কিছু মজার হাদিস

অপ বাক এর ছবি
লিখেছেন অপ বাক (তারিখ: বুধ, ০৩/০৫/২০০৬ - ৩:১৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মাঝে মাঝে মানুষের বিশ্বাস আমাকে অবাক করে, কি রকম অবলীলায় মানুষ নিজের বিবেচনাবোধ বন্ধক রেখে উপাসনা করে এবং ঈমানের কথা বলে সব কিছুকেই বাস্তব বিবেচনা করে।
আজ হাতে সামান্য অবসর ছিলো তাই হাদিস ঘাটলাম কিছু, যদিও মানুষজন আমাকে ঘৃনা করতে পারে এ কথা বলার জন্য আমি মনে করি মি'রাজের বিষয়টা সম্পুর্ন মিথ্যা, একটা গল্প বানিয়ে বলেছে, এই গল্প বানানোর পিছনে কোনো উদ্দেশ্য হয়তো ছিলো, কিন্তু আগেই বলেছি বিশ্বাসি মন কখনই যাচাই করে সত্য খুঁজে না, মানুষ যেভাবে গুজব রটাতে পছন্দ করে তেমনই সাবলীল বিশ্বাসে মানুষকে ভ্রান্ত করা সম্ভব।
আমাদের প্রিয় মুসলমান ভাই বোনেরা কতটুকু মুসলিম? তারা কতটুকু সুন্নাহ এবং আল্লাহর নিয়ম মান্য করে এটা জানতে ইচ্ছা করে।
আয়েশা বর্নিত একটা হাদিস পেশ করি- যার বক্তব্য-
কোনো জীবন্ত প্রানীর ছবি কোনো বাসায় থাকলে সেই বাসায় ফেরশতাগন প্রবেশ করবে না, এই জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে মানুষও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং মানুষের ছবি তোলা নিষিদ্ধ কাজ, হাদিসের মতে যে ছবি তোলার কাজটা করবে তাকে নিশ্চিত নরকবাস করতে হবে, সে হিসাবে বর্তমান যুগের সব ক্যামেরা এবং ফটোগ্রাফার নিশ্চিত জাহান্নামে বসবাস করবে। আমার প্রিয় সাদিকও আমার পাশে নরকে বসে থাকবে, আমরা হয়তো হালকরা আগুনের আঁচে বন ফায়ার করতে করতে 2 /4 কাপ কফি খেয়ে সেই মৌতাতে পরবর্তি আলোচনা চালিয়ে যাবো।
এমন কি কুকুর বাসায় থাকলে সে বাসায় ফেরেশতা প্রবেশ করে না, কুকুরের সাথে ফেরশতার দন্দ্ব কেনো? কোনো কারন নেই, একটা কারন হতে পারে মুহাম্মদ বিড়ালপ্রেমী ছিলো এবং বিড়াল এবং কুকুরের মধ্যে প্রেম বিষয়টা নেই, কিংবা কুকুর প্রভুভক্ত বিড়াল আদর চায় কিন্তু হাগলে সেই হাগা ঢেকে ফেলে এই শালীনতা বোধের জন্য বিড়ালওয়ালা গৃহে ফেরেশতা প্রবেশ করে, কুকুরের এক ঠ্যাং তুলে প্রসাব করা দেখে ফেরশতা বিরাগ হতে পারে ।
আয়েশা বর্নিত অন্য একটা হাদিস- এটাও মজাদার হাদিস, কোনো এক দিন মুহাম্মদের মন খারাপ ছিলো, বিষন্ন মনে তিনি পথ চলিতেছিলেন, এমন সময় হতাশায় তিনি ধুলিশয্যা নেন, তৎক্ষনাত এক খন্ড মেঘ তাকে ছায়া দিতে ভেসে আছে, সেই মেঘের উপরে বসা ছিলো জিব্রাঈল, তার সাথে মুহাম্মদের কথাবার্তা হয়,এবং পর্বতের অধিকারী ফেরেশতা এসে মুহাম্মদকে বলে যদি আপনি চাহেন তবে আমি এই পর্বত দিয়ে পিষ্ঠ করে দিতে পারি সে সব নাফরমান বান্দাদের, মুহাম্মদের করূনাভরা হৃদয়, মুহাম্মদ পর্বত ভেঙে ফেলতে চান নি নাফরমান বান্দাদের উপরে ,
