| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
কবিগুরু নাকি বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে গিয়ে মেয়ের মা'কে পছন্দ করে এসেছিলেন -এমনই জানাইছেন আমাদের মান্যবর মাহবুব লীলেন ভাই। এ ব্যাপারে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে । স্বয়ং কবির মুখেই শোনা যাক সেই কাহিনী :
"মেয়ের বাবা অনেক পয়সা কড়ির মালিক। বাসায় যাবার পর, দুটো অল্প বয়সী মেয়ে এসে উপস্থিত হলো । একটি মেয়ে নেহাত্ সাধাসিধে , জড়ভরতের মত এক কোনে বসে রইল এবং অন্যটি যেমন সুন্দরী তেমনি স্মার্ট । কোন জড়তা নেই । শুদ্ধ উচ্চারনে ইংরেজিতে কথা বলছে। ওর সঙ্গে কথা হল। আমাদের পিয়ানো বাজিয়ে শোনালো । আমি মু© , বিস্মিত । মনে মনে ভাবছি , সত্যিই কি আমি ওকে পাবো । ভাবনায় ছেদ পরলো । বাড়ির কর্তা তখন ঘরে ঢুকলেন । ঘরে ঢুকেই তিনি মেয়েদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন । সুন্দরী, স্মার্ট মেয়েটিকে দেখিয়ে তিনি বললেন , হেয়ার ইজ মাই ওয়াইফ । আর জড়ভরতটিকে দেখিয়ে বওলেন, হেয়ার ইজ মাই ডটার ।
আমি তো শুনে থ হয়ে গেলাম । যা হোক, বিয়ে হলে মন্দ হতো না। সাত লাখ টাকা পাওয়া যেতো । বিশ্বভারতীর কাজে ব্যয় করতে পারতাম। তবে শুনেছি, মেয়েটি নাকি বিয়ের দু'বছর পরই বিধবা হয় । যাক, বাঁচা গেছে । কারণ স্ত্রী বিধবা হলে আমার প্রাণ রাখা শক্ত হতো ।
২। একবার মৈত্রেয়ী দেবী কবিগুরুকে জিজ্ঞেস
করলেন ,'আপনার বিয়ের গল্প বলুন ।'
কবি জবাব দিলেন ," আমার কোনো বিয়ের গল্প নেই । বৌঠানরা বিয়ের জন্য জোরাজোরি শুরু করলে আমি বললাম ,তোমাদের যা ইচ্ছা কর । আমার কোন মতামত নেই । তারপর বোঠানরাই যশোরে গিয়েছিলেন । আমি বলেছি ' আমি কোথাও যেতে পারবো না। আমার বিয়ে জোড়াসাকোতেই হবে । '
মৈত্রেয়ী দেবী বললেন ," কেন আপনি বিয়ে করতেও যান নি ?"
কেন যাবো? আমার একটা মান সম্মান আছে না ? -রবীন্দ্রনাথের সাফ জবাব ।
৩।একবার রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে চীন ভ্রমনে গিয়েছিলেন শাস্ত্রী মশাই (ক্ষিতিমোহন সেন শাস্ত্রী )। সেটা আমের মরশুম । কবিগুরু আম ভালবাসেন যেনে চীন কর্তৃপক্ষ আম আনালেন বাংলাদেশ থেকে । তখন তো আর দ্রুত যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল না । আম যেন না পচে তাই রাসায়নিক মিশানো হয়েছিল । কিন্তু আম যখন চীনে পৌছল তখন সেগুলি শুকিয়ে চুপসে গিয়ে রপান্তরিত হয়েছিল এক অদ্ভুত বস্তুতে । খাবার টেবিলে দেয়া হলো রবীন্দ্রনাথ , তার ভাগ পেলেন শাস্ত্রী মশাইও। চীনের লোক তো আর আম চেনে না , কবিকে তার প্রিয় খাদ্য দিতে পেরে ভারি খুশি । তাদের মনোরঞ্জনের জন্য এত কষ্ট করে আনা আম গলধঃকরণ করলেন দু’জনেই মুখ বুজে ।
কবিকে শাস্ত্রী মশাই জিজ্ঞেস করলেন -"কেমন আম খেলেন গুরুদেব ? "
মৃদু হেসে জবাব দিলেন কবি-"আম খেতে খেতে মনে হচ্ছিল এক রবীন্দ্রনাথ আর এক রবীন্দ্রনাথের দাড়িতে তেতুল গুড় মেখে চুষছে ।"
......................................................................................
দৈনিক জনকণ্ঠে ১৯৯৬ সাল থেকে এই অধমের সিরিজ "লেখক রঙ্গ" এর অন্তভুক্ত হিসেবে ২ নং রঙ্গ ১ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখে প্রকাশিত ।
৩
প্রথম রঙ্গটা বেশ মজার!
৫
বেশ লাগলো.
৬
ধন্যবাদ ।
৭
সিরিজটা ভালো লাগছে। মজা করে পড়ছি নিয়মিত ![]()
৮
মান্যবর লীলেন কিন্তু রবীন্দ্রনাথের বউয়ের সাথে পরকীয়া করে।
---------------------------------------------------------
আমাকে ডাকে আকাশ, বোঝে মাটি হাওয়া জল
বোঝে না মানুষ আর বিনাশী মুদ্রার ছল
১০
আমারো সিরিজটা ভালো লাগছে
আরো লিখতে থাকেন
--------------------------------
পুষ্পবনে পুষ্প নাহি আছে অন্তরে
১১
বেশ মজা করে পড়লাম, ভালো লাগলো!
....................................
বোধহয় কারও জন্ম হয় না, জন্ম হয় মৃত্যুর !
১২
মানিক ভাই কি রবীন্দ্রনাথের সম্মান রক্ষার কোনো প্রকল্প হাতে নিয়েছেন নাকি?
নাহলে তাকে নিয়ে যেসব রসিকতা কিংবা মশকরা হয়েছে সেগুলোর কোনো হদিস দেন না কেন?
যতদূর জানি রবীন্দ্রনাথ নিজে যত রসিক ছিলেন তার চেয়ে বেশি রশিকতা হয়েছে তাকে নিয়ে
কই...
দেন দু একটা
১৩
-"আম খেতে খেতে মনে হচ্ছিল এক রবীন্দ্রনাথ আর এক রবীন্দ্রনাথের দাড়িতে তেতুল গুড় মেখে চুষছে ।"
১৫
আম খেতে খেতে মনে হচ্ছিল এক রবীন্দ্রনাথ আর এক রবীন্দ্রনাথের দাড়িতে তেতুল গুড় মেখে চুষছে
হাহাহাহাহাহাহাহা ![]()
-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'
১৬
আপনার ভান্ডারে অন্য যাদের নিয়ে যা যা আছে এবার সেগুলো বের করুন
১৮
মান্যবর লীলেন কিন্তু রবীন্দ্রনাথের বউয়ের সাথে পরকীয়া করে।
গুরুদেবের শিয্য হইছে!!!
১৯
রবীন্দ্রনাথের বৌ নিয়ে মূলত একটা লেখাই আমি বিভিন্নভাবে লিখেছি
কবিতা- গল্প এবং ফিল্ম স্ক্রিপ্ট আকারে সাজিয়েছি লেখাটাকে
আমার নিম নাখারায়- প্লানচেট গল্পটা সেই গল্প
এবং বাজারিবাটুতে মৃণালিনী কবিতটা সেই কবিতা
ফিল্মটা এখনও বানানো হয়নি তবে দীর্ঘমেয়াদে একজনকে কাস্টিং দিয়ে বলে দিয়েছি যশোরের ভাষা এবং সেই সময়ের শাড়িপরা আয়ত্ব করতে
জানি না বানাতে পারব কি না
০০০০২
মৃণালিনীর কয়েকটা পয়েন্ট.....
''বিয়ে হলে রবি ঠাকুর কারো স্বামী হয় জানা ছিল না আমার
কী করে তিনি ভালবাসা দেন- কাকে কতটুকু দেন- কীভাবে তার থেকে চেয়ে নিতে হয় আমাকে শেখায়নি কেউ
তাই তোমাদের কবি সবাইকে ভালবাসা দিয়ে একটা নাম ছাড়া আমার জন্য রাখতে পারেননি কিছু''
.....
''আর কোনো হাসি শুনিনি তার; হয়ত বিজয়া শুনেছে হাসি; অথবা কাদম্বরী- অথবা ইন্দিরা অথবা মৈত্রেয়ী; তারা নিশ্চয়ই জানে কবি কী করে হাসেন
তিনি লিখতেন তাদের- গল্প করতেন- বেড়াতেও যেতেন সকলের বাড়ি
শুধু আমারই জানা হয়নি কবির সাথে গল্প করলে কেমন লাগে মানুষের''
মৃণালিনী/বাজারিবাটু
২০০৪.০৫.১৬
০০০০৩
প্লানচেট গল্পটাতে একটা মদের বারে বসে মৃণালিনী তার এক বন্ধুর সাথে গল্প করে। তার কিছু কথা...
০১
''তোদের কবির জীবন বিত্তান্তের ছকে পেশা-শখ-জন্ম তারিখের পাশাপাশি আরেকটা ঘর হচ্ছে স্ত্রীর নামের ঘর। তার সাথে আমার বিয়ে হওয়ায় আমার প্রাপ্তি ঘটেছে তার জীবন বিত্তান্তের ছকে আধাইঞ্চি জায়গা। এর বেশি কিছুই নয়। তার জীবনীকারেরা দু-তিনশো পাতার বইয়ের দু তিন জায়গায় আমার নামটা ব্যবহার করে তোদের কাছে আমাকে পরিচিত করে দিয়েছেন। কিন্তু এছাড়া...?''
০২
''...সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিদেশি বান্ধবী ভিক্টোরিয়ার বাড়ি যাওয়া যায়। বুড়ো বয়সের কিশোরী বান্ধবী মৈত্রেয়ীর বাড়ি যাওয়া যায়। শুধু জীবনে একবারও শ্বশুর বাড়ি যাওয়া যায় না। তাতে কবিতার ক্ষতি হয়''
০৩
''একেবারেই সেকেলে নাম ছিল আমার। সেটা পাল্টে যখন তিনি মৃণালিনী দিলেন তখন ভাবলাম এ তার অসাধারণ ভালবাসারই প্রকাশ। কিন্তু হা ভগবান... পরে দেখলাম নাম দেয়া তার কবিত্বেরই একটা অন্য রকম খেলা। তিনি হাজার হাজার মানুষ-গাছ-পাখি-দালান কোঠা; সব কিছুর নাম দিয়েছেন। তার সাথে আমারও একটা নাম। কোনো বিশেষত্ব নেই এতে। আমি কোনোভাবেই তার কাছে বিশেষ কেউ নই। তার কাছে গিয়ে যদি কেউ বলত যে গরু শব্দটা একটা পুরোনো শব্দ। তাহলে তিনি হয়ত গরুর জন্যও হাম্বামৃগ বা এই জাতীয় কোনো কাব্যিক একটা নাম ঠিক করে দিতেন। ...তখন থেকেই এই নামটা শুনলে আমার গা ঘিনঘিন করে। হোক পুরোনো। তবুওতো ভবতারিণী আমার নিজের নাম। আমার মা-বাবা ওই নামটা আমার জন্যই বাছাই করেছেন''
০৪
''...একটা বইও তিনি আমার নামে উৎসর্গ করার দরকার বোধ করেননি। অথচ নামে বেনামে বৌদি কাদম্বরীকে উৎসর্গ করেছেন পাঁচ পাঁচটা বই। এটাকে তুই কী বলবি?''
০৫
তিনিতো দেখেননি আমাকে। আর তোরাতো তোদের কবির না দেখা কোনো বিষয়কে দেখার কথা ভাবাকেই পাপ মনে করিস। ...আমি কিন্তু আজ লালপেড়ে সবুজ শাড়ির সঙ্গে কপালে লাল টিপও পরেছি। যেটা তুই পছন্দ করিস। কিন্তু আজ সে দিকে তুই তাকিয়েও দেখিসনি
প্লানচেট/নিম নাখারা
২০০৫.০২.০৫
২০
মানিক ভাই কি রবীন্দ্রনাথের সম্মান রক্ষার কোনো প্রকল্প হাতে নিয়েছেন নাকি?
নাহলে তাকে নিয়ে যেসব রসিকতা কিংবা মশকরা হয়েছে সেগুলোর কোনো হদিস দেন না কেন?
রাবিন্দ্রীক মো্ল্লাদের ডরে !!
ধর্মীয় মো্ল্লাদের চাইতে এরা কম প্রতিক্রিয়াশীল না ।
২১
-
বুড়ো বয়সের কিশোরী বান্ধবী মৈত্রেয়ীর বাড়ি যাওয়া যায়।
হালায় বুইড়া ভাম। নোবেল কমিটি'র কাছে গিয়া নজরুল ইসলামের নামে বদনাম করছে। কয় নজরুল নাকি গাঞ্জা খায়।
অরে নোবেল দিলে নাকি আলফ্রেড নোবেল কষ্টের চোটে কবরের মাটি ঠেইলা উঠে যাবে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক
২২
এই মৈত্রেয়ীর সাথে তার ঢলাঢলি নিয়ে লা নুই বেঙ্গলি নামে পুরা একখান উপন্যাস লিখে ফেলল মির্চা এলিয়াদ
যার মূল বক্তব্য হলো- আমার মাথায় কোনোভাবেই ঢোকে না যে ১৬ বছরের মাইয়ার সাথে ৭০ বছরের একটা লোক কেমনে প্রেম করে
এর উত্তরে আবার মৈত্রেয়ী একখান উপন্যাস ফেদেছেন- ন হন্যতে
যেখানে তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন উহা প্রেম ছিল না। ছিল ভক্তি...
কিন্তু আমরা বোকা হইতে পারি প্রেমরে ভক্তি বইলা চালানের মতো বোকাতো না
কারণ কাদম্বরীকে নিয়ে লেখা তার রাহুর প্রেম কবিতাটর কথা আমরা জানি
রবীন্দ্রনাথ বিয়ে করার সাথে সাথেই কাদম্বরীর আত্মহত্যার কথা আমরা জানি
কাদম্বরী তাকে বলেছিলেন কোনোদিন দাড়ি না রাখতে। কারণ তিনি বড়ো বেশি সুন্দর
এবং কাদম্বরী মারা যাবার পর থেকেই তার দাড়ি রাখার ইতিহাসও আমরা জানি
আর কাদম্বরীর মৃ্ত্যুর সংবাদটা যাতে সংবাদপত্রে না যায় সে জন্য মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ পত্রিকাওয়লাদের ঘুষ দিলেন
সেই খবরও আমরা জানি...
২৩
[quote=মাহবুব লীলেন
''...একটা বইও তিনি আমার নামে উৎসর্গ করার দরকার বোধ করেননি। অথচ নামে বেনামে বৌদি কাদম্বরীকে উৎসর্গ করেছেন পাঁচ পাঁচটা বই। এটাকে তুই কী বলবি?''
No comment.
২৫
-উদ্ধৃতিএই ঘটনা আমার কানেও এসেছে। রবি বুড়া মৈত্রেয়ী দেবীর বাড়ি গেলে সেখানে তার সাথে ঢলাঢলি করতেন। তার চুল ধরে টেনে দিতেন। বেনী ধরে নিজের শশ্রুওলা মুখের কাছে নিয়ে আসতেন দেবীর মুখ। অবশ্য এর পরে কী হতো সেটা সোর্সে উল্লেখ ছিলো না!আমার ঝুলিতে কবিগুরুর যতগুলি রসিকতা আছে তার মধ্যে বেশির ভাগই ঐ মৈত্রেয়ী দেবীর সাথে আলাপচারিতা ।
২৬
![]()
চলুক। ভালো লাগতেছে ।
১
চালিয়ে যান।
-----------------------------------------------------
We cannot change the cards we are dealt, just how we play the hand.