ইন্টারভিউ ...

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি
লিখেছেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় (তারিখ: মঙ্গল, ২৪/০৭/২০০৭ - ১১:৪০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১ ...

সাত-আট মাসের পুরান কথা ... ভার্সিটি থেকে একটা চকচকা কাগজে "এই বান্দা পাস করিয়াছে" লিখে বের করে দিয়েছে ... লাল দালান থেকে বিতাড়িত হয়ে ঢাকা শহরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছি সবাই ... যেসব উচ্চগ্রেডধারী ইন্জিনিয়ারিং পড়েও নামের আগে ডাক্তার লাগানোর রঙিন স্বপ্ন দেখত তারাও হঠাৎ সিভি-বিডিজবস এসব নিয়ে অতিমাত্রায় উৎসাহী হয়ে পড়ল ... বাকিদের কথা আর না বলি ...

বড় ভাইদের কল্যাণে জায়গামত আইইউটির কিছু নাম ফাটছে ... এখন আর ভার্সিটির নাম শুনে কেউ কুষ্টিয়ার কথা বলে না ... বরং বেশ আগ্রহ করেই ইন্টরভিউয়ের জন্য কল দেয় ... সো অস্বাভাবিক উচ্চ গ্রেডধারী দুয়েকজন ছাড়া কারোরই বেকার জীবন খুব একটা দীর্ঘায়িত হয় না ...

এমন সময় এমনই এক উচ্চগ্রেডধারী অভাগা হঠাৎ আমাদের কাছে তুলনামূলকভাবে অপরিচিত একটা সফটওয়্যার কোম্পানী থেকে কল পেল ... প্রথম ইন্টারভিউ ... কাজেই তার সিরিয়াসনেস আর দেখে কে ... দুইদিন ধরে পিএইচপির জানা-অজানা সব কিছু কন্ঠস্থ করে একরঙা শার্ট আর টাই পরে যথাসময়ে ইন্টারভিউয়ের জন্য বান্দা হাজির ...

তারপরেই মজা ... গুলশানের যে বাড়িটায় এই সফটওয্যার কোম্পানির অফিস সেটার ভেতর-বাহির দেখে আর যাই হোক অফিস মনে হয় না ... রঙবেরঙের স্ট্রাইপ দেয়া দরজা ... ছবি আঁকা দেয়াল ... তার মাঝে ছেঁড়া জিন্স,টীশার্ট আর স্পন্জের স্যান্ডেল পায়ে দাঁড়ানো কোম্পানীর নরওয়েজিয়ান স্বত্বাধিকারী ... সুটেড-বুটেড চাকরীপ্রার্থীরা নিজেদেরকে হঠাৎ উজবেকিস্তানের অধিবাসী বলে অনুভব করা শুরু করল ...

ইন্টারভিউটা ছিল দারূণ ... কিছু গল্প, কিছু খেলা, খানিকটা গ্রূপ-ডিসকাশন, আর লাস্টে একটা ধোঁয়া উঠানো লিখিত পরীক্ষা ...

আমার বন্ধুটার এখানে চাকরি হয়নি ... প্রথম টেস্টটা সারভাইভ করলেও পরেরটায় ধরা ... কিন্তু তারপরেও এই ইন্টারভিউটা তার লাইফের খুব চমৎকার একটা স্মৃতি ... ইন্টারভিউয়ের মত খটমটে ফর্মাল একটা বিষয়ও কত চমৎকারভাবে প্ল্যান করা যায় তার একটা স্যাম্পল ...

২ ...

চমৎকার একটা অভিজ্ঞতা ছাড়াও আমার বন্ধু এখান থেকে পেয়েছিল আরও একটা জিনিস ... এই কোম্পানীটার একটা মটো হচ্ছে "শেয়ার ইওর কালারফুল মেমরিজ" ... সেটা শেয়ার করার জন্য তাদের একটা ব্লগসাইট আছে ... বাংলায় ... সেটার অ্যাড্রেস ...

সেদিন রাতেই ঢুঁ মারলাম ...

অদ্ভূত,ফাটাফাটি একটা জগৎ ... বিচিত্র সব মানুষ ... বিচিত্র সব লেখা ... সেসব নিয়ে ডিসকাশন, ঝগড়াঝাঁটি, গালাগালি ... চমৎকার লাইভলি এনভায়রনমেন্ট ...

সেই শুরু ...ইন্টারএকটিভ ব্লগ বা ব্লোরাম ধারণাটার সাথে পরিচয় হল সেদিন থেকে ... বাংলাতেও এত চমৎকার একটা সাইট বানানো যায়, এই ধারণাটাই অভিভূত করে ফেললো ...

সাইটটা ছিল সামহোয়ারিনব্লগ ডট নেট ...

পরের দুই মাস শুধু পড়লাম ... যত লেখা চোখে পড়তো সব ... টপ ব্লগার লিস্ট নিয়ে বসতাম ... একেকদিন একেকজনকে ধরতাম ... কয়েকটা লেখা পড়ে চিন্তা করতাম পড়ার যোগ্যকিনা ... না হলে আরেকজনকে ধরতাম ...

আনোয়ার সাদাত শিমুল, কনফুসিয়াস, প্রজাপতি, রাগ ইমন, আরিফ জেবতিকদের চিনলাম তখনই ...

পড়তে পড়তে অবশেষে একদিন ভোররাতে হঠাৎ ভাব উঠলো ... ভাবলাম কি আছে দুনিয়ায় ... লিখেই ফেলি না দুয়েক লাইন ... কখনো লিখিনি তাতে কি ... ব্লগে সাহিত্য করতে হবে কে বলেছে ... ভাবটা টাটকা থাকতে থাকতেই রেজিস্ট্রেশন ... ফ্রেন্ডরা যদি হাসাহাসি করে এই ভয় থেকে নিলাম একটা ছদ্মনাম ... তারপর শুরু করলাম কীবোর্ডের ঠুকঠাক (আল্লায় বাঁচাইছে ফনেটিক বলে একটা জিনিস ছিল, বিজয়ের ব-ও পারি না) ...

এই হল ইতিহাস ... একজন কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের ...

৩ ...

সামহো্যারিন যে অমিত সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছিল
সেটার পূর্ণতা দিতেই সচলায়তন ...

শুধু একটাই প্রশ্ন, কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের মত আর কেউ, যার লেখালেখির কোন অতীত ইতিহাস নেই, সচল কারও সাথে কোন রকম যোগাযোগও নেই, তবুও হঠাৎ শখ চাপলো কিছু একটা লেখার ... তার উপায়টা কি?


মন্তব্য

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

ভূত থেকে ভূতে সিস্টেমটা শুরু থেকেই পছন্দ হয়নি ... কিন্তু তারপরেও ভাবছিলাম ঠিকাছে, এটা সাময়িক, নিশ্চই ঠিক হয়ে যাবে ... কিন্তু দেশের জরূরী অবস্থার মতই এটাও তো দিনকে দিন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত টাইপ কিছু একটা মনে হচ্ছে ...

আমি নিজে রেজিস্ট্রেশন পেয়ে বসে ছিলাম এক সপ্তা ... সচল হওয়ার নামগন্ধ নাই ... কুংফু ভাইয়ের সাথে হালকা পত্রালাপ ছিল ... সেই সূত্রে পুলসিরাত পার ... আমার এক বন্ধু, সামহোয়ারের নিয়মিত পাঠক এবং অনিয়মিত লেখক, তার রেজিস্ট্রেশনেরও পার হয়ে গেল বেশ কিছুদিন (আমি ইনভাইটেশন পাঠাইতে চাইছিলাম, কিন্তু সে এইভাবে ঢুকটে রাজি না, আমজনতার একজন হয়েই থকতে চায় ... )

যা দেখতেছি সামহোয়ারের ইমেজ দেখে সেই অনুযায়ী নেয়া হচ্ছে ... অথবা সচল কারও সুপারিশে ... যে সামহোয়ারেও লেখে না বা সচল কাউরে চিনেও না টার কি হবে?

এখন সব পরিচিত মানুষজন নিয়ে গড়ে ওঠা এই সাইটকে যদি আবার কারও "পিঠ চুলকানোর বৈঠকখানা" মনে হয় তাহলে কি তাকে খুব দোষ দেয়া যায়?

মডুরামরা রাগ কইরেন না, ইস্যুটা ইম্পর্টেন্ট মনে হইল, তাই তুইলা ধরলাম ...

হিমু এর ছবি

আসলে আমরা যখন একটা কাঠামো থেকে অন্য কাঠামোতে যাই, তখন সেই আগের কাঠামোকেই প্রমাণ হিসেবে ধরে নিই। সচলায়তন, আপনি বোধহয় লক্ষ করেছেন, সামহোয়্যারের হুবহু ক্লোন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি। সামহোয়্যারিনের মতো রেজিস্ট্রেশন করেই কেউ ব্লগিং শুরু করে দেবেন, এমন প্রতিশ্রুতিও সচলায়তনে দেয়া হয়নি। সদস্যদের যোগদানের ব্যাপারটি ধীরগতিতে চলছে, বেশকিছুদিন হয়তো এমন ধীর লয়ে চলবে।

যাঁরা সচলায়তনে যোগদানে আগ্রহী, তাঁরা কিন্তু মন্তব্যের পাতায় অংশগ্রহণ করতে পারেন, সে ব্যবস্থাটি তৈরি করা হয়েছে তাঁদের জন্যে। মন্তব্য দেখেও কিন্তু বোঝা যেতে পারে মন্তব্যকারী আদৌ সচলায়তনের কাঠামোতে সদস্য হিসেবে যোগদানে আগ্রহী কি না। মন্তব্যকারী তাঁর ব্লগের ঠিকানা রেখে যেতে পারেন মন্তব্যের সাথে, যা আসলে তাঁর সবচেয়ে বড় রেফারেন্স।

সচলায়তন সদস্যসংখ্যা বর্ধনের কোন ইঁদুর দৌড়ে নামেনি তো। যাঁরা আগ্রহী, যাঁরা নিয়মিত ব্লগিং করবেন, তাঁরা সচল হবেন, নিবন্ধনের পর তাঁদের একটু অপেক্ষার প্রহর কাটাতে হবে। কারও যদি পিঠ চুলকানোর বৈঠকখানা মনে হয়, তিনি যদি যোগ দিতে না চান, তাহলে কি আমরা তাঁকে বেঁধে আনতে পারি, বলুন?

নতুন ব্লগিং শুরুর কথা যখন বলছেন, একটা সময় ছিলো, যখন কমিউনিটি ব্লগিং ছিলো না, লোকজন ব্লগস্পট ওয়ার্ডপ্রেস লাইভজার্নালে ব্লগ খুলতো, লিখতো। সে পদ্ধতি এখনো কার্যকর। বরং নিয়মিত লেখেন এমন একজন সুব্লগারকে সচলায়তনই হয়তো যেচে পড়ে আমন্ত্রণ জানাবে, কী বলেন?

সামহোয়্যারে যেহেতু সচলের অনেক সদস্যের অনেকদিন বিচরণ ছিলো, তাই এখনো সেটি একটি ক্ষেত্র হয়ে আছে। সামহোয়্যারের বাইরে থেকে অনেকে এসেছেন, তাঁরা সচল হওয়া সত্ত্বেও এখনো লেখা শুরু করেননি। আর সুপারিশের ব্যাপারটাকে আপনি ইতিবাচক চোখেও দেখতে পারেন। সিভিতে তো রেফারেন্স ব্যবহার করেছিলেন, নাকি?

কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের কাছ থেকে আরো ঘন ঘন পোস্ট পড়তে পাবার প্রত্যাশায়।


হাঁটুপানির জলদস্যু

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

ওপস!
মাঝ রাতে এসব কী ভাবেন?
কি আছে দুনিয়ায় ... ... ব্লগে সাহিত্য করতে হবে কে বলেছে ...
হা হা!
_________________________
'আজকে না হয় ভালোবাসো, আর কোন দিন নয়'

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আমার কথাও একই। আমি সাই-এ লিখতাম না কোনদিনই। হিমু ভাইকে চিনি বলেই আমিও পুলসিরাত পার হয়ে গেছি। কিন্তু বাকিদের কী হবে?

