কল্পজগতের লুলপুরুষ

অপছন্দনীয় এর ছবি
লিখেছেন অপছন্দনীয় [অতিথি] (তারিখ: সোম, ০৮/০৮/২০১১ - ৯:১৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভদ্রলোক ফরাসী, প্যারিসে থাকেন। দেখতেশুনতেও বেশ - সুদর্শন এবং মিষ্টভাষী, ফ্রেঞ্চ টানে ইংরেজী বলেন, মিঠে মিঠে কথা বলতে অত্যন্ত পারদর্শী, প্রচুর প্রেমময় পংক্তি আর গান জানেন। হৃদয়ে প্রেমের এক বিশাল ফোয়ারা - সবসময়েই প্রেমে পড়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। উপযোগী কাউকে দেখলেই তার দিকে ছুটে গিয়ে কবিতা শোনান, সুযোগ পেলে মাঝে মধ্যে একগাদা চুমুটুমুও ঝেড়ে দেন। বিনিময়ে চড়, ঘুষি বা লাথি খেয়ে আধমরা হয়েও তাঁর মনে হয় তিনি পুরোপুরি সফল, বিপরীতপক্ষ তাঁকে দারুণ পছন্দ করেছে! কিন্তু এত কিছুর পরেও বেচারার একাকীত্বের সিলছাপ্পড়টা আর যায় না।

যত যন্ত্রণা বাধিয়েছে ল্যাজ থেকে বেরোনো ওই গন্ধটা। হবু প্রেমিকার পাকস্থলী উলটে দেয়ার জন্য যথেষ্ট বলে কোন বেচারাই আর শেষ পর্যন্ত টিকতে পারে না। তাছাড়া ওনার সেই “কাম ডার্লিং উই শ্যাল …” বলে তেড়ে যাওয়াটাও যথেষ্ট আতঙ্কের কারণ। ভদ্রলোক একজন স্কাংক, নাম পেপে লে পিউ। মোটা একটা লেজ আছে, পেটের দিকটা সাদা আর পিঠের দিকটা কালো কিন্তু নাকের ডগা থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত পিঠের উপর দিয়ে এক জোড়া সাদা ডোরা টানা। যদিও সাধারণত তাকে বসন্তকালে প্যারিসের রাস্তায়ই ঘুরঘুর করতে দেখা যায়, কিন্তু প্রেমের ডাকে সাড়া দিতে পৃথিবীর কোন প্রান্তে যেতেই তার কোন আপত্তি নেই – সেটা এমনকি ‘লে দেজার্তে সাহারা’ও হতে পারে। গন্ধটার জ্বালায় সবাই পালালেও তাতে তার কোন সমস্যা হয়না – সম্ভবত নিজের ল্যাজে যে ওই বিকট গন্ধটা আছে সেটার ব্যাপারেই সে সচেতন নয়। অবশ্য ব্যতিক্রম হিসেবে এ পর্যন্ত অন্তত একবার তাকে দেখা গেছে নিজের ল্যাজের গন্ধ শুঁকে পরীক্ষা করতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়তে। গন্ধখানা এমনই জটিল যে পেপে হেঁটে যাওয়ায় রাস্তার পাশের ফুলগাছকে একের পর এক মরে পড়ে যেতেও দেখা গেছে ।

উইকির মতে পর্দায় পেপের প্রথম উপস্থিতি ১৯৪৫-এ এবং সেই থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত বেশ ক’খানা ছোট কার্টুনে তাকে দেখা গেছে - প্রত্যেকবারই কারো প্রেমে পড়তে ব্যস্ত। তবে অধিকাংশ সময়ে আরেকটি স্কাংক ভেবে যার পেছনে পেপে দৌড়ায় সে হচ্ছে ‘পেনেলোপি পুসিক্যাট’ – পুরোপুরি কালো এক বেড়াল যার পিঠে দুর্ঘটনাক্রমে একটা সাদা স্ট্রাইপ লেগে গেছে। যদিও বেচারা পেনেলোপিই একমাত্র ভিকটিম নয়, লিস্টে আছে এক কুকুর, এক হুলো বেড়াল, বেচারা প্রেমিকপ্রবরকে আচ্ছামত পিটিয়ে হাতের সুখ করা এক বনবেড়াল, এবং এমনকি এক গুঁফো ভদ্রলোকও। তবে যত যা-ই হোক, সর্বকালের সর্বপ্রকার লুলবর্ষণকারীদের জন্য পেপে নিঃসন্দেহে আদর্শ হতে পারে – এই দলে নাম লেখাতে ইচ্ছুকদেরও হয়তো পেপের কর্মকান্ড কিছুটা সাহায্য করতে পারে।

পেপে একে ফ্রেঞ্চ, তাইতে চরম প্রেমিক, তাইতে আবার নিপাট ভদ্রলোক। নিজের ল্যাজের গন্ধ নিজে টের না পেলেও সুগন্ধীর উপরে টানটা স্বভাবগত। তার ফলে ঝুটঝামেলাও কম হয় না। এই যেমন ধরা যাক একবার প্যারিসের এক পারফিউমের দোকানে ঢুকে পেপে পারফিউম মাখছিলো, যার ফলে সেই দোকানের বেচারা মালিক “লে হেল্প” বলে ছুটে পালাতে বাধ্য হয়, আর তারপরে এক মাসলবিল্ডার জেন্ডারমেরী সদস্য পেপেকে তাড়াতে এসে তার চেহারা দেখেই ভেগে যাওয়ায় সেই বেচারা মালিককে শেষটা “আই অ্যাম য্যে ব্যাঙ্করুপ্ট” বলে হাউমাউ করে কাঁদতে হয়। তারপরে আরেকবার পেপে এক ডিওডোরান্ট ফ্যাক্টরীতে ঢুকে সুগন্ধী হওয়ার চেষ্টা চালায়, যার ফলে পুরো এলাকার লোকজনের পালানো ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। একবার অবশ্য পেপে নিজেই সুগন্ধীর গন্ধ শুঁকে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো, তবে সেটা ব্যতিক্রমই ধরা যায় ।