কথা হলো পর্বত তো আর প্যাকেটে রাখা বিস্কুট নয় তুললাম আর মাথার উপর ভেঙে দিলাম, কিন্তু বিশ্বাসী মন এই প্রশ্ন করবে না এই বিষয়টা যৌক্তিক কি না, তার কথা আল্লাহ চাহেন তো পর্বত কেনো গোটা পর্বত মালা হাওয়ায় নাচতে নাচতে ভেঙে পড়তে পারে, এখন কথা হলো যদি এই সব অবাস্তব বিষয় বলে মুহাম্মদ তার অনুসারীদের সম্ভ্রম আদায় করতে চায় তাহলে তাকে শঠ বলা যাবে কি না।
যাই হোক মেরাজের ঘটনাটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করা শোভন নয়, কয়েকটা তথ্য- পৃথিবী থেকে 20000 ফুট উপরে মানুষের পক্ষে কোনো রমন যান্ত্রিক সহযোগিতা ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব নয়,
বায়ুমন্ডলের বাইরে কোনো অক্সিজেন নেই সুতরাং কোনো রকম প্রক্রিয়ার অক্সিজেন সরবরাহ করতে না পারলে মৃতু্য হবেই, এবং এ ছাড়াও সে খানে তাপমাত্রা -270 ডিগ্রি সেলসিয়াস, অধিকাংশ জীব কোষই -25 ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃতু্য বরন করে। প্রথম আসমান 2য় আসমান এই ভাবে যেতে যেতে 7ম আসমানে আল্লাহর বাসা, সেখানে প্রতিদিন 70000 ফেরেশতা মানাজ পরে, ফেরশতার সংখ্যা এত বেশি যে এই 70000 ফেরশতা অনন্ত কাল পরেও 2য় বার সেখানে আসার সুযোগ পাবে না, কথা হলো এই সব অলীক বিষয়ের পরও কিভাবে এই কেতাব যা কি না মহাবিশ্ব সৃষ্টি হওয়ার পর সপ্তম দিনের অবসরে লিখিত এবং যেটা আল্লাহর আসনে অসীন ছিলো এবং অতঃপর থাকে লাওহে মাহফুজে রাখা হয় এবং যেটার একটা কাছাকাছি সংস্করন আমরা পড়ি, সেটার ভিত্তিতে দেশ শাসনের কামনা করা কতটুকু যৌক্তিক, সম্পুর্ন কোরান কেউ দেখে নাই, হয়তো যেই অংশটুকুক্বারদের বুকের ভিতরে থেকই কবরবাসী হয়েছে সেই অংশটুকুতেই বর্তমান যুগের পড়য়োজনীয় সব আইন ছিলো, ওটা যখন কবরে চলে গেছে আমরা মনুষ্যসৃষ্ট অন্য ব্যাবস্থাগুলো বিবেচনা করি, গনতন্ত্র বিষয়টা খারাপ নয়, যদিও একটা সমস্যা থেকেই যায়, বাছাই করার জন্য যখন শুধু কিছু অপরাধী থাকে তখন তাদের ভেতর থেকে বাছাই করে নেওয়া কঠিন, কিন্তু এই পরিবেশটা আমরা বদলাতে পারি, আমরা নিজেরা সচেতন হলেই যেকোনো পদ্ধতি বদলাতে বাধ্য, যদি মানুষ না চায় তবে স্বয়ং আল্লাহ এসেও কোনো কিছু বদলাতে পারবে না।


মন্তব্য

সারা এর ছবি

সুন্দর লেখা, এবং বিশ্লেষন।

দুর্দান্ত এর ছবি

ভাল উদ্দেশ্যে লেখা বোঝাই যাচ্ছে। তবে পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে বেশ তাড়াহুড়ায় লেখা। যা বলতে চেয়েছেন, তার সবটুকু কি লেখায় এসেছে?
---
মেরাজ নিয়ে অবিশ্বাসের কিছুটা ভিত্তি পড়া গেল, কিন্তু এই মিথ্যাটি ওই বিশেষ সময়ে কেন বলতে হল এ নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।
---
কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোরানের ওপর হাদিসের মাতবরি লক্ষনীয়। কুকুরের কথাই ধরা হোক। সুরহা কাহাফ গুহায় ঘুমিয়ে পড়া একদল লোকের সাথে কিতমির নামক একটি কুকুরের গল্প। গল্পের শেষে কুকুরসহ এই দলটির মৃতদেহের ওপর স্থানীয় নেতাদের মসজিদ নির্মানের পরিকল্পনার কথা কোরানে আছে। (কাহাফ ১৮-২১)। মৃত কুকুরের কবরের ওপর মসজিদ বানানোর উদাহরন যদি কোরানে থাকতে পারে, তাহলে জীবিত কুকুর ঘরে ঢুকলে ঘর নাপাক হবে, এরকম হাদিসকে আমার মাতবরি বলে মনে হয়। আমার তো মনে হয় কুকুরের সাথে অসূচী বা অশুভের যে যোগাযোগ সেটা প্রাক-মোহাম্মদীয়। মোল্লারা তাতে অভ্যস্থ ছিলেন, এবং আরো অনেক কিছুর মত এটাকেও হাদিসে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। আর এমন কিন্তু নয় যে কুকুর নিয়ে বিতর্ক শেষ হয়ে গেছে। যা ওয়াহাবীদের কাছে সাদা-কালোর মত পরিস্কার, মালিকি বা শিয়াদের কাছে সেটা অতটা নয়। এখানে আরো পড়তে পারেন।

ওয়াইল্ড-স্কোপ [অতিথি] এর ছবি

মি'রাজের বিষয়টা সম্পুর্ন মিথ্যা, একটা গল্প বানিয়ে বলেছে

ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। "আমাদের প্রিয় মুসলমান ভাই বোনেরা" কতটুকু মুসলিম তাতে অন্য কারো কোনো বক্তব্য থাকার কোনো কারণ দেখি না।

কুকুর প্রভুভক্ত বিড়াল আদর চায় কিন্তু হাগলে সেই হাগা ঢেকে ফেলে এই শালীনতা বোধের জন্য বিড়ালওয়ালা গৃহে ফেরেশতা প্রবেশ করে, কুকুরের এক ঠ্যাং তুলে প্রসাব করা দেখে ফেরশতা বিরাগ হতে পারে ।

"সচলায়তন বাংলাদেশের অভ্যুদয়, এ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, আবহমান বাংলার সংস্কৃতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ধর্মীয় সহনশীলতা ও সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক উদারচিন্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।" আমার ধারণা ছিল সচলায়তনের নীতিমালা অনুসারে এই জাতীয় লেখা জোরালো ভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। লেখক সম্ভবত ইসলাম আর জামাতি ইসলামী এক করে ফেলছেন।

সম্পুর্ন কোরান কেউ দেখে নাই

!?

এই পোস্টটি পড়ে রাগিবের একটি কমেন্ট মনে পড়ে গেল -

ধর্মবিশ্বাস প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। সেটা যতক্ষণ জোর জবরদস্তি করে অন্যের উপরে চাপাবার চেষ্টা না করা হয়, ততক্ষণ কে বিগ ব্যাং এর ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করে, কে রাম সেতুতে বিশ্বাস করে, তার ভিত্ত্বিতে সেই ব্যক্তির তার অন্য পরিচয়কে ছোট করা চলে না। অমুক জিনিষ বিশ্বাস করাই যাবেনা -- করলে অ-মুক্তমনা বা আঁধারের যাত্রী, এরকম ভাবনার শিকল থেকে না বেরুলে ব্যক্তিস্বাধীনতা, মুক্তমানসিকতাই ঠাট্টায় পরিণত হয়।

চিলতে রোদ এর ছবি

চলুক
একমত পোষন করছি।

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

নেহায়েত তাচ্ছিল্য আর উপহাস নির্ভর সূত্রহীন লেখাটি হাদিসের উৎস, হাদিসের উপর ইসলামের নির্ভরতা ইত্যাদি সম্পর্কে লেখকের ধারনা কতটুকু তা প্রকাশ করতে যথেষ্ট নয়। তাই এ নিয়ে প্রশ্ন না করে বরং কয়েকটা তথ্য বিনিময় করি-

১. হাদিস শুরুতে লিপিবদ্ধ ছিল না। হাদিসের অন্যতম সংগ্রাহক ইমাম বোখারী এবং তার ছাত্র ইমাম মুসলিম সেগুলো লিপিবদ্ধ শুরু করেন হাদিস প্রণিত হবার কয়েক শত বছর পর। প্রজন্মান্তরে লোকমুখে সংগৃহীত হাদিস নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। উদাহরন স্বরূপ- আয়েশাকে উদ্ধৃত করে প্রায় ২২১০টি হাদিস আছে, অথচ তম্মধ্যে মাত্র ৩১৬টি হাদিস আছে যা বোখারী ও মুসলিম উভয়ই উল্লেখ করেছেন। বোখারী কখোনই বলেননি যে অমুক হাদিসটি আয়েশা বলেছেন। বরং তার লেখার ধরন ছিল “অমুক বলেছে যে তমুক বলেছে যে অমুক শুনেছে আয়েশা এটা বলেছে”।

কাজেই লেখকের “আয়েশা বর্নিত একটা হাদিস পেশ করি” ধরনের দাবী ভিত্তিহীন। আদৌ আয়েশা এটা বলেছিলেন কী-না সে বিতর্কে না যেতে চাইলে লেখক বরং বলতে পারতেন, “অমুক কর্তৃক আয়েশাকে উদ্ধৃত করে বলা একটি হাদিস পেশ করি”।

২. একমাত্র মুতাওয়াতির (Mutawatir) হচ্ছে ওই সকল হাদিস যা এত বেশি সংখ্যক সূত্র (source) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যে তাকে মিথ্যা বলা অসম্ভব। মুতাওয়াতির এর সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি নয়। বরং অনেক হাদিস নিয়েই ইসলামে বিতর্ক আছে। অসমর্থিত অনেক হাদিস দিয়ে কোরানের ব্যাখ্যা পাল্টে ফেলার ঘটনাও নেহায়েত কম নয়। উদাহরন স্বরূপ দেখুন এখানে

প্রশ্ন হচ্ছে, না জেনে ধর্মবিশ্বাস, আর না জেনে সেই বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মধ্যে কোনটা বেশি অজ্ঞতা প্রকাশ করে?

মূল লেখাটি নিয়ে তাই আর বেশি কিছু না বলাই ভালো। লেখাটি “প্রিয় মুসলমান ভাই বোন” সম্পর্কে যা না ধারনা দেয়, এর লেখক সম্পর্কে তার থেকে অনেক বেশি ধারনা দেয়।

-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

দুর্দান্ত এর ছবি

চলুক

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

[কপি করতে গিয়ে বাদ পড়েছিল এই অংশটুকু-]

ছবি সংক্রান্ত আলোচনায় লেখক সম্ভবত: বুখারীর চতুর্থ খন্ডের ৪৭ নং হাদিসের কথা বলেছেন। উল্লেখ্য যে, সে সময় যেহেতু ক্যামেরা ছিল না, এসংক্রান্ত সকল হাদিসই উদ্ধৃত হয়েছিল তাসবীর (taswir) বা অংকিত ছবি নিয়ে।

প্রথমত: কোরআনে (২১:৫২-৫৪) শুধু ছবি/মুর্তি পুজা করাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ছবি তোলাকে নয়।

দ্বিতীয়ত: হাদিস নিয়েও মতোভেদ আছে। কোরআন-হাদিসের অন্যতম ব্যাখ্যাদানকারী ইমাম মালিক এর অবস্থান ছিল ছবি তৈরির সপক্ষে। ইমাম মালিক ছিলেন সুন্নি ধারার অন্যতম প্রবক্তা (তিনি ইমাম শাফীর শিক্ষকও ছিলেন)।
তার মতানুসারে ছবি তোলা অবশ্যই গ্রহনযোগ্য।

এমনকি অদূর ইতিহাসের অনেক ইসলামবিদের মধ্যেও ছবি তোলাকে উৎসাহিত করতে দেখা যায়। দার-আল-ইফতার গ্রান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ বাখিত তো পুরো একটি গ্রন্থই (al-Jawab al-Shafi fi Ibahat Surat al-Photography) রচনা করেছেন ছবি তোলাকে সমর্থন করে।

তাহলে হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন ছবির বিপক্ষে এতো যুক্তি এলো কোত্থেকে?

বলছি। আগে মূল লেখার এই লাইনটা আরেকবার পড়ুন-

সুতরাং মানুষের ছবি তোলা নিষিদ্ধ কাজ, হাদিসের মতে যে ছবি তোলার কাজটা করবে তাকে নিশ্চিত নরকবাস করতে হবে, সে হিসাবে বর্তমান যুগের সব ক্যামেরা এবং ফটোগ্রাফার নিশ্চিত জাহান্নামে বসবাস করবে।

কত সহজেই তাসবীর নিয়ে উদ্ধৃত একটি হাদিসকে ব্যাখ্যা করে লেখক বর্তমান যুগের সকল ফটোগ্রাফারদের উপর একটি ফতোয়া চাপিয়ে দিলেন!!

