চাঁদেরও কলঙ্ক আছেঃ চন্দ্রাবতরণ প্রসঙ্গে মার্কিন ঘুঘুদের বোল

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৪/১০/২০০৭ - ১২:৫৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মুনহোক্স নামেই অভিযোগটি বেশি পরিচিত। ১৯৬৯ সালের জুলাই মাসে নাসার চন্দ্রজয় নিয়ে গত শতকের শেষে তীব্র অভিযোগ আনা হয়েছিলো এই বলে, যে গোটা ঘটনাটি বস্তুত ভূপৃষ্টের স্টুডিওতে ধারণকৃত, প্রকৃতপক্ষ সেই অভিযানে চন্দ্রাবতরণ ঘটেনি। এ নিয়ে নাসাও বেশ কিছু জবাব সাজিয়েছিলো।

আজ সুমন চৌধুরী জার্মান চ্যানেল ৩-স্যাট এ কিসিঞ্জার ও রামসফেল্ডসহ আরো কয়েকজন মার্কিন উঁচুবানরের সাক্ষাতকার দেখে এসে বিমর্ষ মুখে জানালেন, ঠিক্নাই!

নিচের পাঁচ টুকরো ভিডিও খুঁজে পেলাম ইউটিউবে। আপনারা আমন্ত্রিত।


মন্তব্য

দ্রোহী এর ছবি

খাইছে, এখন বইয়া বইয়া এইগুলান দেখতে হবে? আমারে মাফ করন যায় না?


কি মাঝি? ডরাইলা?

অমিত আহমেদ এর ছবি

এ বিষয়ে এক সময় খুব তর্ক-বিতর্ক করেছি।
এখন কেমন জানি গা-সওয়া হয়ে গেছে...


ব্লগস্পট | অর্কুট | ফেসবুক | ইমেইল

হিমু এর ছবি

আমি অভিযোগগুলি, এবং তার প্রেক্ষিতে নাসার একটি বিবৃতি পড়েছিলাম অনেক আগে। কিন্তু স্ট্যানলি কুবরিকের সংশ্লিষ্টতার কথাটি শুনিনি। তাই এটা দেখে একটু চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম।

ইউরি গাগারিনের নভোবিহারও নাকি সাজানো নাটক, পড়েছিলাম জার্মান ম্যাগাজিন জিওতে। এ ব্যাপারে কেউ কোন তথ্যসূত্র যোগ করতে চাইলে এই পোস্টে যোগ করবেন প্লিজ।


হাঁটুপানির জলদস্যু

এস্কিমো এর ছবি

কঠিন. ...

লেখতে চাই ..কিন্তু কি লিখবো?

ধুসর গোধূলি এর ছবি
সৌরভ এর ছবি

আম্রিকার টপে যেইগুলান থাকে সবসময়, সেইগুলানরে মাইর দেওন দর্কার।
হ্যারা পুরা ঈশ্বরের লাহান। মানুষরে উল্টাপাল্টা বুঝায়া রাখছে।
৯/১১ তে যা হৈছে, সেইগুলানও নাকি সাজানো। য়্যুটিউব ঘাঁটলেই প্রমাণ পাবেন ম্যালা, সচিত্র।

এহন, কৈ যাই?


আমি ও আমার স্বপ্নেরা লুকোচুরি খেলি


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

দেঁতো হাসি

নিঘাত তিথি এর ছবি

শেষে কি হলো? ইয়ে, মানে...

--তিথি

----------------------------------------------------
আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ

দ্রোহী এর ছবি

আচ্ছা এমনওতো হতে পারে যে এইসব চন্দ্রাভিযান, মঙ্গলাভিযান সব বানানো গল্প। বিজ্ঞান এখনো প্রস্তর যুগেই রয়ে গেছে। আমরা এখনো দাদৈতিহাসিক যুগেই বসবাস করছি। সবকিছুই পুরোহিতদের বানানো গল্প। আমাদের জোর করে বিশ্বাস করতে হয় - নইলে ঠাডা পড়বো, ঠাডা।


কি মাঝি? ডরাইলা?

অভিজিৎ এর ছবি

ইংরেজীতে কন্সপিরেসি থিওরী বলে একটা কথা আছে। মানুষ খুব সহজেই কন্সপিরেসি থিওরীতে বিশ্বাস করে এবং বিভ্রান্ত হয়। একটু খুঁজলেই নানা পদের কন্সপিরেসি থিওরীর হদিস পাওয়া যাবে, এই ব্লগেও। 'আইনস্টাইন চুরি করে পিএইচডি করেছিলেন', 'নাইন-ইলেভেন আমেরিকানরাই ঘটিয়েছিল', 'ডায়নাকে হত্যা করা হয়েছিল' ইত্যাদি। এখন আরেকটা কন্সপিরেসি থিওরী খুব ভাল মত বাজারজাত করা হইছে - এ থিওরীর নাম ' মুন হোক্স'। একটা সময় ছিল লোকজনকে খুব কষ্ট করে জ্ঞান সাধনা করতে হত। ইউরোপে গ্যালিলিও, কেপলার, ব্রুনোর মত জ্ঞান সাধক জন্মেছিলেন, যারা নিরলসভাবে বৈজ্ঞানিক সত্যের সন্ধান করে গেছেন। আর আজ? এই তথাকথিত উত্তরাধুনিকতার যুগে ইউ-টিউবের একটা বাটনে ক্লিক করলেই কিংবা একটা ফক্স চ্যানেল দেখলেই জ্ঞান অর্জিত হয়ে যায়। সে জ্ঞান আবার অভূতপূর্ব। সে জ্ঞানের ফল্গুধারায় ধর্মগ্রন্থের সুরা কিংবা স্লোকে যেমন বিগ-ব্যাং খুঁজে পাওয়া যায়, তেমনি এক ফুৎকারে বিজ্ঞানীদের নিরলস পরিশ্রম আর সাধনাকে 'হোক্স' বলেও চালিয়ে দেওয়া যায়। নাসার শত শত বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার - যাদের অনেকেই আবার অধ্যাপক , কিংবা অন্য সম্মানিত পদে আছেন -তাদের নিরলস সধনা কিছুই নয় - কেবল 'হোক্স'?

এই হোক্স প্রচারে পুরোধা ছিলেন ফক্স টিভি নেট ওয়ার্ক– যারা “Conspiracy Theory: Did We Land on the Moon?'” নামে একটি ‘ডকুমেন্টরি’ প্রচার করে ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারীতে। ওখানে ইনিয়ে বিনিয়ে নানা ভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় যে ১৯৬৯ এর চন্দ্রাভিযান ছিল পুরোটাই মিথ্যা- ফেক! তারপর-ই এই ‘হোক্স’ নানা প্যাকাটে বাজারজাত হয়ে বিভিন্ন ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই হোক্সের জবাব বহুভাবেই দেওয়া যায়। প্রাক্টিকাল উডাহরণ দেই একটা। যারা লেজার নিয়ে গবেষনা করেন (লেজার পদার্থবিদ ) তারা জানেন, চাঁদের দিকে তাক করে লেজার ছুড়ে মারা হলে তা লেজার রিফ্লেক্টরে বাধা পেয়ে ফিরে আসে। সেই লেজার রিফ্লেক্টর চাঁদে কোত্থেকে এল, কেউ যদি ১৯৬৯ সালে চাঁদে না নেমে থাকে? হোক্সের মুল আর্গুমেন্টটা ছিল চাঁদে বাতাস নেই, তবে কিভাবে ভিডিওতে নীল আর্মস্ট্রং পতাকা উড়তে দেখা গিয়েছিল? এটা তো সহজেই বোঝা যায়, ব্যাপারটাকে চিত্তাকর্ষক বানানোর জন্য ইচ্ছে করেই ফ্ল্যাগটাকে আর ফ্ল্যাগের ডান্ডাকে এমনভাবে নাসার বিজ্ঞানীরা বানিয়েছিলেন হয়েছিল যেন সাধারণ দর্শকের মনে হয় ফ্ল্যাগটা উড়ছে। নীচের ছবিটা দেখুন।

