| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
( সন্ধ্যা থেকে ঢাকায় চায়ের কাপে ঝড় তুলা হচ্ছে পরদিন ঢাবি সমাবর্তন নিয়ে । আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি অবশ্য ভারতের দিকে স্বাধীনতা দিবসে ইন্দিরার ভাষন কে কেন্দ্র করে সেখানে খুব অস্থির সময় যাচ্ছে ইন্দিরার মতে জরুরী অবস্থার মত । একই সময় ওয়াশিংটনে বসেছে চার্চ কমিটির সভা , বের হয়ে আসছে সি আই এ নামক দানবের কর্মকান্ডের নানা হদিশ । এদিকে ঢাকাস্থ মার্কিন দুতাবাসে তিন আগেই ১৫ আগষ্ট তালিকা বহির্ভুত ছুটি ঘোষিত হয়েছে কিন্তু সি আই এ ষ্টেশন চিফ চেরীসহ দুতাবাসের কর্মকর্তাদের সারা রাত অফিস করতে হবে , পাঠাতে হবে আপডেট বার্তা যার জন্য অধির হয়ে থাকবেন যুক্তরাস্ট্রস্থ হেনরী কিসিঞ্জার , আথারটন প্রমুখ । ওদিকে কুমিল্লার বার্ড থেকে ২ দিন আগে গা ঢাকা দিয়েছেন মাহবুবুল আলম চাষী ! রাতের অন্ধকারে ক্যান্টমেন্ট বেড়িয়ে পড়ল মেজর রশিদ এর কামান আর মেজর ফারুকের ট্যাঙ্ক বাহিনী । এয়ারপৌর্টে মেজর (পরে কর্নেল ) ফারুকের ব্রিফিং শেষে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে এগিয়ে গেল মেজররা তাদের অপারেশনে , আসুন এবার আমরা চলে যাই বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ।
চাঁদ ডুবে গেছে , বিশাখাও চলে গেছে । অনুরাধা এসেছে লক্ষ কোটি তারার মিটিমিটি রহস্য নিয়ে । ধানমন্ডীর স্বচ্ছ লেকের জলে তখন শেষ রজনীর জ্বলজ্বল লক্ষনগুলো শিহরিত । ৩২ নং সড়কের সবুজ আকাশ প্রদীপ জ্বালা বাড়িটির মাথা বাড়িয়ে বেতস পাতার কচি কচি ডগাও তখন দুলছে । অদুর থেকে ভেসে আসছে মোয়াজ্জিনের আহ্বান-আস সালাতু খায়রুম মিনান্নাউম , আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ....বঙ্গবন্ধু যথারীতি ওজু সেরে ফজর নামাজ আদায় করে পড়নের পাঞ্জাবী খুলে জানালায় দাড়িয়ে দেখছেন বিউগলার মিষ্টি সুরে অধিনায়ক পতাকা ওড়াচ্ছেন । গুরুম গুরুম ! লুটিয়ে পড়লেন বিউগলার আর অধিনায়ক । চারদিক থেকে গুলি করতে করতে এগিয়ে আসছে আততায়ীর দল । দরজা খুলে দেখলেন সিড়িতে দন্ডায়মান মেজর মহিউদ্দিন , মেজর হুদা সহ সশস্ত্র সৈনিকদের ।
: কি চাস তোরা?
প্রথমে মহিউদ্দিন -হুদা বংবন্ধুর প্রবল ব্যক্তিত্ত্বের কাছে নতজানু হয়ে গেলেও ( মহিউদ্দিনের পিস্তল হাত থেকে পরে যায় ) পরে তারা সামলে নিয়ে শুরু করলেন বাদানুবাদ । ইতিমধ্যে শেখ কামাল তাদের হাতে নিহত হয়েছে । যা হোক বঙ্গবন্ধু তাদের সাথে যেতে রাজি হলেন । রেডি হবার জন্য রুমের ভিতর গেলেন । আলাপ হল তোফায়েলের সাথে । সেনা প্রধানকেও বললেন যে তার বাড়ী আর্মী আক্রান্ত । সেনা প্রধান আশ্বাস দিলেন তিনি কিছু করবেন । ডি জি এফ আই প্রধান কর্নেল জামিল কে ফোন করলেন , জামিল বলল আমি আসছি স্যার ( উল্লেখ্য , একমাত্র পাক প্রত্যাগত আর্মী অফিসার কর্নেল জামিলই বঙ্গবন্ধুকে বাচাতে এসে নিজের জীবন উত্সর্গ করেছিলেন ) ।
গায়ে পাঞ্জাবী পড়ে হাতে পাইপ নিয়ে বেড়িয়ে এলেন সিড়ির মুখে , তার একটু পেছনে মেজর মহিউদ্দিন প্রমুখ ।( নানা সুত্রে জানা যায় ) ঠিক ঐ সময় নিচে দন্ডায়মান মেজর নুর বীর উত্তম -Stop. This bustard has no right to live . Get aside চিত্কার করে তার স্টেনগান বঙ্গবন্ধুর বুকে তাক করে মাত্র ৭ ফুট দুরত্ব থেকে ১৮টি গুলি বর্ষন করলেন ।
"ইয়া আল্লাহ বাংলাদেশকে রক্ষা করো"-বলেই সিড়ির উপর লুটিয়ে পড়লেন স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা , স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । 
১৫ ই আগষ্ট ১৯৭৫ রোজ শুক্রবার , আনুমানিক সময়-ভোর ৫:৫৫-৬:০৫ ।
বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসের কেউই রেহাই পায়নি হায়েনাদের হাত থেকে । শুধু শেখ হাসিনা আর রেহানা তখন বেলজিয়ামের ব্রাসেলস এ থাকায় বেচে যান । ( বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে খুব্ধ, ব্যথিত , মর্মাহত হবার সুযো্গ আছে কিন্তু বিস্মিত হবার কিছুই নেই বরং চরম আন্তর্জাতিক ও দেশী ষড়যন্ত্রের মধ্যেও যে সাড়ে তিন বছর তিনি বেচেছিলেন তাই আশ্চর্যজনক । স্মর্তব্য , ভারতের স্বাধীনতার মাস কয়েক পরে প্রান হারান মহাত্মা গান্ধী আর স্বাধীনতার আগেই বার্মার আওংসান , পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলীও মারা যান আততায়ির গুলিতে , শ্রীলংকায় বন্দরনায়েক । পার্থক্য শুধু বঙ্গবন্ধু নিহত হন সপরিবারে । সেক্সপিয়ারের ভাষায় -Men wives and children stare, cry out and run. As it were dooms day.'' রাশিয়ার আশির্বাদপুস্ট সরকার প্রধানের বিকল্প নেতা দাড় করানো মার্কিন কৌশল কিন্তু জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধুর স্থান নেবে এমন নেতা কই ? তাই বাংলাদেশেও ঘটল চিলির ইতিহাসের পুনারাবৃত্তি )
ইতিমধ্যে হত্যা মিশনের গ্রুপ কমান্ডার মেজর ডালিম বীর উত্তম শেখ সেরনিয়াবতের বাসায় অপারেশন শেষ করে রেডিও সেন্টারে এসে নিজ উদ্যোগে ঘোষনা দিলেন " আমি মেজর ডালিম বলছি , স্বৈরাচারী শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে ।'