পেপের লুলবর্ষণের দ্বিতীয় তরীকা হলো শুধু ওই কর্মেই ব্যস্ত থাকা এবং তার কারণে অন্য কার কী হলো সেটা নিয়ে মাথা না ঘামানো - তার ফলে আশপাশের লোকজনের অবশ্য প্রাণান্ত পরিচ্ছেদ হয়ে থাকে। বেচারা সুগন্ধীর দোকানের মালিক আর ডিওডোরান্ট ফ্যাক্টরীর লোকজনের কথা বাদই দেয়া যাক। স্রেফ পেপেকে দেখেই একবার এক ‘লে শিপ দু স্তিম’এর ‘লে কাপ্তেন’ কে জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দিতে বাধ্য হতে হয় – পেপের কারণে জাহাজ ডুবেছেও কম না, এমনকি একবার পেপে সমুদ্রের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো, তার ফলে এক বেচারা মাছ জ্ঞান হারিয়ে পাক খেয়ে ডুবে যায়। আরেকবার এক বেচারা গুঁফো ভদ্রলোককে পেপে ভুল করে জড়িয়ে ধরে প্রেমের বাণী শোনানোয় সেই বাণী আর গন্ধের ঠ্যালায় তাকে বাধ্য হয়ে ফরেন লিজিয়নে নাম লেখাতে হয়। ফিল্ম স্টুডিওতে পেপে অটোগ্রাফ নিতে ঢুকলে ফিল্ম স্টুডিওর লোকজনের সব ছেড়েছুড়ে দৌড়ে পালানো ছাড়া গতি থাকে না, একই ঘটনা ঘটে ‘লে দেজার্তে সাহারা’য় এক ফ্রেঞ্চ দুর্গে, সেখানে পেপে গিয়ে হাজির হওয়ায়। এমনকি পেপে সিনেমা হলে ঢুকে পড়ায় পর্দা ছেড়ে অভিনেতারা পালিয়েছিলো একবার। আরেকবার পেপে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ায় ফুলের মধ্যে থাকা মৌমাছিকে বোঁওওও শব্দে ক্র্যাশ ল্যান্ড করতে হয়েছিলো।

স্বাভাবিকভাবেই পেপেকে অনেকেই পছন্দ করে না। পেনেলোপির পাণিপ্রার্থী এক মামদো হুলো স্রেফ পেপের সামনে পড়ায় নখ দাঁত আর লেজ হারিয়ে রীতিমত নিধিরাম সর্দার হয়ে গিয়েছিলো – এর পরে তার পেপেকে পছন্দ করার কোন কারণই থাকতে পারে না। পেপে লুভর মিউজিয়ামে ঢুকে নিজের “লোনামিসা” কে খুঁজছিলো, তার ফলে গন্ধের ধাক্কায় লুভরের সব মূর্তিগুলো উল্টেপাল্টে যায় খালি না, শেষটা পেপে এয়ার কন্ডিশনিং ডাক্টে ঢুকে পড়ায় কিছু ছবি থেকে রঙ খসে পড়ে, কিছু থেকে লোকজন পালায়, শেষটা এমনকি মোনালিসাকেও যখন বলতে হয়, “It’s not always easy to hold this smile!” – তখন পেপের জনপ্রিয়তা খানিকটা কমে বৈকি। আবার যখন সাধারণত সম্মান পেয়ে অভ্যস্ত ‘লে ফিল্ম দু মোশন’ এর ‘লে দিরেক্তিউর’এর ‘লে কোয়ায়েত’ হাঁক শুনেও পেপে কোন পাত্তা দেয় না, তখন ডিরেক্টর সাহেবের ক্ষেপে লাল হয়ে যাওয়াটা খুবই যৌক্তিক, যদিও পেপেকে কিছু করার ছিলো না তাঁর, তিনিও তখন গন্ধ এড়াতে দৌড়াচ্ছিলেন।

তবে মাঝে মধ্যে পেপের কারণে লোকজনের উপকারও যে হয় না তা না। এক বেচারা ব্যাঙ্ক ডাকাত স্রেফ পেপের সামনে পড়ে নিজেই ছুটে গিয়ে নিজেকে ‘লে জেইল’ এ আটকে ফেলে পুলিশের কষ্ট বাঁচায়। কয়েকবার পেপে “লে ঘাউ” বলে তেড়ে আসা “লে ডগ” এর হাত থেকে পেনেলোপিকে বাঁচিয়েছে। আবার এক ‘লে ওয়াইল্ডক্যাট’কে পেপের জ্বালায় লোকালয় ছেড়ে বেলুনে করে উড়ে যেতেও হয়। পেনেলোপিকে পেপে একবার হাঙরের হাত থেকেও বাঁচিয়েছিলো (হাঙর অবশ্য পেপেকে গিলে ফেলেই আবার উগরে দিয়ে কেঁই কেঁই শব্দ করতে করতে ডাঙায় উঠে দৌড়ে পালায়) - সব মিলে উপকারের পরিমাণ খারাপ না।

