Warning: Invalid argument supplied for foreach() in _fb_social_comments_seo_view() (line 304 of /var/www/sachalayatan/s6/sites/all/modules/fb_social/plugins/fb_plugin/comments.inc).

রোনালদোকে খোলা চিঠি

সুহান রিজওয়ান এর ছবি
লিখেছেন সুহান রিজওয়ান (তারিখ: রবি, ২২/০৩/২০০৯ - ২:১৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

২০০৩-০৪ মৌসুমের মাঝামাঝি এসে ডেভিড বেকহাম একটা 'আজিব' কান্ড শুরু করলেন। প্রতিদিন পেপার খুলে দেখা যেত তিনি নাকি একই সাথে তিনটি দলের হয়ে খেলছেন। এই ম্যানইউ,এই রিয়াল মাদ্রিদ ,এই বার্সেলোনা।প্রাপ্ত খবরের যা সারাংশ- তা হলো বেকহাম নাকি জুতিয়ে (জুতোয় লাথি মেরে) সার এলেক্স ফার্গুসনের কপালে দাগ ফেলে দিয়েছেন। ম্যানইউ তো তাহলে ছাড়তেই হয়; কিন্তু বেকহামের নতুন ঠিকানা কী হচ্ছে-রিয়ালের সান্তিয়াগো বার্নব্যু না বার্সার ন্যু-ক্যাম্প ?? আমার মত অগুণতি বার্সা সমর্থককে হতাশ করে সভাপতি হুয়ান লা পোর্তা তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভেঙ্গে বেকহামের পরিবর্তে নিয়ে আসলেন রোনালদিনহোকে; যা পরে হয়ে উঠলো ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা মধুর ভুল। রিয়ালের জন্যে বেকহামকে ছেড়ে দিয়ে সার এলেক্সের জহুরী চোখ নিয়ে এলো স্পোর্টিং লিসবনের এক ১৮ বছরের তরুণ তুর্কীকে, যার নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

সার এলেক্স এই তরুণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পরিয়ে দিলেন ০৭ নম্বর জার্সি; যা আগে পরেছেন এরিক ক্যান্টোনা ,জর্জ বেস্ট আর ডেভিড বেকহামেরা। সার এলেক্সের আশাকে বাস্তবরূপ দিতে খুব বেশি সময় নেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অচিরেই দারুণ গতি, শৈল্পিক ড্রিবলিং আর দুর্দান্ত সব ফ্রি-কিকে ইংরেজ দর্শকদের নয়নমণি হয়ে উঠলেন তিনি। পরপর দুই বছর জিতে নিলেন ফিফপ্রো বর্ষসেরা তরূন খেলোয়াড়ের পদক। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার অভিষেক হলো ২০০৪ এর ইউরোতে; ফাইনালে গ্রীসের কাছে যেখানে হেরে গেলো লুই ফিগোর নেতৃত্বাধীন পর্তুগালের 'সোনালী প্রজন্ম'। তরুণ রোনালদো সেই প্রথম কাঁদলেন। তবে ইতিমধ্যে প্রতিপক্ষদেরও কাঁদিয়ে ছাড়ছেন লীগে। বাবার পছন্দের অভিনেতা প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের নামে নাম রাখা হয়েছে বলেই কী না কে জানে; এতদিনে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে ডাইভ দেওয়ার অভিনয়ে পারদর্শী বলে ও টুকটাক সুনাম কামিয়ে ফেলেছেন তিনি।

চূড়ান্ত ভেলকি তিনি দেখালেন বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড-পর্তুগাল ম্যাচে রিকার্ডো কারভালহোকে ফাউল করলেন ম্যানইউর ওয়েইন রুনি; আর রেফারিকে অনুযোগ করে রুনির লাল কার্ড দেখার পথ সুগম করলেন যেন কে ?? ক্ষেপে উঠলো ইংরেজ জনতা। পালটা অভিযোগে রোনালদো জানালেন, অচিরেই ম্যানইউ ছাড়বেন তিনি। ভাবমূর্তি রক্ষায় এগিয়ে এলেন সেই সার এলেক্স। নতুন করে ভিত গাড়লেন রোনালদো-ম্যানইউ সম্পর্কের। আবার ইংল্যান্ডের জনতার ভালোবাসায় ভাসলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

প্রতিদানও দিলেন অকৃপণ ভাবে। চেলসি রাজত্ব টলিয়ে পরপর দুবছর ইপিএলের শিরোপা নিলো লাল শয়তানের দল। রোনালদো সেনাপতি; তাকে ঘিরে বর্ষীয়ান গিগস,স্কোলস,গ্যারী নেভিল আর তরূন পার্ক জি সুং,ওয়েইন রুনি,নেমানজা ভিদিচেরা দেখালেন টিম গেমের এক আদর্শ দৃষ্টান্ত । ২০০৭ আর ২০০৮ -এ একজন ফুটবলারের পক্ষে যা সম্ভব, তার সবই জিতলেন রোনালদো। দুটো প্রিমিয়ার লীগ, একটা ফিফা বিশ্বক্লাব কাপ, একটা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ। হেডের নৈপুণ্য আর গতির আধিক্যে ০৮ মৌসুমে করলেন ৪২ গোল, পারলেন কি নতুন ম্যারাডোনা মেসি-কে ছাড়িয়ে ফিফা বর্ষসেরা হতে ?? "এক,দুই,তিন- সব বিশ্বসেরার তালিকায় এ স্থান আমার, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর"- আপনার দম্ভোক্তি বৃথা গেলো না রোনালদো। জর্জ বেস্টের পর দ্বিতীয় ম্যানইউর খেলোয়াড় হিসেবে আপনি জিতলেন ব্যালন ডি'অর, হলেন ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়-২০০৮।

সুখ সহ্য করতে না পেরেই কী এবার ভূতের কিল সেধে নিলেন আপনি, রোনালদো ?? ভক্তদের এতো
ভালোবাসা উপেক্ষা করে কীভাবে আপনি আবারো বলেন, "এই ক্লাবে খেলতাম ন- আমি রিয়াল যাইবার চাই" ?? আপনার নাইটক্লাব কেচ্ছা এতোদিনে দিস্তা-দিস্তা কাগজের বিষয় হয়ে উঠেছে। কোন এক ব্যবসায়ীর ঘরের বউয়ের সাথে নাকি বাংলা নাটকের মত এসএমএস পরকীয়াও করছেন। রেফারীদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সবচেয়ে অপছন্দের খেলোয়াড় বলে। আপনার ডাইভ দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে উঠেছেন বিরোধীদলের কোচেরা। নিন্দুকেরা বলছেন আপনি 'বড় ম্যাচের ছোট খেলোয়াড়'। রোনালদো ভক্তরা আঙ্গুল তুলবেন গত বছর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে আপনার করা গোলের দিকে;সবিনয়ে জানাই সে ম্যাচে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস ও করেছিলেন আপনি।

আসল কথা রোনালদো,এ মৌসুমে আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে না আপনিই সেই পুরনো রোনালদো। ড্রিবলিং জাদু নেই, রুনি-বারবাটভের বাড়িয়ে দেয়া বলে পা/মাথা ছুঁইয়ে গোল অবশ্য করছেন; কিন্তু নিজে থেকে সৃষ্টির সে প্রেরণা আপনার খেলায় অনুপস্থিত। মেজাজ খারাপ করে প্রতিপক্ষকে ফাউল করে লাল-হলুদ কার্ড দেখছেন নিয়মিত (এইমাত্র ফুলহামের সাথে আপনার সেরকম একটা কার্ডপ্রাপ্তি দেখেই আসলে এ লেখা লিখতে বসা), সেদিন আবার টানেলের ভেতরেও নাকি কনুই চালিয়ে থুতু মেরেছেন।

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে,"বীরভোগ্যা এ বসুন্ধরা"।ইনজুরি থেকে ফিরে এসে ৩২ বছর বয়সী 'বড় রোনালদো'যখন করিন্থিয়াসের হয়ে গোল করে নিয়মিত পত্রিকার খবর হচ্ছেন; তখন আপনি,ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো- ফর্ম,তরূণ বয়সের চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে এসেও পত্রিকার পাতায় আসছেন নেতিবাচক কারণে। সুদূর বাংলাদেশের এই ভক্তের অনুরোধটা গ্রাহ্য করুন দয়া করে- পাকনামি বন্ধ করুন, মন দিন ফুটবলে।
নইলে... 'ওই দেখা যায় তোরেস' অথবা 'ওই যে মেসি আসছে তেড়ে'...।


মন্তব্য

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

ভালো লেখা চলুক

হুয়ান লাপোর্তা খুব চেষ্টা করছিলেন বেকহ্যামরে আনার, ঐসময় বার্সার একটা নতুন আইকন দরকার ছিল ... কিন্তু বেকহ্যাম না আসায় শেষ মূহুর্তে তড়িঘড়ি করে কিনতে হয় রোনালদিনহোকে, আমি খুব আশাহত হইছিলাম সেই সময় দেঁতো হাসি ... এমনকি পরে শুনছি ফ্রাংক রাইকার্ডও নাকি রোনালদিনহোকে নিতে বেশি আগ্রহী ছিল না, লাপোর্তা আর সম্ভবত বেজিরিস্টেইনের আগ্রহে নিতে হয় ...

আবার ম্যান ইউ কিন্তু বেশ আগ্রহী ছিল রোনালদিনহোকে নিতে, রোনালদিনহো সম্ভবত একটা সাক্ষাতকারে বলছিলও, "আমি ম্যান ইউর প্রথম ব্রাজিলিয়ান হতে প্রস্তুত" ... পরে কেন জানি ব্যাটেবলে হয় নাই ...

আপনার লেখায় একটু মনে হয় তথ্যবিভ্রাট আছে, বেকহ্যাম ফার্গুসনেরকপাল ফোলায় নাই ... ফার্গুসন মাটিতে পড়ে থাকা বুটে লাথি দিছিল, সেটা লাগছিল বেকহ্যামের কপালে ... পরে ফার্গুসনের যুক্তি ছিল এমন "আমি যদি এত নিখুঁত লাথি মারতে পারতাম তাইলে তো আমিই মাঠে খেলতাম, ডেভিড না" ...

রোনালদো ভালো খেলে অস্বীকার করা যাবে না, কিন্তু ওর এরোগেন্সটা খুব চোখে লাগে ... এদিক দিয়ে মেসি পুরা ব্যতিক্রম, এত খ্যাতিতেও মাথা ঘুরে নাই ...
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

আরে...!!

ফার্গুসন মাটিতে পড়ে থাকা বুটে লাথি দিছিল, সেটা লাগছিল বেকহ্যামের কপালে ... পরে ফার্গুসনের যুক্তি ছিল এমন "আমি যদি এত নিখুঁত লাথি মারতে পারতাম তাইলে তো আমিই মাঠে খেলতাম, ডেভিড না" ...

আমি আসলেই এটা ভুলে গেসিলাম,ধন্যবাদ আপনাকে ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্যে।

_________________________________________

সেরিওজার গল্প

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

লিভারপুল জিন্দাবাদ! জয়তু বেনিতেজ, জয়তু তোরেস এবং জেরার্ড!

(ম্যান ইউ নিপাত যাক চোখ টিপি)
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

হ... যা খেলতেসে! কুফা সপ্তাহ। কালকে হেরে না বসলেই হয়।

দুঃখ পাবো যদি চেলসি-ম্যানইউ'দের এক সিজনে ৪ বার করে হারিয়েও লিগ না জিতে (যেটা এই মুহূর্তে খুবই সম্ভব!)

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

কথা অতি সত্য। রোনালদো নামক বাজে পোলাটার জন্যে আমি ম্যানইউর উপর সকল শ্রদ্ধা হারাইয়েছি।
এই মৌসুমে আমি ও পুর্ণ লাল শিবির।

_________________________________________

সেরিওজার গল্প

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

হেহে আর আমি সেই ১৯৮৬ সীজন থেকে লিভারপুলের ঘোরতর ফ্যান। ২০ বছর লীগ জিতি না। দেখা যাক আজকের খেলা কেমন যায়।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

খাইছে রে, আপনে দেখি বটবৃক্ষ দেঁতো হাসি
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

পথে হারানো মেয়ে এর ছবি

আমি আবার এই পোলারে বড়োয় ভালা পাই লইজ্জা লাগে
Arrogance-টাই আসলে রোনালদোর খেলার তীক্ষ্ণ সৌন্দর্য। যদিও, right now both ManU and Renaldo sucks. মন খারাপ

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

হুম...
বলতেই হবে পোলাটা মহিলা ভক্তদের জন্যে খেলার একটা বড় আকর্ষন।

_________________________________________

সেরিওজার গল্প

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

ফুলহামের সাথে রোনালদো আর রুনির কাজকারবার দেইখা মেজাজ গরম হইছে ... দুইটারেই লাল কার্ড দেয়া উচিত ছিল ...
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

শাহান এর ছবি

রুনি তো শেষমেষ লাল কার্ড খাইলই .. দেঁতো হাসি

ম্যানইউ আর চেলসি দুইটাই দূরে গিয়া মরুক দেঁতো হাসি .... এই সীজন লিভারপুল জিতুক (যেহেতু আর্সেনালের আর চান্স নাই) ।

রায়হান আবীর এর ছবি

মন খারাপ

=============================

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।