বঙ্গদেশে হলি গ্রেইল

সাবিহ ওমর এর ছবি
লিখেছেন সাবিহ ওমর [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৮/১১/২০১০ - ৩:২৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নেপোলিয়ন তখন জেসিকা থুড়ি এলবা দ্বীপে আটকা। অন্যদিকে তার ছোট শালা আর্টেরিও ডি ব্যালন পড়েছে মহা ফ্যাসাদে। এমনিতেই লন্ডন শহরে এসে ইংরাজ সেজে দুই বেলা ফিশ এন্ড চিপ্স খাওয়া লাগছে, তার উপর এই হলি গ্রেইলের পোটলা। পুরা জিনিসটা আটলান্টিকে ছুঁড়ে ফেলে আসার প্রবল ইচ্ছা হলেও বদদোয়া লাগার ভয়ে তা করা যাচ্ছে না।

এদিকে পাশের বাসার এক ইন্ডিয়ান নবাবপুত্তুরের সাথে তার নিদারুণ মাখামাখি। একদিন অমুকশায়ারের সাথে তমুকশায়ারের খেলা দেখতে দেখতে আর্টেরিও মুখ ফস্কে তাকে বলেই দিল, যে এরকম এরকম একটা জিনিস, খুব দামি, কিন্তু এটারে কই লুকায় রাখি বুঝতেসিনা। কাউরে যে দুইটা পয়সা দিয়া বলবো রাখতে সেই ভরসাও পাই না। দিনকাল যা পড়সে। তো পয়সার কথা শুনেই নবাবপুত্তুর লাফিয়ে উঠলো, “পাঠায় দাও ইন্ডিয়া! আমার লোক আছে। আমি রাখবো“

আর্টেরিও মুখ বেঁকিয়ে বললো, “হ্যাহ, হলি গ্রেইল যাবে ইন্ডিয়া? হলি গ্রেইল বানান করতি পারো?”

দ্বারকানাথ মুখ গোমড়া করে বলে, “এইটা কি কও মিয়া, ঘরে রীতিমত মাস্টার রেখে ইংরাজি শিখলাম। হলি হইল হেইচ ওকারে হো আর লি, হো-লি আর গিরেইল…”

“হইসেরে বাপ, মাফ চাই। বুঝলাম তোমরা বানান করতে পারো। কিন্তু ভাইডি, সমস্যা ওইখানে না।“

“সমস্যা কোথায়?”

“এইই, মুরুব্বিরা আছেন, তাদের একটা say আছে না? আর রিস্কেরও ব্যাপার…“

দ্বারকানাথ মনে মনে 'বোলপুরের দিকের জমিটার হিল্লে হয়ে গেল' এসব ভেবে খুবই এক্সাইটেড হলেও একটু ড্যামকেয়ার ভাব নিয়ে নিয়ে কাপড় থেকে বাদামের খোলা ঝাড়তে ঝাড়তে বললো, “তুমি জিকাও তাদের। আমার লোক আছে, তোমার গিরিল দেখে রাখবোনে।“

 ***

দুইদিন পর আর্টেরিও এসে টোকা দিল নবাবপুত্তুরের দরজায়, “ইয়ে সেদিন যে একটা জিনিসের কথা বলছিলাম…”

দ্বারকানাথ একগাল হেসে বলে, “তোমার হলিগলির ব্যবস্থা হয়ে গেছে আর্টেরিও! আমার ছেলেকে তার করেছিলাম। সে আজ সকালে জবাব দিয়েছে, “$ok?s&” মানে পেমেন্ট ওকে হয়ে গেলে নিশ্চিন্তে সেন্ড করে দাও। ওদের কীসব ক্লাবটাব আছে, ওরা সব ব্যবস্থা করে রেখেছে।“

আর্টেরিও আমতা আমতা করে, “কিন্তু মানে, ছেলেছোকড়ার ব্যাপার, টাকাপয়সার লেনদেন, আগে একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখলে…”

দ্বারকানাথ তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, “ছেলে আমার হীরার টুকরা। বন্ধুবান্ধবগুলাও, হুঁহুঁ, আগুনের গোলা একেক্টা। এইযে এটা পড়ে দ্যাখো, আমার ছেলের বন্ধুরা মিলে ছাপায়।“                        

আর্টেরিও পত্রিকাটা হাতে নিয়ে নামটা পড়ার চেষ্টা করলো, “তক-তা-বো-ধনি…”

 

তত্ত্ববোধিনী, তত্ত্ববোধিনী! নাম পড়তেই দাঁত নড়বড় করছে তোমার, ভেতরের লেখা পড়লে তো মারাই পড়বে। এই যে এটা দেখো, ‘সতীদাহ বনাম গাত্রদাহ’ কিংবা এইযে ‘কুলবিধবার প্রণয়াখ্যান’…আহাহা কী লেখা!” 

"হুঁ তা বেশ শক্ত শক্ত লেখাই বটে। কিন্তু গ্র্যান্ডমাস্টার হুগো বলছিলেন একটু খোঁজখবর করে নিতে। পার্টিফার্টি কিছু করে কিনা এসব আরকি, পলিটিক্যাল ঝামেলায় আমরা নাই। ছেলেরা ক্লাব করে ঠিকাছে, কিন্তু তলে তলে কম্যুনিস্ট নাতো আবার?“    

“আরে না, ওসব কিছু না। ছেলেছোকড়াদের ক্লাব, বসে বসে তাস পেটায় আর চটি বইটই পড়ে হয়তো।নামটা তো ভুলে গেলাম, ব্রহ্মচারী সমাজ না কি জানি। গুগল করে দেখে নিও।“


পুনশ্চঃ লেখা মাথার উপর দিয়া গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে।

 

 


মন্তব্য

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

পুনশ্চঃ লেখা মাথার উপর দিয়া গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে।

টেবিলের উপর দাঁড়ায় পড়লাম, তাও মাথার উপর দিয়ে গেল... যাক, চেয়ার থেকে উঠলাম যখন, বাড়িই চলে যাই!

সাবিহ ওমর এর ছবি

মারেফাতের কথা, টেবিলে উঠে কি তার লাগাল পাওয়া যায় রে পাগল?

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

ভাবসিলাম মুভি রিভিউ... পড়তে পড়তে হেচকি উইঠা গ্যালো!
_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

সবজান্তা এর ছবি

পরের পর্বে সমাপ্য নাকি আমারও মাথার উপর দিয়া গেলো ইয়ে, মানে...


অলমিতি বিস্তারেণ

সাবিহ ওমর এর ছবি

শেষ করি নাই, শুরু করলাম। আরেকদিন যদি মন খারাপ হয়, তখন শেষ করার চেষ্টা করবোনে...

মূলত পাঠক এর ছবি

তাই কও মিয়া, নাইলে তো শেষ-হয়ে-হৈলোনা-শেষ কাটিং হৈতো। শেষ করো শেষ করো, ফালায়া রাইক্ষো না। মন বেশি ভালো থাকা ভালা না। মন খারাপ করো, তারপর লিক্ষা ফালাও।

যদ্দূর পড়লাম, অতিশয় স্বাদু, চমৎকার!

মূলত পাঠক এর ছবি

কই, পরের পর্ব তো দেখি আসে না!

সাবিহ ওমর এর ছবি

আরো কিছুদিন লাগবে। আপাতত ইউনূস ভাইয়ের ব্যাপারটা নিয়ে একটু ফ্যাচাং-এর মধ্যে আছি। ওটা সেরে নিয়েই ধরবো ভাবছি। তাছাড়া বিশ্ববাসী উইকিলিক্সের ধাক্কাটাও একটু সামলে নিক। একসাথে ডাবল শক দেওয়া ঠিক না।

মূলত পাঠক এর ছবি

ওক্কে, আর ক'দিন সময় দেওয়া গেলো। তারপরেও না লিখলে কিন্তু.......

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাইডি, কিছুইতো বুঝলাম না। একটু বুঝায়ে দেন।

পাগল মন

সাবিহ ওমর এর ছবি

লিঙ্কুগুলা দেখেন, তাইলে ইট্টু ইট্টু বুঝপার নাগবেন...

হরফ এর ছবি

হুঁ থ্যাঙ্কু। একটা জটিল সমস্যার সমাধান করলেন আপনি। আমি ভেবে মরতাম ঐ তামাটে রঙের নোবেল প্রাইজের মেডেলটা কে বা কাহারা কেন চুরি করলো। অ্যাদ্দিনে বুঝলাম এটা খুন কা বদলা খুন কেস! হোলি পেয়ালা/পিরিচের দাম অবিশ্যি নোবেলের মেডেল-টার চাইতে ঢের বশী, কিন্তু বেচারা ফরাশী চোর, যা পেয়েছে তাই তো নেবে!

ছুটলে কথা থামায় কে/আজকে ঠেকায় আমায় কে

সাবিহ ওমর এর ছবি

আরো রহস্য আছে বোনডি...খুন জখম কোপাকুপি...হলি গ্রেইলের ইতিহাস রক্তাক্ত ইতিহাস, পাতায় পাতায় শিহরণ ছত্রে ছত্রে লোমহর্ষণ...

কৌস্তুভ এর ছবি

ভালৈছে

নৈষাদ এর ছবি

ভাল লাগল। মনে হয়েছে একটা ইন্টারেস্টিং উপন্যাসের প্লট ...।

স্পর্শ এর ছবি

দারুণ হচ্ছিলো!! কিন্তু ইয়ের আগেই ইয়ে হয়ে গেল!

দম এত কম হইলে চল্পে?


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

দিগন্ত বাহার [অতিথি] এর ছবি

ঠিক কার/কিয়ের গলাত চিপ দিলেন ফরিস্কার হউন দরখার !
বানাইসেন মন্দ না। হাসি

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

নাহ, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলা দেইখ্যা পুলাটার জার্মান যন্ত্র বিগড়ায় গেসে...

আরেকটু মালমসলা যোগ করে একখানা ব্যাডভেঞ্চার নামায় দ্যান।

_________________________________________

সেরিওজা

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

নেটস্পিড ভালো না, তাই এতো এতো লিঙ্ক দেখতে পারলাম না, মাথার উপর দিয়াই তো গেলো... মন খারাপ
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

ধুসর গোধূলি এর ছবি

লেখাটা পড়ার সময় তো মনে হৈলো, বাহ্ লিংকে না ক্লিকাইয়াও তো রসাস্বাদন করতে পারতেছি লেখার। কিন্তু পুনশ্চতে আইসাই গিয়াঞ্জাম লাগলো!



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

সাবিহ ওমর এর ছবি

হে হে আপ্নে তো জানবেনই, আপনারা জার্মানবাসীরাও তো এই গল্পের অন্যতম মেইন ক্যারেক্টার...

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

হলি হইল হেইচ ওকারে হো আর লি, হো-লি আর গিরেইল…”

হাস্তে হাস্তে হাঁস হয়ে গ্লাম! হো হো হো

-----------------------------------------------------------------------------------
...সময়ের ধাওয়া করা ফেরারীর হাত থিকা যেহেতু রক্ষা পামুনা, তাইলে চলো ধাওয়া কইরা উল্টা তারেই দৌড়ের উপরে রাখি...

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

তারেক অণু এর ছবি
কালো কাক এর ছবি

সবাই হাসে কেন?? মহা চিন্তিত ! মাথা চুল্কানো ! (ইমো আসতেসেনা ক্যান জানি !)

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।