বেচারা পেনেলোপি অবশ্য সব সময়েই পরিস্থিতির শিকার হয়ে ঝামেলায় জড়ায়। অধিকাংশ সময়ে দেখা যায় পেনেলোপি হয় কারো আশপাশে “লে মিউ, লে পুরররর” বলে ঘুরঘুর করতে গিয়ে কোন দুর্ঘটনায় পড়ে পিঠে সাদা স্ট্রাইপ লাগিয়ে ফেলেছে, অথবা “লে ঘাউ” বলে তেড়ে আসা ‘লে ডগ’এর হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে শেষটা “লে গ্যাস্প, লে প্যান্ট” বলে হাঁপাতে হাঁপাতে, বা ‘লে শিপ দু স্তিম’এ চড়ার জন্য ’লে ফেন্স’এর নিচ থেকে বেরোতে গিয়ে একই সমস্যা ঘটিয়েছে। একবার পেনেলোপি পেপের গন্ধ নাকে ঢুকে শূন্যে উঠে যাওয়াক হরাইজন্টাল ফ্ল্যাগপোলের সাথে বাড়ি খেয়ে পিঠে রঙ লাগিয়েছে। তবে কয়েকবার পেনেলোপি নিজেই বিভিন্ন কারণে নিজের পিঠে রঙ মেরেছে, যেমন একবার ‘লে ডগ’কে শায়েস্তা করে ‘লে ফিস’ চুরি করার জন্য, আরেকবার চিড়িয়াখানায় ‘লে স্কাংক- অ্যানিম্যাল ইউনিক’কে দেয়ার জন্য রাখা মাংস চুরি করতে গিয়ে। কিন্তু প্রত্যেকবারই শেষটা পেপের পাল্লায় পড়ে বেচারার অবস্থা শেষটা “ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি”তে গিয়ে দাঁড়ায় – চিড়িয়াখানায় ওই ‘লে স্কাংক’টি ছিলো পেপে স্বয়ং। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা পেনেলোপির দোষ নয়, যেমন ধরা যাক ‘লে দেজার্ত সাহারা’য় পেনেলোপি ছিলো এক ফ্রেঞ্চ গ্যারিসনের ‘লা মাস্কট’ – স্বাভাবিকভাবেই আহ্লাদী টাইপের। সেখানে এক সাদা রঙ করা মইয়ের গায়ে “লে মিউ, লে মিয়াও” বলে পিঠ ঘষতে গিয়েই ঝামেলা বাধিয়েছে বেচারী। আরেকবার এক সিনেমায় ‘লে অ্যাক্তর স্কাংক (আভেক সান্স স্মেল)’ কে খুঁজে না পেয়ে পেনেলোপিকেই পিঠে রঙ মেরে স্কাংক বানানোর চেষ্টা করা হয় – তার পরে কী হলো সেটা তো আর না বললেও চলে।

অবশ্য পেনেলোপিই একমাত্র অভাগা নয়, এক হুলো বেড়াল একবার কসাইয়ের লাথি, মেইডের ঝাঁটার বাড়ি আর কুকুরের তাড়া খেয়ে শেষটা তাদের শায়েস্তা করার জন্য স্কাংক সাজে, রসুন, লিমবার্গার চীজ আরো কী কী সব মিলিয়ে একখানা গন্ধও বানিয়ে ফেলে – কিন্তু বিধি বাম, পড়ে গিয়ে পেপের সামনে। আরেকবার এক বেচারা পিচ্চি কুকুর নিজের স্প্রিং কোট নেই বলে সবার হাসাহাসিতে মন খারাপ করে শেষটা স্কাংকের চামড়া কোট হিসেবে পরে ফেলে – ফলাফল সহজেই অনুমেয়। এক বেচারা ‘লে ওয়াইল্ডক্যাট’ শহরের ‘লে জ্যু’ থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষার জন্য স্কাংক সেজেছিলো – ফলাফল বমাল পেপের হাতে আটক এবং প্রেমের আতিশয্যে পালানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠা, অবশ্য রেহাই পায়নি বেচারা শেষ পর্যন্ত।

পেপের অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সব কথাকে নিজের সমর্থনে নিয়ে এসে তালগাছের দখল নেয়ার ব্যবস্থা করা। কখনো হবু প্রেমিকা মাথায় মুগুর মেরে নক আউট করে দিলে, অথবা পিটিয়ে চোখে কালশিরে ফেলে দিলে অথবা হাতুড়ি মেরে মাথায় আলু বের করে দিলে পেপের কাছে তার অর্থ হয় “ফ্লার্ট!”। একবার পেনেলোপি তাকে একা থাকতে না দিলে আত্মহত্যা করার হুমকি দেয়ায় পেপের কাছে তার অর্থ দাঁড়ায়, “আত্মহত্যা করে আমার প্রতি তার ভালোবাসা প্রমাণ করতে চাচ্ছে!”। পেনেলোপি দৌড়ে পালালে তার অর্থ হয় “লাভার্স চেজ”, পিপেতে লুকালে পেপের কাছে সেটার মানে “আলিবাবা আর চল্লিশ চোর খেলতে চাচ্ছে” আর বারান্দায় চড়লে সেটা হয়ে যায় “জুলিও অ্যান্ড রোমিয়েট-এর রোমান্টিক ব্যালকনি দৃশ্য অভিনয় করতে চাচ্ছে”। অনেকটা একালের দুই-একজন অতিধার্মিক-মহাতার্কিক যেমন তাঁদের বিরোধীর সাথে তর্ক করার সময় তাঁদের বিরোধী বিশেষ একটি কথা বলছেন না এটা স্পষ্টভাবে বলে দেয়ার পরেও তিনি তা-ই বলছেন দাবী করে তালগাছ পুঁতে বেয়েছেয়ে তার ডগায় চড়ে বসেন, সেরকম। সেদিক দিয়ে দেখলে খালি লুলপুরুষরাই নন, আরো কেউ কেউ পেপের কাছ থেকে তালগাছ পোঁতা শিখতে পারেন।

