থাকে না। সচলায়তনে বিতর্ক, যুক্তির বিপরীতে পাল্টা যুক্তি প্রদর্শনকেই উৎসাহিত করা হয়। "অফ যান" জাতীয় বক্তব্য ভবিষ্যতে ব্যবহার না করার অনুরোধ রইলো।

আপনার যদি ধারণা হয়ে থাকে, স্মৃতিহারানির একটি নিক রয়েছে, এবং তিনি সেটি ব্যবহার না করে অসক্রিয়কৃত স্মৃতিহারানি নিকটি ব্যবহার করে কিছু বলছেন, তাহলে আপনার ধারণার সপক্ষে যুক্তি ও প্রমাণ contact অ্যাট sachalayatan.com বরাবর পাঠাতে পারেন। যদি যুক্তি ও প্রমাণ না থাকে, তাহলে এ আচরণের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে ব্যাপারে যত্নবান হোন।

মামুন হক এর ছবি

ঠিক কী কারণে আপনার মনে হলো এই নিক ছদ্মবেশী ? হাচল হওয়ার আগে যদি কেউ মন্তব্য করে থাকে তাকে তো এভাবেই লিখতে হবে, তাই না ?

---রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনে হাইকোর্টের ধবধবা দেয়াল হইতে আলো ঠিক্রাইয়া আসিয়া চউক্ষু ধাঁধাঁইয়া দিল! আহা কী দেখিলাম!!

সবজান্তা এর ছবি

মামুন ভাই, আপনার মতো সাহিত্য লেখার ক্ষমতা যে আমার নাই, তা তো জানেনই। কাজেই আমার একদম কাঠখোট্টা বাংলায় লেখা মন্তব্যের বিপরীতে আপনার মন্তব্যটাও আমার বোধগম্য ভাষায় হলে ভালো হতো।

আশা করি, স্পষ্ট বাংলায় বুঝিয়ে বলবেন, আপনি কী বলতে চাইলেন।


অলমিতি বিস্তারেণ

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ব্রাদার্স, একটু রয়েসয়ে।

আবেগী হয়ে ঝগড়ায় মেতে যেয়েন না দু'জন অযথা। সব রকম পূর্বাভাষ দেখতে পাচ্ছি বলেই আগে-ভাগে বললাম।

সবজান্তা এর ছবি

কী জানি ! আমার মধ্যে আবেগের বোধহয় একটু কমতি আছে, তাই সহজে, অন্তত ব্লগীয় ব্যাপারে আবেগী হই না। তবে এটা ঠিক হতাশ হই হাসি


অলমিতি বিস্তারেণ

অতিথি লেখক এর ছবি

মামুন হকের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার বক্তব্য আমি আলাদা একটি পোস্টে দিয়েছি (কারণ এধরণের গায়ে পড়ে দুর্ব্যবহার করা লোকের সাথে কোনো ধরণের কথা বলার প্রবৃত্তি আমার নেই)। মডারেটররা অনুমোদন করলেই সেটি দেখা যাবে।

সবজান্তাকে অনুরোধ তিনি যেন এ বিষয়ে আর কথা না বাড়ান।

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

মানুষ কেনো এতো প্যাচায়?
--------------
আমার ফ্লিকার

---------------------
আমার ফ্লিকার

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

লেখাটি আমি কয়েকটি ব্যপার বোঝার জন্য দিয়েছিলাম। আলোচনায় আসার বা আলোচনা শুরুর জন্যে নয়। আমার যা বোঝার তা আমি বুঝেছি। (আঁতলামি করছিনা ভাই। দয়া করে কথাটিকে ঘুরিয়ে নিয়ে খোঁচা দিয়েন না। হাসি )

লেখাটি নিজের মনে বলা কথার মতো। তাই কারো মন্তব্যেরই জবাব দিচ্ছি না। আসলে নিজের অবস্থানটি ব্যাখ্যা না করে শান্তি পাচ্ছিলাম না। কারো উপর চাপিয়ে দিচ্ছিনা। আমার যা বিশ্বাস, তা আমারই।

____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অতিথি লেখক এর ছবি

সহিংসতাই দুর্বলের একমাত্র অবলম্বন- হ্যারি সেলডন।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।