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

টেস্ট

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

শামীম এর ছবি

সুলিখিত।

তবে ইন্টারভিউ থেকে যেভাবে শার্প টার্ন নিয়ে ডাইভ দিল সেটা দর্শনীয় এ্যাকশন ... দেঁতো হাসি

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

তারেক এর ছবি

এখানকার সবার লেখার সাথে সামহোয়্যারিনেই তো পরিচয়। প্রথম পড়েছিলাম হিমু ভাইয়ের গোয়েন্দা ঝাকানাকা... তারপর আস্তে আস্তে দুর্দান্ত সব পোস্ট। পরে এই সেদিন পহেলা বৈশাখ থেকে লেখা শুরু, আর এই আজ ব্যান খাওয়া। মন খারাপ
সেই সাইটটাকে এখনো ভালবাসি। তবু সেই প্রাণের টানটা নাই আর... কি করা যাবে? সব প্রিয় মানুষদের আড্ডাঘর যে এখন এটা। ভীষণ আপন।
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে

_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

হিমু ভাই, এত লম্বা এবং যুক্তিসঙ্গত একটা রিপ্লাইয়ের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ... আর জবাব দিতে দেরি করার জন্য আন্তরিকভাবেই দুঃখিত ...

"সামহোয়্যারিনের মতো রেজিস্ট্রেশন করেই কেউ ব্লগিং শুরু করে দেবেন, এমন প্রতিশ্রুতিও সচলায়তনে দেয়া হয়নি" ... ঠিকাছে, কিন্তু সেটা দিতে অনির্দিষ্টকাল দেরি করাটাও বোধহয় প্রত্যাশিত না ... ধরেন এক-দুইদিন সময় নেওয়াই যায় ক্রস-চেকিংয়ের জন্য, আর একটু দেরি করে অ্যাকটিভ করলে ট্রলিংয়ের সম্ভাবনাও কমবে ... কিন্তু তার চেয়ে বেশি দেরি করাটা ডিমোরালাইজিং ...

আর বস, ব্লগস্পট জাতীয় ব্লগিংয়ের জায়গায় লিখতে সবাই কিন্তু আগ্রহী হয় না ... অ্যাটলিস্ট আমি নিজে আগ্রহী না ... সো সবাই কিন্তু তাদের ব্লগসাইটের রেফারেন্স দিতে পারবেন না ... তাদের কি হবে? ... আমার বেসিক পয়েন্টটা কিন্তু এখানেই ছিল ...

আপনারা অন্য সাইট থেকে ভাল লেখকদের আমন্ত্রণ জানাবেন আমি নিশ্চিত, কিন্তু শুধু তাদের নিয়েই একটা সাইট কখনো লাইভলি হয়ে উঠতে পারে না ... প্রয়োজন হয় ফ্রেশব্লাডদের ... তাদের মধ্যে ইশতিয়াক রউফ যেমন থাকবে, তেমনি ত্রিভুজও ... কাজেই কঠিন এবং নিরপেক্ষ হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সবার অ্যকটিভিটি, কিন্তু তাই বলে ত্রিভুজদের আটকাতএ আপনি যদি দরজা বন্ধ রাখেন সবসময় তাহলে ইশতিয়াকরাও কিন্তু আটকে যাবে আমাদের অজান্তেই ...

আমি বিশ্বাস করি আজ হোক কাল হোক এ সাইট সবার জন্য ওপেন হবেই, তখন ট্রলিং বন্ধের জন্য এখন থেকেই একটা স্ট্রীক্ট মডারেশন রুল করা উচিৎ ... এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে, কারা সেটা প্রয়োগ করবে সেটা ঠিক করা ... প্রয়োজনবোধে "জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ" জাতীয় কিছু গঠন করা যেতে পারে বর্তমানে সক্রিয়, সবার কাছে গ্রহণযোগ্যদের নিয়ে ... এই পরিষদে আর নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না এবং ভবিষ্যতের যেকোন ইস্যুতে এই পরিষদ সিদ্ধান্ত দেবে ...

যাই হোক, অনেক কিছু বললাম যেগুলো আমার চেয়ে আপনারাই হয়তো ভাল বুঝবেন ... ভেবেচিন্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এটাই কাম্য ...

আর সুপারিশের ব্যপারটায় বলা যায়, সিভিতেও রেফারেন্স ব্যবহার করা যায়, আবার অনেক সুপারিশের জোরে চাকরিও পায়, সো সবসময় ইতিবাচকভাবে দেখা মুশকিল ...

কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের আরও অধিক লেখার প্রত্যাশায় আছেন, কিংকংয়ের পা তো আর মাটিতএ পড়বে না হাসি

হিমু এর ছবি

ভাই রে, এখানেই তো কবি শুকনায় আছাড় খেয়ে পড়ে যায়।

"টেকনিক্যাল" সমস্যার কারণেই আসলে অত স্বতস্ফূর্তভাবে নেয়া যাচ্ছে না সদস্য :p।

আপাতত পাঠকদের মন্তব্যে অংশগ্রহণের জন্য জোরালো অনুরোধ জানানো হচ্ছে। মূলত ব্লগের প্রাণবন্ত, চলমান অংশ হচ্ছে মন্তব্যের ঘর, সেখানে পাঠকদের কিছুটা নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ রয়েছে। ধীরে ধীরে সদস্য নেয়ার সুফলগুলি আপাতত কুফলকে ছাড়িয়ে গেছে। সক্রিয় পাঠকরাই তো পারেন সচলতা প্রমাণ করতে।

তবে দেরি হয়ে যাবার জন্যে আমরা আসলেই দুঃখিত। এখন নিবন্ধনের পর অপেক্ষার অনুরোধ জানানো হচ্ছে সবাইকে, আর অ্যাকাউন্ট সচল হবার পর ইমেইলে জানানোও হচ্ছে। যাঁরা এই সময়টা নাহক মর্মপীড়ায় ভুগেছেন, তাঁরা আশা করি ক্ষমা করবেন।

সচলের সম্পদ হচ্ছে কিছু সীমিত রিসোর্স আর আমরা সবাই। কিছু বিলম্ব, কিছু বিড়ম্বনা, কিছু সমস্যা সহ্য করতে হচ্ছে আমাদের। এ পরিস্থিতির নিরসন ঘটবে আশা করছি।

কমিউনিটি ব্লগিং কাঠামো হিসেবে সচলের একটা দায়িত্ব চলে এসেছে, নতুন ব্লগারদের প্রণোদনা দেয়ার, স্বীকার করি, কিন্তু তার জন্যে যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, সচলের তা এখনো বাকি।

কিংকর্তব্যবিমূঢ়, সচলায়তনকে সময় দিতে হবে আরো। অপর যে কাঠামোতে আপনি কিছুদিন আগে যোগদান করেছিলেন সক্রিয় ব্লগিঙের জন্যে, সেটা শুরুর দিকে আরো রুগ্ন ছিলো। আজ ২৭ তম দিন সচলায়তনের, এর মধ্যেই কি সে সামগ্রিক পূর্ণতা পেয়ে যাবে?

এই মত বিনিময়ের সুযোগ করে দেবার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। লিখুন প্রাণ খুলে।


হাঁটুপানির জলদস্যু

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

শিমুল -> "নেই কাজ তো খই ভাজ" ... কথা আছে না? ...

ইশতিয়াক -> হুম, এখন যাদের জন্য বললাম তারা কি বলে দেখি ...

এসএমমামু -> কি টেস্ট করলেন কিছুই তো বুঝলাম না ...

শামীম -> আসলে লেখালেখিতে প্র্যাকটিস নাই তো, কত ডিগ্রি অ্যাংগেলে লাফাইতেছি টের পাই না সবসময় ...

তারেক, অলৌকিক -> থ্যাংকস ফর কমেন্ট ...

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

লেখাটার পাঠক সংখ্যা তো কম না, কমেন্ট এত কম কেন? ভাই একমত না হইলে কইয়া ফেলেন, সমস্যা কি? হাসি

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

দুই রকম প্রবাদ আছে।

ক। নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল।
খ। দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল ভাল।

সামহোয়্যারে প্রথম প্রবাদ মেনে দেখা হয়েছে। এবার নাহয় দ্বিতীয় প্রবাদটা মেনে দেখলাম। যুক্তি বিবেচনায় আমি লৌহযবনিকার পক্ষে আপাতত। ভাল কিছুর জন্য কিছু দাম দিতেই হয়, এই জেনেই আমিও অপেক্ষা করেছি অনেক দিন।

আমার মতে, যাদের শক্তপোক্ত রেফারেন্স আছে, তাদের সচল করার প্রক্রিয়াটা আরেকটু দ্রুত করা যায়। পরিবেশটাই এমন যে রেফারাররা নিজ নিজ রেফারির দিকে নজর রাখছেন।

আনকোরা যারা, তারা হয়তো সচল হওয়ার জন্য একটু সবাক ও সক্রিয় হতে পারেন। অথবা, নিজ নিজ লেখার অন্তত গুটিকয় নমুনা রেখে যেতে পারেন।

ঐ পাড়ার অবস্থা এত্ত বেশি খারাপ এখন যে কিছু মডারসশন ও রেস্ট্রিকশন ছাড়া গতি নাই।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

ঠিকাছে হিমু ভাই, বুঝতেছি আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা ... সমস্যা নাই ... আপনার আমার চিন্তাধারা আলাদা হইতে পারে, কিন্তু উদ্দেশ্য একই ... সো অপেক্ষায় রইলাম ...

অভি, আমি কোন প্রবাদের পক্ষেই ছিলাম না আপাতত ... তবে মডুডের উপরে আমার বিশ্বাস আছে ... তারা যা করবেন ভালর জন্যই করবেন আমি জানি ...

অয়ন এর ছবি

সাই এ একবার তোমার সাথে মজা করছিলাম। রিদওয়ান মনে হয় বলছে তোমাকে। ব্যাপারটা আসলে ইচ্ছাকৃত ছিল না। কিন্তু তুমি মনে হয় রাগ করছিলা।

ভেড়্ এর ছবি

মডারেশন অনেক বেশী হয়ে গেছে অলরেডী । পরে এই নিয়ম যে change করা হবে এতে আমার কোন সন্দেহ নাই । কিন্তু এখন যারা বিমুখ হবে তারা আর কখনো আসবে কি না, তাও ভেবে দেখতে হবে ।

হিমু এর ছবি

মডারেশন শব্দটা আসলে একটু সংশয় সৃষ্টি করে। প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলতে পারেন। সচলায়তন শুরু থেকেই এ পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হচ্ছে, সচলায়তনের কোন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য বা ব্যবহার নেই, আরেকটি হচ্ছে সীমিত সম্পদ। কাজেই এই নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার নিয়ে কারো মনে ক্ষোভ থাকলে দুঃখপ্রকাশ করছি। সাথে রইলো মন্তব্যে অংশগ্রহণের অনুরোধ। আপনার মন্তব্যই হয়তো আপনার দূত।

সমস্ত মন্তব্য@ভেড়্


হাঁটুপানির জলদস্যু

ভেড়া এর ছবি

আমরা তো ওয়েলকামড না, মন্তব্য লিখে আর কি হবে । যাই হোক, have fun.

শাহান এর ছবি

আরে আমাদের পোলাপান দেখি !

ভেড়ার কথা ঠিক ...আগ্রহ চলে যাইতেছে । তাছাড়া কমেন্ট করলে আপলোড হইতে হইতে ২-১ দিন লাইগা যায় ।
আচ্ছা ... "সীমিত সম্পদ" এর ব্যাপারটা কি? বুঝি নাই ...(ভাই গরিব ভাই ...)

কিংকং ...পইড়া মজা লাগল চোখ টিপি

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

সিমীত সম্পদ মানে সার্ভারের একসাথে সদস্য টানার ক্ষমতা।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

সাথে ম্যান পাওয়ারও সীমিত।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

অয়ন -> হ বলছে ... তখন চেতছিলাম, ভাবছিলাম রেদওয়ান নিজেই করছে ... পরে রেদওয়ান বলার পরে আর রাগ করি নাই ...

ভেড়া -> এইটাই আমার ভয়, যারা যাইতেছে তাদের আর পাওয়া যাবে কিনা ...

শাহান -> মজা পাওয়ারই কথা, নিজের গল্প পড়তে সবসময়ই মজা লাগে হাসি

এসএমমামু -> ধইন্যবাদ রেসপন্সের লাইগা ...

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।