| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
হুশিয়ার: ইহা আমার মাতালনামা... অথবা বলতে পারেন মাতালের প্রলাপ... হুশ কইরা পড়বেন...
১.
বৃহষ্পতিবারের একটা আলাদা মাজেজা আছে... তো দুপুরেই এক বোতল কিনলাম... বাড়িতে গিয়া মৌজছে খাবো। সেদিন ছিলো সৈয়দ রিয়াজুর রশীদের জন্মদিন... তার বাড়িতেও দাওয়াত। গেলাম... এবং ব্যাপক তাফালিং কইরা ব্যাপকের চাইতেও বেশি খাইলাম।
তারপরে আর কিছু মনে নাই... হঠাৎ রাতের আঁধারে নিজেরে আবিষ্কার করলাম আমি রিক্সায় কইরা কই জানি যাইতেছি। কাহিনী কি? ভালো কইরা চাইরদিকে তাকায়া দেখি রাস্তায় গাড়িঘোড়া কম... এবং এইটা মিরপুর রোডের শেষপ্রান্তে... গাবতলীর কাছাকাছি।
তাইলে তো ঠিকই আছে... বাড়িতেই যাইতেছি... কিন্তু আমি তো ছিলাম রিয়াজ ভাইয়ের বাড়িতে... জলপানে মত্ত ছিলাম... সেখান থেকা এখানে আসলাম কেম্নে? আমি যদি বেশি মাতাল থাকতাম তাইলে তো আমারে কেউ একলা ছাড়তো না... আর রিয়াজ ভাইয়ের বাড়িতে একটা আলাদা ঘরই আছে আমাদের মতো মাতালদের ঘুমানের জন্য... তাইলে? মহা চিন্তার বিষয়... বাড়ি ফিরলাম ঠিকঠাক... ঘুমাইলাম একরাশ চিন্তা নিয়া... মাঝখানের সময়গুলা তাইলে কই গেলো?
পরদিন অফিসে গেলাম... আমি নিশ্চিত সেখানে আমার জন্য অপেক্ষা করতেছে একরাশ লজ্জা... অফিসের দুই কলিগও সেই পার্টিতে ছিলো... আমার মাতলামি তো আজকে অফিসে টক অব দ্য হইবো...
কিন্তু ও মা... কেউ দেখি কিছুই কয় না... সবই স্বাভাবিক!!! আমি তো তাজ্জব... মনের মধ্যে উশখুশ করে... কিন্তু কাউরে কিছু জিগাই না... পাগলারে সাঁকো নাড়াইতে কয় কোন পাগলে? বিকাল পর্যন্ত তক্কে তক্কে থাইকাও যখন কিছুই হইলো না তখন বাধ্য হয়াই ফোন দিলাম পুরনো এক বান্ধবীরে।
রিয়াজ ভাইয়ের পাশের বাড়িতে থাকার অজুহাতে সেই পার্টিতে আমি তারেও নিয়া গেছিলাম। কলিগদের কাছে না জিগায়া তাই তার কাছেই জানতে চাইলাম... আচ্ছা কালকা কি বেশি মাতাল হইছিলাম? কয় না... ঠিকই তো ছিলো সব। আমি আরো ধন্ধে পড়ি... সে তখন সবিস্তারে বলে যে আমি একটু বেশিই পান কইরা ফেলছিলাম... ঢকঢকায়া খাইতেছিলাম... স্টক শেষ হইলে পরে নিজের ব্যাগস্থিতটাও খুলছিলাম... কিন্তু তারপরও সব বেশ নাকি ভালোই ছিলো... খিচুড়ি গরুর মাংস ভক্ষন কইরা উঠলাম... আমি কুকুর ডরাই বিধায় সে আমারে গলির মোড় পর্যন্ত আগায়া দিলো... আমি রিক্সা নিয়া ভদ্রলোকের মতো চইলা গেলাম।
কিন্তু হায়... আমি তার কিছুই জানি না... তখন প্রথম পরিচয় হইলো ব্ল্যাকআউটের সাথে।
২.
