সাদাত হোসাইন-এর উপন্যাস আরশিনগর-

কনফুসিয়াস এর ছবি
লিখেছেন কনফুসিয়াস (তারিখ: রবি, ২৫/০৩/২০১৮ - ৫:২৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এবারের বইমেলা থেকে কিনে আনা বইগুলো একে একে পড়তে শুরু করেছি। সর্বশেষ পড়া হলো, বইমেলার বেশ জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনের উপন্যাস ‘আরশিনগর’। গুডরিডসে বইটিকে পাঁচ এর ভেতরে দেড় দিতে চেয়েছিলাম, সেটার উপায় না থাকায় দুই রেটিং দেবার পরে মনে হলো, বিস্তারিত না হলেও কারণগুলো অন্তত সংক্ষেপে এখানে টুকে রাখি।

যা ভালো লাগেনি-
১/ অসংখ্য পুনরাবৃত্তি। ‘কোন এক অদ্ভুত কারণে’।
২/ বিস্ময়বোধক চিহ্নের অসংখ্য অকারণ ব্যবহার, বক্তব্যকে দুর্বল করে দিয়েছে।
৩/ আবারো, অসংখ্য বাক্যের অকারণ পুনরাবৃত্তি, একই প্যারার শুরুতে, মাঝে ও শেষে, শব্দের অবস্থান বদলে বদলে একই বাক্যের উপস্থিতি বারবার।
৪/ ফরম্যাটে ফেলা অভিব্যক্তি। ‘তাঁর এই কান্নার শব্দ কেউ শুনল না। কেউ না।’ 
‘তাঁর খুব জানতে ইচ্ছা করে। খুব।’ ‘সে কত কিছু ভাবে। কত কিছু! কিন্তু তাঁর কাউকে কিছু বলতে ইচ্ছা করে না। কাউকে না। ’
৫/ অনেক চরিত্রকেই শুধু শুধু মহিমান্বিত করা হয়েছে শুরুতে, পরিসমাপ্তিতে তার প্রতিফলন নেই কোন।
৬/ চরিত্রগুলো পূর্ণতা পায়নি অনেক ক্ষেত্রেই, উপন্যাসে বেশিরভাগের উপস্থিতিই অকারণ। এমনকি মূল চরিত্রটিও মনে শেষমেষ কোন দাগ কাটতে পারেনি।
৭/ গল্প ঝুলে গেছে। পড়তে পড়তে বহুবার পড়া থামিয়ে দিয়েছি, আবার হাতে তুলে নেবার তাড়া অনুভব করিনি কোন।
৮/ দুর্বল ও দ্বিধান্বিত সমাপ্তি। কাল রাতে পড়া শেষ হলো, সকালে এখন লিখতে বসে শেষটা মনে করতে পারছি না, আবার বই খুলে দেখে নিতে হলো। এরকম সমাপ্তির জন্যে উপন্যাসটিকে ভুলে যাওয়াও সহজ হবে।

যা ভালো লেগেছে-
১/ বড় কলেবর। নতুন লেখকদের মধ্যে এই কলেবরে লেখার প্রবণতা কম।
২/ উপন্যাসের পটভূমির ব্যাপ্তি এবং সেই সাথে অনেক চরিত্রের সমাবেশ। এদের সামাল দেবার মতন সাহস লেখকের রয়েছে।
৩/ লেখায় মায়া আছে। কথ্য গল্পের একটা ছোঁয়া আছে, একটা সহজবোধ্যতা আছে। আবার সমবন্টনের ভঙ্গিতে পুরে দেয়া ছদ্ম-গভীরতাও আছে।

আমরা যারা বাংলা সাহিত্যের মাঝারি মানের পাঠক, তাঁদের চির চেনা এক লেখকের লেখন-ভঙ্গির ছাপ রয়েছে সাদাত হোসাইনের লেখায়, তবে দুর্ভাগ্যবশত সেই প্রাণটুকু নেই। তবে তাতে বোধকরি তাঁর জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় কোন বাঁধা নেই। বরং অনুমেয় কারণে আগামী মেলাগুলোতেও সাদাত হোসাইনের বইয়ের কাটতি বাড়বার সম্ভাবনা বেশি বলেই আমার মনে হয়েছে।


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

এই পোস্টখানা যদি ফেসবুকের সুবিখ্যাত বই পাঠকদের গ্রুপগুলোতে দেয়া হয় তবে এক জীবনে যতগুলো কটুবাক্য শুনলে কানে তালা লেগে যায় সেই সংখ্যক এঙরি রিয়েক্ট ও অত্যাধুনিক সার্কাস্টিক কমেন্ট কিংবা কট্টর আক্রমনের শিকার হতেন। বাজী ধরে বলতে পারি। এই সব কারনে এখন আর রিভিউ লেখি না। আমাদের দেশের মানুষ এত অসহনশীল হয়ে গিয়েচ্ছে, দেখলে কষ্ট লাগে। যাই হোক, সাদাত-এর লেখায় ধার ছিল না, কাছে টানার ইচ্ছে ছিল তবে শক্তি ছিল না; আর গভীরতা তো নয়ই। তবে হ্যা, তার লেখার ধাঁচ ক্রমশ পাল্টাচ্ছে। পরিণত হচ্ছে - যেটা আশার কথা। কারন এই বিরাট কলেবরে এপার বাংলায় কেউ কখনো উপন্যাস লেখেনি, কিংবা লিখলেও হাতেগোনা। আমি আশাবাদী। তবে নিরাশ হই এই দেখে যে যথেষ্ট প্রতিভা থাকা স্বত্তেও সাদাত আরেকজনের ছায়ায় ঢাকা পরে থাকার মতন লেখা লিখে যাচ্ছে। আই এক্সপেক্ট মোর অফ হিম। যথোপযুক্ত রিভিউ। চলুক