পেপে অবশ্য অতিন্দ্রীয় ক্ষমতা বলে সর্বপ্রকার অবস্থায়ই নিজের হবু প্রেমিকাকে খুঁজে বের করতে পারে। এক বেচারা হুলো বেড়াল গাছের কোটরে ঢুকে, নিজের আত্মহত্যার সিকোয়েন্স সাজিয়ে শেষটা এমনকি বাগস বানি সেজে “ওঁয়াটস আঁপ ডঁক” ক্যাচফ্রেজ ব্যবহার করেও বাঁচতে পারেনি। পেনেলোপিকে লুকানোর জায়গা থেকে খুঁজে বের করা, বা বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধরলেও তার মধ্যে থেকে ঠিকঠাক চিনে বের করা পেপের জন্য কোন সমস্যাই নয়। অতিন্দ্রীয় ক্ষমতায় পেপে অবশ্য আরো অনেক কাজ করতে পারে। রোমান্টিক মানুষ, থুড়ি স্কাংক, কাজেই মাঝে মধ্যে আকাশ থেকে পর্দা টেনে নামিয়ে রোমান্টিক ‘যে রন্দেভু’র ব্যবস্থাও তাকেই করতে হয়। বা পেনেলোপি কোন ঘরে পালিয়ে দরজা আটকে দিলে সেখানকার একটা ঝাঁপি থেকে “লে হিসসসস” শব্দ করতে করতে বেরোতে হয়। কেরদানী আরো কিছু আছে, পেনেলোপি একবার এক ক্যাফের টেবিলের নিচে পালালে সেখানে ক্যাসাব্ল্যাংকার “অ্যাজ টাইম গোজ বাই” বাজানো এবং গাওয়া, গোল টেবিলের চারদিকে কাউকে তাড়া করতে গিয়ে ডেডলকে পড়ে টেবিলটা আধখানা করে শর্টকাট মারা, বা পেনেলোপিকে ভোলাতে টারজান সেজে “লে আআআআআ” চিৎকার দেয়া, সবই পেপের করতে হয়। মাঝে মধ্যে “যুদ্ধ ও প্রেমে সব চলে”র একটু আধটু প্রয়োগও দরকার হয়ে পড়ে – যেমন ধরা যাক পেনেলোপি গন্ধপ্রুফ ঘরে নিজেকে তালা মারলে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে তাকে বের করে আনা, অথবা শেষটা যে স্কাংকের পিছে পেপে দৌড়াচ্ছে সে কুকুর প্রমাণিত হলে নিজেকে কুকুর প্রমাণ করা, বা পানিতে পড়ে পেনেলোপির স্ট্রাইপ ধুয়ে গিয়ে সে বেড়াল এটা বুঝতে পারলে কালো রঙ দিয়ে নিজের স্ট্রাইপটা ঢেকে নিজেকে বেড়াল বানিয়ে ফেলা – নিরুপায় হয়ে(!) এর সবই পেপেকে করতে হয়।

তবে ওই গন্ধখানা না থাকলে অবশ্য পেপে খুবই আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব – আর সে যে একেবারে ব্যর্থ হয় তাও না। পিচ্চি কুকুরের ঘটনায় পেপে নিজেকে কুকুর প্রমাণ করায় বেচারা পিচ্চি কুকুরও ডার্লিং বলে পেপের হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাছাড়া একবার ঠান্ডা পানিতে চুবনি খেয়ে সর্দি লেগে পেনেলোপির নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় (এবং একই সাথে ‘লে পেইন্ট’ এর পিপেতে পড়ে পেপের গন্ধ ঢেকে যাওয়ায়) তার মনে পেপের প্রতি চরম প্রেমভাব জেগে ওঠে। আরেকবার পেপে জেট ফুয়েল আরো কী কী সব মিশিয়ে রীতিমত এক লাভ পোশন বানিয়ে ফেলে যার পুরো ইফেক্টটাই হয় পেনেলোপির উপরে।

তবে পেপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দুনিয়াময় অনিচ্ছুক প্রেমিকার পিছে দৌড়ে বেড়ালেও বেচারা নিজে তাড়া খেতে অভ্যস্ত নয়। কাজেই কখনো পেনেলোপি তার উপরে আগ্রহী হয়ে উঠলে উল্টোদিকে ফিরে দৌড়ানো ছাড়া পেপের আর কোন উপায় থাকে না। “কন্ত্রোল ইওরসেলফ মাদাম” বা “বাত মাদাম...জোক ইয়েস?” বলে নিজেই উলটো পড়ে দৌড়ে শেষ পর্যন্ত হাজার টাকা দামের “ইউ নো, ইত ইজ পসিবল তু বি তু অ্যাত্রাকতিভ” বলা ছাড়া আর কোন গতি থাকে না বেচারার। একবার লাভ পোশনের ঠ্যালায় পেনেলোপি তেড়ে এলে পেপেকে একবার “বাত মাদাম!” বলে সাহারা মরুভূমি বেয়ে দৌড়াতে হয় – সাথে অবশ্যই সেই “তু অ্যাত্রাকতিভ” ডায়ালগ। নিউ অর্লিন্সে পেনেলোপি তখন সবেমাত্র তরুণী বেড়াল – কিন্তু কোন তরুণ তার সাথে ডেটিং করতে আগ্রহী ছিলো না। শেষটা বেচারী প্রেমিক খুঁজতে খুঁজতে পেপের সামনেই পড়ে – এবং গন্ধ সহ্য করতে না পেরে শেষটা নিজেই লিমবার্গার চীজ ফ্যাক্টরী থেকে নিজের লেজে গন্ধ লাগিয়ে ফেলে। ফলে অবশ্য পেপেকে উলটো পড়ে দৌড়াতে হয়! তবে পেপের চরিত্রের এই পরস্পরবিরোধীতা যতই অদ্ভুত হোক, হাল আমলেও বেশ দেখছি।

