১৯৫০ এর বরিশাল থেকে ২০০২ গুজরাট,জীবন্ত চোখের উপাখ্যান(১)

তাপস শর্মা এর ছবি
লিখেছেন তাপস শর্মা [অতিথি] (তারিখ: শনি, ১০/০৯/২০১১ - ২:৫৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

“ওরা আমার কথা শুনছে না।”
-এই ছোট উত্তরটি করেছিলেন এই উপমহাদেশের এক মহান নেতা। প্রশ্নকর্তা নেতাজী সুভাষ বোসের দাদা শরত বোস। সময় ১৯৪৭ এর প্রথমার্ধ।
ঠিক কি ছিল প্রশ্নটায়। কাদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল কথা গুলো? অর্থাৎ ‘ওরা’ কারা? এর উত্তর খোঁজার আগে একবার একবিংশ শতাব্দীতে টার্ন করি।

ফেব্রুয়ারি, ২০০২- গুজরাট

জ্বলছে গুজরাট। পুড়ছে ভারত। ভয়ার্ত মানবতা। শ্লোগানে মুখরিত বাতাস, “ জন্মভূমি রাম কা হে”( জন্মভুমি রামের)। তারপর রাশিরাশি দেহের স্থান লাশকাটা ঘরে। যারা মরল তাদের বেশীর ভাগই সংখ্যালঘু মুসলিম। রেশ টানল মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব, খানিকটা পশ্চিম বঙ্গে। কিছু পরিমাণে হিন্দু কাটাও সম্পন্ন হল। রাজ্যগুলির সরকার নিরব দর্শক! টিভিতে সেই সব মর্মান্তিক দৃশ্য, গর্ভবতী মায়ের পেট চিরে ৬ মাসের বাচ্চাকে নিক্ষেপ করা হল আগুনে !! হিন্দু নরখাদকেরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গুজরাটের রাজপথে। আর থাকতে পারলেন না সেন মশায়, সাথে তার গৃহিণী । হ্যাঁ। যাদের কথা বলার জন্য এই লেখার অবতারণা তারা হল এই সেন দম্পতি। আমি তাদের এই নামেই জানি। তাদের নাম আমার জানা নেই। তাই লেখায় তাদের সেন মশায় এবং সেন গৃহিণী বলেই সম্বোধন করব। এই মর্মান্তিক দৃশ্য তাদের নিয়ে গেল আবারো ৫০ বছর পেছনের দিকে। তারপর জন্মভূমির বিচ্ছেদ তাড়নায় দুটি প্রাণের আকুল হাহাকার, আর চোখের জল।

২০০৩, ঢাকা

বন্দরে দাঁড়িয়ে দুটি বৃদ্ধ মুখ। একজনের বয়স প্রায় আশি, অন্যজনের প্রায় সাড়ে তিন কুড়ি। সাথে তাদের ছেলে, ছেলে বউ, তাদের বন্ধুরা। অপেক্ষা, কখন ছাড়বে নৌযান। তারপরই তারা পৌঁছুবে তাদের মায়ের কোলে।

১৯৫০, বরিশাল

বিকেলে শান্তি মিটিং সেরে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলেন সেন মশায়। চারিদিকের অবস্থা ভাল নয়। বাবা বারন করেছিল বোরোনোর জন্য। কিন্তু ২৫ বছরের তাজা তরুণ কি দেশের মধ্যে, নিজের গাঁয়ের মধ্যে ভাই-ভাইয়ের লড়াই দেখতে পারে? তাই সব কিছু উড়িয়ে দিয়ে শান্তি মিটিং এর উদ্দেশ্যে যাওয়া। মিটিং এ আশেপাশের এলাকার সমস্ত অংশের মানুষরা একত্রিত হয়ে শপথ নিলেন, না আমারা হিন্দু-মুসলিম এক। জাতপাতের নামে আমরা হিংসা হতে দেব না। এসেছিলেন কলেজের স্টুডেন্ট সেক্রেটারি মহিউদ্দিন। তার সাথে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনাও করলেন সেন মশাই। বাড়ির সবাই বলছেন, পার্টিশনের পর না গিয়ে কি ভুলটাই না করেছে তারা! সেন মশাই ভাবতে লাগলেন, ৪৭’এর স্বাধীনতা কি ভয়ঙ্কর রঙে রাঙ্গানো। ৪৬’এর ১৬’ই আগস্ট মুসলিম লিগ দাবি করল পৃথক পাকিস্তানের। তারপর? ইতিহাস সবারই জানা। হাজার হাজার লাশ আর লাশ! কলকাতার বদলা নোয়াখালিতে, নোয়াখালির বদলা পাঞ্জাবে... তারপর চলতেই থাকল, চলতেই থাকল ...। ৪৮’এ হত্যা করা হল গান্ধীকে। তারপর আর মানুষের ভরসা রইল না। দলে দলে বাংলাদেশি হিন্দুরা ভিটে মাটি ছেড়ে, নিজেদের সর্বস্ব পেছনে ফেলে পাড়ি জমালেন ভারতের দিকে। সেটাই নাকি তাদের দেশ? অথচ এই বাংলার মাটি ছাড়া তাদের আর কিছুই চেনা নাই। কিন্তু তারপরেও বরিশালের এই সেন পরিবার নিজেদের ভিটে ছেড়ে কোথাও যান নি।

১৯৫০, মার্চ এর সেই ভয়ঙ্কর রাত। কিছুতেই ভুলতে পারেন নি সেন মশাই, কোন দিনও ভুলতে পারেন নি। রাত তখন বেশি নয়। সবাই চুপচাপ, নিঝুম রাতের বুক চিরে হঠাত শোরগোল শোনা গেল। কিসের এই শোরগোল?
না, বলতে হল না। সমবেত শ্লোগান তা বুঝিয়ে দিল- আল্লাহ আকবর - আল্লাহ আকবর - আল্লাহ আকবর। একটু আগে যারা শান্তি মিটিং থেকে ভাই বন্ধু বলে বেরিয়ে গিয়েছিল তারাই বেরিয়েছে হিন্দু কাটতে!! তাদের নেতৃত্বে সেই ছাত্র নেতা মহিউদ্দিন। মাইকে প্রবল হুঙ্কার দেওয়া হচ্ছে, এই দেশ ইসলামীদের দেশ, হিন্দুদের নয়। তাড়াতাড়ি পালাও নইলে............ । ঠিক কি হয়েছিল। মহিউদ্দিনই মাইকে জানিয়ে গেলেন, কলকাতায় আমাদের ভাইদের কাটা হয়েছে, এইবার চুলোয় যাক শান্তি মিটিং, এর বদলা চাই। নিজের বাসায় বসে সেন মশাই চিন্তা করতে লাগলেন। কোথায় কোলকাতায় কি হল, কারা কাকে কাটল? এর খেসারত দিতে হবে তাদের? তারপর এভাবেই কেটে গেল কিছুদিন। রাত হলেই হায়নার দল শিকারে বের হয়। আর বাড়ি গুলিতে মানুষগুলো এই ভেবে বেঁচে থাকে, এই বুঝি প্রানটা গেল। রাতের বেলা জেগে পাহারা দিতে হল হিন্দু বাড়ির পুরুষদের, তখন পাশে ছিল কিছু কাছের মুসলিম বন্ধুরাও।
আর থাকা গেলনা। কতদিন এইভাবে ভয়ে ভয়ে থাকা যায়?

১৯৫০ এর ৩১’মার্চ শেষবারের মত নিজের বাড়িটিকে একবারের জন্য দেখে নিলেন সেন মশাই। কিছুই বুঝতে পারলেন না, শুধু বুঝতে পারলেন বুকটা তার ভীষণ ভাবে ভারি হয়ে গেছে। তারপর খুলনা থেকে ট্রেন সফর। পথের অভিজ্ঞতা ভয়াবহ। অবশেষে নামলেন শেয়ালদা স্টেশনে। কি সেই অমানবিক দৃশ্য! এইগুলি মানুষ না গরু ছাগলের দল। কাতারে কাতারে মানুষ ছুটছে। সব উঠে এসেছে ওপার থেকে। সম্বল বলতে নিজের প্রাণটা। সবার মুখে শ্লোগান – বন্দেমাতরম। তারপরের ইতিহাসও সবার জানা। এই সব প্রাণ হাতে নিয়ে বেঁচে আসা মানুষ গুলিকে স্বাধীন ভারত বরণ করে নেয়নি। মিলেছে সরকারী অবহেলা, রিফিউজির লাঞ্ছনা, নরক ভোগ। হারিয়ে গেল তাদের নিজস্ব ভাষা, কৃষ্টি, সভ্যতা।......তারপর দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দহন চলছে... সেন মশাই এর চোখে জল।
- ঐদিন শেয়ালদা স্টেশনে আরেকটি কিশোরীও নেমেছিল, তার বাবার হাত ধরে। এত ভিড়ের মধ্যে সে খেই হারিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠল। এবং না মা, না বাবা, না দাদা, না বোন, - সে ডেকে উঠল কমলা’দি...............

{-ক্রমশঃ-}

ক্রসব্যাক :

নাইন্টিন ফোরটি সেভেন, আগস্ট ফিফটিন - পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতির টেরেটোরিকে তিন টুকরো করার বন্দোবস্ত করে কাগুজে স্বাধীনতা দিয়ে বিদায় নিল সাদা মানুষেরা।

-------------------------------------------------------
- তাপস শর্মা
সেপ্টেম্বর, ১০,(২.০৩ এ.এম)
আগরতলা


মন্তব্য

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

দেশ বদলের এই জ্বালা লিপিবদ্ধ করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ইমেইল চেক করেন।

 তাপস শর্মা  এর ছবি

ধন্যবাদ মুর্শেদ দাদা।

এই কাহিনিটাকে আমি Deconstruct করছি। আগামী পোস্ট গুলোতে এর খতিয়ান থাকবে।

--------------------------------------------------------------------------

সব অভিমান আকাশের চেনা চেনা
সবার জন্য সুদিন কি আসবেনা
উত্তর চেয়ে আকাশ পেতেছে কান
আমিও বেধেছি আমার প্রেমের গান

অরফিয়াস এর ছবি

কষ্টের অনুভূতিগুলো প্রকাশ হোক, চলুক

হাচলত্বে অভিনন্দন .... হাসি

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

রু (অতিথি) এর ছবি

অসাধারণ লেখা।

তাপস শর্মা এর ছবি

ধন্যবাদ অরফিয়াস।

-------------------------------

কষ্টকে প্রকাশ করতে চাই মানব হৃদয়ের তুলিতে ।

তাপস শর্মা এর ছবি

আপনাকে ধন্যবাদ- রু (অতিথি)

সাই দ এর ছবি

গান্ধী কি অখণ্ড ভারত চেয়েছিল??
রাজনীতিবিদদের জন্যই এই ভারতিয় উপমহাদেশ ভাগ হইয়েছিল। যার খেসারত দিয়েছিল সাধারণ মানুষ...এখনও দিচ্ছে। কখনই জানতে চাওয়া হয়নি সাধারণ আমজনতা কী চেয়েছিল বা চায়...আমার ব্যক্তিগত মতামত ভারতিয় উপমহাদেশ ভাগ হওয়াতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঙ্গালিদের...আর বাংলাদেশের...

তাপস শর্মা এর ছবি


হ্যাঁ। ঠিকই বলেছেন- সাই দ।

রাজনীতিবিদদের জন্যই এই ভারতিয় উপমহাদেশ ভাগ হইয়েছিল। যার খেসারত দিয়েছিল সাধারণ মানুষ...এখনও দিচ্ছে। কখনই জানতে চাওয়া হয়নি সাধারণ আমজনতা কী চেয়েছিল বা চায়...আমার ব্যক্তিগত মতামত ভারতিয় উপমহাদেশ ভাগ হওয়াতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঙ্গালিদের...আর বাংলাদেশের...


আর
গান্ধী কি অখণ্ড ভারত চেয়েছিল?? - এই প্রশ্নের উত্তরে এতটুকুই বলতে পারি তিনি অবিভক্ত ভারত চেয়েছিলেন। কিন্তু ............ ?? ( এই কিন্তুটার উত্তর আমি এই পোস্টটাতেই দিতে চাই। তাই এখানে উত্তর দিতে পারলাম না। আমার এই সিরিজের শেষ পোস্টে আমি গান্ধিকে নিয়ে কথা বলার ইচ্ছে রাখছি । তাই আপনাকে এই প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিত ভাবে এখানে দিলাম না। আশা করি সঙ্গে থাকবেন।

কৌস্তুভ এর ছবি

গান্ধী তো মুখে খুব বলেছিলেন, দেশ ভাগ হলে তা হবে আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে। কিন্তু ৪৭ আসতে আসতে তিনি তাঁর স্নেহধন্য জওহরলাল নেহরুর হাতের পুতুল হয়ে গেছেন। অমন একজন স্বার্থান্বেষী নেতার উপর ভরসা অর্পণ না করে যদি সুভাষকে খানিক স্নেহ করতেন, তাহলে অবস্থা হয়ত এমন হত না। এই নেহরুই পরে কাশ্মীরের খানিকটা যেচে পাকিস্তানকে উপহার দিয়ে এলেন, শোনা যায় শান্তিতে নোবেল পেতে পারেন এই লোভে।

তাপস শর্মা এর ছবি

কৌস্তুভ ভাই

গান্ধী সম্পর্কে তোমার ক্ষোভটা সহজাত এবং স্বাভাবিক। আমি আগামিতে গান্ধীকে নিয়ে একটু খোলামেলা আলোচনায় আসতে চাই।

কিন্তু ৪৭ আসতে আসতে তিনি তাঁর স্নেহধন্য জওহরলাল নেহরুর হাতের পুতুল হয়ে গেছেন।

এই পুতুল হয়ে যাওয়াটা তার সরলতা ছিল দুর্বলটা মোটেই নয়। তাকে বাঁচতে নয় বাঁচাতে হবে তা তিনি জানতেন।

সুভাষের বিষয়টাকে নিয়ে আমি তোমার সাথে টোটাল এগ্রি। এ ব্যাপারে গান্ধী বিরাট বড় ভুল করেছিলেন।

আর কাশ্মীরের প্রসঙ্গটা টোটাল আলাদা। তবে আজ কাশ্মীর যে যায়গায় দাঁড়িয়ে তার মুল অভিযুক্ত নেহেরু। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোজই ঘটে। দেশও তাই চলতে থাকে।

কৌস্তুভ এর ছবি

এগ্রিড। গান্ধী দেশের ভালোর জন্য ভাবতেন, তিনি কল্যাণকামী ছিলেন কিন্তু পলিটিকানল একুমেন তাঁর ছিল না। তাঁর জনশক্তি ছিল, তাঁর কথায় দেশের কোটি কোটি লোক ময়দানে নেমে আসতে পারত, কিন্তু তাদেরকে ঠিক পথে চালিত করার মত বিচক্ষণতা তাঁর ছিল না। হঠাৎ করে আন্দোলন বন্ধ করে দেওয়া তাঁর এই অদক্ষতার একটা নমুনা। তাঁর কথায় চালিত হয়ে সারা দেশের সমর্থন কংগ্রেসের সাথে এসেছিল, কিন্তু কংগ্রেসের কর্ণধার বা স্বাধীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার উপযুক্ত বিচক্ষণ তিনি ছিলেন না। দেশের বৃহত্তম নেতা হিসাবে তাঁর কিছু দক্ষ উপদেষ্টার দরকার ছিল। কিন্তু দেশের দুর্ভাগ্য, তার বদলে তাঁর জুটেছিল (বা তিনি বেছে নিয়েছিলেন) কিছু স্বার্থান্বেষী লোক।

নেহেরু-পটেলদের এই দলের বড় দক্ষতা ছিল, সুভাষ-শ্যামাপ্রসাদ ইত্যাদি ক্ষমতাশালী কিন্তু অন্য পলিটিকাল ধারণার লোকজনদের সফলতার সঙ্গে রাজনীতির আঙিনা থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং জনতার স্মৃতি থেকেও প্রায় মুছে ফেলা।

এবং আরো অনেক ক্ষমতান্বেষী এই দলে এসে জুটেছিল। কামরাজ'কে চেনা আছে নিশ্চয়ই? তার কামরাজ প্ল্যান-কেও? ১৯৬২-৬৩তে যখন নেহেরুর লীডারশিপের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের মধ্যে অনেক অসন্তোষ, কামরাজ দলের সব নেতাদের বলল, ভাইসব, আমাদের আপনি আচরি ধর্ম সবাইকে দেখাতে হবে, তোমরা নেহরু ইত্যাদির পদত্যাগ চাইছ, আসো আমরা সবাইও পদত্যাগ করে আরো গ্রাসরুট স্তরে গিয়ে জনতার সেবা করে দেখাই। সেই কথায় অনেকেই কংগ্রেসের ভারী ভারী পদ থেকে পদত্যাগ করল। কিন্তু করল না নেহরু। আর কামরাজের পদত্যাগপত্রও গ্রহণ না করে বরং তাকে কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট বানিয়ে দিল।

সুভাষের উইকি জীবনীতে তার সাবমেরিনে করে জার্মানি থেকে জাপান যাওয়ার দুঃসাহসিক অভিযানের উল্লেখমাত্র নেই, অবাক হয়ে দেখেছি। এদিকে ইন্টারন্যাশনাল হিস্টরি'র গবেষক আমার এক বন্ধুকে যখন এই তথ্য জানিয়েছিলাম, সে বিশ্বাসই করতে চায়নি যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে অমন সময়ে এই অভাবনীয় জার্নি কারোর পক্ষে করা সম্ভব।

রামচন্দ্র গুহ তাঁর 'মেকারস অফ মডার্ন ইন্ডিয়া'তে সেরা দশ ভারতীয়র তালিকায় কেবল রামমোহন আর রবীন্দ্রনাথকে রেখেছেন, আর বলেছেন যে একজন বাঙালিকে বাড়াতে হলে বিবেকানন্দকে নিতেন, সুভাষকে নয়। সুভাষ-রাসবিহারীর এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে আন্ডারমাইন করে ভারতীয়দের স্মৃতি থেকে প্রায় উপেক্ষিত করে ফেলায় নেহরুদের এই সফলতাকে ঘৃণার সাথে হলেও অ্যাপ্রিশিয়েট করতেই হয়।

দময়ন্তী এর ছবি

কৌস্তুভ,

নেতাজী সেই সময় প্রকাশ্যে আসতে পারলে কিন্তু 'যুদ্ধাপরাধী' হিসাবে ধরা পড়ার একটা চান্স ছিল৷ আর রবার্ট ফিস্কের বইটা পড়তে গিয়েও কিছু অস্বস্তি হয়েছিল যে নেতাজী কি হিটলারের কান্ড কারখানা কিছুই টের পান নি!? হয়ত কোনও আভাস পান নি, কে জানে! কিন্তু তাও অস্বস্তি টা ঠিক যায় না৷

ইতিহাস বড় নির্মম রে ভাই৷

ড: পুরবী রায়ের একটা বই বেরিয়েছে, তাতে বেশ কিছু ডিক্লাসিফায়েড অরিজিনাল ডকুমেন্ট আছে৷ আপাতত মার্কেটে কপি শেষ৷ বইটা যোগাড় করতে পারলে পড়ে দেখো৷

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

কৌস্তুভ এর ছবি

হুম, এই প্রশ্নটা তো অনেকেই করেছেন। তবে সুভাষ সাধারণভাবে বেনিফিট অফ ডাউট পেয়ে থাকেন। তিনি যে হিটলারের কাজকর্মে খুশি ছিলেন না, এটা তো জানা, তবে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন না সেটা সম্ভব। বইখানা আপনি পেয়েছেন? পড়ে জানান না।

যুদ্ধ চলাকালীন নেতাজি দেশে ফিরে আসতেন, এমন অনুমান আমি করছি না। তবে গান্ধী যদি সুভাষের পন্থার এমন বিরোধিতা না করতেন, যদি কংগ্রেসের এবং তার বিশাল অনুগামীদলের সমর্থন তাঁর পেছনে শুরু থেকেই থাকত, তবে পরিস্থিতি অন্যরকম হতেই পারত।

আর যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বন্দী থেকেও দেশে ফিরে যদি মুজিব বাংলাদেশের কর্ণধার হতে পারেন, তবে প্রকাশ্যে এলে এবং যুদ্ধাপরাধী হয়ে বন্দী থাকলেও স্বাধীনতার পর যে সুভাষ বড় দেশনেতার পদ নিতে পারতেন না, তাই বা কি বলা যায়?

ডিসক্লেমার দিয়ে রাখা ভাল, সুভাষ ভারতের জন্য প্যানাসিয়া হতেন এমন আমি মনে করছি না। তবে তিনি অন্তত (শেষ জীবনের) গান্ধীর চেয়ে বেশি প্র্যাকটিকাল আর নেহেরুর চেয়ে কম স্বার্থান্বেষী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী না হলেও, যদি সুভাষ, শ্যামাপ্রসাদ এরা শক্তিশালী বিরোধী দলের নেতা হতেন, নির্বাচনে ক্ষমতা বদল হয়ে এমন কারো হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকত, তাহলেও কংগ্রেসের দীর্ঘ নিরঙ্কুশ শাসনে এমন অবস্থা হত না বলেই মনে করি।

তাপস শর্মা এর ছবি

কৌস্তুভ ভাই
গান্ধী যদি সুভাষের পন্থার বিরোধিতা না করলে আমাদের সুভাষ বোসও একজন পাতি কংগ্রেসি নেতা হয়েই থেকে যেতেন, হয়তোবা। আর হননি বলেই একটা সুভাষ বোস পেলাম।

আর যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বন্দী থেকেও দেশে ফিরে যদি মুজিব বাংলাদেশের কর্ণধার হতে পারেন, তবে প্রকাশ্যে এলে এবং যুদ্ধাপরাধী হয়ে বন্দী থাকলেও স্বাধীনতার পর যে সুভাষ বড় দেশনেতার পদ নিতে পারতেন না, তাই বা কি বলা যায়?

চলুক
এটা ১০০ ভাগ খাঁটি কথা।

নেহেরুদের কথা ছেড়েই দাও। হি ইজ এ ব্লাডী হিপোক্রিট।

পাগল মন এর ছবি

আর যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বন্দী থেকেও দেশে ফিরে যদি মুজিব বাংলাদেশের কর্ণধার হতে পারেন

এ কথাটা ঠিক বুঝিনি। মুজিব বাংলাদেশের কর্ণধার সবসময়ই ছিলেন, যুদ্ধচলাকালীনও উনি দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। সুভাষ কী এরকম কিছু ছিলেন?

মুজিবের সাথে সুভাষের তুলনা করাটা মানতে পারলাম না।

------------------------------------------
হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস
তবুও তো ভাই কারোরই নাই, একটুখানি হুঁশ।

কৌস্তুভ এর ছবি

মুজিবের সাথে সুভাষের তুলনা কোথায় করলাম? দুজনেই কর্মপন্থা এবং পরিস্থিতি যে পুরোই আলাদা তা কি আর আমরা জানি না? যদি বলতাম, মুজিব স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, আর নেহরু ভারতের, তাহলেই কি দুজনের তুলনা হয়ে গেল নাকি? দুজনের নাম একসাথে নেওয়াতেই এত প্রোটেক্টিভ হয়ে পড়ার মত কিছু অপমান করা হয়নি মুজিবকে যে এসে লাল কালিতে প্রতিবাদ জানিয়ে যেতে হবে। শান্ত হন।

উদ্ধৃত করা অংশে আপনার বক্তব্যটা ঠিক। এভাবে বললে ঠিকঠিক হত, "যুদ্ধপরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানসম্মত কর্ণধার"। তবে আমি ইনফর্মালি কি বলতে চেয়েছি সেটা পাঠকেরা বুঝেইছেন মনে করি, উত্তেজিত হয়ে না পড়লে আপনিও বুঝতে পারতেন।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

আর যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বন্দী থেকেও দেশে ফিরে যদি মুজিব বাংলাদেশের কর্ণধার হতে পারেন, তবে প্রকাশ্যে এলে এবং যুদ্ধাপরাধী হয়ে বন্দী থাকলেও স্বাধীনতার পর যে সুভাষ বড় দেশনেতার পদ নিতে পারতেন না, তাই বা কি বলা যায়?

মুজিবের সাথে সুভাষের তুলনা কোথায় করলাম?

এটা তো তুলনায় হলো, তাই না?

মুজিব স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, আর নেহরু ভারতের, তাহলেই কি দুজনের তুলনা হয়ে গেল নাকি?

১ম ও ৩য় কোটেশানের ইনার মিনিং কিন্তু দুরকম।

বঙ্গবন্ধুর সাথে নেহেরুর সরকার-পদবীর তুলনা করা চলে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতিত্বের সাথে সুভাষের "বড় দেশনেতার পদ" প্রাপ্তির সম্ভাবনার তুলনা চলে না।

হাসিব এর ছবি

এটা তো জানা, তবে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন না সেটা সম্ভব।

ইন্ডিশে লেগিয়নের সৈন্যরা কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ভারতীয় বন্দি সেনাদের নিয়ে গঠিত হয়েছিলো। সুভাষ ব্যর্লিনে ছিলেন ও সেখানকার ভাষা জানা ভারতীয় প্রবাসিদের সাহচর্যে ছিলেন। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে কী হয়, সেখান থেকে মানুষ পোড়া গন্ধ ছড়ায় এটা জার্মানিতে তখন কমন নলেজ ছিলো। এসব সুভাষের কানে যায়নি এটা বিশ্বাসযোগ্য না।

আরেকটা নোট। সুভাষ যে ক্ষমতায় যায়নি এটা ভারতের জন্য ভালোই হয়েছে বলে আমার মনে হয়। স্বাধীন ভারত সম্পর্কে সুভাষের পরিকল্পনা, যেমন বর্ণমালা রোমানাইজড করা, এক ভাষা চালু করার চেষ্টা করা, স্বাধীনতার পর দেশকে ফৌজি শাসনের আওতায় আনা ইত্যাদি পড়লে সেরকমই মনে হয়।

তাপস শর্মা এর ছবি

নেতাজী সেই সময় প্রকাশ্যে আসতে পারলে কিন্তু 'যুদ্ধাপরাধী' হিসাবে ধরা পড়ার একটা চান্স ছিল৷

- ঠিকই কিন্তু দেশের মানুষের গন রোষের মুখে যেখানে আজাদ হিন্দ ফৌজের সাধারণ অফিসারদের বিচার দিল্লির লাল কেল্লায় আটকে গিয়েছিল, সেখানে নেতাজির শাস্তি হতে পারাটা বিশাল একটা ব্যাপার ছিল। কারণ কোন না কোন ভাবে দেশের হিরো হয়ে উঠেছিলেন। তিনি তখন সাধারনের মাঝে একজন অসাধারন নেতা।
কিন্তু এতসবের পরেও ঐ যে সেই অবদমিত ক্লেশে তাঁর মৃত্যু বিতর্কটা থেকেই জাচ্ছে চিরকালের মতো।

আর

হিটলারের কান্ড কারখানা

যে সুভাষ বোস কিছুই জানতেন না তা নয়, অনেক কিছু জেনেও তিনি নির্বোধের মত সব কিছু সহ্য করতেন, একমাত্র দেশের কথা চিন্তা করে। তবে হিটলার এর কু-অভিসন্ধি গুলো নেতাজির গোচরে সবসময় আসত না। কেননা তাঁর তো শুধু একটাই কাজ ছিল না। হাজার দিকে নজর রাখতে হত এই মানুষটিকে।

এবং
সর্বশেষে দময়ন্তী ম্যাম " ড: পুরবী রায়ের একটা বই " যার কথা আপনি বললেন। তার জন্য আপনার কাছ থেকেই লেখা প্রত্যাশা করছি।

ধন্যবাদ।

হাসিব এর ছবি

তবে হিটলার এর কু-অভিসন্ধি গুলো নেতাজির গোচরে সবসময় আসত না। কেননা তাঁর তো শুধু একটাই কাজ ছিল না। হাজার দিকে নজর রাখতে হত এই মানুষটিকে।

জার্মানিতে সুভাষ হাজার দিকে নজর রাখতেন বা রাখতে পারতেন এটা কখনোই মনে হয়নি। জার্মানিতে তার কাজ ও তার ক্ষেত্রে লিমিটেড ছিলো। আর কোন কু-অভিসন্ধি কানে আসলে কী হতো বলে মনে হয়?

দিগন্ত এর ছবি

আচ্ছা গুমনামী বাবাই যে সুভাষ বোস - এ নিয়ে বিচারক মনোজ মুখার্জীর বক্তব্য সম্পর্কে আপনার কি মত? আমিও এখন ওই ধারণাই পোষণ করি।
http://en.wikipedia.org/wiki/Bhagwanji


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তাপস শর্মা এর ছবি

আমি ব্যক্তিগত ভাবে তা বিশ্বাস করি না।গুমনামী বাবার মত এমন বহু বাবার কথা মাঝে মাঝে এখনো শোনা যায়।

সুভাষ বোসের হারিয়ে যাওয়াটা আজও আমার কাছে প্রশ্ন। আমি আবারো বলছি ব্যক্তিগত ভাবে তা বিশ্বাস করি যে, হয়তো সেই প্লেন ক্রাশেই উনার মৃত্যু হয়েছিল। আর একটা কথা সুভাষ বোসের ব্যাপারে ভারত সরকার অনেক তথ্য গোপন করেছে বলে আমার মনে হয়।

দিগন্ত এর ছবি

কোনো প্লেন ক্র্যাশে সুভাষ বোস মারা যাননি এটা ভারতীয় কমিশনগুলো প্রমাণসহ জানিয়েছে একাধিকবার। গুমনামী বাবা ছাড়া আর কে কে নিজেকে সুভাষ বোস বলে দাবী করেছেন জানি না, তবে কোর্টে আর কারও কেস ওঠেনি বা কোনো বিচারক সব তথ্যপ্রমাণ দেখে সে নিয়ে সদর্থক মতামতও দেননি। সুতরাং দুটো এক বিষয় হল না।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তাপস শর্মা এর ছবি


ভারতীয় কমিশনগুলোর স্বচ্ছতা নিয়েই আমার মনে প্রশ্ন আছে। যদি কমিশনগুলো ঠিক অর্থে কাজ করতেন তাহলে বোসের হারিয়ে যাওয়া কিংবা মৃত্যু রহস্য এতদিন ধোঁয়াশার মধ্যে থাকত না। একটা নেশান তার দেশের বীর সেনানীর আত্মত্যাগের কদরই করল না।

গুমনামী বাবা ছাড়া আর কারো কেইস প্রকাশ্যে আসেনি, কিন্তু ইতিউতি বহু গুঞ্জন শোনা গেছে বারবার। আর সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হল নেতাজি সুভাষ বোসের মত একজন মানুষ গুমনামী বাবার বেশ ধরে থাকবেন its unbelievable for me .

কৌস্তুভ এর ছবি

এই বিষয়ে আমার জ্ঞান যেটুকু তা নারায়ণ সান্যালের গবেষণালব্ধ বইখানি পড়ে, যেখানে উনি মূলত গুমনামী বাবার দিকেই সওয়াল করেছেন। এটাও সত্যি, যে কেন্দ্রের কংগ্রেসী সরকার এই তদন্ত কমিশনগুলোকে যথাসাধ্য নির্বীর্য করে রাখত, বিভিন্ন তথ্যে অ্যাকসেস দিত না...

সাই দ এর ছবি

কাশ্মীরের মানুষ কি ভারতের সাথে থাকতে চেয়েছিল ?? নাকি ওরা স্বাধীন দেশ চেয়েছিল??

দিগন্ত এর ছবি

"কাশ্মীরের খানিকটা যেচে পাকিস্তানকে উপহার দিয়ে এলেন"
- কৌস্তুভ, জম্মু ও কাশ্মীরের প্রায় পুরোটাই পাকিস্তানের হাতে থাকার কথা যদি ওখানে জাতিসংঘের বক্তব্য মেনে গণভোট হত। আমি এমনকি এখনও মনে করি অন্তত কাশ্মীর উপত্যকা অঞ্চল (জম্মু ও লাদাখ বাদে), অন্ততপক্ষে অটোনোমাস বলে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। ভারত-সরকার পুরো কাশ্মীর উপত্যকাই হাতের বাইরে রাখলে আমাদের আর কিছু না হোক - ফালতু প্রতিরক্ষা বাজেটের কিছুটা কমত আর কাশ্মীরের মানুষও জুতো ছুঁড়তে না বেরিয়ে কাজে বেরোতো।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তাপস শর্মা এর ছবি

কাশ্মীরের টোটাল ব্যাপারটা কিন্তু অন্য ধারায় চলে গেছে এখন। মানে সমস্যা শুরু হয়েছিল সন্ত্রাসবাদ দিয়ে, এখন দাঁড়িয়েছে জাত্যাভিমানে।
হাজারো প্রশ্ন আছে। সেগুলি নিয়ে বিশদ আলোচনার প্রয়োজন। তবে কাজের কাজ কিচ্ছু হবে না।

এখনে একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন যে স্বাধীন ভারতে যোগ দেওয়ার জন্য যখন দেশের স্বাধীন রাজ্যগুলিকে আহ্বান জানানো হয়, তখন কিন্তু কাশ্মীরের মহারাজা স্বেচ্ছায় ভারতের সাথে সম্পৃক্ত হন, কাগজে কলমে সই সাবুদ রেখে। এবং এই নিয়ে কিন্তু কাশ্মীরের আম জনতার কোন আপত্তি ছিলনা। সবচেয়ে বড় ব্যাপার তৎকালীন সেই অধিকাংশ মুসলিম অধ্যুষিত সেই টেরেটোরির রাজা ছিলেন একজন হিন্দু( আমি নামটা ভুলে গেছি) । কিন্তু কোন ধরণের অশান্তি ছিলনা। তারপরতো পাকিস্তানের হামলা। কাশ্মীরী পণ্ডিতদের বিতারিত করা, সন্ত্রাসী হামলা ... চলছে ......... আজ পর্যন্ত । তারপর শুরু হল গনরোষ। এর পেছনে যে কি ষড়যন্ত্র কাজ করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

এই সমস্যার মুল যে হোতা তিনি হলেন নেহেরু। ঐ সময় তিনি যদি একই দেশের একটা রাজ্যের মধ্যে দুটি সংবিধান আইন চালু না করতেন আর ওমর আব্দুল্লার হাতে ক্ষমতা তুলে না দিতেন তবে অবস্থাটা আজ এই জায়গায় থাকত না।

জম্মু ও কাশ্মীরের প্রায় পুরোটাই পাকিস্তানের হাতে থাকার কথা যদি ওখানে জাতিসংঘের বক্তব্য মেনে গণভোট হত।

আমি তা মানি না। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, কাশ্মীর ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আর পাকিস্তানে গেলে কাশ্মীর আর কাশ্মীর থাকবেনা ...ওটাও পাকিস্তানের অন্যান্য অংশের মত সন্ত্রাস আর বোমাবাজির আখড়ায় পরিণত হয়ে যাবে। গোটা পৃথিবী জানে পাকিস্তানের এই অবস্থা।

আর একেবারে শেষ কথা
গণতান্ত্রিক ভাবে কাশ্মীর ভারতের পার্ট। এর পর এই অংশটাতে যত রক্ত ঝরেছে, তার মূল কারণটা কি ?
১ থেকে ১০০ পাকিস্তান। ওদের এই আগ্রাসনের কাছে ভারত কোনদিনই মাথা নত করেনি। আর কেন? কেন পাকিস্তানের হাতে কাশ্মীরকে তুলে দেওয়া হবে!!!!!!!!!!!!!!!!

প্রচলিত ধারায় একটা প্রবাদ হয়ে গেছে

নিজের দেশ তো সামলাতে পারেনা, বেড়িয়ে পড়েছে অন্যের দেশ লুটতে।

পাকিস্তান কি গণতান্ত্রিক দেশ?

দিগন্ত এর ছবি

পাকিস্তান যেমনই হোক তাতে কাশ্মীরীরা যোগ দিতে চাইলে সেটা তাদের পছন্দ। আমাদের কিছু করার নেই তাতে। তাছাড়া হরি সিং (জম্মু ও কাশ্মীরের তৎকালীন রাজা) ভারতের দিকে স্বাক্ষর করার পরে গণভোটের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যদিও সামগ্রিকভাবে গণভোট করাটা অর্থহীন কারণ কাশ্মীরের জনগণের ভাগ্যের সাথে লাদাখ বা জম্মুর ভাগ্য জুড়ে দেওয়ার কোনো মানে নেই - তিন অঞ্চলে ধর্মীয় ও ভাষাগত পার্থক্য যথেষ্ট। তাহলেও কাশ্মীর উপত্যকা - যেখানে বহুবছর ধরেই বিক্ষোভ চলছে - তাকে কিছু স্বশাসন না দেওয়াটা অন্যায়। যাহোক, প্রসঙ্গান্তরের জন্য এই বক্তব্য আমি এখানেই শেষ করলাম।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তাপস শর্মা এর ছবি

জি, হক কথা। আমিও স্বশাসন পক্ষে, কিন্তু তা সুশাসন হওয়াটা আবশ্যক।

কৌস্তুভ এর ছবি

তাপসদার তথ্যে একটু ভুল আছে। হরি সিং যখনও ভাবনাচিন্তা করছিলেন, কোন দিকে যাবেন, তখনই পাকিস্তান কাশ্মীর আক্রমণ করে নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার জন্য। তার পরও আর তাদের কাশ্মীরের উপর কোনো পলিটিকাল অধিকার দেওয়ার কারণ আমি দেখি না।

আর সেই সময় কাশ্মীরে মুসলিম মেজরিটি ছিল ৭৭% মত। সেখানে পরবর্তীকালে মুসলিম মুখ্যমন্ত্রীদের আমলে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু পণ্ডিতদের উৎখাত করে মেজরিটি এতটা বাড়িয়ে ফেলা হয়েছে (৯৫%)। ভারত সরকার কোনো কাজই করেনি এটা থামাতে।

বরং সরকারের পাঠানো সেনা সেখানে নানারকম ভাবে সাধারণ মানুষদের ঝামেলায় ফেলেছে, যার সুযোগ নিয়ে মোল্লারা আর মৌলবাদীরা সবাইকে ক্ষেপিয়ে তুলতে পেরেছে।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

আর সেই সময় কাশ্মীরে মুসলিম মেজরিটি ছিল ৭৭% মত।

এই জরিপটা ১৯৪১ সালের ব্রিটিশ রাজের করা। আর এই জরিপটা হয়েছিল সর্ম্পূণ কাশ্মীরের যা আজকে তিনটি রাষ্ট্রের মধ্যে বিস্তৃত। ভারতের কাছে কাশ্মীর উপত্যাকা, জম্মু, লাদাখ ও সিয়াচেন। পাকিস্তানের কাছে আছে আজাদ কাশ্মীর ও জিলগিট-বালিস্তান। আর চীনের দখলে আছে আকশাই চীন।
১৯৪১ সালের জরিপে কাশ্মীর উপত্যাকার মুসলিম সংখ্যা ৯৯% ছিলো; বর্তমানে তা ৯৭%।
১৯৪১ সালের জরিপে সম্পূর্ণ কাশ্মীরের মুসলিম সংখ্যা ছিলো ৭৭% আর ২০১১-তে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৬৮%।

সেখানে পরবর্তীকালে মুসলিম মুখ্যমন্ত্রীদের আমলে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু পণ্ডিতদের উৎখাত করে মেজরিটি এতটা বাড়িয়ে ফেলা হয়েছে (৯৫%)। ভারত সরকার কোনো কাজই করেনি এটা থামাতে।

আপনার এই বাক্যটি পড়ে আমার থার্ড রাইখের জোসেফ গোয়েবলস আর রাইখ মিনিস্ট্রি অব প্রোপোগান্ডার কথা মনে পড়ল।

৯০' এর দশকে কাশ্মীরী পন্ডিত ও মুসলমানদের মাঝে জাতিগত বিরোধ শুরু হয়। কারণ, কাশ্মীরী পন্ডিতরা কাশ্মীরে ভারতীয় উপস্থিতির প্রধান সমর্থক। সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় কাশ্মীর উপত্যাকার কাশ্মীরী পন্ডিতরা; প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কাশ্মীরী পন্ডিত সে সময় কাশ্মীর উপত্যাকা ত্যাগ করে জম্মুতে চলে আসে। ভারত সরকার ১৯৮৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারীতে সহিংসতা থামাতে গণ-মুসলিম গ্রেপ্তার শুরু করে ও সেনা-পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে, যার শিকার হয় হাজার হাজার নিরীহ কাশ্মীরী মুসলিম। সেসময় ১৮ জুলাই,১৯৮৬-তে প্রকাশ্যে ভারতীয় সেনাদের দ্বারা সাতজন নিরীহ মুসলিম কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার খবর জাতিগত সহিংসতার আগুনে ঘি ঢেলেছিলো। ১৯৮৭ সালের ১৯ অগাস্ট, এগারো জন কাশ্মীরী মুসলিম নারীকে ভারতীয় সেনারা গণ ধর্ষণ করে।

বরং সরকারের পাঠানো সেনা সেখানে নানারকম ভাবে সাধারণ মানুষদের ঝামেলায় ফেলেছে, যার সুযোগ নিয়ে মোল্লারা আর মৌলবাদীরা সবাইকে ক্ষেপিয়ে তুলতে পেরেছে।

কাশ্মীরে ধর্মীয় উগ্রবাদীতার জন্মের জন্য পাকিস্তান যতটুকু দায়ী, ভারত তো তেমনি ততটুকু দায়ী।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

তাপস দা,

এবং এই নিয়ে কিন্তু কাশ্মীরের আম জনতার কোন আপত্তি ছিলনা।

=) ভারতের সাথে যুক্ত হবার খরব ছড়িয়ে পড়লে অক্টোবর, ১৯৪৭-এ পশ্চিম কাশ্মীরে সসস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়। দাবি ছিল- হয় স্বাধীনতা। এসময় কাশ্মীরের মুসলিম নেতারাও ভারতভুক্তির বিরোধিতা করেন। তারপরও জনদাবী উপেক্ষা করে রাজা হরি সিং কাশ্মীরকে ২৫-২৭ অক্টোবরের মাঝে ভারতের হাতে তুলে দেন।
সাথে সাথে সারা কাশ্মিরে আগুন জ্বলে উঠে। ৩০ অক্টোবর,১৯৪৭-এ কাশ্মিরের বারিমুল্লায় মুসলিম ছাত্রদের ভারত বিরোধী মিছিলে গুলি বষর্ণ করে ভারতীয় বাহিনী। সরকারী হিসেবে ১৩ জন মুসলিম ছাত্র মারা যায় আর কাশ্মিরীদের মতে ৫৭ জন।

কাশ্মীরের মানুষ ভারতভুক্তির চেয়ে স্বাধীনতা চেয়েছিলো তার হাজার হাজার প্রমাণের কয়েকটি নিচে দিলাম।

০১। ১৯৪৪ সালে কাশ্মীরের প্রজা সভায় মুসলিম নেতারা রাজা হরি সিং-কে যুক্তরাজ্যের সরকার ব্যবস্থার আদলে কাশ্মীরে একটি স্বাধীন সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের দাবি করেছিলেন, যেখানে হরি সিং থাকবেন দেশের রাজা ও সাংবিধানিক রাষ্ট্রপতি।
০২। ১৯ জুলাই, ১৯৪৭-এ কাশ্মীরের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল National Conference-এর পক্ষ হতে রাজা হরি সিং-কে হয় কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবি জানান হয়।

গণতান্ত্রিক ভাবে কাশ্মীর ভারতের পার্ট।

বোধগম্য হলো না। কাশ্মীরের জনগণ তো স্বাধীনতা চায়, ওঁরা তো ভারতের সাথে থাকতে চায় না।

র ব এর ছবি

সবুজ পাহাড়ের রাজা,

কাশ্মীরের জনগণ তো স্বাধীনতা চায়, ওঁরা তো ভারতের সাথে থাকতে চায় না।

সহমত। কোথাও কোথাও পড়েছি কাশ্মীরিরা প্রথমে স্বাধীনতা চাইতো। পরে ভারতের অংশ হয়ে ওদের মধ্যে একসময় পাকিস্তানপন্থী অবস্থান তৈরি হয়েছিলো। ২০০৭ এর এক জরিপে দেখেছিলাম এদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এখন স্বাধীন কাশ্মীরই চায়।

আমার মনে হয়, কাশ্মীরী পন্ডিতদের ও হিন্দু নারীদের ট্রাজেডির ক্ষেত্রে হিন্দুদের প্রতি কাশ্মীরি মুসল্মানদের অবিশ্বাস, সন্দেহ ও ক্ষোভই কারন। অন্যভাবে বললে, কারণটা ইতিহাস ও এর উত্তরাধিকার ।

আমি ঠিক বুঝিনা, ২০১১ সালে এসেও কোনো জাতিকে কেন অন্যের অধীনে থাকতে হয়! কাশ্মীরিরা নিজেদের দেশ চায়, তবে তাই হোকনা। কুর্দি, বালুচ, ফিলিস্তিনিসহ আরো যারা চায়, সবাই পাকনা নিজের দেশ। আমাদের পাহাড়ি ভাইবোনেরাও যদি নিজেদের দেশ চায়, তবে কী চ্যাটের ক্ষতি- আমি বুঝিনা!

৪৭ এর কাশ্মীর ও 'কাশ্মীরের মানুষ ভারতভুক্তির চেয়ে স্বাধীনতা চেয়েছিলো তার হাজার হাজার প্রমাণের' ক্ষেত্রে যে ভাষ্য(গুলো) আপনি পড়েছেন হাতে সময় থাকলে লিঙ্ক দিয়েন। জবাবদিহি করতে চাইছি না কিন্তু, পড়তে চাইছি হাসি

৪৭ এর কাশ্মীর নিয়ে একটা লেখার লিঙ্ক (উপরেও) দিছি।

রব

দিগন্ত এর ছবি

১৯৪৭ সালে মহারাজ হরি সিং একা কাশ্মীরের ভারতভুক্তির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেননি, তার সাথে ন্যাশনাল কনফারেন্সের (কাশ্মীরের প্রধান রাজনৈতিক দল) প্রধান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাও ছিলেন। সুতরাং, সেই সময়ে অন্তত পাকিস্তানের তুলনায় তারা ভারতকে "বেটার অপশন" মনে করেছিলেন - সে নিয়ে আমার সংশয় নেই। কাশ্মীরের ভারত-বিরোধিতা মূলত ভারতভুক্তির পরে ধীরে ধীরে তৈরী হয়েছে। ১৯৪৭ সালে ভারত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কাশ্মীরের বিদেশনীতি ও প্রতিরক্ষা বাদে সব কিছু কাশ্মীরীদের হাতেই থাকবে। একই সাথে জাতিসংঘে গিয়ে নেহেরু গণভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসেন। পঞ্চাশের দশকে সেইসব প্রতিশ্রুতই থেকে ভারত সরকার সরে আসে আর শেখ আবদুল্লাও প্রতিবাদী হয়ে জেলে বারো বছর কাটান। কাশ্মীরের পণ্ডিতদের ওপর প্রথম আক্রমণ শুরু হয় এরও তিরিশ বছর পরে - ১৯৮০র দশকে। সুতরাং ভারত অবশ্যই অশান্ত কাশ্মীর তৈরীর জন্য দায়ী।

কাশ্মীর নিয়ে পারভেজ হুদবয়ের ডকুমেন্টরি আর বিবিসির প্রতিবেদন দেখতে পারেন - দুটোই বেশ ভাল। আমার একটা সারসংক্ষেপ লেখাও আছে।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

র ব এর ছবি

কৌস্তুভদা,

এই নেহরুই পরে কাশ্মীরের খানিকটা যেচে পাকিস্তানকে উপহার দিয়ে এলেন, শোনা যায় শান্তিতে নোবেল পেতে পারেন এই লোভে।

এখানে মনে হয় বেশ একটু ভুল হচ্ছে। কুলদীপ নায়ারের এই লেখাটা পড়ে দেখতে পারেন।

রব

কল্যাণF এর ছবি

অসাধারন, চলুক, চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির চলুক

তাপস শর্মা এর ছবি

আপনাকে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- কল্যাণF

কৌস্তুভ এর ছবি

চলুক

২০০৩ ঢাকায় কী হল সেটা বুঝলাম না।

হাচলত্বের অভিনন্দন।

তাপস শর্মা এর ছবি

কৌস্তুভ ভাই
২০০৩ ঢাকার সিটুয়েশনটা আমি বলেছি সিকোয়েন্স হিসেবে। মানে এটা একটা ট্রেলার ছিল। একটু খুলে বলছি এখানে রয়েছেন সেন মশাই, তার স্ত্রী, সন্তানরা। ওরা ৫২ বছর পর দেশের বাড়িতে যাচ্ছেন । এটাই হল এই প্যারাটার মূল প্রচ্ছদ। আমি ডিটেলিং এ আসব আগামী পোস্টে।

তোমাকে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

জলধি রায় এর ছবি

সুন্দর লেখা । চলুক ।

তাপস শর্মা এর ছবি

জলধি রায়
আপনার নন্দনে সুন্দর হলেই আমার ভাল লাগার হদিশ মেলে।
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

guest_writer এর ছবি

ইয়েস ইয়েস !!! এই লেখা চাই আরও। লিখ্যা যান, আগুপিছু তাকানি বাদ দেন।

-মেফিস্টো

তাপস শর্মা এর ছবি

আপনাকে ডাবল আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

১মটা আমার তরফ থেকে। আর ২য়টা আপানার নামের জন্য।

মেফিস্টো, নামটা কিন্তু ব্যাপক। মানে ঐ বিখ্যাত মেফিস্টোফিলিস তত্ত্বের সাথে কত মিল!! উদ্ভাবক কি আপনাকে ইন্সপায়ার করেছিলেন, না আপনি উদ্ভাবককে ??? ওঁয়া ওঁয়া

মন এর ছবি

স্বাধীনতার সময় তদানিন্তন পুর্ব পাকিস্থানে ৪০% হিন্দু ছিল আজ সেটা ৭%-এ দাড়িয়েছে ।এটা নিয়ে একটা বিশ্লেষন হোক ।এটা নিয়ে কারোকে কথা বলতে শুনি না ।সবাইকে এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে দেখি।বাংলাদেশের কারোকে এটা নিয়ে সরব হতে দেখি না । ইস্লামিক দেশে সংখ্যালঘু সমস্যা রাখা হয় না। অত্যন্ত নিপুনভাবে clean out করা ইয়। ভারতবর্ষে কিন্তু % কমে নি বরং বেড়েছে।।বাংলাদেশে কি এই বিষয়ে বলতে একটা ভীতি কাজ করে?

সাই দ এর ছবি

আপনার সংখ্যাগূলোর একটা রেফারেন্স দিলে ভাল হত। তারপরও কেন বাংলাদেশ থেকে হিন্দু কমে গেল তার অনেকগুলো কারণ আছে । আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলি।
আমার আশেপাশে যারা ভারত চলে গিয়েছিলেন, তাদের বেশিরভাগ ছিলেন উচ্চ বর্ণের।নিম্ন বর্ণেরও গিয়েছিলেন তবে তুলানমূলক কম। যদিও নিম্ন বর্ণের লোকদের বেশি নিগৃহীত হতে হয়েছিল।
উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের অনেক জমিদার বা অবস্থা সম্পন্ন কৃষিজীবি ছিলেন।তাদের অনেকেই মুসলমান প্রজাদের কাছে বন্ধুভাবাপন্ন ছিলেন না। যার জন্য দেশভাগের সময় এসব মসলমান প্রজাদের রোষ থেকে বাঁচার জন্য অনেকেই প্রথমে পাড়ি দিয়েছিলেন।
এরপর যারা থেকে গিয়েছিলেন তাদের অনেকে ভারত চলে গিয়েছিলেন এসব রোষের শিকার হয়ে।
তবে ৭১ এর পর সবাই যে সংখ্যা লঘু অত্যাচার এর শিকার হয়ে ভারত গিয়েছেন তা কিন্তু নয়।অনেকেই নিরাপত্তার অভাববোধ থেকে আর অবিশ্বাস থেকেও গিয়েছিলেন।
একটা জিনিস না বললেই নয়। সেটা হল বর্তমান বাংলাদেশ থেকে যেসব হিন্দুরা আছেন... তাদের বেশিরভাগি বাংলাদেশে বড় হয়ে দেখা যায় ভারত চলে যায়...যেটার কোন সদুত্তর আমি এখনও পাইনি। কারণ বর্তমান বাংলাদেশ অনেক দিক থেকেই এখন অসম্প্রদায়িক। মৌলবাদ যে নেই তা বলব না...তবে তা এখন হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা লাগানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।

তাপস শর্মা এর ছবি

নিম্ন বর্ণের লোকদের বেশি নিগৃহীত হতে হয়েছিল।

বর্তমান বাংলাদেশ অনেক দিক থেকেই এখন অসম্প্রদায়িক। মৌলবাদ যে নেই তা বলব না...তবে তা এখন হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা লাগানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়

চলুক

দিগন্ত এর ছবি

এটা অনেকটা রিপল এফেক্ট। দেশভাগের সময়েই অনেক পরিবার পশ্চিমে চলে গেছেন। যারা বাংলাদেশে রয়ে গেছে তাদেরও আত্মীয়স্বজন অনেকেই পশ্চিমে। কোনো সময়ে কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলেই তারাও ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের কাছে চলে যান। একদফা ১৯৯০ সাল নাগাদ (বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত ঘটনাবলীর পরে) অনেকে এসেছিল আমার আত্মীয়স্বজন। এর পর থেকে আর কেউ আসে নি। বাংলাদেশে এখন অনেকেই আছে। সমস্যা বিশেষ কিছু নেই। লোকজনে নিরাপত্তাহীনতায় কিছুটা ভোগে - কিন্তু সেটা সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু দুইই।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

অগ্নি এর ছবি

"তবে ৭১ এর পর সবাই যে সংখ্যা লঘু অত্যাচার এর শিকার হয়ে ভারত গিয়েছেন তা কিন্তু নয়।অনেকেই নিরাপত্তার অভাববোধ থেকে আর অবিশ্বাস থেকেও গিয়েছিলেন।"
নিরাপত্তার অভাববোধ কেন আসে , কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র যখন নিজেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করে তখন এই সমস্যা দেখা দেয় । আমি জানি না আপনি কোথায় থাকেন, কিন্তু তৎকালীন সময়ে হিন্দুরা যখন দেশে ফেরত আসে তখন অনেকেই তাদের সম্পত্তি ফেরত দেয়নি জোড় করে দখলে রাখে। কারণ ভারতে কোনমতে জীবন নিয়ে পালিয়েছে , জমির দলিল নিয়ে চিন্তা করার সময় তখন ছিলনা । আর এই ঘটনা কমবেশি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত ঘটেছে । আজও একটা দেশের নাগরিকের সম্পত্তি আবার "শত্রু সম্পত্তি" হয় কিভাবে ????

"একটা জিনিস না বললেই নয়। সেটা হল বর্তমান বাংলাদেশ থেকে যেসব হিন্দুরা আছেন... তাদের বেশিরভাগি বাংলাদেশে বড় হয়ে দেখা যায় ভারত চলে যায়...যেটার কোন সদুত্তর আমি এখনও পাইনি। "
এটার সাথে আমিও একমত অনেকের টাকা হলেই এই বাতিকে আক্রান্ত হোন । তবে এটা ঘটছে ২০০১ এর পর ।
আপনি স্বীকার করেন আর নাই করন ২০০১ ও এর পরবর্তী সময় (১/১১ এর আগে) হিন্দুদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে তা দাঙ্গার চেয়ে ভয়াবহ । এর সাক্ষী আমি নিজে ।

"কারণ বর্তমান বাংলাদেশ অনেক দিক থেকেই এখন অসম্প্রদায়িক। " কথাটা একটু সত্য । তবে কেমন অসাম্প্রদায়িক তার প্রমাণ কিছুদিন, আগে শুনলাম অরূণ চৌহান নামে এক ছেলে মুসলিম এক মেয়ের সাথে প্রেম করার মতো জঘন্য অপরাধের কারণে তার চাকরী চলে যায় । যা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হাত ছাড়া কখোনই সম্ভব ছিলনা ।

সাই দ এর ছবি

@ অগ্নি
আপনার শেষ প্যারা সম্পর্কে বলছি। বিক্ষিপ্ত ঘটনা দিয়ে সব বিচার করবেন না। এসব ঘটনা ভারত বাংলাদেশে আরো হয়ত ঘটবে। আর একটা ঘটনা যেটি আপনি বলছেন সেটার তথ্যসূত্র দিবেন।

আর আমি তো আগেই বলেছি কিছূ কারণ । তবে এখন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যারা ভারতে পাড়ি জমাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগ নিরাপত্তা থেকে অন্য কোন কারণে হয়ত যাচ্ছে। অনেকে মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য যাচ্ছেন।

তবে একটা কথা না বললেই নয় ...সেটা হল আমাদের দেশের অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বাংলাদেশকে তাদের দেশ মনে করেন না। আমি আগেও বলেছি নিম্ন বর্ণের লোকেরা বেশিরভাগ সময় ক্ষতির স্বীকার হোন। আবার তাদের দেশ ছাড়ার হারও কম।

আনাতোলি তমিলিন এর ছবি

... তবে একটা কথা না বললেই নয় ...সেটা হল আমাদের দেশের অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বাংলাদেশকে তাদের দেশ মনে করেন না ...

সত্যি কথা কিন্তু এটাও মনে রাখা ভালো যে এই দেশে একজন হিন্দু কেমন ব্যাবহার পান।উঠতে বসতে যখন মালাউনের বাচ্চাগালি শুনতে হয়, আরাধ্য দেবতা নিয়ে কটাক্ষ শুনতে হয় আর চাকরিক্ষেত্রে নানারকম বৈষম্যের সীকার হতে হয় তখন আর দেশে থাকার ইচ্ছা থাকে না। এইধরনের একটা মন্তব্য করার আগে সংখ্যালঘুর জুতাতে পা গলিয়ে নিলে একবার ভালো হয়,কিছুটা হলেও বুঝবেন।ধন্যবাদ।

সাই দ এর ছবি

@আনাতোলি তমিলিন

আমি কিন্তু বর্তমান সময়ের কথা বলছিলাম। এখন এসব বৈষম্য অনেক কম। একেবারে নেই তা কিন্তু বলিনি। তবে সময় লাগবে পুরোপুরি যেতে।

আমার মন্তব্যে কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী। যদিও আমি বাস্তবতার নিরিখে এই মন্তব্য করেছি।

র ব এর ছবি

উপযাজক হয়ে লিঙ্কটা আমিই দিচ্ছি। ঘটনাটা ওপারের রেজওয়ানের মতো না হলেও বেশ গুরুত্বপুর্ণ মনে হয়েছিলো আমার কাছে। বেশ বুঝা যায়, আমাদের অনেক বড়কর্তাও বেশ ভালোভাবেই জড়িয়ে ছিলেন এতে।

রব

রাগিব এর ছবি

ডুপ্লি ঘ্যাঁচ।

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

রাগিব এর ছবি

এই রকম ঘটনায় সম্ভবত ভারত/বাংলাদেশ বা হিন্দু/মুসলিমেরা পাল্লা দিয়ে চলে, কেউ কারো কম নয়। অরুণ কিংবা রিজওয়ান, দুইজনের ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক যোগসাজশে অবিচার করা হয়, আর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ পুরো ব্যাপারটাকে অগ্রাহ্য করে বালুতে মাথা গুঁজে থাকে।

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

র ব এর ছবি

সহমত। তবে আমার মনে হয় ওপারে মিডিয়া এগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং এস্টাবলিশমেন্টকে খুঁচিয়ে যাওয়াতে বেশ একটু এগিয়ে আছে। মোদীর মত শ্বাপদদেরও ওরা খানিকটা হলেও ঘামাতে পারে। রিজওয়ান-ঘটনায় অশোক টৌডিকেও বেশ ভালোই ঘামিয়েছে ওরা। পরের কথা অবশ্যি জানা নাই।
অন্যদিকে, অরুণের ঘটনাটাতে আমি আশা করেছিলাম, কেউ অন্তত ক্ষমতা-বেশ্যাদের কাছে জোরেশোরে প্রশ্ন তুলবে। পরে আর কোনো টু-টা শব্দ পর্যন্ত হয়নি।মানুষ হতে আমাদের আরো অনেক পথ হাঁটতে হবে।

রব

তাপস শর্মা এর ছবি

মন =

বাংলাদেশে ৪৭, ৫০-৫২, ৭১-৭২ এবং ৯১ এর পর আর কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা এখনো ঘটেনি। আমার মনে হয় বর্তমানে অবস্থা অনেকটা উন্নত হয়েছে। তবে বাংলাদেশের সামগ্রিক সমাজনীতির পরিবর্তন দরকার আছে। তবে এটা মানতেই হবে পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টেছে।

যুমার এর ছবি

দেশভাগের ওপর কিছু বই পড়েছি,এরকম বেদনার ইতিহাস মানুষ সারা জীবন ধরে বয়ে চলে।
স্বদেশ তো সেই দেশ যা মানুষ অন্তরে ধারণ করে।খুব ভালো লাগল,আপনার লেখা চালিয়ে যান।

গেরিলা এর ছবি

সেই নারকীয় দেশভাগের জন্য একদিন ক্ষমা চাইতেই হবে গান্ধী, জিন্নাহ, নেহেরুদের। লাশ বা ছাই হাজির হয়ে মাফ চাইতে হবে হাজার হাজার মানুষের চোখের কান্নার কাছে....যে বর্ডার লাইন নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল সুজলা সুফলা বাংলার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ। নিশ্চিতভাবেই ভারতবর্ষ হয়ে উঠত শক্তিশালী মানুষের আবাসভূমি, নেতৃত্ব দিত বাঙলা....সব ধ্বংস করে দিয়েছিল সেই খাবলাখুবলি.........................লেখায় চলুক

রিশাদ_ ময়ূখ এর ছবি

পড়তে পড়তে চোখ আদ্র হয়ে এলো। সেন সাহেবদের এখনো দেশ ছেড়ে যেতে হয়। এখনো ভেসে বেড়ায় এই বিষবাষ্প

অপছন্দনীয় এর ছবি

মন খারাপ

তাপস শর্মা এর ছবি

অপছন্দনীয় ভাই

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

নিঃসঙ্গ এর ছবি

দাদা পরের পর্বটা দিতে বেশী দেরী করবেন না।
অনেক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকলাম।

তাপস শর্মা এর ছবি

নিঃসঙ্গ আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

চেষ্টা করব ভাই।

শাব্দিক এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম চলুক। সঙ্গে আছি।

তাপস শর্মা এর ছবি

শাব্দিক আপনাকে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

চমৎকার, সিরিজ দৌড়াক! আর, হাচলাভিনন্দন!!!


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

তাপস শর্মা এর ছবি

আনাকে ধন্যবাদ ষষ্ঠ পাণ্ডব

জামান-the ultimate soln এর ছবি

এই ইতিহাসের পাঠের সাথে আমি থাকতে চাই। যদিও আমি এ সম্বন্ধে কিছুই জানিনা তবু প্রথম পর্বে যে ধারণা দেয়া হল তাতে আমি ধর্মত্যাগী হয়ে এই লেখাটা পরতে চাই...............আমার ধর্ম বাঙ্গালিত্তের মাধ্যমে বিশ্বমানবতা। আর, গান্ধীজী আমার প্রিয় নেতা তাই আমি তার বদগুণ, ভুলচুক ভাল করে জানতে চাই। যেজন আমার প্রাণের প্রিয়, তার ভুলটাই আমাদের পাথেয়...............

তাপস শর্মা এর ছবি

সাধ্যমত চেষ্টা করব। সঙ্গে থাকুন।

বাংলামায়েরছেলে এর ছবি

দিদিমণি তে সামান্য কিছুটা আঁচ দিয়ে গেলেও '৪৭ এর রায়ট এবং তার পরবর্তী সময় নিয়ে আর লেখা হয়ে উঠলো না...আর আমি লিখলেও নিশ্চয়ই আপনার মতো এত সুন্দর করে তুলে আনতে পারতাম না সেইসব ভয়াল দিনগুলো...অনেক ভালো লাগলো...চালিয়ে যান...চারিদিকে যখন জঙ্গীবাদী ধর্মান্ধরা বিষবাষ্প ছড়িয়ে যাচ্ছে তখন নতুন প্রজন্মের সচেতনার জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি অসাধারণ লেখা...

তাপস শর্মা এর ছবি

ওটা কিন্তু আমি deconstruct করছি। অর্থাৎ বিনির্মাণ। একটি কাহিনীরই বিনির্মাণ। তবে ঘটনাটা ১০০ ভাগ সত্যি। কাহিনিটি একটি ড্যকুমেন্টারি থেকে নেওয়া। এবং আমি গোটা ঘটনাটিকে চলচ্চিত্রের পরিমণ্ডলে না রেখে ওই ড্যকুমেন্টারির চরিত্রগুলোও যে স্বাভাবিক জীবনে হারিয়ে যাওয়ার কথামালা গাঁথছি। সেন মশাই এর ছেলেই এই কাহিনিটির হোতা।

বাংলামায়েরছেলে আপনাকে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ধৈবত(অতিথি) এর ছবি

আচ্ছা, আমি একটা বিতর্কিত বিষয় উপস্থাপন করি। এর প্রেক্ষিতে লজিকাল মতামত চাই, হাউকাউ নয়।

বঙ্গভাষী সব অঞ্চল (বাংলাদেশ, পশ্চিমবাংলা, ত্রিপুরা) একসাথে মার্জ করে গিয়ে দূর কোন ভবিষ্যতে এক দেশ হয়ে যাওয়া সম্ভব?

কৌস্তুভ এর ছবি

অসম্ভব তো নয়, তবে হওয়া কঠিন মনে হয়। ত্রিপুরা বাদ দিলাম আপাতত। জাতি হিসাবে পশ্চিমবাঙালিরা মারাঠিদের চেয়ে পূর্ববঙ্গীয়দের অনেক বেশি কাছাকাছি তো বটেই। দীর্ঘ সময় ধরে ছোট-বড় রাজ্য মিলিয়ে হলেও বঙ্গ তো একটা আলাদা দেশই ছিল, সমগ্র ভারতের মধ্যে ঢুকল তো প্রথম আকবরের সময়েই।

তা এখন পশ্চিমবঙ্গের ভারত ছেড়ে বেরিয়ে আসার মত কোনো বড় মোটিভেশন নেই, কিন্তু যদি ভারত কখনও সোভিয়েত রাশিয়ার মত ভেঙে যায়, তাহলে ছোট দেশ পশ্চিমবঙ্গ আর বড় দেশ বাংলাদেশ মার্জ করবার সম্ভাবনা একটা আসতেই পারে। কিন্তু রাষ্ট্র একবার দুটুকরো হলে আবার জোড়া লাগা কঠিন। জার্মানি পেরেছে, কিন্তু সেটা ছিল বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া বিভাজন, আর তাছাড়া জার্মানদের কর্মনিষ্ঠার সঙ্গে আমাদের তুলনাই হয় না।

আর ধর্মভিত্তিক বিভাজনটা শুরু করার পর থেকে দুই ভাগের সংস্কৃতিতেও তো অনেকটা তফাত চলে এসেছে আস্তে আস্তে। মুসলিম লীগ সরকারের মদতে দাঙ্গার যাদের অভিজ্ঞতা আছে, জামাত জোট সরকারে ক্ষমতায় থাকলে কি সেই পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা অমন দেশের সঙ্গে জুড়তে চাইবে, যেখানে জুড়ে যাওয়া দেশে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে? ভারতে মুসলিম রাষ্ট্রপতি বা মন্ত্রী হওয়া বিচিত্র নয়, তেমন শক্তিশালী নেতা হলে প্রধানমন্ত্রীও হতে পারেন, কিন্তু বাংলাদেশ কি মুসলিম প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি মেনে নেবে?

তবে সময়ের সঙ্গে তো কত অভাবনীয় কিছুই হয়। আপনাদের দাদু-দিদার প্রজন্মই তাঁদের জীবনে তিনটে দেশ দেখেছেন - ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে আমরা যেখানে আছি তারও রাজনৈতিক পরিচয় বদলে যাবে না, কে বলতে পারে?

ধৈবত(অতিথি) এর ছবি

আপনার মন্তব্য ভালো লাগলো।
প্রথমেই বলি, এরকম মার্জকরণের স্বপক্ষে আমার যেসব চিন্তাভাবনা তা সম্পূর্ণ মৌলিক কিছু চিন্তা থেকে উদ্ভুত, এর পক্ষে তুলে ধরার মত প্রয়োজনীয় জানাশোনা এবং পড়াশোনা আমার এখনও ভালোভাবে করা হয়ে ওঠেনি।

আর ধর্মভিত্তিক বিভাজনটা শুরু করার পর থেকে দুই ভাগের সংস্কৃতিতেও তো অনেকটা তফাত চলে এসেছে আস্তে আস্তে। মুসলিম লীগ সরকারের মদতে দাঙ্গার যাদের অভিজ্ঞতা আছে, জামাত জোট সরকারে ক্ষমতায় থাকলে কি সেই পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা অমন দেশের সঙ্গে জুড়তে চাইবে, যেখানে জুড়ে যাওয়া দেশে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে? ভারতে মুসলিম রাষ্ট্রপতি বা মন্ত্রী হওয়া বিচিত্র নয়, তেমন শক্তিশালী নেতা হলে প্রধানমন্ত্রীও হতে পারেন, কিন্তু বাংলাদেশ কি মুসলিম প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি মেনে নেবে?

আপনার এখানে যে পয়েন্টগুলো উঠে এসেছে তা হয়তো গত পঞ্চাশ-ষাট বছরের রাজনীতির প্রভাব থেকে, কিন্তু যদি সম্রাট আকবরের আবির্ভাবের পূর্বে আমরা একত্রে থাকি, তাহলে বলতেই হয় আমাদের 'একত্রে থাকার' সময়কালের তুলনায় বর্তমানের এই বিভাজনের সময়টা অনেক ছোট। হয়তোবা এটা একটা ট্রানজিশন পিরিয়ডের পর্যায়েও ফেলে দেয়া যেতে পারে।

তাপস শর্মা এর ছবি

অলীক স্বপ্ন দেখে কী লাভ ভাই।

কৌস্তুভ এর ছবি

আরে ভাই, আমাকে দিয়ে এত কথা বলিয়ে নিজের মতামতগুলোই উহ্য রাখলে হবে? মনে কী ভাবনাচিন্তা আছে সেগুলো বলে ফেলাই ভাল!

দময়ন্তী এর ছবি

চলুক চলুক

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

তাপস শর্মা এর ছবি

দময়ন্তী ম্যাম আপনাকে
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

তারেক অণু এর ছবি

চলতে থাকুক। আগামী সংখ্যা আশা করছি শীঘ্রই। তবে খুব কষ্টের ইতিহাসরে ভাই। এমন দুর্বিষহ ঘটনা, ভাই- প্রতিবেশীদের এমন ভাবে শত্রু বনে যাওয়া, খুব কষ্ট জাগানিয়া। লেখা ও লেখার বিষয়- চলুক

তাপস শর্মা এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-
ভাই তারেক অণু

guest_writer এর ছবি

গান্ধীজী নাকি চেয়েছিলেন, অবিভক্ত ভারতবর্ষের প্রথম গভর্ণর জেনারেল হবেন জিন্নাহ্। পরবর্তি টার্মে নেহেরু। নেহেরু, প্যাটেলরা এটা মেন নিতে পারেননি। তাঁরা পরিকল্পিতভাবে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা উসকে দিয়েছিলেন ( রেফারেন্স চাইলে এই মূহুর্তে তা দিতে অপারগ )। এবং গান্ধীজীকে বুঝিয়েছিলেন, স্বাধীন ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলমান একত্রে বসবাস অসম্ভব। অগত্যা...।

আগামী পর্বগুলোর অপেক্ষায় রইলাম। আশা করছি, অনেক নাজানা তথ্য জানতে পারবো।

মন্তব্য : প্রৌঢ়ভাবনা

হাসান মোরশেদ এর ছবি

আগরতলা থেকে লিখছেন? বাহ!
পশ্চিম বাংলার বাইরে ও ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষী মানুষরা লিখুন।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

তাপস শর্মা এর ছবি

জি হাসান মোরশেদ ভাই আগরতলা থেকে বলছি।
আপনাকে ধন্যবাদ।

পাঠকO এর ছবি
তাপস শর্মা এর ছবি

জি হ্যাঁ পাঠকO - এস এম মাহবুব মুর্শেদ ভাই এর উত্তরে আমার ৩ নম্বর কমেন্টস দেখলেই বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই ব্যাপারটা। আমি deconstruct করছি এটারই।

আমি ওদের কথাই বলে যাচ্ছি।deconstruct করে। আপনাকে বলি এটাকে আমি গল্পের পর্যায়ে রাখতে চাইছিনা। ওদের সবার কথাই আসবে। তবে অন্য ধারায়। মানে আমার লেখার ট্যাগিং এ বোধহয় দেখেছেন

চলচ্চিত্র

প্রসঙ্গ আছে। এটা অনুভুতির রচনা বলতে পারেন। ওরা ২০০৩ অবধি দেখিয়েছে, আর আমি ২০১১ পর্যন্ত এসে থামব। মানে সুপ্রিয় সেনের জীবনপঞ্জী হয়ে, বিবিসি অ্যাওয়ার্ড পর্যন্ত।একেবারে চলচ্চিত্র প্রসঙ্গ নয়। ওখান থেকে বিনির্মাণ করে আনা সাধারণ রসদ।

ধন্যবাদ।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

ভালো লেগেছে, চলুক।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

তাপস শর্মা এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-রাতঃস্মরণীয় দাদা

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

অসাধারণ তাপসদা!!!! পরের পর্ব দ্রুত চাই............ চলুক


_____________________
Give Her Freedom!

তাপস শর্মা এর ছবি

ধন্যবাদ অলি

দিঠিহীন এর ছবি

সবাই রাজনীতিবিদদের কথাই বললেন, নষ্টের গোড়া ইংরেজগুলোর কথা কেউ তুললেন না দেখে অবাক হলাম। দেশভাগের এই বিশাল ট্র্যাজেডির মূলে ইংরেজদের প্রধান শাসন-নীতি 'divide and rule', তারই জের দুটো দেশের মানুষ এখনও টেনে বেরাচ্ছে। শকুনের পয়দাগুলো (ভাষা রূঢ় মনে হলেও ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি) রাজনীতিবিদ মাথামোটাগুলোকে উস্কে দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই ভারতবর্ষকে পঙ্গু করে নেয়ার চেষ্টা নিয়েছিল। খুব একটা ব্যর্থ হয়েছে এমনটা এখনো বলা যায় না। ইংরেজ চলে গেলেও এইভাবেই দ্বিধাবিভক্ত পরচুলা ফেলে গেছে- সালমান রুশদির অসাধারন রূপকটি এই পরিস্থিতি নিরুপণে দুর্দান্ত কার্যকর।

শুধু ধর্মের ভিত্তিতে, একই ভাষাভাষি, একই সংস্কৃতির ধারক একটি জনগোষ্ঠীকে এভাবে ভাগ করে দেয়ার মত নির্মম, অমানবিক ঘটনা কি বিশ্ব-ইতিহাসে আর আছে? এর জ্বালা বা কষ্টের পরিধি হয়ত হাজার উপাখ্যানেও তুলে আনা সম্ভব নয়। তবুও একে আপন বক্ষে ধারন করে কাগজে (নাকি স্ক্রিনে?) ঢালা সফল সাহস প্রদর্শনে আপনাকে অভিনন্দন। লেখা ভাল লেগেছে অনেক। অবশ্যই চলুক।

-------
দিঠিহীন

তাপস শর্মা এর ছবি

জি। স্ক্রিনে বহন করেছে সেন মশাই এর ছেলে সুপ্রিয় । আর কাগজে আমি বহন করতে চাই। তাই লেখাটাকে নিছক চলচিচত্র স্মানোচনায় না রেখে একে Deconstruct করবার চেষ্টা করছি।

দিঠিহীন আপনাকে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ইংরেজ চলে গেলেও এইভাবেই দ্বিধাবিভক্ত পরচুলা ফেলে গেছে- সালমান রুশদির অসাধারন রূপকটি এই পরিস্থিতি নিরুপণে দুর্দান্ত কার্যকর

চলুক

দিঠিহীন এর ছবি

তাপস ভাই, কোন ডকু থেকে ঘটনাটা নেয়া জানাবেন? সুযোগ হলে আমরাও দেখি।

তাপস শর্মা এর ছবি

দিঠিহীন। আগামি পোস্টে লিঙ্ক এবং অন্যান্য যাবতীয় তথ্য নিয়ে আলোচনা করার আশা রাখি। যদিও আমার সময় আমাকে সে সুযোগ দিচ্ছেনা। যদিও আশা রাখছি অতি শীঘ্রই পেরে উঠব।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

'দেশ' কি একটাই ছিল? নাকি অনেকগুলা থেকে শেষপর্যন্ত মাত্র ৩টা হইছে? সিরিজ চলুক ...


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

তাপস শর্মা এর ছবি

অনিন্দ্য রহমান ভাই দেশ তো একটাই ছিল।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

অনিন্দ্যর ধারণাটিই ঠিক হবার কথা। ভারতবর্ষের দেশগুলোকে এক ছাতার নিচে এনেছে মুঘল-ব্রিটিশদের মতো বহিরাগত শক্তিরা। সেটা তাদের শাসন-শোষণের সুবিধার্থে। ত্রিপুরার কথাই ধরুন, ব্রিটিশ আনুগত্য মানতে বাধ্য হলেও ত্রিপুরা সব সময় আলাদা দেশই ছিলো। একইভাবে কাশ্মীর, হায়দরাবাদ, জুনাগড়, কাপুরথালা, রাজপুতনা, বিজাপুর, গোলকুণ্ডার মতো অনেক দেশ ছিলো। সেই দেশগুলোর একটা থেকে আরেকটাতে যেতে পাসপোর্ট-ভিসা লাগতো না। সেটা আজকের ইউরোপের দেশগুলোতেও তো লাগে না। ১৯৭৪ সালের আগে সিকিম কি ভারতের অংশ ছিলো? আরো উদাহরণ দিতে পারি, তবে তার দরকার নেই - সেগুলো সবাই জানেন। স্বাধীন দেশীয় রাজ্যের ইতিহাসকে অস্বীকার করে ভারত, বাংলাদেশ বা পাকিস্তান নিজেদের সত্য ইতিহাস নির্মাণ করতে পারবে না।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

দারুণ বিষয়বস্তু। আগ্রহ নিয়ে পরের পর্বের অপেক্কাহ্য রইলাম।

তাপস শর্মা এর ছবি

আপনাকে ধন্যবাদ সুহান রিজওয়ান মহাশয়

মাহবুব লীলেন এর ছবি

ভারত কি আদৌ ভাগ হয়েছিল ৪৭ এ?
নাকি ভারত ভাগ ভাগই ছিল?

৪৭ এ ভাগ তো হয়েছিল বাংলা পাঞ্জাব আর কাশ্মীর...

০২

চলুক এই লেখা
অন্য মন্তব্য নেই
শুধু দেশবিভাগের বিষজর্জর নিজের একটা লেখা একটা গল্প এখানে শেয়ার করে যাই

সাই দ এর ছবি

আমারও এই একই প্রশ্ন

ভারত কি আদৌ ভাগ হয়েছিল ৪৭ এ?
নাকি ভারত ভাগ ভাগই ছিল?

৪৭ এ ভাগ তো হয়েছিল বাংলা পাঞ্জাব আর কাশ্মীর..

তাপস শর্মা এর ছবি

লীলেন ভাই খুবই অর্থবহ কথা বলেছেন।

ভারত ভাগ হয়েছিল এটা তো কাগুজে ব্যাপার। মানে ভারতের পার্টস বলে বাংলা পাঞ্জাব আর কাশ্মীরকে কাগজেই ছিন্ন করে দেওয়া হল।
সবচেয়ে বড় কথা ৪৭ এর মধ্যরাতের স্বাধীনতা কি আদৌ স্বাধীনতা ?

আর দেশ ভাগ কাকে বলে তা কি বাংলা পাঞ্জাব আর কাশ্মীরের মানুষ ছাড়া এই উপমহাদেশের বাকি অংশের মানুষ অনুভব করেছে?

০২
আপনাকে ধন্যবাদ।
সব সময় না বলতে পারলেও মাঝে মাঝে কিছু বলে যাবেন আশা করি। তাহলে ভাল লাগবে।

বিষজর্জরের উপাখ্যান আপনার লেখা

বেঢপ

গল্পটা পরে এলাম। এই গল্পের শেষে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছু করার কিংবা বলার থাকে না।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

গুজরাটের দাঙ্গার জন্য যাকে দায়ী করা হয়, সেই নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ কি আদৌ গ্রহণ করা হয়েছে? রাস্ট্রীয় কিংবা গণভাবে! পেপারে সেদিন দেখলাম নরেন্দ্র মোদীর নাম ভারত রাস্ট্রের বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা পদের সাথে জড়ানো হচ্ছে বা জড়ানোর সম্ভাবনা তৈরী হচ্ছে [খবরটার লিংক দিতে পারছি না বলে দুঃখিত]। নরেন্দ্র মোদীর মতো একজন ঘৃণ্য, মানবতা লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি কী করে রাস্ট্রে এতো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরী করে ফেলে!
যদি সম্ভব হয়, এটা নিয়ে বিশদ লিখবেন দয়াকরে! পোস্টের সঙ্গে অফটপিক হলে মন্তব্যাকারে।

কৌস্তুভ এর ছবি

পার্টিশনের ক্ষেত্রে অফটপিক হলেও, বড় একটা ইস্যু আপনি তুলে এনেছেন। অনেকেই দেখি বলে, মোদী গুজরাটের অনেক উন্নতি করেছেন, বাংলা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া টাটাকে গুজরাটে জায়গা দিয়েছেন, ইত্যাদি ইত্যাদি, কিন্তু মূল প্রশ্নটাই মিস করে যায়, যে গণহত্যায় দায়ী একটা লোক এখনও মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকে কী করে? তার তো থাকা উচিত জেলে!

মোদীর বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্ট এনকোয়ারির অর্ডার দিয়েছিল, যার ফল বেরোনোর কথা এই সোমবার। দেখা যাক।

তবে আমাদের দেশে অধিকাংশ রাজনীতিকদেরই কিছু হয় না। মোদী তো কেন্দ্রের শাসকদল কংগ্রেসের উলটো পার্টির লোক, আশা করেছিলাম তারা অন্তত কড়া হবে। কচু হল। আর এখন নানারকম দুর্নীতির দায়ে যে মন্ত্রীদের ধরা হচ্ছে (অনেককেই ধরা হচ্ছেও না), তাদের বিরুদ্ধেও তদন্তে জল মেশানো চলছে।

এখানে এবার একটা তুলনা টানি (পাগল মন ভাই যদি রুষ্ট হন, নাচার), যেটা পার্টিশনের সঙ্গেও সম্পর্কিত - সুরাবর্দী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে হিন্দুদের উপর দাঙ্গায় এই একই রকম মদত দিয়েছিলেন। তাঁর কোনো শাস্তি তো হলই না, বরং পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলেন, বাংলাদেশে বিশাল মর্যাদায় শায়িত আছেন। এই হতভাগা মোদীর ব্যাপারটাও অমনই হলে আশ্চর্য হব না!

পাগল মন এর ছবি

কৌস্তুভ ভাই, নামটা সুরাবর্দী হবে না, হবে সোহরাওয়ার্দী।

আর আমি ফজলুল হক, সোহরাওয়ার্দী এদের উপরে বিশেষ ক্ষিপ্ত কেননা উনাদের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উনারা বাংলাভাগ থামাতে পারেননি, চেষ্টা করেছেন বলেও ঠিক মনে হয় না। তবে সোহরাওয়ার্দীর হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় মদদ দেয়া সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না, কোথাও কখনো পড়েছি বলেও মনে পরে না। তাই এটা নিয়ে প্রতিবাদ কিংবা সমর্থন কোনটাই জানাতে পারছি না।

তবে মুজিব সম্পর্কে আপনার মন্তব্যটি আমার ভালো লাগেনি। সেটাতো হতেই পারে তাই না?

বাই দা ওয়ে, আপনার প্রতিব্যাখ্যা আমি মেনে নিয়েছি, সো নো হার্ড ফিলিং। হাসি

------------------------------------------
হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস
তবুও তো ভাই কারোরই নাই, একটুখানি হুঁশ।

কৌস্তুভ এর ছবি

একটু মস্করা করলুম রে ভাই চোখ টিপি

ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে সম্পর্কে উইকিতে যা লেখা আছে সেটা স্পষ্টতই একটা প্রো-হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা, বায়াসড ভাষায়, কিন্তু দাঙ্গার তথ্যগুলো পড়া যায়। ওটাই দিচ্ছি:

The most consequential of his life's achievements was his role in the great Calcutta riots of 16 August, 1946 - The Muslim League's 'Direct Action' day. He was the Chief minister of the Bengal province - the only province which was ruled by Muslim League. It was therefore no surprise that it was Calcutta that witnessed the massacre of about 10,000 Hindus on the four days from 16th August to 20th August of 1946.

The intensity of Direct Action Day was at its worst in the capital Calcutta. Suhrawardy owned up his responsibility [In the presence of Gandhi & before the people of Calcutta during Gandhi's stay at Beliaghata in August 1947 just before independence] for both orchestrating and not taking steps to prevent the carnage and for trying to suppress the news of the same from the media. Suhrawardy ordered the goons of Calcutta to murder any hindu who would dare open his shop/store or come out into the streets disregarding the Muslim league's call for 'Bandh'/'Direct Action'. This was carried out with perfection and soon the skies of Calcutta echoed with the death screams of thousands of Hindus. It was not until when finally the Hindus found that it was a carefully planned murdering campaign, and began retaliating, that Suhrawardy asked the army to 'control' the riot. The Bengal Police, composed mainly of Muslims, was conspicuous by its inaction as Hindus were being butchered in broad daylight. [ Leonard Mosley, the pro-Muslim British journalist, gives a vivid portrayal of Suhrawardy's character when he says "...In Calcutta he [Suhrawardy] could find the night-clubs he loved, the blondes he loved even more; and there was something about the smell, squalor, poverty and even the wickedness of the city which appealed to his temperament..."

রাগিব এর ছবি

কৌস্তভ, উইকির এই নিবন্ধটা যার হাতে লেখা, তার উপরে আদৌ ভরসা রাখার কারণ দেখিনা। ইংরেজি উইকির বেশ কিছু নিবন্ধে এই রকম চরমপন্থী ইতিহাস যোগ করা হয়ে গেছে। সমস্যা হলো, জামাতী ছাগুদের ঠেকাতে বাংলাদেশে যেমন অনেকেই তৎপর, ভারতে এহেন হিন্দুত্ববাদীদের ঠেকানোতে লোকজন সেরকম আগ্রহী না। ইংরেজি উইকির দক্ষিণ এশীয় নিবন্ধে সংঘবদ্ধভাবে হিন্দুত্ববাদী প্রচারণা যোগ করা হয়েছে। সেকুলার ভারতীয়রা সম্ভবত নিজেরাও এই ইতিহাসে বিশ্বাসী।

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

কৌস্তুভ এর ছবি

সেই তো বললাম, এটা একটা বায়াসড লেখা। তবে সোহরাওয়র্দীর ভূমিকার কথাটুকু মিথ্যা না, তাই দিলাম।

তাপস শর্মা এর ছবি

তবে আমাদের দেশে অধিকাংশ রাজনীতিকদেরই কিছু হয় না। মোদী তো কেন্দ্রের শাসকদল কংগ্রেসের উলটো পার্টির লোক, আশা করেছিলাম তারা অন্তত কড়া হবে। কচু হল। আর এখন নানারকম দুর্নীতির দায়ে যে মন্ত্রীদের ধরা হচ্ছে (অনেককেই ধরা হচ্ছেও না), তাদের বিরুদ্ধেও তদন্তে জল মেশানো চলছে।

মোদীদের বিচার কখনোই হয় না। এরাই নষ্টের কাণ্ডারি আবার এরাই বিচারক!!!!
২০০৩ সালে তার পরোক্ষ মদতেই গোটা দাঙ্গা পরিচালিত হয়। আরএসএস এর পাণ্ডারা যেন মোদির লালিত ভাই???? গুজরাটের মামলায় কত কমিশন বসল সব কাঁচকলা

আর মোদির গুজরাটে টিকে থাকার পেছনে কিছু অন্যান্য রাজনিতিক ফ্যাক্টর কাজ করেছে
১। উগ্র জাতীয়তাবাদের জিগির তুলে সস্তা আনুগত্য অর্জন।
২। গুজরাটের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে one man army হয়ে কাজ করা।
৩। হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন আরএসএস এর ঘনিষ্ঠ হওয়া। এর কারণ অবশ্যই মোদির মৌলবাদী কুচেতনা।
৪। বিজেপির অভ্যন্তরে তার আধিপত্য।

তাই আগামী দিনে বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলে এই মানুষটিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দেখা যেতে পারে!!! এটাই চরম বাস্তব???

তাই বলি হারামিদের(বলতে হল) কখনোই বিচার হয়না

আর
আমার বাংলাদেশের দেহ ইতিহাসের পাতায় নানা সময় জুড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। একটা উদাহারন দিয়ে বলছি। বাংলার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের প্রায় কোনো ইতিহাসই নেই। একে বলা হয় ‘অন্ধকার’ যুগ। এর কারণ অন্বেষণে পাওয়া যায় ধর্মীয় বীভৎসতার জলাঞ্জলি।

ইস্কান্দর বরকন্দাজ এর ছবি

অভিনন্দন

..................................................................
আমি ছুঁয়ে দিতে চাই সেই বৃষ্টিভেজা সুর...

তাপস শর্মা এর ছবি

আপনাকে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-
ইস্কান্দর বরকন্দাজ মহাশয়

আশালতা এর ছবি

অনেকদিন আগে দিল্লিতে একবার পথ হারিয়ে উদ্ভ্রান্ত ঘোরার সময় রিক্সায় উঠে ইতিউতি চাইছি, এমন সময় রিক্সাওলা খাঁটি রাজশাইয়া টানে বাংলায় কথা বলে উঠায় কি যে খুশি লেগেছিল। এইসব লক্ষ্মণরেখা তো কই মনের ওপর আঁচর ফেলতে পারেনা। তবু কতকগুলো শয়তান লোকের জন্য আমাদের স্বজনহারা হতে হয় বারবার।
পোস্ট অসাধারণ হচ্ছে। চলুক

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

তাপস শর্মা এর ছবি

এই তো আমাদের চিরদিনের হাহাকার আশালতা।
প্রাণ চায়। কিন্তু রাষ্ট্র শক্তি পেশির আস্ফালন দেখায়।
বাংলার মাটি বাংলার জল এক সুরে গাঁথা হয়েও কাটাতারের বন্দীশালায় আবদ্ধ।

pathok(sam) এর ছবি

চলুক

তাপস শর্মা এর ছবি

thanks স্যাম ভাই।
আর আপনার করা ব্যানার গুলো তো জাস্ট ফাটাফাটি হাসি

তানিম এহসান এর ছবি

আমার সবসময়ই মনে হয় আমাদের বর্তমান সময়ের সমস্যা বুঝতে হলে ৪৭ এর দেশভাগ এর সূদুরপ্রসারি প্রভাবকে বুঝতে হবে আরো বেশি করে। নেহেরু, প্যাটেল কিংবা অন্যদের সমালোচনা করার আগে আামর মনে হয় ব্রিটিশদের বিচার চাওয়া দরকার, এরা ৪৭ এর ভাগাভাগিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ সাম্রাাজ্যবাদি চিন্তার যে বীজ রোপন করে গিয়েছিলো তার ফসল এরা এখনও খাচ্ছে!

মন্তব্যগুলো পড়লাম, নেতাজির কথা বারবার এসেছে দেখে ভালো লাগলো, কেন জানিনা এই , মানুষটাকে নিয়ে আমার মধ্যে ব্যপক আগ্রহ কাজ করে।

আপনার পোস্ট নিয়ে এখনই কিছু বলবোনা তবে অপেক্ষায় থাকবো। একদম প্রথম থেকেই আপনি খুব আলাদা একটা আঙিক থেকে লেখা শুরু করেছেন - লেখা চলুক! শুভেচ্ছা,

তাপস শর্মা এর ছবি

ব্রিটিশদের বিচার চাওয়া দরকার, এরা ৪৭ এর ভাগাভাগিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ সাম্রাাজ্যবাদি চিন্তার যে বীজ রোপন করে গিয়েছিলো তার ফসল এরা এখনও খাচ্ছে!

আপনাকে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- তানিম এহসান

পাঠ এর ছবি

দেশভাগ নিয়ে সাহিত্য বলতে শুধু সুনীল-এর পূর্ব পশ্চিম পড়েছি -- আর কোনো লেখা কি রিকমেনড করবেন কেউ

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

হাচলত্বের অভিনন্দন।

আগরতলা থেকে লিখছেন জেনে ভালো লাগলো। বাংলা ভাষা ও বাঙালীর মঙ্গল হোক।

খুব ভালো একটা টপিক নিয়ে লিখছেন দাদা। চলতে থাকুক....

আমি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহরের এমন একটি জায়গায় থাকি যেখানে ২৫% লোক ৪৭'-এ দেশভাগের পর ভারতের নানা প্রান্ত থেকে আসা মুহাজির মুসলমান। এঁদের বয়োজ্যেষ্টদের কাছে ৪৭' এর ধর্মীয় দাঙ্গার ভয়াবহ কাহিনী শুনেছি।

ধর্ম আর ধর্মীয় পরিচয় বেশির ভাগ সময়ই মানবতার উর্ধ্বে চলে যায়।

লিখা চলতে থাকুক দাদা।
মানবতার জয় হোক।

রাব্বানী এর ছবি

আমার ব্যক্তিগত ধারণা মানুষ যতদিন ধার্মিক থাকবে ততদিন ধর্মীয় দাঙ্গা, নিপীড়ন চলবে(ধর্মের কাজই বিভেদ তৈরী করা)। আর আমরা এটা নিয়ে ব্লগ লিখব , ডকুমেনটারি বানাবো, চোখের পানি ফেলবো, তারপর ভুলে যাব।

লেখার জন্য শুভেচ্ছা

তাপস শর্মা এর ছবি

এভাবেই চলার পথ চলতে থাকবে, ভাই রাব্বানী।
ভালো থাকবেন।

তাপস শর্মা এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- সবুজ পাহাড়ের রাজা

ধর্ম আর ধর্মীয় পরিচয় বেশির ভাগ সময়ই মানবতার উর্ধ্বে চলে যায়।

আর আপনার অভিজ্ঞতা গুলোও লিখুন না

আশফাক আহমেদ এর ছবি

দারুণ বিষয়বস্তু আর কমেন্টে-প্রতিকমেন্টে দারুণ সব আলোচনা
পড়ে যাচ্ছি

-------------------------------------------------

ক্লাশভর্তি উজ্জ্বল সন্তান, ওরা জুড়ে দেবে ফুলস্কেফ সমস্ত কাগজ !
আমি বাজে ছেলে, আমি লাষ্ট বেঞ্চি, আমি পারবো না !
আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !

তাপস শর্মা এর ছবি

সিরিজটা এবার আবার শুরু করে একেবারে টানা শেষ করব ভাবছি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।