অন্তরা রহমান

ফজল সামদান এর ছবি

কারন এই বিরাট কলেবরে এপার বাংলায় কেউ কখনো উপন্যাস লেখেনি, কিংবা লিখলেও হাতেগোনা।

অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। "এপার" বাংলায় ষাটের দশক থেকেই বড় কলেবরের উপন্যাস লেখা হয়ে আসছে। রশীদ করিম, সৈয়দ শামসুল হক, সেলিনা হোসেন, আবুল ফজল, হুমায়ুন আজাদ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, নাসরীন জাহান... নাম বলতে থাকলে তো লিখেই যেতে হবে। হুমায়ূন আহমেদ আর ইমদাদুল হক মিলন কিছু চিকন জিনিস লিখে উপন্যাসের গোল্ড স্টান্ডার্ড হয়ে গেছে নাকি? জেনে শুনে কথা বলেন, লোকে কম হাসবে।

অতিথি লেখক এর ছবি

অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী।

আমি ভাই মুখ্যু-সুখ্যু মানুষ। তিন তিনখানা বই ঘেঁটে, সারাদিন ইন্টারনেট থেকে অনেক জেনেশুনে একটা কমেন্ট করলাম তাও যদি আপনি সেখানে এভাবে নজর লাগান। কি আর করার থাকে? কপালটাই খারাপ। ওঁয়া ওঁয়া

রশীদ করিম, সৈয়দ শামসুল হক, সেলিনা হোসেন, আবুল ফজল, হুমায়ুন আজাদ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, নাসরীন জাহান... নাম বলতে থাকলে তো লিখেই যেতে হবে।

ভাই, লেখকের নাম না লিখে বইয়ের নাম লিখুন না। উনাদের কয়টা বই ৪-৫শ পাতার কাতারে গিয়েছে যেমনটা সাদাতের যায়? আর ঐযে হুমায়ুন কিংবা মিলন - গায়ে গতরে মোটাসোটা বই কিন্তু তাদেরও আছে। নূরজাহান, জ্যোছনা ও জননীর গল্প এই দুটো নাম এখন মাথায় আসছে।

আর ভাই, আমার কথা শুনে দুয়েকজন হাসলে হরেদরে কাজটা ভালোই হয়েছে। কয়টা লোক আর আজকাল প্রাণখুলে হাসে। আমার কমেন্টটা যাকে বলে জনগনের কাজে আসছে। দেঁতো হাসি সেখানে আপনার কমেন্ট পুরাই আমড়া কাঠের ঢেঁকি (আমিও দুয়েক খানা বাগধারা পারি)। চোখ টিপি ভালো থাকবেন। অফ যা

অন্তরা রহমান

ফজল সামদান এর ছবি

বইয়ের সাইজ পাতায় মাপে না, মাপে শব্দে। সাদাত হোসাইনের উপন্যাসের একটা পাতা বাছেন। সেখানে লাইনের সংখ্যা গনেন। প্রত্যেক লাইনে গড় শব্দের সংখ্যা গনেন। গুন দেন। তারপর গুনফলকে ৪-৫শ দিয়ে গুন দেন।

একই কাম যাদের নাম বললাম, তাদের একটা বড় উপন্যাস হাতে নিয়া করেন। কিংবা এতদুর পর্যন্ত যাওয়া লাগবে না। পুরানা দিনের একটা মাসুদ রানা হাতে নিয়া গুন দিলেও কাজ হবে।

কনফুসিয়াস এর ছবি

'সুবিখ্যাত বই পাঠকদের গ্রুপ' এর কটু কথার ব্যাপারটা আমাকে আরও কয়েকজন জানিয়েছে, এর সম্পর্কে আমার ধারণা কম ছিল। সমালোচনা অথবা পাঠ প্রতিক্রিয়া নিতে পারার মত সহনশীলতা সবার থাকে না, এটা খুবই সত্যি। তাই তেমন কিছু বলার নেই।

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু।

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখক হয়তো সেটা স্পোর্টিংলি নিতে পারেন। কিন্তু তার ভক্ত-মুরিদকুল পারলে আপনার বাসার ঠিকানা খুঁজে বের করে এসে দুই ঘা লাগিয়ে দিয়ে যায়। আর পাবলিক শেমিং টা তো আজকাল শিল্পের পর্যায়ে চলে গিয়েছে। ফেসবুক এসে মব সাইকোলজির জগতে রেভ্যুলিউশন নিয়ে এসেছে।

অন্তরা রহমান

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA