মাত্র কয়েকটা সপ্তাহ আগে ছিলাম বাংলাদেশের মোবাইল কোম্পানীর নেটওয়র্ক প্ল্যানিং এঞ্জিনিয়ার, আর এখন হয়ে গেছি ক্যানাডার দুঃস্থ গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট। এর আগের গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টদের অনেককেই নামের আগে দুঃস্থ শব্দটা ব্যবহার করতে দেখেছি কিন্তু সেটার অর্থ যে কি তা বুঝলাম এখানে এসে। দেশ ছেড়ে আসার দুই দিন আগে আমার ডিপার্টমেন্টে ইন্টার্নি হিসেবে ছিলো এরকম দুই পিচ্চির একটা ...মাত্র কয়েকটা সপ্তাহ আগে ছিলাম বাংলাদেশের মোবাইল কোম্পানীর নেটওয়র্ক প্ল্যানিং এঞ্জিনিয়ার, আর এখন হয়ে গেছি ক্যানাডার দুঃস্থ গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট। এর আগের গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টদের অনেককেই নামের আগে দুঃস্থ শব্দটা ব্যবহার করতে দেখেছি কিন্তু সেটার অর্থ যে কি তা বুঝলাম এখানে এসে। দেশ ছেড়ে আসার দুই দিন আগে আমার ডিপার্টমেন্টে ইন্টার্নি হিসেবে ছিলো এরকম দুই পিচ্চির একটা ফোন করে বললো, “ভাইয়া যাওয়ার আগে আমাদের সাথে দেখা করবেন না?”। প্রথম যে চিন্তাটা মাথায় এলো সেটা হলো, দুইটা পিচ্চিকে নিয়ে পিজা হাটে এক বেলা খাওয়ার মত রেস্ত কি আমার পকেটে আছে? গত চার বছর খুব ভালো অবস্থায় ছিলাম না এটা সত্যি, কিন্তু পিজা হাটে লাঞ্চের জন্য অন্ততঃ চিন্তা করতে হয়নি।
অনেকেই মনে করেন আমার চাকরী ছেড়ে ক্যানাডা পড়তে আসার ব্যাপারটা আসলে বোকামো আর পাগলামোর একটা মিশ্রণ। একে তো চাকরির বাজার খারাপ তাইতে তথাকথিত ‘সিকিওরড’ চাকরি এভাবে দুম করে ছেড়ে চলে আসা – তাও আবার লেখাপড়া করার জন্য এবং যেখানে আমার ক্যানাডায় থেকে যাওয়ার কোন ইচ্ছা নেই– আর যা-ই হোক বিবেচনাসম্পন্ন মানুষের কাজ হতে পারে না। আমি নিজেও অবশ্য তা-ই মনে করি। বিশেষ করে, বাংলাদেশের কর্পোরেট জগতে কাজ করার জন্য পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের আসলে কোন দরকার নেই। এই ডিগ্রি নিয়ে একমাত্র যে চাকরিটা নিশ্চিত সেটা হলো বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকরি – যেটা আমি না খেয়ে মরলেও করবো না। পাবলিক আর প্রাইভেট যা-ই হোক না কেন, ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের উপর আমার একটা অ্যালার্জি আছে। আমি আর যার দলেই যোগ দেই না কেন, ওনাদের দলে কোনদিন-ই যোগ দেয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কর্পোরেট চাকরীতে ফিরে যেতে পারলে যাবো, আর না পারলে না খেয়ে মরবো।
জন্মের পর থেকেই শুরু হয়েছে জন্মদাতার সব মানসিক আর শারিরীক অত্যাচার। আশেপাশে ছিলো তার সব আত্মীয়স্বজন আর তার মত কাপুরুষের কাছে আপনজনের লিস্ট এ বউ ছেলে পড়ে না। এই সব আত্মীয়স্বজনসহ তার অবশ্য কর্তব্য ছিলো আমাকে যত প্রকারে সম্ভব অত্যাচার করা। অবশ্য একটা শিশুকে আটকে রেখে তার মাকে যে বেরিয়ে যেতে বলতে পারে তার মত কাপুরুষের কাছ থেকে আর কি আশা করবো। ছোট বেলা থেকেই শুনতে শুনতে বড় হয়েছি যে আমি নাকি নিশ্চিত বখে যাবো, আমার কাজ হবে পকেটে ছুরি নিয়ে ঘোরা আর রাস্তায় ছিনতাই করা। ঘরের মধ্যে চরম অত্যাচারের যে অবস্থা সে তৈরী করে রেখেছিলো তাতে বখে যাওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। যাইনি খালি দুইটা কারণে – আমার মায়ের ব্যাক্তিত্ব অত্যন্ত শক্ত আর আমার নানার বাসা ছিলো নিজেদের বাসা থেকে দশ মিনিটের রাস্তা আর সেখানকার পরিবেশ ছিলো পুরো উলটো। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, একটা শিশুকে যদি একটা ভালো আর একটা খারাপ জিনিস দেখিয়ে বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে সে সব সময় ভালোটাই বেছে নেবে। আমার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তা-ই। অবশ্য ভালোটা গ্রহণ করতে গিয়ে মূল্য-ও কম দিতে হয়নি। আমার বয়স যখন সাত, তখন আমার জন্মদাতা জানোয়ারটা আমাকে একটা আগুন জ্বালানোর চেলাকাঠ দিয়ে পিটিয়েছিলো, শুধুমাত্র আমি ঐ বাসায় গেছি এই অপরাধে। সাত বছরের একটা বাচ্চাকে পিটানো অবশ্য খুব সহজ কাজ – উলটো আঘাত করার মত শক্তি তো তার গায়ে হয়নি তখনো। মানসিক ট্রমা থেকে উঠে আসতে অনেক সময় লেগেছিলো, আমার মা না থাকলে পারতাম-ই না হয়তো। জানোয়ারটা অবশ্য খুব-ই ধার্মিক, পিটানো শুরু করার আগে নামাজ পড়ে নিয়েছিলো – সব কাজ আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করা বলে কথা! শারীরিক অত্যাচারগুলো কষ্টকর ছিলো সন্দেহ নেই, কিন্তু সবচেয়ে কষ্ট পেতাম যখন আমার সামনে আমার সব প্রিয় মানুষগুলোর সম্পর্কে সব নোংরা আর আজেবাজে কথা বলতো। অনেক পরে বুঝেছি যে এটা আসলে মানসিক অত্যাচারের অত্যন্ত সূক্ষ্ম আর কাপুরুষোচিত একটা পন্থা।
আমার মা প্রথম শ্রেনীর সরকারী চাকরীজীবী – কলেজ শিক্ষক ছিলেন কিন্তু নিজে কোনদিন বাসায় কাউকে পড়ান নি। জানোয়ারটাও অবশ্য তা-ই, তবে বাসায় সীমিত টিউশনি করার অভ্যাসযুক্ত। প্রথম থেকেই সংসারের সব খরচ আর আমার সব খরচ চালাতো আমার মা আর জানোয়ারটা একটা পয়সাও খরচ না করে জমাতো। আর কাউকে দেখিনি আজ পর্যন্ত যে কোনদিন নিজের জন্মদাতার কাছ থেকে একটা উপহার-ও পায়নি। তাদের বিয়ের ত্রিশ বছরের মাথায় দেখা গেলো আমার মায়ের সঞ্চয় বলতে কিছু নেই আর আমার জন্মদাতা বিশাল সম্পত্তির মালিক। কাজেই প্রকাশ্য লুচ্চামি করতে তো তার আর কোন বাধা নেই – আর লুচ্চাদের লুচ্চামির সমর্থন করার জন্য ইসলাম ধর্ম নামে শক্তিশালী একটা প্রতিষ্ঠান তো আছেই। ইদানিং আবার দেখছি জাকির নায়েক নামে একটা সভ্যতাবিবর্জিত প্রাণী সব নোংরামির সাফাই গাইছে রীতিমত মাস মিডিয়ায়! সভ্যতাবিবর্জিত কেন বলছি বুঝতে হলে তার লেখা Answers to non Muslim’s common questions about Islam বইটা পড়াই যথেষ্ট। “If you eat
pigs then you behave like pigs.” কথাটা যে বলতে পারে, তাকে আর যে-ই শিক্ষিত বা সভ্য ভাবুক না কেন, আমি ভাবি না। যা-ই হোক, তার লুচ্চামির কারণে আমি আর আমার মা তার কাছ থেকে আলাদা হয়ে চলে এলাম আর চলে আসার সময় দেখলাম আমাদের বাংলাদেশি অতি-আন্তরিক সমাজ কাকে বলে। এতদিন ফ্যামিলি ভায়োলেন্সের প্রসঙ্গে যারা আমাকে বলতো “এটা তোমাদের পারিবারিক ব্যাপার” আজকে তারাই আমাকে বলছে “হাজার হোক সে তো তোমার জন্মদাতা, পুরুষ মানুষের একটু আধটু এইসব ব্যাপার থাকেই” আমি অবশ্য বেয়াদব, তাদেরকে সোজাসুজি একটা কথাই বলি, “আপনি লুচ্চা বা লুচ্চামির সাপোর্টার হতে পারেন, কিন্তু আমি কোনটাই না, আমি মানুষ – আপনার উপদেশ ছাড়া লুচ্চামি করতে পারবো না, তবে বেঁচে থাকতে পারবো - ধন্যবাদ”। অবশ্য বাংলাদেশের সমাজের কাছেও আমি আর কিছু আশা করি না, যারা বাবার সামনে সন্তানের সিগারেট খাওয়াকে বেয়াদবি বলে কিন্তু সন্তানের সামনে বাবার সিগারেট খাওয়াকে কিছুই বলে না, তাদের কাছ থেকে মানবিকতা আর কি করে আশা করবো? আমার আর মা’র এখন পৃথিবীতে কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই – যেটা এমনকি ঢাকা শহরের রিকশাওয়ালাদের-ও থাকে। জানোয়ারটা অবশ্য আমাকে সম্পত্তির একটা অংশ অফার করেছিলো, আমি কোন লিগ্যাল অ্যাকশন নেবো না এই শর্তে। নেইনি তার কাছ থেকে কোনকিছু আর উত্তরটা দিয়েছিলাম এক বাক্যেঃ “I am not for sale today”। লিগ্যাল অ্যাকশন নেইনি মা’কে প্রটেক্ট করার জন্য। বাংলাদেশী সমাজ কি জিনিস সেটা আর কেউ না জানুক আমি জানি। কোন শ্রেনীর মধ্যযুগীয় বর্বর যে ওই সমাজের প্রধান অংশ সেটাও জানি। অবশ্য নিজে একটা অপরাধবোধ বয়ে বেড়াচ্ছি, আমি মনে করি প্রতিবাদের সাধ্য থাকা সত্ত্বেও কোন ক্রাইম সহ্য করাটা নিজেই একটা ক্রাইম – আর সেই অর্থে আমি নিজেও আসলে ক্রিমিন্যাল।
আমার ভাই বোন নেই। ছোটবেলায়-ই আবিষ্কার করেছিলাম যে পছন্দসই বই পড়তে শুরু করলে সময় কোথা থেকে চলে যায় টের পাওয়া যায় না। অবশ্য সেখানেও জন্মদাতা ছিলো। দশ বছরের-ও কম বয়সে সে আমাকে একদিন বললো মাসুদ রানা নামে নাকি ‘চমৎকার’ একটা সিরিজ আছে আমার সেটা পড়া উচিত। আমি মা’কে জিজ্ঞেস করলাম, মা বললো এটা বড় না হয়ে না পড়তে – মায়ের কোন কথার অবাধ্য হতাম না কারণ এটা বুঝেছিলাম যে পৃথিবীতে আমার কোন বন্ধু যদি থাকে তাহলে সেটা সে-ই। কাজেই মাসুদ রানা পড়ার কোন চেষ্টা করলাম না। মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই আমার জন্মদাতা দাবী করলো আমি নাকি বখে গেছি কারণ আমি মাসুদ রানা পড়ি। তাকে যখন বুক শেলফটা পরীক্ষা করে দেখতে বললাম সেখানে মাসুদ রানা আছে নাকি, সে উত্তর দিলো “আমার দেখা লাগে না”। ছোট বেলা থেকেই চরম বোকা আমি, আমাকে মাসুদ রানার খবরটা দেয়া যে আসলে অত্যাচারের নতুন একটা মাত্রা সেটা বুঝতে অনেক সময় লেগেছে আমার।
মা রিটায়ার করলো যখন আমি ইউনিভার্সিটিতে থার্ড ইয়ারে পড়ি। যেহেতু টাকা পয়সা নয় ছয় করার কোন রেকর্ড তার নামে নেই, কাজেই তার পেনশন আর অন্যান্য সবকিছু যে আটকে যাবে তাতে আর সন্দেহ কি! বি এস সি এঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে চাকরীতে ঢুকলাম, প্রথম যেদিন অফিসে গেলাম সেদিন আমাদের বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ে আছে নব্বই হাজার টাকা – এক বছরের-ও বেশি সময় ধরে। পাড়ার মুদি দোকানে বাকি আরো প্রায় ষাট হাজার। চব্বিশ বছর বয়সে যারা চাকরী করতে আসে তাদের বেশীরভাগের-ই সংসারের দায়িত্ব নেয়ার বয়স হয়নি তখনো, আর আমার ঘাড়ে দায়িত্ব শুধু না, চিন্তা কি করে এই মাসে খাবো আর কি করে দেনা শোধ করবো। বাড়িওয়ালা যে বের করে দেয়নি সেটা তার মহত্ব, দিলেও তার বিরুদ্ধে কিছু বলার থাকতো না। অবশ্য শেষ পর্যন্ত দেনাটা আমার শোধ করতে হয়নি। আমি চাকরীতে ঢোকার পর পর-ই মা তার প্রভিডেন্ট ফান্ড পেয়ে যায় – সেটারও পরিমাণ বেশী না, কিন্তু অন্ততঃ দেনাটা তো শোধ করা গেছে!
জন্মেছি বরিশালে। ছয় বছর বয়সে প্রথম স্কুলে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হই। ওই সময়ে প্লে গ্রুপ নার্সারী এইসব বিচিত্র উদ্ভট জিনিসপত্র ছিলো না। সবাই স্কুলে এসে পড়তে লিখতে শেখে কিন্তু আমি গিয়েছিলাম লেখা পড়া শিখেই। আমার চার বছর বয়সে মা এক বছরের জন্য ইংল্যান্ডে ছিলো, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করার জন্য। এই সময়টা আমি ছিলাম আমার নানার বাড়িতে। জন্মদাতা সমস্যা করেনি কারণ চার বছরের একটা বাচ্চাকে বাসায় রাখাটাই একটা ঝামেলা – সেটা অন্যের ঘাড়ে চাপাতে পারলে আর কি লাগে। লিখতে না পারলে মাকে চিঠি লেখা যাবে না, আর পড়তে না পারলে তার চিঠি পড়া যাবে না, কাজেই আমার জন্য লেখাপড়া শেখার কোন বিকল্প ছিলো না। তার উপরে ছিলো পাশের বাড়ি। আমার নিজের ভাই বোন নেই, নানার বাড়িতেও বাচ্চা কেউ নেই, পাশের বাড়ির বাচ্চারা যদিও আমার চেয়ে অনেক বড়, কিন্তু তারা তখনো ‘বড়’ দের দলে পড়ে যায়নি। তার উপরে ছিলো তাদের বিশাল পারিবারিক লাইব্রেরী – আমার জন্য অন্যতম আকর্ষণ। তাদের সবাই এখন অনেক বড়, একেক জন একেক দেশে আর বাংলাদেশের একেক শহরে – অনেকদিন কারো সঙ্গে কোন যোগাযোগ নেই কিন্তু ওদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতাবোধ কোনদিন কমবে বলে মনে হয় না। জীবনে যে অল্প কয়জন খাঁটি মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে এই ছেলেমেয়েগুলো তাদের অন্যতম। সেই অসম্ভব সব মানসিক অত্যাচারের যুগে এই কয়জন ‘ছোট’ মানুষ না থাকলে আমি হয়তো পাগল-ই হয়ে যেতাম। ছোটদেরকে আসলে বড়রা যতটা বোঝে ছোটরা বোঝে তার চেয়ে অনেক বেশী – আর তাই ছোটদের কষ্ট যেমন ছোটরাই সবচেয়ে বেশী দিতে পারে, তেমনি সান্ত্বনাও দিতে পারে সর্বোচ্চ। প্রতিবেশী আর ক্লাসমেটদের প্রিয় খেলা যখন ছিলো পারিবারিক সমস্যা নিয়ে আমাকে টিজ করা, এই কয়েকটা ছেলেমেয়ে তখন আমাকে দেখতো নিজেদের ছোট ভাই হিসেবে। তাদের ঋণ শোধ করা সম্ভব নয় আমার পক্ষে। নামগুলো লিখলাম না কারণ তাদের অনুমতি না নিয়ে তাদের নাম প্রকাশ করার অধিকার আমার নেই – কিন্তু পারলে লিখতাম, অন্ততঃ সেই বয়সে খাঁটি ছিলো এমন কয়েকজন মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য।
ভর্তি হলাম বরিশালের একটা মিশন স্কুলে – স্কুলটা আসলে হলিক্রসের। সেই সময়ে বরিশালের সেরা স্কুল – সম্ভবতঃ এখনো। সেখানেও জন্মদাতা! তার এই স্কুল পছন্দ নয়, কাজেই সে আমাকে আরেকটা স্কুলে ভর্তি করে ছাড়বে – যেটার অবস্থা খুব একটা সুবিধার না। ছয় বছর বয়সে বাধা দেয়ার সাধ্য ছিলো না কিন্তু যা করার করেছিলাম – পরীক্ষার খাতাটা সাদা রেখে চলে এসেছিলাম। কি ঘটবে বোঝার মত বয়স হয়নি তখন, কিন্তু লিখতে ইচ্ছা করেনি তাই লিখিনি। সাত বছর ছিলাম মিশন স্কুলটাতে – শেষ দিন পর্যন্ত নাম ছিলো ‘সেই ছেলে যে কখনো শাস্তি পায়নি’। আসলে বোকাসোকা তাইতে ভীতু, শাস্তি পাওয়ার কাজ করতেও তো সাহস লাগে! উদয়নের সবচেয়ে ভালো ব্যাপার ছিলো হোম ওয়র্ক ছাড়া বাসায় আর কোন পড়াশোনা করা লাগতো না। আমার জন্য ভালো কারণ জন্মদাতা বাসায় লেখাপড়া করতে দিতো না। সত্যি বলতে কি, স্কুলের লেখাপড়া করার আগ্রহ-ও ছিলো না খুব একটা। গল্পের বই পড়ার মত স্কুলের বই পড়াটা উপভোগ্য হলে পড়তে পারতাম। কিন্তু আমাদের তো আবার জাতীয় পাঠ্যক্রম ও টেকস্টবুক বোর্ড বলে একটা চিড়িয়াখানা আছে যাদের দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের পাঠবিমূখ করে তোলা। ক্লাস সেভেন এ স্টিভেনসনের লেখা একটা ছড়া ছিলো, Travel নামে। আমার খুব প্রিয় ছড়া। কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন টের পেলাম যে এটা স্টিভেনসনের আসল ছড়া নয়। আসল ছড়াকে কেটে ছেঁটে, তারপর কিছু লাইন আবার পুরো পরিবর্তন করে ‘বিজ্ঞ’(!) ‘পাঠ্যপুস্তক লেখক’ ছাপিয়েছেন! তিনি নিশ্চয়ই স্টিভেনসনের চেয়ে অনেক বড় প্রতিভা – ছড়াটাও রিমিক্স করে ফেলেছেন! অবশ্য যে সব প্রতিভা মোস্তফা জব্বারের লেখা বইকে পাঠ্যপুস্তকের তালিকায় রাখতে পারেন তাঁদের জন্য স্টিভেনসনের ছড়া রিমিক্স করা তো ডালভাত! Abridged বলে একটা কথা ইংরেজীতে আছে, কিন্তু লাইন শুদ্ধ পরিবর্তন করা এই সংজ্ঞায় পড়ে বলে জানতাম না।
ক্লাস সেভেন-এ চলে এলাম ঢাকায়, ভর্তি হলাম একটা সরকারী স্কুলে। স্কুলিং এর পুরো অভিজ্ঞতাটাই উলটে গেলো! আমি তো মফঃস্বলের গেঁয়ো ভূত – অনেক কিছুই দেখার বাকি ছিলো। ক্লাসে টিচার টেবিলের উপর পা তুলে ঘুমায় এটা আমি আগে দেখিনি, ক্লাস এর মধ্যের ব্রেক-এ ছাত্ররা করিডোরে বেরিয়ে বাঁদরের মত লাফায় এটাও দেখিনি, সাজেশন বলে একটা জিনিস আছে সেটা আগে জানতাম না, বাংলা রচনা মুখস্থ করতে হয় সেটা ধারণায়ও ছিলো না, এমনকি অংক শুদ্ধ যে মুখস্থ করে ফেলা যায় সেই অভিজ্ঞতাও এখানেই প্রথম। এস এস সি ১৯৯৮ – গিনিপিগ ব্যাচ। অনেক দেরীতে হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুধাবন করে যে মান্ধাতার আমলের সিলেবাসটা পরিবর্তন করা দরকার এবং সেটা করেও ফেলে। খুবই প্রশংসনীয় একটা কাজ কোন সন্দেহ নেই কিন্তু যেটা প্রশংসনীয় ছিলো না সেটা হলো আজব সব পরীক্ষা নিরীক্ষা। কাদের যে এই কাজ করার জন্য বসানো হয়েছিলো আমি ঠিক জানি না। সিলেবাস তারা যেটা তৈরী করেছিলো সেটা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উন্নতমানের (আগেরটার তুলনায়) কিন্তু তার সাথে যা সব করেছিলো তা অনেকটা এরকম, ক্লাস নাইনের ছয় মাস আমার কৃষি শিক্ষা নামে একটা বিরক্তিকর জিনিস গিলতে হয়েছিলো বাধ্যতামূলক হিসেবে, ছয় মাস পরে যেটা বাদ দিয়ে দেয়া হয়। প্রথমে বলা হয়েছিলো উচ্চতর গণিত আর জীববিজ্ঞান একসাথে নেয়া যাবে না, যেটা পরিবর্তন করা হয় প্রায় আট মাস পরে। যেসব উর্বর মস্তিষ্কের লোকজন এইসব এক্সপেরিমেন্ট করে তাদের কি কোন ধারণা আছে ক্লাস নাইনের ছয় মাস সময়ের দাম কত – আর তাদের এই সব আহাম্মকির জন্য ঐ বয়সের ছেলেমেয়েদের যে মানসিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় সেটার ফলাফল কি?
স্কুল শেষ করে নটর ডেমের দরজা পেরিয়ে মনে হলো স্বর্গে চলে এলাম। পরবর্তি দুই বছর আমার শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে ভালো সময়। সেই পুরনো ডিসিপ্লিন, সেই পুরনো অভ্যাস। টেবিলের উপর পা তুলে ঘুমানো নেই, ক্লাস ফাঁকি দেয়া নেই, সেই পুরোনো গাদা বাঁধা প্র্যাকটিক্যাল, সেই পুরোনো হোমওয়র্ক, সব মিলে অসাধারণ সুখ। আমি আঁতেল নই, পড়াশোনাও খুব একটা করিনি কোনদিন, কিন্তু আমি নিয়মের মধ্যে থাকতে পছন্দ করি। লেখাপড়া যদি কলেজেই হয়ে যায় তো সমস্যা কি? পুরো এইচ এস সি কারো কাছে প্রাইভেট পড়িনি। নম্বর খুব বেশী পাইনি কিন্তু ফেল ও তো করিনি। লেখাপড়া নিয়ে কোনদিন মা’র কাছ থেকে কোন চাপের মধ্যে ছিলাম না। আমাকে শুধু একটা কথাই বলতো, 'তোমার পড়ার দরকার নেই, ক্লাসে ফার্স্ট-ও হওয়ার দরকার নেই, খালি যেটা শেখার সেটা শিখে নিও।' কথাটা যে আসলে কতখানি কাজের সেটা বুঝতে পেরেছি নিজে চাকরী শুরু করার পরে। স্কুলের নিচু ক্লাসে আমি ৩২ তম ৩৩ তম হতাম আর মা মিষ্টি কিনে সবাইকে খাওয়াতো। ক্লাসের ফার্স্ট বয় সেকেন্ড বয়ের মায়েরা জিজ্ঞেস করতো রেজাল্ট কি, আর রেজাল্ট শুনে হাসতো। বড় হওয়ার পরে বুঝেছি কেন মা এটা করতো, সে চাইতো কোন মতেই আমি যেন কোন মানসিক কষ্টে না থাকি এইসব অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে। নিজেকে হাস্যাস্পদ করতো শুধুমাত্র আমাকে কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য।
এইচ এস সি-এর পরে পাবলিক ইউনিভার্সিটি। ২০০০ এর ব্যাচ বের হওয়ার কথা ২০০৪ এ। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো আর সেশন জ্যাম কাকে বলে শিখবো না তা তো হয় না। ‘সেশন জ্যাম’ এর সেশনাল কোর্স না থাকলে তো বিদ্যাশিক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে! কাজেই শ্রদ্ধেয়(!) শিক্ষকদের আশীর্বাদ নিয়ে বের হতে হতে ২০০৬। চার মাস বসে কাটালাম তার পর চাকরী পেলাম একটা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট ভেন্ডরে। তিন বছর সেখানেই ছিলাম, ট্রান্সমিশন নেটওয়র্ক টেকনিক্যাল সল্যুশন এঞ্জিনিয়ার হিসেবে। এক হাজারের-ও বেশী বাংলাদেশী কর্মীর মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সীদের মধ্যে ছিলাম, কিন্তু দায়িত্বগুলো ছিলো অনেক বড় মাত্রার। চাকরীজীবন খুব বড় না হলেও অনেক কিছুই পেয়েছি এখান থেকে। চার মাসের মাথায় লোকাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল এমপ্লয়ী হয়ে গেলাম আর তারপর দেশের বাইরে ঘুরতে হলো টেকনিক্যাল সল্যুশনের জন্য। বিদেশে বিভিন্ন ধরণের মানুষের মধ্যে আজব সব অভিজ্ঞতাও কম হয়নি। প্রথম থেকেই যেটা অসহ্য লাগতো সেটা হলো আমাদের কিছু জাতভাইয়ের বিদেশীদের পা চাটার প্রবণতা – বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষের স্বজাত্যবোধ যথেষ্ট প্রখর, এইসব প্রাণীগুলো সংখ্যায় খুব বেশী না কিন্তু সব বড় বড় জায়গাগুলো এরাই দখল করে আছে। ৭১ এ জন্মাইনি, কিন্তু এতো বেশীমাত্রায় রাজাকার কেন ছিলো ওই সময়ে সেটা এই সময়ের এই প্রাণীগুলোকে দেখে কিছুটা অনুধাবন করতে পেরেছি। পা চাটার জন্য যেহেতু এখন আর ব্রিটিশ বা পাকিস্তানী নেই, কাজেই এরা জাত নির্বিশেষে পা চাটে, বিদেশী হলেই হলো। তিন বছর পরে এই পা চাটারা এতই অসহ্য হয়ে গেলো যে চাকরী ছেড়ে দিয়ে চলে গেলাম একটা মোবাইল কোম্পানীতে। এখানেও বিদেশী ছিলো, এখানেও পা চাটা ছিলো, কিন্তু আগের মত এত বেশী না – আর এত নির্লজ্জ না। এক বছর এখানেই কাজ করলাম ট্রান্সমিশন নেটওয়র্ক প্ল্যানিং এঞ্জিনিয়ার হিসেবে। এই ডিপার্টমেন্ট থেকেও পেলাম অনেক কিছুই। এই দুই জায়গায় চাকরীর সুবাদে কিছু মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে যাদের আসলে কোন তুলনা নেই। আর কিছু থাক বা না থাক, অন্ততঃ এই মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ আশা করি থেকে যাবে। আর মা’র সেই ‘পড়ার দরকার নেই শিখলেই চলবে’ কথাটার মানে কি সেটাও বুঝেছি এই চাকরীজীবন থেকেই।
ইউনিভার্সিটির ফোর্থ ইয়ারে আমাদের একটা রিসার্চ+থিসিস করতে হতো। সমস্যা হচ্ছে, ইউনিভার্সিটির শিক্ষকরা তো ঈশ্বর, তাঁদের ইচ্ছায়ই সব হয়। আমার কি রিসার্চে আগ্রহ সেটা কেউ জানতে চায় না, নিজেদের কিসে আগ্রহ সেটা সামনে ছুঁড়ে দিয়ে বলে ‘তোমার এটাই করতে হবে!’। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট লেভেলে এক বছরের রিসার্চ থাকা উচিত। ডঃ জাফর ইকবালের লেখা একটা কলামে পড়েছিলাম তাঁর অভিমতঃ ছাত্রছাত্রীদের গবেষণার স্বাদটা একবার পাইয়ে দিতে পারলে আর কখনো তারা এটা থেকে সরতে চাইবে না। আমিও তাঁর সঙ্গে পুরোপুরি একমত। কিন্তু যেখানে রিসার্চ এর উপায় আছে সেখানে এইভাবে যদি মহামান্য ঈশ্বররা নিজেদের পছন্দ ছাত্রদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন তাহলে রিসার্চের আগ্রহ তৈরী হওয়া তো অনেক পরের কথা, আগ্রহ যেটুকু শুরু থেকে ছিলো সেটাও গায়েব হয়ে যাবে। আমার নিজের রিসার্চ এর আগ্রহ যথেষ্টই ছিলো, এবং পর পর তিনটা রিসার্চ প্রপোজাল আমি ঈশ্বরদের কাউন্সিলের সামনে দিয়েওছিলাম, কিন্তু ওনাদের সেগুলো পছন্দ হলো না। আমার ধারণা ওনাদের পছন্দ হয়নি তার কারণ খুব সোজা – ওনারা আসলে ওগুলোর অর্থই বুঝে ওঠেন নি। আমাকে কারণ দেখানো হলো যে এই বিষয় গুলোতে তাঁদের কেউ কাজ করেন নি তাই আমাকে সাহায্য করা সমস্যা হবে। আমি এটাও বলেছিলাম যে “আমাকে সাহায্য করতে হবে না, এক বছর পর যদি মনে হয় আমি ভালো কিছু করতে পারিনি, একটা এফ-গ্রেড দিয়ে দেবেন, আপনাদের জন্য একজন স্টুডেন্টকে এক বছর বেশী রাখা যতটা সমস্যা আমার জন্য গ্র্যাজুয়েশন ডেট এক বছর পেছানো তার চেয়ে বড় সমস্যা” – কিন্তু কিসের কি! ওনারা তো ঈশ্বর, আমি নশ্বর মানুষ, ওনাদের উপরে কথা বলার স্পর্ধা দেখানোই তো আমার জন্য মহাপাপ! সাহায্য অবশ্য ওনারা ওনাদের পছন্দের বিষয়েও করেননি – ঈশ্বরদের সময়ের দাম আছে। আমি ছাড়া আর সবাই ছিলো ‘কর্তার ইচ্ছায় কর্ম’। অন্য কেউ কোনকিছুর প্রস্তাব করার চেষ্টাও করেনি – সেটা নিয়ে ঝগড়া করা তো দূরের কথা।
কাজেই ওনারা ওনাদের পছন্দসই একটা জিনিস আমার ঘাড়ে চাপালেন আর সাথে বহুমূল্যবান একটা উপদেশ খয়রাত করলেন, “এটা এই সময়ের হট টপিক – You Must Like This!” আমার কি like করা উচিত সেটাও ওনারা ঠিক করে দেবেন, ঈশ্বর বলে কথা! মাস্টার স্লেভ রিলেশন পড়েছি বিভিন্ন ক্ষেত্রে, প্র্যাকটিক্যাল ডেমনস্ট্রেশন দেখেছি এই এক জায়গায়ই – মনে হয় সভ্য পৃথিবী থেকে দাসত্বপ্রথা গায়েব হয়ে গেলেও প্রাচীন মূল্যবোধের ধারক ও বাহক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই জিনিসের চর্চাকে এখনো অবশ্যকর্তব্য মনে করে। বাংলাদেশের এবং বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খোঁজখবর যা জেনেছি তাতে কোন জায়গায়ই অবস্থা খুব একটা অন্যরকম না। যা-ই হোক, লেখাপড়া যেমন করিনি তেমনি নিজের অপছন্দের বিষয়ে রিসার্চ করার সাধ ও ছিলো না। অন্য কেউ হলে হয়তো নিজের ওই তিনটা রিসার্চ চালিয়ে যেতো। আমি যেহেতু স্বাভাবিক মানুষ না, কাজেই যেদিন ঘাড়ে এই আপদটা চেপে বসলো, সেইদিন-ই ফিরে এসে তিনটার মধ্যে দুইটার সব কিছু Shift+Delete করে দিলাম আর বাকিটা ধরে দিয়ে দিলাম এক জুনিয়রকে। এক বছরের মধ্যে আট মাস কাটালাম স্রেফ কিচ্ছু না করে। করার ইচ্ছা ছিলো না। নয় মাস পরে আই সি সি আই টি তে আমার ক্লাসমেটদের সব কটা গ্রুপের পেপার এক্সেপটেড হলো কিন্তু আমারটা হলো না। না হওয়ারই কথা, ওই পেপার পড়তে দিলে আই সি সি আই টি সম্পর্কে আমার ধারণা অনেকটাই নিচু হয়ে যেতো। আমার সুপারভাইজার বলে বসলেন, “পাবলিকেশন যদি দেখাতে না পারো, তো পাশ করতে পারবে না।” এক ও একমাত্র ঈশ্বরের সাথে তো কোনদিন দেখা হয়নি, কাজেই তাঁর হাসিটা কেমন ঠিক বলতে পারবো না, তবে মনে হয় এই রকমই হবে। ইচ্ছা করছিলো ইউনিভার্সিটি শুদ্ধ ধরে আগুন জ্বালিয়ে দেই। আমার নিজের কাজ করে ফেল করতাম, দুঃখ থাকতো না, কিন্তু এইসব ঐশ্বরিক খেয়ালে ফেল করবো কেন? বাকি তিন মাস কাজ করলাম খাওয়া ঘুম বাদ দিয়ে, তারপর পেপারটা পাঠিয়ে দিলাম একটা জার্নালে। জার্নালে পেপার রিভিউ হতে অনেক সময় কয়েক মাসও পার হয়ে যায়, কপাল ভালো দুই সপ্তাহের মাথায় এক্সেপট্যান্স পেয়ে গেলাম – যাক পাশ টা তো অন্ততঃ করা গেছে! জার্নালের প্রিন্টেড কপিটা আসার পরে ধরে দলা পাকিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলাম। আর কোনদিন সেটা খুলেও দেখিনি, কাউকে ওইটার কথা বলিও নি।
জিপিএ যথেষ্ট খারাপ বলে কোনদিন কোন জায়গায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে অ্যাপ্লাই করিনি। কাজেই হঠাৎ ২০০৯ এর জুনে যখন ক্যানাডা থেকে প্রফেসর নিজেই নক করে বসলেন তখন একটু অবাক-ই হলাম – আমাকে পছন্দ করার অনেকগুলো কারণের একটা ছিলো সেই জার্নাল পেপার। অফারটা ছিলো এম এস সি লিডিং টু পি এইচ ডি (সাথে আবার জিজ্ঞেস করেছিলো আমি বিবাহিত কিনা বা কোন গার্লফ্রেন্ড আছে কিনা, নেই শুনে বলেছিলো ‘এম এস সি লিডিং টু পি এইচ ডি’ এর সাথে একটা ‘গার্ল ফ্রেন্ড লিডিং টু ওয়াইফ’-ও জোগাড় করে দেবে, যদিও আমি সেটা রিজেক্ট করি)। কোন চিন্তা ভাবনা না করেই রিজেক্ট করলাম। মা তখনো তার পেনশন পায়নি। আমি চাকরী ছেড়ে চলে গেলে কি বাঁচবে কি করে? তা ছাড়া তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ারও কোন ইচ্ছা ছিলো না। আমাদের দুই জনের তো পৃথিবীতে এক জনের জন্য আরেকজন ছাড়া আর কেউ নেই। কিন্তু মুশকিল বাধিয়ে বসলো মা নিজেই। সে ভেবে বসলো তার কারণে আমার সামনে আগানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মুখে অবশ্য কিছু বলে না অসম্ভব চাপা স্বভাবের জন্য। কিন্তু বুঝতে তো পারি। তার পেনশন সে পেয়ে গেলো আমার অফারটা ছেড়ে দেয়ার কিছুদিন পরেই। আর এর পরপরই এলো দ্বিতীয় অফার, এইবার খালি এম এস সি প্লাস ফুল ফান্ড। শুধু মা’কে একটু ভালো রাখার জন্যই অফারটা নিতে বাধ্য হলাম – নিজেরও যে অবশ্য একেবারে ইচ্ছা ছিলো না তা না। প্রফেসর এর সাথে ডিল – আমার রিসার্চ আমি করবো তার পছন্দ না হলে ধরে ফেলে দিতে পারে কিন্তু যদি মাঝখানে কোন কথা বলতে আসে তাহলে আমি-ই ফান্ড টা ধরে ফেলে দিয়ে দেশে ফিরে যাবো। প্রফেসর রাজি – দেখা যাক এর পরে কি ঘটে।
অনেক দেশী বিদেশী চিড়িয়া নিয়ে নাড়াচাড়া করেছি, দেশে আর বিদেশে অনেক আজব অভিজ্ঞতা হয়েছে, অনেক উদ্ভট পরিস্থিতিতে পড়েও সেখান থেকে উদ্ধার পেয়েছি আর শৈশব আর কৈশোরের অত্যাচারগুলো তো ছিলই। জ্বালাতন তো অনেকই সহ্য করলাম, দেখা যাক ডিস্ট্রিবিউটেড সিস্টেমের সিকিউরিটি রেসপন্স নতুন কি জ্বালাতন করতে পারে। সমস্যা হচ্ছে দুই বছর পরে দেশে ফিরে আর কোন চাকরী পাবো কিনা জানি না (কোন অবস্থাতেই ইউনিভার্সিটিতে পড়ানো আমার জন্য না)। দেখা যাক কি ঘটে, না পেলে নেই – কত মানুষই তো পৃথিবীতে না খেয়ে মরে, সংখ্যা আরো একটা বাড়লে এমন কিছু যাবে আসবে না।
মন্তব্য
একটানে পড়লাম...
আপনার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রইলো, আপনিও ভালো থাকবেন!
________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"
________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"
ব্যক্তিগত জিনিস অনেক সময় নৈব্যত্তিক হয়ে উঠে আর হয়ে উঠে আগামীর। অর্থহীন! নামটিই পড়ার উৎসাহ জাগায় কিন্তু পড়তে পড়তে নিবিড় এক মোহবিষ্টতা জাগায়।
আমার জীবনে এমন এক ঈশ্বরের দেখা হয়েছিল আপনার ভাষায়। যদিও আমি এখনো তাঁকে শিক্ষেকের সম্মানে রাখি কারণ আমি মনে করি তাকে পোড়াবেই অনুশোচনা। আমি মনে প্রাণে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি কারণ শিক্ষকের অনেক মর্যদা আর সম্মান এই দেখে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের দোরগোড়ায় এসে আমার স্বপ্ন মুখথুবড়ে যায়। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের অশিক্ষক মনোভাবে।
জীবনের বাঁকে বাঁকে অনেক আইডল পেয়েছি যাঁরা জীবনকে আলোকিত করছে কিন্তু পারিবারিক একটি আইডলই যথেষ্ট জীবন সাজানোর জন্য। আপনার ক্ষেত্রে আপনার মা।
আপনাকে ধন্যবাদ মায়ের মুখ উজ্জ্বল করেছেন মাকে সাথে নিয়ে। আমি অনেককে দেখেছি মায়ের কষ্টের কারণ যেনেও সাহায্য করেনি নিজের অন্য আদর আর পাওনা না পাওয়ার ভয়ে।
একটি অনুমতি প্রার্থনা লেখাটি আমার পরিচিতদের জানাতে চাই। আপনি যেমন অনুমতি না নিয়ে আপনার ছোটবেলার সাথীদের নাম প্রকাশ করেনি সেই লেখা পড়ার পর এই ধৃষ্টতা দেখানো সমিচীন হবে না, তাই না।
ভালো থাকুন ভালো করুন।
মরণ রে তুহু মম শ্যাম সমান.....
অনুমতির প্রয়োজন নেই। ব্লগ একটা পুরোপুরি মুক্ত এলাকা, কাজেই এখানে কিছু পোস্ট করা মানে সবাইকেই সেটা পড়ার অনুমতি দেয়া। আপনি স্বচ্ছন্দে যাকে এবং যতজনকে ইচ্ছা জানাতে পারেন। অনুমতি যদিও অপ্রয়োজনীয় তারপরও জিজ্ঞেস করার জন্য ধন্যবাদ।
নতুন করে শুরু করা ছাত্রজীবন আনন্দময় হোক।
সাসকাটুন বড় শীতের জায়গা- তাই থাকবে প্রতিকুল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ; আরো থাকবে একাডেমিক ক্যারিয়ারের একেবারেই শুরুতে টেনিউরের ধাওয়ার মুখে থাকা দেশী প্রফেসরের নিত্য নতুন কাজের চ্যালেঞ্জ- সব মিলিয়ে নানামুখী চ্যালেঞ্জে দু’বছর সময় তো নস্যি। নতুন জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আরো লিখবেন আশা রাখি। পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম। নতুন দিন আসবেই- আশাবাদী থাকুন।
জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী
গ্র্যাড স্টুডেন্ট জীবনে স্বাগতম। আপনার লেখাগুলোয় একটা 'অ্যাংগ্রী ইয়ংম্যান' ইমেজ পাই। নতুন পরিবেশ কেমন লাগছে তার গল্প দিয়েন মাঝে মাঝে।
লেখাটা অনেক বড় আর বিষয় বৈচিত্রের কারণে প্রায়ই মনোযোগ হারিয়েছি। কয়েক ভাগে ভাগ করে দিয়ে দেখতে পারেন।
আপনার শৈশবের কথা জেনে কষ্ট পেলাম। সংসারের ভেতরের এইসব নির্যাতনের কাহিনী বাইরে আসেনা। আর তাই এরা নিজের বিকৃত মানসিকতা চরিতার্থ করতেই থাকে...
ভালো থাকবেন ভাইয়া...
বাংলাদেশেও শিশুদের মানসিক নির্যাতন বিরোধী একধরণের আইন থাকা দরকার।
_________________________________________
সেরিওজা
_________________________________________
সেরিওজার গল্প
এক একটা জীবন এক একটা মহাকাব্য।
আপনার লেখাগুলো পড়ে কথাটা মনে পড়ে গেলো
আপনাকে বাইরে থেকে দেখে আগে কখনো মনে হয়নি, আপনার যে এত কষ্ট.......... এত পোড়া একটা মন আছে।
শুভ কামনা: অনাগত দিনগুলির জন্য.......
আর একজন সংগ্রামী মা এর (আপনার মায়ের) প্রতি অনেক অনেক শ্রদ্ধা রইলো।
ভালো থাকবেন! প্রবাস জীবন ভালো কাটুক।
গ্র্যাড জীবনের জন্য শুভ কামনা রইল।
একটানে পড়লাম।
আপনারা সাথে আমার শৈশবের অনেক মিল আছে। পার্থক্য, আপনার মা চাকরী করতেন, আমার মা না। এখন মা কে নিয়ে আলাদা থাকি। বাইরে যাবার সুযোগ এসেছে। ঠিকই একই কারণে গড়িমসি করছি- মাস্টার্স লিডিং টু পিএইচডি। মা-কে কোথায় রেখে যাবো? ইউনি টিচাররা বদের হাড্ডি বেশিরভাগই- যেই সেন্সে বলেছেন। ইউনি টিচার হতে ইচ্ছে জাগে, কারণ নিজের ওরকম হবার ইচ্ছে নেই।
শুভকামনা।
লেখাটা পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। তবে আপনার প্রেচেষ্টা চালু থাকুক সফলতার পানে। মায়ের জন্য রইল অন্তর থেকে শুভকামনা। এমন চিন্তাশীল মা হোক সবার।
আপনার মায়ের জন্য শ্রদ্ধা রইল। আর আশা করি আপনার গ্র্যাড জীবন ভাল যাবে
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।
লেখাটা পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। মায়ের জন্য রইল শ্রধ্বা। আপনার সাধনা অব্যাহত থাকুক, এই শুভকামনা রইল।
অমিত্রাক্ষর
আপনার পড়াশোনা ও গবেষণার চেষ্টা সর্বত সাফল্যমন্ডিত হোক -- এই কামনা করছি, আপনার মার জন্য অগাধ শ্রদ্ধা আর সুস্হতার শুভকামনা।
আপনার বি,এস,সির থিসিস এর ঘটনাতে পুরোপুরি শিক্ষককে দোষী মানতে পারছি না -- কারণ সবজায়গাতেই থিসিস শিক্ষক এর পছন্দতেই করতে হয়। দেশে হয়তো ছাত্র/শিক্ষক অনুপাত বেশী হবার কারণে আর শিক্ষকদের গবেষণার স্বল্পতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে দুপক্ষের পছন্দের মিল ঘটার সম্ভবনা খুব-ই কম থাকে। ছাত্রের পছন্দের থিসিস হয়তোবা একজন শিক্ষক তখনি করতে দিতে রাজি হন যখন ছাত্রের ঐ বিষয়ে গবেষণার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে। তবে এটা সবসময়ই একজন শিক্ষকেরই দ্বায়িত্ব ছাত্রকে শিক্ষা/গবেষণাতে আগ্রহী করে তোলা -- গুটিকয়েক ব্যাতিক্রম ছাড়া কোনো শিক্ষকই এই বিষয়টাকে বিন্দুমাত্র-ও গ্রাহ্য/অনুধাবন করেননা।
আত্মিকজন
আরো লেখার অপেক্ষায় থাকলাম। সফল হোক আপনার নতুন অভিযান।
পোস্টটা বেশ কয়েকবার পড়লাম। মনটা খারাপ হলো খুব। নতুন ছাত্রজীবনের জন্য শুভকামনা রইলো।
আর আপনার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা।
---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!
---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!
আমি সাধারণত এত বড় লেখা পড়ি না, কিন্তু আপনার লেখাটা পড়ে ফেললাম এবং কষ্ট পেলাম। তবে আমার মনে হয় বুকে জ্বালা থাকলেই সত্যিকার মানুষ হওয়া যায়। আপনার মা'র প্রতি রইল অশেষ শ্রদ্ধা।
কিন্তু আপনার এই কথাটা মেনে নিতে পারলাম না -
বুঝতে পারছি সব কিছু নিয়েই আপনার ক্ষোভ আছে কিন্তু ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা মনে হয় সবারই উচিৎ। আর আপনার বাবা'র উপর আপনার রাগটা পুরোপুরি ইসলামের উপর চাপানোটা উদর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে ছাড়া আর কিইবা বলতে পারি। ইসলাম সম্বন্ধে আপনার কতটুকু পড়াশোনা জানি না কিন্তু ইসলাম কখনো লুচ্চাদের সমর্থন করেছে বলে আমার জানা নেই।
অনন্ত আত্মা
ইসলাম সম্বন্ধে আপনার পড়াশোনা কম বলেই ব্যাপারটা জানা নেই। আমি মানি ইসলাম সম্বন্ধে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক কিছু না জেনেই কিন্তু অন্যের মতের বিরোধিতা করার সময় আপনি নিজেকে কন্ট্রাডিক্ট করলেন কম পড়াশুনা করে কথা বলতে গিয়ে। ভাল মত এক্টু পড়ে নিজেও শিখুন, অন্যদেরও আলোকিত করবেন আশা করি।
দুঃখিত, সম্ভবত আমি একজন শায়েখ এর সাথেই বৎসায় জড়িয়ে গেছি। তো ইসলাম কোন কোন লুচ্চাদের সমর্থ করলো বা করেছিল - এই বিষয়ক লিংক বা বইয়ের রেফারেন্সগুলো যদি দিতেন তাহলে বাধিত হতাম। আর আমি নিজের কথার সাথে নিজেকে কন্ট্রাডিক্ট তো করি নাই - আমার মন্তব্যটা ভালভাবে পড়লেই বুঝতে পারতেন।
ভাল থাকবেন।
অনন্ত আত্মা
'অনন্ত আত্মা'র প্রতিঃ
প্রশ্নটা আমার কমেন্ট-এর উত্তরে করেন নি, তবে উত্তরটা আমি দিচ্ছিঃ
আপনার জন্য অল্প কয়েকটা রেফারেন্সঃ কোরান ৪:৩, ৪:৫, ৪:২৪, ৪:৩৪। আপনি যদি চান তো আরো রেফারেন্স আর উদাহরণ দেয়া সম্ভব। আবারো বলি, ইসলাম মানে শুধুমাত্র কোরান নয়।
আর আরেকটা কথা, আমি ঠিক আমার জন্মদাতার কর্মের দোষ ইসলামের ঘাড়ে চাপাচ্ছি না। ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ তার নোংরামিকে সমর্থন করা এবং তার মত নোংরা মননশীলতার ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়া, সরাসরি নোংরামিটাতে অংশ নেয়া নয়।
দয়া করে এই কমেন্টগুলোর নিচে আমার কমেন্ট-টা (২৮ বা এর আশেপাশে) দেখুন, আরেকটা উদাহরণ পাবেন।
অবশ্য আপনি যদি মনে করেন যে ২০১০ এ Polygyny, সীমাহীন Concubinage এইসব ব্যাপারগুলো লুচ্চামির মধ্যে পড়ে না, তাহলে সময় নষ্ট করে এসব নিয়ে কথা বলার কোন প্রয়োজন নেই - বরং একজন আসল 'শায়খ' এর সাথে কথা বললেই আপনার মূল্যবান সময়ের উপযুক্ত ব্যবহার হতে পারে।
ধন্যবাদ।
এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম। লেখাটা অনেকের জন্যই প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ভাল থাকবেন...
-------------------------------------
কেউ যাহা জানে নাই- কোনো এক বাণী-
আমি বহে আনি;
আপনার এবং আপনার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা। আশা করি অনেক সুন্দর মনের মানুষদের সাথে যেন আপনার পরিচয় হয় আগামীতে।
সজল
আপনার লেখাটা পড়লাম। আপনার মাকে অনেক শ্রদ্ধা। আমার বাবাকে নিয়েও লেখার ইচ্ছে আছে আমার। দেখি আমার আগেই লিকে ফেললেন আপনি। আজ কাল বাচ্চাদের দেখি তাদের বাবাকে কত ভালবাসে! আমার বাবাও আমাকে ভালবাসে। কিন্তু আমি তাকে বাসতে পারিনি। যততুকু বেসেছি, লবণের মত। আমি আমার বাবাকে লবণের মত ভালবাসি।
একটা কথা কি জানেন? ''তুমি তাই, যা তোমার খাদ্য।'' জোতিষী কাওসার আহমেদ চৌধুরী কথাটা প্রায়ই বলেন। এমন কি তাঁর লেখাতেও লেখেন। আগে বুঝতাম না কথাটা। একদিন হঠাৎ নিজের মনেই হল, তাই তো! বিদেশীরা শুকর খায়। তাই তো ওদের আচরণ শুকরের মত, কুকুরের মত (উল্লেখ করার ইচ্ছে হল না, কোন আচরণ, বুঝে নিন)। অবশ্য আমাদের আচরণ গরু-ছাগলের মত কি না আমি সে বিতর্কে গেলাম না।
-------------------------------------------------------------------------
রাজকন্যা
সচলায়তনে ধর্মের প্রচার নিরুৎসাহিত করা হয়। ধর্মের অপ্রচারেও উৎসাহিত করা হয়না বলেই জানি।
মানুষ কত বিচিত্র কষ্ট বুকে বয়ে বেড়ায় ! আপনার লেখাটা পড়ে আরেকটা কষ্ট এসে দাগ কাটলো বুকে। নিরাশ হওয়ার কিছু নেই ভাই, আপনার বুকের আগুনই আপনাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে। কেননা আপনাকে অনেক দূর যেতে হবে এইসব অপমান, লাঞ্ছনা, ভণ্ডামির প্রত্যুত্তর দিতে। আর আপনার বঞ্চিতা মায়ের সুপ্ত স্বপ্নটাকে সফল করে আকাশের উচ্চতায় তাঁর সম্মানকে তুলে ধরতে।
শুভকামনা থাকলো। এভাবে ব্লগের পাতায় না-হয় সব কষ্ট ঢেলে দিয়ে হালকা হবার একটা প্রয়াস চালাতে পারেন। আপনার লেখার হাত চমৎকার, এটা হয়তো আপনি নিজেও বুঝতে পারছেন। আশা করি এই মেধা ও গুণটাকে অবহেলা করবেন না।
ভালো থাকুন সব সময়।
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’
ধন্যবাদ মন্তব্যগুলোর জন্য।
যাঁরা ইসলাম সম্পর্কিত মন্তব্য নিয়ে সন্দিহান (আহত হয়ে থাকলে দুঃখিত) তাঁদের জন্যঃ
প্রতিষ্ঠান যদি বলে অপরাধ করা যাবে না, তাহলেও কিছু মানুষ অপরাধ করবে - এবং সেক্ষেত্রে সেই অপরাধের দায়ভার সম্পূর্ণভাবেই অপরাধীর। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান নিজেই যদি বলে কোন কোন ক্ষেত্রে অপরাধ করা অনুমোদিত তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের মধ্যের অপরাধের দায়ভার অপরাধীর যতটা, প্রতিষ্ঠানের-ও ততটাই। এই কারণেই ইসলাম নিজে তার দায়ভার এড়াতে পারে না। আর দয়া করে বলবেন না আর সব ধর্মে কি আছে, Worst এর চেয়ে Better হলেই কিছু Good হয় না।
একটা উদাহরণ দেই - ইসলাম (ইসলাম মানে শুধু কোরান নয়, তার সঙ্গে আরো অনেক কিছু বোঝায়) বলেছে দ্বিতীয় বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিতে, আমি কোথাও পাইনি যে এই অনুমতি কোন সাক্ষী রেখে নিতে হবে। কাজেই ঠাট্টাচ্ছলে অনুমতি নেয়াও ইসলামী আইন অনুসারে অনুমতি - এবং সেইটাই শরিয়ার ত্রুটি। সত্যি বলতে কি, ২০১০ এ কেন স্বাভাবিক মানুষের একাধিক স্ত্রীর দরকার পড়বে সেইটাই আমি আসলে বুঝি না।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দায় 'নিরপরাধের' ঘাড়ে চাপানোটা অবশ্যই সমর্থনযোগ্য নয় - তবে Divinity এর নামে যা ইচ্ছা তাই নোংরামিকেও পরিষ্কার বলে চালানো রীতিমত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
ইসলামের সম্পর্কে কতটুকু লেখাপড়া করেছি এটা যদি জানতে চান, আমি শুধু এটাই বলতে পারি যে কোন মন্তব্য করার এবং প্রয়োজনে সেটা 'ডিফেন্ড' করার মত আত্মবিশ্বাস হতে যেটুকু লেখাপড়ার প্রয়োজন সেটুকু অন্ততঃ করেছি।
ইসলাম সম্পর্কিত ব্যাপারে যদি কথা বলতে চান, দয়া করে আমার ইমেইল অ্যাড্রেসটা ব্যবহার করুন - সচলায়তনের পোস্ট এর জায়গা খুব বেশী না আর তাছাড়া যাঁরা এই ব্যাপারে আগ্রহী নন তাঁদের এইসব মন্তব্যগুলো দিয়ে বিরক্ত করার কোন মানে হয় না।উত্তর দিতে দেরী হলে কিছু মনে করবেন না - এই কমেন্ট-টাও ল্যাবে বসে লিখছি (তাও লাঞ্চ করতে করতে
)।
ধন্যবাদ।
হাহাহা আমি অবশ্য কোথাও পাইনি অনুমতি নিতে হয়।
এই কথাগুলোর মধ্যে কি কোন যুক্তি আছে? এখন কেউ যদি নরমাংস খায় তখন কি আমরা বলবো যে তার আচরণ মানুষের মতো? :@
সত্যান্বেষী
আপনাকে এবং আপনার মা-কে অভিনন্দন। জীবনের সব ক্ষেত্রেই সাহসীরাই জেতে, এটাই জানবেন।
-----------------------------------
আমার জানলা দিয়ে একটু খানি আকাশ দেখা যায়-
-----------------------------------
আমার জানলা দিয়ে একটু খানি আকাশ দেখা যায়-
মন ছুয়ে গেল আপনার লেখা।
আপনার মায়ের মত মা পাওয়া সত্যি ভাগ্যের!
আর আপনার জন্য রইলো শুভকামনা।
একটা কথাই বলি, গুড লাক।
পুনশ্চ: নিকটা পাল্টানো যায় কিনা ভেবে দেখার অনুরোধ করি। নিজেকে সব পরিস্থিতিতে পজিটিভ মুডে দেখতে চাই আমি।
লেখাটা যখন প্রথম পড়ি, অনেক খারাপ লেগেছিলো। আজ আবার পড়লাম। আবারও মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
আপনার ও আন্টির জন্য শুভকামনা। ভালো থাকবেন, ভাইয়া।
---আশফাক আহমেদ
ওহহ...আপনি পারেনও বটে। অবশ্য এই জন্যে আপনি গাছের মাথায় উঠে বসে আছেন। নিচে বসে আমার মত দেখতেও কিন্তু অনেক মজা। তবে আপনার ঐ দেশে ফেরার ব্যাপারে কোন প্রশ্ন নেই। জীবনের লক্ষ্য-ফক্ষ্য নিয়ে মাথা কখনো ঘামাইনি, কিন্তু গাধার খাটনি খাটতে খাটতে আর ক্ষয় হইতে হইতে এখন একটা লক্ষ্য পাইছি - বয়স ৪০-৪২ হইলে দেশে যেয়ে স্বেচ্ছা-অবসর নিব, মাঝে মাঝে একটু বেড়াব সাথে ছবি তুলব আর সারাদিন খালি পড়ে পড়ে ঘুমাব আর পড়ব। অবশ্যি এর মধ্যে কিছু পাগ্লাটে কাজ কারবার করারও অল্টারনেটিভ প্ল্যান আছে (যেমন ধরেন নিজে হাতে চাষ-বাষ করলাম, কিছু পোলাপানরে কাজ দিলাম আর সন্ধ্যার দিকে একটু পড়ালাম, নিজেও পড়লাম)। কত কিছু যে পড়তে এখনো বাকি, আর কত কিছু পড়ার মত যে রোজ জমে যাচ্ছে, খালি দেখি আর নিঃশ্বাস ফেলি। আহহহহ, কবে আসবে সেই দিন। হাইসেন না কিন্তু ভাইসব
নতুন মন্তব্য করুন