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্নেল (অবঃ) তাহের, কর্নেল (অবঃ) আকবর হোসেন, মেজর (অবঃ) শাহজাহান ওমর, ক্যাপ্টেন (অবঃ) মাজেদ প্রমুখ হাজির হলেন রেডিও বাংলাদেশে। এরপর মেজর ডালিম সেনাসদরে গিয়ে ঘন্টাখানেকের মধ্যেই জেনারেল শফিউল্লাহ, জেনারেল জিয়াউর রহমান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল খন্দোকার, নৌবাহিনী প্রধান এমএইচ খানকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এলেন রেডিও বাংলাদেশে। মেজর (পরে কর্নেল ) রশিদ ফিরে এলেন জনাব খন্দোকার মোশতাক আহমেদকে নিয়ে। মেজর আমিন ফিরে এলেন তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত রক্ষীবাহিনী প্রধান কর্নেল আবুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে। বিডিআর প্রধানকেও ডেকে আনা হল। মোশতাক আহমদ রেডিওতে জাতির প্রতি তার ভাষণ দিলেন তখন তার পাশে ছিলেন মাহবুবুল আলম চাষী , তাহেরউদ্দিন ঠাকুর । (এই তিনজন মিলেই মার্কিনপন্থী "ত্রিবেনী" যারা একাত্তরে মোশতাক ত্রয়ী হিসেবে পরিচিতি পায় তাদের মার্কিন কানেকশন আর ষড়যন্ত্র ফাস হয়ে গেলে , এদের জাতিসংঘে যাওয়া আটকানো হয় ,স্বাধীনতার পরপর মোশতাককে ছাড়তে পররাস্ট্র মন্ত্রালয় আর চাষী সচিবালয় থেকে কুমিল্লার বার্ডে । ১৫ আগস্টই এরা প্রকাশ্যে আবার মিলিত হলেন ) । প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানরা সবাই রাষ্ট্রপ্রধান খন্দোকার মোশতাক আহমদের আনুগত্য প্রকাশ করে অভুত্থানের স্বপক্ষে ভাষণ দিলেন রেডিওতে। ঐ দিনই জনাব খন্দোকার মোশতাক আহমদ এক অনাড়ম্ভর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করেন। অস্থায়ী বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদ হোসেন এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। একই দিন উপ-রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন জনাব মাহ্মুদুল্লাহ। মন্ত্রী পরিষদও গঠিত হয় সেদিনই।
মন্ত্রীসভার সদস্যবৃন্দ:
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
অধ্যাপক মোঃ ইউসুফ আলী
ফনিভূষণ মজুমদার
মোঃ সোহরাব হোসেন
আব্দুল মান্নান
মনরঞ্জন ধর
আব্দুল মোমেন
আসাদুজ্জামান খান
ডঃ এ আর মল্লিক
ডঃ মোজাফফর আহমদ চৌধুরী
প্রতিমন্ত্রীঃ
শাহ মোয়াজ্জম হোসেন
দেওয়ান ফরিদ গাজী
তাহের উদ্দিন ঠাকুর
অধ্যাপক নূরুল ইসলাম
নূরুল ইসলাম মঞ্জুর
কে এম ওবায়দুর রহমান
মোসলেম উদ্দিন খান
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ
ক্ষিতিশচন্দ্র মন্ডল
সৈয়দ আলতাফ হোসেন
মোমিন উদ্দিন আহমদ
নতুন ডিফেন্স কাঠামো ছিল নিম্নরুপ ঃ
ডিফেন্স উপদেস্টা -বংবীর জেনারেল ওসমানি
চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ- জেনরেল খলিলুর রহমান
সেনা প্রধান -জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম
বিমান প্রধান -এয়ার ভাইস মার্শাল তোয়াব
নৌ প্রধান -এম এইচ খান
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের লাশ তখনো তার বাসভবনের সিড়িতেই পড়ে রইল , তার কথা সবাই ভুলেই গেছে । বঙ্গভবনে চলছে আনন্দ উল্লাস , খানাপিনা !
যিশু হত্যার পাপ আজও তাড়িয়ে বেড়ায় ইহুদিদের । যে নেতা জীবনের বেশি সময় কাটিয়েছেন কারাগারে স্বাধিকার আর মুক্তির জন্য সেই জাতির এই পাপের প্রায়শ্চিত্য কি করতে হবে না ।
দোহাইঃ
1. Additioinal Paper Books of Death Reference No. 30 of 1998 (Arising out of Sessions Case No. 319 of 1997)Judgement Passed by Mr. Kazi Golam Rasul District & Sessions Judge, Dhaka.
2. Bangladesh: A Legacy of Blood, by Anthony Mascarenhas, Hodder and Stoughton, 1986
3. Memoir written in 2005 by Lawrence Lifschultz
4.Bangladesh: The Unfinished Revolution by Lawrence Lifschultz, London: Zed Press, 1979
5. World in Action , ITV , Granda Television , August 1976
6. বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড : ফ্যাক্টস এন্ড ডকুমেন্টস , অধ্যাপক আবু সাইয়িদ
7. পচাত্তরের পনেরই আগষ্ট , মেজর মো মুখলেছুুর রহমান , আহমদ পাবলিশিং হাউজ ,ঢাকা ১৯৯৬
8। মুজিব হত্যায় সি আই এ , দেলোয়ার হোসেন , এশিয়া পাবলিকেশন , ঢাকা ১৯৯৬
9। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ রক্তাক্ত মধ্য আগষ্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর , কর্নেল শাফায়াত জামিল , সাহিত্য প্রকাশ , এপ্রিল ২০০০
10। তিনটি সেনা অভ্যুথান ও কিছু না বলা কথা , লে কর্নেল এম এ হামিদ , মোহনা প্রকাশনি , ১৯৯৫
11। ভোরের কাগজ , ১৫ আগষ্ট ১৯৯৩
12। বাংলাবার্তা , ১২ আগষ্ট ১৯৮৮
13. সমকাল ১৩-১৪ আগষ্ট ২০০৮
১৫ মিজানুর রহমান চৌধুরি , রাজনিতির তিনকাল
২
আর প্রায়শ্চিত্ত .. কারা করবে প্রায়শ্চিত্ত? যারা 'জুতার ফিতা' বলে তারা ? নাকি যারা দেখে শুনে বুঝেও কিছু করে না তারা ? কয়টা প্রজন্ম পার হয়ে গেল এর মধ্যে, কয়জন জানে ইতিহাস ? কয়জন গুরুত্ব দেয় ? কয়জন শুনতে চায় এসব কথা? কয়জন বলতে চায় ? ইতিহাস তো ফিকে হয়ে গেছে কবেই, রয়ে গেছে শুধু ১৫ই আগস্ট, এ নিয়েও চলে দলাদলি, জন্মদিনের কেক কাটাকাটি । ইতিহাস বিকৃতিতে তো আমরাই ওস্তাদ নাকি? প্রায়শ্চিত্ত ?? যারা করবে তারা কি বেঁচে আছে? কয়জন করবে ? আঙ্গুলের করেও তো গুনে পাই না !
------------------------------
'এই ঘুম চেয়েছিলে বুঝি ?'
৩
প্রায়শ্চিত্ত কেন জাতি করবে? যারা এ নির্মম কাজ করেছে, যারা এমন অবিচার করেছে তারা অবশ্যই শাস্তি পাবে, কোনও না কোনও ভাবে। এটা "কারমা"।
আমি সব সময় রাজনিতীর লেখা এভোয়েট করি, তবে একটা কথা বলছি আমি এ প্রজন্মের, যুদ্ধ দেখিনি, যুদ্ধের পর দেশ গড়া দেখিনি, তারপর জীবনের বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে তাই আমার দেশের রাজনিতীর ওপর এতো জ্ঞান নেই। আমি যা জানি কিছু বই পড়া বাকি অন্যের কাছে শোনা। তা থেকে আমার যা বিশ্বাস মুজিব এর নেতৃত্ব ছারা দেশ কখনই স্বাধীন হত না আর জিয়া নিজে যুদ্ধ করেছেন আর দেশটাকে যুদ্ধের পর গড়েছেন। তাই আমার এ দুজনের ওপরই অনেক স্রদ্ধা। তবে হাসিনা,খালেদা, এরশাদ বা ওদের দলের এদের কাউকেই পছন্দ না। মুজিব, জিয়া দুজনই ভুল করেছেন আবার দুজনের অবদানেই আজ বাংলাদেশ একটা দেশ। হাজার কষ্টে থাক, সুখে থাক তবুও তো অন্যের দখলে না। এখন আর্মির শাসন শেষ হলেই দেশটা বাচবে।
মানিক ভাইয়া আপনার লেখায় *****
p.s. প্লিজ আমাকে কেউ একথা নিয়ে এট্যাক করবেন না, আমি ঝগড়া করতে পারিনা
আমি আগেই বলেছি আমি এত কিছু জানিনা।
------------------------------
পুষ্পবনে পুষ্প নাহি আছে অন্তরে
৪
না মুমু
ঝগড়া করব না
কিন্তু আপনার সাহসি মন্তব্যের পর
আপনি রাজনীতি বুঝেন না
এই কথা ধুপে টিকে না
আপনি খুব কম কথাই অনেক কিছুই বলে দিয়েছেন
হ্যাটস অফ মুমু ।
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
৫
অসাধারণ লেখা। হৃদয় ছুঁয়ে গেলো।
৬
ধন্যবাদ @ মূর্তালা রামাত
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
৭
পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছে এবং অন্ততকাল করবে।
মুমু খুব ভালো মন্তব্য করেছো। তোমার কথা তুমি বলেছো, এ্যাটাক নিয়ে মাথা ঘামিও না।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
৮
একমত @ তানবীরা
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
৯
মানিক ভাই এর লেখাগুলো সব সময়ই তথ্য প্রমান সমৃদ্ধ । কোন ফাঁক থাকেনা ।
একটা তথ্য শুধু ক্লারিফাই করতে চাচ্ছি ।
তোয়াবকে কি তখনই বিমানবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল নাকি আরো মাস দুয়েক পরের ঘটনা? তোয়বা তখন পাকিস্তান এয়ারফোর্সের হয়ে ন্যাটোতে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ।
গতবছর আমি তোয়াবকে নিয়ে দুপর্বের একটা সিরিজ করেছিলাম । আপনার রেফারেন্স ও সোর্সগুলো জোরালো । পোষ্টটা একটু দেখবেন ।
এয়ার ভাইস মার্শাল তোয়াব ও '৭৬ এর ছয়দফা (পর্ব-১)
এয়ার ভাইস মার্শাল তোয়াব ও '৭৬ এর ছয়দফা (পর্ব-২)
-------------------------------------
"এমন রীতি ও আছে নিষেধ,নির্দেশ ও আদেশের বেলায়-
যারা ভয় পায়না, তাদের প্রতি প্রযোজ্য নয় "
১০
@ হাসান মো্রশেদ
তোয়াবের ব্যাপারে আপনার তথ্য সত্য আর তা আমি আগে থেকেই জানি । আসলে ডিফেন্স এর পুনঃ কাঠামো বা নিয়োগ হয় ২৪ আগস্ট থেকে । জেনারেল ওসমানি বা জিয়ার নিয়োগও ২৪ তারিখ থেকে কিন্তু তা দাপ্তরিক কার্যত ১৫ আগস্ট তারিখ থেকে সেনা প্রধান সফিউল্লাহ ছিলেন নজর বন্দী ; তাকে সর্বদা নজরে রাখতেন জেনারেল জিয়া আর খুনিদের সাথে জিয়ার সম্পর্ক /কানেকশন ত' এখন ওপেন সিক্রেট ।
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
১১
মুলত আমার ব্লগের সময়কাল ১৪ তারিখ সন্ধ্যা থেকে ১৫ তারিখ বিকেল পর্যন্ত । এ সময় কালে ১৬ জন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী শপথ নেয় কিন্তু আমি পরে শপথ নেয়াদেরও নাম উল্লেখ করেছি নতুবা মোশতাক সরকার কাঠামো অপুর্ন থাকত ।
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
১২
আপনার লেখা প্রায়ই পড়া হয়। কিন্তু লগ ইন থাকি না বলে মন্তব্য দেওয়া হয় না। কিন্তু আজ মন্তব্য দিতেই হলো। তথ্যবহুল, সমৃদ্ধ এবং তীব্র একটা লেখার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। সচলায়তন নিয়ে গর্ববোধ আরো খানিকটা বেড়ে গেলো এই লিখা পড়বার পর। হ্যাটস অফ।
১৩
স্বাধীনতা সংগ্রাম আর মুক্তিযু্দ্ধ নিয়ে আমার বেশ কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছে ।
সচলায়তন না থাকলে তা সম্ভব হত কিনা সন্দেহ ।
জয় তু সচলায়তন ।
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
১৪
আহ্ ! আর কতোকাল যে এ জাতি প্রায়শ্চিত্ত করবে !
ধন্যবাদ মানিক ভাই, ভারী পোস্ট, হৃদয়স্পর্শি তো বটেই। বাঙালির ইতিহাসের কলঙ্কজনক ঘটনা, নতুন করে মনটা কষ্টে ভরে ওঠলো।
১৫
নূ.মানিক,
দুর্দান্ত লেখা হয়েছে। বিষয়টা নিয়ে অল্প কথায় পূর্ণতা হয়না।তবুও আপনি অল্পকথায় প্রায় সবটা ছুঁয়ে গেছেন।আপনার পোস্টটা দেখার পর পরই মনে হয়েছিল সমকালে অজয় দাশগুপ্ত'র লেখা-'৭৫ এর ট্রাজেডি মার্কিন দলিলে'(বঙ্গবন্ধু বাঁচালেন ভুট্টোকে,ভুট্টো বদলা নিলেন একাত্তরের)এটা কোট করবেন।তাহলে 'ত্রিবেণী'র নাটের গুরুদের বিষয়টা উন্মোচিত হয়ে লেখাটা আরো ভাল হতো। যাহোক'কম্পাইল' হিসেবে দিতে পারেন। আজ ২য় পর্ব ছাপা হয়েছে।
আপনাকে ধন্যবাদ।
.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......
১৬
আমার এই লেখার ভুমিকা আর শরীরে ত্রিবেনী আর পুজির প্রধান সওদাগর যুক্তরাস্ট্রের কথা আছে । ইচ্ছে করেই ব্লগ ছোট রাখতে চেয়েছি ।
আর আমার ১৩ নং সুত্র ত' সমকাল !
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
১৭
কোনো এক বাংলাদেশি চ্যানেলের রাতের খবরে (১৪ আগস্ট ২০০৮) শুনলাম, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুদিবসকে* জাতীয় শোকদিবস হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। যিনি (খ.দে.হোসেন) বলছিলেন তার পাশে বসে বসে ঠ্যাং নাড়াচ্ছিল এক বর্বর (আ.আহ.মুজাহিদ)। তখন আমার মাথায় ভাবনা এল, কোন দিন যেন এরাও তাদের কোনো নেতার শহিদ-দিবসকে জাতীয় শোকদিবস ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে বসে! তারা জোরেশোরে মাঠে নামলে কিন্তু কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।
*মে. জি. রহমান যেন কত তারিখে শহিদ হয়েছিলেন? আমি জানি না। তবে আমার এ অজ্ঞতার জন্য আমি মোটেও লজ্জিত নই।
১৮
যারা জিয়া মুজিব'কে এক কাতারে ফেলে বিচার করার চেষ্টা করে তারা হয় বোকা/দুষ্ট চরিত্রের/ নয় তাদের মহত ভবিষ্যত মাষ্টার প্ল্যান রয়েছে দেশের জাতীয় চরিত্র নষ্টের।
১৯
বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িত তিন নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল -মুজিব, ইন্দিরা, ভুট্টো। এমন কি, এই তিন নেতার সন্তানেরাও স্বাভাবিক মৃত্যু পায় নি --হাসিনা, রেহানা ছাড়া।
১৫ই আগস্ট দুপুরে জুম্মার নামাজের জন্য কার্ফিউ শিথিল করলে আমিই সম্ভবত প্রথম বেসামরিক ব্যক্তি যে ৩২ নম্বরে যায়, যেখানে আমার বাবা থাকতেন, সেই বাড়িতে যার মিলাদে শেখ সাহেবই একমাত্র প্রতিবেশী যিনি এসেছিলেন, যার গেইটের সামনে শেখ রাসেল তার ছোট্ট মোটর বাইকটা নিয়ে এসে দাঁড়াত। সেদিন দেখলাম ৬৭৭ নম্বর বাড়ির সামনে বরফের পাহাড়। আমাকে অবশ্য কাছে যেতে দেয় নি।
কমল দাশগুপ্ত বলেছিলেন - কাউকে হত্যা করলেই সে শহীদ হয়ে যায় না। নিজের বিদ্রোহী সেনাদের কাছে যে দুজন সর্বাধিনায়ক প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁরা ধর্মীয় অর্থে শহীদ কি না জানি না। শেখ মুজিব এবং জিয়া দুজনই গণতন্ত্রকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবু বাংলাদেশের জনকের এই করুণ মৃত্যুর কারণে ১৫ই আগস্ট নিঃসন্দেহে শোকের দিন।
২০
ধন্যবাদ বজলুর ভাই আপনার তথ্য আর মন্তব্যের জন্য ।
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
২১
লেখার অনুভবগুলো চমতকার। ত্রিবেণী ব্যপারাটা স্পষ্ট হলে ভাল।
২২
ফারুক আমার লেখায় আছে ত্রিবেনীর পরিচয় যেমন
মোশতাক আহমদ রেডিওতে জাতির প্রতি তার ভাষণ দিলেন তখন তার পাশে ছিলেন মাহবুবুল আলম চাষী , তাহেরউদ্দিন ঠাকুর । (এই তিনজন মিলেই মার্কিনপন্থী "ত্রিবেনী" যারা একাত্তরে মোশতাক ত্রয়ী হিসেবে পরিচিতি পায় তাদের মার্কিন কানেকশন আর ষড়যন্ত্র ফাস হয়ে গেলে , এদের জাতিসংঘে যাওয়া আটকানো হয় ,স্বাধীনতার পরপর মোশতাককে ছাড়তে পররাস্ট্র মন্ত্রালয় আর চাষী সচিবালয় থেকে কুমিল্লার বার্ডে । ১৫ আগস্টই এরা প্রকাশ্যে আবার মিলিত হলেন ) ।নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
২৩
তথ্যবহুল এবং হৃদয়ছোঁয়া লেখাটির জন্য লেখককে ধন্যবাদ।
২৪
আপনাকেও ধন্যবাদ @ ফেরারী ফেরদৌস
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
২৫
কি বাত্তি জ্বালাইলা মানিক!!!
দারুন হইছে... কয়দিন সচলহীন ছিলাম বলে আগে পড়তে পারিনি।
আপনার ছেলেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
২৬
এই ব্লগ লিখতে আমাকে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে
১। যেহেতু আদালতের বিষয় তাই আদলত থেকে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স জোগার করতে হয়েছে ।
২। যখনই লিখতে ধরি ' কি চাস তোরা' তখন মনে হয় বংবন্ধু চোখের সামনে । ব্যাস লেখা বন্ধ ।
নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)
১
অবশ্যই সেই জাতির এই পাপের প্রায়শ্চিত্য করতে হবে
------------------------------------------------------
স্বপ্নকে জিইয়ে রেখেছি বলেই আজো বেঁচে আছি