হরিজিনাল ডান্ডাটা খেয়াল করুন। ওইটা থাকার কারণেই মনে হয়েছে যে পতাকাটা ঊড়ছে। এ ছবিটাকেই এবার ছোট করে পিসিতে দেখুন, মনে হবে হরিজিনাল ডান্ডা নেই, এমনিতেই পতাকা উড়ছে। হয়ে যাবে ফক্সের বানানো হোক্স। এরমম সবগুলো হোক্সকেই খন্ডন করা যায়। সে সময় মহাকাশে মহাকাশযান প্রেরণ নিয়ে আমেরিকার সাথে রাশিয়ার এক ঠান্ডা যুদ্ধ চলছিল। আমেরিকা আগে চাঁদে মানুষ পাঠানোকে সোভিয়েত রাশিয়ার এক বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হয়েছিল। রাশিয়া কখনওই তখন আমেরিকাকে ছেরে দিত না যদি তারা মনে করত এর মধ্যে সামান্যতম হোক্স বলে কিছু আছে। এপেলো ১১ এর পরো তো চাঁদে গেছে রেঞ্জার, সারভাইভার অরবিটার। সব মহাকাশযাত্রাই কি হোক্স? মানুষ হাবিজাবি গিলতেও পারে বাবা। বলি পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা তো আর সব গাজারু না। ওটা হোক্স হলে এতদিন ধরে তা ধামাচাপা দিয়ে রাখা যেত না। নাসার বিজ্ঞানীরাই সবার আগে হুইসেল বাজিয়ে তা জানিয়ে দিত, ফক্স টক্স আর লাগত না। বিজ্ঞানীরা ত চাঁদ থেকে বহুবারই চাঁদের মাটি, পাথর সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছে। স্পষ্ট করেই বলি, পৃথিবী থেকে টোকান পাথরকে কখনই বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীদের সামনে 'চাঁদের পাথর' বলে চালানো যায় না। সরি। চাঁদ থেকে আনা এরকম পাথর রয়েল এস্ট্রোনোমিকাল সোসাইটিতে রাখা আছে। বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা তা পরীক্ষাও করেছেন। ওই পাথরগুলোর সাথে যদি পৃথিবীর পাথরের মিল পাওয়া যেত, তবে এতদিনে তা জানাজানি হয়ে যেত। এরকম হাজার হাজার উদাহরণ দেওয়া যায়।

আমি একটা ভাল বইয়ের নাম বলি - Bad Astronomy: Misconceptions and Misuses Revealed, from Astrology to the Moon Landing "Hoax" লেখক - Philip C. Plait । বইটা পড়লে হোক্স ভীতি (নাকি হোক্স প্রীতি) কেটে যাবে বলে এই অধমের বিশ্বাস। আমি ভাল কিছু লিঙ্ক-ও দিলাম, দেখুন যাচাই বাছাই করেঃ

http://www.badastronomy.com/bad/tv/foxapollo.html

http://pirlwww.lpl.arizona.edu/~jscotti/NOT_faked

http://pirlwww.lpl.arizona.edu/~jscotti/NOT_faked/FOX.html

http://www.badastronomy.com/bad/misc/apollohoax.html

http://users.erols.com/igoddard/moon01.htm

http://homepages.wmich.edu/~korista/moonhoax2.html

http://www.apollo-hoax.co.uk

http://www.the-indigestible.com/specials/moon.htm

http://www.straightdope.com/mailbag/mmoonhoax.html

http://www.redzero.demon.co.uk/moonhoax

http://www.crank.net/apollo.html

ভাবছিলাম আইন্সটাইন নিয়ে বজলুর রহমানের পয়েন্টগুলো একটু ভাল মত আলোচনা করব, আজ আর হল না বোধ হয়।

================================
পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

হিমু এর ছবি

চলুক

মুনহোক্স অভিযোগগুলি প্রত্যেকটিই নাসা খন্ডন করেছিলো যুক্তি দিয়ে, ওয়েবসাইটটা খুঁজে পেলাম না, ঐ খন্ডনপর্বগুলি আপনার হাতের কাছে থাকলে একটা সচিত্র পোস্ট করে দিতে পারেন।

এই ডকুমেন্টারিতে একটা মজার ব্যাপার লক্ষ করার মতো, রামসফেল্ড-কিসিঞ্জার-হেগ এরা কেউ কিন্তু একবারও চন্দ্রাভিযান শব্দটা উচ্চারণ করেনি। এ-ও সম্ভব যে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোন প্রসঙ্গে বলা কথা সাজিয়ে জুড়ে দেয়া হয়েছে।


হাঁটুপানির জলদস্যু

বিপ্লব রহমান এর ছবি

অভিজিৎ দা,

খুব ভালো লিখেছেন তো! ... অনেক কিছু জানলাম। ধন্যবাদ।


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।