তবে ব্ল্যাকআউটের সবচেয়ে নির্মম ঘটনাটা তার অনেক পরে। একবার কোরবানী ঈদের অবকাশ কাটাইতে আমরা গেলাম কক্সবাজার। আমি ছাড়া বাকি সবাই নাট্যজগতের বিখ্যাত লোক। একজন আমরা যাকে আম্মা বলে ডাকি। আরেকজন একসময়ের বিখ্যাত নায়িকা... এখন নির্মাতা। আর দুইজন এখনো বিখ্যাত নায়ক নায়িকা। আর সেই নায়িকার বোন। (তাদের প্রাইভেসি বিবেচনার্থে তাদের নাম বললাম না এইখানে)
যাওয়ার পথেই আমি আর নায়ক বলতেছিলাম যে কক্সবাজারের আসল মজা হইলো গভীর রাতে যখন লোকজন কম থাকে তখন বালুকাবেলায় বইসা বইসা মদ্যপান করা। তখন সমূদ্র দেখা যায় না... কেবল তার গর্জন শোনা যায়... আর ফসফরাসের ফেনিল দেখা যায়... সে এক অদ্ভূত সুন্দর।
তো আমরা সীগালে উঠলাম... ফ্রেশ ট্রেশ হয়া আম্মা আর বড় নায়িকা ঘুম... আমি আর নায়ক বসলাম জলপান করতে... অন্য নায়িকা আর নায়কের বোন কিছুক্ষন গপ সপ করলো আমাদের সাথে... তারপরই ধরলো এইবার বালুকাবেলায় যাবে এবং আমাদের বর্ণনামতে সাগর দেখবে।
হইছে না কাম? আমাদের তখন যাবতীয় মনোযোগ খানাপিনায়... ভোরে আবার হিমছড়ি যাইতে হবে... আমরা তাদেরে নানান ভয় ভীতি দেখায়া নিবৃত্ত করলাম... তারা ঘুমাইতে গেলো... আমরা ভাসতে লাগলাম।
গভীর রাতে... মাঝরাত পার হয়াও যখন দূরে গেছে ঘড়ির গাড়ি... এবং যখন আমাদের মন জলবৎ তরলং... তখন মনে হইলো... নাহ্ দুই দুইটা তরুনীর মনোবাঞ্ছা আমরা পূরণ করবো না? এত কইরা বললো? ঠিকাছে... যাই... দুইটারে ডাইকা ঘুম থেকা তুললাম... তারপর রওনা দিলাম সাগরের তীড়ে।
পরদিন সকালে ঘুম থেকা উঠলাম... ততক্ষনে দেরি কইরা ঘুম থেকা উঠার কারনে মুরুব্বী দুইজনের ঝাড়ি শুরু হইছে হিমছড়িতে যাইতে দেরী হয়া গেলো বইলা... আমি উইঠা সেলফোন চেক কইরা দেখি আমি ভোর সাড়ে চাইরটা পর্যন্ত ঢাকাস্থ একজনের সাথে ফোনে কথা বলছি... কিন্তু কি বলছি তার কিছুই মনে নাই... এবং তার সাথে যে আদৌ কথা হইছে তাই আমি জানি না। আজিব। আস্তে আস্তে মনে পড়লো... আচ্ছা... আমরা না কাল রাতে... হায় হায়... সী বীচে গিয়া কি হইলো? কিছুই তো জানি না... মনে নাই... ভয় হইলো...
আমি সেই নায়করে জিগাইলাম কি কি ঘটলো রাইতে? সে বলে তোর কত্টুক মনে আছে? আমি বললাম আমার যদ্দুর মনে পড়ে যে আমরা লিফট পর্যন্ত উঠছিলাম... তারপর আর কিছু মনে নাই। সে বলে আমার তোরচে একটু বেশি মনে আছে... সী বীচে গিয়া একটা ডেকচেয়ারে বইসা আমরা আবার মিনারেল ওয়াটারে কইরা নিয়া যাওয়া মাল খাইতেছিলাম এট্টুক মনে আছে। আমি বললাম আর ওরা? কয় ধুর ব্যাটা... নিজের কথা মনে রাখছি... মওদুদী ভাই হিসাবে তোর কথাও মনে রাখছি... আর কত রাখুম... তারপরে কি হইলো না হইলো কেম্নে ফিরলাম কিছুই তো মনে নাই।!।
এইবার সত্যি সত্যি ভয় পাইলাম... দুই দুইটা মেয়েরে নিয়া রাইত দুইটার সময় সী বীচে গেছি... গার্জিয়ান হিসাবে যে দুইটা গেছে তাদের অবস্থা তো বুঝতেই পারছেন...
আমরা অতীব ভয় সহযোগে সেই দুইজনরে জিজ্ঞাস করলাম... আচ্ছা... কালকা রাত্রে কি হইছিলো? তারা জানাইলো আমরা স্বাভাবিকই ছিলাম... এমনকি তারা সেই রাইতে জলে নামতে চাইছিলো আমরা তাদের বাঁধা দিছি নিরাপত্তার অজুহাতে সেই ক্ষোভও জানাইলো। আমরা আশ্বস্ত হইলাম... যাক বাবা... বাঁচা গেছে... বিপদ কিছু হয় নাই।
৩.
সেই দিনই সিদ্ধান্ত নিলাম এই কক্সবাজার ভ্রমণটাই শেষ... এরপরে আর মদ খাবো না। (যে সিদ্ধান্ত আসলে অজস্রবার নিছি... বার্ণার্ড শ'র কথা মনে পড়ে)।
কিন্তু এর পরেও খাওয়া খাদ্য কিছু থামে নাই... বরং আত্মবিশ্বাস নিয়া খাইছি... আরে আমরা যতোই মাতাল হই... অবচেতন মন ঠিকই কাজ করে...
সেই ভরসাতেই চলতেছে।
(চলবে)
২
কি সিনেমা দেখেন? আপনেরে ঈর্ষা হয়... ছবি দেখার টাইম পান...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
৩
হা হা , ব্ল্যাক আউটের কাহিনী পইড়া ব্যাপক মজা পাইলাম। আরো কমেন্ট করবানি, আগে এট্টা সিনেমা দেইখা লই !
৪
হাহাহা হেভী মজা পাইলাম পইড়া ।
গভীর রাতে... মাঝরাত পার হয়াও যখন দূরে গেছে ঘড়ির গাড়ি... এবং যখন আমাদের মন জলবৎ তরলং... তখন মনে হইলো... নাহ্ দুই দুইটা তরুনীর মনোবাঞ্ছা আমরা পূরণ করবো না? এত কইরা বললো? ঠিকাছে... যাই... দুইটারে ডাইকা ঘুম থেকা তুললাম... তারপর রওনা দিলাম সাগরের তীড়ে।
হাহাহাহা ভাই, এই 'মন জলবৎ তরলং অবস্থা'-টার আসলে কোন তুলনা হয় না কি কন ?
-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'
৬
এতক্ষণ ধইরা কী পড়লাম কিছুইতো মনে করতে পারতেছিনা ! বস.. এইডারে কী কমু .. "ব্ল্যাকআউট" ?
৭
পড়ছেন? শিওর? ভালো কইরা মনে কইরা দেখেন...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
৮
এক বুধবার রাতে খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম
পরের দিন অফিসে গিয়ে দেখি অফিস বন্ধ
গার্ড জানালো ওটা নাকি শুক্রবার
পরে রোববারে গিয়ে শুনলাম বিষুদবারে আমি অফিস যাইনি
৯
হাহাহা এম্নেই আপ্নে ঘুমের বস তার উপরে ব্ল্যাক আউট !
------------------------------
'এই ঘুম চেয়েছিলে বুঝি ?'
১০
আপনে তো ওস্তাদ লোক... আমার অবশ্য ঘু এত বেশি হয় না... তবে বেশি টায়ার্ড থাকলে খাইতে খাইতে হুট কইরা ঘুমায়া যাই... আর কোনও এক অজ্ঞাত কারনে সাজ্জাদ ভাইয়ের বাড়িতেই এই ঘটনা বেশি ঘটে... ফলে সাজ্জাদ ভাই দেখা হইলেই জিগায় কখন ঘুমাইবা?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
১১
ব্লাক আউট কিনা জানিনা, তবে আমিও একবার হেভিসে পান কইরা, মতিঝিল অফিস পাড়ায় ভ্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম। কই যাবো কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। রাত তখন নয়টার মতো বাজে। ভাগ্যিস আমার এক বন্ধু ঐ মদ্যপানের পার্টি থেকে বাইর হয়ে আমারে উদ্ধার করছিল। নাহলে কি হইতে কি হইতো আল্লাহ জানে।
আপনার এই পর্বও জমজমাট নজরুল ভাই। চলুক....................
-------------------------------
সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে !
১২
আমি একবার কোনওভাবেই বাড়ি খুঁইজা পাইতেছিলাম নিজের... উফ...
আরেকবার পাশের গলি ভুল কইরা চইলা গেছিলাম পাশের গলিতে... বড় ভাইয়ের বন্ধুর বাড়িতে।
তবে একবার আমি আর এক বন্ধু খাইলাম... তার বেশ মন খারাপ... বললো চলেন আমি আপনেরে নামায়া দিবো বাড়িতে... বইলা গাড়ি স্টার্ট দিলো... দুইজনে কথা কইতে কইতে এতই মশগুল... হঠাৎ দেখি আমরা ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে... কোথায় গাবতলী? সেখান থেকে বাড়ি ফিরতে ভোর।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
১৩
এই না হলে "জাতে মাতাল তালে ঠিক"!
পুনশ্চ: গতকল্য এক সচল আমারে একখান শিশুপানীয় গিফটো করেছেন।তারে ধন্যবাদ জানাই।আর নুরুজ্জামান মানিকেরে অনুরোধ করি মোনাজাত ধরার জন্য।যেনো ঐ সচল নিকট ভবিষ্যতে আমারে এডাল্টপানীয় গিফটো করার তৌফিক অর্জন করেন।
---------------------------------------------------------
আমাকে ডাকে আকাশ, বোঝে মাটি হাওয়া জল
বোঝে না মানুষ আর বিনাশী মুদ্রার ছল
১৫
জমজমাট লেখা নজরুল ভাই। পড়ে মজা পেলাম খুব।
----------------------------------------------
আমাকে নিঃশব্দে অনুসরণ করে একটা নদী-
সাথে নিয়ে একটা পাহাড় আর একটা নিঃসঙ্গ মেঘ।
১৭
![]()
------------------------------
পুষ্পবনে পুষ্প নাহি আছে অন্তরে
১৯
আমার সব মনে থাকে, কিন্তু মনকেই আর পরে মনে পড়ে না।
২১
ব্ল্যাকাউট নিয়ে পুলাপাইন কথা বলতে চায়না, নজরুল ভাইয়ার লেখা পড়ে বেশ সম্যক ধারনা হইল। পুরা টালদের সাথে আমার কথা বলতে খুব মজা লাগে। টাল পাইলে তাই গল্প করা শুরু করে দেই। হাঃ হাঃ হাঃ। নজরুল ভাইয়ের মতন মানুষদের জন্যেই মনেহয় ঐ প্রবাদটার আবিষ্কার - "জাতে মাতাল, তালে ঠিক।" ঠিক বলছিনা ?? আচ্ছা আরেকটা প্রশ্ন মনে আসল- ভাবী আপনারে দৌড়ানি দেয়না টাল হইলে ? এই বিষয়েও আলোকপাত করবেন আগামীতে আশাকরি। আপনার আগামী ব্ল্যাকাউটগুলো যেন স্মরনীয় হয়ে থাকে সেই কামনায় -
[ভূঁতেঁরঁ বাঁচ্চাঁ]
২২
এই ব্যাটার মদ খাওয়া টাল হওয়া নিয়া আমার কোনও সমস্যা নাই, বরঞ্চ ভালোই লাগে। কারন অন্য সবসময় সে কাজ আর সচলায়তন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কেবল একটু জল পেটে পড়লেই সে রোমান্টিক হয়। তখন অনেক প্রেমের এবং জ্ঞানের কথা বলে।
কিন্তু মেজাজ খারাপ হয় তখনই যখন কথা বলতে বলতে হুট করে ঘুমিয়ে যায়। উফ্
২৩
@ভূঁতেঁরঁ বাঁচ্চাঁ
মাতাল মাইনষের সাথে কথা কওনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে কৌতুহল বশতঃ ফোন করছিলো এক নারী... তারপর কি হইলো তা এইখানে বলা যাবে না... সামনের কোনও এক পর্বে আসবে... তবে এট্টুক বইলা রাখি যে সেই নারী এখন আমার ঘরের বস... এবং আমার বিগ বসের মা...