পেপের প্রেমময় বাণীগুলোও তেমনি – হবু লুলবর্ষণকারীদের জন্য রীতিমত বাণী চিরন্তনীর ভান্ডার। “মাই লিটল ক্যাবেজ”, “দিস স্মল ক্রোকেটবল” থেকে শুরু করে “মাই লিটল স্টাফড পোট্যাটো”, “লিটল অর্কিড”,”মঁ শেরি” পার হয়ে, “ইউ আর দি মুন...আআআ দি জুন... আআআ দি সুন... আআ...” পর্যন্ত হেন সম্বোধন নেই যা পেপে তার প্রেমিকাকে করে না। কবিতাটবিতা যা শোনায় সেগুলোও তেমনি – কিন্তু কবিতার আবেশ লেখায় পাওয়া যাবে না বলে আর সেগুলো দিলাম না (সব কথা বুঝেও উঠিনি অবশ্য)। এর সাথে যদি যোগ করা হয় হায়েনার “লে হাহা”, সিংহের “লে হাউল... লে গ্রাউল”, মুরগীর “লে ক্যাঁক” আর গরুর “লে মুউউউউ” তাহলে চরম প্রেমময় সেরেনেড না হয়ে যায়না।

পেপের কোন পরিবার আছে বলে কখনো দেখা যায়নি - ব্যতিক্রম ‘ওডোর-এবল কিটি’, পেপের প্রথম স্ক্রীন অ্যাপিয়ারেন্স। এখানে লুলবর্ষণের এক পর্যায়ে দুই ছানা সহ পেপের বউ এসে হাজির হয়ে দু’চারটা প্রেমময় ডায়ালগ শুনে ছাতা দিয়ে পিটিয়ে এমনকি অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী পেপেকেও অজ্ঞান বানিয়ে ছাড়ে। খাঁটি লুলপুরুষের মতই তার অবশ্য তাতে কোন সমস্যা ঘটেনি। পরবর্তী পর্বেই সে আবার প্রেমে পড়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু এর পরে আর তার বউ ছানাকে কখনো দেখা যায়নি। তবে শিক্ষানবিশদের কারো পরিবার থেকে থাকলে তার জন্য এটাও একটা শিক্ষাই বটে।

এহেন মহাপুরুষের পুরো বর্ণনা দেয়া আমার সাধ্যের বাইরে – তারচেয়ে বরং পেপের কাছে থেকে শিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষানবিশদের জন্য পেপের একখানা ছবি, আর সেই সাথে গুণগুণ করে গাওয়ার জন্য পেপের গানের দু’খানা কলি দিয়ে দেই –

আই ওয়ান্ত তু তেল ইয়ু, আই লাভ ইউ সো...
আই ক্যান্ত প্রিতেন্দ, আই দোন্ত, ইউ নো...

ছবিঃ উইকিপিডিয়া


মন্তব্য

তানিম এহসান এর ছবি

“লে ...” শব্দটার চরম ব্যবহার হইছে চোখ টিপি

অপছন্দনীয় এর ছবি

দেঁতো হাসি

আশালতা এর ছবি

হাসি

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

অপছন্দনীয় এর ছবি

হাসি

দুর্দান্ত এর ছবি

ফরাসীতে le=লো (পুং একবচন), la=লা (স্ত্রী একবচন) আর les=লে (বহুবচন)।
পেপে লো পিউ কে বেশ মজা লাগে। কয়েকটা মরিস শভালিয়ে'র ছবি দেখুন, মজা আরো বড়তে পারে।

অপছন্দনীয় এর ছবি

আমি ফ্রেঞ্চ জানি না মন খারাপ

le টা ল্য / লো শুনেছিলাম কিন্তু এইটা লেখার আগে পেপের সবক'টা কার্টুন দেখে মনে হলো ওখানে "লে" বলা হচ্ছে - হতে পারে ইচ্ছে করে বিকৃত করা হচ্ছে অথবা আমি হয়তো ভুল ভাবছি। আপনি কি একটু কষ্ট করে পেপের দুই একটা কার্টুন আরেকবার দেখে জানাবেন ওখানে বিকৃত করে লে বলা হচ্ছে নাকি আসল উচ্চারণটাই করছে? যদি আসলটাই করে থাকে, তাহলে লেখার মধ্যের "লে" গুলোকে পাল্টে দেবো হাসি

তাসনীম এর ছবি

পেপে লো পিউ দারুণ মজাদার এক চরিত্র। এই রকম ক্লাসিক চরিত্র নিয়ে আরও লেখা আসুক...কেউ সিলভাস্টার কে নিয়েও লিখলে পারে চোখ টিপি

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অপছন্দনীয় এর ছবি

সিলভেস্টারটা আপনার উপরেই থাকুক নাহয় চোখ টিপি

(পেপে অন্ততঃ দু'বার সিলভেস্টারের প্রেমেও পড়েছিলো দেঁতো হাসি)

আয়নামতি1 এর ছবি

পেপে তো মহাপুরুষ খাইছে মজারু লেখায় উত্তম জাঝা!

অপছন্দনীয় এর ছবি

দেঁতো হাসি

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

'লুলপুরুষে'র দারুণ বর্ণনা পছন্দনীয় ভাই। মজা লাগলো। চলুক


_____________________
Give Her Freedom!

অপছন্দনীয় এর ছবি

হাসি

The Reader এর ছবি

হাততালি

অপছন্দনীয় এর ছবি

হাসি

আয়নামতি এর ছবি

ইয়াহুউউউউউউউউউউউউউ আমি লগইন করতে পেরেছি! ভাইয়া, আমাকে অভিনন্দন বলুন জলদি দেঁতো হাসি সচলের ধৈর্য্যশীল মডুগণদের উত্তম জাঝা! উত্তম জাঝা! সাথে আমাকেও লইজ্জা লাগে

ফাহিম হাসান এর ছবি

ফুলসহ চন্দন, লহ অভিনন্দন

উত্তম জাঝা!

ফাহিম হাসান এর ছবি

খিক খিক দেঁতো হাসি

কৌস্তুভ এর ছবি

লোভিনন্দন! খাইছে

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

হাততালি অভিনন্দন আয়নাপু।


_____________________
Give Her Freedom!

অপছন্দনীয় এর ছবি

অভিনন্দন প্লাস উত্তম জাঝা!

(আর এক নম্বর ন্যাজটা খসে যাওয়ায় আরো একবার অভিনন্দন)

কৌস্তুভ এর ছবি

আপনার লেখা ভালো লাগে, এইটাও বেশ উপভোগ করেছি। এই লুলপুরুষকে যে আপনিও খুব উপভোগ করেন তার ছাপ লেখার সর্বত্র, আর তাই এমন সুপাঠ্য হয়েছে। এই কার্টুন আগে দেখিনি, তাও গল্প শুনেই মজা পাচ্ছি।

অপছন্দনীয় এর ছবি

লইজ্জা লাগে

কৌস্তুভ এর ছবি

আজব তো, কমেন্টটা এইখানে লাফিয়ে চলে এল কী করে???

সজল এর ছবি

গ্যারফিল্ড তো আপনার একজন আদর্শ বুঝাই যায়। তো এই মহান "পেপে লো পিউ" ও কি আপনার রোল মডেলদের একজন?
লেখা ভালো লেগেছে, দুই একটা পর্ব দেখে ফেলতে পারি।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অপছন্দনীয় এর ছবি

উঁহুঁ, ওই দিকে আমি একটু পিছিয়ে আছি... মন খারাপ

Mekur এর ছবি

bhalo laglo

অপছন্দনীয় এর ছবি

হাসি

কল্যাণF এর ছবি

ম্যাঁও

অপছন্দনীয় এর ছবি

হাসি

আয়নামতি এর ছবি

@ ফাহিম ফটুরে, বাপ্রে! কী কাব্যময় অভিনন্দন হে দেঁতো হাসি প্রীত হলেম বাছা!

@ কৌস্ত্তভ, পাজীর পাজী এই ছেলেটা রেগে টং অভিনন্দন বানানটাও জানা নেই। অভিনন্দনের লোভ করলাম বলে এভাবে বলে দিলে শয়তানী হাসি কৌস্ত্তভ, আমি কিন্তু বষ্টন গিয়েছিলাম গত বৃহস্পতিবার(২৮ জুল) ওখানে বষ্টন ইউনিতে গিয়েছিলাম। আইসক্রীম খাওয়ানোর ভয়ে আপনি কোথায় যে লুকিয়ে ছিলেন খোদা জানেন। আপনি কোথায় পড়েন সেটাই তো জানিনা। জানলে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে নাম ধরে চেঁচাতাম দেঁতো হাসি 'অভিনন্দন' বানানটা শিখে দশবার লিখে আমাকে অভিনন্দন জানানো হোক শয়তানী হাসি

@ পছন্দনীয়, অনেককক ধন্যবাদ। ন্যাজ খসানোটা একটা ইতিহাস বটে! দেঁতো হাসি

@ মৃত্যুময় ঈষৎ, অনেক ধন্যবাদ। আচ্ছা, আপনি কী কবি মৃত্যুময়? কবি কবে ভেসে গেলো অলকান্দা জলে?

আশালতা এর ছবি

বাহ বাহ, আমাদের ফটুরে দেখি প্রভূত গুনের অধিকারী। বেড়ে বেড়ে। কিন্তু আয়নামতি, আমাদের কৌবাবুকে লুকিয়ে থাকার অপবাদ দেয়া ভারী অন্যায়। তুমিই না কবে থেকে হাপিস হয়ে আছো, তুলির পোস্টে আমি কত চেঁচালাম, সাড়াশব্দই নেই। নইলে একটুখানি জানালে আমিই নাহয় ঠিকানা পত্তর ধরিয়ে দিতাম, তারপর দেখা যেত কত বোস্টনে কত আইসক্রিম ! শয়তানী হাসি
আর কবি তো কবেই ভেসেছে জানোনা বুঝি ? তারপর অলকানন্দায় কত জলই বইল, উনি এখন আপাতত ঈষৎ হয়েছেন বটে, তবে কারণ জানতে চাইলে বাপু আমি অপারগ। ওটা ভূতপূর্ব কবিই বলতে পারবেন।

আর হ্যাঁ, তোমার জন্যে ধামাভরা অভিনন্দন। এইবার শিগগির মিষ্টি খাওয়াও। হাসি

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

আয়নামতি এর ছবি

@আশালতা, আমি কিন্তু হাপিস হবার আগে বলেই গিয়েছিলাম। ছিলাম না তো দিদি! তাই তোমার ডাক শুনতে পাইনি মন খারাপ হুম, জানা হলো কবির কথা। কৌস্ত্তভকে অপবাদ দেইনি একটু ভয় খাওয়ালাম দেঁতো হাসি
অনেককক ধন্যবাদ দিদি তোমার ধামাভরা অভিনন্দনের জন্য। এই নাও মিষ্টি, যত ইচ্ছে খাও লেখা -গুড়- হয়েছে লেখা -গুড়- হয়েছে লেখা -গুড়- হয়েছে লেখা -গুড়- হয়েছে লেখা -গুড়- হয়েছে

@অপন্দনীয়, খাইছে হিহিহিহি, হুটোপাটি করি তো খুব তাই ভুল হয়ে যায় ভাইয়া দেঁতো হাসি কিন্তু শব্দকে বিকৃত তো করিনি, নাকি করেছি বলেন? তারপরও ভুলের জন্য দুঃখিত দেঁতো হাসি জয় গোস্বামীর একটা কবিতা আছে,

"অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে
হৃদি ভেসে যায় অলোকনন্দা জলে.........." ওটা বলতে গিয়েই তো খেলাম ধরা লইজ্জা লাগে

অপছন্দনীয় এর ছবি

১। অলোকনন্দা নয়, অলকানন্দা

২। কবিতার নাম মনে হয় "হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে" আর লাইনগুলো হবে

অতল তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে
হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে

(নিশ্চিত নই, কোবতেপ্রেমীরা ভালো বলতে পারবেন)

খাইছে

আয়নামতি এর ছবি

@পছন্দনী(তবে এখন থেকে মাষ্টারমশাই বলবো শয়তানী হাসি ) স্মৃতিশক্তি দুব্বল হলে আমি কী করবো! মাষ্টারমশাই, এর জন্য আবার কবিতাপ্রেমীদের ডাকাডাকি কেন, নিজের উপরে আস্হা রাখতে শিখুন হে খাইছে কি জানিরে বাবা! খালি ভুলভাল লেখি কেনু মন খারাপ

অপছন্দনীয় এর ছবি

একটা অ আর একটা য় বাদ গেছে এইবার...

কোবতের ব্যাপারে নিজের উপরে আস্থা নেই, ওই বস্তু বুঝিনা।

কৌস্তুভ এর ছবি

এইবার প আর নী বাদ গেলেই তুলিদির দেওয়া নামটা হয়ে যাবে...

আয়নামতি এর ছবি

প আর নী বাদ দেয়াটা হয়ত সহজ, কিন্তু আমি যা হুড়মুড়িয়ে লেখি দেখা যাবে আকার বসিয়ে দিয়েছি! ইয়ে, মানে...

সজল এর ছবি

আকার বসানো অবস্থায় দুইটা ভ্যারিয়েশন মাথায় আসলো, ছন্দা আর পছা(পঁচা) চোখ টিপি

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অপছন্দনীয় এর ছবি

দুইটাই মাস্টারমশাইয়ের চেয়ে ভালো...

অপছন্দনীয় এর ছবি

(ম/বা/আ)য়নামতি আপনি তো বিয়াঙ্কা কাস্তাফিয়োরের মত শুরু করলেন দেখি! অপছন্দনীয়কে অপন্দনীয়, পছন্দনী, পছন্দীয় কোনটাই বাদ দিচ্ছেন না...

আয়নামতি এর ছবি

শয়তানী হাসি এখন থেকে আর ভুল হবেনা। কারণ মাষ্টারমাইশেই ষ্টিক করবো ভাবছি দেঁতো হাসি বিয়াঙ্কা আপনার বান্ধবী বুঝি খাইছে

অপছন্দনীয় এর ছবি

ওটা মাষ্টার নয়, মাস্টার এবং ষ্টিক নয়, স্টিক (তৎসম শব্দ ছাড়া ষ ব্যবহার করা যায় না)। আর সেই সাথে মাষ্টারমাইশেই নয়, মাস্টারমশাইতেই বা মাস্টারমশাইয়েই

মাস্টারমশাইরা আমার দু'চোখের বিষ, ভুলেও যদি কোনদিন আমাকে মাস্টার বলেছেন রেগে টং রেগে টং রেগে টং

বিয়াঙ্কা আমার বান্ধবী নন, উনি মিলানের বজ্রকন্ঠী গায়িকা - যার ভয়ে বেচারা ক্যাপ্টেন হ্যাডক সবসময়ে থরহরি কম্পমান থাকতো... দেঁতো হাসি

আয়নামতি এর ছবি

জ্বী আজ্ঞে, মাস্টারমশাইতেই বা মাস্টারমশাইয়েই স্টিক থাকবো দেঁতো হাসি
বিয়াঙ্কা কে আমার খুব জানা আছে। হ্যাডক থরহরি কম্পমান হলেও মাস্টারমশাই যে তাকে খুব ভালু পান সেটা বেশ বুঝতে পারছি খাইছে

অপছন্দনীয় এর ছবি

ফের মাস্টারমশাই রেগে টং রেগে টং রেগে টং

কৌস্তুভ এর ছবি

হো হো হো ওনার সৃষ্টিক্ষমতা তো দেখি অসীম! আপনার তদন্তকেও বলিহারি যাই...

তিথীডোর এর ছবি

'অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে
হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে
করো আনন্দ আয়োজন করে পড়ো
লিপি চিত্রিত লিপি আঁকাবাঁকা পাহাড়ের সানুতলে
যে একা ঘুরছে, তাকে খুঁজে বার করো
করেছো, অতল; করেছিলে; পড়ে হাত থেকে লিপিখানি
ভেসে যাচ্ছিল–ভেসে তো যেতই, মনে না করিয়ে দিলে;
–’পড়ে রইল যে!’ পড়েই থাকত–সে-লেখা তুলবে বলে........

কবি ডুবে মরে, কবি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে।।'
#হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে: জয় গোস্বামী

এই হলো মূল কবিতা। হাসি
আয়নামতিদি:
ক) কবিতায় বানান /শব্দের ভুল করা খুব খ্রাপ! [রাগী রাগী ভঙ্গিতে মাথা নাড়ার ইমো]
খ) 'বিয়াঙ্কা কাস্তাফিওরের' মতো জগৎবিখ্যাত সু(!)গায়িকাকে পেটুকদার বান্ধবী ভাবতে পাল্লেন! চেম চেম... শয়তানী হাসি
গ) হাচলত্বের অভিনন্দন, অনেক! হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

আয়নামতি এর ছবি

ক) ভাগ্যিস তিথী আমার বাংলার টিচার ছিলেনা! এমন কত লাইন লেখে চালিয়ে দিয়েছি 'অমুক কবি' 'তমুক কবি'র নামে(অবশ্য তাতে বানান ভুল থাকতো না।) দেঁতো হাসি তুমি আমার বাংলার দিদিমণিটি হলে পাশ ভাগ্যে ছিলো না ইয়ে, মানে...

খ) বিয়াঙ্কার ব্যাপারে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই হে, পেটুকদা তার মহা ভক্ত চোখ টিপি

গ) অনেক ধন্যবাদ তোমাকে হাসি (তুমি করে বলাতে আপত্তি নেই তো? তুলিদি, আশাদি ওদের আমি সটান তুমি বলি(মনে মনে না জানি কেমন বেয়াদব ভাবেন খাইছে )

তিথীডোর এর ছবি

বাংলার দিদিমণি!! দুটো পাবলিক পরীক্ষায় পেতেই আমার ঘাম বেরিয়ে গেছে! 'ব্যাকরণ শিং'কে মনে পড়লে তো এখনো পেট কামড়ায়.. ইয়ে, মানে...

'তুমি'তে কোনই আপত্তি নেই আপু, প্রায় সব সচলাদের আমিও তুমি করেই বলি। হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

আশালতা এর ছবি

বাস্‌ রে, এখেনে দেখি বাংলার ইশকুল বসে গেছে। মানে মানে পালাই ভাই, খালি দরজার এপাশ থেকে বলে যাই, পছন্দের মানুষেরা তুমি বললে আমি ভারী খুশি হই, মোটে কাউক্কে বেয়াদব ভাবিনা। হাসি

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

কৌস্তুভ এর ছবি

আরে দূর, ফটুরে তো ওইটা সুকুমার রায় থেকে ঝেড়েছে! খাইছে

বটেই তো! আমি কোথায় পড়ি না জানলেও, আমি যে সচল পড়ি সেটা তো সবাই জানে, এখানেই বললে হত যে ২৮ তারিখ আইসক্রিম খাওয়ার লোভ হচ্ছে! তবে ঠিকই আছে, বস্টনে আইসক্রিমের দোকানের তো অভাব নেই, নিজে নিজে খেলেই হয়!

আয়নামতি এর ছবি

মোটেও ২৮ তারিখে আইসক্রীমের লোভ হয়নি রেগে টং খালি বানিয়ে বানিয়ে কথা রেগে টং হুহ!

অপছন্দনীয় এর ছবি

কৌস্তুভকে "অভিনন্দন" শেখাতে গিয়ে নিজেই অলকানন্দাকে "অলকান্দা" বানিয়ে দিলেন?

(বরিশালের শহরের ঠিক মাঝখানে আলেকান্দা নামে একটা জায়গা আছে, কিন্তু সেটা নদী নয়)

অর্ক রায় চৌধুরী এর ছবি

দারুণ হয়েছে ভাই
হাততালি

অপছন্দনীয় এর ছবি

হাসি

আশফাক আহমেদ এর ছবি

হাততালি

-------------------------------------------------

ক্লাশভর্তি উজ্জ্বল সন্তান, ওরা জুড়ে দেবে ফুলস্কেফ সমস্ত কাগজ !
আমি বাজে ছেলে, আমি লাষ্ট বেঞ্চি, আমি পারবো না !
আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !

অপছন্দনীয় এর ছবি

হাসি

সুমন_তুরহান এর ছবি

মজার হাসি চলুক

অপছন্দনীয় এর ছবি

হাসি

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

এই লেখা মিস গেলো কেমনে! চিন্তিত কার্টুন-মার্টুনের ভক্ত কোনো কালেই ছিলাম না, তবে লেখাটা পড়ে ভালো লেগেছে।

অপছন্দনীয় এর ছবি

দেঁতো হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।