আমার মনে হয়, আসলে পাহাড়ে আদিবাসীদের অধিকারের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গী কী, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৬০ সালে কাপ্তাই জল বিদ্যূত প্রতিষ্ঠার সময় পাহাড়িদের কথা চিন্তা করা হয়নি। প্রায় ৫৪ হাজার একর চাষের জমি পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে সে সময় লাখ লাখ পাহাড়িদের উদ্বাস্তু করা হয়।
স্বাধীনতার পরে সংবিধানেও ক্ষুদ্র ভাষাভাষী আদিবাসী মানুষের অস্তিত্বই স্বীকার করা হয়নি। আর ১৯৭২ সালে সংবিধানে পাহাড়িদের আত্ননিয়ন্ত্রণের অধিকার সংযোজন করার প্রস্তাব বঙ্গবন্ধু নাকচ করে দিয়ে জুম্ম জাতীয়তাবাদের জনক এমএন লারমা এমপিকে বলেছিলেন, তোমরা সবাই বাঙালি হয়ে যাও!
পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের এক দশক পরেও পাহাড় এখনও 'ইন্সার্জেন্সি এরিয়া'! সরকারি এই আদেশ বলে সেনা বাহিনী এখনো সেখানে বেসামরিক প্রশাসনের ওপর কর্তৃত্ব করে চলেছে।
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান -- এই তিন পার্বত্য জেলায় ছয় ছয়টি সেনা নিবাস থাকার পরেও গত এক দশকে পাহাড়ের প্রায় সাড়ে ৫০০ অস্থায়ী সেনা ছাউনির মধ্যে গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫২টি ছাউনি।
আর শান্তিচুক্তিতে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চল বলিয়া বিবেচিত হইবে' এমন একটি কথা থাকলেও এর সবচেয়ে দুর্বল দিক বোধহয় এটিই যে, পাহাড়ে বাঙালি সেটেলারদের অবস্থান কী হবে, সে সম্পর্কে কোনো কথাই এতে বলা হয়নি!
তাই আসলে প্রায় পাঁচ দশক আগে পাহাড়ে যে হিংসার বীজ বোনা হয়েছিলো, তা এখন মহিরুহে পরিনত হয়েছে।...
সবাইকে ধন্যবাদ।
একমত@ নিঝুম ও ধ্রুব হাসান।
আমার মনে হয়, আসলে পাহাড়ে আদিবাসীদের অধিকারের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গী কী, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৬০ সালে কাপ্তাই জল বিদ্যূত প্রতিষ্ঠার সময় পাহাড়িদের কথা চিন্তা করা হয়নি। প্রায় ৫৪ হাজার একর চাষের জমি পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে সে সময় লাখ লাখ পাহাড়িদের উদ্বাস্তু করা হয়।
স্বাধীনতার পরে সংবিধানেও ক্ষুদ্র ভাষাভাষী আদিবাসী মানুষের অস্তিত্বই স্বীকার করা হয়নি। আর ১৯৭২ সালে সংবিধানে পাহাড়িদের আত্ননিয়ন্ত্রণের অধিকার সংযোজন করার প্রস্তাব বঙ্গবন্ধু নাকচ করে দিয়ে জুম্ম জাতীয়তাবাদের জনক এমএন লারমা এমপিকে বলেছিলেন, তোমরা সবাই বাঙালি হয়ে যাও!
পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের এক দশক পরেও পাহাড় এখনও 'ইন্সার্জেন্সি এরিয়া'! সরকারি এই আদেশ বলে সেনা বাহিনী এখনো সেখানে বেসামরিক প্রশাসনের ওপর কর্তৃত্ব করে চলেছে।
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান -- এই তিন পার্বত্য জেলায় ছয় ছয়টি সেনা নিবাস থাকার পরেও গত এক দশকে পাহাড়ের প্রায় সাড়ে ৫০০ অস্থায়ী সেনা ছাউনির মধ্যে গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫২টি ছাউনি।
আর শান্তিচুক্তিতে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চল বলিয়া বিবেচিত হইবে' এমন একটি কথা থাকলেও এর সবচেয়ে দুর্বল দিক বোধহয় এটিই যে, পাহাড়ে বাঙালি সেটেলারদের অবস্থান কী হবে, সে সম্পর্কে কোনো কথাই এতে বলা হয়নি!
তাই আসলে প্রায় পাঁচ দশক আগে পাহাড়ে যে হিংসার বীজ বোনা হয়েছিলো, তা এখন মহিরুহে পরিনত হয়েছে।...
আমাদের চিন্তাই আমাদের আগামী: গৌতম বুদ্ধ