মূলত পরিচিত কয়েকজন ব্লগার ইন্টারনেটে বাংলায় ভাষায় একটি কাঠামো দাঁড় করার ভাবনা শুরু করেন ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে। তখন বাংলা ইউনিকোড প্রযুক্তি হাতের নাগালে অতোটা আসেনি। এস এম মাহবুব মুর্শেদ ও অরূপ কামাল একটি অনলাইন পরিবর্তক ও লেখনী তৈরি করেন, যার সাহায্যে প্রচলিত ব্যবস্থায় (যেমন বিজয়) লিখিত কোন বাংলা লেখাকে ইউনিকোডে রূপান্তরিত করা যায় এবং প্রচলিত কির্বোড লেআউট ব্যবহার করেই অনলাইনে লেখা যায়। এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। পাশাপাশি কিছু কম্পোজিং সফটওয়্যার (যেমন অভ্র) বিনামূল্যে অনলাইনে পরিবেশিত হয়। ফলে ব্লগস্পট, ওয়ার্ডপ্রেস, প্রভৃতি ব্লগিং সার্ভিসগুলোতে বাংলায় ব্লগিং হঠাৎ খুব সহজে সম্ভব হয়ে ওঠে। এ সুবিধার কথা মাথায় রেখেই সচলায়তনের কাঠামোটি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়।
ধারণাটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে মত বিনিময় শুরু হয়েছিলো ২০০৬ এর মাঝামাঝি, সচলায়তনের জন্যে ডোমেইন কেনা হয়েছিলো অগাস্ট ২০০৬ এ, তবে সচলায়তনের মূল কাঠামো দাঁড় করার ব্যাপারটি বেশ একটা ঝোঁকের মাথায় খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ করা হয় ২০০৭ এর মে মাসে।
সচলায়তন নিবন্ধিত সদস্যদের জন্য বেশ ব্যবহারবান্ধব। সচলায়তনের গঠনপ্রক্রিয়াটি নিয়মিত চলমান, সদস্যদের পরামর্শ অনুযায় ফীচার যোগ, বিয়োগ বা পুনর্গঠন করা হচ্ছে অহরহ। অসদস্যদের মূলত মন্তব্যের অধিকার রয়েছে কেবল। এছাড়াও অতিথিরা একটি একাউন্ট (লগইন guest_writer, পাসওয়ার্ড guest) ব্যবহার করে কিছু ব্লগ পোস্ট করে তাদের অবদানের স্বাক্ষর রাখতে পারছেন।
সাড়ার ব্যাপারটা যদি পাঠকের সংখ্যা দিয়ে বলেন, মন্দ নয়। জুলাই ১, ২০০৭ থেকে জুন ৩১, ২০০৮ পর্যন্ত পরিসংখ্যানটি দেখতে পারেন।
সচলায়তন অনেকখানি আবদ্ধ কাঠামো, যে কেউ চাইলেই নিবন্ধন করে ব্লগিং শুরু করে দিতে পারেন না, বা মন্তব্য প্রকাশ করতে পারেন না, নইলে হয়তো সাড়া আরো বেশি হতো।
সচলায়তন ব্লগে স্বতস্ফূর্ত, ভাবনা উদ্দীপক লেখার আধার হতে চায়। এক একটি লেখা যেন মানুষকে ভাবায়, প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে মানুষের মনে, নতুন উদ্যোগের ভাবনা যেন বেরিয়ে আসে বিতর্কের মধ্য দিয়ে। এটুকুই আপাতত ভবিষ্যতের ভাবনা।