অসন্তুষ্ট না হওয়ার অধিকার?

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি
লিখেছেন অনিন্দ্য রহমান (তারিখ: শুক্র, ১৯/০৮/২০১১ - ৬:২১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

শেখ হাসিনার থাকা না থাকায় কার কী আসে যায় জানা নাই, কিন্তু বাংলাদেশের আসে যায়; যারা একমত না, তাদের সাথে তর্কে প্রবৃত্ত হব না। কেবল বিনীতভাবে এই মত দিতে চাই, বৃহৎ বঙ্গের বাঘ এ কে ফজলুল হক থেকে প্রয়াত আহসানুল্লাহ মাস্টারের নবীন পুত্র পর্যন্ত যারাই বাংলাদেশে রাজনীতিবৃত্তি করেছেন শেখ হাসিনা তাদের মধ্যে গণতন্ত্রায়ণের পক্ষে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র - তার সভাসৎ যতই তাতে অন্ধকার ঢেলে দিক না। শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা কতবার কারা কারা করেছে সেবিষয়েও পাঠকের জ্ঞানকে খাটো করতে চাই না। ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদক থেকে শুরু করে নিখিল-পাকি-পেয়ারা জেনারেল, বাড়িওয়ালা থেকে ফেরিওয়ালা, শেখ হাসিনার মৃত্যুতে কেউ কেউ খুশি হবেন এই আশঙ্কাও করি। তবু আমি শেখ হাসিনাকে অভিশাপ দেয়ার ‘স্বাধীনতা’কে সমর্থন করি। যদিও আমি নিজে এই অভিশাপ দিব না। এমনকি যারা দিবে তাদের বিষয়েও আমার বিশেষ আগ্রহ নাই। শেখ হাসিনার থাকা না থাকায় যোগাযোগমন্ত্রীর কিছু যায় আসবে না, তিনি সকল গণ/অগণতান্ত্রিক সরকারের আমলেই সদানন্দ, স্বৈরাচার কিংবা তার স্ত্রী(গণে)র আদুরে, পীরবাবার আশির্বাদধন্য; শেখ হাসিনার না থাকায়, ছাত্রলীগের তালিকাবাসীদের সাময়িক দুশ্চিন্তার অতিরিক্ত কিছুও হয়ত হবে না; কিন্তু আমি, ব্যক্তি, নাগরিক, দীর্ঘমেয়াদী অন্ধকারের আশঙ্কা করব। এই রচনার বিষয় শেখ হাসিনা নন। এর বিষয় ভিন্ন।

খবরে প্রকাশ, ফেইসবুক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর 'মৃত্যু কামনা' করায় জনৈক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। আগস্টের ১৮ তারিখ হাইকোর্টের একটা বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত রুলে জানতে চেয়েছে, ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না। দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও শিক্ষা সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

২.
ফরাসি তাত্ত্বিক মিশেল ফুকোর সাথে যাদের পরিচয় ঘটে থাকবে তারা জানেন যে, ফুকো আরও নানান কিছুর মধ্যে প্রস্তাব করেছেন, কোনও বক্তব্যকে আইনী মর্যাদা পেতে হলে তাকে অন্তত পাগলের ‘প্রলাপ’ হলে চলবে না। এর অর্থ আইনী কাঠামোতে সকল কিছুই ‘ধর্তব্য’ নয়। সুতরাং আইন কোনটা ধরে কোনটা ধরে না সেটা অনির্দিষ্ট থাকে না।

ফেইসবুকের পুরাতন ব্যবহারকারীরা স্মরণে আনতে পারেন যে, আদিতে ফেইসবুক স্ট্যাটাস বর্তমানের ন্যায় ছিল না। তখন এর কাঠামো ছিল এমন: দবিরউদ্দিন is + (এই অংশ দবিরউদ্দিন কর্তৃক পূরণীয়)। অর্থাৎ ইংরেজি বাক্যের দাবি মোতাবেক দবিরউদ্দিনের স্ট্যাটাস দাঁড়াতে পারে এইরকম: দবিরউদ্দিন is lonely, বা এইকরকম: দবিরউদ্দিন is going to hospital, ইত্যাদি। ২০০৭ এর ডিসেম্বরে এই পদ্ধতি উঠে যায়। অর্থাৎ সেযাবৎ স্ট্যাটাসে ফেইসবুকে ব্যবহারকারী তার ‘অবস্থা’র ‘তথ্য’ জানাতে পারতেন। স্পষ্টতই ঐ স্ট্যাটাস একটা ‘দাবী’মাত্র, সত্য অ্যালিবাই (অর্থাৎ অন্যত্র থাকার প্রমাণ) হিসাবে দাখিলযোগ্য না। ২০০৭ এর ডিসেম্বরে কাঠামো থেকে is খসে পড়ার পর, ফেইসবুক স্ট্যাটাস বিচিত্র প্রকৃতির বাক্যের জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু এই পর্যায়েও, দবিরউদ্দিন ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুশাসিত হন। স্ট্যাটাস লিখার জায়গায় তখন এই প্রশ্ন লিখা থাকত: what are you doing right now?। দবিরউদ্দিন লিখতে পারেন I eat rice ধরণের কিছু। সুতরাং এইবার সরাসরি অ্যালিবাই লিখার আহ্বান, যদিও এটাও খুব সম্ভব আইনী ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। ২০০৯ এর মার্চে প্রশ্নটা ঘুরে হয়: what’s on your mind? পরিস্থিতি পাল্টায়। মাথার কথা মাথায় থাকলে আইনের মাথাব্যথা নাই। কিন্তু লিখিত হয়ে গেলে, তা প্রকাশিত। লাতিন আইনের আপ্তবাক্য অনেকেরই জানা, actus non facit reum nisi mens sit rea- অপরাধের সংঘটনমাত্রেই ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয় না, যদি না তার মানসিকতাও দুষ্ট থাকে। অতএব ধীরে ধীরে আইনী ধর্তব্যের মধ্যে ফেইসবুকের প্রবেশ সুগম হয়। কিন্তু ব্যক্তির আত্মপরিচয়ই যেখানে প্রশ্নাতীত না, সেখান তার স্ট্যাটাস আদালতে দাখিলযোগ্য হয় কি? এবং সমধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: যখন অ্যালিবাই হিসাবে একটা স্ট্যাটাস ধর্তব্যের বাইরে থাকে, তখন দুষ্ট মানসিকতার প্রমাণ হিসাবে একে ধর্তব্যে নেয়া যায় কি?

ফেইসবুকের স্ট্যাটাসকে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত ধর্তব্যের মধ্যে নিয়েছে এই নিয়ে অবশ্য দ্বিমত নাই।

৩.
তথ্যপ্রযুক্তির (ডিসকোর্স) ও আইনের (ডিসকোর্সের) মধ্যকার বিনিময়ের একটা বিদেশী উদাহরণ লক্ষ্য করা যাক।

বিলাতে ২০১১ সালের আগস্টে যে দাঙ্গা হয়, সেই ঘটনার সোশাল মিডিয়া হোতাদের (social media ringleaders) দুইজনকে চারবছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এতে রক্ষণশীলরা খুশি হন নাই, আরো কড়া শাস্তি দাবি করেছেন। লিবারেলরা বলেছেন, শাস্তি দেয়ার চেয়ে বুঝিয়েসুঝিয়ে লাইনে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘নৈতিক অবক্ষয়’। কিন্তু ফেইসবুকের ‘বেআইনী’ ব্যবহারের সম্ভাব্যতাকে প্রশ্ন করেন নাই। তাদের মধ্যে এই এক মিল। অন্যদিকে বিলাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্মার্টফোন ব্ল্যাকবেরির উপর খাপ্পা। ব্ল্যাকবেরি তাদের অগম্য - সেকারণে এই যন্ত্র দাঙ্গাকারীদের কাজ সহজ করে। যন্ত্রটার উৎপাদক অবশ্য সার্বিক সহায়তা দিতে চায়। এমআইফাইভ তৎপর হয় স্মার্টফোনের বার্তা ‘উন্মুক্ত’ করবার কাজে। অর্থাৎ সোশাল মিডিয়ার অপরাধ সংঘটন ও সংগঠনের সম্ভাব্যতা স্বীকৃতি পায়। অথচ এই বিলাতেই মোবাইলে ‘ব্যক্তিগত’ বার্তা উন্মোচনের দায়ে মার্ডকরাজের ট্যাবলয়েড ‘নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ বন্ধ হয়ে যায়। এবং আরো আগে, যদি কারও মনে থাকে, বিলাতসহ পশ্চিমের বড়লোক দেশসমূহে বহুলপ্রশংসিত হয় ‘আরবী বসন্ত’খ্যাত গণবিক্ষোভে সোশাল মিডিয়ার ‘চমৎকার’ ব্যবহার । এই সকল ঘটনা আমাদের একটাই প্রশ্নে মুখে দাঁড় করায়: কখন ব্যক্তিগত তথ্য আর ব্যক্তিগত থাকে না?

অর্থাৎ দবিরউদ্দিন যখন একটা স্ট্যাটাস দেন তিনি সেটার অভিগম্যতা অর্থাৎ কে পড়বেন কে পড়বেন না সেটা নিয়ন্ত্রণ করেন। এটাই ব্যক্তিগত থাকার বিষয়। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও শিক্ষা সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালকের পক্ষে দবিরউদ্দিনের স্ট্যাটাস জানার জন্য কোনো না কোনো আইন দ্বারা অনুমতিপ্রাপ্ত হতে হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি, বিলাতে যেমন, ব্যক্তিগত তথ্য কখন আর ব্যক্তিগত থাকে না তার সিদ্ধান্ত নিবে কেবলমাত্র রাষ্ট্র। সুতরাং তর্কটা ভিন্ন মাত্রা পায়। রাষ্ট্র ব্যক্তি-মতের গোপনীয়তা ভঙ্গ করতে পারে। এবং রাষ্ট্র বাকস্বাধীনতাসহ নাগরিকের বিবিধ মৌলিক অধিকার রদ করার ক্ষমতাও পায়। কেন পায়?

৪.
একদা আমাদের দেশে যেভাষায় আইন উৎপাদিত হত সে ফার্সিতে ‘জমিয়তবস্তি’ বলে কিছু একটা টার্ম লভ্য বলে শুনি। জমিয়তবস্তি ফৌজদারি অপরাধ। শব্দটার মূলে জমায়েত, অর্থ অবৈধ সমাবেশ। আইনের চোখে অপরাধ যদিও জমায়েত পাকানো না, গিয়ানজাম পাকানো। ইংরেজদের বিশ্বভাষায় সোশাল নেটওয়ার্কিংয়ের শব্দদ্বয়ে বাংলা কেউ সামাজিক যোগাযোগ বলতে চাইলে বলবে তাতে আমাদের কারও কারও আপত্তি নাই। কিন্তু সোশাল নেটওয়ার্কিং ধরণের কর্মকাণ্ডের ফৌজদারি আইনের আওতায় আসা যখন কেউ ঠেকাতে পারে নাই তখন ‘অবৈধ’ সোশাল নেটওয়ার্কিংয়কে ‘ইন্টারনেটে জমিয়তবস্তি’ বললে অনেক ভুল হয় কি?

সোশাল নেটওয়ার্কিং আমাদের দেশে নবীন। আমাদের দেশের সংবিধানের বেশীরটাই পুরাতন। আইনের প্রায় সবটাই আরও পুরাতন। তাহলে ফেইসবুকাদি ক্ষেত্রে সামাজিক জমিয়তবস্তি বিষয়ে আইন কী ভাষায় কথা বলবে? উত্তর নানা কিছু হতে পারে। দুইপক্ষে দুইপক্ষের ভাষা আয়ত্ব করতে পারে। এই কাজ একপক্ষে করলেও চলে যায়। কেউ কারও ভাষা শেখার প্রয়োজন বোধ না করলে দোভাষী রাখলে চলে। কিন্তু কেউ কারও ভাষা আদৌ শুনতে না চাইলে সেটাও করতে হয় না। তখন নিজের ভাষায় বলে যাওয়াই পথ।

আদালত নিঃসন্দেহে ফেইসবুকাপেক্ষা সার্বভৌম (more sovereign প্রস্তাবটা অর্থপূর্ণ কি?)। সুতরাং আদালত আদালতের ভাষায় ফেইসবুক ব্যবহারকারীর আচরণের ব্যাখ্য চেয়েছে; ফেইসবুক ব্যবহারকারীর কাছে না, নির্বাহী বিভাগের নিকট। আমাদের দেশের সাম্প্রতিক এই ঘটনার তুল্য পূর্বে দেখা যায় নাই। তবে ভবিষ্যতে আরও যাবে ধারণা করি। কিন্তু প্রশ্ন সেটা না।

৫.
পুরাতন প্রশ্নে ফিরত যাই। রাষ্ট্র বাকস্বাধীনতাসহ নাগরিকের মৌলিক অধিকার রদ করার ক্ষমতাও পায়। কেন পায়?