মাত্র এক মুহুর্তে একজনের হাতে যদি একটা হাদিসের এই পরিমান পরিবর্তন ঘটে, তাহলে কয়েক শত বছরে কয়েক পুরুষে কী হতে পারে ভাবুন! একেই বলে দশ চক্রে... হাসি

-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

রতন কুমার সমদ্দার এর ছবি

মিরাজ সম্পর্কে লেখকের ধারণা সমর্থনযোগ্য। কিন্তু শুধু মিরাজ নয়, এরকম হাজারো অসংগতি রয়েছে আমাদের ধর্ম গুলোয় যা বিশ্বাসীরা চোখে দেখে না বা দেখবে না। কিন্তু আমার কাছে বিস্ময়ের ব্যাপার মনে হয় যখন দেখি শিক্ষিত মানুষগুলো সকল প্রকার যুক্তি বিসর্জন দিয়ে তাদের পথ অনুসরণ করে। কোরআন কিংবা হাদিস একান্তই সময়ের প্রয়োজনে উদৃত বাক্য যার অধিকাংশই বর্তমানে অপ্রয়োজনীয়। ধর্ম পুরোটাই সামাজিক culture and rituals, ইসলাম এ সংজ্ঞাটাকেই পরিবর্তন করে দিয়েছে। আরবী সংস্কৃতিকে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে অন্য সমাজে এবং সংস্কৃতিতে। সুতরাং কেউই পুরোপুরি পরিপালন করতে পারছে না, সম্ভবো নয়।

শুধু অসংগতি নয়, অমানবিক কার্যকলাপে ভর্তি আমাদের ধর্ম এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। ধর্মের সবচেয়ে খারাপ দিক হলো এটা মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখায় না বরং হিন্দু, মুসলমান, ইত্যাদি ভাবতে শিখায় যা অত্যন্ত ঘৃনার্হ। ইসলাম অনুসারীদের বিধর্মী কিংবা বেধর্মী শব্দটার ব্যবহার এর সবচেয়ে ঘৃণ্য এবং উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

ধর্মের নামে যত খারাপ কাজ পৃথিবীতে হয়েছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। এ অঞ্চলের "শ্রেণী বা জাত শোষণ" তো ধর্মের নামেই শুরু হয়েছিল।

বলে রাখা ভালো, বিধর্মী শব্দটি কিন্তু ইসলামী শব্দ নয়, এটি বাংলা শব্দ। বিদেশ, বিভূঁই যেমন অন্য দেশ বা অন্য ভূঁইকে ঘৃনা করার জন্য ব্যবহার করা হয় না, বরং অন্য দেশের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিধর্মী শব্দটাও তেমনি অন্য ধর্মকে বা অন্যের বিশ্বাসকে স্বীকৃতি দেবার জন্যই ব্যবহৃত হবার কথা, খারাপ অর্থে না। কেউ যদি এটাকে খারাপ অর্থে ব্যবহার করে, তাকে বলবেন এই ফেব্রুয়ারী আসার আগেই যেন একটা বাংলা অভিধান কিনে নেয় হাসি

[কী চিন্তায় যে আড়াই বছর আগের পোস্টে পোস্টানো শুরু হলো!]
-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

আলমগীর এর ছবি

বহু পুরনো লেখা।
অপবাক এখানে আর লেখেন না তাই জবাব পাওয়ার আশা ক্ষীণ।

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

হাহাহা... কী আশ্চর্য! গতকাল থেকে এই লেখাটা "গুঁতোগুতির শীর্ষে আজ"-এ দেখাচ্ছিল!

দেখলাম কেউ কমেন্ট করছে না, তাই দুটো কমেন্ট করলাম। এখন দেখছি এটা আড়াই বছর আগের লেখা!!

এজন্যই বলে "(তারিখ) দেখিয়া করিও পোস্ট, পোস্টাইয়া দেখিও না" !
-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

Neel Biplob এর ছবি

ভবে এসে ভাবছি বসে
হারা হলাম বুদ্ধি বল
বারো তার উদয় হলো
আমি নাচি কোন তাল।।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

কিডা গো আপনি কাকা? এতোকাল পরে এই পোস্ট ঠেলা দিলেন?