এইসব কৌতুহল ভালো না... হুশিয়ার
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
২৪
নজরুল ভাই, আজ বৃহস্পতিবার। ঘড়িতে এখন রাত ৯.২৩ বাজে। অফিসে বসে এখনো কাজ করছি। বের হতে আরো ঘন্টাখানেক লেগে যেতে পারে। তবে চাপ একটু কমেছে। সেই ফাঁকে সচলে ঢুকে পড়া। আপনার এই ব্লগ পইড়া মেজাজ ধরে রাখতে পারতেছি না। কারণ, আপনে বৃহস্পতিবারের অন্যরকম মাজেজার কথা বলেছেন। আর আমি কী'না মরছি অফিসে দৌড়ের ওপরে। চিল্লাইয়া বলতে ইচ্ছে করছে, দুস শালার চাকরির গুষ্ঠি কিলাই। কিন্তু ঈমানের জোর মনে কম। চিল্লাইতে পারলাম না।
২৫
হুহ্... আমি এখন আছি বাংলামটরে... এখান থেকে যাবো নাখালপাড়া... জিডির সামনে দিয়া... যেই জিডিরে একসময় আমার ড্রইংরুম বিবেচনা করতাম। জিডির সামনে দিয়া যাওনের সময় নিশ্চিতই দেখা হবে বারটেন্ডারদের সাথে, বশীরের সাথে...
অথচ আমি এক পেগও খাইতে পারুম না... টাইম নাই... আজকে প্রায় সারারাত লেখতে হবে।
কপালের দেখছেন কি?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
২৬
আরে আমরা যতোই মাতাল হই... অবচেতন মন ঠিকই কাজ করে...
এই নাহলে নজরুল ভাই! আসেন, মোলাকাত হয়ে যাক।
পুরো ব্ল্যাকআউট হয় নাই এখনও। হয়তো বয়স/সাহস কম হওয়া দায়ী, হয়তো যথেষ্ট পরিমাণে মাল কেনা/খাওয়ার সামর্থ্য না থাকা দায়ী, হয়তো মাতলামোকে ব্যর্থতা মনে করা দায়ী। তবে "শেষ দিকের ঐ কেমন কেমন লাগা"টা সকাল হলে ভুলে যাওয়াটা কী যে বিরক্ত লাগে!!
আপনার চেনাজানা কেউ দেশে যায় তো বলেন, খুশি করে দেই।
আর শুধুই ব্ল্যাকআউট নিয়ে বলবেন, হ্যাংওভার নিয়ে বলবেন না? আমি তো এখনো রক্তচক্ষু নিয়ে বসে আছি বাকার্ডির তেজ যাবার অপেক্ষায়। মাথায় মনে হচ্ছে ইরাক যুদ্ধ!
২৭
আরে ভাই... ভয়ের কি আছে? আল্লা ভরসা...
আর ঐরম লাগাটা ভুইলা গেলেও সমস্যা নাই... জানি তো কেরম লাগে... দুই একদিন ভুইল্যা গেলে ক্ষতি নাই
এই সময়েই কেন জানি পরিচিতর দল কেউ আসতেছে না... নিউইয়র্কে একটা এসএলআর পইড়া রইছে আনাইতে পারতেছিনা।
হ্যাঙওভার নিয়াও লেখবো... তবে এর একটা তরিকা ভালো... সকালে যখন দেখবেন বেদিশা লাগতেছে... তখনই এক পেগ র মাইরা দিবেন... সব ঠিকঠাক...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
২৮
লিখছেন খুব সুন্দর করে। মজা পাইলাম পড়ে...পাঁচ তারা দিতে চাচ্ছি কিন্তু নেট এতো স্লো পুরা পাতাটা লোড হলো না। একটু পরে আবার ট্রাই নিবোনি...
---------------------------------
জানিনা জানবোনা... কোন স্কেলে গাইছে কোকিল
গুনিনা আমি গুনিনা...কার গালে কটা আছে তিল
২৯
ধন্যবাদ তো এখন দেওয়া যাইবো না... আগে পুরা পাতা লোড হউক... তারা জ্বলুক আকাশে... তারপর ভাইব্বা দেখি...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
৩০
জ্বালায়া দিলাম
*****
---------------------------------
জানিনা জানবোনা... কোন স্কেলে গাইছে কোকিল
গুনিনা আমি গুনিনা...কার গালে কটা আছে তিল
৩২
আমরা অতীব ভয় সহযোগে সেই দুইজনরে জিজ্ঞাস করলাম... আচ্ছা... কালকা রাত্রে কি হইছিলো? তারা জানাইলো আমরা স্বাভাবিকই ছিলাম... এমনকি তারা সেই রাইতে জলে নামতে চাইছিলো আমরা তাদের বাঁধা দিছি নিরাপত্তার অজুহাতে সেই ক্ষোভও জানাইলো। আমরা আশ্বস্ত হইলাম... যাক বাবা... বাঁচা গেছে... বিপদ কিছু হয় নাই।
আসলেই? ![]()
প্রথম ব্ল্যাকআউট বৈদ্যাশে। মিউনিখ ২০০৩। তখন DAAD র স্কলারশিপ নিয়া জার্মান ভাষা শিখি। আমাগো গ্রুপের কেনিয়ান ছাত্র কুকুভিয়ান ওয়াসওয়ার জন্মদিন। সে বিশাল খরচপত্র কইরা পার্টি দিছে। পার্টির জন্য জায়গা খুঁজতে খুঁজতে শেষে মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস পাড়া স্টুডেন্টেন স্টাড্ট এর মাটির নিচে একটা পার্টি প্লেস পাওয়া গেল। ছেলে মালও কিনছে সেরকম। বীয়ার, ওয়াইন, ভদকা তো ছিলোই সেই সাথে একটা শ্যাম্পেনের বোতলও ছিল। মেয়েদের অনেকেরই দাবী ছিল শ্যাম্পেনের ব্যাপারে। সে যাই হোক। যথা সময়ে মাল টানা শুরু হইলো। একটা কইরা বীয়ার আর মাঝে মধ্যে কোঁৎ কোঁৎ কইরা একেক পেগ ভদকা। সাথে নানারকম নাচানাচি। এর মধ্যে সেখানে এক বাঙালী ছাত্রী ছিলেন, তিনি ডাইকা বললেন, সুমন ভাই জন্মদিনের পার্টিতে আইসা অন্তত আধা গ্লাস শ্যাম্পেন না খাইলে নাকি গৃহস্থের অমঙ্গল হয়। স্বদেশীনী সবমিলাইয়া ঐ আধাগেলাসই টানছিলেন। বাকি সময় তিনি হিজাবিনিদের সাথে নানারকম ফলের রস, কোকাকোলাদিতে পেট চালাইছেন। এদিকে শ্যাম্পেন হইল ভদকা-বীয়ারের বাইরের ঘরানার মাল। মাথা দিলো চক্কর। ভাবলাম আরেক্টু নাচলে ঠিক হবে। নাচলে ঠিক হবে কিনা বুঝলাম না। বুঝলাম যে নাচতে থাকলে ঠিক থাকে। স্থির হইলেই আবার চক্কর দেয়। এইরকম ধরা ছাড়ার মধ্য দিয়া লহড়া চলতেছিল মাথায়। ওয়াসওয়ার দেশের আরেক ছাত্র অ্যাম্ব্রোসের মতো বিশাল উইলফ্রেড কয় একটু কাঁচা লেবু দিয়া ডবল পেগ ভদকা একবারে টানদিয়া বাইরে বাতাসে দশ মিনিট ঘুইরা আসলে ভালো লাগবো। বাইরে গিয়া দেখি আসলেই ফুরফুরা লাগে। তাপমাত্রা সেদিন অনেক কম। মাইনাস দুইটুই হবে। প্রথমবার বরফ দেখা মানুষের কাছে মাইনাস দুই যথেষ্ট ঠান্ডা। কিন্তু আমার ভালোই লাগতেছিল। পাথরের উপর বইসা জমাইয়া একটা বিড়ি ধরাইছি, দেখি গ্রীসের সুন্দরী ভিভি মোটামুটি ছুইটা আসতেছে আমার দিকে ...কাহিনি হইল আমার রূমমেট তাজিকিস্থানের ইলহোম দুসানভ নাকি টাল হইয়া গেছে। তারে সামলাইতে হইবো। আমি গেলাম ফাইসা। আমি নিজেই মাথা ঠান্ডা করতে বাইরে আইছি তারমধ্যে আবার "টাল" সামলাইতে হবে। ইলহোমের সন্ধানে গিয়া দেখি ছেলে পাকস্থলি ফরম্যাট করা শুরু কইরা দিছে। মোটে তিনটা মনে হয় বীয়ার খাইছে। তাতেই এই অবস্থা। ইলহোম দেখতে বেশ ইসমাট ছিল। কচি ছেলে। কচি কচি ছেড়িরা ওরে ভালোই পাইতো। ভিভি, আন্তোনেলা আর সেই বাঙালী তরুণী প্রস্তাব দিলো ইলহোমরে একটু ব্ল্যাক কফি খাওয়াইয়া দেখা যাইতে পারে। গেলাম ওদের সাথে পার্টিপ্লেস থিকা একটু দুরে, ঐ ডর্মের আন্ডারগ্রাউন্ডেই একটা উইকেন্ড পাবে। ইলহোমের চেহারা ফ্যাকাইসা হইয়া গেছে। ব্যপক আল্হাদ পাইতেছে এই সুযোগে কচি কচি বালিকাদের কাছে। সবাই কফি নিলো, আন্তোনেলা একটা এসপ্রেসো। শুধু আমারই মনে হইতেছিল আইজ রাইতে পেটে মাল ছাড়া আর কিছু ঢুকলে সর্বনাশ হইবো। কইলাম ভদকা দিতে একটা ডবল পেগ। সবাই হাহা কইরা উঠে। খাইলাম সুড়ুৎ কইরা। স্বদেশীনী কয়, ফাটাইয়া টানতেছেন দেখি....দাঁড়ান দেশে গিয়ে হাটে হাড়ি ভাঙ্গুম, আমি কইলাম, আপনার লগে হাটে গেলে তো! বাকিরা প্রতিবাদ করলো ইংলিশ ইংলিশ....নো বেঙ্গলী। কফি খাইয়াও দেখি ইলহোম বেচারার যায় যায় অবস্থা। একা বাড়ি যাইতে পারবে না। টিউটর আইসা বলল, আমরা আর বেশীক্ষণ থাকবো না এমনিতেও। তুমি কি ইলহোমরে আমাদের ডর্মে নিয়া যাইতে পারবা? ওদিকে সেই তিন রমনীও বাড়ি যাইতে চায়। ঠিকাছে। চললাম মুরুব্বি হিসাবে ওদের সাথে। স্টুডেন্টেন স্টাডট থিকা বাইর হওয়ার মুখে দেখি আরচিওম আর ব্রাজিলের লিজি একটা টাটকা মস্কোভোস্কায়া খোলে। আমারে দেইখা কয়, আরে তুমি কইথাকো, আসো এই বোতল আধা ঘন্টায় শেষ করি। আমি কই ভাইরে অলরেডি বহুত টানছি বাড়ি যাইতাছি, ইলহোমের অবস্থা খারাপ। ওরা নাখোশ হইয়া কয়,ঠিকাছে শেষ একটা টাইনা যাও। ওয়ান ফর দ্য রোড। খাইলাম একটানে পথের দিশা। বাইর হইয়া তিনচাইর পাও হাটতেই শুরু হইল কাহিনি। মানে হইল চান্দি দিয়া ইন্ডোর এন্টিনা বাইর হইয়া কোথায় জানি টিউন হইতে চায়! একবার ডাইনে একবার বায়ে একেকবার নানারকম কোণাকুণি প্রপঞ্চে। ইলহোমরে ধরুম কি...আমারেই কারো ধরার দরকার। কেমনে কেমনে জানি গিয়া টিউব রেলে উঠলাম। তারপর দেখি কায়দামতো সীট নাই। পরের স্টপেজে পাওয়া গেল, তাও আবার অপোজিট ডিরেকশানে। রেল টান দিতেই মনে হইল মাথাটা উড়তাছে আর আমি থাবা দিয়া তারে ধরতে চাইতাছি। হঠাৎ সোজা হইয়া খাড়াইলাম। পোলাপান কয় ক হইছে। আম কইলাম না ..ঐ দাঁড়াইতে ভাল্লাগতেছে...ট্রাম পরের স্টপেজে থামলো। স্টপেজের নাম ছিল...মুইনশেনার ফ্রাইহাইট। কি জানি মনে কইরা সোজা নাইমা গেলাম। আরে আরে কই যাও ....কইয়া পোলাপান আইতে আইতে দিছে গাড়ি ছাইড়া। আমি বেকুবের মতো স্টেশনের এইমাথা ঐমাথা হাঁটি। যেদিকে তাকাই সেদিকেই মাতাল। একদা ছিলনা জুতা চরণ যুগলে ইত্যাদি মনে হইতে হইতে দেখি আরেকটা ট্রাম। সেইটা কোথায় জানি যাবে। আমার দরকার ইউ-১। ধপ কইরা বইসা পড়লাম বেঞ্চে। তারপর আর কিছু মনে নাই।
পরের দিন সকালে আউগসবুর্গে এক্সকারশান ছিল। চোখ খুইলা দেখি আমি আমার বিছানাতেই শোয়া। গায়ে নিয়মিত রাতপোষাক। ক্যাম্নে কী? ইলহোমরে ডাক দিয়া উঠাইলাম। আমি কখন কিভাবে বাড়ি আইলাম? ও কয় রাইত আড়াইটার দিকে নাকি আমি নিজে নিজেই আইসা কাপড় বদলাইয়া শুইয়া পড়ছি। আমি নাকি জোরে জোরে কি জানি গান গাইতে গাইতে বাড়ি ফিরছিলাম। কইয়া ছেলে উল্টা দিকে ঘুইরা শোয়। পরে স্বদেশীনীরে জিগাই, কয় আমার জন্য নাকি সবাই আমার ঘরে বইসা ছিল দুই ঘন্টা। আমি নাকি ঘরে আইসা তাদেরকে হাসিমুখে গুড নাইট বইলা ঘুমাইতে পাঠাইছি। তারপর কিকি জানি গল্পও নাকি শুনাইছি।
কি জানি? আমার কিছুই মনে নাই। শুধু আবছা আবছা সেই বেঞ্চটা মনে পড়ে। তার এককোণায় এক বুড়া বইসা বীয়ার টানে আর একা একা কথা কয়......
১
হা হা , ব্ল্যাক আউটের কাহিনী পইড়া ব্যাপক মজা পাইলাম। আরো কমেন্ট করবানি, আগে এট্টা সিনেমা দেইখা লই !
অলমিতি বিস্তারেণ