অনর্থ এড়াতে প্রথমেই বলে নেয়া ভাল আমাদের দেশের সংবিধান একক নাগরিককে অনেক অধিকারই দেয়, কিন্তু একক নাগরিকের ঐ অধিকার জনস্বার্থ খর্ব করলে কিছুই দেয় না। দেয়া সম্ভব না ও উচিৎ না বলেই আমাদের কারও অভিমত।

জমায়েতের কথা যদি বলি জমায়েতে বা সমাবেশের অধিকার স্বাধীন চলাফেরার অধিকারের সাথে সম্পর্কিত। সংবিধানের ৩৬ সংখ্যক অনুচ্ছেদে লিখিত: ‘জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, ইহার যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুন:প্রবেশ করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’ সুতরাং জনস্বার্থ শব্দটার সাথে যাদের সাংবিধানিক আবহাওয়ায় পরিচয় নাই, তাদের পরিচয় হল। পূর্বে বলেছি মোটের উপর আইন সংবিধানের চেয়ে পুরাতন। দেখেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮, যার প্রসিদ্ধ ১৪৪ ধারায় বলে (পূর্বোক্ত) গিয়ানজাম-পাকানো-ধরণের জমায়েত ঠেকাতে নাগরিকের অবাধ চলাফেরায় বাধা দেয়া আলবত যাবে।

৬.
ফেইসবুক ব্যবহারকারীর ফেইসবুকে ‘বলা’ একটা বক্তব্য বিষয়ে আদালতের ব্যাখ্যা চাওয়ার কথা শ্রবণমাত্র প্রথমেই এই জিজ্ঞাসা হাজির হয় যে, বাকপ্রকাশের যে স্বাধীনতা আমাদের দেশের সংবিধানে স্বীকৃত তার আওতায় আলোচ্য ফেইসবুককাণ্ড কীভাবে অর্থ অর্জন করবে? সংবিধানের ৩৯সংখ্যক ধারা স্বাধীন মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়। তাতে ঐ ৩৬সংখ্যক ধারার অনুরূপই লিখিত যে, ‘মৌলিক অধিকার’ হিসাবে নাগরিক ও সংবাদপত্রসমূহের মত ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা রাষ্ট্র দিবে তবে “রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানী বা অপরাধ, সংগঠনে প্ররোচণা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ- সাপেক্ষে”। উল্লেখ্য এই ‘সাপেক্ষতা’ গোটাটাই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আবিষ্কার না। জাতিসংঘও মনে করে সর্বত্র মত প্রকাশের অধিকার সংরক্ষিত তবে অপরের অধিকার বা জনস্বার্থ খর্ব হয় এমন পরিস্থিতি না ঘটালে (মানবাধিকার বিষয়ক সার্বচজনীন ঘোষণা ১৯৪৮)।

আমাদের সংবিধানের আলোকে নূতন আইন হয় না তাও তো না। প্রসঙ্গত দেখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ ( ২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন )। এই আইনের দুই ধারার (৪৬নং ও ৫৭নং) বিরুদ্ধে রিট হয়, রিটের শেষ খবর আমার কাছে নাই। আপাতত ৫৭ নং ধারা লক্ষ্য করি।

৫৭সংখ্যক ধারায় লিখিত: “৫৭। (১) কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ। (২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক দশ বত্সর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।”

ধারা নং ৫৭এর আওয়তায় শাস্তির উদ্বোধন আমাদের দেশে হয়েছে কিনা জানা নাই।

৭.
‘কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন’ তাহলে তিনি অপরাধী হবেন যদি সেটা -

(ক) ‘মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন’
(খ) ‘অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে’,
(গ) ‘আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা’
(ঘ) ‘ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়’,
(ঙ) ‘রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়’ (উৎস পূর্বোক্ত ৫৭ ধারা, তালিকা নিজস্ব)

এখানে আমাদের কারও মনে প্রশ্ন জাগতে পারে মিথ্যা কী? মিথ্যা বলা পাপ কিন্তু অপরাধ কী? অপরাধ হলে, কেবল সাইবারজগতেই? মিথ্যাপরিচয় দিয়ে লোক ঠকানোর কথা যদি আসে তবে সেটা সর্বত্রই অপরাধের ‘মর্যাদা’ পায়, নাকি? অশ্লীলতার সংজ্ঞা নিয়ে তর্ক জগতে অশ্লীলতার সমান পুরাতন। অতএব পরের অংশে মন দেই। “কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ” হইলে দায় কার উদ্বুদ্ধকারীর? তাহলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ মানুষের কোনো দায় নাই? নাকি দায় ভাগাভাগি হবে? এইসব প্রশ্ন দার্শনিকচরিত্রের বটে। কিন্তু এই অংশ নিয়ে প্রশ্নসমূহ বাস্তবিক সমস্যারও ইঙ্গিত দেয়। খুব সাধারণ বুদ্ধিতেই বলে, ক-ঙ ধরণের অপরাধের অভিযোগ বাংলাদেশের ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দৈনিক হাজারবার আনা যায়, দৈনিক। সেই হাজার ‘অপরাধে’র ‘আইনী ব্যবস্থা গ্রহণে’র সামর্থ্য বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগের আছে কি?

অনুমান করি, নাই। সুতরাং পাইকারী ব্যবস্থা একরকম উপায় বটে; বাংলাদেশে ফেইসবুক বন্ধই করে দেয়া যায়। অতীতে একবার এমনটা করাও হয়েছিল। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এরই ধারা নং ৪৬ এর আওতায় ইতিপূর্বে বাংলাদেশে ফেইসবুক বন্ধ করা হয়ে থাকতে পারে।

৮.
ভুল বুঝে না থাকলে, সংবিধানসিদ্ধ পুরাতন কথাসমূহেরই (“রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানী বা অপরাধ, সংগঠনে প্ররোচণা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ- সাপেক্ষে”) পূর্ণ ও সম্প্রসারিত প্রতিধ্বনিমাত্র পাওয়া যায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এ।

৪৬ সংখ্যক ধারা পাঠে আরও পরিস্কার হয়। সেখানে লিখিত: “৪৬।(১) নিয়ন্ত্রক যদি এই মর্মে সস্তুষ্ট হন যে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, অন্যান্য বিদেশী রাষ্ট্রের সহিত বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে বা এই আইনের অধীন দণ্ডযোগ্য কোন অপরাধ সংঘটনের প্ররোচনা প্রতিরোধের জন্য নির্দেশ প্রদান করা সমীচীন ও প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি, লিখিত কারণ উল্লেখপূবর্ক, আদেশ দ্বারা, সরকারের কোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কোন কম্পিউটার রিসোর্সের মাধ্যমে কোন তথ্য সম্প্রচারে বাধা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন। (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আদেশ জারী করা হইলে, উক্ত আদেশে বর্ণিত নির্দেশনা অনুসারে কোন গ্রাহক বা কম্পিউটার রিসোর্স এর তত্ত্বাবধায়ক উক্ত সংস্থাকে কোন তথ্য উম্মোচন (decrypt) করিবার জন্য সকল সুবিধা এবং কারিগরী সহযোগিতা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন।”

সংক্ষেপে, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধের এক্তিয়ার রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের (নিয়ন্ত্রকের) আছে। এতে সংবিধান ক্ষুণ্ন হয় এমনটা জোর গলায় বলা যায় না।

৯.
“কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ” হইলে দায় কার উদ্বুদ্ধকারীর? তাহলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ মানুষের কোনো দায় নাই? নাকি দায় ভাগাভাগি হবে? এইসব প্রশ্ন দার্শনিকচরিত্রের বটে, ক্ষণিক পূর্বেই লিখেছি।

বাকি আদালত দেখবে। শেষকালে কেবল দার্শনিকচরিত্রের প্রশ্নগুলোর মীমাংসা করার চেষ্টা করি। ২০০৭ সালের নভেম্বরে বিলাতের বিখ্যাত বিতর্ক সংগঠন অক্সফোর্ড ইউনিয়ন দাওয়াত দেয় ‘আপত্তিকর’ ইতিহাসবিদ ডেবিড আরউইংকে। সঙ্গে ডানপন্থী রাজনীতিক নিক গ্রিফিন। আরউইং হলকাস্ট ডিনায়ার, উগ্র ইহুদীবিদ্বেষী হিসাবে বিবেচিত। আরউইং মানুষের ভিতরে হিংসা জাগিয়ে তুলবেন এই বিশ্বাস অনেকের মনেই ছিল। নানান স্তরের মানুষের বিক্ষোভের পর (যার মধ্যে বামপন্থী থেকে শুরু করে ইহুদীবাদিরাও ছিলেন), এই দাওয়াত তুলে নেয় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন। সেই সময়েই, বিলাতের সেন্সরশিপবিরোধী আন্দোলনের নেতা ব্রেনডান ও’নিল বলেন, “যদিও বা কোনো বক্তব্যকে উস্কানিমূলক বলে সংজ্ঞায়িত করা যায়, তারপরও তাকে সেন্সর করা উচিৎ না।”তার যুক্তি সরল। “মানুষ লেলানো কুকুর না (‘people are not attack dogs’) যে তারা বিতর্কিত জিনিস শুনামাত্রই হিংস্র হয়ে উঠবে।”

ব্রেনডান সাহেব একটা জরুরি কথা বলেছেন, আমাদের কেউ কেউ মানতে পারেন। “স্বাধীন মত প্রকাশের কোনো সীমা নাই। মুক্ত সমাজের সার কথা হল এই যে, সেখানে কেউই অসন্তুষ্ট না হওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেন না”। ইংরেজিতে আরো ভাল শুনায় “No-one has the right not to be offended: that is the essence of a free society”।


মন্তব্য

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

চমৎকার লেখা। উত্তম জাঝা!

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

ভাবুক এর ছবি

"... শেখ হাসিনা মরে না কেন?" এখানে মৃত্যু কামনা কীভাবে করা হ'ল। এটা তো একটা প্রশ্ন যার উত্তর হ'তে পারে বহুবিধ। যেমন শেখ হাসিনার হায়াত অনেকদিন, রাখে আল্লাহ মারে কে, দেশবাসীর অপরিসীম দোয়া ও শুভকামনা আছে তার সাথে ইত্যাদি। আমার মনে হয় মানুষ মাত্রই ক্যারিয়ার সচেতন। একজন আইনজীবির বিচারপতি হওয়ার স্বপ্নদেখা বা একজন বিচারপতির প্রধানবিচারপতি হওয়ার স্বপ্নদেখা তাই স্বাভাবিক। একারণেই ইন্টারোগেটিভ সেন্টেন্স আর অপ্টেটিভ সেন্টেন্স মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। আজ থকে চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর আগে বিদ্যালয়গুলোতে বোধকরি ব্যকরনের শিক্ষক এতটা খারাপ ছিলনা।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ভাবুক,

প্রথমত, আপনার মন্তব্যটা বর্তমান পোস্টের বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি না।

দ্বিতীয়ত, বিচারকদের বিষয়ে আপনার মন্তব্যের সাথেও আমার দ্বিমত আছে। বাংলাদেশের গত আড়াই বছরে যে কয়টা ভাল কাজ তার অর্ধেকের বেশীই বিচারবিভাগের অবদান।

তৃতীয়ত, ঐ বাক্য যেটা আপনি উদ্ধৃত করছেন, সেইটার মানে আমার কাছে আদালতের মতনই ক্লিয়ার। আদালতের বুঝায় কোনো ভুল আছে বলে আমি মনে করতেছি না। 'মৃত্যু কামনা আসলেই করছে কি না', এই ধরণের কোনো প্রশ্ন আমার মাথায় নাই। ফেইসবুক স্ট্যাটাসের কনটেন্ট এই পোস্টের আওয়তায় নাই বলে মনে করি।

চতুর্থত, বাংলা বাক্য নিয়া আপনার বক্তব্যের সাথেও আমি একমত না। বাংলা বাক্যও যেহেতু এই পোস্টের বিষয় না, তাই আলোচনায় আগ্রহী না। আরেকদিন হবে।

অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

মাহবুব লীলেন এর ছবি

দারুণ

নীলকান্ত এর ছবি

প্রব্লেম হইলো ব্রেনডন সাহেবের মত লোকেরা দেশ চালায় না, বিচারকও হয় না।


অলস সময়

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

বক্তৃতা দেয়ার চাইতে দেশ চালানো, বিচারকাজ করা সহজ না।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নৈষাদ এর ছবি

চমৎকার বিশ্লেষণ।

(তবে লেখার প্রথম প্যারা অনেককে আপনার লেখার মূল বক্তব্যকে স্বচ্ছভাবে বিশ্লেষণে মানসিকভাবে বাধা দিবে এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।)

ব্রেনডন সাহেবের প্রথম উক্তি হয়ত তার দেশের দাঙ্গা-উত্তর পরিস্থিতিতে তারই দেশের সাইকোলজির সহযোগী অধ্যাপকের ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে প্রশ্নের সম্মুখিন হতে পারেঃ

‘… concept is called deindividuation. Normally people's behaviour is guided by their own identity and values, which tell us to not do certain things - like taking things without paying for them. But in some situations they take on the values of the group. Our own internal values and norms become less salient.

...idea is called emergent norm theory. Most of these people have probably not been in a riot like this one before. They are unsure of what the appropriate behaviour is. So they look at what other people are doing. And if other people are doing this, it suggests it's normal. Or at least maybe it is something that I can get away with….

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

নৈষাদদা

প্রথমত 'মানসিক বাধা' পার না হইতে পারলে স্বচ্ছতা অধিকার করা যায় না। স্বচ্ছতা ডেফিনিটলি কামস অ্যাট আ প্রাইস। নাকি?

দ্বিতীয়ত, ব্রেনডান সাহেব নিয়মিত এই ওয়েবসাইটে তফসির করেন। সেইখানে তিনি বেশ কিছু লেখা লিখছেন। তার মধ্যে এইটা একটু দেখতে পারেন। দাঙ্গাকারীদের স্রেফ ingenuous ভাবলে রাষ্ট্রপক্ষের সুবিধা হইল, তারা দীর্ঘকালের শোষণ আড়াল করতে পারে।

আপনার উদ্ধৃতি খেয়াল করেন। এইখানে appropriate আর normal শব্দ দুইটা লিখা হইছে। হোয়াট ইস নরমাল? হোয়াট ইস অ্যাপ্রপ্রিয়েট। কার পার্সপেক্টিভ থেকে?


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

লিখাটা ভাবায়। ..... চলুক

স্পর্শ এর ছবি

তো, এত কথা দিয়া কী বুঝাইলেন? হাই কোর্টএর রুল জারি করা ঠিক আছে নাকি ঠিক নাই?

ডিসকোর্সের ঠেলায় মাথাটা তিন চক্কর দিসে এই লেখা পড়তে গিয়া...

আর আপনে দেখি শেখ হাসিনার দারুণ ফ্যান!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

প্রিয় স্পর্শ

'এত কথা দিয়া' যখন বুঝেন নাই, তখন আর কথার কাম কী? ব্যর্থতা স্বীকার করি। কিন্তু 'শেখ হাসিনার দারুণ ফ্যান' এই বিষয়টা যখন অল্প কথার পরই বুঝতে পারছেন, এই জন্য গৌরব বোধ করতেছি।

হাইকোর্ট রুল জারি করছে সেইটার ঠিক-ভুল বাইর করা এই পোস্টের উদ্দেশ্য না। আমি খালি হাইকোর্ট না শুধু সমগ্র আইনব্যবস্থাই ফেইসবুকোত্তর দুনিয়ায় কী পদ্ধতিতে এবং পরিভাষায় কথা বলতেছে সেইটার একটা সংক্ষিপ্ত (এবং অসম্পূর্ণ) হিস্ট্রি দেয়ার চেষ্টা করলাম।

ডিসকোর্স শব্দে অ্যালার্জি আছে অনেক পাঠকের এইটা মাথায় নিয়াই এই লেখা লিখছি। শেখ হাসিনাতে অ্যালার্জি এমন পাঠকও তো কম না। রিস্ক লেখকের তরফেই বেশী।

ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

স্পর্শ এর ছবি

আপনি যা বলতে চাচ্ছেন। তা মনে হয় সহজ করে বলা যেত। অন্তত সহজ করে বলার একটা প্রচেষ্টা থাকতে পারতো লেখায়। নাই

আমি আবারো চেষ্টা করলাম লেখাটার মর্মোদ্ধারের। ব্যর্থ হয়েছি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন মন্তব্যে আপনার রিপ্লাই দেখে বিভ্রান্তি জ্যামিতিক হারে শুধু বাড়ছেই।

এভাবে কেন লিখলেন? এই লেখার 'টার্গেট অডিয়েন্স' কারা?


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী লেখে তাই না? টার্গেট অডিয়েন্স নিশ্চয়ই আমার মাথায় একটা ঠিক করা আছে। আপাতত টার্গেট অডিয়েন্স বিষয়ে এর বেশি আপনাকে কিছু জানাইতে পারতেছি না, দুঃখিত। তবে, আপনি যদি কোনো স্পেসিফিক লাইন ধরে কিছু বলেন, তাইলে আমি হয়ত আবার ট্রাই করতে পারি। এছাড়াও আপনি যদি মনে করেন এই বিষয়ে একটা 'সহজ' লেখা দেয়া দরকার। তাইলে একটা দেন। আমি খুবই আগ্রহ নিয়া পড়ব। ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

স্পর্শ এর ছবি

হুমম, এর আগে অ্যামনে লিখতে দেখছি ব্রাত্য রাইসু নামের এক ভদ্রলোককে। ফারুখওয়াসিফও মেহেরজান ইস্যুতে অ্যামনে কী কী জানি কইতে নিসিলো। সেইগুলাও বুঝিনাই। আপনার 'টার্গেট অডিয়েন্স' মনে হয় অনুমান করতে পারছি। চিন্তিত


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

বিলো দ্য বেল্ট যাওয়াটা মিডল ক্লাসের একটা বৈশিষ্ট্য। তোফা কবুল করলাম।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

অনিন্দ্য= ব্রাত্য রাইসু= ফারুক ওয়াসিফ

বাহ্‌ বাহ্‌ ...... গ্রেট ইকুয়েশন হাততালি

স্পর্শ এর ছবি

না, এই ইকুয়েশন লিখিনাই। ভুল বুঝসেন।

আমি 'টার্গেট অডিয়েন্স' এর কথা কইতেসিলাম। তারা ডিসস্কার্সিভ আলোচনায় যে ধরনের টার্গেট অডিয়েন্স চেয়েছিলো, অনিন্দ্যদাও হয়তো সে ধরনের অডিয়েন্স চাচ্ছেন। (যেহেতু তিনি নিজে এ বিষয়ে কিছু বলবেন না বলেছেন আমার আগের মন্তব্যের উত্তরে)

এইটুক মন্তব্য ভুল বুঝলেন। এত বড় লেখাটা ঠিক মত বুঝেছেন তো?


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ব্রাত্য রাইসু ফারুক ওয়াসিফ নিয়ে আসবেন টার্গেট অডিয়েন্স বোঝানোর জন্য। সমীকরণে ফেললেই কৈবেন কৈ নাই।

এর আগে একবার জিগাইছিলেন- লেসবিয়ান শব্দে আমার আপত্তি আছে কিনা? এখন জিগাতেছেন- বড় লেখা পইড়া বুঝি টুজি কিনা। আপনার বিনয়ের প্রশংসা করি, জনাব।

স্পর্শ এর ছবি

কেন এই লেখাটা কি রাইসুর লেখার মত যথেষ্ট ঘোরালো পেচালো (সঠিক বেঠিক বলতেসিনা কিন্তু) না? নাকি অস্বীকার করবেন তাও।
সেটাই বলতে চাইসি। ঘোরালো পেচালো লেখার নিশ্চই কোনো একটা পাঠক গোষ্ঠি আছে।

আর অনিন্দ্যদা তো বিভিন্ন প্রশ্নেই পাশকাটানো উত্তর দিচ্ছিলেন। মন্তব্য করার আগে অন্যান্য মন্তব্যের উত্তরগুলোও পড়ে দেখেছি। সন্তোশজনক উত্তর না পেয়ে নিজে প্রশ্ন করেছি। সেখানেও তখন পাইনি...

আর আপনি আমার ছোট্টো একটা কমেন্ট ভুল বুঝেছেন। হ্যা, বড় লেখা নিয়ে বলাটা বিনয়ের বরখেলাপ হয়েছে। সে জন্য দুঃখিত।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

কোন প্রশ্নের পাশকাটানো উত্তর দিলাম? পাশকাটানো বলতে কী বুঝায়? কেউ প্রশ্ন করল, ভাই আজকে বিষ্যুদবার, তার উপর ফরাসিরা পারফিউ ভালবাসে। কিন্তু আপনি হলুদ রঙের স্যান্ডেল পড়েন নাই, কেন? আপনি জবাব না দিলেই কি সেইটা পাশ কাটানো হবে? এনিওয়েজ, অনুগ্রহ করে অন্তত একটা প্রশ্ন এবং পাশকাটানো উত্তর নির্দেশ করলে বাধিত হই। কিন্তু প্রশ্নটাই পাশকাটানো হইলে কিছু করণীয় আছে কি?


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

স্পর্শ এর ছবি

পাশকাটানো?? আচ্ছা একটা উদাহরণ দেই-

লেখায়, "ফেইসবুক, বাকস্বাধীনতা, হাসিনা, হাইকোর্ট, ফৌজদারি মামলা, জনৈক ব্যক্তি, মৃত্যু কামনা..." সবই আসছে। কিন্তু যখন আমি বা যুধিষ্টির (আমাদের প্রথম মন্তব্যের প্রথম প্রশ্ন) জানতে চাইসি। এত কথা বলে আপনি কি বুঝাতে চাইসেন। আপনি সরাসরি বলে দিলেন।

আমি এই বিষয়ে কিছুই বলতে চাই নাই।

এই উত্তরটাকে আমি কী বলব? পাশকাটানো? আমার বোঝার ভুল? (অবশ্য হতেও পারে অনেক কিছু বুঝছিনা বলেই তো আপনার সাথে এই মন্তব্য চালাচালি)

টার্গেট অডিয়েন্সের কথা জানতে চাইলাম সেখানেও আপনি বললেন টার্গেট আপনার মাথায় থাকলেওআমাকে জানাতে আপনি ইচ্ছুক নন। প্রশ্ন করে যখন উত্তর পাবো না তখন অবশ্যই নিজ থেকেই কার্যকরণ আসবে।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

কতগুলা কি ওয়ার্ড কমন থাকলেই তো সাবজেক্ট কমন পড়ে নারে ভাই। তাই্তে তো জগতের সকল প্রশ্নের উত্তর ডিকশনারিতে পাওয়া যাইত। আর কতভাবে বললে বুঝবেন যে, আপনার ঐ প্রশ্নের আমার পোস্টের বিষয় ছিল না। বিষয় যে ছিল না, এইজন্য আমাকে দোররা মাইরা যান। আপত্তি করব না।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

বিনয়ের সাথেই বলি, আপনার বোঝার আগ্রহের অ্যাপ্রোচ পছন্দ হয় নাই। বুঝতে চাই বলতে গিয়া ‘ডিসকোর্সের ঠেলায় মাথায় তিন চক্কর দিসে’ বললে লেখক সূক্ষ্ণ খোঁচা বুঝবেন না তা কিন্তু নয়। আবার শেষে লেখা- আপ্নে তো শেখ হাসিনার বিশাল ফ্যান। অবশ্য ফ্যান হৈতেই পারে। খোঁচাটা গায়ে না নিলেই হয়।

তারপর টার্গেট অডিয়েন্স বোঝাইতে গিয়া রাইসু ওয়াসিফ আমদানী। এগুলো লেখকের বোঝাতে যাওয়া বাধাগ্রস্থ করছে।

তবে আপনি বুঝতে চাইছেন- সেটা নিয়ে আপনার অ্যাপ্রোচটা একটু ভিন্ন হৈলেই এতোক্ষণে বোঝা হয়ে যেত। বুঝবেনই না কেউ পণ করলে সেটা ভিন্ন কথা।

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

"শেখ হাসিনার দারুণ ফ্যান" আর "অনিন্দ্য= ব্রাত্য রাইসু= ফারুক ওয়াসিফ" এই দুই ইকুয়েশন কেই ডিসলাইক করলাম। আরো বেশি অপছন্দ করলাম, সব কিছুকেই একটা ইকুয়েশনে ফেলার প্রবণতা কে।

আর "টার্গেট অডিয়েন্স" কি লেখক নির্ধারণ করেন? করেন না বোধহয়। লেখক বড়জোর পাঠক তৈরি করতে পারেন। কিন্তু, "তোমার জন্য লিখসি", "তোমার জন্য লিখিনাই" এইসব ভেবে মনে হয় কেউ লেখে না।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

স্পর্শ এর ছবি

@অনিন্দ্যদাঃ আপনি শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্রের পক্ষে উজ্জ্বল নক্ষত্র মনে করেন। সেটা লেখার শুরুতে বলেছেন। যে শেখ হাসিনা কিন্তু পৈত্রিক সূত্রে একটা গণতান্ত্রিক দলের নেত্রী। (ফ্যালাসিটা কি চোখে পড়ছে?) এবং সেটা শুনে আমি অবাক হয়েছি। এবং স্পষ্ট করে বিষ্ময় প্রকাশ করেছি। এই সততায় কষ্ট পেলে কিছু করার নাই।

এবং হ্যা। আমার মন্তব্যের কথা গুলো আরেকটু বৈঠকি ভাবে বলতে পারতাম। অসহিষ্ণূ হয়ে পড়েছি আজকাল। সে জন্য দুঃখিত।

তবে দেখলেনই তো। অস্পষ্টতা কত ঝামেলার জন্ম দেয়। আপনার প্রতি অভিযোগ একটাই। আপনি স্রেফ চেষ্টাই করেননি এই লেখাটিকে সাধারনের পাঠযোগ্য করে গড়ে তুলতে। যদিও সেটা সাধারনের সামনেই তুলে ধরেছেন। চেষ্টা করলে পারতেন জানি।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

শেখ হাসিনা পৈত্রিকসূত্রে নেত্রী, এমনটা যদি কেউ ভাইবা থাকে, তাইলে তার ইতিহাসজ্ঞান নিয়া আমার (বিভ্রম না) সম্ভ্রম তৈরি হবে।

'অসহিষ্ণু' কিন্তু আমার মনে হয় নাই। অ্যালার্জেনের সাক্ষাৎ পেয়ে এন্টিবডি রিঅ্যাক্ট করছে। স্বাভাবিক।

'আমি স্রেফ চেষ্টাই করি নাই' - এইটা মনে করার নিশ্চয়ই কারণ থাকবে কোনো। আমি জানি না। সকল খবর জানেন অন্তর্যামী। তিনি আমাকে চেষ্টা করার তৌফিক প্রদান করুন। আমেন।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

স্পর্শ এর ছবি

না ভাই, আমার শুধু ইতিহাস জ্ঞান না। সব রকম জ্ঞানই কম আছে।

তার উপর আপনারা জ্ঞানীরা এমন ভাবে জ্ঞানের কথা লিখবেন যে অলরেডী জ্ঞানী হয়ে বসে না থাকলে সেসব কথা বোঝাও যাবে না। এ যেন এক জ্ঞানের পূঁজীবাদ আমি যাবো কই? কোথায় পাব জ্ঞানের দিশা?


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সাফি এর ছবি

In 1981 Sheikh Hasina returned after the largest party faction, the "Bangladesh Awami League", elected her its president, and she proceeded to take over the party leadership

[সূত্র]

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পিছনে কী বিবেচনা কাজ করেছে বলে আপনার ধারণা?

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

পৈত্রিক সূত্রে প্রেসিডেন্ট হওয়া আর পৈত্রিকসূত্রে নেত্রী হওয়ার মধ্যে আমি পার্থক্য দেখি। ৮১ পরে ৩০ বছর হয়ে গেছে। ৩০ বছর ধরে বৃহৎ কোনো রাজনৈতিক দলকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য পৈত্রিকসূত্র কোনো কাজে লাগে না, এইটা আমার মত। ভিন্নমত তো থাকতেই পারে। তবে আমি অনেককেই দেখছি শেখ হাসিনার নাম শুনলেই গাত্রদাহ হয়। সেইটা একধরণের পৈত্রিকসূত্র তো বটেই।

এই পোস্টে, একান্ত বাধ্য না হইলে, আমি এই সংক্রান্ত আর কোনো মন্তব্য করতে ইচ্ছুক না।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

স্পর্শ এর ছবি

৩০ বছর ধরে বৃহৎ কোনো রাজনৈতিক দলকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য পৈত্রিকসূত্র কোনো কাজে লাগে না, এইটা আমার মত। ভিন্নমত তো থাকতেই পারে।

তারমানে দাঁড়াচ্ছে এইটা 'আপনার মত'
আপনার এই মতের সাথে আমার দ্বিমত থাকার কারণে আপনি আমার ইতিহাসজ্ঞান নিয়ে টান দিলেন।

তাইলে তার ইতিহাসজ্ঞান নিয়া আমার (বিভ্রম না) সম্ভ্রম তৈরি হবে।

যদিও আগের এক মন্তব্য আমাকে বলেছিলেন

তবে, আপনি যদি কোনো স্পেসিফিক লাইন ধরে কিছু বলেন, তাইলে আমি হয়ত আবার ট্রাই করতে পারি।

এই হচ্ছে আপনার ট্রাই এর নমুনা!
সাব্বাশ মুক্তবুদ্ধির চর্চা...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

আপনি অ্যাটলিস্ট ৩০ বছরের ইতিহাসকে ওভারলুক করলে আমার তো কিছু করার নাই। জ্ঞান আর অজ্ঞানের মধ্যেই দ্বিমত তৈরি হয়। কে জ্ঞানী আর কে অজ্ঞানী, সেইটা যেই নির্ধারণ করুক না কেন।

আপনি এক প্রসঙ্গের মন্তব্যে আরেক প্রসঙ্গের মন্তব্য জোড়াতালি দিয়া তো কেইস বানাইতে পারবেন না। যাই হোক আপনাকে অনুরোধ করছিলাম স্পেসিফিক প্রশ্ন এবং উত্তর হাজির করতে। করলেন না তো।

বুদ্ধি থাকলেই না সেইটারে মুক্ত করব। আমার কি সেইটা আছে? সবার তো থাকে না।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

স্পর্শ এর ছবি

মন্তবান্তরে আপনার বক্তব্যের 'ইনকনসিস্টেন্সি'গুলো দেখাতে চেয়েছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সাফি এর ছবি

After liberation, Hasina's involvement in politics was minimal as Sheikh Kamal, her brother, was touted as Mujib's successor.

[সূত্র]

ইতিহাস জ্ঞান কম বলে আরেকবার উইকির দ্বারস্থ হইলাম। এইটা পড়ে যা বুজঝি শেখ হাসিনা পৈত্রিক বিবেচনায় দলের নেত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন রাজনীতিতে ওনার সক্রিয়তার বিবেচনায় না। ভুল বুঝলে ধরায়ে দিয়েন। আশা করি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে তখন যোগ্য নেতার এতটাই অভাব ছিলনা যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণের ছায়ায় তারা হারায়ে গেছিলেন, এইটা আমার মত। ভিন্নমত তো থাকতেই পারে। তবে আমি অনেককেই দেখছি শেখ হাসিনার নাম শুনলেই শ্বেতশ্রাব হয়। সেইটা কী সূত্রে তা আমার জানা নেই।

৩০ বছর ধরে বৃহৎ কোনো রাজনৈতিক দলকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য পৈত্রিকসূত্র কোনো কাজে লাগে না, এইটা আমার মত।

খালেদা বেওয়া খুশী হবেন।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

১. আওয়ামীলীগ যেইটা করছে সেইটা আওয়ামীলীগ নিজেদের মতন বুইঝাই করছে নিশ্চয়ই। যারা আওয়ামীলীগ করছেন তারাই বলতে পারবে। তারা উইকিপিডিয়া পইড়া পলিটিকিস করে নাই, কারণ সেই সময় ঐটা ছিল না। কিন্তু নেতা সেই যে ফাইনালি নেতা হইতে পারে, এইটাই আমি মনে করি।

২. খালেদা জিয়াও পরীক্ষিত পলিটিকাল লিডার। আমার কোনো সন্দেহ নাই।

আপনার আর কোনো মন্তব্যকে আমি এন্টারটেইন করতে পারতেছি না আপাতত। ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

হাসান মোরশেদ এর ছবি

আশা করি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে তখন যোগ্য নেতার এতটাই অভাব ছিলনা যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণের ছায়ায় তারা হারায়ে গেছিলেন

অভাব ছিলো। বংগবন্ধু সপরিবারে নিহত, নিহত চার প্রধান নেতা, আব্দুস সামাদ আজাদ সহ অন্যতম রা কারাগারে- বাকীদের কেউ ভয়ে, কেউ লোভে সামরিক সরকারের সহচর হয়েছেন বাকীরা লিপ্ত কোন্দলে। তখন আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের জন্য একটা প্রতীক প্রয়োজন ছিলো, সেই প্রতীক শেখ হাসিনা- কারো পছন্দ হোক বা না হোক এটাই ঐতিহাসিক ভাবে প্রমানিত সত্য।
উইকি ঘেঁটে নিজের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে কথা বলা বেশ কষ্টসাধ্য বিষয়, আপনি এই কষ্টটা করছেন।

আমি অনেককেই দেখছি শেখ হাসিনার নাম শুনলেই শ্বেতশ্রাব হয়।

এই বাক্যটি শ্লীল নয়।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

সাফি এর ছবি

তখন আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের জন্য একটা প্রতীক প্রয়োজন ছিলো, সেই প্রতীক শেখ হাসিনা

সেই প্রতীক হওয়ার পিছে যদি শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা এই বিবেচনা কাজ করে, পৈত্রিক সূত্রের কথাটা সেখানেই আসে। সেটা নিয়ে কথা বলতে গেলে ইতিহাস জ্ঞান নিয়া টান পড়ে যায়, সেকারণে উইকিকে টানা লাগে। আমার ইতিহাস জ্ঞান নিয়া টানাটানিটা সোজা, উইকির গ্রহণযোগ্যতা নিয়া না।

বাক্যটি শ্লীল নয়।

অশ্লীল বাক্য পড়তে হলো বলে দুঃখিত, অনিন্দ্যর মন্তব্যের জবাবে এটা আমার প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। হয়ত, "অ্যালার্জেনের সাক্ষাৎ পেয়ে এন্টিবডি রিঅ্যাক্ট করছে"।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

ইতিহাস জ্ঞান নিয়ে টান পড়ে এই কারনে যে, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মৃত আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের জন্য শেখ হাসিনা যে অবিকল্প ছিলেন সেটি উইকিতে কেউ এন্ট্রি দেয়নি, উইকিতে কাউকে এন্ট্রি দিতে হয় কিন্তু রাজনীতির ইতিহাস কারো এন্ট্রির ধার ধারেনা। কেউ এন্ট্রি দেয়নি বলে আপনার পড়া হয়নি, জানা হয়নি। শুধু উইকিতে আটকে না থেকে মাঠের রাজনীতির ইতিহাসটা কিছু জানলে এই সমস্যা হতোনা।

অশ্লীল বাক্য পড়তে হলো বলে দুঃখিত,

আমাকে পড়তে হলো বলে নয়, আপনি অশ্লীল বাক্য লিখেছেন বলে আপনার দুঃখিত হওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু অশ্লীলতার সপক্ষে ও যেহেতু চুক্তির ছাতা মেলে ধরেছেন তাই এটা আশা করার কিছু নেই।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

মন্তব্য লাফায় মন খারাপ

স্পর্শ এর ছবি

@আনন্দী কল্যান

হ্যা টার্গট অডিয়েন্স অবশ্যই লেখক/বক্তা নির্ধারণ করেন। অনেক সময় টার্গেটের বাইরে হিট হয়। কিন্তু একটা টার্গেট না নিয়ে কেউ 'প্রকাশের উদ্দেশ্যে' লেখেনা। ব্যক্তিগত ডায়েরী লেখার কথা এখানে আসছে না।
লেখক বলেছেন-

টার্গেট অডিয়েন্স নিশ্চয়ই আমার মাথায় একটা ঠিক করা আছে। আপাতত টার্গেট অডিয়েন্স বিষয়ে এর বেশি আপনাকে কিছু জানাইতে পারতেছি না, দুঃখিত।

আর আপনিও যে ইকুয়েশন গঠন করেছেন। সেটা ভুল।

আমাদের দেশে একটা কালচার আছে। কিছু একটা না বুঝলে, চুপ করে থাকা। আমি অনিন্দ্যদার এই লেখাটা বুঝিনি। স্পষ্ট করে বলেছি বুঝিনি। এবং কেন বুঝিনি সেটাও বলেছি - রাইসু স্টাইলের লেখা।

এই ফিডব্যাক আশাকরি লেখকের কাজে লাগবে। না বুঝে এই লেখায় 'জাঝা' মেরে যেতে দেখেছি অনেককে। আমি সেই ধরনের লোক না।

এবং হ্যা আমি বুঝিনি সেখানে ব্যর্থতার দায় আমারও আছে।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

না বুঝে এই লেখায় 'জাঝা' মেরে যেতে দেখেছি অনেককে।

রাতঃস্মরণীয়, মাহবুব লীলেন আমার লেখাটার একেকজন পাঠক। আমার পোস্টে তাকে এবং 'অনেককে' অপমানের গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা থেকে বিরত থাকলে ভাল্লাগত।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

স্পর্শ এর ছবি

আমার যখন মনে হয় 'কেউ' একটা জিনিশ ঠিকমত বোঝেনি। এবং সেটা সরাসরি তাকে বলি যে 'তুমি এইটা বোঝোনি' এতে তাকে অপমান করা হবে কেন?

হয়তো সে বুঝেছে। সেক্ষেত্রে আমার নিজের বোঝার ভুলই সে ধরিয়ে দেবে। অথবা সে বোঝেনি তখন আমি ধরিয়ে দেব। অথবা আমরা কেউই বুঝিনি। সেক্ষেত্রে অন্যকেও।

এভাবেই শেখার চেষ্টাকরি সবকিছু। আমার শেখার পদ্ধতিতে ভুল নেই বোধ হয়।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

হুমমম ... তাইলে 'বোঝোনি' আরা 'না বুইঝা জাঝা মারা'র মধ্যে তফাৎ নাই ...


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

স্পর্শ এর ছবি

এই তো বুঝসেন। তফাৎ নাই। হাসি

কেউ যদি অলরেডি জাঝা মেরে থাকে। আর তাকে যদি কেউ বলে 'বোঝেননাই'। তারমানে তারে এইটাও বলা যে 'না বুইঝা জাঝা মারসেন'। ভাইসি ভার্সা...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

নীলকান্ত এর ছবি

সবাই যে একই জিনিস একভাবেই বুঝবে তার কোন কথা নাই।


অলস সময়

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

রাইটিং ক্লাসগুলিতে শেখানো "টার্গেট অডিয়েন্স" মাথায় রেখে লিখতে হবে, এই বাক্যে আমার আস্থা নেই। টেকনিক্যাল/ কর্পোরেট লেখালেখির ক্ষেত্রে এটা কাজে দেয়, কিন্তু ব্যবসা আর বিজ্ঞানই তো দুনিয়ার সব না। এর বাইরে যা লেখালেখি সেখানে এই "টার্গেট অডিয়েন্স" সূত্র খুব একটা কাজে দেয় কি?

আর আমি কোন ইকুয়েশন গঠন করিনাই, আমার মন্তব্যে আমি "মনে হয়", "হয়তো" ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করেছি, যা সংশয়/দ্বিধা বোঝায়, সূত্র না।

এবং হ্যা আমি বুঝিনি সেখানে ব্যর্থতার দায় আমারও আছে।

এই বাক্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

স্পর্শ-র প্রশ্ন আমারও। ঠিক বুঝিনি, আপনি কি বলতে চাইলেন, হাইকোর্ট-এর স্বপ্রনোদিত হয়ে রুল জারি করা ঠিক আছে নাকি ঠিক নেই?

ব্রেনডান সাহেবের কথাটাও ঠিক মালুম হলো না। তিনি কি বলছেন, আমি না চাইলেও কিছু কিছু বিষয়ে আমাকে অসন্তুষ্ট হতেই হবে, কারণ সেটা না হবার অধিকার আমার নেই?

ক'দিন আগে কুলদা রায়ের পোস্টে অভিজিৎ রায়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে কথা উঠেছিলো। তখন মন্তব্যকারীরা এরকম বলেছিলেন যে ফেসবুকের স্ট্যাটাস ব্যক্তিগত আলোচনার মধ্যে পড়ে। আমি আমার ঘরের মধ্যে বসে অনেক কিছুই বলতে পারি, আমার কাছের লোকজনদের সাথে শেয়ার করতে পারি - সেজন্য আমাকে হাইকোর্ট দেখানো যায় কি?

একজন সাধারণ নাগরিকের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে হাইকোর্টের স্বপ্রনোদনা পাওয়াটা আমার কাছে একটু হাস্যকরই মনে হয়। কেন যেন এ প্রসঙ্গে রুয়েটের ছাত্রদের ফেসবুক গ্রুপ উদ্বোধন এবং সে সংক্রান্ত পত্রিকার রিপোর্টের কথা মনে হয়ে যায়।

বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও কোর্ট কোন কোন ক্ষেত্রে স্বপ্রনোদিত হবে তার নিশ্চয়ই কিছু গাইডলাইন আছে? নাকি? মানে পুলিশ জনতাকে দিয়ে পিটিয়ে কিশোরকে মেরে ফেল্লে, অথবা, রাষ্ট্রপতি একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী খুনীকে ক্ষমা করে দিলে - এসব ক্ষেত্রে তার জাতীয়-আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ইমপ্যাক্ট নিশ্চয়ই একজনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের বানীর চেয়ে বেশি। তখন কোর্ট নড়ে-চরে বসে না কেন? সেইজন্য কি কোর্টকে দায়ী করে কোর্টের বিরুদ্ধে কোর্টে কেইস করা যাবে?

জানি না, হয়তো লেখাটার উদ্দেশ্য ভুল বুঝেছি, আপনার আলোচনার উদ্দেশ্য হয়তো এগুলো ছিলো না।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

দীর্ঘ কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ। প্যারা ধরে জবাব দেয়ার চেষ্ট করি।

১. আমি এই বিষয়ে কিছুই বলতে চাই নাই।

২. ব্রেনডান সাহেব বলছেন, মুক্ত সমাজে এমন কোনো অধিকারের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া যাবে না, যার মাধ্যমে আপনি নিজেকে অফেন্ড হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবেন। এইটা তার লিবারটানিয়ান অবস্থান। আমার অবস্থান আরেকটু ডাইনে।

৩. ফেইসবুক এসে পাবলিক এবং প্রাইভেট স্ফিয়ারের পুরাতন দেয়াল নড়বড়ে করে দিছে। এইটা আমার মত। এমনিতে ঘরের মধ্যে যেই কথা বলি বাইরেও সেই কথা বলতে না পারা হিপক্রেসি, আমার মতে। কিন্তু না বলার অধিকার তো অবশ্যই আছে। বর্তমান পোস্টের ৩ নম্বর সেকশনে একটু চেষ্টা করছি বিষয়টা নিয়া বলতে।

রায় বনাম রায় মামলা নিয়া মুখ খুলব না ভাবছিলাম। তারপরও বলি। ধরেন আপনি ঘরের মধ্যে চারজনকে একটা কথা বললেন। আপনি তাদেরকে সবাইকে নিশ্চয়ই মাথার দিব্যি দেন নাই এই বইলা যে এই কথা ঘরে মজুদ নাই এমন কাউকেই কখনো বলা যাবে না? ধরি মাথার দিব্যি দেন নাই। দিলে অন্য কথা। এখন সেই কথা 'বাইরের' লোকে আলোচনা করলে না সেইটা ঠেকানো যায়, না সেইটা ঠেকানো উচিৎ।

৪. আইনের কাছে ফেইসবুক নবীন। আইন এখনও বুঝতে পারতেছে না সে ফেইসবুকের সাথে কী ভাষায় কথা বলবে। এইটা এই পোস্টেরও বিষয়। ৪ নম্বর সেকশনে আলোচনার চেষ্টা করলাম।

৫. এই জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিও ব্যবস্থা নিতে পারেন। সংসদেরও শর্তপূরণ সাপেক্ষে অভিশংসনের ক্ষমতা থাকার কথা। জনপ্রতিনিধিরাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। জনপ্রতিনিধিরাই আইনপ্রণেতা। তাদের কাজকারবার পছন্দ না হইলে জনপ্রতিনিধি (ক) বদলানো যায়, (খ) নিজেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার চেষ্টা করা যায়। আমার গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় এর বাইরে কোনো উপায় নাই। (ভারতে একটা প্রাসঙ্গিক বিল পাশ হইছে। Judicial Standards and Accountability Bill। সেই দেশের বিচারকদের কেউ কেউ খুশি না।)

এছাড়াও নিজে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার চেষ্টা করে দেখা যায়। এই জন্য হয় সুপ্রিম কোর্টে অন্তত এক দশক ওকালতি করতে হবে অথবা বাংলাদেশের যেকোনো বিচারিক আদালতে অন্তত একদশক বিচারক হিসাবের কাজ করতে হবে।

৫. আলোচনা আমার উদ্দেশ্য মোতাবিকই চলবে এমনটা আমি নিশ্চয়ই আশা করতে পারি না। সংশ্লিষ্ট অথচ বিচিত্র আলোচনা তো হওয়াই দরকার।

অনেক ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নৈষাদ এর ছবি

যুধিষ্ঠির ভাইয়ের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কয়েকটা কথাঃ

১। অভিজিৎ রায়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে কুলদা রায়ের পোস্টটা পড়েছিলাম এবং মন্তব্যও অনুসরণ করেছি ফেসবুক পর্যন্ত। স্বীকার করি কোন ইস্যু থাকলে সেখানেই বলা উচিত ছিল, কিন্তু যেহেতু ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেইজন্য বলি, ‘ফেসবুকের স্ট্যাটাস ব্যক্তিগত আলোচনার মধ্যে পড়ে’ – কথাটার মানে আমি বুঝিনি। ৭ নং প্যারায় অনিন্দ্যের দেয়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় যে কোন ব্যাক্তিগত স্ট্যাটাসই আর ব্যাক্তিগত থাকে না যখন...(শর্তাবলী দ্রষ্টব্য)। (খুব খেয়াল করে, আমি হাসিনা সংশ্লিষ্ট ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে আদালতের অভিমতের পক্ষে বিপক্ষে কিছু বলছি না)। আমি জানি না আমেরিকায় বসে ইংরেজিত ‘আমেরিকার সংবিধানকে ...ইয়ে করি’ ব্যাক্তিগত স্ট্যাটাস হিসাবে দেয়া সম্ভব কিনা? কিংবা যুক্তরাজ্যে বসে ইংরেজিতে ‘রানির মায়ের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে স্ট্যাটাস দেয়া যাবে কিনা?’ এতটুকু জানি এশিয়ায় ইস্ট কিংবা ফার-ইস্টে সম্ভব না।

২। আমারও জানতে ইচ্ছে হয় বিচার বিভাগ কোন কোন ক্ষেত্রে স্বপ্রনোদিত হবে তার কোনো গাইডলাইন আছে কিনা? কিছু কিছু ব্যাখ্যা নিজেই দাঁড়া করাই। যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা রুমানা মঞ্জুরের স্বামী গ্রেফতার হতে দেড়ি হওয়ায় আদালত স্বপ্রনোদিত হয়ে আদেশ দেয়, কিংবা লিমনের কেইসে। এখানে মূল দায়িত্ব এক্সিকিউটিভের, গাফিলতি দেখে হয়ত আদালত স্বপ্রনোদিত হয়ে আদেশ দেয়। কিংবা ধরুন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পাঁচ বছরের খরচের হিসাব দাখিল করতে বলা (জনগুরুত্বপূর্ন)। আমি নিশ্চিত যে পুলিশ/জনতার পিটিয়ে মেরে ফেলার পর যদি এক্সিকিউটিভের গাফিলতি দেখা যেত, তবে হয়ত স্বপ্রনোদিত হয়ে আদেশ দিত। আমরা নিশ্চয়ই চাই না আদালত এক্সিকিউটিভের/লেজিসলেটিভের সবকিছুতেই হস্তক্ষেপ করুক। সেটাও খারাপ।

(রাষ্ট্রপতির ব্যাপারটা জানি না, এখানে আরেকটা জিনিস জানতে ইচ্ছে হয়, রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধিতা কি আদালত করতে পারে, নাকি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে যেতে হয়)

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

২ বিষয়ে বলি, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে এখনকার সরকারকে আমার সিরিয়াসই মনে হইছে। সংসদে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) বিল-২০১১ পাশ হওয়ার পর, সাধারণ মানুষের পক্ষে নিজের জায়গা থেকে তথ্য দিয়ে মামলায় সাহায্য করা সহজ হয়। জনস্বার্থের মামলায় উইটনেস প্রটেকশন খুব জরুরি।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

অর্ফিয়াস এর ছবি

একজন অচেনা মানুষের ফেসবুক স্টেটাস দেখে হাইকোর্ট এর স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করাটা কিছু প্রশ্নের উদ্রেক করে বৈকি, আইনি দিক থেকে সামাজিক যোগাযোগের সাইট গুলোতে চলা কথা/বার্তাকে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায় সেটা তো বুঝলাম, কিন্তু তার সাথে এটাও তো প্রশ্ন থেকে যায় যে আমাদের বিচার ব্যাবস্থা যদি এতই সক্রিয় হত তাহলে দেশের অভ্যন্তরীণ অনেক ঘটনাই তাদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়াত, কিন্তু তখন তো তাদের মাথা ব্যাথার কোনো কারণ দেখিনা বা তাদের সক্রিয় কোনো ভূমিকা পালন করতে দেখিনা, এখন দেশের যে বিষয়টা নিয়ে মানুষের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে, তা হলো সড়ক দুর্ঘটনা এবং বিনা পরীক্ষায় ড্রাইভিং লাইসেন্স দাওয়া, কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলোতে মহামান্য হাইকোর্ট জনস্বার্থে কতগুলো রুল জারি করেছেন??? অথবা দেশের যোগাযোগ মন্ত্রীকে এরকম অস্বাভাবিক ঘটনার জন্য তলব করেছেন কি??? কারণ দর্শানোর জন্য দেশের সড়ক ও জনপথ বিভাগকে কোনো নোটিশ দাওয়া হয়েছে কি?? আর তাছাড়া বর্তমান বিশ্বে শক্ত আইন মেনে চলা দেশগুলোতেও কি প্রকাশ্যে দেশের নেতাদের মৃত্যুকামনা করে কোনো কথাই বলা হচ্ছেনা?? সেখানে এরকম একটি বিষয়ে দেশের আদালত থেকে কোনো রুল জারি করা হচ্ছে বলে তো ঘটনা চোখে পরছেনা, তাহলে আমাদের দেশে এরকম সময়ে যখন দেশ নানাবিধ সমস্যায় জড়িত তখন সব কিছুকে পিছনে ফেলে এরকম একটা বিষয়ে আইনি প্যাঁচ খেলার এতটা ব্যাকুলতা কি আসলেই সমর্থন যোগ্য???

দেশের কোনো নেতা/নেত্রীকে ভালো লাগাটা একান্তই কারো ব্যাক্তিগত ব্যাপার, এটাতে আসলেই কোনো বিতর্ক নেই, কিন্তু শেখ হাসিনা একজন নেত্রী হিসেবে কতটা সফল তা নিয়ে মনে হয় কিছু বিতর্ক থেকে যায়, তারপরও আমাদের দেশে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব অনেক দিন ধরেই ছিলো এখনো আছে, সেটা নিয়ে তর্ক করে লাভ নেই, কিন্তু হাইকোর্ট এর কথা বলতে যে লেখা তাতে প্রথমেই নেত্রীকে কেন প্রাধান্য দাওয়া হলো ঠিক বুঝলাম না...

অনেক তথ্যবহুল লেখা, তার জন্য ধন্যবাদ..

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

হাইকোর্ট এর কথা বলতে যে লেখা তাতে প্রথমেই নেত্রীকে কেন প্রাধান্য দাওয়া হলো?

- অন্তত এইটা নিশ্চিত করতে যে ফেইসবুকের স্ট্যাটাস দেয়ার স্বাধীনতাকে আমি সমর্থন করি এইটা ভাবতে পারেন, কিন্তু এইটা অবশ্যই যাতে না ভাবেন যে ঐ স্ট্যাটাসের কনটেন্টের প্রতি আমার সমর্থন আছে। এবং পলিটিকস আমার কাছে 'একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার' না। কেউ যদি ব্যক্তিগত ব্যাপার ভাবতে চান, তিনি অবশ্যই সেইটা ভাবতে পারেন। আমি ভাবতে রাজি না।

জনস্বার্থে রিট করার পথ আপনার জন্য কিন্তু সবসময়ই খোলা। হাইকোর্টের সুয়োমটোর আশায় সবসময় বসে থাকলে চলবে কি?

আইনি দিক থেকে সামাজিক যোগাযোগের সাইট গুলোতে চলা কথা/বার্তাকে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়

এই বিষয়টাকে আসলে আমি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। সবে তো শুরু।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

অর্ফিয়াস এর ছবি

কথাটা একজন নাগরিকের, একজন নেতা/নেত্রীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ছিলো সমগ্র রাজনীতি নিয়ে ছিলনা, আর তাই কারো দৃষ্টিভঙ্গি এবং পছন্দ/অপছন্দ একান্তই তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার,তাই লিখেছিলাম, রাজনীতি শুধুমাত্র ব্যাক্তিকেন্দ্রিক নয় সেটা জানি..

কারো স্টেটাস এর কনটেন্ট এর প্রতি আপনার সমর্থন নাই থাকতে পারে এটা স্বাভাবিক কিন্তু লেখার প্রথম অংশ দিয়ে আপনি যে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আপনার সমর্থন জ্ঞাপন করছেন, আশা করি সেটা বুঝতে কারো ভুল হবেনা..

আর যখন একজন সাধারণ মানুষের স্টেটাস কনটেন্ট নিয়ে হাইকোর্ট এর এতো মাথা ব্যাথা হতে পারে, তাহলে জনস্বার্থের বিষয় গুলো নিয়ে যেকোনো একজন ব্যাক্তির আগে তাদের মাথাই ব্যাথা করা উচিত বলে মনে হয়, নাহলে তাদের সকল কার্যক্রম প্রশ্নের উর্ধে থাকেনা, তার সাথে যখন কোনভাবে দেশে সর্বচ্চ আদালতগুলোর কার্যক্রম কোনো একক রাজনৈতিক দলের সমর্থনপুষ্ট হয়ে যায় তখন সমগ্র বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ জনগনের কতটুকু আস্থা থাকে সেটার প্রশ্ন চলে আসে, এর উদাহরণ আমাদের দেশের ইতিহাসে বিরল নয়..

আর আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য অবশ্যই শুধু হাইকোর্ট এর সক্রিয়তা সংক্রান্ত ছিলো, কোনো ব্যাক্তি সক্রিয়তা সংক্রান্ত ছিলনা, আর জনস্বার্থে রিট করার পথ যেমন আমার জন্য খোলা আছে, তেমন ভাবেই যারা রুল জারি করেছেন সমান ভাবে সেই সব বিচারপতি আর আইনজীবিদের জন্যও খোলা আছে, তারাও দেশের জনগনের কাতারে আসেন, কোনো সাধারণ ব্যাক্তি আইনি প্যাচ না বুঝলেও তাদের পেশা যেহেতু আইনি লড়াই, সচেতন জনগণ হিসেবে তাই তারা এই দায় থেকে এড়িয়ে যেতে পারেননা, আর তাদের অতি সচেতনতার উদাহরণ তো তাদের এই রুল তাহলে কি তাদের কার্যক্রম প্রশ্নের বাইরে??

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

অর্ফিয়াস ধন্যবাদ আরও বিশদ করার জন্য। আমি কি আরেকবার বলব? আমি যেটা বলতে চাইছি সেইটা হল যার প্রতি আমার সমর্থন আছে তার বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকারও সংরক্ষণ করতে আমি আগ্রহী। ক্লাসিকালি গণতন্ত্রের স্পিরিটের মধ্যেই এইটা পড়ে তাই না? আইনজীবীদের সক্রিয়তা বিষয়ে আপনার মতের সাথে আমার কিন্তু দূরত্ব নাই। আমি খালি এইটাও বলি, মধ্যবিত্তকেও সক্রিয় হইতে হবে। নালিশ আর অভিসম্পাত দেয়া ছাড়াও সক্রিয় হওয়ার আরো দশটা উপায় খোলা আছে। ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

হাইকোর্ট রুল জারি করছে সেইটার ঠিক-ভুল বাইর করা এই পোস্টের উদ্দেশ্য না। আমি খালি হাইকোর্ট না শুধু সমগ্র আইনব্যবস্থাই ফেইসবুকোত্তর দুনিয়ায় কী পদ্ধতিতে এবং পরিভাষায় কথা বলতেছে সেইটার একটা সংক্ষিপ্ত (এবং অসম্পূর্ণ) হিস্ট্রি দেয়ার চেষ্টা করলাম।

পোস্টটা পড়ে আমার প্রাথমিক ইমপ্রেশন এইটাই মনে হয়েছে, মানে তুমি এই বিষয়ে আলোচনা করতে চাচ্ছ, বা তোমার কাছে ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে। এবং আমিও এই ব্যাপারেই আলোচনা ফলো করতে চাচ্ছি এখানে। ইতিমধ্যেই আমি স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্লগের বাইরের দুই-একজন বন্ধুকে লেখাটা পড়িয়েছি, ঠিক এই ব্যাপারটাতে ফোকাস এনেই। এই বিষয়টা নিয়ে ভাবার জন্যে, এবং এই নতুন দিকটায় দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে তোমাকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আর লেখাটা বেশ যত্ন নিয়ে খেটে লিখেছ মনে হয়েছে।

ফেইসবুক এসে পাবলিক এবং প্রাইভেট স্ফিয়ারের পুরাতন দেয়াল নড়বড়ে করে দিছে। এইটা আমার মত। এমনিতে ঘরের মধ্যে যেই কথা বলি বাইরেও সেই কথা বলতে না পারা হিপক্রেসি, আমার মতে। কিন্তু না বলার অধিকার তো অবশ্যই আছে।

এই কথাটায় আমি কিছুটা একমত, কিছুটা দ্বিমত পোষণ করছি, কারণ আমার মনে হয় ব্যক্তিজীবনে আমি সব আলাপ সবার সাথে করতে আগ্রহী নই, আর আপেক্ষিক প্রেক্ষাপট এইটা অনেকখানি নিয়ন্ত্রণ করে। এ প্রসঙ্গে একটা ব্যাপার মনে রাখা দরকার যে ফেইসবুক কিন্তু প্রতিটা পোস্ট আকিউট কাস্টমাইজেশনের অপশন দিয়ে রাখে, নতুন গুগল প্লাস-ও, কাজেই কে কতটা কী, কাকে বলছে, আর তার প্রেক্ষিতে কেমন প্রতিক্রিয়া পাবে সেটা কিন্তু সে নিজেই নির্ধারণের এখতিয়ার রাখে। যাই হোক, আপাতত ফেসবুকের স্ট্যাটাসের আলোচনা প্রসঙ্গে আলাপ অন্য কোন পোস্টে হবে আশা রাখছি।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

১ম পয়েন্টে ধন্যবাদ।
আর ২য় পয়েন্টে খুব একটা দ্বিমতও নাই আসলে।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নাম নেই এর ছবি

হা হা হা হা হা হা হা... এ লেখার প্রেক্ষিতে এটিই আমার ভাব প্রকাশের উৎকৃষ্ট ভঙ্গি মনে হলো...

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ভঙ্গি ভাল্লাগল। বক্তব্য পাইলে আরেকটু ভাল্লাগত।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

লেনিন এর ছবি

এতো কিছু না খতিয়ে কেবল সহজ কথায় এটুকুই বলা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনভুক্ত শিক্ষক যিনি তিনি কোনো প্রমাণ(evidence) করা যায় এমন কোনোভাবে দেশের সরকার প্রধান মরলোনা কেনো এমন খেদ করেছেন। সুতরাং তিনি ক্ষমতাসীন দলের চোখে গর্হিত অশিষ্ট কাজ করেছেন। হাইকোর্ট কিছু না করতে পারলেও তিনি বরখাস্ত হতে পারেন কেবল এই স্ট্যাটাসের বিষয়ে সবাই গোচরীভূত হবার কারণেই।

অর্থাৎ চায়ের আড্ডাতেও আপনি অফিস বসকে নিয়ে খেদোক্তি করলে তা আপনার শত্রুপক্ষ আপনার বসের কানে মোবাইলে রেকর্ড করে নিয়ে দেখালে যা ঘটবে। এই শিক্ষকের বেলাতেও তাই ঘটবে।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

১৯৭৩ এর অর্ডিনেন্স অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তার 'রাজনৈতিক' মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করে থাকেন। সুতরাং এই স্ট্যাটাসটা 'রাজনৈতিক' এইটা সাব্যস্ত হলেও তাকে বরখাস্ত করার বৈধ হবে না। আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

পাঠক Down Under এর ছবি

অত্যন্ত জটিল একটা লেখা আর বক্তব্য খুব ধোঁয়াটে। বিভিন্ন উদাহরণ টেনে আদালত এর রুল justify করা হয়েছে। সাথে অপ্রাসংগিক ভাবেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কিছু প্রশংসা দেখা গেলো। যাই হোক, সমকালীন আলোচিত এত ঘনাবলির মাঝে এই বিষয় নিয়ে এত লম্বা লেখা কেন যেন দলীয় স্তুতিবাক্যের মতই শুনায়।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ডাউন আন্ডার ভ্রাতা,

১. আমি আদালতের রুল জাস্টিফাই করার চেষ্টা করি নাই। আপনি যদি কষ্ট করে আরেকবার পড়েন তাইলে হয়ত বুঝতে পারবেন। না পারলে, কী আর করা। আমার ব্যর্থতা। কিন্তু, যদি আপনি মনে করেন এই রুল কোনোভাবেই জাস্টিফাই করা যায় না তাইলে কেন মনে করেন সেইটা জানতে আগ্রহী।

২. শেখ হাসিনার বিষয়টা অপ্রাঙ্গিক লাগলে, যদি সেইটা আপনার পাঠক্রিয়াকে বিরক্ত করে থাকে তাইলে মার্জনা করবেন। আমি কেবল এইটা বুঝাইতে চাইছি, শেখ হাসিনার প্রতি আমার মনোভাব ঐ স্ট্যাটাসের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত হইতে পারে। কিন্তু তারপরও, আমি ঐ স্ট্যাটাস দেয়ার 'স্বাধীনতা'কে স্বীকার করি। অর্থাৎ ধরেন, আমি ওমুকের ফ্যান। আর আপনি ওমুকরে গালি দিলেন। আমি আমার গলা টিপা ধরতে যাব না। তাই না?

৩. সমকালীন আলোচিত কোন ঘটনা নিয়া পোস্ট দিব, কোনটা নিয়া দিব না, সেইটা আপনি আমারে ডিকটেট করলে কি বিষয়টা গণতান্ত্রিক হবে?


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

আমার কাছে লেখাটা ভালোই লাগলো। অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। অনেকগুলোর আপনার তরফের উত্তর আপনার সচেষ্ট নীরবতার মাঝখান দিয়েও অবশ্য উঁকিঝুকি দিচ্ছে। আপনার রাজনৈতিক অবলম্বনের পন্থার সাথে বরাবরের মতো আমার পন্থার তফাৎ এখানেও ধরা দিছে যদিও, লেখার বা চিন্তার গভীরতায় কোন কার্পণ্য ঘটে নাই। এইটুকু বিশ্লেষণে আমিও যেতে চাইতাম, স্পষ্টতার নিশ্চয়তাকে বিসর্জন দিয়া। কেবল ‘হাইকোর্টের এমন করা ঠিক হয় নাই’ বা হইছে বললে সেইটা আরেকটা স্ট্যাটাসের চেয়ে বেশি কিছু হইতো না। লেখায় বিশ্লেষণ জরুরি। আপনি আপনার তরফে সেইটা সারলেন।

লেখায় আসি। জনস্বার্থ, জনশৃঙ্খলা আর নিরাপত্তার উপর একটা জোর ব্যক্তি নাগরিকরে বিশ্লেষণের সহিত দেখাইয়া দেয়ানো এই লেখায় লক্ষণীয়। জন ব্যক্তির উপরে। নাকি ব্যক্তি জনের উপরে। এইটাও অনেক পুরনো দার্শনিক প্রশ্ন। এর উপর ভিত্তি করেই সমাজ, ব্যক্তি, সংগঠনের চরিত্র একটু ডাইনে বা একটু বামের দিকে হেলে থাকতে চোখে পড়ে। এগুলো যেহেতু সাংস্কৃতিক ক্যাটাগরি, মানুষের নির্মিত জগতের প্রোডাক্ট, বিজ্ঞান বা গণিত দিয়া এর ঠিকবেঠিক বাইর করার উপায় নাই। বল নিচে পড়ে টাইপের সূত্র নাই। জন আগে না ব্যক্তি আগে, সেই বিষয়ের গাণিতিক সমাধান নাই। সংশ্লিষ্ট সমাজ নিজস্ব মতের ভিত্তিতে এইটার উত্তর সমাধা করবে। নিজেদের খায়েশের উত্তরটাতে স্থিত হবে। তবে বিশ্লেষক হিসেবে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই বিষয়টার পরম সত্যাসত্য না থাকার স্ট্যাটাসটার প্রতি। দিন শেষে জন আগে না ব্যক্তি আগে এই প্রশ্নের একটা ব্যক্তিক দৃষ্টিকোণ বা ভালো লাগা না লাগা আপনার এবং আমার থাকবেই। তবে সেই লাগার যে পরম মূল্য নাই, সেইটা কেবল আমার ‘লাগার’ তেমন একটা ঊর্ধ্বে যে উঠে না, সেইটা হয়তো চাই যে বিশ্লেষণে আসতে থাকুক। সেখানে বিশ্লেষণ হয়তো রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অপরম বিষয়ে পরম অবস্থানের উঁকিঝুকি দেখানোর ঝুঁকি হইতে রক্ষা পায়।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

পরম সত্যাসত্য নাই। কিন্তু চরম সত্যাসত্য আছে। বয়েলিং পয়েন্টের মতন।

পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নীড় সন্ধানী এর ছবি

সকালে এসে পোষ্টা পড়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবো বলে জমিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু দেখলাম মন্তব্যে যা বলা যেতো পোষ্টেই সব বলা হয়ে গেছে। সরকার প্রধানকে পড়াতে ইচ্ছে করে এরকম লেখাগুলো। কিন্তু এসব পড়ে কিছু গাড়ল টিকটিকি।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনার কমেন্ট মিস করলাম মনে হয়।

অট: গাড়িঅলা লোকমাত্রই নাকি গাড়ল? ঢাকা শহরে তো গাড়ি আর গাড়ি (আমিও গাড়িতে চলি)।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নাদির জুনাইদ এর ছবি

যার প্রতি সমর্থন আছে তার বিরুদ্ধে কখনো প্রয়োজন হলে কথা বলা যে গুরুত্বপূর্ণ, এমন বক্তব্যকে গুরুত্ব দেয়াটাও খুব প্রয়োজনীয় মনে করি। এই দিকটির চর্চায় ঘাটতি অবশ্যই কোন শুভ ফল আনতে পারে না।

দায়িত্বশীল কোন মানুষের যে কোন মন্তব্য প্রকাশের ভঙ্গিতেই পরিণত চিন্তার ছাপ থাকা উচিৎ। ফেসবুকের এই স্ট্যাটাসটির মন্তব্যটিকে তাই অপছন্দ করতে হয়।

গণতন্ত্রকে আমি আলো বলে মনে করি। কিছু অন্ধকার কখনো কখনো এই আলোকে ঢেকে দেয়। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ অন্ধকার বয়ে আনার সেই অশুভ দিকগুলিকে চিনতে ব্যর্থ হন কিংবা চিনে নেয়ার পরও চুপচাপ থাকার পথই বেছে নেন, সেই ব্যক্তি এবং ব্যক্তিবর্গের সাথে উজ্জ্বলতার কেবল দূরত্বই বাড়ে। আলো এবং অন্ধকারের ভিন্ন দুটি পথ এতোই স্পষ্ট যে, অন্ধকারকে আলো ভেবে ভুল করা সাজে না কারো। আর বিচক্ষণ ব্যক্তি যাঁরা বহু মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করছেন তাঁদের তো নয়ই।

লেখার জন্য ধন্যবাদ। আপনার লেখা সবসময়ই আগ্রহ নিয়ে পড়ি।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

যার প্রতি সমর্থন আছে তার বিরুদ্ধে কখনো প্রয়োজন হলে কথা বলা যে গুরুত্বপূর্ণ, এমন বক্তব্যকে গুরুত্ব দেয়াটাও খুব প্রয়োজনীয় মনে করি। এই দিকটির চর্চায় ঘাটতি অবশ্যই কোন শুভ ফল আনতে পারে না।

যথার্থ বলছেন।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নুসায়ের এর ছবি

প্রবন্ধটির প্রতি মন্তব্যে পরে আসি। আগে এটি সম্পর্কিত আলোচনা নিয়ে কিছু বলি।

সব লিখার/আলোচনার পরিষ্কার এক বাক্যে সারমর্ম থাকতে হবে এমন নাও হতে পারে। ঈশপের গল্পে এমনটা থাকে বটে। বাস্তব ঘটনাবলীর বহুমুখী নিহিতার্থ (implications) থাকতে পারে। আমার মনে হয়েছে এ প্রবন্ধটিতে ফেসবুক স্ট্যাটাস সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনার আলোকে তেমন কিছু নিহিতার্থই তুলে ধরা হয়েছে।

লেখা প্রসঙ্গে বলি। সোশাল নেটওয়ার্কিং সমগ্র বিশ্বেই নতুন বিষয়। পাশ্চাত্যে এ নিয়ে নিত্তনতুন গবেষণা হয় বলে খবরাখবর পাই। বিষয়বস্তু আগ্রহী পাঠক নেট ঘেটে দেখতে পারেন। সচলের নিয়মিত পাঠক এ বিষয়ে আমার চেয়ে বেশি খবর রাখেন। পৃথিবীর ৭৫ কোটির বেশি মানুষ (ধর্ম-গোত্র-বর্ণ নির্বিশেষে) সোশাল নেটওয়ার্কিঙ্গের সাথে যুক্ত থাকলে এ সংক্রান্ত ঘটনাবলীর বহুমুখী / বহুর্মাত্রিক অর্থ থাকবে, সেটা বিচিত্র নয়। এ বিষয়টি দায়িত্বশীল নাগরিক মাত্রেরই অনুধাবন করা উচিৎ। সব রাস্তা যেমন দিল্লী যায় না, সকল বিষয়ও কেবল বিম্পি-আম্লিগে এসে থামে না।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক/সোশাল নেটওয়ার্কিং/ব্লগিং সাইটে পরিচিত মানুষ-জনের (“ফেসবুক বন্ধু”) কর্মকান্ড দেখে আমার মনে হয়েছে, সেখানে ব্যক্তিগত আর সামাজিক (private আর public) বিষয় গুলির মধ্যের পার্থক্য নিয়ে সবাই ওয়াকিবহাল নন। বাক-স্বাধীনতা আর বকবকানীর স্বাধীনতার মধ্যে বেশ বড় পার্থক্য বিদ্যমান। ‘ক’ কেবল মাত্র ‘খ’ কে যে কথা (বক্তব্য নয়) বলতে পারেন, ‘ক’ সেই একি কথা ‘গ-চন্দ্রবিন্দু’ সকলকে খোলা ময়দানে না’ই বলতে পারেন / বলা উচিৎ না’ই হতে পারে। এম্নিতেই বলা কথা (chit-chat, jibberjabber) সকলের সামনে বক্তব্য-রূপে উপস্থাপিত হলেই আসলে গোল বাধে।

নুসায়ের

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

বিব্লিওগ্রাফির জন্য থ্যাঙ্কস। অন্য একটা কাজে লাগবে।
লাস্টের প্যারাটা নিয়া আরও কিছু কথা আছে। আরেকদিন বলার ইচ্ছা করি।
ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

হাসান মোরশেদ এর ছবি

আমি প্রথম প্যারার সাথে সহমত।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নজমুল আলবাব এর ছবি

আলোচনার ভাষাটা সম্ভবত একটু কঠিনই হয়ে গেলো। অবশ্য আইনগুলো এমন খটমট ভাষায় কথা বলে যে, সেসব নিয়ে বলতে বসলে কখন নিজেই খটমট বকবকানি শুরু করে লোকে, সেটা সে নিজেই বুঝে না। দেঁতো হাসি

প্রথম প্যারাটা এমন যে, দুঃখবোধ বাড়িয়ে দেয়। মহিলা এসব বুঝেন না। একেবারেই না। (নামোল্লেখ না করে এই মন্তব্য করলাম এর উপর কিছু হবেনাতো? কিছু হলে কিন্তু মরে যাবো। এক মাস ধরে বেকার, উকিল ধরার টাকা নাই। আরেকটা ডি লাগাই দেঁতো হাসি )

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

হেহেহে ... এখন তো যেকোনো মহিলাই মামলা করতে পারবে
বাট জোক্স অ্যাপার্ট, আপনার কথার সাথে আমি অনেকটা একমত।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নজমুল আলবাব এর ছবি

পোষ্ট এবং মন্তব্য দুটিতেই উত্তেজনা থাকতে পারে। এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল না হতে পারে কিন্তু খারাপ না। কিন্তু ক্রমেই পোষ্ট রেখে কোনাকোনি মন্তব্য শুরু হয়ে তৎসংক্রান্ত গর্মি শুরু হওয়া ভালো লক্ষণ না। সচলে মডারেশনের মাধ্যমে অনেক পোস্টে কমেন্ট বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এটা বার বার হলে ভালো দেখাবে না। ঠান্ডা মাথায় বিষয় ধরে আলোচনা চলা উত্তম।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়া কি অপরাধ?
কিছু কিছু মন্তব্য পড়ে এরকম মনে হলো। অপরাধ হলে কেউ দয়া করে একটু বুঝিয়ে বলবেন। আমি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সমর্থক, এটা আমার রাজনৈতিক অবস্থান কিন্তু এই অবস্থান আমার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়না সরকারের কোন গনবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধাচারন করতে।
শেখ হাসিনা পৈতৃকসূত্রে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, এটাই কি তার বড় অপরাধ? হাসিনা কি জোর করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হয়েছিলেন না এখনো আছেন? আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কি হাসিনার বদলে অন্য কাউকে এই পদে চেয়েছিলেন? কারো জানা থাকলে জানিয়ে যাবেন।

অনেক অনেক সমস্যা আছে আওয়ামী লীগের, শেখ হাসিনার। কিন্তু আওয়ামী লীগের জন্ম ক্যান্টনমেন্টে না, দীর্ঘ ছয় দশকে কোন একবারের জন্য ও আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেনি। গনতন্ত্রের একেবারে বেসিক এই শর্ত আওয়ামী লীগ পুরন করেছে।

যাদের অস্ত্বিত্ব গনতন্ত্রের জন্য হুমকী, শেখ হাসিনা তাদের জন্য সহযোগী হলে রক্তাক্ত একুশ আগষ্টের জন্ম হতোনা। একুশ আগষ্ট একলা একটা ঘটনা না। দেশ ফেরার পর থেকে এখন পর্যন্ত হাসিনাকে হত্যা করার জন্য কতোবার চেষ্টা হয়েছে সেই তথ্য উইকি ঘেঁটে পাওয়া যাবেনা, এর জন্য দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বাস্তবতা জানতে হবে।

আর একটা বিষয়- পাঠকের বোধগম্যতার দায় লেখকের উপর চাপানো কতোটা যৌক্তিক সেটা ও ভাবা দরকার আছে।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

নীলকান্ত এর ছবি

চলুক

যথার্থ বলেছেন হাসান ভাই। পুরোপুরি একমত।


অলস সময়

নৈষাদ এর ছবি

আরেকটু যোগ করি। আপনি যেমনটি বলেছেন, ‘এটা আমার রাজনৈতিক অবস্থান কিন্তু এই অবস্থান আমার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়না সরকারের কোন গনবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধাচারন করতে’। অথবা কিছুটা অন্যভাবে বললে রাজনীতির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমি সমালোচনা করব, সরব হব, কিন্তু দিনশেষে রাজনীতিকে ফেলে দিতে পারব না (যদিনা ডিক্টেটরশিপ চাই)। একটা জিনিস আমাকে ভাবায় ইদানিং। সোশ্যাল মিডিয়াতে কি আমারা একটা রাজনীতি বিরোধী অবস্থান প্রিচ করতে চাচ্ছি? সারে চার বছর আগে সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেটা করতে চাইছিল ঠিক সেই কথাই কী আমরা বলছি? (বর্তমান টু দিয়ে কিছু হবে না – সুতরাং মাইনাস টু। যোগ্য লোক রাজনীতিতে আনতে হবে – সো নবেল লরিয়ট থেকে হুজির রাজনৈতিক ফ্রন্ট)।

তথাকথিত সিভিল সমাজের সাথে গনতন্ত্রের ইন্টারেশন নিয়েও ভাবার অবকাশ আছে। (কখনও এ বিষয়ে কিছু লিখব)। দিনশেষে সিভিল সমাজের প্রতিনিধিরাও কিন্তু নির্বাচিত না, এবং তাদের কাছে পুরো তথ্য নেই।

আর একটা বিষয়- পাঠকের বোধগম্যতার দায় লেখকের উপর চাপানো কতোটা যৌক্তিক সেটা ও ভাবা দরকার আছে।

অথবা অন্য কোন পাঠকের বোধগম্যতার উপর।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

ঠিক তাই। গনতন্ত্র কোন ইউটোপিয়া নয়, পৃথিবীর কোন দেশই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গনতন্ত্র পেয়ে যায়নি। ট্রায়াল এন্ড এররের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন সর্টকার্ট পথ নাই।
কেউ পিতার বদলে, কেউ স্বামীর বদৌলতে দলীয় প্রধান হয়েছেন- এই সমালোচনাটা আমার কাছে এই দুজনের বিরুদ্ধে তোলা সবচেয়ে দুর্বল অভিযোগ বলে মনে হয়। পিতা বা স্বামীর বদৌলতে দলীয় প্রধান হওয়ার অপরাধে যদি বাতিল করে দিতে হয় তাহলে শুধু হাসিনা-খালেদা নয় পৃথিবীর আরো বেশ কজন নেতাকেই বাতিল করতে হবে।

প্রবল সমালোচনার ঝুঁকি নিয়েই আগের একটা লেখায় বলেছিলাম- বাংলাদেশের গনতন্ত্রের সংগ্রামে হাসিনা-খালেদা দুজন হচ্ছেন সবচেয়ে পরীক্ষিত রানমেট। েদের একজনের শূন্যতা ও যদি তৈরী হয় এই মুহুর্তে, সেটি পূর্ণ হবে আরো ভয়ংকর এলিমেন্টে।

হাসিনা-খালেদার সবচেয়ে পঁচা গনতন্ত্রে ও সমালোচনার/ কথা বলার যে স্বাধীনতাটুকু আছে, '৭৫ থেকে '৯০ এর সামরিক শাসনে তার সামান্যটুকু ও ছিলোনা- সম্ভবতঃ অনেকের সেটা জানাই নেই।

আমি নিজে সমালোচনা, প্রতিবাদ এমনকি প্রতিরোধে আছি কিন্তু হতাশায়, ইউটোপিয়ায় নেই

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

সাফি এর ছবি

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়া কি অপরাধ?

না

শেখ হাসিনা পৈতৃকসূত্রে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, এটাই কি তার বড় অপরাধ?

না

শেখ হাসিনা পৈতৃকসূত্রে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হয়েছিলেন, এই কথা আপনি মানলেও অনেকেরই অন্যরকম ধারণা। সেটা নিয়ে কথা বলতে গেলে কেউ যদি আওয়ামী/হাসিনা বিরোধী ইতিহাসজ্ঞানহীন বানায় দেয় সেটার প্রতিবাদ না করে উপায় থাকেনা।

পাঠকের বোধগম্যতার দায় লেখকের উপর চাপানো কতোটা যৌক্তিক সেটা ও ভাবা দরকার আছে।

পাঠকের বোধগম্য না হলে ইন্টারএকশন আসবে কোথা থেকে? পাঠক নিজের মতন পড়ে সেখান থেকে সিদ্ধান্তে আসবে সেটাই স্বাভাবিক - লেখকের বক্তব্যের সাথে ইনলাইন না হলে মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানে আসার চেষ্টা করবে। আপনি নিজেও কিন্তু কিছু কিছু মন্তব্য পড়ে আপনার কী মনে হয়েছে তার প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেছেন - এই মনে হওয়ার দায় যে মন্তব্য করেছে তার যেমন আছে, তেমনি আপনারও আছে। আমি এমনটাই বুঝি।

মন_মাঝি এর ছবি

১। কতগুলি কীওয়ার্ড পেলাম আপনার উদ্ধৃতিগুলির মধ্যে - নীতি, নৈতিকতা, নীতিভ্রষ্টতা, অশ্লীলতা, শালীনতা, মান, ও সম্ভাবনা। আমার প্রশ্ন, আইনে কি এসব প্রত্যয় বা কনসেপ্টের সুস্পষ্ট, পূর্নাঙ্গ ও দ্ব্যর্থহীন সংজ্ঞা নির্ণয় করে দেয়া আছে ? যদি না থাকে বা অস্পষ্ট-অপূর্ণাংঙ্গ-দ্ব্যর্থবোধকভাবে থাকে, তাহলে এইসব আইনি সংজ্ঞাহীন বা অস্পষ্ট-অপূর্ণাংঙ্গ-দ্ব্যর্থবোধক সংজ্ঞাসম্পন্ন ধোঁয়াটে বিষয়ীগত/সাবযেক্টিভ প্রত্যয়ের ভিত্তিতে তৈরি অন্য আইন কি করে পক্ষপাত-অনুরাগ-বিরাগ ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস-অবিশ্বাস-ভাল লাগা-না লাগা মুক্ত হয়ে নিরপেক্ষ ও নৈর্ব্যক্তিক ভাবে প্রয়োগ করা যাবে ? আর হ্যাঁ, উদ্ধৃতির মধ্যে 'যুক্তি'র কথাও এসেছে। এই বিষয়ীগত সম্প্রত্যয়গুলির ক্ষেত্রে 'যুক্তি'র সংজ্ঞা, চরিত্র, কার্যকারিতা ও এক্তিয়ার কি আইনে নির্ধারণ করে দেয়া আছে ? কারন সেসব নিয়েও তো প্রচুর বিতর্ক ও মতানৈক্য আছে এবং শেষমেশ সেগুলি পুরোপুরি নৈর্ব্যক্তিক থাকতে পারে না (এই পোস্টের কমেন্টেই এর উদাহরন আছে হাসি )।

২। 'ভাবমূর্তি'-তা কি চীজ আজ পর্যন্ত আমি সেটা ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না! এটা খায় না পিন্দে ? বিশেষ করে আমাদের নেতানেতৃরা মাঝেমধ্যে এই ভাবমুর্তি নিয়ে 'গেল গেল' বলে শোরগোল তুলেন। বিয়েম্পি আমলে দেশে ইসলামি সন্ত্রাসবাদের অস্তিত্ত্ব বা সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কে কিছু বললে এটা খুব বেশি হইত। শাহরিয়ার কবির - মুনতাসির মামুনরা এর শিকার হয়েছেন যথেষ্ট। কিন্তু, আইনে এটা কেন থাকবে, বা থাকলে এর আইনি মানে কি ?

আমি আমার মোটা বুদ্ধিতে মোটা দাগে 'মুর্তি'-টা পর্যন্ত নাহয় বুঝলাম। এটা একটা ট্যাঞ্জিবল বা স্পর্শগ্রাহ্য বাস্তব জিনিষ, কোনকিছুর দেহ বা কায়া হতে পারে হয়তো। কিন্তু এর সাথে উড়ে এসে জুড়ে বসা এই অতিরিক্ত 'ভাব' - জিনিষটা কি ?? এটা নিশ্চয়ই চ্যাংড়া পোলাপাইন যখন ইয়ারদোস্তদের বলে - "আব্বে, অত ভাব নিস্‌ না!" - সেরকম নিশ্চয়ই কিছু না ?!! কারন তাহলে এটা নিশ্চয়ই একটা কাম্য বা আদর্শ কিছু হতে পারে না - এর অন্তর্নিহিত অনিবার্য falsity-র কারনেই। 'ভাব নিস্‌ না' কথাটা এর অন্তর্নিহিত মেকিত্বকেই ইন্ডিকেট করে। তাহলে ?

আচ্ছা ধরলাম শব্দটা ইংরেজি image -এর বঙ্গানুবাদ। image মানে তো প্রতিমূর্তি, প্রতিচ্ছবি, প্রতিবিম্ব, ইত্যাদি তাই না ? অনেকটা কায়া বনাম ছায়ার মত, বা এক্ষেত্রে মূর্তির 'ভাবের' মত। তো এই প্রতিমূর্তি বা প্রতিচ্ছবি বা ছায়া যদি মূল বাস্তব কায়া, অর্থাৎ যার image সে - তাকে বা সেটাকে সঠিক ভাবে, সত্য ভাবে প্রতিফলিত বা রিপ্রেজেন্ট না করে, বিকৃত করে, তাহলে কি তাকে সত্যটা ধরিয়ে দেয়া অন্যায় বা অপরাধ হবে ? কিম্বা না দিয়ে বিকৃত, অর্থাৎ মিথ্যা ইমেজটাই প্রমোট বা পোষন করলে সেটা কি আপনার উদ্ধৃত আইনে বারংবার যে 'মিথ্যা'-র বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করা হয়েছে, সেই মিথ্যাচারকেই সাপোর্ট করার মাধ্যমে 'আইন' ও 'নৈতিকতা' - দু'টোকেই, এবং এর উপজাত হিসেবে বৃহত্তর অর্থে 'জনস্বার্থ'কেও -- চরমভাবে লঙ্ঘন ও ভুলুণ্ঠিত করা হবে না ? আমার কি বোঝার কোন ভুল হচ্ছে কোথাও ?

যাইহোক, অতি চমৎকার লেখা হয়েছে। আমার অবুঝ নির্বুদ্ধিতায় লেখাটা অপ্রাঞ্জল মনে হয়নি। সুতরাং না বুঝেই উত্তম জাঝা! দিলাম ! দেঁতো হাসি

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ মন_মাঝি।

১. বিচারকাজে সাবজেক্টিভিটি বিষয়ে আপনি অনেক সিরিয়াস একটা প্রশ্ন উস্কে দিলেন। আপনার কথাগুলাকেই যদি আরেকটু টানি, তাইলে এইটাও কিন্তু বলা যায়, এমনকি যুক্তিও সাবজেক্টিভ।

২. ভাবমূর্তির বিষয়টা একটা লুপহোল। এইটাও কিন্তু পিওর সাবজেক্টিভ জাজমেন্টের উপর নির্ভর করেন।

৩. আপনার উপহার সবিনয়ে গ্রহণ করলাম।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ডিসক্লেইমার: এটা বিশেষ কিছু না। পপি গাইড টাইপের নোট। মূল লেখা প্যারা ধরে ধরে পড়ার পরে পর্লে কিছুটা কাজে দিতে পারে। নাও দিতে পারে। এক ধরনের দুর্বোধ্য-অপচেষ্টার বেশি কিছু না। হাসি

--

প্রথম প্যারা:
শেখ হাসিনার সরাসরি প্রশংসা না হলেও লেখক শেখ হাসিনার গণতান্ত্রিক আচরণের প্রতি কিছুটা হেলে আছেন বোঝা যায়। আওয়ামী লীগ চলে গেলে জামায়াতের তড়পানিতে একটা অন্ধকার যুগ শুরু হবে- এই আশংকা সঠিক।

দ্বিতীয় প্যারা:
হাইকোর্টের কৈফিয়ত চাওয়ার তথ্য।

২.
প্রথম প্যারা:
ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর বক্তব্য। কোনো কিছুকে আইনের আওতায় আনতে চাইলে সেটা পাগলের হলে চলবে না। বক্তব্যের রেফারেন্স দেয়া যেতো।

দ্বিতীয় প্যারা:

ফেসবুকের স্ট্যাটাসের ইতিহাস নিয়ে বক্তব্য। সাম্প্রতিক স্ট্যাটাসের প্রশ্নটা এইরকম: what’s on your mind? এর দুইটা দিক। একটা দিক হলো- মাথার কথা তো লেখাতেই প্রকাশিত। ফলে সেটা আর মাথায় নেই। তখন সেই স্ট্যাটাস রাষ্ট্রের প্রতি অফেন্সিভ হলে আইন কি করতে পারে? দ্বিতীয় দিক হচ্ছে, ফেসবুকে যে কেউ অজ্ঞাত নাম দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে (ধরে নেই, সে বুদ্ধিমান। আইপি অ্যাড্রেস হাইড করে রাখার ব্যাপারটাও তার মাথায় আছে)। তখন ‘হেট ক্যাম্পেইন’ টাইপের কিছুর জন্য আদালত শাস্তির আওতায় কাকে আনবে? অর্থাৎ, আদৌ ফেসবুক স্ট্যাটাস কি আদালতের গণনায় নেয়া যায় কিনা সেই প্রশ্নের সূচনা।

তৃতীয় প্যারা:

তথ্য

৩.
প্রথম প্যারা:
এই সেকশনের দ্বিতীয় প্যারার সূচনা।

দ্বিতীয় প্যারা:
লন্ডনে ফেসবুকের তথ্য দিয়ে আদালতে শাস্তির ঘটনার অল্প বর্ণনা। আরো দুই একটা সাম্প্রতিক ঘটনা টেনে একটা প্রশ্ন আনার চেষ্টা- ব্যক্তিগত তথ্য কখন ব্যক্তিগত থাকে না?

তৃতীয় প্যারা:
ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট হোল্ডার তার স্ট্যাটাসের গন্তব্য সীমাবদ্ধ করতে পারেন। তবে রাষ্ট্র চাইলে সেটা আইনের আশ্রয় নিয়ে জেনে নিতে পারে। রাষ্ট্র কেন ব্যক্তি অধিকার খর্ব করার অধিকার পায়? – এই প্রশ্ন নিয়ে প্যারার সমাপ্তি।

৪.
প্রথম প্যারা:
অবৈধ সমাবেশ আইনের আওতায় পড়ে। ফেসবুকে এক ধরনের ভার্চুয়াল সমাবেশ ঘটে। সেটা ক্ষেত্রবিশেষে রাষ্ট্রের সাপেক্ষে অবৈধও হতে পারে।

দ্বিতীয় প্যারা:
ফেসবুক নবীন। বাংলাদেশের সংবিধান পুরানো। পরষ্পরের ভাষা বুঝতে কিছুটা সমস্যা এখানে আছে। ফলে একে অন্যের ভাষা বোঝা জরুরী। আর ফেসবুকের জিনিস এখন আইনের আওতায় পড়ছে- লন্ডনের ঘটনা তার প্রমাণ।

আমার সংযোজন:

আদালত তো ফেসবুক চেনে না। চেনে পত্রিকা। পত্রিকায় এই খবর চলে এসেছে- একজন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দিয়েছেন। আদালত ফেসবুক নিয়ে ভাবিত নয়। তারা ভাবিত- আইনের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রপ্রধানের প্রকাশ্যে মৃত্যুকামনা অপরাধের আওতায় পড়ে। গণতন্ত্রের অবাধ প্রকাশের দেশগুলোতে সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মৃত্যুকামনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া হলে সেটাও আইনের আওতায় ফেলার চান্স কিন্তু আছে।

তৃতীয় প্যারা:
বাংলাদেশে ফেসবুকের স্ট্যাটাস নিয়ে (পত্রিকার খবরে প্রকাশিত বলে) আদালতের ব্যাখা চাওয়া নতুন। লেখক আশংকা করেছেন- এইরকম ঘটনা আরো ঘটতে পারে।

৫.
প্রথম প্যারা:
প্রশ্ন: রাষ্ট্র কেন মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করার অধিকার পায়?

দ্বিতীয় প্যারা:
রাষ্ট্র নাগরিককে অধিকার দেয়। কিন্তু জনস্বার্থবিরোধী ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর কিছু করার অধিকার দেয় না।

তৃতীয় প্যারা:

সংবিধানের ৩৬ ধারার অনুচ্ছেদ। জমায়েত অবৈধ নয়। তবে জনস্বার্থবিরোধী কিংবা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হওয়া চলবে না। গিয়ানজাম পাকালেই আইন চিপা দিয়া ধরবে।

৬.
প্রথম প্যারা:
সংবিধানের ৩৬ ধারার আরো ব্যাখ্যা। নাগরিকের অধিকার আছে, কিন্তু সেটার পেছনে রাষ্ট্রবিরোধী হবে না টাইপ কিছু শর্ত প্রযোজ্য আছে। জাতিসংঘও এই শর্ত প্রয়োগের বাইরে নয় বলে লেখক উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয় প্যারা:
নতুন আইনের খবর।

তৃতীয় প্যারা:

৫৭ ধারার বিবরণ।

চতুর্থ প্যারা:

৫৭ ধারায় শাস্তি হয়েছে কিনা লেখকের জানা নেই। স্বীকারোক্তি।

৭.
প্রথম প্যারা:
৫৭ ধারার (১) কে ভেঙ্গে লেখা।

দ্বিতীয় প্যারা:
৫৭ ধারার কন্টেন্টকে প্রশ্ন করার চেষ্টা। ফেসবুকে প্রতিদিন লাখ লাখ রাষ্ট্রবিরোধী স্ট্যাটাস জমা পড়লে বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগের কি সেই সামর্থ্য আছে- সবাইকে আইনের আওতায় আনা?

আমার সংযোজন:
আদালত এখানে ফেসবুকে প্রত্যেকের স্ট্যাটাস রাষ্ট্রবিরোধী কিনা সেটা নিয়ে আদৌ ভাবিত নয়। স্ট্যাটাসের খবর সংবাদপত্রে ছাপানো ও আর সেটা আইনের আওতায় প্রশ্নবিদ্ধ কিনা সেটা নিয়ে তারা ভাবিত। লন্ডনের ঘটনার সাথে এখানে কিছুটা ভিন্নতা আছে।

তৃতীয় প্যারা:
দ্বিতীয় প্যারার শেষ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন লেখক এই প্যারার শুরুতে। আদালতের সেই ক্ষমতা নাই। ফেসবুকে এতো অজস্র স্ট্যাটাসের বিপরীতে আইনী মোকাবিলায় অক্ষম হয়ে তারা ফেসবুক বন্ধ করে দিতে পারে। একবার দেয়াও হয়েছিল। এগুলি তথ্য বা আশংকা। লেখকের অভিমত না।

৮.
প্রথম প্যারা:
লেখক বলছেন- ৫৭ ধারা আদতে সংবিধানের পুরানো কথাগুলোই নতুনভাবে উচ্চারণ করেছে।

দ্বিতীয় প্যারা:
৪৬ ধারা

তৃতীয় প্যারা:
৪৬ ধারায় বোঝা যায়- জনস্বার্থবিরোধী কিছু হলে এমনকি ফেসবুক বন্ধ করার অধিকার আদালত নিজের হাতে রেখেছে।

৯.
প্রথম প্যারা:
কোনো কিছু পড়ে নীতিভ্রষ্ট হলে দায় কার? উদ্ধুদ্ধকারীর নাকি যারা উদ্ধুদ্ধ হয়েছে তাদের? নাকি দায় ভাগাভাগি হবে। লেখকের প্রশ্ন।

দ্বিতীয় প্যারা:

একটা উদাহরণ। স্ট্যাটাস দিলেই মানুষ হামলে পড়ে অপরাধ করবে- এটা ঠিক না। ব্রেনডালের বক্তব্য দিয়ে প্যারার সমাপ্তি। আদালতের আচরণ নিয়ে লেখকের সন্দেহপোষণ। নেপথ্যে।

তৃতীয় প্যারা:

আবারো ব্রেনডাল।

নোট: শিরোনাম দ্রষ্টব্য। অসন্তুষ্ট হওয়ার অধিকার? শেষে কিন্তু প্রশ্নবোধক।
--
পুরো প্রবন্ধ সম্পর্কে:

প্রথম প্যারায় শেখ হাসিনার ব্যাপারটা আরেকটু নির্লিপ্ত করাই যেতো। এটুকু বাদ্দিলে প্রবন্ধ হিসেবে যথেষ্ট ভালো। দুর্বোধ্য বা গ্রীক কোনোটাই আমার মনে হয় নাই।

এই লেখায় লেখকের নিজস্ব মতামত এসেছে কম। কিছু ঘটনা কিছু ধারা নিয়ে একটা ঘটনাকে দূরে থেকে দেখার চেষ্টা। আর কিছু প্রশ্নের সূচনা। আদালত পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবরকে আমলে নিয়েছে- সেটা জনস্বার্থ বিরোধী দেখে। যারা ফেসবুক ব্যবহার করেন –তাদের কাছে আদালতের এই প্রশ্ন করা চরম হাস্যকর। কারণ ফেসবুকে এতো এতো স্ট্যাটাস ধরতে গেলে আদালতের নাওয়া খাওয়া শিকেয় উঠবে। আদালতের আরো প্রচুর কাজ আছে, ধরে ধরে ফেসবুক স্ট্যাটাস চেক করা ছাগলের মতো কাজ- বলেও অনেকের অভিমত। এখানে একটা ব্যাপার- আদালত ধরে ধরে ফেসবুক স্ট্যাটাস চেক করতে যায় নাই। পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর কিছুটা জনস্বার্থবিরোধী আর আইনের আওতায় পড়ে বলে সেটাকে আমলে নিয়েছে। আদালতের উচিত ছিল ফেসবুক আর তার স্ট্যাটাসের লঘুতা নিয়ে আরো একটু গবেষণা করা। সেটা তারা করেন নাই। লেখক আদালতের আচরণের নেপথ্যের কথাটুকুন বলেছেন। আদালতের কি কর্তব্য সেটা নিয়ে কিছুটা ধারণা নির্দেশ করতে পারতেন। তবে আদালতের ঘটনা আদতে যে লঘু সেটা ৯ নম্বর সেকশনে কিছুটা ধরিয়ে দিয়েছেন।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর কিছুটা জনস্বার্থবিরোধী আর আইনের আওতায় পড়ে বলে সেটাকে আমলে নিয়েছে। আদালতের উচিত ছিল ফেসবুক আর তার স্ট্যাটাসের লঘুতা নিয়ে আরো একটু গবেষণা করা।

মূল্যবান প্রসঙ্গ। এইটা অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার ছিল। ধন্যবাদ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

স্পর্শ এর ছবি

মার্ক্স সাহেবের মূলতত্ত্ব ও তার আলোকে এঙ্গেলস সাহবেরে 'পপিগাইড' পড়ে যেটা বুঝলাম- লেখক বলছেন,

"প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা নামক গণতন্ত্রের পক্ষে উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের অনিষ্ট কামনায়, কামনাকারীর ব্যাপারে সংবিধান ও আইননুসারে হাইকোর্ট তলব জারি করতেই পারে। এই ঘটনায় কেউ অসন্তুষ্ট হইলে হবে, কারণ 'অসন্তুষ্ট না হওয়ার অধিকার' কারো নাই।"


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হাসান মোরশেদ এর ছবি

মার্ক্স সাহেবের মূলতত্ত্ব ও তার আলোকে এঙ্গেলস সাহবেরে 'পপিগাইড' পড়ে যেটা বুঝলাম-

প্রিয় স্পর্শ, এটা কিন্তু সহসচলদ্বয়ের প্রতি কটাক্ষ হয়ে গেলো। তর্ক-বিতর্ক-উত্তেজনা হোক, কিন্তু কটাক্ষ-অশ্লীল বাক্য চয়ন যে এখানে মানায়না সেটা পুরনো সচল হিসেবে আপনার মনে না থাকার কথা নয়।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

স্পর্শ এর ছবি

প্রিয় হাসান মোরশেদ,

১। একটাও অশ্লীল বাক্য চয়ন করিনি।

২। 'মার্ক্স-এঙ্গেলস' ব্যাপারটা একটা জোক ছিলো (যেখানে অ্যানালজিটা হচ্ছে 'ফান'পার্ট)। নেক্সট টাইম জোক করার আগে বলে নেব। আর আলোচনায় 'পপিগাইড' আমি আনিনি।

৩। আর শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্রের পক্ষে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র মনে করবেন। তার বিপরীতে হাজারটা কারণ থাকার পরেও আপনাদের মানসে সেই ঔজ্জ্বল্য একটুও ম্লান হবে না। এমতাবস্থায় মৃদু কটাক্ষ কিন্তু আসতেই পারে। সে পুরোনো সচল থেকে হোক, বা নতুন পাঠক থেকে। আমি বরং কটাক্ষ না করে আমার নিচের মন্তব্যে মতামত প্রকাশ করেছি। কিন্তু সেখানে রহস্যজনক নীরবতা লক্ষ্য করছি নক্ষত্রবাদীদের কাছ থেকে।

আবারো প্রশ্ন করি, আসলেই কি শেখহাসিনাকে গণতন্ত্রের পক্ষে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র মনে করেন?


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হাসান মোরশেদ এর ছবি

১। আপনি অনিন্দ্য- শুভাশিষকে 'মার্ক্স', এঙ্গেলস' বলে কটাক্ষ করেছেন, আরেকজন অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করেছেন- উপরে দেখুন।
৩। হাসিনা এবং খালেদা দুজনের হাত ধরেই বাংলাদেশেই গনতন্ত্র এসেছে, প্রচলিত গনতন্ত্রের মৌলিক শর্ত 'নিয়মিত নির্বাচন' দুজনের হাত ধরেই চলছে- বাংলাদেশের বাস্তবতায় আর কেউ এই চর্চা চালু রাখেনি- সবধরনের সমালোচনার পর ও এই সত্য মানতে আপত্তি নেই আমার।

তর্ক বিতর্কে কোন পক্ষ নিজেকে আক্রান্ত মনে করলে মডারেটরের দৃষ্টি আকর্ষন করতেই পারে।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

মডারেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

স্পর্শ এর ছবি

আপনার সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কখনো আপনি 'আপত্তি বোতাম খুঁজে বেড়াচ্ছেন' বলে ঘোষণা দেবেন, কখনো লঘুকারণে 'মডারেটর ডাকাডাকি' করবেন।
ব্লগে ভিন্নমত নিয়ে বিতর্কে, তিক্ততা এসে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা তো স্কুলকিড না। প্রথমে যাকে দায়ী মনে করছেন তাকেই 'কারণ দর্শিয়ে' নিন না হয় এক দফা।

আবার যেমন ধরেন আপনি আমাদের আলোচনায় একটা 'রেস্ট্রিক্টেড' মন্তব্য করেছেন। যেটার কন্টেন্ট নিয়ে আমার আপত্তি আছে। কই? নালিশ দেইনিতো কারো কাছে!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

স্পর্শ এর ছবি

ওদিকে উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের ফ্যান লেখক হতেই পারেন। কিন্তু সেই ঘটনায় অবাক হলে তিনি আহত বোধ করবেন।

যে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র অনায়াসে এরশাদের সাথে হাত মেলাতে পারেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামাতের সাথে জোট গঠন করতে পারেন। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের সাধারন জনগনের মতামত উপেক্ষা করে বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে পারেন। টিপাই মুখ বাঁধ নিয়ে যার তেমন কোনো বক্তব্য নাই। আমাদের ঘাড়ের উপর দিয়ে ট্রাঞ্জিটের বোঝা চাপিয়ে দিলেও তাতে আমাদের কী লাভ সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা যার কাছে নাই... (এই লিস্ট চলতেই থাকবে)
তার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা তিনি একটা দলের নেতৃত্ব প্রায় তিরিশ বছর ধরে রাখতে পেরেছেন। অতয়েব তিনি মহান গণতান্ত্রিক নেতা। সেই দলের নিজেদের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা হয় কিনা সে বিষয়ে কারো মাথাব্যাথা নাই। পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক বড় বড় 'ব্লাক হোল' ও যে অনেক বড় বড় জনগোষ্টীর/দলের নেতৃত্ব দীর্ঘ সময় ধরে কুক্ষিগত করে রেখেছিলো তাতেও কিছু আসে যায় না। তুমি পেরেছো তাই তুমিই মহান নক্ষত্র...
আর হ্যা, আমরা তো এমন এক দলের কথা বলছি যারা 'বাকশআল' নামক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। ...

এসব সত্ত্বেও, অবাক হওয়া যাবে না। অবশ্য অবাক হওয়ার অধিকার, বা না হওয়ার অধিকার পাঠকের আছে কি নেই, সে বিষয়ে এই লেখায় তেমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সে ব্যাপারে আরেকটি সুলিখিত পপি গাইডের অপেক্ষায় রইলাম।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

নজমুল আলবাব এর ছবি

তিতা হয়ে গেল।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।