অজ্ঞাতবাস

সাইফ তাহসিন এর ছবি

এই জন্যেই বলি, 'সোনা' কথায় কান দিয়েননা চোখ টিপি
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

দাভিদ  এর ছবি

পাগলে কিনা কয়, ছাগলে কিনা খায়...

পাঠক এর ছবি

আপনার

আরেফিন এর ছবি

হাদিস নিয়ে মজা করা ঠিক না

frdayeen (দায়ীন) এর ছবি

আজাইরা পোস্ট। আন্দাজে লেখা। :-/

চিলতে রোদ এর ছবি

মানুষের জীবনে ধর্ম এসেছে অদৃশ্যশক্তির প্রতি আশ্রয় প্রার্থনার আকুলতা থেকে। কোন মানুষ যদি নিজেকে এবং নিজের সত্ত্বাকে ততটুকু শক্তিশালি মনে করে যে, তার ধর্মের আশ্রয় দরকার নেই... তবে তাকে সাধুবাদ জানাই। তবে নিজের 'বিশ্বাস' অথবা 'অবিশ্বাস' প্রচার করতে গিয়ে অন্য কারো 'ব্যক্তিগত বিশ্বাস' এর প্রতি আঘাত কোনভাবেই কাম্য নয়। কারন কোন মানুষ চায়না তার আশ্রয়ের জায়গায় কেউ আঘাত করুক। আশ্রয়ের সেই ঘর যতটা জীর্ণ হোক না কেন...স্থানটি সম্পুর্ণ তার নিজের। এখানে আঘাত করার সাহস স্বয়ং ঈশ্বরেরও নেই।

rasel এর ছবি

আমি বুজি না মানুস কে ভাবে এত আহামক হয়। এ গুল পরলে ত মানুস গাধা হয়ে জাবে ।।।।।।।।।।।।।।।।।ইমান তা জাবে ।।।।।।।।।।।।।পাগলে কি নাখায় ছাগলে কিনা খায়।।।।।।।।।।।ইসলাম সত্য

   Rafiqul Islam এর ছবি

একদিন এক নাস্তিক আমাকে বলেছিলেন যে একটি জোঁনাকি পোকা চললে রাতত্রিতে আলোকিত হয়ে যায় তাহলে ফেরেশতা যদি নূরের তৈরি হয় তাহলে তো তারা চললে তো সব আলোকিত হয়ে যেতো। প্রস্নটা শুনে যৌক্তিক মনে হয়েছিল কিন্তু পরে ভেবে দেখি মানুষ মাটির তৈরি কিন্তু সারা শরির খুজলেও তো একটু মাটি পাওয়া য়ায় না। তার মানে হল যা যে অবস্থায় দরকার সে ভাবেই আল্লাহ তৈরি করেছেন। তো কথা হলো সূর্যের তাপ ভেদ করে নবী কিভাবে মেরাজে গেলেন। আসলে এই কথা ভাবার মত মাথা এই নাস্তিক লেখকের নাই। ইনি বোধহয় যানে না ছাগল মার্কা মাথায় মহৎ কিছু ঢুকে না আর চেস্টা করলে হয়ে যায় ছাগলামি।

[ ইসলাম এবং হাদিসের সমালোচনা করার মত মাথা পৃথিবীতে নেই। সমালোচনা কারি নিপাত যাক।

Md. Sirazum Munir এর ছবি

মহান বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেছেন, "বিজ্ঞান সম্পর্কে অল্প জানলে আপনি নাস্তিক হবেন, আর বিজ্ঞান সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান থাকলে আপনি বুঝবেন সৃষ্টিকর্তা কতো মহান।" তাই কার জ্ঞান কতটুকু তা সেই লোকের কথাতেই বা প্রকাশেই বঝা যায়।

Md. Sirazum Munir এর ছবি

কিছু নাস্তিক আছে যারা কিনা বলে, শিক্ষিত হয়ে ধর্মে বিশ্বাস করে কিভাবে? যেই মানুষ নিজেকে নিজেই শিক্ষিত দাবি করে তার মতো অশিক্ষিত আর কয়জন আছে পৃথিবীতে !!!!

harshanasha এর ছবি

সব নাস্তিকই নিজেকে খুব চালাক মনে করে, আর সবাইকে বোকা ভাবে‌‍। এত লোক কী বোকা বাবা? তুমি একাই চালাক?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA