Warning: Invalid argument supplied for foreach() in _fb_social_comments_seo_view() (line 304 of /var/www/sachalayatan/s6/sites/all/modules/fb_social/plugins/fb_plugin/comments.inc).

নিটশা এবং প্রকৃতি

সিরাত এর ছবি
লিখেছেন সিরাত (তারিখ: বিষ্যুদ, ১১/০২/২০১০ - ১:৪১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আর্থার শোপেনহয়ারের দর্শন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার পর আমি বেশ আগ্রহ নিয়েই তার সুবিখ্যাত বই 'দ্য ওয়ার্ল্ড এজ উইল এ্যান্ড রিপ্রেজেন্টশন' পড়ার উদ্যোগ নেই। ডাউনলোড করার আগে ভাবলাম, একটু দেখি আমাদের উইকি ভাই কি বলে।

একবার পড়লাম, মাথার উপর দিয়ে চলে গেল।

আরেকবার পড়লাম, আরো উপর দিয়ে চলে গেল। মন খারাপ

এই হল আমার প্রতিক্রিয়া।

এবার শোনেন নিটশা সাহেবের প্রতিক্রিয়া।

১৮৬৫ খ্রীষ্টাব্দ। ২১ বছর বয়সী নিটশা তখন লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

একদিন নিটশা পিলপিল করে হেঁটে বেড়াচ্ছেন লাইপজিগের নীলক্ষেতে, ব্লুমেন-গাসে। বই খুব সাবধানে কিনেন তিনি - একশোটা ঘেঁটে তবেই একটা।

হঠাৎই চোখে পড়লো শোপেনহয়ার সাহেবের বইটা। ১৮৬০-এ শোপেনহয়ার সাহেব মারা গিয়েছেন ফ্রাংকফুর্টে, তিনশো মাইল পশ্চিমে, কিন্তু নিটশা এই দার্শনিক সম্পর্কে তখনও কিছুই জানেন না।

নিটশার মুখেই শুনুন না:

"আমি (শোপেনহয়ারের বইটা) হাতে নিলাম। তখনও কিছুই জানি না ওনার সম্পর্কে। পাতা উল্টালাম।

হঠাৎ আমার কানে ফিসফিস করে উঠলো এক ইবলিশ: 'বইটা বাসায় নিয়ে যা!'

আমিও নিয়ে গেলাম। সেই আমি, যে কিনা ব্যাপক বিচার-বিবেচনা না করে, তাড়াহুড়ায় বা হুট করে কোন বই-ই কিনি না।

বাসায় ফিরে ঝপাৎ করে বসে পড়লাম আমার সোফায়, আর এই মহা-তীক্ষ্মধী, হতাশাবাদী বরপুত্রকে কাজ করতে দিলাম আমার উপর। তাঁর প্রতিটা লাইন চিৎকার করে হতাশা, ঋনাত্মকতা আর 'বাতিলতা' প্রকাশ করছিল।"

হাসি

কিছুদিন শোপেনহয়ারকে ঈশ্বর মানলেও ধীরে ধীরে অন্যান্য দার্শনিকের লেখা পড়ে নিটশারও মত পাল্টায়। মন্টেইন, গ্যালিয়ানি, গ্যেটে, স্টেনডাহল। তবে শোপেনহয়ারের হতাশাবাদের কবল থেকে নিটশাকে মুক্ত করেন মূলত যে দার্শনিক, তিনি হলেন প্রকৃতি। প্রকৃতির আদি শক্তি।

নিটশার দর্শন নিয়ে বিস্তারিত বা সংক্ষেপিত লেখার মত এলেম আমার এখনো নাই। কিন্তু প্রকৃতির সাথে নিটশার সম্পর্ক নিয়ে লেখাই যায়। খুবই ভাল লেগেছে আমার এ বিষয়টা।

ব্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ছেড়ে দেয়ার পর নিটশা বড় প্রকৃতিসুখে ছিলেন। শীতগুলো কাটাতেন ভূমধ্যসাগরের দিকে, বেশিরভাগ সময় জেনোয়া বা নিসে। গরমকাল কাটাতেন আল্পসে - সিলস মারিয়ায়, সেন্ট মরিটজ থেকে একটু দূরেই।

একটু ঘুরে আসি নিটশার সাথে, চলুন:

১। জেনোয়ার ধারেকাছে:

3

২। জেনোয়া আর ভূমধ্যসাগর:

Genoa

৩। এরকমই কি কোথাও ছিলেন নিটশা?

2

৪। নিস:

Nice 1

৫। নিস আর ভূমধ্যসাগর, এইচডিআরে:

Nice 2

৬। সিলস-মারিয়া। এদিকেই কোথাও বসে লিখেছেন নিটশা তাঁর সেরা বইগুলো:

Sils-Maria

৭। সিলস-মারিয়ায় 'দাজ স্পেক জারাথ্রুষ্টা'-র প্লেক:

Zarathrusta

পাক্কা সাত বছর এই সিলস মারিয়াতেই ছিলেন নিটশা। সমুদ্রোপকূল থেকে ১,৮০০ মিটার উপরে, দক্ষিণ-পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের এঙ্গাডিন এলাকার এই ছোট্ট গ্রামটায়। ইউরোপের উত্তরের ঠান্ডা গাস্ট এখানে এসে ধাক্কা খেতো ইটালির উষ্ণতর বাতাসের সাথে; আকাশ হয়ে উঠতো একুয়ামেরিন নীল!

সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব পাওয়ার দশ বছর পর, ১৮৭৯ সালে নিটশা এঙ্গাডিন এলাকায় প্রথম আসেন। এসেই ভালবেসে ফেলেন এলাকার জলবায়ু আর প্রকৃতি। একটা চিঠিতে নিটশা পল কাস্টকে লেখেন:

"আমার শ্বাস নেয়ার জন্য এখন আছে ইউরোপের সেরা বাতাস! কেন জানি এই জায়গাটাকে ঠিক সুইজারল্যান্ড মনেই হয় না, আরো অনেক দখিনা মনে হয়। হয়তো মেক্সিকোর ওয়াহাকায় প্রশান্ত মহাসাগরের তীরেই কেবল এরকম জায়গা আরো পাওয়া যাবে। যাই হোক, পল, সিলস-মারিয়ার কথা যেন ভুলেও কাউকে বলবে না; আমার কাছেই থাকুক এ রত্ন।"

সিলস মারিয়াতেই নিটশার সেরা লেখাগুলোর সৃষ্টি: 'দ্য গে সায়েন্স', 'দাস স্পেক জারাথ্রুষ্টা', 'বিয়ন্ড গুড এ্যান্ড ইভিল', 'অন দ্য জিনেলজি অফ মরালস', 'টোয়াইলাইট অফ দ্য আইডলস'।

প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠতেন তিনি। তারপর হেঁটে বেড়াতেন সিলস মারিয়ার চারপাশের বিশাল সব পাহাড়গুলোর সবুজ গা বেঁয়ে। অনেকটা নিচের ছবির মতই হয়তো দৃশ্যাবলী দেখতেন তিনি:

৮। আমার ধারণা এরকম একটা শ্যালেতে থাকতেন নিটশা:

5

৯। ঘুম থেকে উঠে নিটশা কি এমন একটা কিছুই দেখতে পেতেন?

2827032713_28a3d0287a

১০। হাঁটার সময় হয়তো চোখে পড়তো এমন কিছু গোলাপি ফুল:

Mountain Flora

১১। বা সাদা কিছু:

2

১২। হয়তো পথে পড়তো এরকম হ্রদ:

1

১৩। ফিরতেন হয়তো এরকম কোন পথ বেয়ে:

4

নিটশা বারে বারেই বলতেন, তাঁর দর্শনের সাথে প্রকৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রকৃতি তাকে শোপেনহয়ার রোগ থেকেও নাকি মুক্তি দিয়েছিল।

অ্যালাইন ডি বটন নিটশাকে বুঝতে গিয়েছিলেন সেন্ট মরিটজ আর সিলস-মারিয়ায়। অসাধারণ সব পাহাড়, পরিষ্কার, ঝকঝকে সেই বাতাস। দক্ষিণে ইতালি, বাকি চারদিকে পাহাড়, হ্রদ আর উপত্যকা; সুইস আল্পস। বাতাস যেন কেমন থেমে থাকে এখানে, হয়তো এত পরিষ্কার বলেই। কেন যেন মনে হয় একজন পৃথিবীর ছাদকে ধরতে পারবে। খুব উঁচুতে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কিন্তু কেমন যেন একটা পুলক কাজ করে! হেসে দিতে ইচ্ছা করে, হাসি থামানো কষ্টকর হয়ে যায়। কেন এই আনন্দ?

নিটশার মতে, এটা আমাদের অভ্যন্তরের গভীর থেকে বেরিয়ে আসা এক 'উইল টু পাওয়ার', এক ধরণের আদি, কিছুটা পাশবিক আনন্দ, বেঁচে থাকার, এইরকম অপার্থিব সৌন্দর্য দেখার!!

জীবনটা খারাপ না।


মন্তব্য

স্পর্শ এর ছবি

পাঠক হিসাবে আমারো দারুণ একটা ভ্রমন হয়ে গেল।
ছবিগুলো কি আপনারই তোলা? সে ক্ষেত্রে ঈর্ষা দিলাম।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সিরাত এর ছবি

ছবি আমার না। মন খারাপ ফ্লিকর থেকে চুরি করা। সব সেভ হয় না, হার্ডডিস্কে প্রিন্ট স্ক্রিন নিয়ে রি-আপলোড করলাম, ২ সেকেন্ডের মধ্যে দেখি প্রফেশনাল ফটোগ্রাফাররা আহা-উহু শুরু করসে - "আরে দারুণ লাইটনিং।" "এইচডিআর ক্যামনে করলা?!"। অবস্থা দেইখা মনে হইতেসে কর্তৃপক্ষের টের পাইতে বেশি সময় লাগবে না। পিডিএফ বানায় রাখা দরকার।

গতকাল রাতে অ্যালেইন ডি বটনের 'কনসোলেশনস অফ ফিলোসফি' পড়ছিলাম, আর এ অংশে এসে সুইজারল্যান্ডের কাহিনী পড়ে এনকার্টায় ছবিগুলি দেখছিলাম। খুব দারুণ একটা অনুভূতি হচ্ছিল। এখানে চেষ্টা করেছি ওই অনুভূতিটা ট্রান্সপোর্ট করতে।

পাঠক হিসাবে আমারো দারুণ একটা ভ্রমন হয়ে গেল।

অনেকটা এরকমই চাচ্ছিলাম, চিত্রকল্পে ভ্রমন। এই আর কি।

আমাদের পৃথিবীটা কি শক্তিশালী। সুইজারল্যান্ডে হয়তো একদিন যাওয়া হবে, কিন্তু এই যে এত অসাধারণ ছবিগুলা দেখতে পারলাম, নিটশার আলোচনার সাথে মিলিয়ে এরকম একটা ছবিব্লগ বানাতে পারলাম - এ কাজটা করে নিজেকে খুব প্রিভিলেজড লাগছে। হাসি

হাসিব এর ছবি

চমৎকার ধারাবাহিকতা রাখা হচ্ছে । তালেবান ফ্যাসিনেশন, বেনিফিট অফ ডাউট ইত্যাদির পরে নাৎসি ইমাম নিৎসশে । ভাবছি নাৎসি ইমাম নিৎসশের পরে কোন ফ্যাসিস্ট নিয়ে মুগ্ধতায় ভরা লেখা আসবে সিরাতের কাছে থেকে ।

সিরাত এর ছবি

নিটশা তো নাৎসি ইমামগিরি করা ছাড়াও আরো অনেক কিছু করেছেন। প্রতিটা মানুষেরই তো অনেক অ্যাসপেক্ট আছে, আমি নিটশার প্রকৃতিপ্রেমিক এ্যাসপেক্টের একটা অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি কেবল। তাছাড়া, নিটশার চেয়ে তো এখানে মনে হয় প্রকৃতিই বড় হয়ে ফুটে উঠেছে।

হাসিব এর ছবি

হমম । গু আযমও প্রচুর দান খয়রাত করে শুনি । আল মাহমুদও নাকি ভালো কবিতা লেখে । এইসব চরিত্রের ভালো ভালো দিক ও তাদের প্রকৃতি ও ইত্যাদি প্রেম নিয়ে পোস্ট দিতে পারেন । ও হ্যাঁ, হিটলারেরও কিছু ভালো কাজ আছে । সেই আমলেও জন্মনিয়ন্ত্রনের বুদ্ধি তার মাথা থেকে বেরিয়েছিলো । জার্মানির বিখ্যাত আউটোবানের আধুনিক রূপটাও হিটলারের আইডিয়া প্রসূত । আর তার ভোলফসানৎযের আইডিয়া থেকে তার চমৎকার প্রকৃতিপ্রেম ধরা পড়ে । সেগুলো নিয়েও পোস্ট দিতে পারেন ।

সিরাত এর ছবি

এভাবে বলি: গ্যেটেকেও নাৎসিরা ব্যবহার করেছেন। গ্যেটেকে কি আপনার ফ্যাসিস্ট মনে হয়?

গোলাম আযম বা আল মাহমুদ সম্পর্কে আমার আগ্রহ নেই। হিটলার সম্পর্কে আরেকদিন লিখবো। ধন্যবাদ!

হাসিব এর ছবি

কে কারে ব্যবহার করে সেটা আমি গুরুত্বপূর্ন ভাবি না । যেমন বামদের আন্দোলন জামাত কাজে লাগালে জামাতিদের কাজ বামদের ঘাড়ে চাপানো যায় না । এখানে কে কি কাজ করলো সেইটাই গুরুত্বপূর্ন । নিৎসশের কিছু কাজ সরাসরি নাৎসি দর্শনের সাথে মেলে । এই কারনটাই নিৎশেকে বয়কট করার জন্য যথেষ্ট । গোয়েঠে কি এরকম কিছু করেছেন যেটা সরাসরি নাৎসি মতবাদের সাথে মেলে ? আমি জানি না এরকম । আপনি জানলে জানান ।

আর আপনার গু আযম বা আল মাহমুদ সম্পর্কে আলোচনায় অনাগ্রহ আছে এইটা আমি আন্দাজ করতে পারি । নতুন করে বলার দরকার নেই ।

সিরাত এর ছবি

আপনি কি ভাবেন সেটা নিয়ে আমার এত কনসার্ন থাকতে হবে কেন? আর আমার আসলে আপনাকে জানানোর তেমন আগ্রহ নেই, নিজে খুঁজে নিন না। এই ফাঁকে লেখাটিতেও আপত্তি জানিয়ে ফেলুন, মডারেটররা সর্ট আউট করুক।

গোলাম (বা আপনার মতে, গু) আযম বা আল মাহমুদ সম্পর্কে আপনি আন্দাজ করতে পারলে তো ভাল, তাহলে আর বলেন কেন ওদের নিয়ে লিখতে? যেহেতু আমি আন্দাজ করতে পারি না যে আপনি আন্দাজ করতে পারেন, তাই লিখলাম আরকি। আপনার সম্পর্কে তো আমার পিএইচডি নাই, আমার সম্পর্কে আপনার দেখা যায় পিএইচডি আছে!

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ইমাম সাহেবের উপর একটা বই, একটা প্রতিবেদন, উইকি কাকার ভাষ্য, নারীদের ব্যাপারে উনার ফতোয়ার লিঙ্ক দিলাম।

সিরাতের আগের পোস্টেই আমি আমার উদ্বিগ্নতার কথা জানিয়েছিলাম। এখন আমি আরো ভয় পেলাম।

হাসিবের কমেন্ট দেখি লালকার্ড খেয়ে বসে আছে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

হাসিব এর ছবি

লাল কার্ড খেলে খাক । নিৎসশেভজন এখানে দেখতে চাই না ।

সিরাত এর ছবি

আপনি এর আগের লেখায় যে কাজ করেছিলেন তা করুন না। এক দিয়ে আপত্তি জানান বরং। ওহ, আর আইবিএ নিয়ে ফোড়ন কাটলেন না, যেমন এখানে কেটেছিলেন?

আমি পরবর্তীতে লেখাটা আপনাকে নিয়ে লিখবো। ফ্যাসিস্ট মনোবৃত্তি নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছেই...

সিরাত এর ছবি

আপনার লিংকগুলির বিপরীতে হয়তো অনেক লিংকই দেয়া, এবং নিটশার বিরুদ্ধে অভিযোগও অমূলক নয়।

তবে জিনিসটা কি সেটলড? আমি কেবল উইকিপিডিয়ার এই লিংকটা দেখছিলাম। মনে তো হয় না সেটলড। এ ব্যাপারে অন্যরা অন্য উপসংহারেও পৌঁছতে পারেন।

আমি কি সচলায়তনের কয়েকজন ব্লগারের সাথে মনের মিল না থাকলে লিখতেই পারবো না?

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

নিৎসশেকে তো আদালতে হাজির করা হয়নি যে কেউ বলতে পারবে ব্যাপারটা সেটেলড। এমনকি আদালতে সেটেলড বিষয়েও ভিন্নমত পোষন করার লোকের অভাব কখনোই হবেনা। তবে বেশিরভাগ মানুষ মানবিক, সভ্য, পরহিতকর বিষয়গুলোতে একমত হন। যারা একমত হননা তাদেরকে আর যাই বলা যাক মানবিক বলা যায় না।

যে ব্যক্তি অতিমানব বা আর্যজাতির শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক থিয়োরী দেন, যিনি নারীদের ব্যাপারে বার বার চরম অবমাননাকর উক্তি করেন তার ব্যাপারে আপত্তি ওঠাটাই স্বাভাবিক। তাকে কোন উপায়ে সুশীল বা উপকারী বা দরকারী বা শ্রদ্ধাভাজন বলা অর্থাৎ যেকোন উপায়ে অ্যাপ্রিশিয়েট করাটাও আপত্তিকর। দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য।

সিরাত, আপনাকে লিখতে কেউ বাধা দেয়নি। সচলে লেখার জন্য কোন ব্লগার বা মডারেটরের সাথে মনের বা মতের মিল থাকাও দরকার নেই। তবে সচল নিঃসন্দেহে কিছু কিছু বিষয়ে একটা বিশেষ অবস্থান নিয়ে থাকে। যেমন, মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে রাজাকারদের পক্ষে সাফাই কখনো সচলে প্রকাশিত হবেনা। এই ব্যাপারে কেউ রাগ করলে বা মন খারাপ করলে কিছু করার নেই।

আপনার এই লেখার ব্যাপারে সচল কর্তৃপক্ষের যদি কিছু বলার থাকে, তাহলে সেটা তারাই সেটা বলবেন। এখানে হাসিবের বক্তব্য স্পষ্ট এবং তা নিৎসশের বিপক্ষে। আমার অবস্থানও তাই, এবং আমি আমার ভিন্ন মতামত আমি জানাতেই পারি।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সিরাত এর ছবি

আমি আপনার সাথে একমত নই। নিটশার আমলে অনেকেই অ্যান্টি-সেমিটিক ছিলেন, উনি একা না। অনেক গুনী ব্যক্তিরই দোষ থাকে। একটা দোষের কারণে তাকে পুরোপুরি পরিত্যাগ করাই আমার কাছে ফ্যাসিজম। দুর্জনের অনেক অ্যাসপেক্ট থাকতে পারে, আপত্তিকর বাদ দিয়ে থেকে অন্যান্য অ্যাসপেক্ট থেকে শিখতে পারলে আমি খুশিই হবো।

যেমন, মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে রাজাকারদের পক্ষে সাফাই কখনো সচলে প্রকাশিত হবেনা। এই ব্যাপারে কেউ রাগ করলে বা মন খারাপ করলে কিছু করার নেই।

এই ব্যাপারে শেষ কবে লিখলাম বলেন তো?

এই অজুহাতে কি ঠগ বাছতে গা উজাড় করে দিবেন হাসিব ভাইয়েরা?

আপনার এই লেখার ব্যাপারে সচল কর্তৃপক্ষের যদি কিছু বলার থাকে, তাহলে সেটা তারাই সেটা বলবেন। এখানে হাসিবের বক্তব্য স্পষ্ট এবং তা নিৎসশের বিপক্ষে। আমার অবস্থানও তাই, এবং আমি আমার ভিন্ন মতামত আমি জানাতেই পারি।

অবশ্যই। সেটা আপনার অধিকার, হাসিব ভাইয়েরও। কিন্তু যে লিংকটা দিলাম, শেষ তিন মন্তব্য, সেটা কি হাসিব ভাইয়ের অধিকার??

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

হিমু এর ছবি

অনেক গুনী ব্যক্তিরই দোষ থাকে।

সিরাত, তুমি তোমার পরিবারের কোনো ধার্মিক লোককে গিয়ে বোলো যে আবু লাহাব একজন দুর্দান্ত বক্তা ছিলো। তার বাগ্মিতা, রসবোধ আর সারকাজম তুলনাহীন ছিলো। আমার মনে হয় তাঁরা তোমার কথা শুনে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন। কারণ খোদ আল্লাহকেই দেখি আবু লাহাবকে গালাগালি করতে হাসি



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সিরাত এর ছবি

আমার পরিবারের কেউ কেউ প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, কেউ দেখাবেন না। সচলায়তনে কি আমার পরিবারের চেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি নেই?

তাছাড়া হাসিব ভাই এই নিয়ে কয়বার ব্যক্তিগত আক্রমণ করলেন? সেই ব্যাপারে আপনার মতামত কি??

হিমু এর ছবি

"আক্রমণ" আর "ব্যক্তি আক্রমণ" এর মধ্যে আমি ফারাক করি। যেমন আমি যদি তোমার এমন কোনো ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে কথা বলি, যেটা তোমার এই পোস্ট বা অতীত কোনো পোস্টের সাথে প্রাসঙ্গিক না, তাহলে সেটা ব্যক্তি আক্রমণ হবে। তোমার পোস্টের কনটেন্টের সাথে সম্পর্কিত কোনো কিছু নিয়ে যদি তোমাকে কথা শুনতে হয়, সেটার দায় তুমি লেখক হিসেবে নেবে। সবাইকেই নিতে হয়। এই "আক্রমণ" সব তর্কেই হয়। আজকে আমি যদি তোমার সাইকেল চালানো নিয়ে এখানে কথা বলি তাহলে সেটা ব্যক্তি আক্রমণ হবে।

আর যে প্রবণতার কথা বলা হচ্ছে, সেটা নিয়ে তুমি চিন্তা করে দেখো। কচু কাটতে কাটতেই কিন্তু লোকে ডাকাত হয়। তুমি দুইদিন আগে একটা পোস্ট দিয়েছিলে না এক আম্রিকিকে নিয়ে? তার কথা ভাবো। সে কিন্তু হঠাৎ একদিন মাথায় টাওয়েল প্যাচাইয়া সোমালিয়া রওনা দেয় নাই।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সিরাত এর ছবি

আপনি যে লেখায় উত্তর দিলেন তার উপরে সুন্দর করে যেলিংকটা ঝুলে আছে সেই লিংকটার কথা বলছিলাম। লেখা নিয়ে তো কাউকে মানা করছি না। ব্যক্তিগত আক্রমণের সংজ্ঞাটা আমারও জানা আছে। হাসি

আর যে প্রবণতার কথা বলা হচ্ছে, সেটা নিয়ে তুমি চিন্তা করে দেখো। কচু কাটতে কাটতেই কিন্তু লোকে ডাকাত হয়। তুমি দুইদিন আগে একটা পোস্ট দিয়েছিলে না এক আম্রিকিকে নিয়ে? তার কথা ভাবো। সে কিন্তু হঠাৎ একদিন মাথায় টাওয়েল প্যাচাইয়া সোমালিয়া রওনা দেয় নাই।

১। সেই ভয়ে এসব আর্টিকেল পড়ুমই না?! এটা তো অপোজিট কাঠমোল্লা কেস হয়ে যাবে তাহলে।

২। ১৭০ কোটি মুসলিমের কয়জন আল-আম্রিকি? বা ৭০ লাখ আমেরিকান মুসলিমের?

যাই হোক, আই গেট ইওর পয়েন্ট। হাসিব ভাইয়ের আক্রমণ আমার কাছে ব্যক্তিগত মনে হয়েছে। অন্যদের তা মনে নাও হতে পারে। আপনাদের আদর বা কনসার্ন মনে হয়, আমার শ্বাসরুদ্ধকর বিগট্রি মনে হয়।

আর কি। থাক।

হিমু এর ছবি

আর্টিকেলটা পড়তে তোমাকে কেউ মানা করে নাই। পড়ে তুমি কী পাচ্ছো, কোন জিনিস তোমাকে মুগ্ধ করছে, সেটা হচ্ছে ব্যাপার। বিটুইন দ্য লাইনস পড়লে তোমার পোস্ট পড়ে মনে হয়, ফ্র্যাঙ্কলি, তুমি এই টাওয়েলহেডদের নিয়ে প্রচণ্ড বিমোহিত। এখন সেটা তোমাকে ইঙ্গিতে বললে যদি বাইগট্রি হয়, তাহলে এই বাইগট্রি দিকে দিকে বিস্তৃত হোক। তোমাকে মাথায় প্যাঁচানোর জন্য কেউ টাওয়েল দিতে চাইলো কি চাইলো না, সেইটা নিয়ে লোকে কথা বলবেই।

আর ভূরাজনীতির কি অভাব পড়সে দুনিয়ায়? তুমি সব কিসু ফালাইয়া বারবার যখন ভূরাজনীতির ঐ এক চিপাতেই ঘুরপাক খাও, তখন বুঝতে সমস্যা হয় না তোমার ফ্যাসিনেশন কোন দিকে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের আর্টিকেলের জিস্ট পোস্ট না করে সাধ্যে কুলালে বাংলাদেশের মেঘালয়-ত্রিপুরা বর্ডার আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের টেনশন নিয়ে একটা মৌলিক লেখা লিখে দ্যাখাও ভূরাজনীতিতে তোমার এলেম কতো পোক্ত। ভূরাজনীতি খালি খাইবারের একশো কিলোমিটারের মধ্যে মাটি ফাইটা বাইর হয় না, গোটা দুনিয়াতেই চলতেসে। তুমি লেখো না কারণ নিউ ইয়র্ক টাইমস সেইটা লৈয়া কিসু লেখে না।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সিরাত এর ছবি

হিমু ভাই,

ভূরাজনীতিতে আমার এলেম নিচুমানের, লেখার হাতও নিচুমানের, যেই টপিক কইলেন সেটা নিয়া আগ্রহও নাই। হইলে লিখবো, হাত যতই নিচুমানের হোক। কিন্তু এতদিন এইটা নিয়া আপত্তি ছিল বুঝি নাই। এত হাই ক্রাইটেরিয়ার ঠেলায় সচলায়তনে কেউ তো এইসব নিয়ে লেখাই দেন না, মাঝে মাঝে আপনি দেন। কিন্তু আমি তো আবার আপনি না।

বিটুইন দ্য লাইনস পড়লে তোমার পোস্ট পড়ে মনে হয়, ফ্র্যাঙ্কলি, তুমি এই টাওয়েলহেডদের নিয়ে প্রচণ্ড বিমোহিত।

ফ্যাসিনেশন আছে, এটা আমি কবে অস্বীকার করসি?! সালাফি ব্লগে কি আমি এখন থিকা যাই?! আর বাই দ্য ওয়ে, আমার বাপও তো টাওয়েলহেড (পাগড়ি যদিও)? ডরান কি লইয়া?!

এখন সেটা তোমাকে ইঙ্গিতে বললে যদি বাইগট্রি হয়, তাহলে এই বাইগট্রি দিকে দিকে বিস্তৃত হোক। তোমাকে মাথায় প্যাঁচানোর জন্য কেউ টাওয়েল দিতে চাইলো কি চাইলো না, সেইটা নিয়ে লোকে কথা বলবেই।

নো প্রবলেম। ডরাইতে বা টাওয়েল নিয়ে যা ইচ্ছা বলেন। তাই বলে গালি দিয়া?!

হাসিব মাহমুদ সাহেব আমাকে লাইন ধরে গালি দিয়ে যাচ্ছেন। কেউ তো কিছু বলেই না, বরং পান্ডব সাহেবরা লাইন ধরেন আরো দিতে।

নাহ নাহ, উপরেরটা আমার মনের ভুল। ওকে। কিন্তু আপনি যখন আমাকে গালি দিলেন, আমার কি রিঅ্যাকশন ছিল, বলেন তো??

এখন কত কথা কইবেন আপনারা। আরে পাগ্লা, সবই তোর ভাল-র জন্য। তুই তো পথ হারিয়েছিস রে গাধা।

কিন্তু গালি যে খাইসি হিমু ভাই?! এবং চেতসিও। আউট টু প্রুভ যে চেতসি, আর সচলায়তনের এই ব্যাপারে কিছু করা উচিৎ। কেউ কিচ্ছু করবো না।

আমি এক লেখায় শিবিররে বেনেফিট অফ ডাউট দিসি যে? মার্কড!

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, মার্কড যেথা শির!

যাই হোক, আপনাকে রাগানোর কোন উদ্দেশ্যই আমার নাই। রাইগা গেলে সরি। আপনার লগে কি আমি পারুম? তাছাড়া, আপনার লেখা সাধারণত আমার ভাল লাগে, পছন্দও করি ওই লাইগা আপনারে, যদিও কড়া কথা কম হয় নাই।

মে বি ইউ অল আর রাইট। দেখি না, মিড রানে কি হয়? এখন রাগে জাজমেন্ট ক্যাপাসিটি কম দেখে আই অ্যাম লেটিং আউট এভরিথিং আই থিংক ইজ রং এবাউট সচলায়তন।

কই জানি একটা কোয়োট পড়সিলাম, খুইজা পাইতেসি না: তোমার দলে যখন কেউ থাকে না, তুমি হয় তখন এবসোলিউটলি রাইট, অর এবসোলিউটলি রং।

দেখা যাক।

হিমু এর ছবি

সিরাত, তোমাকে কেউ গালি দেয় নাই। সারকাস্টিক কথা বললেই সেইটা গালি হয় না। তুমি তোমার বলা কথার দায় নিতে চাও না ক্যান? তুমি শিবিররে বেনিফিট অব ডাউট দিবা আর লোকজন তোমারে চুমাবে কোলে তুলে? নিউইয়র্ক টাইমস ফালাইয়া ডেইলি স্টার খুইলা দেখো তো তোমার বেনিফিট পাওয়া লোকজন কী করে!

তুমি একটা চেয়ারের মধ্যে একটা ছয় ইঞ্চি পেরেক মাইরা তার উপ্রে বসতে বসতে বলতেছো, দেখি শর্ট রানে কী হয়, দেখি মিড রানে কী হয়, দেখি লং রানে কী হয় ... গো অ্যাহেড। কিন্তু লোকজনের কথা তোমার কানের মাপে বা চামড়ার মাপে হবে না।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সিরাত এর ছবি

ওরে বাবারে, হিমু ভাই, চিপ শট নিয়া নিলেন।

আজকে ডেইলি স্টার প্রথম আলো কিসে লালে লাল আমরা সবাই জানি।

গতকাল, তার আগের দিন, ডেইলি স্টার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় কি নিয়া ছিল সেটাও আমরা সবাই জানি! (থুক্কু, ভাইয়া, আমি জানি।)

এখন আপনি আমারে অগো দলে ঢুকাইবেন, তারপর ছবি আঁকবেন। ফাঁকে তিনটা গল্প আর দুইটা আংরেজি শব্দ ব্যবহার করবেন। ভবিষ্যত ব্লগারদের কইবেন: তুমি সিরাতরে চিনো? তাই না?

আরে গো এ্যাহেড। আমরা তো আসলে সবাই কালার ব্লাইন্ড!

গ্ল্যাড টু বি এ্যাট ইউর সার্ভিস। একটা গল্প তো ইতিমধ্যে লিখতাসেনই, আরো লেখেন। পরে একটা বই বাইর করেন: ট্রেইটর শিবির ভূত এবং...

তুমি তোমার বলা কথার দায় নিতে চাও না ক্যান? তুমি শিবিররে বেনিফিট অব ডাউট দিবা আর লোকজন তোমারে চুমাবে কোলে তুলে?

ওইটা নিয়া দুই পোস্ট হইয়া গেল, এতদিন পর আপনি আইসেন? আপনে তো ব্যাকওয়ার্ড। এখন আমরা তালেবান-আম্রিকি ছেড়ে নিটশায় আসছি তো।

দায় নিতে চাই নাই?

ওকে: আমি শিবিরকে একটা লেখায় বেনেফিট অফ ডাউট দিতে চাই বলসি। আমার মতে, শিবিরের সব সদস্য 'খারাপ', ইনকোরিজিবল না। একটা দরজা আমি ওপেন রাখতে চাইসি।

সচলায়তনে এটা বলা হেরেসি, তাও বলছি, তাৎক্ষণিক কিছু ক্ষমাও চাইসিলাম, মনেও আছে।

কিন্তু আপনি সেই কাসুন্দিতেই গেলেন? আমার সন্দেহ অমূলক না! ওইটা আপনারা ভুলেন নাই। সব ওই কালারে!

তারপর বলেন, আর কয়টা লিখা লিখসি সেটা নিয়া? একটা?? দুইটা?

উপরে এ্যামুনিশান দিলাম একেবারে প্রচুর। আজকে ছাত্রলীগরে শিবির মারসে, সবার সিমপ্যাথি আপনার সাথে থাকবে। জ্বলায় ফালান। দুইটা গল্প দিয়া দেন।

হিমু এর ছবি

আমি এই কাসুন্দি ঘাঁটলাম না তুমি ঘাঁটলা? তুমি তো মনে হয় এভরি সেকেন্ড ডে এইটা সবাইরে স্মরণ করাইয়া দাও।

ঐটা ভুলি নাই সিরাত। দুইদিন পর পর মনে করাইয়া দিলে ভুলি ক্যামনে?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সিরাত এর ছবি

আপনার বিচিত্র মনে কি কারণে একটা টপিক মনে আসে, তা আমি চাঁদ নিয়াই লেখি আর সুরুয নিয়াই, সেটা আমার দোষ? হায় হায়!

নিটশা থেকে শিবির? আপনার ব্যান লিস্ট বানায় বই পোড়ান না ক্যান?

হিমু ভাই, এখন যদি আমি কই, আমার ল্যাপটপে চার্জ যাইতেসে গা, কারেন্ট গেল গা অনেকক্ষণ - আপনার কি মনে হবে? ষড়যন্ত্র, না ঠিক? হাসি

ঠিক কিন্তু।

শোনেন, আপনার সাথে আমি পারবো না। তাছাড়া, আপনারে আমি ভাল-ও পাই। নিচে কিছু রেলেভ্যান্ট আলোচনা পাইবেন, একটু দেইখেন।

আপনারে মনে কষ্ট দিসি মনে হয়। আপনি কড়া আলোচক, তাও, ক্ষমা কইরা দিয়েন।

আমি এক কাজ করি, কয়দিন অন্য কিছু করি। তারপর আবার দেখবো নে। থ্যাংক ইউ।

হিমু এর ছবি

২০ নাম্বার কমেন্টটা মন দিয়ে পড়ো। ঐখানে লিক্সো,

আমি এক লেখায় শিবিররে বেনেফিট অফ ডাউট দিসি যে? মার্কড!

তারপর নিচে দ্যাখো আমি কী বলসি। তুমি ঐ প্রসঙ্গ না টানলে হয়তো ঐটা বলা হইতো না। কিন্তু তুমি যেহেতু এই জিনিসটা ভুলতে পারো না, বারে বারে মনে করায় দ্যাও, সো আজকে থেকে আমিও একই কাজ করবো। তুমি আমাকে চিনো না।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সিরাত এর ছবি

১। হাসিব ভাইয়ের মন্তব্যে প্রথমে কি বেনেফিট অফ ডাউট আসে নাই?

২। আপনি বলছেন:

তুমি তোমার বলা কথার দায় নিতে চাও না ক্যান? তুমি শিবিররে বেনিফিট অব ডাউট দিবা আর লোকজন তোমারে চুমাবে কোলে তুলে?

এটা কি ঠিক না ভুল। দায় কি আমি নেই নাই আগে? সেই প্রসঙ্গে মন্তব্য করা।

৩।

কিন্তু তুমি যেহেতু এই জিনিসটা ভুলতে পারো না, বারে বারে মনে করায় দ্যাও, সো আজকে থেকে আমিও একই কাজ করবো। তুমি আমাকে চিনো না।

ইনডিড আমি আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, কিন্তু ব্লগার হিমুকে চিনি। সে কথা না রাখার পাত্র না।

আমি পূর্ণ ভুল করসি বলে আমার অনেস্টলি মনে হয় না। তবে আংশিক ভুল করসি। সেই কারণে আমি সরি।

এরপরেও যদি আপনি মনে করাইতে চান, বি মাই গেস্ট, হিমু ভাই।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আরেকটু চাপাইলে দেখতে ভাল লাগত।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

এই পোস্টের আলোকে টেনেটুনে বলা যায় আক্রমণটা ব্যক্তিগত না, কিন্তু লিংক দেওয়া পোস্টেরটা স্পষ্টতই ব্যক্তিগত আক্রমণ। তাছাড়া, কাউকে পোস্টে পোস্টে অনুসরণ করে খোঁচাখুঁচি করার প্যাটার্নটা আমার কাছে আপত্তিকর। আমার সংজ্ঞায় নেম-কলিং, ব্র্যান্ডিং, ইত্যাদিও ব্যক্তিগত আক্রমণের মধ্যে পড়ে।

শাফক্বাত এর ছবি

উদ্ধৃতিঃ
আমি কি সচলায়তনের কয়েকজন ব্লগারের সাথে মনের মিল না থাকলে লিখতেই পারবো না?
মনওয়ার তোমার লেখাগুলো বোঝার মত মাথা আমার নেই সেটা তুমি জানো। আমি বুঝি বা না-বুঝি, তবুও পড়ি কারণ আমার দেখা (শুধু আমার না, অনেকের দেখা...) সাংঘাতিক জিনিয়াস একটা ছেলে হচ্ছো তুমি। তোমার আগের অনেক লেখায় এবং এই লেখাতেও মন্তব্যগুলো পড়ে আমার কিন্তু উপরের ইটালিক্সে লেখা কথাটা-ই বারবার মনে এসেছে।
তুমি-ই আমাকে সচলে এনেছ, সচলের "পরিবেশ" নিয়ে এত প্রশংসা করে...এ কী দেখছি ব্রাদার??
কেউ কেউ উঠে পড়ে লেগেছে তোমাকে একটা "টাইপে" ফেলে দিতে। আমি তো "মানুষ" মনওয়ার কে চিনি, সে এইসব ডিসার্ভ করেনা।
================================================
পরদেশী বঁধু, ঘুম ভাঙায়ো চুমি আঁখি।
যদি গো নিশিথ জেগে ঘুমাইয়া থাকি,
ঘুম ভাঙায়ো চুমি আঁখি।।

সিরাত এর ছবি

আপু,

সরি। তবে এখানে কি খুব অসভ্য কিছু হচ্ছে?

সচলায়তনে লেখার পরিবেশ তো আপু সামহোয়্যারইনের চেয়ে আসলেই ভাল, তাই না? সেটা তো আমি ট্রাম্পেট করিই। হাসি

কেউ কেউ উঠে পড়ে লেগেছে তোমাকে একটা "টাইপে" ফেলে দিতে। আমি তো "মানুষ" মনওয়ার কে চিনি, সে এইসব ডিসার্ভ করেনা।

ধন্যবাদ। আমার দোষও আছে। সচলায়তনের এসব আলোচনার কষ্ঠিপাথর কিন্তু একদিক দিয়ে উপকারীও।

অসুবিধা নাই, এসবেরও দরকার আছে। জীবনের এডভার্সিটিগুলোকে নিজের কাজে লাগানোই তো বুদ্ধিমানের কাজ, তাই না? সেদিক দিয়ে আম বেশ খুশি।

আপনি কষ্ট পাচ্ছেন, জানি। পেয়েন না। শিখতে পারলে আরো ভাল, আপু।

আমি জাইনা সমাচার পড়েছি। কি বলবো বুঝতে পারি নাই, তাই কিছু লিখি নাই।

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

সিরাত তুমি কি পান্ডবদার দেয়া লিংকগুলা পড়ে দেখছ মনোযোগ দিয়া?
বইটা আমি পড়িনাই কিন্তু লিংগুলর খালি টাইটেল দেইখা ঘাবড়াইলে হইব না, ভিতরে কি বলা হইসে সেইটাও কিন্তু পড়ে দেখা চাই। খেয়াল কইরা ভাই! কয়টা তোমার আশংকার সাথে মেলে একটু পইড়া দেখ।
না পইড়া ফালাইয়া থুইবা দুইদিন পড়ে কেউ আইসা নিতসের নাম নিলে আবার তোমার মতই আক্রমনের শিকার হইব। কারন কেউ কিছু না কইলে ব্যপারটা 'সেটেলড' ধরা হইব। বিশেষ কইরা এলান টেইলরের লেখাটা পড়। আর এন্টিসেমিটিসম নিয়ে উইকির নিবন্ধটা আসলে কি বলতেসে সেইটাও খেয়াল কইরা। উলটা বুঝনাইত?
------------------
সংযোজনঃ
কিছু উদ্ধৃতি দিচ্ছি এই বইটা থেকে


"An ardent foe of nationalism, anti-Semitism and power politics his [Nietzsche] name was later invoked by Fascists and Nazis to advance the very thing he loathed."


রিচার্ড রর্টির মতে তার পর যত দার্শনিক এসেছেন তার পোস্ট-নিতসেয়ান এই অর্থে যে তাদের দার্শনিক চিন্তাধারার মটভেশন মূলত নিতশের থেকেই আসে।
[নিচের মন্তব্যে দারিদা আর ফুকোর তথা বলেছি; প্রকৃত লিস্ট আরো অনেক বড়ই হবে] হাইডিগার, ফুকো আর দারিদা তার সম্পর্কে অনেক গালভরা মন্তব্য করেছেন। সেদিকে নাই বা গেলাম। কারন তাঁদের কাছে নিতসে হচ্ছেন গুরুর মত।

একবার ম্যালথাসরে নিয়া হাসিব ভাইয়ের মন্তব্যের উত্তরে একটা পোস্ট দিছিলাম। এখন একটু অলস হইসি তাই মন্তব্যেই কাজ সারতেসি।

সিরাত এর ছবি

উপরে মন্তব্যে দেখছি, সচলায়তনে কতিপয় সদস্য আমার লেখায় ভীত। তার উপর, শ্রদ্ধেয় হাসিব ভাইয়ের মতে, আমার লেখার 'মান' এবং মানসিকতা সচলায়তনের অনুপযোগী।

আমি ভীত হই না, কিন্তু বেশ আপসেট হবো যদি সচলায়তন তার 'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির' স্লোগান বজায় রাখতে না পারে। এদিক দিয়ে সচলায়তন এ পর্যন্ত আমাকে হতাশ করেনি।

আমি 'তালেবানের সাথে খাতির' লেখায় কেবল বাস্তবতার কথা লিখেছিলাম। আমার লেখার পর নিউ ইয়র্ক টাইমসে এই বিষয়ের লেখাই হেডলাইন হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস কি ফ্যাসিস্ট তালেবান সিমপ্যাথাইজার?

গতকাল লেখায় আপত্তি জানানোর পর মডারেটররা আপত্তিজনক মনে করেননি, ধন্যবাদ তাদের। আমি এ ধরনের লেখা আর লিখবো না বলার পর কমপক্ষে তিনজন সচল আমাকে অনুরোধ এ ধরনের ভূরাজনৈতিক লেখা আরো লিখতে। ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে লেখা কেন সচলায়তনে তালেবান সিমপ্যাথি হিসেবে বিবেচিত হয়?

এই লেখাটায় নিটশা আছেন, আবার প্রকৃতিও আছে। লেখার ট্যাগেই দেয়া ছবিব্লগ। তারপরও, নিটশা নাৎসি জার্মানির অস্ত্র ছিলেন কিনা, সে কারণে সচলায়তনে নিৎসা নিয়ে লিখা বন্ধ থাকবে?! ববি ফিশার এন্টি-সেমিটিক ছিলেন - দাবা ইতিহাস থেকে ফিশারকে তাহলে ব্যান করে দিতে হবে?! আমরা এদের অন্যান্য এ্যাসপেক্ট থেকে কিছুই শিখবো না?

সচলায়তনের সদস্যশীপ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই। এটি চলে গেলে আমার কোন আপত্তি থাকবে না। এটি একবার না, বহুবারই বলেছি। লিখতে মজা লাগে এখানে, মানুষ বেশি, ফিডব্যাক পাই। লিখতে না পারলে অন্য কোথাও লিখবো, হয়তো অন্য কোন ভাষায়। জীবনে তো আমরা কত কিছুই হারাই। হ্যাঁ, সচলায়তন থেকে পেয়েছি প্রচুর, হয়তো দিয়েছিও কিছু। ওটা অব্যাহত থাকবে, লেখা তো পড়তেই পারবো।

তবে, আমি লক্ষ্য করছি যে এখানকার কতিপয় সদস্যের অন্য মতের প্রতি টলারেন্স খুবই সীমিতি, এবং এটি সকল সচল করেন না, করেন একটি ক্লিক।

আমি আমার কথা ফিরিয়ে নিচ্ছি। আমি সব বিষয় নিয়েই এখানে লিখবো, আগ্রহ থাকলেই, তা হোক তালেবান বা নিটশা। পায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাবো না, তবে যদি লেগে যায়, কি আর করা। ঝগড়া থেকে অনেক ভাল ফিডব্যাকও আসে! হাসি

আমি নিশ্চিত আমার এ স্টান্স অনেকেরই ভাল লাগবে না।

কারো যদি ভাল না লাগে, মডারেটরদের জানিয়ে আমার সদস্যপদ খারিজ করার আবেদন করে দেখতে পারেন, বা লেখা সরিয়ে। তবে অনুগ্রহ করে আমার লেখায় ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে আসবেন না।

আপনারা আপনাদের উত্তর মনের সুখে মন্তব্যে বা অন্য লেখায় দিতে পারেন। আমি উপভোগই করবো।

ধন্যবাদ।

হাসিব এর ছবি

সচলায়তনে কতিপয় সদস্য আমার লেখায় ভীত

আতঙ্কে হাত পা ......

বিনোদন - বিনোদন । অনেকদিন পর হাসি

আমি 'তালেবানের সাথে খাতির' লেখায় কেবল বাস্তবতার কথা লিখেছিলাম। আমার লেখার পর নিউ ইয়র্ক টাইমসে এই বিষয়ের লেখাই হেডলাইন হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস কি ফ্যাসিস্ট তালেবান সিমপ্যাথাইজার?

গতকাল লেখায় আপত্তি জানানোর পর মডারেটররা আপত্তিজনক মনে করেননি, ধন্যবাদ তাদের। আমি এ ধরনের লেখা আর লিখবো না বলার পর কমপক্ষে তিনজন সচল আমাকে অনুরোধ এ ধরনের ভূরাজনৈতিক লেখা আরো লিখতে।

সিরাত কি হাবিব মহাজন নামে কোন ব্লগারের সাথে পরিচিত ?

সিরাত এর ছবি

আরে হাসিব ভাই, আপনে আনন্দ পাওয়ায় আমিও ব্যাপক খুশি। তবে দেখেন ষষ্ঠ পান্ডব ভাই কি বলসে:

সিরাতের আগের পোস্টেই আমি আমার উদ্বিগ্নতার কথা জানিয়েছিলাম। এখন আমি আরো ভয় পেলাম।

আনন্দ বাড়লো কি আপনার?

সিরাত কি হাবিব মহাজন নামে কোন ব্লগারের সাথে পরিচিত ?

না তো ভাই।

অনুগ্রহ কইরা মন্তব্য অন-টপিক রাখেন, প্লিজ ভাইজান!

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

হ্যাঁ সিরাত, আমি ভীত। তবে আপনার লেখায় নয়, কারণ লেখক হিসাবে আমি আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী নই। আমার ভয় আপনাকে নিয়ে। সেটা তালিবান সংক্রান্ত পোস্টেও বলেছি। আমার ভয়ের কারণটা হয়তো এখানে ব্যাখ্যা করা উচিত ছিল, কিন্তু করছিনা। কারণ, ব্যাপারটা এভাবে আপনাকে বোঝাতে পারবো বলে মনে হয় না।

সচলের যাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় আছে তাদের অনেকের অনেক কিছু নিয়ে আমার ভয় আছে। আমি তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনাও করি। আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য অমন বিবেচনা থেকেই তা করি। আপনি আমাকে অমন আপন না-ই ভাবতে পারেন, তবে তাতে আমার উদ্বিগ্নতা কমবেনা। আমি মানুষ হিসাবে অমন বোকা ধরণের।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সুমন চৌধুরী এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

দুর্দান্ত!

আমি আপনার লেখা ভক্ত হয়ে গেলাম।

-নীল রোদ্দুর

দুর্দান্ত এর ছবি

আপনি হয়তো দূর্দান্ত বলতে চাচ্ছিলেন। দীর্ঘ ঊ কার।
দুর্দান্ত আমার নিক, এটায় হ্রস্ব উ।

কেবলই অতিথি এর ছবি

ভাই সিরাত আমি তোমার লেখার বিশেষ ভক্ত, একটু চিন্তাভাবনা করে পোস্ট করো না ভাই, প্লীজ। একটু কম বিতর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে লিখলে ভালো হয়। এরিয়েলি কে নিয়ে লেখা তোমার পোস্টগুলা খুব আনন্দ নিয়ে পড়েছি, এই ধরণের মজাদার বিষয় নিয়ে লেখার ক্ষমতা তোমার ব্যাপক! এইরকম আরো পোস্ট করো। এখন এই অসন্তোষের জোয়ারে তোমার একাউন্ট টা বাতিল হলে আমরা সচলায়তনে একজন ভালো মজাদার বৈচিত্র্যময় লেখক হারাবো! কি দরকার ঝামেলা তে যাওয়ার! ব্যক্তিগত পছন্দের সব বিষয় নিয়ে যদি সবাই ব্লগিং করা শুরু করে তাহলে ব্যাপারটা একটু কেমন হয়ে যায় না? আমার এক বন্ধুর পছন্দের বিষয় ছিলো কেউ গোসল করলে পিপিং করা(বিশেষ করে মেয়েদের!!!, পিপিং টম!!) , এখন সে যদি এই বিষয় নিয়ে কম্যুনিটি ব্লগে ১টা পোস্ট লিখে বসে তাও আবার সেই বিষয়ের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন/সহমর্মিতা জানিয়ে তাহলে বিষয়টা কেমন হবে?!?! একটু চিন্তাভাবনা কর, যে কোনো ধরণের লেখনীর ক্ষমতা প্রচুর, অনেক তার প্রভাব, তোমার লেখা কিন্তু তোমার মানসিকতার পরিচয় ফুটিয়ে তুলে। আমি বুঝি তুমি ভিতরে একটা বড় শিশু, কিন্তু সচলের মত একটা প্ল্যাটফর্মে লিখার সময় সেই শিশুত্বটাকে একটু দুরে সরিয়ে দায়িত্ব নিয়ে লিখ। একটা লেখার প্রচুর ক্ষমতা, অনেক কিছু গুঁড়িয়ে দিতে পারে অনেক আলোচনা তৈরি করতে পারে, নতুন মতবাদ তৈরি করতে পারে। mein kampf, লজ্জা এইগুলা কিন্তু শুধু লেখা না এরা নতুন পথের নির্দেশ - হতে পারে ১টা খারাপ ১টা ভালো। কিন্তু লেখার ক্ষমতা কি বুঝানোর জন্য এরা যথেষ্ট! আর অন্যের মতামতকে একটু গুরুত্ব দিতে শেখো, আমরা সামাজিক জীব তার উপর আবার গণতন্ত্র চলছে। গণতন্ত্র মানে শুধু নিজের মনে যা আসলো তাই বলব তাই লিখব এইটা না, বরং অন্যের চাওয়া পাওয়া মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেকে সংশোধন করবো এইটাও গণতান্ত্রিক আচরণের ভিতর পড়ে। "চিত্ত যেথা ভয়শুন্য উচ্চ যেথা শির" - ভালো-শুভর পক্ষে, মন্দ-অশুভের বিপক্ষে ভয়শুন্য চিত্ত আর উচ্চ শিরের কথা বলা হয়েছে বলেই তো মনে হই। এইটা নিয়ে কি তোমার কোনো দ্বিমত আছে? আশা করি তুমি তোমার ভুল বুঝতে পারবা আর আমরা তোমার কাছ থেকে আগের মত ভালো ভালো লেখা উপহার পাবো।

সিরাত এর ছবি

ধন্যবাদ ভাইজান। লাস্ট কমেন্ট যেটা দিলাম, rant-টা, সেটায় মনে হয় এ্যাড্রেস করসি।

আমি আমার ভুল বুঝতে পারসি আসলে। আমি মনে হয় সচলায়তনের আদলে গড়া না, তাই খালি লাগে। ইগো বেশি, কমাইতে কইলেও সয় না। কিন্তু কখনো আসলে কমাইতে চেষ্টা করি নাই এইভাবে - মানে, লোকের গালি খেয়ে। তাও হাসিব মাহমুদ সাহেবের গালি।

যাই হোক, উপলব্ধি হলে ঠিক হয়ে আসবো। রাগের মাথায়ও ভাল লেখা টেখা হয়। দেখি না।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

সিরাত, লেখালেখি চলতে থাকুক। সব বিষয় নিয়েই লিখুন। আপনার ইচ্ছেমত লেখার স্বাধীনতা থাকা উচিত, এবং পাঠকও স্বাধীনভাবে তার অভিমত ব্যক্ত করবেন এমনটাই হওয়া ভালো।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

সিরাত তো দেহি দলছুটের লাহান চ্যাইতা যাইতেছে। দেঁতো হাসি

আর ফিডব্যাক ফিডব্যাক কইয়া কইয়া আপনি যেসব হেজামোনি করবার চান তা লা-জওয়াব।

আপ্নের যাবতীয় চিন্তা এক বিশাল ভ্রান্ত ধারমার চৌবাচ্চায় বাচ্চা পয়দা করতেছে।

আপ্নের ব্লগের আশু জন্মনিয়ন্ত্রণ দাবি করতেছি।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আপ্নের ব্লগের আশু জন্মনিয়ন্ত্রণ দাবি করতেছি।
আপনার লেখা নিয়ে কেউ যদি একই দাবী তোলে?

আপনার মন্তব্যের যে সুর, তা আপত্তিকর।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আমার লেখায় কেউ দাবী তুললে আমি কিছুটা সম্মান দিব।

মন্তব্য আপত্তিকর মনে হলে সিরাতের ঘ্যাচাং দেয়ার ক্ষমতা আছে দেখেই কিছুটা সাহস করি।

ব্লগের না বলে আসলে এই ধরণের লেখা মীন করতেছিলাম আনকন্সাস্লি।

যাই হোক কেউ মাইণ্ড খাইয়েন না।

সিরাত এর ছবি

অবশ্যই। ফুল স্কেল জন্মনিয়ন্ত্রন পাবেন, নো চিন্তা।

তবে একটা কথা, আমার লেখার ফ্লো নিয়ে মানুষের এত দুশ্চিন্তা কেন?!? আমি তো হিমু ভাইয়ের দীর্ঘ গালি খাইয়া নিয়ম মাইনাই লেখা দিতেসিলাম। একেবারে পই পই করে নিয়ম মেনে। এমনকি প্রথম পাতায় দুই টপিকে যথেষ্ট ভাবে তারতম্য আনছিও, মুর্শেদ ভাইয়ের সাজেশনে।

যাই হোক, লোভ সামলাইতে পারি না, আমার দোষ। কি জানি, গতকাল না এটা নিয়া ফেসবুকে কথা হইলো? চান্সে কোপ মাইরা দিলেন? হাসি

কি আর। ব্যাপার না।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

উদ্ধৃতি

কি জানি, গতকাল না এটা নিয়া ফেসবুকে কথা হইলো? চান্সে কোপ মাইরা দিলেন?

না ভাই কোন কোপ মারবার চাই নাই।

যাই হোক লেখা চলতে থাকুক। এক পাতায় দুইটা লেখা না আসলে আমার লাভ না, আপনার লাভ। পাঠক মিথস্ক্রিয়ায় ঠিকমত অংশ নিতে পারে। ২৪ ঘন্টা সেখানে যথেষ্ট নয়। এই সামান্য কথাটা বোঝানোর জন্য নিয়ন্ত্রণের মত শব্দ হাতে চলে এসেছে।

স্পর্শ ভাই, ষষ্ঠ পাণ্ডব নমস্য লোক। তাঁর মত হতে পারলে ভাল হত। আর ইমেজ একটা ভ্রান্ত ধারমা।

মাইণ্ড না খেতে বললাম। কিন্তু কিসের কী।

আর সিরাত কিছুটা ভেবে ভাল লেখা সচলে দেন। বিরুদ্ধ মতবাদ এখানে ভাত পায় না- এটা এখনো আমার বিশ্বাস হয় না।

সিরাত এর ছবি

আমার অনেক দোষ আছে। সুতরাং আপনি মাইন্ড খাইয়েন না বরং।

আর সিরাত কিছুটা ভেবে ভাল লেখা সচলে দেন। বিরুদ্ধ মতবাদ এখানে ভাত পায় না- এটা এখনো আমার বিশ্বাস হয় না।

হাসি

স্পর্শ এর ছবি

মন্তব্য আপত্তিকর মনে হলে সিরাতের ঘ্যাচাং দেয়ার ক্ষমতা আছে দেখেই কিছুটা সাহস করি।

একজনের লেখা মন্তব্য, প্রকাশের পরে, অন্য কারো ঘ্যাচাং করাটা কোনো ক্রমেই সাপোর্ট করা হয় না।

আপনার আগের মন্তব্যটা আপনার লেখা পড়ে আপনার সম্পর্কে যে ইমেজটা তৈরি হয়েছে, তার সাথে যাচ্ছে না।

সচলে(এবং অন্য কোনো কমিউনিটিতেও) বিরুদ্ধ মতের মন্তব্য করার জন্য এই লেখায় ষষ্ট পাণ্ডবের মন্তব্যের বাচনরীতি থেকে আমরা শিখতে পারি।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

শাফক্বাত এর ছবি

উদ্ধৃতিঃ
যাই হোক কেউ মাইণ্ড খাইয়েন না।
আমি মাইন্ড খাইসি মন খারাপ
================================================
পরদেশী বঁধু, ঘুম ভাঙায়ো চুমি আঁখি।
যদি গো নিশিথ জেগে ঘুমাইয়া থাকি,
ঘুম ভাঙায়ো চুমি আঁখি।।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

১.
আমার ছোটোবেলা একজনকে বলতে শুনেছিলাম, মুহাম্মদের পরে আর কেউ নবী হলে সেটা এডলফ হিটলারই হতো। ইহুদী নিধনে তার ক্রেডিটই এই নবীয়ানায় মনোনয়নের কারণ।

২.
সেই বহুল প্রচারিত গল্প। হাতি একটি উপকারী জন্তু। হাতি সাপের মতো, হাতি কুলার মতো, হাতি থামের মতো ....

তারপর আরেকটু সময় গেলে হাতি 'হাতির মতো'।

৩.
হাতিটা পাগলা হলে তার শুঁড়টা কেমন সাপের মতো মসৃণভাবে মোঁচড়ামুচড়ি করতে পারে, কি শৈল্পিক কৌশলে কলার ঝোঁপ উপড়ে ফেলতে পারে, যারা হাতির পাগলামী সম্পর্কে জানে তাদেরকে এসব কাহিনী শুধু বিরক্তই করে।

৪.
আদর্শলিপিতে ইনডিভিজুয়াল অ আ ক খ শেখায় কোনো দোষ নেই। তবে জনসম্ষে বললে পুরো বাক্যটিই বলতে হয়।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ফাহিম এর ছবি

হাতিটা পাগলা হলে তার শুঁড়টা কেমন সাপের মতো মসৃণভাবে মোঁচড়ামুচড়ি করতে পারে, কি শৈল্পিক কৌশলে কলার ঝোঁপ উপড়ে ফেলতে পারে, যারা হাতির পাগলামী সম্পর্কে জানে তাদেরকে এসব কাহিনী শুধু বিরক্তই করে।

চলুক

=======================
যদি আমি চলে যাই নক্ষত্রের পারে —
জানি আমি, তুমি আর আসিবে না খুঁজিতে আমারে!

=======================
কোথাও হরিণ আজ হতেছে শিকার;

সিরাত এর ছবি

বলাই ভাই,

এতটুকু বুঝছি, আমাকে গালি... উপস... গঠনমূলক ভালর জন্য ভদ্র সমালোচনা করা হচ্ছে। হুইচ ইজ ফাইন। একটু পরিষ্কার করে বললে ভাল লাগতো আরকি। অনেক কষ্ট হইসে অতটুকু বুঝতেই।

ধন্যবাদ। নরওয়ে নিয়ে পারলে একটা লেখা দিয়েন।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

"দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য।" আসলে এর বাইরে কিছু পরিষ্কার করা লাগে না। আপনার আমার মতো নিরাপদ দূরত্বে বসে নেটে মনের মাধুরী মিশিয়ে আঁকিবুকি করা কোনো সমস্যা না, সমস্যা হলো সেই আঁকিবুকিটা যখন পাঠকের কাঠগড়ায় দাঁড়ায়, তখন তাতে খুঁত থাকলে পাঠক রিঅ্যাক্ট করতেই পারে। একটা গুণ এবং সে গুণের দোষ হয়ে ওঠার মধ্যে পার্থক্য আছে। মনে করেন, আমি দৃঢ়চিত্তের মানুষ। কিন্তু সেই দৃঢ়চিত্তকে আমি যদি ঠান্ডা মাথায় মানুষ খুনের জন্য ব্যবহার করি, তাইলে ওই গুণটার উদাহরণ হিসেবে আমার নাম নিলে যারা আমার খুনীরূপটা জানে, তারা বিরক্ত হবে।

আপনার অ্যাপ্রোচের সমস্যা (আমারদৃষ্টিতে) হলো, আপনি যেগুলোকে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর গুণ মনে করছেন, সেটা সমষ্টির কাছে আসলে দোষ। ধরেন, হিন্দুদের সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে একজন কাজ করতে থাকলো। তখন আপনি যদি বলেন, সহমরণ খুব ভালো জিনিস; কারণ এটা তাদের কালচারেই ঢুকে গেছে, তাইলে আপনি বিষয়টার গভীরে গিয়ে দেখলেন না। তালেবান পছন্দের পোস্টটিকে আমার কাছে এই দোষে দুষ্ট মনে হয়েছে। তালেবানদের কালচার যদি হয় মেয়েদেরকে ঘরের বাইরে না যেতে দেয়া এবং আপনি যদি সেটায় দোষের কিছু না দেখেন, তাইলে বুঝতে হবে আপনি ঘটনার সারফেসে থেকেই একটা জিনিসের পক্ষে ইনডিরেক্টলি কথা বলছেন।

এরকম অনেক বিষয়ের সাথেই বিরাট সংখ্যক মানুষের জীবনমৃত্যু জড়িত, অস্তিত্ব জড়িত। তখন রিঅ্যাকশনটা আসে। আর আপনার আরেকটা ভুল ধারণা, অনেকে দলবদ্ধভাবে 'আপনাকে' অপছন্দ করে। এটা ভুল। অপছন্দ করলে আপনার পোস্টই অধিকাংশ পাবলিক পড়ে দেখতো না। আর এখানে ব্যক্তির পরিচয় তার লেখায়, তার বাইরে কিছু নাই।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সিরাত এর ছবি

ব্যাখ্যার জন্য ধন্যবাদ বলাই ভাই। বুঝছি। চলুক

দুর্দান্ত এর ছবি

সিরাত। পোলাপানের মত আগে দুষ্টামি, তারপর ঘাউরামি, তারপর কান্নাকাটি এই ক্রম তো দুই তিন বার হইল। এইবার থামাও। সচল অনেকেই তোমারে ভালবাসে, তাই এইখানে তোমার গঠনমূক সমালোচনা হয়। তোমার সবাই চেনে তোমার লেখা দিয়া। সেগুলা পইড়া তোমারে নিয়া যা ধারনা হয় সেটা নিয়াই কথা ওঠে। এইগুলা তোমার ভালর জন্যই।

এখন তোমার সামনে দুইটা রাস্তা খোলা, আছে প্রাপ্তবয়স্কের মত আচরন কর, সমালোচনারে কাজে লাগাও, যারা সময় খরচ কইরা সচলে আসে, তোমার লেখায় মন্তব্য করে, তাদের কথার যে তুমি কিছুটা দাম দাও, সেটা দেখাও। অথবা তুমি দুধভাতই থাকো, সমালোচনার জায়গায় সমালোচনা থাকুক, আর তুমিও ঘাউরামি-কান্নাকাটি করতে করতে পাবলিকের চড় থাপ্পর খাইতে থাকো।

সিরাত এর ছবি

এইগুলা তোমার ভালর জন্যই।

আহ! এই লজিক কেউ ছাড়ে না।

সচল অনেকেই তোমারে ভালবাসে, তাই এইখানে তোমার গঠনমূক সমালোচনা হয়।

হয়তো আমার ভুল হইতে পারে, কিন্তু হাসিব ভাইয়ের সমালোচনা আপনার গঠনমূলক মনে হয়??!!

যারা সময় খরচ কইরা সচলে আসে, তোমার লেখায় মন্তব্য করে, তাদের কথার যে তুমি কিছুটা দাম দাও, সেটা দেখাও।

নিটশাকে নিয়ে লিখলে যদি অপরাধ হয়, তাহলে তাদের কথার দুই পয়সা দামও আমি দেই না। লেট দেম ব্যান মি। এবং...

অথবা তুমি দুধভাতই থাকো, সমালোচনার জায়গায় সমালোচনা থাকুক, আর তুমিও ঘাউরামি-কান্নাকাটি করতে করতে পাবলিকের চড় থাপ্পর খাইতে থাকো।

সেই ক্ষেত্রে আই উইল ডু জাস্ট দ্যাট, অর বেটার, লিখুমই না!

ধন্যবাদ আমার ভাল-র জন্য মন্তব্য করায়। সবাই আমার ভালই চায়। আমিও সবার ভাল চাই, আপনারও। ভাল থাকেন!

সিরাত এর ছবি

আমার পরিবারের কেউ ব্লগিং নিয়া আগ্রহী না। ইমিডিয়েট পরিবারের আরকি। আগ্রহ শুধু শূন্য না, নেগেটিভ।

কিন্তু আমার বাপ (গালি দিতে চাইলে দ্যান, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিএনপি-র পাঁড় সমর্থক; তবে নিজের বাপ তো, তুলবার চাই না সহজে) সচলায়তন পড়লে শিওর বলতো:

"এটা একটা আওয়ামী নাস্তিক সাইট। এই সাইটে যে যায় তাকে বিশ্বাস করা যায় না।"

ছোটবেলায় আমার বাপের অন্যতম সিভিয়ার গালি ছিল 'আওয়ামী চরিত্র'। সেই পরিবারে বড় হইয়া আমি সচলায়তনে লিখি/পড়ি।

আমার পরিবারের থিকা আমি জিনিস পাইসি, লসও করসি। কিন্তু আমার বাপের বিএনপি ফ্যানাটিসিসম (যাহা এখন পড়তির দিকে বইলাই মনে হয়) দেইখা আমি একটা জিনিস ডিসাইড করসি: নো মোর অফ দিস। সরি। ইউ মেক এ ফুল অফ ইওরসেল্ফ ওয়ে টু অফটেন।

আজকে সচলায়তনের কিছু লোকের কাজকারবারে আমার বাপের আগের সেল্ফ-এর কথা মনে পইড়া যায়। ফ্যানাটিক। পুরা ফ্যানাটিক!

নিজের বাপরে আপনাদের গালির ফোয়াড়ার সামনে হাজির করলাম। দিতে চাইলে দেন, হে ব্লগ পড়ে না, পাত্তা দিবে না। সে এখন অনেক বেশি রিজনেবল। আমারে আপ্রাণ চেষ্টা করছে ধার্মিক করতে, বিএনপি-পসন্দ করতে, আব্বা পারে নাই। আমি আমার নিজের পছন্দ করসি।

এখন আপনারা বলতেসেন: তুমি টোটাল আওয়ামী-পসন্দ, যুদ্ধাপরাধী-সাপোর্টার-ফ্যানাটিক, মানে আমাগো মত হও। আমরা এক্সকে টোটাল সাপোর্ট দেই। তুমিও দিবা। আমরা ওয়াই কে কুকুর বরবাদ মনে করি, তুমিও করবা।

আমি যদি না করি, তাইলেই, তবে রে হারামজাদা!! দেখাইতাসি তরে।

আমি কি গাধা?? আমি কি জানি না সচলায়তন একটা থট ক্লাব ফর লাইকমাইন্ডেড পিওপল??

অবশ্যই! এটা এই নিয়া কয়বার দেখলাম? কয়েক দিন আগে রিয়াজ ভাইয়ের ফুল স্কেল উইচ হান্ট হইল। সচলায়তনে যদি একটা লেখা দেই: গোলাম আযম মাদাফাকা - দুই লাইনের কবিতা ইত্যাদি, ৫০টা পাঁচতারা।

আর আমি এই যে এগুলা লিখতাসি, তাতে আমি ট্রেইটর মাদাফাকা রাজাকার পুত্র! বাহ বাহ বাহ!

কেউ দেখে না, কে কোন ব্যাকগ্রাউন্ড থিকা আসছে। আমি যদি একটা সেমি-লেজিট প্রশ্ন করি এ ব্যাপারে, ওরে বাবারে, তুলকালাম। হুমায়ূন আজাদরে আমার ভাল্লাগেনা: ওইক বাংপাকি তুই কইত্থিকা আইলি?

তালেবান নিয়া, আল-আম্রিকি নিয়া নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখলে কিসু হয় না। আমি ওইটা দিলে, আমি দোষী! কেন? আমি তো আগেই কালারড। আরে বেটা তুই ত বাংপাকি। তর বাপ গোলাম আযমের লগে বিয়ায় মুলাকাত করে। তর থিকা আমরা আর কি পামু? ভাগ ভাগ!!!!

জিনিসটা কি আসলেই এরকম? না!! চরম রাগের মাথায় লিখতেসি। অবশ্যই পুরাপুরি এরকম না। সচলায়তনে দারুণ সব মানুষ আছে। মুস্তফা হানিফ দুর্দান্ত, রাজর্ষি দেবনাথ, দিগন্ত সরকার, ইশতিয়াক রউফ, তারেক আজিজ, লুৎফল আরেফিন, রাগিব হাসান।

হাসিব মাহমুদ, মাহবুব আজাদ, মনির হোসেন, আরিফ ভাই, রুমি ভাই, জুবায়ের মাহবুব - এরাই বা এই লিস্ট থেকে বাদ যাবে কেন? অবশ্যই যাবে না। এরা আমার একটা অ্যাসপেক্ট ক্রিটিসাইজ করসে বলেই বাদ যাবে?

অবশ্যই আমার চোখে না। আমার জ্বলন্ত রাগের মাথায় এদের আমি ক্রুসিফাই করবো মনে মনে, কিন্তু আমি মানুষকে অ্যাসপেকচুয়ালি দেখবো।

নিজের বাপকে আমি ফেলি নাই। এদের ফেলবো কেন??!

থট ক্লাব হিসেবে সচলায়তনে লিখতে কিছু ইকিউ আরোপ করা উচিৎ। ইমোশানল ইন্টেলিজেন্স। আমি চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির-কে লিটারেলি নিয়ে সেই ইন্টেলিজেন্স আরোপ করি না।

অফিসে করি। এখানে করি না। করবো কেন?? সচলায়তন কি আমাকে পয়সা দেয়?

আমি এখানে মনের আনন্দে লিখবো। নাইলে লিখবো না। নো ওয়ে!!!!

সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ, আফগানিস্তানে তালেবান আমলে এবং ইয়েমেনের মধ্যভাগে (আর এখন সোমালিয়ায়) এরকম থট পুলিশ আছে। এদের বলে:

'কমিটি ফর প্রোটেকশন অফ ভার্চু এ্যান্ড প্রিভেনশন অফ ভাইস'

সমাজে এদের অবশ্যই ভূমিকা আছে, কিন্তু আমার পোষায় না। বিশেষত ব্লগিং-এ।

সচলায়তনে এখন সিউডো কমিটি গঠিত হয়ে যাচ্ছে। তারা এসে এসে একে একে অপ্রিয় ব্লগারদের মাটিতে ফালায় মাড়ান।

আমরা যারা গাধা, নিউট্রালিটির/ব্রেনওয়াশিং -এর নামে আইসা এখানে হুদা লাফাই, তারা ওদের প্রিয় টারগেট।

তাও আমি যাই। শুধু এখানে না, সালাফি ফোরামে যাই, আমেরিকার রাইট উইং ফোরামে যাই, লিভারপুল ফোরামে গিয়া এভারটনরে সাপোর্ট করি। নাইলে আমাগো হইবোটা কি? অন্যের মত শুনতে হইবো না। প্লাস, আমার হয়তো ডেভিলস এ্যাডভোকেসি করার বদভ্যাস আছে।

সচলায়তনরে আগে সহজে সালাফি ফোরাম কইতাম না। গতকাল দুর্দান্ত আর দিগন্ত ভাইয়ের কাছে প্রায় কইয়া ফালাইসিলাম। আজকে কইলাম। পরিবেশটা সেরকম।

আমার লেখার ক্ষমতা সীমিত। মৌলিক জিনিস লিখি কম, বেশিরভাগই মারা জিনিস। মানুষের রিঅ্যাকশন ভাল্লাগে। আমিও শিখি।

কিন্তু একটা পর্যায় আছে যখন আমার মত গবেটও বুঝবে যে আর পোষাইতাসে না। আমার লেখার স্কিল আর সচলায়তনের আইডিওলজিকাল বেন্ট মিল্যা মিশ্যা লিখা অসম্ভব!!!!! এমনকি আরিয়েলি নিয়া লিখ্যাও। সচলায়তনের মিলিট্যান্ট এথেইস্ট, মিলিট্যান্ট রাশনালিস্ট, মিলিট্যান্ট দুর্জন বিদ্বানিস্ট, যারা আমাকে আদর করেন, তাদের চাপে পইড়া আমি গন কেস হইয়া যামু।

তাই বইলা কি আমি লিখা ছাইড়া দিমু? অবশ্যই না। কিন্তু এই পরিবেশে কেমনে লিখি?

আমার বাপ-মা আমারে কইতো - নাস্তিক বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য। হায় হায়, এখন আমিই প্রায় নাস্তিক - এগনস্টিক। বেচারারা এইটা নিয়া ফ্ল্যাক কম খায় না।

হায় হায়, এখন আরিফ ভাই আমারে কয় দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য।

এক সালাফি ফোরামে এক পোলার কার্ল সাগানরে ভাল লাগসিলো দেইখা তার বন্ধু আইসা কয়: "অল প্রেইজ টু আল্লাহ। কার্ল সাগান ইজ বিয়ন্ড দ্য পেল অফ ইসলাম এ্যান্ড হ্যাজ ক্রিটিসাইজড আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ ইবন বাজ। মে আল্লাহ ফরসেক হিম, এ্যান্ড ব্রাদার, ডু নট ফলো হিম।"

কইত্থিকা কি!!!!

এইটা হইলো একটা rant (হায় রে য-ফলা)। ছাইড়া গেলাম, নিজের দোষ মনে হয় একটু কমই দেখসি। সরি। চেইতেন না। ব্যাপক রাগ উঠতাসিলো, রান্ডম ঝাড়লাম।

দিস, টু, শ্যাল পাস। তখন আবার কথা হবে। টা টা! হাসি

সিরাত এর ছবি

আলহামদুলিল্লাহ! হাসি

স্পর্শ এর ছবি

জীবনটা খারাপ না।

কী অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ একটা আইরনি হলো!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সিরাত এর ছবি

নাহ, কেন? এইটাও তো সল্ট অফ আর্থ। হাসি

সিরাত এর ছবি

একজন তার নাম সরাইতে বলসিলেন, কিন্তু এডিটের অপশন দেখতেসি না, সরি। এডিট করলে হিমু ভাইয়ের মেসেজও মুছে যাবে। মন খারাপ

হাসান মোরশেদ এর ছবি

সিরাত,
তোমার তো দেখি নিরাময় অযোগ্য অবস্থারে ভাই।
খালেদা জিয়া'র একটা কথা আমি ব্যাপক ভালু পাই। তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে আন্দোলনের সময় গোলাপী ম্যাডাম বলেছিলেন- পাগল ও শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ না।
নিরপেক্ষতা ও বুদ্ধিবৃত্তির ছালা পড়ে চিহ্নিত মানবতা বিরোধীদের প্রচার প্রচারনার জায়গা সচলায়তন না।

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য ঘোষনা দিয়ে সচলায়তন দুনিয়াশুদ্ধ সকলের কাছে তো ভাই মাথা বিক্রী করে দেয় নাই যার যা খুশি এখানে এসে প্রচার করে যাবেন। মৌলিক কিছু বিষয় যেগুলো পূর্ব থেকেই সিদ্ধান্ত গৃহীত- এসবের ক্ষেত্রে সচলায়তন কোন ছাড় দেবেনা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, বিশ্বমানবতা ও শুভবোধ বিরোধী কোন আলোচনা এখানে আদৃত হবেনা।

এখন তালেবান, নাৎসী, জামাত-শিবির,নিৎসে, গোলাম আজম, বর্নবাদ, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি মানবতা ও শুভবোধ বিরোধী কিনা এইটা নিয়া নতুন করে কথা তোলা আর ছাগলের চামড়া গায়ে দিয়ে নেকড়ে সাজা সমান কথা।

তোমার সাথে রুঢ় হতে আমার খারাপ লাগছে, বাকী যাদের মন্তব্যে তুমি কষ্ট পেয়েছো- আমি জানি তাদের ও খারাপ লেগেছে তোমার প্রতি রুঢ় হতে। বাট সরি টু সে- ইউ ডিজার্ভ ইট।

আমার মনে হয় তুমি নিজেকে যথেষ্ট সময় দিচ্ছোনা। নিৎসের নাম কবে শুনেছো? নিৎসে পড়েছো তুমি? খালি উইকগুগল ঘেঁটে দুনিয়ার উদ্ধার হয়না। উইকি গুগল আসার আগে ও মানুষ জ্ঞান অর্জন করেছে।

তোমার নিরাময় প্রাপ্তি হলে ভালো লাগবে।
শুভ কামনা হাসি
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

সিরাত এর ছবি

দারুণ মন্তব্য। ধন্যবাদ।

না, নিটশা/নিৎসে আমি পুরা পড়ি নাই। আমার বেশির ভাগ লেখাই ধার করা লেখা, এটা আমি কয় হাজার বার স্বীকার করসি শিওর না ভাইয়া।

এখন তালেবান, নাৎসী, জামাত-শিবির,নিৎসে, গোলাম আজম, বর্নবাদ, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি মানবতা ও শুভবোধ বিরোধী কিনা এইটা নিয়া নতুন করে কথা তোলা আর ছাগলের চামড়া গায়ে দিয়ে নেকড়ে সাজা সমান কথা।

কিন্তু মোরশেদ ভাই, আগি কোথায় তালেবান সাপোর্ট করলাম?

নিটশাকে নিয়ে বড় বড় কর্তৃপক্ষই শিওর না, কয়েকজন সচলের কথার ব্যাসিসে আমি সচলায়তনে তাকে নিয়ে লিখবোই না?!

গোলাম আজম, নাৎসী, বর্ণবাদ, মৌলবাদ নিয়ে আমি কোথায় সমর্থন দিয়েছি?

আল-আম্রিকি লেখায়? সেটা তো আমার লেখা নয়!!! নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রবন্ধের সংক্ষেপ। নিইটা কি মৌলবাদী?

আমার ধারণা, এটা বরং দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যাপার। সচলায়তনের কতিপয় লোকের দৃঢ় বিশ্বাস আমি মৌলবাদী ধ্যান ধারনার বাহক।

সেটা ভাঙ্গাতে পারা অনেক কঠিন। এবং, তারা সত্যও হতে পারেন।

কিন্তু ওনারা কি গালি দিয়ে আমাকে শিখাবেন? আপনি কি হাসিব ভাইয়ের আগের লিংকটা দেখেছেন? উনি আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছিলেন। উনি একটা বারও আমার কোন পোস্টে এসে কোন গঠনমূলক সমালোচনা করেননি। যেই লেখা ভাল লাগে না সেখানে এসে গালি দিয়ে যান, ১ দেন আর আপত্তি করেন। অবাক হলাম এটাতে এখনো আপত্তি করেননি দেখে!

আমার আপাত ধারণা সচলায়তন বায়াসড। আমি মনে করি এই ধারণা পুরোপুরি ভুল না। সচলায়তন নিজেই ক্লেইম করে কোন ব্যাপার নিয়ে সে বায়াসড। আমি সেই ব্যাপারের বিরুদ্ধে গিয়েছি কবে, কেউ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখান? শিবির নিয়ে আমার একমাত্র মন্তব্য কি ছিল, সেটাই দেখুন।

আমি ভুল হতে পারি। যদি হই, আপনাদের রুঢ় মন্তব্য আমার কাজে লাগবে।

আপনাদের বাইরেও অনেক সার্কেল আছে। লোকে ওসব সার্কেলে বিলং না করলেও ভুল করছি বলে। এরাও একটা ব্যাপার।

যাই হোক, এখনকার জন্য হাসিব ভাইয়ের এই ব্যবহারের কোন প্রতিবাদ না থাকা আমার জন্য এক্সেপ্টেবল না। আমি নিজেকে এই ব্যাপারে ভুল মানতে রাজি নই। যদি এটা মানে হয় সচলায়তন আমাকে ব্যান করে বা আমি লিখতে পারবো না, সো বি ইট।

আমার যদি কোন অপরাধ থাকে, (আছে), একেবারে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে ব্যান করুন/ গালি দিন (শিবির, তালেবান, আম্রিকি, নিটশা তো দিয়েই ফেলেছেন)।

কিন্তু হাসিব ভাইরা একেবারে নির্দোষ?! এইটা আপনি কিভাবে দেখেন?

হাসান মোরশেদ এর ছবি

দেখো সিরাত-লেখকের লেখাটা হলো ক্রিয়া আর পাঠকের মন্তব্য হচ্ছে প্রতিক্রিয়া।
ধরা যাক, হিটলারের ছবি আঁকা নিয়ে একটা পোষ্ট দিয়েছো তুমি। পোষ্টের শেষে লিখলে- 'যদি ও খুনী তবু হিটলার ছিলেন একজন চিত্রশিল্পী' তাহলে পাঠক তোমাকে একপক্ষে ফেলতে পারে আবার এই কথাটাই যদি অন্যভাবে লিখো- 'যদি ও ছবি আঁকতো তবু হিটলার ছিলো ঠান্ডা মাথার খুনী', তাহলে পাঠক তোমাকে মুল্যায়ন করতে পারে অন্যভাবে।

তোমার ইম্প্রেসনটা অন্যদের কাছে কি রকম গড়ে উঠছে তার অনেকটুকুর দায় কিন্তু তোমার। একবার অন্যদের ভুল হতে পারে, দুবার ভুল হতে পারে কিন্তু বারবার যখন তোমার বিষয়ে একই ঘটনা ঘটে তখন তোমার নিজের ভাবা দরকার- সমস্যাটা আসলে কি?

তুমি যে সব বিষয়ে 'যেভাবে' লিখো তাতে হাসিব, হিমু, বলাই, আরিফ, আমার- এদের প্রতিক্রিয়া এরকম রুঢ় হবে, এটা সচলায়তন বলে তবু যথেষ্ট সংযত অন্য ব্লগে হলে আমাদের প্রতিক্রিয়াই আরো বাজেরকম রুঢ় হতো। কেনো জানো? ওটা দীর্ঘ গল্প।

একটা দীর্ঘ সময় ২৪ ঘন্টার অনেকগুলো ঘন্টাই আমাদেরকে পার করতে হয়েছে অনলাইনে অশুভ চিন্তাধারনার ধারক বাহকদের সাথে এটাক কাউন্টারএটাকে। তাই 'প্যাটার্ণ ম্যাচিং'টা আমাদের চোখে সহজে ধরা পড়ে যায়।

গুগল উইকি এসবে আটকে না থেকে বই পড়ো। নিৎসের নিজের দর্শন পড়ছো না কেনো? অমুক তমুককে নিয়ে কি বলেছেন সেটা গিলে তুমি উগড়ে দিচ্ছো কেনো? এটা ও কিন্তু চিন্তার দৈন্যতা। নিজে নিৎসে পড়ো। তারপরে তোমার চিন্তাভাবনা শেয়ার করো। এতো তাড়াহুড়ো করছো কেনো?

দরকার হলে নিজের ভেতর ডুব দাও। এখানে কেউ তোমার শত্রু না। ভালো থেকো।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

সিরাত এর ছবি

বুঝি হাসান ভাই।

আমার জীবনটা খুব সহজ, সরল। আপনাদের মত ফাইট আমি করিই নাই। ধুর!

সচলায়তন বানাইসে কে সেটাও তো দেখতে হবে। এইটা তো আমি ডিসকাউন্ট করতে পারি না! হাসি

কিন্তু মোরশেদ ভাই, সবকিছুর কি একটা থ্রেশোল্ড আছে না?

ধরে নেই, আমার ভুল হতে পারে। ঠিক আছে।

আমি প্রথমে শিবির নিয়ে বললাম (এক লাইন, তাও হুমায়ূন আজাদকে নিয়ে লেখার মাঝে)। ভুল। ওকে। আর একটা লাইনও লিখি নাই।

তারপর গণহারে এক পাইসি কিছুদিন। মডুরা এক লোকের নাকি তারকা দেয়ার ব্যাপার বন্ধ করসে। সচলায়তনকে ধন্যবাদ।

তারপর অতিরিক্ত লেখা নিয়ে খাইলাম হিমু ভাইয়ের ঝাড়ি। সেইরকম কালো ঝাড়ি। উচিৎ ঝাড়ি। মানসি। আমি ঠ্যাকায় না পড়লে শিখি না।

তারপর আম্রিকি, তালেবান, আজকে নিটশা।

মোরশেদ ভাই, পুরা নিটশা পড়লে তো আমি সচলায়তনে লিখতাম না, আমি ওয়াল্টার কফম্যান হইতাম।

আধা পইড়া ইমপ্রেশন শেয়ার আমি করতে পারি না? তাও অ্যালেইন ডি বটনের বই? সচলায়তন এইরকম উল্টা-কাঠমোল্লা হয়ে গেল?

ওকে, করলাম। মানুষ প্রতিবাদ করতে পারে।

হাসিব ভাইকে আর ভিলিফাই করবো না মনে মনে প্রতিজ্ঞা করসি। কিন্তু মন্তব্য ধারাবাহিকভাবে আঘাত করছিল। আপনি... নাহ। যাহোক, টেক মি ফর মাই ওয়ার্ড। প্রতিটা মানুষের তো একটা স্ন্যাপিং পয়েন্ট আছে।

আমি কালারড, বুঝলাম। এই সুযোগে কেন আরো এক্সট্রা লাথি-গুঁতা।

কিছু লোক ভাল লেখায় একটা কথাও কয় না। 'খারাপ' টাইপের কিছু পাইলে একেবারে লাইন ধরে সমালোচনা।

তালেবানের লেখা নিয়ে আমি অলরেডি বলছি। আপনি ইশতিয়াকের মন্তব্যটা দেখেন। দিগন্তদার সাথে কথা হচ্ছিলো, পরের দিন নিউ ইয়র্ক টাইমসের হেডলাইন।

তালেবানকে 'কষ্টসহিষ্ণু, পরিশ্রমী' বলা আমার দোষ?

তাহলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের?

আল-আম্রিকি লেখা?

নিউ ইয়র্ক টাইমস আমার থেকে ১৫ গুন বেশি সিমপ্যাথেটিক ছিল। বিশ্বাস হয় না, গিয়ে পড়েন!

এটা ৯/১১-র দেশ।

আমি বুঝি আপনাদের এ্যালাইনমেন্ট।

কিন্তু আপনার কি একটুও মনে হয় না যে আপনার মাঝে মাঝে ওভারজিলাস হন?!

আমার দোষ অবশ্যই আছে। ঠিক।

ডেভিলস এ্যাডভোকেট। ইররেসপন্সিবল। অলস। বোকা।

গালি কি খাচ্ছি কম (গালি বলতে সমালোছনা বুঝাচ্ছি, ভালগার গালি না)। গিলছিও তো।

কিন্তু ব্যক্তিগত হলে কি করবো? একটা পর্যায়ে চামড়া তো...

লোভও আছে। লেখার লোভ। মন্তব্যের লোভ।

আপনি যেই কয়জনের নাম বললেন, হ্যাঁ, তারা পুরনো, ভাল ব্লগার।

কিন্তু মোরশেদ ভাই, আমি এখখনি আমার পরিবারের আর বন্ধু সার্কেলের তিনগুন লোক যোগাড় করে দিবো, যারা ততোধিক ভাল মানুষ, ঠিক উল্টা এ্যালাইনমেন্টের।

আরো লোক কি নেই, যারা আমার সাথে কষ্ট বোধ করে?

তার পরও কথা - এটা সচলায়তন।

এটা একটা লাইক-মাইন্ডেড গ্রুপের থট ক্লাব। ইন্টারনেটে আপনি এর চেয়ে ভাল পরিবেশ কম পাবেন। তবে পাবেন, ভাইয়া।

এখানে লিখতে হলে নিয়ম মানতে হবে।

নিটশার লেখাটা কি সেই নিয়ম ভাঙ্গে?

আমি নিচে এ নিয়ে বহু লিখেছি। কেন কিছু মন্তব্যকারীর ধারণা হল ১) আমি নিটশা বিশেষজ্ঞ ২) আমি নিটশার খারাপ দিকগুলো এ্যাডভোকেট করছি?

মানুষের কি খারাপ দিক নেই?

আপনার নেই? আমার নেই?

নিটশা কি মানুষ মেরেছেন?

নিটশার থেকে কি শেখার কিছুই নেই?

সচলায়তনের নিয়ম কি আমি মানছি না?

যদি ভুল হয়, তাহলে কি ফলাফল এ্যাম্বুশ?

তালেবান লেখার পর কয়েকজনের মন্তব্য দেখে বলেছি, ওকে, আর লিখবোই না।

ওইদিকে ঘেঁষার কোন ইচ্ছাই ছিল না।

দিলাম আমেরিকার ভিসা নিয়ে।

তারপর নিটশা আর প্রকৃতি। কোন গাধাও বুঝবে এই লেখার মূল উদ্দেশ্য নিটশার অ্যান্টি-সেমিটিজম, ইগো আর উইমেন-হেটিং হাইলাইট করা না!

কিন্তু আপনি উপরে তো মন্তব্য দেখতে পাচ্ছেন।

সাথে যোগ করুন হিস্টোরি।

আপনার মন্তব্যে উচিৎ কথা আছে। আমার মধ্যেও এক ধরনের নিহিলিস্টিক নিউট্রালিটি আছে। আমি জানি।

তার পরও মোরশেদ ভাই, আপনার সামনে ফ্যাক্টগুলো উকিলের মত লে-আউট করলাম।

এবার আমার বিরোধী দলকে ক্রস-এক্সামিন করুন।

তারপর বলুন।

আমি কি আসলেই সচলায়তনের জন্য (খুবই) ক্ষতিকর?

হয়তো।

ধন্যবাদ।

স্পর্শ এর ছবি

চলুক


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

স্পর্শ এর ছবি

'তুমি অমুকটা লিখবে না, তমুকটা দেখবে না, সমুকটা শিখবে না'
এভাবে আসলে অনেক কিছুকেই 'লাইনে' রাখা যায়। কিন্তু এটা ঠিক 'ইন্টেলেকচুয়াল ইন্টিগ্রিটি'র সাথে যায় না।

কারো কোনো লেখার বিষয় সম্পর্কে আমার দ্বিমত থাকলে আমি কারণটা জানাবো। যুক্তি খন্ডন করব। সেই লেখককে কিছু তথ্যদিয়ে 'সমৃদ্ধ' করার চেষ্টা করব। কিন্তু 'তুমি অমন করবে না' এটা বলাটা আসলে কার্যকর পথ না। রীতিমত অনুচিত।

আমি যুক্তি খন্ডন করলাম তার পরও লেখক শিখলো না। এমনটা হতে পারে। সিরাতের ক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন। আমারো তেমন মনে হয় মাঝে মাঝে। কিন্তু খেয়াল করলে সিরাতের লেখার ক্রমোন্নতিটা চোখে পড়বেই।

একজনকে আমি আমার সমমনাতে পরিণত করার এক মাত্র পথ হচ্ছে তাকে আরো বেশি তথ্য দেওয়া। জানানো। শেখানো। এবং ভালোবাসা।
কোনো ধরণের 'বিধি আরোপ' নয়। কোনো ক্রমেই।

যেমন সিরাতের এই লেখাটা তো ভালই লাগলো!
প্রতিক্রিয়া হিসাবে নিটশে সম্পর্কে সিরাতকে এমন কিছু প্রশ্ন করা যেতে পারতো, যার উত্তর খুঁজতে গিয়ে সিরাত নিজেই জানতে পারতো অনেক। হয়তো নিজের নিটশে ভজন নিয়ে লজ্জিতও হতো তখন।

ব্যাপারটা সেপথে গেল না। এটাই দুঃখজনক।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

তাকে আরো বেশি তথ্য দেওয়া। জানানো। শেখানো। এবং ভালোবাসা।

ঐ পথেই লোকে চলে। তখন সিরাত গিয়া কয় ... আমি কি আপনার কথা গ্রহণ করলাম? না মনে হয়। দেখি না গ্রহণ না করলে মিড রানে কী হয়!



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সিরাত এর ছবি

ওহ রিয়েলি, হিমু ভাই!

ইনডিড রিয়েলি। (এক্সেপ্ট অফ কোর্স, হাসিব ভাই)।

হাসিব ভাই যখন আমাকে লেখায় 'আইবিএ' নাই কেন নিয়ে টন্ট করেন, তখন আপনি কোথায় থাকেন, হিমু ভাই? খালি আমরা 'ধরা খাইলে' আপনি কেন ছবি আঁকেন, বলেন তো?

আপনি তো আমারে গালি দিসেন বড় কইরা একবার একটা। সেটার উত্তর কি ছিল বলবেন?

হেহ!

হিমু এর ছবি

আমি তো কারো ওয়েট নার্সিং করতে পারবো না সিরাত। তোমারে কেউ টন্ট করলে তুমি তারে পাল্টা টন্ট করো। আমি কি তোমারে কখনো এসে বলি সিরাত তুমি কাউরে টন্ট করতে পারবা না? সারকাজমের জবাব সারকাজম দিয়ে দেয়ার ১০০% অধিকার তোমার আছে, এ পর্যন্ত তো সেটাতে কাউকে হস্তক্ষেপ করতে দেখি নাই।

আমি ছবি আঁকসিলাম মনে হয় ছাগুবান্ধব রিয়াজউদ্দীন সাহেবকে নিয়ে। তুমি আর তিনি মিলে "আমরা" হলে তোমারে নিয়েও হয়তো আঁকবো হাসি । ধৈজ্জ ধরো।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সিরাত এর ছবি

তাই? টন্ট করতে পারবো? আমার অভ্যাসে নাই, চেষ্টা করবো। তখন যদি কেউ এসে বকে, গালি দেয়? হাসি

ছাগুবান্ধব রিয়াজ সাহেবের সাথে আপনাদের ডিবেট আমি পুরা অনুসরণ করি নাই, আংশিক করসে। ওপরাহ কালোদের নিয়ে একটা সিনেমা বানাইসিলেন, নাম ভুইলা গেসি; সেখানে এক কালো ডিবেট টিম আমেরিকার সেরা সাদা ডিবেট টিম (হার্ভার্ডকে হারায়)। টপিক মনে নাই, পোলাটা বলতেসিল: "দে বার্ন ব্ল্যাকস ইন টেক্সাস।" ওইটা খালি মনে পড়ে। আপনার যেমন তালেবান লেখা পড়ে 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' মনে পড়ে।

আমি ডিবেট লাইন বাই লাইন পড়ি নাই। রিয়াজ সাহেব ভুল হইতেও পারেন। কিন্তু বেচারা টন্টই করে নাই। বোকা লোক।

আঁইকেন ছবি। অসুবিধা নাই। 'আমরা' কেন বলছি বুইঝাও বুঝবেন না? হাসি

যাই হোক, হিমু ভাই, ভাল থাকেন। দেশরে ঢুবা থিকা বাঁচান!

হিমু এর ছবি

যেটা পড়ো নাই, সেটা নিয়ে কথা বলতে চলে আসছো।

দেশরে ঢুবা থিকা বাঁচান!

কাজটা কঠিনই হবে। তারচে টাওয়েলের ব্যবসা শুরু করি। প্রচুর কাস্টোমার পাবো মনে হচ্ছে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সিরাত এর ছবি

যেটা পড়ো নাই, সেটা নিয়ে কথা বলতে চলে আসছো।

পড়ি নাই কই বললাম, লাইন বাই লাইন পড়তে হয় নাকি সব? আমার কোন পারসেপশন নাই।

হয়তো আমি 'ফাক ইউ, বাডি' লিখলে মানুষ চেতে, কিন্তু আপনি 'হ্যাশকারির গু নাংতি বেয়ে পড়ে' বা 'মাদার্চো_' লিখলে মানুষ চেতে না। সেটা ব্লগার হিসেবে আপনার সার্থকতা।

কিন্তু পারসেপশনের ব্যাপারে আমি একটুও ডিসকাউন্ট পাবো না?

*

বরাহশিকার আর টাওয়েল ব্যবসা একসাথে করবেন ক্যান? এইটা তো প্রিন্সিপাল বিরোধী।

দেশরে ঢুবা থিকা বাঁচানটা আসলে সিরিয়াসলি বলছিলাম, হিমু ভাই। দরকার আরকি।

হিমু এর ছবি

পারসেপশনের ব্যাপারে আর কতো ডিসকাউন্ট চাও? তুমি তো ন্যাদা বাচ্চা না।

তুমি "ফাক ইউ বাডি" যদি মানুষ চ্যাতানোর জন্য লিখে থাকো, মানুষ চেতবেই। কারণ তোমার অন্তর্গত মনের ভাবনা হচ্ছে, "দেখি মিড রানে কী হয়!" আমি মানুষ চ্যাতানোর জন্যে কিছু লিখতে চাইলে মানুষ চেতবে, মিষ্টি মিষ্টি শব্দ ঢুকিয়ে লিখলেও।

আর প্রিন্সিপালের কথা যখন উঠলো ... ক্যান, তালেবান তো তা-ই করে। একদিকে নারকোটিক পপি চাষ করে, অন্যদিকে আল্লাহর নামে সুইসাইড বম্বিং। তালেবানরে ফলো করমু ... সমস্যা কী? পরিশ্রম করমু আর কষ্টসহিষ্ণু হমু। আখেরে মেওয়া ফলিবেক।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

স্পর্শ এর ছবি

সিরাতের এই একটা ব্যাপার নিয়ে আমার বিরক্তি আছে। সিরাতের লেখা ভালো পায় এমন আরো অনেকেরই বিরক্তি আছে আছে।

ইন্টেলেকচুয়াল ইন্টিগ্রিটির সাথে তার এই ব্যবহারও যায় না। কেউ কোনো সঠিক কিছু আমার সামনে তুলে ধরলে আমি সেটা মেনে নিতে বাধ্য। সিরাতের প্রতি অনুরোধ। যে যদি

আমি কি আপনার কথা গ্রহণ করলাম? না মনে হয়।

এধরণের কথা বলে, সেই সাথে যথেষ্ট পরিমান যুক্তিও দিবে। সচলায়তনের সব মেম্বারেরই(শুধু দ্রোহী না) যুক্তি প্রসেস করার ক্ষমতা আছে। এবং অযৌক্তিক 'দাবি/সিদ্ধান্ত' এর উপর প্রবল বিরক্তিও আছে। এই পয়েন্টে সিরাতের মতামত জানতে চাচ্ছি। (পরে, আগে মাথা ঠান্ডা করুন)।

এবং সিরাত যেই লিঙ্ক দিয়ে হাসিব ভাই এর ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন। সেখানে হাসিব ভাই এর মন্তব্যের তীব্র নিন্দাও জানাচ্ছি।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হাসিব এর ছবি

বাজার করতে গেছিলাম । ঘটনা অনেকদুর গড়াইছে দেখলাম ।

যাউগ্গা, আমার নিন্দেমন্দ করতেছেন ভালো । তবে আপনি নিৎসশের দর্শন সম্পর্কে এখনও নিন্দে করতে পারতেছেন না এবং সিরাতের এই লেখা আপনার ভালো লাগছে এইটা বলারও নিন্দা জানালাম । নিৎসশের কেন ক্ষতিকর যারা করতে পারে না তাদের আয়নায় নিজের মুখটা দেখা অতি জরুরী ।

সিরাত এর ছবি

হাসিব ভাইসাহেব সব মন্তব্য পড়সেন তো? ভাইয়া আমি কিন্তু আপনার এইসব পয়েন্টও মোটামুটি কাভার করসি। একটু কষ্ট কইরা পইড়া লইতে পারেন। পরের লেখা টেখায় মন্তব্যের ব্যাপক এ্যামুনিশন পাইবেন। চোখ টিপি

কিন্তু আপনার তো তাতে হবে না। আমাকে ফ্যাসিস্ট পিস অব হোয়াটেভার, রাজাকার গু আযমের নাতি না কইলে কি আপনি আর...

ধুর!

সিরাত এর ছবি

নাহ। অধম কেন হবো>

হাসিব ভাই, আমার লেখায়/ব্যবহারে আঘাত পেয়েছেন, আমি দুঃখিত।

আমিও আপনার লেখায়/ব্যবহারে বেশ আঘাত পেয়েছি। কেউ কিছু কয় না, তুলকালাম বাঁধাইছি।

মানুষরে গালি দিয়া আমার বেশি পোষায় না। আপনি এইখানে আমার স্কেপগোট হয়ে গেসেন।

আপনি আমার মতে আমার সাথে অন্যায় ব্যবহার করেছেন। আমি আপনার সাথে অন্যায় ব্যবহার করবো না।

করে ফেলেছি কিছু। মাফ চাইলাম। আপনি করতেও পারেন। কইরা দিয়েন।

এরপর ক্ষোভ রিডাইরেক্ট করবো। আপনাকে ফেসবুকে এ্যাড করার সময় কইসিলাম না, আপনার মন্তব্যে রাগ রিডাইরেক্ট করি।

মন্টেইন ও তা বলে গেছেন।

ইন দ্য মিন টাইম, নিটশার ব্যাপারে স্পর্শ ভাইয়ের মন্তব্যের উত্তরে আমার মন্তব্যটা পইড়েন একটু টাইম পাইলে।

সরি। ধন্যবাদ।

সিরাত এর ছবি

ঠিক।

আলস্য। স্টুপিডিটি।

জিনিসটা 'আমি সচলায়তনের মোল্ডের সাথে যাই না' বা 'সচলায়তনে একটা প্রিভিলেজড ক্লিক আছে', তার সাথেও জড়িত।

আমাকে অনেক বেশি কষ্ট করতে হয়।

ভাবসিলাম চুপচাপ থেকেও নিরীহ টপিক নিয়ে লেখা যাবে।

কিসের কি রে ভাই!

বাট, নো এক্সকিউস।

প্রবলেম হইলো, তাইলে আমার মূলত লাইক-মাইন্ডেড ব্লগে লিখতে হবে। অলস এবং গাধা যে।

তাই মনে হয় করবো রে ভাই।

থ্যাংক ইউ!

হাসিব এর ছবি

নিৎসশের কেন ক্ষতিকর যারা করতে পারে না তাদের আয়নায় নিজের মুখটা দেখা অতি জরুরী ।

এই লাইনটা এভাবে পড়তে হবে -

নিৎসশের কেন ক্ষতিকর যারা ধরতে পারে না তাদের আয়নায় নিজের মুখটা দেখা অতি জরুরী ।

সিরাত এর ছবি

নিটশা অবশ্যই ভুলভাবে পড়লে ক্ষতিকর। ওয়াল্টার কফম্যানের নিজের কথা।

কোরান ভুল ভাবে পড়লে ক্ষতিকর। চারদিকে প্রমাণ আছে। এদিকে আমার বাপে মশা মারে না, সালাফিরা তার নিন্দা করে। মন খারাপ

নিটশাকে অবশ্যই আজকালের পার্সপেক্টিভে ডিসকাউন্ড কইরা পড়তে হবে!

আমি বিয়ন্ড গুড এ্যান্ড ইভিলের অর্ধেক পড়ছি। বইটা জোস, কিন্তু ফ্যালাসি কি নাই?

নিটশা কইতো, তাকে নাকি ৩০০০ শতকের নবী বানানো হবে। ২০০০-এর আগে তার লেখা পড়তে দেয়া হবে না।

যাই হোক, আপনার সাথে কিঞ্চিৎ এগ্রি কইরা শান্তি পাইলাম।

স্পর্শ এর ছবি

তবে আপনি নিৎসশের দর্শন সম্পর্কে এখনও নিন্দে করতে পারতেছেন না এবং সিরাতের এই লেখা আপনার ভালো লাগছে এইটা বলারও নিন্দা জানালাম ।

আসলে হয়েছে কি। এই লেখাটা নিৎশের দর্শন নিয়ে না। এবং লেখার কন্টেন্ট আমার সত্যিই ভালো লেগেছে। চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখায় কোনো মহাত্ব নেই বলেই ভালোলাগাটা জানিয়ে দিয়েছি অকপটেই। এখন পান্ডবদার দেওয়া লিঙ্কগুলো পড়ছি। জানছি। ....
সিরাতও হয়তো পড়বে। শিখবে...

আপনি যেহেতু নিন্দা জানালেন তাই ক্লারিফিকেশন দিলাম। আপনার যে মন্তব্য সম্পর্কে আমি নিন্দা জানালাম সেটার ব্যাপারেও আপনি একটা ছোট্টো ক্লারিফিকেশন দিয়ে দিতে পারেন। হাসি


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হাসিব এর ছবি

ক্লারিফিকেশনের দরকার খুব একটা নাই । বাংলাদেশে কে কোথা থেকে পাশ দিলো এইটা নিয়ে একটা অসুস্থ্য লোকদেখানি চালু আছে । বুয়েটের এর কুয়েট চুয়েটকে পাত্তা দেয় না । এনএসইউ ভাবে আইইউবির পুলাপান কিচ্ছু জানে না । ঢাবির স্টুডেন্টরা রাবি, চবির স্টুডেন্টদের গুনে দেখতে চায় না ইত্যাদি । এইটা খুব মোটাদাগে একটা মন্তব্য । তবে এই প্রবণতা যে আছে সেটা অস্বীকার করতে পারবেন না । বলে রাখা ভালো অবশ্যই আমি প্রচুর সংখ্যক ছাত্র/এ্যালামনিকে জানি যারা অমুক ভালো জায়গায় পড়ে/পড়েছে বলে সেটা কথায় কথায় জানানোর প্রবণতা থেকে নিজেদের দুরে রাখে । এই বিষয়ে আমি অচ্ছুৎ বলাই আর দ্রোহীরে গুরু মানি ।

সিরাতের লেখার মধ্যে এই শোঅফের জিনিসটা আছে । এইটা আমার চোখে পড়েছে । জিনিসটা আমি তাকে ধরিয়ে দিয়েছিলাম মাত্র । জিনিসটা ঠিক এরকম না যে সিরাত ঠিক একটা নির্দিষ্ট পোস্টে ওটা করেছে । সিরাত ঐ জিনিসটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুনরাবৃত্তি করে (সিস্টেমেটিক রিপিটেশনের বাংলা করলাম আরকি !) ।

আরো একটা বিষয়টা হলো সিরাতের তালেবান বিষয়ক পোস্ট । তালেবানদের দিন আসছে এই স্টেটমেন্ট যদি কেউ করে তাহলে এইটার দুইটা আউটকাম হতে পারে । প্রথমত, বিষয়টা লেখকের ভ্রুকুটি তৈরী করছে । দ্বিতীয়ত, এইটাতে সে উল্লসিত । সিরাতের বিষয় হলো সে ইতোমধ্যে শিবিররে বেনিফিট অফ ডাউট দিতে চেয়েছে । এবং সেই পোস্টে সে স্বীকার করেছে সে তালেবানদের ওপর একটা সফটকর্নার রাখে । এরপর সবকিছু মিলিয়ে সিরাত তালেবানদের অগ্রগতি নিয়ে লিখতে গিয়ে ভ্রুকুটি করেছে না উল্লসিত হয়েছে সেটা বুঝতে পাঠককে খুব বেগ পেতে হয় না । এরপর এক পোস্ট পরে নাৎসি (মানে তালেবানদের ঘোরতর শত্রু ইহুদি যারা নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলো ।) তাদের এক ইমাম নিয়ে সিরাত পোস্ট দেয় তখন দুইয়ে দুইয়ে চার ঠিকি হয় ।

সিরাত এর ছবি

খুব সাধারণভাবেই বলি।

১। আমি আইবিএ-র ছাত্র। কিছুটা গর্ব আছে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যেখানে ব্যবহার করেছি, সেখানে কনটেক্সটে।

আপনার শো-অফ মনে হল। মন খারাপ কিছুটা হয়তো, হাসিব ভাই, পুরাটা না।

সিরাত ঐ জিনিসটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুনরাবৃত্তি করে (সিস্টেমেটিক রিপিটেশনের বাংলা করলাম আরকি !) ।

হাহ হাহ। গেমের বা সাধারণ পোস্ট লেখার সময় আইবিএ-র বন্ধু বা 'আইবিএ-র সময়' এর কথা হলে সেটা নিয়মতান্ত্রিক পুনরাবৃত্তি।

জিনিসটা আমি তাকে ধরিয়ে দিয়েছিলাম মাত্র ।

কি জানি হাসিব ভাই, আমার তো এত নির্দোষ আপনাকে মনে হয় নাই। স্পর্শ ভাইয়েরও আপাতদৃষ্টিতে প্রথম পড়ায় তা মনে হয় নাই। তাই না? আপনি কয়জনকে তর্জমা করবেন?

আপনার তৃতীয় প্যারাটি, আমার মনে হয়, মূলত ওভারঅ্যাক্টিভ ইমাজিনেশন।

তালেবানের দিন আসছে, সেটা শুধু তো আমার মতামত না।

তারপর আমি উল্লাস করেছি? কোথায়? একটু দেখান। আপনি কিন্তু সেই পোস্টেও প্রমাণ দেননি।

আর তার পরের পোস্টে নাৎসিদের পোস্ট দেয়া হল ইহুদীদের, যারা তালেবানের ঘোর শত্রু, তাদের নিশ্চিহ্ন করার ফন্দি-আঁটা লোকদের নিয়ে। আপনি কি সিরিয়াস? আমি হাসবো না। আপনিই পড়েন:

এরপর এক পোস্ট পরে নাৎসি (মানে তালেবানদের ঘোরতর শত্রু ইহুদি যারা নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলো ।) তাদের এক ইমাম নিয়ে সিরাত পোস্ট দেয় তখন দুইয়ে দুইয়ে চার ঠিকি হয় ।

ওউ!

ওকে, তাও উত্তর দেই, নিচে জিফরান খালেদের পোস্ট দেখেন। আমি একটা নিয়েৎশে নিয়ে পড়ি নাই।

আপনার কেন নিয়েৎশের নাম দেখেই মনে হল আমি *কেবল* নিয়েৎসের অ্যান্টি-সেমিটিজম আর মিসোজিনি-র দিকে চোখ রাখছি? এটার কারণে?

সিরাতের বিষয় হলো সে ইতোমধ্যে শিবিররে বেনিফিট অফ ডাউট দিতে চেয়েছে ।

এটা একটু স্ট্রেচ হয়ে যায় না?

জিফরান খালেদও কি আপনার ভিলেন? নাকি উনি শিবিরকে বেনিফিট অফ ডাউট না দেয়ায় ভিলেন না?

বাই দ্য ওয়ে,

এবং সেই পোস্টে সে স্বীকার করেছে সে তালেবানদের ওপর একটা সফটকর্নার রাখে

আপনার ভোকাবুলারি, ভাই। ফ্যাসিনেশন মানে সফটকর্নার। ফ্যাসিনেশনের কোন নেগেটিভ কনোটেশন নাই, তাছাড়া আমার স্বীকার করতে কোন অসুবিধাই নাই, যে আমারে সিম্পল ফ্যাসিনেশন আছে।

এইটা কি দুয়ে দুয়ে চার। প্যাটার্ণ ম্যাচিং হলেও তো এটা অনেক জটিল।

তাছাড়া, এই লেখায় নিয়েৎশের মিসোজিনি-অ্যান্টিসেমিটিজমের উল্লেখ কই?

এভাবে যদি ধরেন, আমি কাকে কাকে নিয়ে লিখতে পারবো, বলেন?

নিয়েৎশে নাজি আসার কয়দিন আগে মারা গেছে?

আপনাকে কনভিন্স করতে পারবো কিনা জানি না। মনে হয় খুউউবই কঠিন হবে। জাস্ট বললাম।

দোষ আছে আমারও। দোষ নাই কার? আপনার?

সিরাত এর ছবি

ক্লারিফিকেশনের দরকার খুব একটা নাই ।

এইটা বলে আপনি কিন্তু অনেক লিখে ফেললেন?

আমি যদি এখন ওভারঅ্যাক্টিভ প্যাটার্ন-ম্যাচিং ইমাজিনেশন ব্যবহার করি? চোখ টিপি

সিরাত এর ছবি

আপনি পান্ডবদার পাশাপাশি আমার বা অপোজিং চিন্তাধারার লিংকগুলিও পইড়েন কিন্তু। তারপর জাজ কইরেন। হাসি

জিফরান খালেদ ভাইরে জিগায় মেসেজে লিংক নিতেও পারেন।

সিরাত এর ছবি

আপনি আমাকে একটা জিনিস বলেন।

সবাই ধরে নিসে: আমি নিটশা এক্সপার্ট!!! ওউ!

হাসিব সাহেবরা কি এই লাইনটা পড়সেন:

নিটশার দর্শন নিয়ে বিস্তারিত বা সংক্ষেপিত লেখার মত এলেম আমার এখনো নাই।

বা প্যারাটা??

নিটশার দর্শন নিয়ে বিস্তারিত বা সংক্ষেপিত লেখার মত এলেম আমার এখনো নাই। কিন্তু প্রকৃতির সাথে নিটশার সম্পর্ক নিয়ে লেখাই যায়। খুবই ভাল লেগেছে আমার এ বিষয়টা।

বাট অফ কোর্স, না না না, সিরাত তো তালেবান জামাত গোলাম আজমকে ছুঁচু করানো ফ্যাসিস্ট আল-বাংলাদিসি! ওকে ধর ধর!! ওই দেখো ও নিটশা সব পড়সে, আবার সাপোর্ট!! পাইসি!!

এই লেখাটা অ্যালেইন ডি বটনের 'কনসোলেশন্স অফ ফিলোসফি বইয়ের সাত অধ্যায়ের একটা অধ্যায়ের দুই পাতা থেকে লেখা!

সাত অধ্যায়ে বটন সাত দার্শনিকের জীবন থেকে কি শিখা যায় সেটা আলোচনা করসেন!!

আমার তার আলোকে একটা ছবিব্লগ দিসি।

এইবার আসেন নিজেরে গরাদে ফালাই।

ক) তুই একটা গাব চাম-নেয়া এ্যাসহোল, এমনভাবে লিখছস, ভাব নিসছ, আমরা মনে করসি তুই নিটশা সব জানস!!

উত্তর: ও-ও-ও! ঠিক কোথায় আপনারা এটা বুঝলেন?

বা উত্তর: আই অ্যাম সরি, যদি সেই ইমপ্রেশন আপনারা পান।

খ) তুই হাসিবরে অত পাত্তা দেস ক্যান? ও ওর মত মন্তব্য করসে, তোর মত বাংপাকিরে করতেই পারে!

উত্তর: (কিছু বলার নাই)

গ) এত্ত কথা কস কিল্লাই? দেখি তো হাসিব সাহেবের পেয়ারের কোন ফিলোসফাররে নিয়া একটা লেখা দে। ক্যান তুই খালি নিটশা নিটশা করস।

উত্তর: সামনে মন্টেইনরে নিয়ে দেয়ার প্ল্যান ছিল যে। কিয়ের্কেগার্দকেও।

ঘ) কিয়ের্কেগাদ ১৭৮৯ সালে একটা মেয়েকে লাগাইসে। ওই দেখো, ব্যাটা আবারও চোর-বদমাশ-ফ্যাসিস্ট সাপোর্টার।

উত্তর: (??!!)

আমি নিটশা সম্পর্কে কম জানি। আমি বিয়ন্ড গুড এ্যান্ড ইভিলের অর্ধেক পড়সি!

[এক্স/ওয়াই/জেড:

ক) আপনি কেপিটেস্ট জানেন?

খ) জি মহাজন/চতুর্ভুজ/অর্ধেকমাইয়া-রে চিনেন?

গ) পারলে একটা মৌলিক লেখা দেন।

ঘ) এই হইলো আপনাগো ডিফেন্স। জিগাইলে এখন কন কম জানি। হেহে!]

তা-ও কইলাম, নিটশা সম্পর্কে সেইরকম জানি না।

তবে নিটশা যে এ্যান্টি-সেমিটিক নারী-হেটার সেটা জানেন?!

নেপোলিয়ন ছিলেন নটোরিয়াস নারী-হেটার। হেনরি ফোর্ড ছিলেন আল্ট্রা-এন্টিসেমিটিক, এডসেল ফোর্ডরে গোল্ডম্যান স্যাক্স ভাড়াই করতে দেন নাই!

ঠগ বাছতে কি গাঁ উজাড় করে ফেলবো?

না না, উইচ-হান্ট মাস্ট গো অন!

আপনাকে ধন্যবাদ। একটু মনে হয় অস্বস্তিতেই ফেলে দিলাম। সরি। আমার থেকে নিজেকে ডিকাপল করা এখন প্রত্যেক নামী-দামী সচলের নৈতিক দায়িত্ব! হাসি

কেবলই অতিথি এর ছবি

যতটুকু বুঝলাম, এই পোস্টে যে কমেন্ট ফাইট চলছে সেখানে নিটশে ফিটশে এইসব কোনো মুখ্য বিষয় না! যেটা মুখ্য বিষয় বলে মনে হচ্ছে সেইটা হলো - EGO!!! ইগো ফাইট চলছে, সিরাতকে পিঞ্চিং করে খেপানো হচ্ছে আর বোকা সিরাত তাদের সুতার দোলনে নেচে নেচে উদ্ভট কমেন্ট পোস্ট করছে। কাম অন্ ম্যান, অনেক হয়েছে, বাদ দাও না, তুমি ফাঁদে পা দিচ্ছ কেন বারবার? এই পোস্টটার মূল উদ্দেশ্য কি নিটশে বন্দনা ছিলো? নাকি এই সুন্দর জায়গা গুলোর সাথে পরিচিত করানো? তুমি তোমার উদ্দেশ্য নিয়ে পরিস্কার থাকলে কেন বারবার তাদের দেখানো পথে হাঁটছো?

সিরাত এর ছবি

কিন্তু ভাইয়া/আপু, মাঝে মাঝে কি নাচতে হয় না?

একটা তো মেনে নেয়ার থ্রেশোল্ড আছে, তাই না?

ভয় নেই, চার্জ গেল গা বইলা, আর পারুম না বেশি। চোখ টিপি

আর এমনিতেও, দুনিয়া অনেক বড়, আরো কত কিছু করার আছে, এখনই যাবো। হাসি

ধন্যবাদ। সরি।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

বাই দ্য ওয়ে, এই লেখাটা কি তোমার? বিষয় আর ধরণ দেখে তাই মনে হলো, যদিও নামে মিলে না।

http://www.nirmaaan.com/blog/shamimz/5854

-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

সিরাত এর ছবি

আরে সুবিনয় ভাই! হাসি

আমি লিংকটা টিপিই নাই। জীবনে যাই নাই ওই সাইটেই।

টিপতাম, চার্জ নাই ল্যাপটপে। পরে।

সিরাত এর ছবি

না না, লেখাটা আমার না। আরিয়েলি ইদানিং ব্যাপক জনপ্রিয় হচ্ছে। সেদিন দেখলাম পিটার ব্রেগম্যানও আরিয়েলি নিয়ে লাফাচ্ছে।

দেখে আমোদ পেলাম। থ্যাংক ইউ ভাইয়া। হাসি

সিরাত এর ছবি

চার্জ চলে যাবে, ঠিক তখন কারেন্ট চলে আসছে।

*গড ওয়ান্টস মি টু গো অন!!*

দেঁতো হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- সিরাত, ভদ্রলোকের নাম নিটশা না। বাংলায় উচ্চারণটা হবে অনেকটা এরকমঃ নি(য়ে)ৎশে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সিরাত এর ছবি

সরি ধূগো ভাই। আমি কই জানি বাংলা উচ্চারণ এইটা দেখসিলাম।

নিয়েৎশে। ওকে।

ধন্যবাদ! হাসি

হাসিব এর ছবি

ধুগা, ie এর উচ্চারণ "ইয়ে না", ই/ঈ হবে । সেই হিসেবে সঠিক উচ্চারণ নি(Nie) ৎস(z) শে(sche) হবে ।

হাসিব এর ছবি

ধুগা, ie এর উচ্চারণ "ইয়ে" না, ই/ঈ হবে । সেই হিসেবে সঠিক উচ্চারণ নি(Nie) ৎস(tz) শে(sche) হবে ।

জিফরান খালেদ এর ছবি

সিরাত সাহেব,

আমার কাছে নীটশে গত দুই শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিকদের একজন। 'Thus spake Zarathustra' আর 'অ্যান্টি-ক্রাইস্ট' আমার অন্যতম অসাধারণ ফিলোসফিক্যাল ট্রিইটাইজ বলে মনে হইসে দর্শনের ইতিহাসে। তার 'অ্যান্টি-সেমেটিজম' বা এক ধরণের মিসজিনিস্টিক চিন্তাভাবনা আমার অনাগ্রহের বিষয়। আপনার কাছেও হইতে পারে তা। নাও হইতে পারে। না হইলে ভাল লাগবে আর কি (এই ব্যাপারটাই সবাই চায়)। আমি তার লিখার এই দিকগুলা নিয়ে চিন্তা বা সময় ব্যয় করতে অপারগ ছিলাম, আছি।

কন্টিনেন্টাল ফিলসফির যে ফ্রেঞ্চ স্ট্রীমটা আছে, তার ক্ষেত্রে প্রায় প্রত্যেকের চিন্তাভাবনায় (লাঁকা ও সোসুর থেকে শুরু করে, বা রিকোওর) নীটশে একটা বড় এবং আনেভয়ড্যাবল মানুষ, মানে, তার দর্শনের কাজ।

ইংল্যান্ডে বিরাজমান দর্শনের আবহাওয়াতে অ্যানালাইটিক্যাল ফিলসফির পরপর, এখনো নীটশেই সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী দার্শনিক আছেন। পরিস্থিতি হয়তো বদলাবে। তবে, এদ্দূর তক, এটাই তো দেখতেসি। এমনকি বেশিরভাগ আংরেজ তরুণ কবি-লেখকরাও নীটশে ঘোরগ্রস্ত এখনো।

আপনি তাকে নিয়ে লিখেছেন। ভালো। তার দর্শন নিয়ে শুধু যদি লিখতেন, তাহলে আলোচনার অনেক সুযোগ থাকতো।

আর, শোপেনহাওয়ার অবশ্যই শেষ করেন। মাস্ট রিড। আর, লাইবনিজ।

ভাল থাকুন।

সিরাত এর ছবি

বিয়ন্ড গুড এ্যান্ড ইভিল (কফম্যান অনূদিত) আমার খুবই দারুণ লাগছিল। আমার প্রথম বস, লিসা আপু, আমাকে বইটা পড়তে দিয়েছিলেন। অর্ধেক পড়ার পর তিনি কানাডায় চলে যান। আমি বইটা শেষ করতে পারিনি। নেটে যেই ট্রান্সলেশন পাওয়া যায়, সেটা ভালমানের না।

নিয়েৎশে নিজে মন্টেইন দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। মন্টেইন আমি নিজে পুরা পড়ি নাই, কিন্তু ওনার উদ্ধৃতিগুলা অসাধারণ লাগে। এ্যান্ড্রু সালিভান খুব ব্যবহার করতেন।

শোপেনহয়ার বুঝি নাই। এখন বটন সাহেবই ভরসা।

লাইবনিজ নিয়ে নীল স্টিফেনসনের বারোক ট্রিলজিতে অসাধারণ কিছু কাহিনী আছে। পড়বো। কত পড়া যে বাকি।

আমার কিয়ের্কেগার্দও দারুণ লাগে। আরেকজনকেও, কিন্তু ওনার নাম মনে পড়ছে না। সোফিস ওয়ার্ল্ড-এ হোস্টেইন গার্দার লিখেছিলেন।

সামনে লিখার ইচ্ছা রইলো। আপনার সাথে আলোচনা হবে! হাসি

জিফরান খালেদ এর ছবি

কান্ট পড়বার পর, ইথিক্সে নীটশের সবকিছুই আমার বালখিল্য লেগেছিলো। যদিও, কান্ট আগের মানুষ একটু।

মন্টেইন আমার নিজের খুবি বাজে লেগেছে। উদ্ধৃতি দিয়ে তো আসলে তেমন ভাবে কাউকে বোঝা যায় না। আপনি নীটশে পুরোটা পড়ুন। ইন ফ্যাক্ট, আমি বলবো, জারাথুস্ত্রা পড়ুন মূলতঃ। ভাল লাগবে। দূর্দান্ত সে ভাষা। আর, অ্যান্টি ক্রাইস্ট আর সাথে যদি টলস্টয়ের গস্পেলস পড়তে পড়েন, তাহলে সত্যিকারের মজাটা পেতে পারেন।

একটা জিনিস একট খেয়ালে রাখবেন, নীটশে কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল দার্শনিক। তার ইথিক্স তো বটেই, এমনকি তার মূল প্রতিপাদ্যগুলোও প্রতিক্রিয়াশীলতার ফসল। কিন্তু, এর মধ্যেও অরিজিন্যালিটি আছে অনেক, যে কারণে পাশ্চাত্য তাকে এখনো খুব মানে। ওর বইগুলা পড়ে ফেলুন। অনলাইনে কোথায় পাওয়া যাবে, তা তো জানি না। আমি ইউনি লাইব্রেরী থেকে নিয়ে পড়েছিলাম। পরে, চ্যারিটি শপ থেকে দু-তিন পাউন্ডে কিনে নিয়েছিলাম।

কিয়ের্কেগার্ড আমার বেশ লাগে। আমি যদিও, মানে, দার্শনিকদেরকে ঠিক এভাবে 'ভাল লাগে/ মন্দ লাগে' হিসেবে বলতে চাই না। সেটা আমার নিজের যে সমস্য সেখান থেকে ঐ টেক্সটকে একটা আনন্দদায়ী চলকের দিকে নিয়ে যায়। খুবি বাজে অনুভূতি এটা। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ ভিটগেনস্টাইন এর ওপর কিয়ের্কেগার্ড আর শোপেনআওয়ার - এ দু'জনেরই খুবি প্রভাব ছিলো। তবে, কিয়ের্কেগার্ডকে পড়তে হলে হেগেলিয়ান দর্শন মহাবিশ্ব নিয়ে জানকারি দরকার মনে হয়।

লাইবনিজকেও দয়া করে ওভাবে পড়বেন না ভাই। মানে, এর তার বইতে। আপনার উল্লেখ করা বই আমার পড়া নেই, তাই কাহিনী কী সেটা জানি না। তবে, তার চিন্তা-প্রকরণ তো নিশ্চিত কাহিনীর মধ্যে ছিলো না। না কি ছিলো?

হুইসলেয়ার এর কথা বলছেন? নাকি, হাইডেগার?

হবে। ভাল থাকুন।

সিরাত এর ছবি

হুইসলেয়ার এর কথা বলছেন? নাকি, হাইডেগার?

এক আইরিশ না স্কটিশ প্রিস্ট। গার্ডার মনে হল তার দর্শনের উপর ভিত্তি করেই সোফিস ওয়ার্ল্ড রচেছেন।

আমার সমস্যা হল, আমি সেকেন্ড-হ্যান্ডে জেনে তারপর ফার্স্ট হ্যান্ড পড়ি। অনেক ক্ষেত্রে থার্ড হ্যান্ড-ও আসে।

মানে, আগে আগ্রহ জাগতে হয়। নাহলে পড়তে পারি না।

আগ্রহ জাগলে অবশ্যই আসল বই পড়বো।

লাইবনিজকেও দয়া করে ওভাবে পড়বেন না ভাই। মানে, এর তার বইতে। আপনার উল্লেখ করা বই আমার পড়া নেই, তাই কাহিনী কী সেটা জানি না।

নিল স্টিফেনসনের বারোক ট্রিলজি ওই সময়ের ইংরেজি পূর্ব-পশ্চিম।

আসলে, স্টিফেনসন না পড়লে বুঝতামই না লাইবনিজ এইজাতের ফ্যাসিনেটিং। ওই সময়ে কম্পিউটার, মাই গড!! ভাবেন জাস্ট।

লাইবনিজের সাথে নিউটনের ইন্টারএ্যাকশনটাও সেইরকম লাগবো।

চিন্তা নাই, সেরকম লাগলে সোর্সে যাবোই। সেরকম লাগুক। চোখ টিপি

সেটা আমার নিজের যে সমস্য সেখান থেকে ঐ টেক্সটকে একটা আনন্দদায়ী চলকের দিকে নিয়ে যায়। খুবি বাজে অনুভূতি এটা।

হোহ হোহ। আমার পরিচিতি আছে অনুভূতিটার সাথে! হাসি

সিরাত এর ছবি

তার 'অ্যান্টি-সেমেটিজম' বা এক ধরণের মিসজিনিস্টিক চিন্তাভাবনা আমার অনাগ্রহের বিষয়। আপনার কাছেও হইতে পারে তা। নাও হইতে পারে। না হইলে ভাল লাগবে আর কি (এই ব্যাপারটাই সবাই চায়)। আমি তার লিখার এই দিকগুলা নিয়ে চিন্তা বা সময় ব্যয় করতে অপারগ ছিলাম, আছি।

আমেন। আমেন। আমেন।

এইটা যে একটা ডিল হবে, এইটা আমি বুঝিই নাই রে ভাই। মন খারাপ মন খারাপ মন খারাপ

বুঝলে কি আর এই ক্যাঁচাল।

বাই দ্য ওয়ে, আমি ইলমার ব্যাচমেট। আমাকে তুমি ডাকতে পারেন।

জিফরান খালেদ এর ছবি

উপরে আমার মন্তব্য তিনবার চলে এসেছে। দয়া করে অতিরিক্ত দু'টো মুছে দিন।

'ডিল' হওয়া না হওয়া নিয়েও আমার আগ্রহ কিঞ্চিত কম। তবে, কিছু কিছু ব্যাপারে (ধরেন, জামাত বা শিবির, যুদ্ধাপরাধী, মুক্তিযুদ্ধ, এবং, মুক্তিযোদ্ধা) আমি একদম বোকা কিসিমের পাষণ্ড। এক্সট্রিমিস্ট একটু আর কি। হাহা। এটা ওয়েবারিয়ান র‌্যাশনাল বিয়িং এর একটু পরিপন্থীই হয়তো। কিন্তু, কিছু করার নাই রে ভাই।

ওহ! তাই? বেশ বেশ।

স্নিগ্ধা এর ছবি

সিরাত - এতো কথা হয়ে গেসে যে যেটা বলবো সেটা তুমি ইতোমধ্যেই শুনে ফেলসো, তারপরও বলবো কারণ তুমি মনে করতেসো সচলায়তনে একটা 'ক্লিক' আছে যেটা তোমার পিছনে লাগসে।

আমি নিজে খুব well-read না বলে যারা অনেক বই পড়ে তাদের সেই গুণটা নিয়ে আমার একটা দুর্বলতা আছে। আমি এমনিতেই অতিথি লেখকদের লেখা আগ্রহ নিয়ে পড়ি, আর তার সাথে তুমি অনেক বই পড় সেটা বুঝতে পেরে তোমার লেখা প্রথম থেকেই খুব মনোযোগ দিয়ে পড়তাম (যে পোস্টই পড়ি, চেষ্টা করি মনোযোগ দিয়েই পড়তে), তুমি নিজেও তার প্রমাণ পাইসো আশা করি। তোমার লেখা পড়া আমি বাদ দিসি আস্তে আস্তে -

১) তুমি একাধিকবার বলসো ব্লগের ফীডব্যাককে বা সেটার সবকিছুকে তুমি আসলে খুব বেশি পাত্তা দাও না। আমি অত্যন্ত এভারেজ একজন ব্লগার, কাজেই আমার মন্তব্য তোমার পাত্তা না দেয়ারই কথা, অতএব আমি আমার সময় নষ্ট করে মন্তব্য করতে যাবোই বা কেন।
২) পোস্টে যদি মন্তব্যই না করতে পারবো, তাহলে আর কষ্ট করে পড়েই বা কী হবে, এভাবে আস্তে আস্তে খুব কৌতূহলোদ্দীপক শিরোনাম বা নীড়পাতার প্রথম লাইনগুলো চোখে পড়ে আগ্রহ না জাগলে সচরাচর তোমার পোস্ট পড়াই বন্ধ হয়ে গেলো। এটা শুধু তোমার ক্ষেত্রেই না, অন্যদের বেলাতেও আমি মন্তব্যের উত্তর না পেলে মন্তব্য করা ছেড়ে দেই।

তোমার জামাতকে বেনিফিট অফ ডাউট দেয়া, বা নিৎসে বা যে কারুর বড় দোষ থাকলেও সেটা বাদ দিয়ে তার supposed গুণ থেকে কিছু শেখার ব্যাপারটা আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করি না। কিন্তু, তাই বলে তোমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ আমি কখনও কি করসি? একটা সময় পর্যন্ত তোমার সাথে তর্ক করসি, তারপর তোমার ফীডব্যাক না নেয়ার এটিচিউড দেখে রণে ভঙ্গ দিসি।

সচলায়তনের নীতিগত স্ট্যান্ডটা কী, সেটা খুবই পরিষ্কার। এটা বুঝেও যে এখানে লিখবে, তার এর পরের কনসিকোয়েন্সও নিতে হবে। তুমি নিসোও আগে। ষষ্ঠ পান্ডব এবং যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে আমার যথেষ্টই (আমি অন্তত তাই মনে করি) সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আছে, কিন্তু তার মানে এই না যে আমি তাদের সব মতামত সমর্থন করি, বা তারাও আমার সব মত সমর্থন করেন, বা নিজেরাও সবকিছুতে একমত হন। এখানে আমাদের অনেকেরই অনেকের সাথে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক আছে। সুসম্পর্ক বা কোন সম্পর্ক না থাকলেও অনেক বিষয়ে আমাদের অনেকের মতে মিলে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক হয়। কিন্তু, আমি এটুকু বলতে পারি আমি কোন 'ক্লিক'এর সদস্য না। আমি যুধিষ্ঠিরের তোমার গত পোস্টে আপত্তি জানানোটা সমর্থন করি নাই, বা ষষ্ঠ পান্ডবের মতো উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু এখনও পাই নাই (আমার ধারণা তুমি অতিমাত্রায় সেরিব্রাল, তুমি উপকারী বা ক্ষতিকর, শেষপর্যন্ত কোনটাই হবা না), কিন্তু কিছু বলি নাই - কারণ, আমার ফীডব্যাক বা সমর্থন বা আপত্তি কিছুতেই তো তোমার কিছু যায় আসে না। এখন বললাম কারণ এখন তোমার মনে হচ্ছে দলবেঁধে তোমাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। এবং পান্ডবদের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক আছে এটা স্পষ্ট করে বলেই আমি আমার দ্বিমত প্রকাশ করতে দ্বিধা করতেসি না।

আমিও হাসিবের চরম সারকাস্টিক মন্তব্যকে আপত্তিকর মনে করি। ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের মধ্যে পড়ে এটা - কিন্তু বেশি বাঁকা কথা আমার ভালো লাগে না। খুবই সম্ভব আমার মন্তব্যের ধরন হাসিবেরও পছন্দ না। ঠিক যেমন অনেক ক্ষেত্রেই তোমার ইমম্যাচিওর বার্স্ট আউট আমার পছন্দ না। কিন্তু, যারাই তোমার লেখা নিয়ে আপত্তি করতেসেন, তাদের মূল উদ্বেগ তোমার স্বভাব না সিরাত, তোমার ইনক্লিনেশন। তুমি যাদের বেনিফিট অফ ডাউট দিতে চাও, তারা তো এবস্ট্রাক্ট কোন আইডিয়া না। তাদের মতামত বা কাজের তো সরাসরি ইমপ্যাক্ট আছে, ক্ষতিকর ইমপ্যাক্ট! সেটা?? তুমি একইসাথে মেইনস্ট্রিম থেকে আলাদা হয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তোমারই ভাষায় 'ডেভিল'স এডভোকেট' রোল প্লে করতে চাও, আবার এই তুমিই কিন্তু অনেক মেইনস্ট্রিম বীরদের নিয়ে যথেষ্ট মুগ্ধ থাকো। তাহলে??

তাহলে এই যে - তুমি যদি নীতিগতভাবে (আমার কাছে) আপত্তিকর কিছু লেখো, আমি আপত্তি করবো, তোমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা ছাড়াই সেটা করতে পারবো। নিৎসের প্রকৃতিপ্রেম থাকতেই পারে, তোমার সেটা ভালো লাগতেই পারে, কিন্তু আমার কাছে নিৎসে নামটা প্রবলেমেটিক। তুমি নিৎসেকে নিয়ে লেখো - আমিও তোমার ভ্যালু জাজমেন্ট নিয়ে, তোমার এনালিটিকাল এবিলিটি নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকবো। এইই।

সবশেষে একটা কথা বলি - তুমি যতোবার সাধারণ ফীডব্যাকের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রকাশ করসো, তারপরও যে এতোটা সময় নিয়ে এই লম্বা মন্তব্য লিখলাম, তার কারণ একটাই - এই কথাগুলা বলা আমার দরকার মনে হইসে, এবং এখনও পর্যন্ত আমার চিত্ত ভয়শূন্য।

সিরাত এর ছবি

স্নিগ্ধা আপু,

উফফ, ব্যাপক হাঁপায় গেসি। কিন্তু দারুণ মন্তব্য! হাসি আমি এই লেখাটা সেভ করে রাখতেসি - দারুণ কিছু ফিডব্যাক আছে!

তুমি যতোবার সাধারণ ফীডব্যাকের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রকাশ করসো

আপু, আমি বলছিলাম যে আমি সব ফিডব্যাক সিরিয়াসলি নেই না। মোর অর লেস এটাই বলছি।

প্রথমত, এটা ইমম্যাচিওর। মানি।

দ্বিতীয়ত, আমি অলস এবং লোভী। ইন মাই ডিফেন্স। লিখি বেশি। রিপ্লাই দেই কম।

এবার বলেন, তাইলে আর কি বলা বাকি থাকে? আমি যদি সতর্কভাবে উত্তর না-ই দেই, আই ডিজার্ভ দ্য রং পারসেপশন, রাইট?

হয়তো, আপু।

আমি সচলায়তনে আসছি লিখতে, আর ইন্টারঅ্যাকশন দেখতি। এসে অন্যান্য জিনিসের সাথে জড়াই নাই তা নাই, কিন্তু মূলত এই দুটি কারণে।

হ্যাঁ, এদিক দিয়ে ভুল করসি। ফিডব্যাকের দিক দিয়ে।

কিন্তু অন্যপক্ষ কি ভুল করেন নাই? (আপনি বলছেন, করসে।)

আমি তো সবসময় ফিডব্যাক দেই না তা-ও না। ইদানিং পজিটিভ ফিডব্যাকে উত্তর দেয়া হচ্ছে না। ভাল লাগলে আর কি বলবো?

নেগেটিভ ফিডব্যাকে তো দিচ্ছি ইদানিং। একটা পয়েন্টে গিয়ে আর কি দিবো বুঝি না। যেমন আপনি তালেবান লেখাটার মন্তব্য পড়েন। আমার যা বলার বলে ফেলছি তো। আই গেভ ইন!!

কিন্তু ইউ মেক এ পয়েন্ট।

আমার চিত্ত ভীত। আপনারটা না। নিহিলিস্টিক নিউট্রালিটি, লোভ, আলস্য, যাই হোক, আমার সচলায়তনের চিত্ত ভয়শূন্য মনে হয় না। মনে হয় একটা মোল্ড আছে, সেই মোল্ডের ধারেকাছে থাকলে স্লোগানটা সত্যি। আমি সেই মোল্ডে না। আমাকে একেবারে স্ট্রং ফিটরা ছাড়বে না।

এটা একদিক দিয়ে অবভিয়াসই। হাসি

আই রেসপেক্ট ইউ। আপনাকে বলা কম হয়, বাট আই ডু। সেদিন রাজর্ষিদার সাথে বলছিলাম।

ফিডব্যাক নেয়ার ব্যাপারে একটা জিনিস বলেন আপু - আমার কি কোনই উন্নতি হয় নাই?

একেবারেই কিছু নেই নাই?

একটু ধীরে নিলে কি আছে?

হ্যাঁ, ফ্যাসিনেশন আমার আছে। নাইলে লিখতাম কেমনে, আপু? কিন্তু এই ফ্যাসিনেশনের মধ্যে থেকেও তো আমি এগনস্টিক। আপনি তো আমার ব্যাকগ্রাউন্ড জানেন।

ভয় লোকের আছে, বুঝলাম। কিন্তু লোকেরও তো বোঝা উচিৎ কিছু জিনিস। একেবারে চাপিয়ে একদিনে কি মানুষ পাল্টায়?

সচলায়তনে এসে তো আমি অনেক পরিবর্তনই মেনে নিয়েছি নিজের মধ্যে। খুব অস্বস্তি লাগে, তা-ও।

ইশতিয়াক জানে, আমি সচলায়তনকে আগে থেকেই একটা সাইডে ফেলতাম। তা-ও তো কন্ট্রিবিউট করেছি, শিখেছি। হাসি

যাই হোক, বুঝতে পারলাম আপনার কথা। সামনের লেখায় হয়তো আমি এর উপর এ্যাক্টও করবো। হয়তো বললাম - কারণ আমার স্বভাব এদিক দিয়ে ফিকল। অথোরিটি নিয়ে সমস্যা আছে আমার। চাপিয়ে দিচ্ছে মনে হলে বেঁকে বসি।

ধন্যবাদ, আপু! দারুণ সময়ে আসছেন!

হাসান মোরশেদ এর ছবি

আমার সচলায়তনের চিত্ত ভয়শূন্য মনে হয় না। মনে হয় একটা মোল্ড আছে, সেই মোল্ডের ধারেকাছে থাকলে স্লোগানটা সত্যি। আমি সেই মোল্ডে না। আমাকে একেবারে স্ট্রং ফিটরা ছাড়বে না।

হো হো হো :)। সচলায়তনে কয়টা দুষ্টু মামদো ভূত আছে, তোমার ঘাড় মটকাবে সিরাত :)। জান নিয়ে পালাও এবার দেঁতো হাসি

খুব বেশী গেমস খেলো তাইনা? আমার ছেলেটা ও সারাদিন গেমস নিয়ে থাকে। ওকে নিয়ে চিন্তায় আছি। ওর বয়স চার বছর ১০ মাস হাসি
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

------------------------------------------------------
আকাশে তোর তেমনি আছে ছুটি
অলস যেন না রয় ডানা দুটি

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

স্নিগ্ধাজী,

আপনার কাছ থেকে শিখছি কিভাবে মন্তব্য করতে হয়।

----------------------------------------------
আকাশে তোর তেমনি আছে ছুটি
অলস যেন না রয় ডানা দুটি

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

সিরাত,
আমার ধারণা আপনি নিতান্তই ছেলেমানুষ। আপনি শিবিরের মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে বা মৌলবাদি ধ্যানধারণার অনুসারী হয়ে এই লেখা বা অন্য লেখাগুলো লিখেছেন, সেটা বিশ্বাস করি না।
আপনার অভ্যাস আসলে আমার বড় কন্যার মতো। সে কোনো খাবার পুরোপুরি খায় না। এবং অতি দ্রুত এক খাবার থেকে আরেক খাবারের দিকে হাত বাড়ায়। একটা আপেল দু-কামড় খেয়ে ফেলে দিল, একটা কেক তিন কামড় খেয়ে রেখে দিল, এরকম আর কি!
ঠিক সেরকমই আপনিও অতি দ্রুত বিশ্বসাহিত্য, বিশ্ব দর্শন বা আন্তর্জাতিক আরো যা যা কিছু আছে, সেসব জায়গায় ঢুঁড়ে বেড়াচ্ছেন। সবগুলোয় এক কামড় দুই কামড় দিয়ে আবার অন্য বিষয়ের দিকে হাত বাড়াচ্ছেন। লোকাল ট্রেনের মতোই এক স্টেশনে পাঁচটা মিনিট দাঁড়িয়ে আবার ছুটছে আপনার পঠনপাঠনের ইঞ্জিন।
আমার মেয়ে যদি এখন আপেলের পুষ্টিগুণাগুণ বা কেকের রন্ধনপ্রণালী নিয়ে আমার সাথে আলাপ করতে আসে আমি হাসব। হাসব কারণ দু-কামড় খেয়ে এসে ও কী গল্প করবে সে তো বুঝতেই পারছি!
কিন্তু আপনি যখন বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করতে আসবেন দু-কামড় খেয়ে, তখন আপনার আলাপটা হবে সেই দু-কামড়েরই, কিন্তু আপনাকে অনেকে ভুল বুঝবে, কারণ আপনার বয়সটা। এ বয়সে কেউ বাচ্চা থাকে না। নিজের নীতি নির্ধারণ করে নেয়। তখন আপনি যদি বলেন, আফ্রিদি দেখতে সুন্দর আর খুবই স্মার্ট, (কারণ আপনি ভাবছেন, ঐ ব্যাটা বদ পাকিস্তানি, ওদের বাপ-ভাইরা তো বাঙালি হত্যা করেছে, তাই বলে কি তার সুন্দর চেহারা নিয়ে সত্য কথা বলতে অসুবিধা আছে? সত্য তো সত্যই!), তাহলে এই আপাত নিরীহ কথাটিই আপনাকে পাকিস্তানপ্রেমী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেবে সবার কাছে!
এটাই তো বাস্তব! সবাই ধরে নেবে, একজন ২৬-২৭ বছরের আধুনিক ছেলে নিশ্চয় যা বলছে, সেটা বুঝে নিয়েই বলছে!
কিন্তু আমি জানি ব্যাপারটা তা না। আপনার মানসিক বয়স আসলে অনেক কম। আপনি একটা বিষয়ে দু-কলম পড়েই একটা আলোচনা লিখে ফেলতে চান। এটা তো শৈশবেরই লক্ষণ। ক্লাস সেভেনে থাকতে আমরা যেমন উপন্যাস লেখায় হাত দেই। বুকভরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে। আমার উপন্যাসটা সুনীলের 'একা এবং কয়েকজন' উপন্যাসের থেকেও ভালো হবে নিশ্চয়--সেটা জেনেই।
সবাই একই বয়সে ম্যাচুরিটি পাবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না।
বিশ্বাস করি না আপনি এখনো ম্যাচিউরড।
সিরাত, আপনি অনেক পড়তে চান, অনেক জানতে চান, অনেক বিষয়ে সীমাহীন উৎসাহ নিয়ে খুঁজে খুঁজে তথ্য বের করে নিয়ে আসেন। এটা তো খুব ভালো ব্যাপার! আপনাকে স্যালুট!
এই সময়ে যখন পড়তে, জানতে, বুঝতে অনীহা দেখি মানুষের চোখে, তখন পড়ুয়া সিরাতকে আমার ভালোই লাগে।
কিন্তু সিরাত, আপনার মনের যে জানালা আপনি পৃথিবীর দিকে খুলে দিয়েছেন, সেই জানালা দিয়ে দিনের ঝকঝকে আলো ছাড়াও আরো অনেক পোকামাকড় যদি ঢুকে পড়ে? যদি পোকামাকড়টাই বেশি হয়? আপনার মনের সে জানালায় নেট লাগাতে হবে যে! ঐ নেটটাই আপনার নীতিবোধ। ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা। কোনটা গ্রহণ করা উচিত, কোনটা উচিত না!
আমি যেটা বুঝি, আপনার কাছে বা পাশে এমন কোনো বড় ভাই নেই যে আপনার মাথায় হাত রেখে ব্যাপারটা বোঝাবে। আপনাকে একটু ধরিয়ে দেবে, কোনটা বলা উচিত, কোনটা উচিত না। আপনি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে বেরিয়ে আসা ঝকঝকে একটা ছেলে, আপনি এখন এই সমাজের অনেক কাজে অংশ নিতে যাবেন, কাজ করবেন, মতামত দেবেন, আপনার মতামতে মানুষ প্রভাবিত হবে... আপনার কথার গুরুত্ব যে অপরিসীম সিরাত!
না ভেবেচিন্তে কেন এমন একটা কথা বলবেন বা পোস্ট দেবেন, যা আপনার কথার গুরুত্বকে হালকা করে দেবে? আপনি আরো এক মাস অন্তত পড়তেন নিৎশেকে নিয়ে, তারপর সারটা আমাদের বলতেন আপনার মতো করে।
সিরাত, ঐরকম একবার করে দেখেন। দেখবেন, আপনার পরিচিত অনেক ত্যাড়া কথা বলা লোকরাই টুপি খুলে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে! বিশ্বাস করুন আমাকে!
আপনি আপনার পরিবারের কাছ থেকে বিএনপি নীতি বা অনেক বেশি ধার্মিক জীবন কোনোটাই গ্রহণ করেন নি। স্যালুট আপনাকে, সিরাত!
আজকে আপনি এখান থেকে রাগ করে, গালি খেয়ে বা গালি দিয়ে, মনে কষ্ট পেয়ে চলে যাবেন, তারপর? আপনার মনের অনিয়ন্ত্রিত জানালা দিয়ে ক্রমাগত পোকামাকড় ঢুকতেই থাকে যদি, একের পর এক?
আপনি তো এখনো ছেলেমানুষ, এখনো অনেকটাই কাদার তাল। কোনো জামাতি বড় ভাই আপনাকে পেলে তো লুফে নেবে! নিজের অজান্তেই আপনার যুক্তিবুদ্ধি যে কোন অজানা পথে চলতে শুরু করেছে, তা কি আপনি টের পাবেন?
আমি তেমনটা চাই না সিরাত।
অনেকদিন থেকেই আপনাকে লক্ষ করছি আমি। কিন্তু কিছু বলি নি কারণ ধরে নিয়েছি নিজে নিজেই বদলে যাবেন আপনি। কিন্তু তা ঘটছে না। বরং নিজের মতামত নিয়ে ঠোক্কর খাচ্ছে পদে পদে একটা অপরিপক্ক পড়ুয়া ছেলে... তাই দেখছি আমি।
২৪ ঘণ্টায় একটা পোস্ট না। সময় দিয়ে নয়, আপনার পোস্টকে মাপুন আপনার কথা বলার শক্তি দিয়ে। পোস্টে যে কথাটা বলতে চাচ্ছেন, সেটা বলার মতো শক্তি কি অর্জন করতে পেরেছেন আপনি? করে থাকলে পোস্ট করে ফেলুন।
কিছু ব্যাপারে আপনার সাথে সামনাসামনি কথা বলতে চাই আমি। আমার মনে হয়, আপনাকে অনেক কিছু জানাবার আছে আমার। সেটা আপনার জন্য মঙ্গলই বয়ে আনবে।
আর আপনি পড়ুয়া ছেলে, আপনার কাছ থেকেও আমার জানার আছে অনেককিছু। হাসি
-এ যোগাযোগ করুন। কথা হবে।
------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

শাফক্বাত এর ছবি

ধন্যবাদ মৃদুল অনেক অনেক ধন্যবাদ এত ম্যাচিওর একটা মন্তব্যের জন্য।
আমি মনওয়ার কে ওর লেখা দিয়ে নয়, ওর ব্যক্তিত্ব দিয়ে চিনি। তাই আমার খুব খারাপ লাগছিল পুরো ব্যাপারটা। নিজে প্যাঁচ-ঘোঁচ যারা জানেনা তারা "ডিপ্লোম্যাটিক" হতে পারেনা। তারা আসলেই ছেলেমানুষ এবং স্পর্শকাতর তো বটেই।
আমি আসলে আপনার মতো গুছিয়ে লিখতে পারবোনা। তবে আমি খুব কৃতজ্ঞ যে আপনি "সুন্দর টোনে" সুন্দর ভাবে নিজের মতামত টা জানিয়েছেন।
================================================
পরদেশী বঁধু, ঘুম ভাঙায়ো চুমি আঁখি।
যদি গো নিশিথ জেগে ঘুমাইয়া থাকি,
ঘুম ভাঙায়ো চুমি আঁখি।।

সিরাত এর ছবি

দারুণ মন্তব্য, মৃদুল ভাই। অনেক ধন্যবাদ। বিস্তারিত লেখার স্ট্যামিনা নেই, আর আপনিই বললেন, টেক ইওর টাইম।

ভাবি। ভেবে দেখি।

আমি ইমম্যাচিউর, হ্যাঁ। ট্র্যাডিশনালর ম্যাচিউরিটি আমার কাছে বিরক্তিকর লাগে ভাইয়া। হয়তো সেরকম রোল মডেল পাইনি।

আপনার মন্তব্যটা দারুণ ম্যাচিউর ছিল। থ্যাংক ইউ। হাসি

দুর্দান্ত এর ছবি

চলুক

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

চলুক

-----------------------------------------
আকাশে তোর তেমনি আছে ছুটি
অলস যেন না রয় ডানা দুটি

রাফি এর ছবি

অসাধারণ একটা মন্তব্য মৃদুল ভাই।
আপনাকে স্যালুট!!
গুরু গুরু

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

রণদীপম বসু এর ছবি

সিরাতের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে আমার মতভিন্নতা রয়েছে, সে বিষয়ে না গিয়ে যা বলতে চাচ্ছি-
সিরাতের অন্য যে কোন পোস্টের তুলনায় এই পোস্টের গ্রন্থনা ও নান্দনিকতা অন্যরকম। লেখার প্যাটার্ন সুন্দর।

আর পোস্টের নান্দনিক গ্রন্থনার সাথে তুলনা করলে সিরাতের মন্তব্যগুলো খুবই অস্থির ও এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণহীনতা প্রকাশ পাচ্ছে। এরকম হয়তো অনেকেরই হয়, আমারও হয়। তবু বলবো, এখন আর তাৎক্ষণিক কোন উত্তর দেয়ার দরকার নেই।

আর প্রতিদিন একটা/দুটা করে পোস্ট দিতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা আছে নাকি ! আমার এ মন্তব্য কোন পরামর্শ নয়, জাস্ট ভেবে দেখার জন্য। এখন থেকে দুয়েক সপ্তা কি পরীক্ষামূলকভাবে এটা করে দেখবেন, সপ্তাহে একটা করে পোস্ট দেবেন, তবে এতে সব ধরনের অস্থিরতা বর্জন করে ধীর-স্থিরভাবে নিজস্ব চিন্তাভাবনা যুক্ত করে প্রবন্ধ স্টাইলে পোস্টগুলো তৈরি করতে হবে। এটাকে ঠাণ্ডামাথার একটা গেম হিসেবেও দেখতে পারেন। একধরনের অটোসাজেশনেরও কাজ করতে পারে তা। আমরা তো কতো পরীক্ষা-নিরীক্ষাই করি ! এটাও করলেন না হয় ! নিজের মধ্যে ভালো লাগলে পদ্ধতিটা গ্রহণ করবেন, নয়তো বর্জন করবেন।
আবারও বলি, এটা কোন পরামর্শ নয়, ভেবে দেখার জন্য। পরামর্শ দেয়ার যোগ্যতা আমার নেই। আপনার লেখার সহজাত ক্ষমতাটাকে সম্মান করি বলেই এ মন্তব্য।
ধন্যবাদ সবাইকে।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

সিরাত এর ছবি

রণদীপমদা,

আপনার থেকে এরকম একটা মন্তব্যই আশা করছিলাম।

ধন্যবাদ। আমি রাফলড, হ্যাঁ।

এক্সপেরিমেন্টটা ভাল। করে দেখবো। আইডিয়াগুলোও দারুণ।

থ্যাংক ইউ।

মামুন হক এর ছবি

ধোয়া হাত বারবার ধুয়ে জল-সাবুনের বিপুল অপচয় নিতান্তই নিরর্থক। তবুও একটা কথা বলি। সিরাতের শুধু এই পোস্টটাতেই সচল বন্ধুগণ যে পরিমাণ শক্তি খরচ করেছেন তা দিয়ে গেরাম বাংলায় একটা রাইসমিল সোয়া দুই দিন একটানা চলতে পারতো।

যার ন'য়ে হয়না, তার নব্বুইয়েও হয়না।

সিরাত এর ছবি

যার ন'য়ে হয়না, তার নব্বুইয়েও হয়না।

হায়রে মামুন ভাই। মন খারাপ

তা-ও বটে। তাইলে পালাবো, মামুন ভাই। অসুবিধা নাই আপনার।

অমিত এর ছবি

যার ন'য়ে হয়না, তার নব্বুইয়েও হয়না।

এটাই হলে শেষ কথা।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- সিরাত, শোনেন। আপনার পোস্টে মন্তব্য করতে গেলেই ভয় লাগে। একদিন বললেন আমি নাকি আপনাকে দেখতে পারি না, তাই বলি আপনার চলন বাঁকা। এইজন্য ভয় লাগে। আবার কখন কি শুনিয়ে ফেলেন!

এখানে কিন্তু আমাদের ব্যক্তি চরিত্রের আমাদের চেয়ে লেখা চরিত্র ফুটে ওঠে বেশি। লেখা দিয়েই আমাদেরকে চেনা হয় এখানে। একজন সিরাত বা একজন ধুগো তাদের লেখা দিয়েই নিজের ব্যাপারে একটা ধারণা তৈরী করায় সবার মাঝে। এখানে ব্যক্তিত্বের চেয়ে ভাবনার প্রতিফলন ঘটে লেখার মাধ্যমে। কেউ সেই প্রতিফলনটা ভারিক্কি রাখতে পছন্দ করে আর কেউ সেটা মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দিতে পছন্দ করে। এটা যেমন সত্যি তেমনি এটাও সত্যি যে নিজেদের তৈরী এই জানালার মাপেই কিন্তু এখানে ফিডব্যাক পাবো আমরা। আমাদের সঙ্গে অন্যদের ইন্টার‌্যাকশনও হবে আমাদের লেখ্য পরিচয়ের ধারাতেই।

ব্যাপারটা এমন যে। রাস্তায় উলঙ্গ হয়ে হাঁটতে থাকা কেউ যদি তাকে ঢিল দিলে কেঁদেকেটে বলে, "তোমরা আমাকে ঢিল দিচ্ছো কেনো? বাড়িতে নিয়ে কোরমা পোলাও খিলাও", তাহলে হবে! রাস্তায় উলঙ্গ হয়ে হাঁটলে কেউ বাড়িতে ডেকে নিয়ে কোরমা-পোলাও খিলায় না, হাতের কাছে এটা সেটা নিয়ে ঢিলই মারে। ব্যাপারটা অমানবিক হলেও সত্যি।

আপনার যতো অনুযোগ এখানে, সবকিছু সত্যি ধরে নিলেও কিন্তু এরজন্য আপনার নিজের প্রকাশভঙ্গিই দায়ী। কারণ আবারো বলি, এখানে আমরা একজন আরেকজনকে চিনি লেখা দিয়েই, এর বাইরে পরিচয়টা অনেক ক্ষেত্রেই উহ্য থাকে এখানে। আপনি স্মার্ট, বুদ্ধিমান। কিন্তু তারপরেও এটা কেনো ধরতে পারছেন না বোধগম্য না।

ব্লগীয় একটা টার্ম আছে, "বিপ্রুল"। এর মানে হলো যে দামড়া লুল কোথায় ক্যামনে লুল ফেলতে হবে এটা না জেনে-বুঝে নিজের গেঞ্জি নষ্ট করে। আপনার ক্ষেত্রে সেটা না খাটলেও পরিস্থিতিটা অনেকটা একরকম। আপনি কী নিয়ে অনুযোগ করছেন, কার বিরুদ্ধে করছেন সেটাই জানছেন না। খালি করেই যাচ্ছেন।

একটু ফোকাসড কি হওয়া যায় না সিরাত।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সিরাত এর ছবি

একটু ফোকাসড কি হওয়া যায় না সিরাত।

কি জানি ধূগো ভাই। কত মানুষ কত উপদেশ দিচ্ছেন। আমি বলতেই পারি চেষ্টা করে দেখি। আসলেই আগ্রহ থাকলে করবো।

আমার ধারণা আমি আপাতত পালাবো। হাসি

সুন্দর মন্তব্য করেছেন। ধন্যবাদ।

স্বাধীন এর ছবি

অনেক কথা হয়ে গিয়েছে। নিজের দু'একটি কথা বলে বিদায় নিচ্ছি। তোমার প্রথম দিককার কোন এক লেখায় বলেছিলাম তোমার মাঝে আমি সম্ভাবনার চিহ্ন দেখতে পাই। শুরুর দিকে তোমার লেখা আমার ভাল লাগতো। এখনো অনেক লেখাই ভাল লাগে।

কিন্তু যে জিনিসটি খারাপ লাগে পাঠক হিসেবে যে পাঠকের প্রতি তোমার নুন্যতম বিচার নেই। একটি মন্তব্য করলে সে মন্তব্যের প্রতিমন্তব্য পাওয়া যায় না। আর তারপর তুমি যখন গর্ব করেই স্বীকার করো যে পাঠকের সব ফিডব্যাককে তুমি গণ্য করো না তখন মনের অজান্ত অপমানিত বোধ করি।

এখানে অনেক ব্লগার আছেন যাদেরকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি না। সচলেই লেখার মাধ্যমে পরিচয়, যেমনটি তোমার সাথে। আমি মনে করি না সচলায়তনে ভিন্ন মত গ্রহন করা হয় না, বা প্রকাশ করা হয় না। কিন্তু তুমি যেভাবে সচলদের কালার করেছো, গ্রুপ করেছো, সেটা ঠিক নয়। পাঠকের সব মন্তব্যকে তুমি সিরিয়াসলি নাওনা, কিন্তু কেউ যখন প্রতিক্রিয়া জানায় তখন উনারা তোমাকে বা তোমার লেখা পছন্দ করেন না সে রকম ভাবা ঠিক নয়। তুমি শুনবে না জেনেও বিভিন্ন লেখায় নিজের মতামত দিয়ে গেছি।

তুমি কিভাবে লিখবে, কোন বিষয়ে লেখবে সম্পূর্ণ তোমার নিজস্ব ব্যাপার। লেখালেখিতে কাউকে জোর করা যায় না। লেখার মান নিয়ে বলার কিছু নই। নিজেরা এমন কিছু মহারথী নই। কিন্তু আগের ব্লগের মন্তব্যের প্রতি মন্তব্য না দিয়ে আরেকটি ব্লগ শুরু করে দেওয়া আমার মত পাঠকদের অপমান করা। তুমি একাধিক ব্লগ দিতেই পারো, সেখানেও আপত্তি নেই। কিন্তু যখন কেউ একটি ব্লগ শুরু করে অনেকেই পুরোনো ব্লগের মন্তব্য ঘুরে আসে, প্রতিমন্তব্য দিয়ে আসে, যেটা তুমি করো না। কারণ তুমি তখন আরেকটি ব্লগ নামাতে ব্যস্ত নয়তো অন্য কোথাও ব্লগিং এ ব্যস্ত (আমার কল্পনা)।

আমার ধারণা এত মন্তব্যেও তোমার কিছু আসে যাবে না। তুমি নিজেই স্বীকার করো তুমি অলস। আসলেই কি তুমি অলস? যে কারোর থেকেই তুমি অনেক বেশি কাজ করো। প্রচুর পড়ো, প্রচুর ব্লগিং করো, আর অফিসতো আছেই। সুতরাং প্রতিমন্তব্যের সময় পাও না সেটি আমি মানতে নারাজ। আমার সাজেশন হবে, তুমি লিখ, তবে সপ্তাহে একটি লিখ। চব্বিশ ঘন্টা বা আটচল্লিশ ঘন্টা এগুলো শুধু নিয়ুমের জন্য নিয়ম। গড়পরতা কোন মানুষ টানা চব্বিশ ঘন্টা পর পর লেখা দিতে পারবে সেটি কখনো কেউ ভাবতে পারে না। সে দিক দিয়ে তুমি নিঃসন্দেহে ব্যাতীক্রম। কেউ হয়তো হঠাৎ জোশের ঘোরে দু'এক দুটো পোষ্ট দিয়ে ফেলে, কিন্তু দিনের পর দিন। এ কারণে অনেকেই তোমার প্রতি ঈর্ষান্বীত হতেই পারে (আমিও)। আরো একটি সমাধান আছে, তোমারে বিয়ে করিয়ে দেওয়া। পোষ্টের সংখ্যা এমনিতেই কমে যাবে।

আসলে নিয়ম করে তো পোষ্টের সংখ্যা কমানো সম্ভব নয়, এটা তোমার উপর। আবার তোমার লিখতে ভাল লাগে, সেখানেও বলার জায়গা কম। তাই আমি বলি লেখ, কিন্তু শুধু নিজের জন্য লেখ না, লেখ পাঠকের জন্য। কেউ যখন নিজেই বলে বেড়ায় যে লিখি শুধু নিজের জন্য তখন তাঁর লেখায় ভুল/ইংরেজীর অতি ব্যবহার এ সব খুঁত ধরার চেষ্টা যে চলবে এতে অবাক হবার কিছু নেই। এখানেই সবাই মানুষ। বাহিরের সমাজে যা ঘটে এখানেও তাই ঘটে। মাধ্যমটি ভিন্ন এই যা!

সিরাত এর ছবি

এ কি! এ সিরিজ অফ এক্ট্রাঅর্ডিনারী মন্তব্যজ! আমি অভিভূত। ঝগড়ার পজিটিভ এফেক্ট নাকি এগুলা? চোখ টিপি

স্বাধীন ভাই, খুবই খুবই দারুণ লাগলো মন্তব্যটা। চলুক

একটু ঠান্ডা হই। ভাবুমই ভাবুম। চিন্তা কইরেন না।

সাবিহ ওমর এর ছবি

আরো একটি সমাধান আছে, তোমারে বিয়ে করিয়ে দেওয়া।

হ আমি ইশতি ভাইরে সেদিন এই কথাটাই বলতে আসিলাম...দেঁতো হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- সিরাতের বউও যদি সিরাতের মতোই সচলের পাতায় লিখা শুরু করে তাইলে? চিন্তিত

যদি সিরাতের শ্বশুরের আদর্শ সংসারের কারণে সিরাতের শালিও তার দুলাভাইয়ের মতো সচলে লেখা শুরু করে।

খাইছে, তিন দুগুনা ছয়। প্রথম পাতায় সর্বমোট পোস্ট থাকে কয়টা?

না না না। সিরাতের বিয়ে দেয়ার দরকার নাই।
ও আমাদের দলেই থাকুক। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হিমু এর ছবি

সিরাতের বিয়েতে একটা কাঠের রেটিং বোর্ড উপহার দিতে চাই। সেখানে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত তারা দাগানো থাকবে। নিচে থাকবে একটা স্লাইডার। সিরাতের বৌ ঘুমাতে যাওয়ার আগে সেইটা ১ থেকে ৫ পর্যন্ত যেখানে খুশি রেখে রেটিং করবে।

বেৎসুয়গলিশ সিরাতের শালির জন্যও একটা রেটিং বোর্ড দেয়া যায়।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- সিরাতের রেটিং বোর্ডে নাহয় সিরাতের বউ স্লাইড ধরে টানাটানি করবে, কিন্তু শালীরটায় কে করবে? চিন্তিত

বদ্দার সেই কৌতুকটা মনে পড়ে গেলো। "ছালি হুইবো কই?"

কিন্তু ধর, সিরাতের পাপিষ্ঠ শ্বশুর টেণ্ডারে শালী খুঁজে না পেয়ে শালা নিয়ে আসলো ধরাধামে। তখন ঐ রাতের বেলায় কে যাবে 'রিস্ক' নিয়ে শালার রেটিং-এর স্লাইড টানতে? এইটা কিন্তু গভীর চিন্তার বিষয়! চিন্তিত

সোমবারে রোজেন মনটাগ, কার্নিভালের। ফ্রী থাকলে চলে আয়। সিরাত কাছাকাছি থাকলে তাকেও দাওয়াত দিতাম। হাতে কোলশের গেলাস ধরায়ে দিয়ে দেখতাম তুই আর সিরাত কতো খাইতে পারোস!

আজকে ভিভাফাস্ট নাখট। বালিকাদের কুরবানীর ঈদ! চোখ টিপি
ঘরে খাওন নাই, সিটিতে যাইতাছি খাইতে। এই সুযোগে ইট্টু ঘুরোন দিয়া আসি। সোমবারে সিরিয়াসলি, আসলে জানাইস। কয়েকদিন ফ্রী আছি।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

স্বাধীন এর ছবি

আমার মতে এটাই এখন এক মাত্র সমাধান। তাড়াতাড়ি পাত্রী খোঁজা দরকার। ধইরা বাইন্ধা ল্যাজ কাইট্যা দিলেই সব ঠিক হইয়া যাইবো :D।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

সিরাত সর্ম্পকে অনেক কথা বলা হয়েছে। বেশীরভাগের সাথে একমত, অনেকগুলোর সাথে একমত না। তবে একটা বিষয় ফোকাস করতে চাই যে সিরাত অনেক বদলেছে:

১। লেখার ফরমেট বদলেছে
২। রেটিং নিয়ে কান্নাকাটি কমিয়েছে
৩। লেখার ফ্রিকোয়েন্সী কমিয়েছে
৪। বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে
৫। আগের চেয়ে সমালোচনা অনেক বেশী একসেপ্ট করে

তবে প্রিম্যাচিউর সিদ্ধান্তে পৌছানো, কিংবা কারো একটি বিষয় ভালো হলে ওভারঅল অন্যান্য এসপেক্ট গুলো বিবেচনায় না আনা ধরনের বিষয়গুলো এখনও আছে।

আমি বিশ্বাস করি এই আলোচনা/সমালোচনা সিরাতকে আরো বেটার লেখকে পরিনত করবে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

নিতশে সম্পর্কে কিছু বিতর্ক আগে জানতাম না। তবে একটা কথা না বলে পারছি না। বর্তমান পৃথিবীর দর্শনে এই লোককে বাদ দিলে একটা বিরাট শূন্যস্থান তৈরি হবে। পরিকল্পনা পেশার খাতিরে দর্শনের প্রভাব নিয়ে কিছু কিছু লেখা পড়তে হয়েছে। সেখান থেকে দেখেছি - এই নিতশে কিংবা তার উত্তরসুরি ফুকো আর দারিদার ভুমিকার কথা। আমরা চোখ বন্ধ করে থাকলে সারা পৃথিবী থাকবে না।
নিতশে কে বাদ দিলে উত্তরাধুনিকতার দর্শনে কি থাকে তাও দেখার বিষয়। একটা প্রজন্ম যদি জানার খাতিরেও এর দিকে তাকানর ব্যপারে এতটাই এলার্জিগ্রস্ত হয় তবে দুশ্চিন্তার ব্যপার আছে অবশ্যই। তোমার এই পোস্টটা এবং তার পর যেই সব আলোচনা হল তা আমার জন্য অত্যন্ত শিক্ষনীয় একটা পর্যবেক্ষন। পছন্দ করা না করা এক কথা আর ভাবা বা লেখা যাবে না একে নিয়ে এইটা গ্রহন যোগ্য না। তার দর্শন ভাল লাগে না খারাপ সেইটা তার দর্শন না পইরা কেবল তার সম্পর্কে অন্যকারো মন্তব্য দেখলেই হয়ে গেল?

তার এক শিষ্যের একটা মন্তব্যঃ
Georges Bataille argued in 1937, in the Acéphale review, that Nietzsche's thoughts were too free to be instrumentalized by any political movement.

তার শিষ্য নিতসে তার দ্বারা প্রভাবিত ফুকো দারিদা এদের প্রভাবে পরিকল্পনার ধারনাই একটা বিশাল ধাক্কায় পড়েছিল। কেউ আগ্রহী হলে "Rationality and Power: Democracy in Practice" পড়ে দেখতে পারেন। কয়েক বছর পুরা পরিকল্পনা পেশাকে তব্দা খাওয়াইয়া দিছিল এই বই। তার ভাবশিষ্য ফুকোর প্রভাব আমার মধ্যে পড়ছিল ভীষনভাবে। এইখানে এক প্রফেসরের সাথে একবার গল্পে আমার এই কথা জানানর পর সে আমাকে একটা গল্প পড়তে বলেছিলেন। মূল কথা হইল "be yourself"। আবার ফুকোর যেই প্রভাব পরিকল্পনার তত্ত্বের উপর ছিল সেটা সমসাময়িক কোন পেপারেই আসেনাই। কেবল কান্নাকাটি ছাড়া। পরে ফরেস্টার নামে কর্নেলের এক অধ্যাপক আর ফ্লিবিয়ার্গ নিজে অনেক কাঠখর পোড়াইয়া সমস্যাগুলোর সমাধান খুজার চেষ্টা করছেন। এখনো এই তর্ক চলতেই আছে।

আর এই খানে আইসা দেখলাম নিতশেরে নিয়া কথা বললে তারে ডিসিপ্লিন্ড করতে দরকার পড়ে।
ভাই সিরাত, তোমার সিদ্ধান্ত তোমার। তবে আমি এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা দেখতেসিনা তোমার লেখার বিষয় বস্তুতে। সবাই তোমারে পাগল কইলেই তুমি পাগল হইয়া গেলা এইটা মনে করার কোন কারন নাই। তোমাকে যেই অবস্থার মধ্যে দিয়া যাইতে হচ্ছে তা একদিক দিয়ে দুঃখজনক মনে হইলেও। তুমি হয়ত দেখতে পাচ্ছ ব্যপক স্কেলে চিন্তাভাবনাগুলোর ক্ষেত্রে কোন কোন যায়গায় দেয়াল তুলে দেয়া হচ্ছে। এইটাওতো কম না। নিতশে কেন যেকোন দার্শনিককেই এক ধাক্কায় নাকচ করে দেয়া যায় যদি একটা কমিউনিটি চায়। তারপর নিজেদের পছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে নারাচারা চলবে (সেলফফুলফিল্মেন্ট আরকি!)।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

কেন এত ফালাফালি হইছে আপনি বোঝেন নাই। নিৎসে অনুষঙ্গ মাত্র, নিৎসের প্রকৃতিপ্রেম নিয়া গদগদ হওয়ার কি আছে? আমার আপত্তি এই জায়গাতে। নিৎসে নিয়া জ্ঞান থাকলে অত ভক্তি গদগদ হওয়া সম্ভব না। তবে দার্শনিক হিসেবে নিৎসেকে বাতিল করা যাবে কিনা সন্দেহ আছে।

হাইডেগার মামা তো নাজি বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তাই বইলা পড়ুম না কেন? পড়ুম। কিন্তু অত গদগদ হওয়া কি সম্ভব?

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

আপত্তির কারনটা বোধগম্য অবশ্যই কিন্ত এর উৎসটাকি প্রমানিত? উপরে পান্ডবদা যেই লিঙ্ক গুলা দিসেন সেইগুলা একটু ভাল কইরা পইরা দেইখেন। বিশেষ কইরা এন্টিসেমিটিসম নিয়া যেই লিঙ্কটা সেইটাতে আসলে বলতেসে তিনি এন্টিসেমিটিসমের কড়া সমালোচক ছিলেন। আরো কিছু রেফারেন্স আমি দেবার চেষ্টা করেছি উপরে অন্য মন্তব্যে। নিতসের এই আসপেক্টগুলো আমি জানতামনা বলেই একটু ঘেটে দেখার চেষ্টা করছি। আরো দেখছি।

সাবিহ ওমর এর ছবি

আমি নিটশা সম্পর্কে জানি না, তাই পোস্টটা পড়ে আসলেই বুঝি নাই, এরকম প্রতিক্রিয়ার কারণ কি। হাসিব ভাইয়ের কমেন্ট আমার ভাল লাগে নাই। হিমু ভাইয়ের কমেন্টও যথেষ্ট বিদ্রূপাত্মক, কিন্তু তার অসাধারণ হিউমার সবকিছুকেই সহজপাচ্য করে তোলে।

যাই হোক, আমি সিরাত ভাইয়ের লেখা আগ্রহের সাথে পড়ি। কিন্তু আমার ভাল লাগে না যখন উনার অনেক লেখা 'আরেকদিন বিস্তারিত হবে' বলে শেষ হয়ে যায় এবং সেই আরেকদিন আর কখনো আসে না। তখন পাঠক হিসেবে আমার মধ্যে একটা সূক্ষ্ম অপমানবোধ হয়। তখন যে রাগটা হয়, সেটা লেখক সিরাতের উপর হয় না, দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তি সিরাতের উপর হয়। উনাকে তো এখানে লেখার জন্য কেউ পয়সা দেয় না, উনি নিজ আগ্রহেই লিখেন। কিন্তু আগ্রহটা যখন শুধুই নিজের লেখা ছাপার অক্ষরে দেখার, পাঠকের জন্য মধ্যাঙ্গুলি (এবার আঙ্গুল ঠিকঠাক ঢুকিয়েছি হো হো হো, তখন পাঠকেরও অধিকার আছে যাচ্ছেতাই কমেন্ট করার বা একতারা মারার।

সিরাত ভাই, আপনি হয়তো ভাবেন, আমরা আপনাকে হিংসা করি। আমরা আপনার মত পড়ি না, আমাদের মন বড় জ্ঞান, বড় চিন্তার জন্য তৈরিই না। আমি তো দু'কলম লিখতেই কিবোর্ড ভেঙ্গে ফেলি, তাই বালছাল কবিতা লিখে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই। হিংসা হওয়া স্বাভাবিক, হিংসা হয়ও। কিন্তু হিংসার চেয়েও বেশি মন খারাপ হয়, যখন আপনি আজাইরা প্যাচালে জড়িয়ে পড়েন। শুভাশীষ দা আপনার আগের পোস্টে বলেছিলেন, "গেট ওয়েল সুন।" তবে আমার ধারণা আপনি বোধহয় বুঝতে পারেন নাই, আপনার অসুখটা কি। আমিও বুঝতে পারি নাই, তবে মনে হচ্ছে, অনেকগুলো এডিকশনের যোগফল এই সমস্যাটা।

আসেন, হাতে-কলমে একটা সাইকোলজিক্যাল টেস্ট করি। আপনি এক সপ্তাহের জন্য গ্রামের দিকে চলে যান। ল্যাপি, মোবাইল এসব নেয়া যাবে না। বই কিংবা নোটবুকও না। ঘুরে ঘুরে গ্রাম দেখুন (পারলে চে'র মত মোটর সাইকেল নিয়ে), মানুষের সাথে একটু মিশুন। আমি খুব খুব আশা করছি আপনার মানসিক শান্তি মিলবে। মনের আবর্জনা দূর করতে ভ্রমণজনিত শারীরিক পরিশ্রমের উপ্রে ওষুধ নাই।

তবে আসল ওষুধ কিন্তু একটাই, বিবাহ। দাঁড়ান দাঁড়ান, আপ্নে কি দাওয়াতের লিস্ট কাটছাট করার জন্যই এই লাফড়া পাকাইতেসেন??? তীব্র পেতিবাদ!!!

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

যাক! উনাকে নতুন একটা পাথেয় দেয়ার জন্যে। এবার তো সিরাত বলতে পারবেন না, আপনি এটাও আগে করে দেখেছেন চোখ টিপি
_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

যুধিষ্ঠির এর ছবি

নোটিশ:

সচলায়তনের পুল-সিরাত নামক সিক্রেট সাবকমিটির গোপন ক্লিক ও মোল্ডেড সদস্যদের (আপনারা জানেন আপনারা কে বা কারা) জানানো যাচ্ছে যে গতকাল রাতের জরুরী স্কাইপ সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে যে অপারেশন আমরা চালিয়েছি তা আপাতদৃষ্টিতে সফল হয়েছে। সবাইকে অস্ত্র সংবরণ করে যার যার বাংকারে ফিরে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে যে কোন মুহূর্তে আবার দলবদ্ধ আক্রমণের ‍জন্য আপনাদের আবার ডাকা হতে পারে। ধন্যবাদ।

দেঁতো হাসি

সরি সিরাত, এইটুকু জোক করার লোভ সামলাতে পারলাম না। কিছু মনে করো না। পরিস্থিতিটা হালকা হবে আশা করি। তোমার করা কোন মন্তব্য ব্যক্তিগতভাবে নেইনি। আমার নাম বেশ কবার আলোচনায় এসেছে, তাই এটা জানিয়ে যাওয়া জরুরী যে আমি এই আলোচনাটা অনুসরণ করছি।

এটুকু জানিয়ে যাচ্ছি, দিনশেষে আমি বিশ্বাস করি না তুমি মৌলবাদী বা সহিংসতার সমর্থক। এটাও বলি যে, তোমার লেখালেখির ফ্রিকোয়েন্সী, মান, কনটেণ্ট - এসব নিয়ে আমার সাধারনভাবে তেমন কোন মাথাব্যথা নেই। সমস্যা এটাই যে তুমি আমাদের অনেকের করা মন্তব্যের সারকথা না বুঝতে চেয়ে আমাদের মোটিভ খোঁজা শুরু করেছো। সেটা দুঃখজনক। তোমাকে যতটুকু চিনেছি, তাতে করে আমার মনে হয় না এটা বদলাবে।

স্নিগ্ধা যে কারণের কথা বলেছেন, সে কারণে তোমার লেখায় সাধারণভাবে মন্তব্য করা ছেড়ে দিয়েছি ঠিকই - তবে যখনই প্রয়োজন মনে করবো এসে মন্তব্য করে মতামত জানিয়ে যাবো। সেটাকে তুমি দলীয় আক্রমণ বা অন্য যে কোন কিছুই ভাবো না কেন, ওটা বন্ধ হবে না, বরং দায়িত্ব মনে করেই করবো।

শুভকামনা।

স্নিগ্ধা এর ছবি

ইয়ে, যেধো - আমি যে ভুলে মীর-জাফরি করে মিত্রপক্ষের দিকে অস্ত্রনিক্ষেপ করে ফেলেছি, এতে কি আমার সদস্যপদ খারিজ করা হবে????

আর, বাংকার থেকে কিন্তু হাতি দিয়েও আমাকে উৎখাত করা যাবে না বলে দিলাম! ভাইরে ভাই - বাইরে যা ঠান্ডা রে ভাই মন খারাপ

তুলিরেখা এর ছবি

আচ্ছা বরফ কেমন? আছাড় টাছাড় খেলেন? হাসি
----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

স্নিগ্ধা এর ছবি

এহহহহহহ, সখ কত! রেগে টং

তুলিরেখা এর ছবি

আহা হা চটেন কেন?
বরফে আছাড় মানে হলো বারফিক প্রেম! চোখ টিপি
রবিদাদামশয় কয়ে গেছেন, "কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা।"
হাসি
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

যুধিষ্ঠির এর ছবি

বরফে আছাড় মানে হলো বারফিক প্রেম!

দেঁতো হাসি

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

বিকালে কমেন্ট দেইখা তবদা খাইয়া গেলাম। এহানে বরফ আইলো কেমতে? দেঁতো হাসি

যুধিষ্ঠির এর ছবি

আপনার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে, আপনার পরবর্তী লেখা না আসা পর্যন্ত!

স্বাধীন এর ছবি

যুধিষ্ঠির এর মন্তব্যে পূর্ণ সহমত জানিয়ে গেলাম।

তুলিরেখা এর ছবি

কী অবস্থা!!!!! চিন্তিত
গভীর চিন্তার বিষয়!!!!
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

অমিত এর ছবি

ছবিগুলার মধ্যে কয়েকটা বেশ সুন্দর। কিন্তু নিজের তোলা না হলে নিজের অ্যাকাউন্টে রাখা ঠিক না মনে হয়।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আইলাম, পড়লাম নিয়েৎসেরে চিনি না, মনে হয় না চেনা খুব একটা জরুরী, নিজের দেশের কত মানুষরে এখনো চিনি না, তাগো চেনা জরুরী। তয়, একটা কথা খুব খারাপ লাগছে, সিরাত মিয়া কইল,

পুরা নিটশা পড়লে তো আমি সচলায়তনে লিখতাম না, আমি ওয়াল্টার কফম্যান হইতাম

ভাইরে, কারো সাথে একটা জিনিষ শেয়ার করার আগে পুরা ব্যাপারটা বুঝে নেওয়া জরুরী, ঠিক কিনা? পুরাটা পড়লে যদি নাই লিখবা, তাইলে আধাখেচড়া পইড়া লেখা দেবার মানে কি আমাদের সাথে কিছুটা রঙ তামাশা করার মত হয় না? অর্থাৎ পাঠক হিসাবে আমাদের প্রতি আপনার কোন শ্রদ্ধা নাই? নাকি ভুল কইলাম? আমি ভুল কইতেই পারি, তাতে মাইন্ড খাইলেও খাইতে পারো।

তাছাড়া ভাই সিরাত, হাসিব ভাই তোমারে আক্রমন করল কইয়া অভিযোগ করলা, সেইলগে সচলায়তনরেও ব্যাপক গালাগালি করলা, সচল বায়াসড, এখানে সবাই তোমার পিছে লাগছে, অথচ তোমার ভারত ভ্রমনের সময়ের পোস্ট বা সাম্প্রতিক কালের কিছু পোস্টে এই সচলের লোকজনই গিয়ে ভোটের আর প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছিল, ঠিকনা? তোমাকে দেখতে না পারলে কিন্তু সেখানেও ১ ভোটের বন্যা বয়ে যাবার কথা ছিল।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অনিকেত এর ছবি

সিরাতকে আমাদের মাঝে দেখছি আজ বেশ অনেক দিন হল।
সিরাতের সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি, দেখা হবার সম্ভাবনাও কম। আরো অনেক সচলই হয়ত এই গোত্রে পড়বেন।বাংলায় কথা বলা, বাংলায় লেখা, বাংলায় গান গাওয়ার এক অনিরাময়যোগ্য নেশা আর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য (common interest) আমাদেরকে এই সচলায়তনে বেঁধে রাখে। শুরুতে অনেকের কাছেই সচলায়তন এক প্রেমাস্পদের আন্তর্জালিক প্রতিস্থাপন হয়েই ধরা দেয়। প্রথম প্রেমের নেশা নিয়েই আমরা সবাই এখানে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটাই। নিজের পাঁচালী লিখে যাই, অন্যের কাসুন্দি ঘাটি। আবার সবাই একই সাথে একই স্বরে উচ্চারণ করি কিছু কিছু প্রিয় পংক্তিমালা। এখানে একদিন কারো মন খারাপ থাকলে সবাই আমরা যার যার কাজ ফেলে এসে এক ছুটে পাশে এসে দাঁড়াই। তেমনি কারোর কোন শুভ সংবাদে আমাদের সবার চোখেই আলোর ঝিকিমিকি। এখানে কেউ আক্রান্ত হলে আমরা পাশাপাশি দেয়াল হয়ে দাঁড়াই, আগলে রাখি আমাদের ভালবাসার নীল চাঁদোয়ার তলে। এসবের মাঝেও আছে মন কষাকষি, রাগারাগি। মাঝে মধ্যে কটু ভাষন।

এইসবই তো আমাদের জীবনের অনুষঙ্গ।
তাই এইসবই সচলায়তনেরও অনুষঙ্গ।

সিরাতকে নিয়ে কিছুদিন পর পর তুমুল হৈচৈ হয়। কেউ তার লেখার মাঝে ছাগুর বোঁটকা গন্ধ পান। কেউ হয়ত তার অবিশ্রান্ত লেখার কারণে আক্রান্ত বোধ করেন। কেউ কেউ তার 'শো-অফের' কারণে নিজেই 'অফ' হয়ে যান। আমি নিজেও অনেকদিন এই সকল ধারণার বশবর্ত্তী হয়েছিলাম। তার লেখা দেখলেই দূরে দূরে পালাতাম। অবশ্য তার জন্যে আমার নিজের আঁটসাট রেশন করা সময় আর সিরাতের লেখার বিষয়াবলীও একটা গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হয়ে কাজ করত। তার উপরে সিরাত তখন লিখত বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে।এক লাইনে দুইটা বাংলা শব্দ, চারটে ইংরাজী শব্দ, পাঁচটা ইমোটকন। সব মিলিয়ে বেশ হুলুস্থুলু ব্যাপার।

আমার ধারণা হঠাৎ করে পালটে গেল যখন আমি তার সাম্প্রতিক কিছু লেখা পড়ি। তার লেখা কিয়ের্কেগার্দ এবং আব্বা পড়ে আমি চমকে উঠি। আসলে লেখাটা শুরু করার কারণটা ছিল শিরোনামে 'আব্বা' শব্দটি। সিরাতের লেখার যে ধাঁচটা আগে ছিল সেটা খানিকটা এই রকমঃ

ক) আমি 'অমুক' বইটা পড়ছি। এতে একটা দারুণ 'এক্সাইটিং' জিনিস লেখক বলেছেন। সেইটা বলতে আসলাম।

খ) এই 'এক্সাইটিং' বিষয়টা নিয়ে ইউরোপে 'তমুক' আরো একটা জিনিস বলেছিলেন যেটা আমি নিজে বুঝি নাই, আপনার সময় থাকলে পড়েন গিয়া

গ) (সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা প্রসঙ্গ এনে) ম্যাল্কম গ্লাডওয়েল এই নিয়ে যে বই
লিখেছেন সেইটা সবার পড়া দরকার। ভাল কথা এই একই থিম নিয়ে একটা পিসি গেম আছে সেইটার পিএসথ্রি ভার্সন এখনো বাজারে আসে নাই---গেমের কথায় মনে পড়ল---

আমি হয়ত রসিকতা করে লিখছি (সিরাত ভাই, রাগ করো না) কিন্তু তার লেখা এইরকমই বেশ অগোছাল ছিল। এই নিয়ে সবাই তাকে কত বকাবকি! সিরাতও দেখা গেল বিপুল উদ্যমে তর্ক চালাতে শুরু করল। কিন্তু কিছুখন পরেই রণে ভঙ্গ দিয়ে সবাইকে 'সরি' বলা শুরু করল।

এইই চলছিল।

কিন্তু হঠাত সেদিন তার ঐ 'কিয়ের্কেগার্দ এবং আব্বা' লেখাটা পড়তে গিয়ে দেখলাম আমাদের সবার অজান্তে ছেলেটা পালটে গেছে। এই লেখায় সে কোন 'উচ্চারণ-করতে-দাঁত-ভেঙ্গে-যায়' টাইপের নামওয়ালা দার্শনিক অথবা অর্থনীতিবিদের কুহেলিকাময় কোন থিওরী কপচাতে আসেনি। সেই লেখাটা ছিল একেবারেই স্বগত উচ্চারণ। এক ছেলের তার বাবাকে নিয়ে কিছু কথা।

সিরাতের হাজার হাজার বই পড়া বিদ্যে যা করতে পারেনি----তার ঐ এক লেখাই সেটা করে দিল। এক ঝটকায় মনের কপাট খুলে দেখিয়ে দিলঃ চশমা আঁটা গম্ভীর nerdy একটা মানুষের মুখোশের নীচে ছটফটে একটা ছেলেমানুষ ঘুরে ফিরছে।

আমি এইটা পড়ে মুগ্ধ হলাম। আমি আরো চমকে গেলাম যখন দেখলাম একের পর এক সে দারুণ দারুণ লেখা দিয়ে যাচ্ছে। সেই লেখাগুলো যেমন বিচিত্রগামী তেমনি সুখপাঠ্য।

এরই মাঝে আজ আবার এই ছন্দপতন!

আমার মনে হয় বেচারাকে আমাদের একটু ছাড় দেয়া উচিত। আমি মৃদুল'দার বক্তব্যের সাথে একমত। আমার কখনই মনে হয় নি যে সে কোন
"গভীর গুপ্ত উদ্দেশ্য" নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। হতে পারে জীবন সম্পর্কে তার তেমন ধারণা নেই। হতে পারে সে বইয়ের পোকা। হতে পারে সে 'রাজনৈতিক ভাবে শুদ্ধ' (Politically correct) কথা বলতে জানে না। হতে পারে 'দেখানেপনা'-য় সে মাত্রাহীন লজ্জাহীন। কিন্তু আমার কখনোই মনে হয় না সে আসলে প্রতিক্রিয়াশীলতা লালন করে বলে। বরং তার কথায় যা জেনেছি, সে একটা বেশ অন্ধকার কুঠুরী থেকেই বেরিয়ে এসেছে। হয়ত অনেক বই পড়াই ছিল তার আঁধারের সাথে যুদ্ধ করার হাতিয়ার। হয়ত অনেক নিস্করুণ নির্মম লোকের সাথে লড়াই করে ফিরে আসায় তার সবার জন্যেই দরদ একটু বেশি---সেটা জামাতী-হুজি'র লোক হলেও সত্যি। আর ঠিক এই জায়গাটাতেই সে আমাদের চেয়ে আলাদা। এই জায়গাটাতেই তার বোকামী (অথবা সততা) ধরা পড়ে যায়। সে সবাই কে 'সুযোগ' দিতে আগ্রহী। কিন্তু সে যেটা জানেনা সেটা হল ক্ষমা শব্দটা বইয়ের পাতায়, শেক্সপীয়রের নাটকে কিংবা ছবিতে মানায় বেশি। প্রচুর নেকড়ে রুমালে মুখ মুছে খাপ ধরে বসে আছে এই রকম কিছু বোকাদের আশায়---যাদের মানুষের শুভবুদ্ধির উপর অগাধ আস্থা।

আমার মনে হয়, আমাদের এই কয়টা জিনিস একটু মাথায় রাখা দরকার। আপনারা হয়ত দ্বিমত পোষন করতে পারেন আমার সাথে। আমার ভুলও হতে পারে। হয়ত তার আসলেই কোন গুপ্ত উদ্দেশ্য রয়েছে যেটা আমি বুঝতে পারছি না (সিরাতকে আর যাই হোক 'স্পাই' চরিত্রে একেবারেই মানায় না)। হয়ত আপনাদের সবার ধারণাই সত্যি। আসলেই সে হয়ত চরম ধূর্ত প্রতিক্রিয়াশীল লোক।

হয়ত---

কিন্তু সেইটা প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আমি তাকে এসবের উর্ধে রাখতে চাই। তার প্রচুর দোষ থাকতে পারে। আমাদের সকলেরি আছে। কিন্তু সে চেষ্টা করছে কাটিয়ে ওঠার। ধীরে হলেও সে আস্তে আস্তে বুঝতে পারছে পৃথিবীটা কীরকম।

এইটা আমার বিশ্বাস
আশাকরি সিরাত আমাকে ভুল প্রমাণ করবে না।

সবার মঙ্গল হোক !!!!

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

খুব সহমত এই মন্তব্যটার সাথে। ইদানীং সিরাতকে বিভিন্ন ভাবে ব্র্যান্ডিং-এর প্রয়াস এবং কারণে-অকারণে উত্তক্ত করার ট্রেন্ডটা দেখে আমি বিরক্ত। সিরাত আর যাই হোক জামায়াত-শিবিরের সিম্প্যাথাইজার না। ওকে এমনটা ব্র্যান্ডিং করে পিনিয়াটার মতো পিটিয়ে অনেকেই ব্লগে জামায়াত-বিরোধিতার অগ্নিপরীক্ষা দেন। মাঝে মাঝে মন চায় জিজ্ঞেস করি, কাজের কাজ কে কদ্দূর করেছেন একটু দেখান দেখি। পোলাটাও ইডিয়েট। খোঁচালেই চেতে।

নিটশা/নিয়েৎশে/নিৎশে-কে নিয়ে সিরাত লেখাতেই সেটায় জামায়াত কানেকশন উঠে এসেছে। আবোল-তাবোল যা-ই বলে থাকুন না কেন, বিভিন্ন কারণে নিৎশে এখনও রেলেভ্যান্ট। দর্শনের জগৎ থেকে এই রেলেভ্যান্স দূর করার তুলনায় সচলায়তনে সিরাতকে উত্তক্ত করা সহজতর পথ।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

কাউরে ব্রাণ্ডিং করা খারাপ। এটা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

নাজি নবীকে দর্শনের জগৎ থেকে ছিটকে ফেলা সহজ কাজ নয় জানি। তবে হুদাহুদি এই নবীর প্রকৃতিপ্রেম নিয়ে ভাবোচ্ছ্বাস দেখতে ভাল ঠেকে না।

উদ্ধৃতি

দর্শনের জগৎ থেকে এই রেলেভ্যান্স দূর করার তুলনায় সচলায়তনে সিরাতকে উত্তক্ত করা সহজতর পথ।.....

এটা ভাল শোনালো না। এই যদি ধারণা হয় তবে উনার লেখায় মন্তব্য করব না। আমেন।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আপনার প্রথম মন্তব্যের ভাষা আমার কাছে আপত্তিকর লেগেছে। সিরাত চাইলেই মুছে দিতে পারেন, এই খোঁড়া অজুহাতে এ-ধরনের বক্তব্য দেওয়া যথেষ্ট না। হাসিব ভাইয়ের প্রথম মন্তব্যও খারাপ লেগেছে। এ-ধরনের মন্তব্য করার চেয়ে ওর পোস্টে কিছু না লেখাই ভালো। আরেকটু ভালো ভাষা ব্যবহার করা যেত।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

কইলাম-ই তো। খুদাফেজ। তারপরেও আপ্নের পরামর্শের জন্য থ্যাংকস।

আর কথা অইল এমনেই আমার মুখের ভাষা খারাপ। কি আর করুম।

আর ঘ্যাচাং লইয়া সিরাত সাহেবের কাজ মনে হয় বেবাকে ভুইলা গেছেন। যাউগ্‌গা।

স্বাধীন এর ছবি

ইশতি

দর্শনের জগৎ থেকে এই রেলেভ্যান্স দূর করার তুলনায় সচলায়তনে সিরাতকে উত্তক্ত করা সহজতর পথ।

আমার মনে হয় না দর্শনের আলোচনায় কারো আপত্তি থাকার কথা। কিন্তু সমস্যা হল আলোচনা করবো কার সাথে। সিরাত পরের দিনই আরেকটি ব্লগ নিয়ে ব্যস্ত হবে। সুতরাং সমস্যা কোথায় সেটি আমার মন্তব্যে বিস্তারিত বলেছি। আমিও চাই দর্শনের এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাল আলোচনা হোক। নিজেরাও জানতে পারবো।

আর দর্শনের মত বিষয়গুলো নিয়ে লিখতে হলে বেশ প্রস্তুতি নিয়ে লিখতে হয়। এ কথা শুধু সিরাতের জন্য প্রযোজ্য নয়। আমি বা তুমিও যদি যে কোন বিষয়েই কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়া, তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে লিখে ফেলি তাহলে সচলায়তনে যে কড়া মন্তব্য পাবো সেটি আমি বা তুমিও জানো। কয়েক দিন আগে সাইফের লেখায় কয়েকজন কড়া মন্তব্য করেছেন যে এভাবে আবেগের বশে তাড়াহুড়ায় না লিখে গুছিয়ে লিখতে। শুভাশিস যদি ছফার লেখা অনেক প্রস্তুতি নিয়ে না লেখতো তবে তাঁকে আজ সিরাতের মত অবস্থা বরণ করে নিতে হতো। তাঁকে আমি এ জন্য সাধুবাদ দেই।

সমস্যা হল সিরাত খুব কমই এই সব মনে রাখে, যার প্রমান কিছুদিন পর পর একই প্যাঁচাল চলে।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

হাতে পাঁচ আঙুল তো সমান হয় না, ভাইয়া। মুখে যতই ঘাউড়ামি করুক না কেন, সিরাতের অনেক পজিটিভ পরিবর্তন এসেছে। লেখায় ইংরেজির পরিমাণ অনেক কমেছে, বাংলা পরিভাষার ব্যবহার অনেক উন্নত হয়েছে, বানান ভুল কমেছে, বৈচিত্র্য এসেছে, লেখার ফ্রিকোয়েন্সি কমেছে, ইত্যাদি। মন্তব্য গ্রহণ করার ব্যাপারেও উন্নতি আছে বলে আমি মনে করি।

প্রস্তুতি ছাড়া লেখা সচলায়তনে গর্হিত, এ-কথা আমি সম্পূর্ণ মানি। এই লেখাটা আমার কাছে তেমন মনে হয়নি। লেখায় নিৎশে এসেছেন, তবে গৌণ ভাবে। এটা কাঠামো বিবেচনায় একটা ছবি-ব্লগ। ছবিগুলো যত্ন করেই বেছে বের করা। নিৎসে নিয়ে তর্ক হতে পারে, তবে সেটা ভিন্ন কোনো পোস্টে হতে পারতো। সিরাতকে যতটুকু চিনি, বলা হলে তেমন একটা পোস্ট পাওয়া যেত ওর কাছ থেকে।

আমিও চাই সিরাত একটু সময় নিয়ে লেখুক। আমিও জানি যে ওর মধ্যে অনেক সম্ভাবনা আছে। সচলে তো ও "লেখক" হিসেবে লেখে না, লিখতে লিখতেই লেখা শেখে। আমরা সবাই কম-বেশি লিখেছি কোথাও না কোথাও। ওর বেলায় সেটা নেই। নেই বলেই ঠেকে ঠেকে শিখছে ও। এই সুযোগে ওকে যেমন-তেমন ভাবে ব্র্যান্ডিং করার প্রয়াসটা আমার কাছে খুবই খারাপ লাগছে। এটা নিয়েই আমার আপত্তিটা।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ইশতি, পরিচিত কারো ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি মেনে নেয়া কষ্টকর আসলেই। কিন্তু একটা জিনিষ তো সত্যি আপনি যেভাবে সিরাতকে চিনেন, সচলের বাকিরা তাকে সেভাবে চিনে না। সচলে সিরাত পরিচিত তার লেখা দিয়ে।

আপনি নিজেকে দিয়েই ভাবুন। সচলের অনেকেই মনে করে আপনার হাতে দেশের দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায়। কী করে বলে তাঁরা এতো কনফিডেন্টলি? যারা বলে তারা কি সবাই আপনাকে ছোটবেলা থেকে চিনে? আমি আমার কথা জানি, আমি কখনোই ইশতিকে সামনা সামনি দেখি নি। আমি জানি না ব্যক্তিজীবনে ইশতি কেমন। কিন্তু আমি জানি, অন্য সবার মতো আমিও ইশতির হাতে দেশের দায়িত্ব ছেড়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারবো। কী করে বলি ইশতি?

এই যে সবার কনফিডেন্স আপনি আদায় করে নিয়েছেন, এর সাফল্য কিন্তু আপনার। আপনার প্রকাশভঙ্গির। আপনার ধ্যান-ধারণার। সর্বোপরি আপনার লেখার, যার মাধ্যমেই কেবল আমরা ইশতি'র সাথে পরিচিত।

আপনার এই অবস্থান তৈরীর পেছনে যদি আপনার লেখার অবদান থাকে তাহলে সিরাতের ক্ষেত্রেও তাই। কেউ যদি ব্যক্তি সিরাতের বাইরে কেবল তার লেখা ধরেই তাকে বিবেচনা করে থাকে, আপনি তাঁকে দোষ দিবেন কেমন করে! তাহলে তো আপনার প্রতি এতোটা নির্ভরতাকে অপমান করা হয়। করবেন সেটাকে অপমান?

আর সিরাত যে একটা বই পড়ে এসে টুক করে একটা পোস্ট লিখে ফেলে সেটা তো সত্যি। কী লিখলো, কার ব্যাপারে লিখলো সেটা খুব সম্ভবত সে নিজেও জানে না। নিয়েৎশে'র দর্শণ নিয়ে সে লিখলো (ট্যাগ খেয়াল করুন)। হাসিব্বাইয়ের কমেন্টে সে তাল হারিয়ে ফেললো প্রথমেই। নিয়েৎশে'র মৃত্যু হয়েছে নাৎসীবাদের জন্মের ঊনিশ বছর আগে। সিরাত কি এটা জানতো! "বেটার হিউম্যান হতে হলে ফাইট করতে হবে"- এটাকে যদি নাৎসীরা পরবর্তীতে নিজেদের মতো করে তাদের মটো বানিয়ে ফেলে তাহলে সেই দায়ভার নিয়েৎশে কেনো নিবে? [এ্যাটম বোমার দায়ভার কি আইনস্টাইনের উপর বর্তায়?] সিরাতের পয়েন্ট হওয়ার কথা ছিলো এগুলো! সে কোন পথে হাঁটলো! সেই শুরু থেকে সিরাতকে অনেকেই কিন্তু লিখতে মানা করছেন না। বরং বলছেন, লেখার বিষয়ের একটু গভীরে যেতে। বই আর লেখকের নাম না, বরং উক্ত লেখক সেই বইতে কী বলেছেন, তা তার নিজের মতো করে ব্যাখ্যা। সিরাতের বাংলিশ ব্যবহারটা দূর হলেও, কোনো কিছুর ভেতরে না ঢোকার এই রোগটা যে ছাড়ছেই না!

আর হ্যাঁ, (আপনার উপর আস্থা আছে বলেই বলছি) সিরাত সরাসরি জামাতের সিম্পেথাইজার না হলেও তার 'সিম্পেথি'র কারণে বল কোর্টে তুলে নিচ্ছে কিছু জামাতপ্রেমী লোকজন। অন্যরা কাজের কাজ কিছুই না করুক, কিন্তু এটা কি খুব ভালো কাজ হচ্ছে?
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

খুবই ঠিক। পরিচিত কারও ব্যাপারে এমনটা দেখা কষ্টকর। তবে, পরিচিত বলেই আমি অনেকটা সময় চুপ ছিলাম। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই মুখ খুলতে হলো। সিরাত আমার পরিচিত বলেই আমি হাসিব ভাই এবং শুভাশীষ দা'র মন্তব্য দুটোকে আপত্তিকর বলে অভিযুক্ত করিনি। এর আগের পোস্টেও হাসিব ভাই অযথা খুঁচিয়েছেন, সেটাও ও আমার পরিচিত বলেই আমি আপত্তিকর বলে অভিযোগ করিনি। পোলাটা চেতালে চেতে, এবং এটার সুযোগ নেওয়া হয় অনেক। যাক, তবু সেটা যার যার মর্জি, এবং পাবলিক প্লেসে নিজেকে সামাল দেওয়াও সিরাতের নিজেকেই শিখতে হবে।

আমিও মানি যে ওর লুজ-এন্ড রাখা লেখাগুলোর সুযোগ নিচ্ছে/নিবে অন্যরা। সেই প্রসঙ্গে ঝাড়ি-ঝুড়ি ওকে আমিও মেরেছি আগে। কিন্তু, এই যে স্রেফ নিয়েৎশে-র রেফারেন্স আছে বলেই এবার ওকে সাক্ষাৎ নাৎসিও বানিয়ে দেওয়া, এটা কি বেশি বেশি না? একটা পর্যায়ের পর তো ওর স্ন্যাপ করা খুবই স্বাভাবিক। ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাই সিরাতের পোস্ট দেখলেই এক হাত নিয়ে নেন।

সিরাতের সমালোচনায় আমার আপত্তি না। আমার আপত্তি স্রেফ মাঝে মধ্যে সমালোচকরাও একটু ক্যারিড-আওয়ে হয়ে যাওয়ায়।

হাসিব এর ছবি

একটা ইম্পর্টেন্ট পয়েন্ট জানা গেলো যে সিরাত আপনার পরিচিত ।

যাউগ্গা,

এই যে স্রেফ নিয়েৎশে-র রেফারেন্স আছে বলেই এবার ওকে সাক্ষাৎ নাৎসিও বানিয়ে দেওয়া, এটা কি বেশি বেশি না?

এইখানে কথা টুইস্ট করলেন আপনি । সিরাতরে কেউ নাৎসি বানায় দেয় নাই ।

প্রকৃতিপ্রেম প্রকাশ করতে গিয়ে কেউ গু আযমের রেফারেন্স টানলে সেই লোকরে আমি জামাতি বলবো । একইভাবে সিরাতের এইধরনের পোস্ট সত্ত্বেও আমি নিৎসশেরে আমি বা অন্য কেউ কিন্তু সিরাতরে নাৎসি বলি নাই ।

একটা পর্যায়ের পর তো ওর স্ন্যাপ করা খুবই স্বাভাবিক।

আপনি "স্বাভাবিক" বলে সিরাতরে পার পাওয়ানোর একটা পরিস্কার চেষ্টা নিতেছেন । আপনি কেনু নাৎসি ইমামের রেফারেন্স ওয়ালা প্রতিক্রিয়াগুলারে "স্বাভাবিক" বলে নিতে পারতেছেন না ? কেনু কেনু কেনু ?

ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাই সিরাতের পোস্ট দেখলেই এক হাত নিয়ে নেন।

সচলে ছোট বড় আবার কি ? নাবালক কেউ সচল হৈছে এইটা মনে পড়তেছে না । ভুল জানলে শুধরায় দিয়েন ।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আমার মনে হয় বন্ধুবান্ধব ধারমা থেকে উপ্রে উইঠা আপ্নের চিন্তা করা লাগব। তাইলে যদি পরিষ্কার হয়।

আমি খোঁচানোর জন্য কমেন্ট করি নাই। হইতে পারে ইশারায় কাফি করবার গিয়া ইশারায় ন্যাপি অইয়া গেছে।

বেনামি এর ছবি

আমার মনে হয় সিরাতের আগ্রহ নিজের লেখা ছাপার অক্ষরে দেখা শুধু নয় সবার কাছে নিজের জ্ঞানের পরিধি জাহির করা। কি অদ্ভুত - একটা মানুষের দর্শন, অর্থনীতি, ভূরাজনীতি, ভ্রমন, সাইকোলজী, মহাবিশ্ব, গেমিং, ইতিহাস, সভ্যতা, মুভি --সব বিষয়েই আগ্রহ, সব বিষয়েই পড়াশুনা-লেখালেখির নির্মোহ তাগিদ (!?) মানুষজন ব্লগে সাধারণত জীবনলব্ধ অভিজ্ঞতা বা ঘটনা প্রবাহ কে নিজের চিন্তা বা বিশ্বাসের আলোকে শেয়ার করে। আর সিরাত সেগুলার সাথে জ্ঞানের রেফারেন্স দিয়ে পুরা থিওরী নিয়া আসে।

আমার মনে হয় সে এক্সপ্রেশন এডিকশনে আক্রান্ত। 'নিজের আনন্দের জন্য লিখি'- কিন্তু সে আনন্দটা নিজের ইগো কে স্যাটিসফাই করার আনন্দ। নিজের এই সব দোষ সে স্বীকার করে কিন্তু বিশ্বাস যে করে না তার প্রমাণ আজকের ঘটনা।

শুধুই পাঠক এর ছবি

সব বিষয়ে কেউ লিখতে পারলে সমস্যা কি? আর জ্ঞান যদি থাকে তাহলে প্রচার করতেই বা সমস্যা কি?

সমস্যা হলো পাবলিক ফোরামে (কম্যূনিটি ব্লগে বিশেষ করে) লিখতে হলে নিজের লেখার দায়বদ্ধতা নিজেকেই নিতে হবে। কেউ যদি সেই দায়বদ্ধতা নিতে না চায় কিংবা পাঠকের অংশগ্রহণকে গোনায় না ধরে তাহলে পাবলিক ফোরামে না লিখে ব্লগস্পটে কিংবা ওয়ার্ডপ্রেসে লিখলেই তো হয়।

সাবিহ ওমর এর ছবি

দুনিয়াজোড়া পচুর গিয়াঞ্জাম...

রেনেট এর ছবি

কিছু কিছু পোস্টে আমি পোস্ট না পড়ে শুধু মন্তব্য পড়ি। এই পোস্টেও দেড়শোখানেক মন্তব্য দেখে কাহিনী কি দেখতে এলাম। মন্তব্য কম-বেশি পড়লাম।
স্নিগ্ধাপু, মৃদুল ভাই ও অনিকেতদার প্রতি শ্রদ্ধা কয়েকশোগুণ বৃদ্ধি পেলো। তাদের প্রতি ভালোলাগাটুকু জানাতেই লগ-ইন করলাম।

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

সাফি এর ছবি

সহমত।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

আহা খারাপ লাগে। কত সুন্দর আলোচনা হতে পারত - কেন নিট্শে পরিহার্য তা নিয়ে। কিছু উদ্ধৃতির দেখা পেতাম, সাথে মোক্ষম যুক্তি। সিরাত হয়ত যাচাই বাছাইয়ের সুযোগ পেতেন। সব গাপ হয়ে গেল উপদেশ পরামর্শে, বয়:সন্ধিক্ষণের কিশোররা সাধারণত যার ধার কখনই ধারেন না।

সবাই আমার পথে আসবে, এমন আশা ছেড়ে কেবল যুক্তি দিয়ে তর্ক করে যাওয়াই এখানে মোক্ষম হত। সিরাত তার মত করেই হয়ত তবু এগিয়ে যেতেন। কিন্তু যেদিন স্থৈর্য আসত মনে, সেদিন কিন্তু এই যুক্তিগুলোই সবচেয়ে বেশি চালিত করত ওনাকে। এখন হয়ত ওনার বেছে নেবার সময় না। সবকিছু নিয়ে তর্ক-বিতর্ক নাড়াচাড়া করবার সময়। এইসব মারামারি ওনারে কদ্দূর কি সাহায্য করলো কে জানে।

----------------------------------
~জীবন অনেকটা জড়ই, কিন্তু অনন্য!~

বইখাতা এর ছবি

অনেক আলোচনা, মন্তব্য হয়ে গেছে। সিরাত, আমি জানিনা এই লেখার মন্তব্য আর পড়ছেন কিনা, একটা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে ইচ্ছা করছে। হাসি

বেশিরভাগ মন্তব্য পড়ে কী মনে হলো জানেন ! সচলায়তনের অনেকেই কিন্তু আপনাকে খুব পছন্দ করেন, স্নেহ করেন। এই পছন্দ, স্নেহ, কনসার্ন প্রকাশ পেয়েছে উদ্বিগ্নতা, ভয়, নিছক ছোট ভাইয়ের মতো বকা দিয়ে বুঝানো, বিরক্তি বা স্নেহপূর্ণ মন্তব্য আকারে। অবশ্য আমার মনে হওয়ার সাথে আপনার দ্বিমত থাকতেই পারে। অত্যন্ত চমৎকার কিছু মন্তব্যও আপনি পেয়েছেন। একটা কমিউনিটি ব্লগে, যেখানে বেশিরভাগ মানুষই আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেনা, এতজনের পছন্দের একজন হওয়া কিন্তু অনেক বড় ব্যাপার - আমার তো তা-ই মনে হয়। হাসি

রাগ, বিরক্তি, ক্ষোভ, মন-খারাপ ভাবটা কমে গেলে আরেকটা লেখা দিন। হাসি

ওডিন এর ছবি

রেনেট এবং আর অনেকের মতো এই পোস্টে গুতোগুতির বহর দেখে ঘটনা দেখতে এলাম। আর এখন পর্যন্ত যা বুঝলাম-

ক. সিরাত একজন জনপ্রিয় মানুষ।

সচলায়তনের অনেকেই কিন্তু আপনাকে খুব পছন্দ করেন, স্নেহ করেন। এই পছন্দ, স্নেহ, কনসার্ন প্রকাশ পেয়েছে উদ্বিগ্নতা, ভয়, নিছক ছোট ভাইয়ের মতো বকা দিয়ে বুঝানো, বিরক্তি বা স্নেহপূর্ণ মন্তব্য আকারে।
চলুক

খ. যদ্দুর মনে হয় সিরাতের অ্যাকাউন্ট আবার হ্যাক করা হইছে অ্যাঁ

গ. ড্রাগন এজঃ অরিজিনস আর মাস এফেক্ট টু এর মতো দুইটা দুর্ধর্ষ জিনিস দুই মাসের মধ্যে রিলিজ করে বায়োওয়ার পুরা গেমিং তথা তরুণসমাজকেই একটা বিরাট হেজিমনির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। আপনার এখন উচিত অবসরে দুইটা গেম একসাথে খেলা শুরু করা (আশা করি আপনি এর মধ্যেই তা করেছেন/করে ফেলেছেন), আর বায়োওয়ারের মার্কেটিং পলিসি এবং গেমিং জগতের ভবিষ্যত মেরুকরণ নিয়ে একটা গবেষনামূলক প্রবন্ধ লিখে ফেলা।

হাসি

______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

তাসনীম এর ছবি

মন্তব্যের সংখ্যা ১৪০ ছাড়ায়ে যাওয়ার পর পড়ি এই ব্লগটা। ধীরে সুস্থে সবগুলো কমেন্ট আর লেখা পড়লাম। অনিকেত আর মৃদুলের সাথে সহমত। অনেক কথা বলা হয়েছে, কিছু কটু কথাও। কিছু গঠনমূলক কথাও আছে। আশাকরি সিরাতসহ সবাই গঠনমূলক কথাগুলোই মনে রাখবে বাকিগুলো নয়।

সিরাতকে আমার ছটফটে পড়ুয়া তরুণ মনে হয়েছে, কখনোই মনে হয়নি সে কোন বিশেষ মেসেজ দিতে চাচ্ছে। আমি আশা করব ওর কলম চালু রইবে, এটা ওর অধিকার।

ভিন্নমতের সহ অবস্থান আমাদের কিন্তু দুর্বল করবে না, বরং আরো দৃঢ় করে তুলবে।

আমেন (আশাকরি এটাই শেষ মন্তব্য)।

+++++++++++++++++++++++++++++++++++++
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

হিমু এর ছবি

আমি খুব দুঃখের সাথেই কর্কশ একটা মন্তব্য করবো।

সিরাত নাইভ কি না, অপরিণতমস্তিষ্ক কি না, অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না, এগুলি বিবেচনার ধারে কাছেও আমি নাই। আমার বিবেচনায় একটাই জিনিস, সিরাত ছাড় দিচ্ছে কী আর কাকে, সেটার বেনিফিশিয়ারি কারা।

উপরে কমেন্টে দেখবেন, জনৈক ছাগুবান্ধব রিয়াজুদ্দিনকে নিয়ে একটি সচিত্র ব্যাখ্যা আঁকায় সিরাতের প্রতিক্রিয়া। ঐখানেই বোঝা যায়, এত এত সস্নেহ পরামর্শের ভিড়ে কোন পার্টিকুলার সাপোর্ট সিরাত বেছে নিয়েছে।

মিষ্টি কথার গুল্লি মারি। সচলে ছাগ্লামি দেখলেই ডলা। আমরা এইখানে ছাগল পালার জন্য দিনের একটা বড় সময় ব্যয় করি না। ছাগ্লামির জন্য দ্য হোল ওয়াইড ওয়ার্ল্ড ইজ আউট দেয়ার। পিরিয়ড।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

হাসিব এর ছবি

উপরের কিছু মন্তব্য পড়লাম এখন । মনে হলো সচল একটা ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট যেখানে বাচ্চারা টয়লেট ট্রেনিং নেবে । সিরাত এতোগুলো ট্যাগিং করাতেও ট্যাগিং নিয়ে উদ্বিগ্ন জনগণকে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করতে দেখে মজা পেলাম বেশ ।

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

@হিমুঃ
অনুমান করতে পারি আপনি অনেক বছর ধরে ব্লগিং করেন। সেই হিসাবে যুক্তিতর্কের উপর নিজের দখল নিয়ে আপনার আরেকটু আত্মবিশ্বাস থাকলে সেটা আপনার সুলেখক চরিত্রটার সাথে মানানসই হত। সেক্ষেত্রে আপনি মডারশনে আপনার প্রভাব ব্যবহার করে যুক্তির দৈন্য ঢাকার রাস্তায় যেতেন না। আপনি সচলায়তনের কর্তৃপক্ষীয় বা খুব কেন্দ্রের কেউ। কিন্তু পুলিশ যদি নিজেই চুরি করে তাইলে ধরার কেউ নাই। এইটা আর যাই হোক ফেয়ার গেম না। আমার মত "জনৈক ছাগুবান্ধব রিয়াজুদ্দিনের" পিছনে আপনার অধ্যাবসায়ের মধ্যে আরেকটু সোজা রাস্তায় ফেয়ার কায়দায় আগানর লক্ষন দেখব আশা করছিলাম।

সাধারন কিছু পর্যবেক্ষনঃ (নির্দিষ্টভাবে হিমুকে উদ্দেশ্য করে নয়)
একটা বিষয় বড়ই খাপছাড়া, একদিকে আমাকে আপত্তিকর ট্যাগিং করছেন কিছু ব্লগার। যতই অগ্রাহ্য করি গায়ে কাদা লাগলে বিরক্তি লাগেই এটুকু অস্বিকার করব না। সচলায়তন সে ব্যপারে নিশ্চুপ মানে হিমুর এই বিশেষন প্রয়োগ সচলায়তনের নীতির পরিপন্থী নয়। কিন্তু যেই লোককে এমন ভাবে প্রত্যক্ষ আপত্তিকর বিশেষনে ডাকা বৈধ সে আবার সচলায়তনে একাউন্ট নিয়ে লেখালেখি করে কিভাবে (আমার কথা বলছি)? এই বৈপরিত্যর ব্যপারে সচলয়াতন কর্তৃপক্ষের কি কিছু বলার আছে? দশ বছর আগে পরপারে চলে গেছেন তাকেও নির্দ্বিধায় ট্যাগিং করলেন এই মহান ট্যাগিং বিশেষজ্ঞ, আর আমিও বেক্কলের মত আমার বাবাকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করলাম তাও এই একজন কাপুরুষ ট্যাগিং পান্ডবের সামনে।

এই পোস্ট সম্পর্কেঃ
এইখানে নিতশে রে নিয়া পান্ডবদা চারটা লিংক দিলেন যার দুইটাই আসলে পান্ডবদার বক্তব্যকে সাপোর্ট করে না। বাকি দুইটাও যথেষ্ট আলোচনার দাবি রাখে। আর বাকি যেই বিষয় গুলা আমি উত্থাপন করলান বিদগ্ধ সচলেরা সেগুলা নিয়াও কিছু বললেন না। যেন কিছুই হয় নাই। এইটা টেকেন ফর গ্রান্টেড হইল যে নিতসের প্রকৃতিপ্রেম নিয়া পাব্লিকলি কথা বলা যাবে না। এইখানে বিস্তর কমেন্ট আদান প্রদান হলো কিন্তু পান্ডবদার দেয়া দুই নম্বর লিংকটা কি কেউ পড়ছেন? অথবা তিন নম্বরটা? সেগুলা আসলে কি বলে? এইগুলা তে এংগেজ না হইয়া কেউ কেউ ব্যক্তিগত আক্রমন করলেন সিরাতকে আর বাকিরা নিজদের বয়স আর ম্যাচুরিটির দোহাই দিয়ে একগাদা উপদেশ দিলেন। সবার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়েও বলতে বাধ্য হচ্ছি এইটা ভীষন হতাশা ব্যঞ্জক একটা চিত্র। গাছের সৌন্দর্যের খুটিনাটি দেখতে গিয়ে বাকি বন যে উজার হয়ে যাচ্ছে সেটাকি খেয়াল করছেননা কেউ? আমার পর্যবেক্ষন ভুল হলেই খুশি হতাম।

একটা ইন্টারেস্টিং ধারনার কথা জেনেছিলাম এক জাপানি বন্ধুর (জাপানি বন্ধু থাকাটা আবার দোষনীয় নাত!) কাছে। হিমুসাহেব যেমন সবকিছুর মধ্যে একটা চতুষ্পদ জন্তুর ছায়া দেখতে পান হয়ত আমিও সেরকমই আরেকটা রোগে আক্রান্ত তাই কেইন্সিয়ান বিউটি কনটেস্টের ধারনা টার সাথে অনেক কিছুর মিল চোখে পড়ছে আজকাল। বিশেষ করে এই পোস্ট দেখে এই ধারনা বদ্ধমূল হল। এইখানেও এটা আমার একটা বুদ্ধির দৈন্যপ্রসুত ভ্রান্ত ধারনা হলেই ভাল হত।

এইখানে আমি সিরাতকে ডিফেন্ড করতেসিনা। আমার মনে হয় নিজেকে ডিফেন্ড করার ব্যপারে সে আমার চেয়েও অনেক বেশি ইন্সস্ত্রুমেন্টাল বা পারঙ্গম এবং সেটা সে ভাল ভাবেই করসে। বিশেষ কইরা হিমুসাহেব যখন যুক্তিতর্ক বাদদিয়া ট্যগিং এর রাস্তায় হাটেন তখন সেইটাই প্রমান হয়।

এই কথাগুলা বলতে হচ্ছে কারন আমার নাম উল্লেখ করা হচ্ছে বারবার। আমাকে বাক্সে বন্দি করার জন্য যাদের ঘাম ঝরে যাচ্ছে তাদের কষ্ট কমানর জন্য বলিঃ

"যারা যুদ্ধাপরাধীর বিচারের ধোয়া তুলে কেবল নির্বাচনে আওয়ামীলিগের ভোটের হিসাবটাকে পোক্ত করতে চান তাদের দলে আমি নাই। কারন এই হিসাবটা সমান হইলেই আর যুদ্ধাপরাধের বিচারের ডাকে তাদেরকে পাওয়া যাবে না। আমি বাংলাদেশের বেকুব শ্রেনীর পাবলিকদের মতই যারা এইসব দলিয় রাজনীতিকে অপছন্দ করে আর এই সব কায়েমি স্বার্থ থেকে নিজেদেরকে শতহাত দূরে রাখতে চায়। আমার চাওয়া হচ্ছে একটা শক্তিশালি রাষ্ট্রে শক্তিশালি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যেখানে "ন্যায়বিচার কি?" দলীয় এফিলিয়েশোন দিয়ে ঠিক হয় না।"

নিজের বেকুবির একটা ঘটনা মনে পড়লঃ
বুয়েটে একবার সময়মত পরীক্ষার দাবিতে মিছিল করছিলাম। দারুন অভিজ্ঞতা। সম্ভবত এই ধরনের মিছিল সেবারই প্রথম ছিল। হঠাৎ ছাত্রদলের কিছু ক্যাডার শ্রেনীর ছেলে সেখানে গায়ে ধাক্কা দিয়ে ঝগড়া বাঁধানোর চেষ্টা করছিল। ছাত্র মৈত্রি বা ফ্রন্টের কোন একটা ছেলেকে ধরে আলাদা করে ফেলেছিল সেই ক্যাডার পুরো দলথেকে। আমি বোকার মত আগায়ে যাচ্ছিলাম সেই ক্যাডারের হাত থেকে সেই ছাত্রকে বাঁচাতে (যদিও তাকে চিনতামনা) কারন আমি দেখেছিলাম সে নির্দোষ। কিন্তু ভীরের মধ্যে আগাতে পাড়ছিলাম না। শেষ পর্যন্ত আর যাওয়াই হল না। পরে সেদিনের মত মিছিল শেষ করার পর যখন হলে ফিরলাম জানলাম আমাকে পেছন থেকে জামা টেনে ধরে রাখা হয়েছিল। আমিত তাজ্জব, ঘটনা কি? তখন আমার তিন ক্লাসমেট বন্ধু ছাত্রলীগের ২ জন ছাত্রদলের ১ জন (বলা বাহুল্য সেই মিছিলে ছাত্রদলের নন-ক্যাডার সমর্থক ছেলেও ছিল কিছু)। তারা বলল তুমি দোস্ত রাজনীতিটা বুঝনাই। তারাত আসছিলই একটা ঝগড়া পাকাইতে। তাইলে পরীক্ষাটা পিছায় আর আমাদের মিছিলের উদ্দেশ্যটাই মাটি হয়। এইখানেও দুই একজন শূভাকাংখি আমার জামাটেনে ধরেছিলেন। কিন্তু মনে হয় ধরাটা শক্ত ছিলনা। তাই এখানকার কিছু ক্যাডারদের সাথে বিতন্ডায় জড়িয়ে গেলাম। নতুন একটা অভিজ্ঞতা বলতে হয়।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

একটা বিষয় নিয়ে আমার জানার আগ্রহ (বাদবাকির কন্টেক্স্ট আমি জানি না, আর সেগুলার উত্তরও অন্যরা দেবেন)। কিন্তু -

যারা যুদ্ধাপরাধীর বিচারের ধোয়া তুলে কেবল নির্বাচনে আওয়ামীলিগের ভোটের হিসাবটাকে পোক্ত করতে চান তাদের দলে আমি নাই।

এইটার বিস্তারিত বোঝার প্রয়োজনবোধ করছি। অন্যের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়াতে পারেন, কিন্তু আমার সাথে আশা করি বরাবরের মত যুক্তি দিয়েই কথা চলবে।

আপনি "যারা যুদ্ধাপরাধীর বিচারের ধোয়া তুলে কেবল নির্বাচনে আওয়ামীলিগের ভোটের হিসাবটাকে পোক্ত করতে চান" এই দলে না। আপনি তো একটা শক্তিশালি রাষ্ট্রে শক্তিশালি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পক্ষে যেখানে "ন্যায়বিচার কি?" দলীয় এফিলিয়েশোন দিয়ে ঠিক হয় না, কিন্তু সেটা অবশ্যই ন্যায়বিচারের পক্ষে তাই না? আর যুদ্ধাপরাধের বিচার তার একটা অংশ? একটা দল এটাকে ব্যবহার করে দেখে এটা আর ন্যাবিচারের দাবী থাকবে না, তা নিশ্চয়ই না। যদি মানেন, তাহলে আপনার এই লেখাটার কন্টেক্স্টও বুঝি নি।

আর "শক্তিশালি রাষ্ট্রে শক্তিশালি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো"র এই শক্তিটার রূপটা ঠিক কি রকম? শক্তির দরকার কেন?

প্রশ্নগুলো যৌক্তিক আলোচনার খাতিরে। ইচ্ছা না থাকলে উত্তর করার দরকার নাই, মাইন্ড খাব না।

----------------------------------
~জীবন অনেকটা জড়ই, কিন্তু অনন্য!~

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

সিরাতের কাছে ক্ষমা চেয়ে এই মন্তব্যের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। এর আগেও আমি সিরাতের পোস্টে অফটপিক বিষয়ে আলোচনা শুরু করে দিয়েছিলাম। সেজন্যেও এই যাত্রা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

আমি যেমনটা বুঝি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে নানাগোষ্ঠীর নানা মত আছে। তবে যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান বা চাইবার ভান করেন এদের মধ্যে দু'টি গোষ্ঠী আছে। একটা গোষ্ঠী (আমার পর্যবেক্ষনে) কেবল এই কারনেই যুদ্দাপরাধীদের বিচার চান যে এতে করে জামাতের রাজনীতি বন্ধ করা গেলে আওয়ামীলিগের ভোটের হিসাবে সুবিধা হয়। এতে আমার বিশেষ কোন আগ্রহ নেই। দলিয় স্বার্থে সেটা কোন কোন দিক থেকে ঠিকই আছে। তবে আমি মনে করি যুদ্ধাপরাধের বিচার এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটা দাবি। যারা মনে করেন জামাতের রাজনীতি বন্ধ হওয়া আর যুদ্ধাপরধের বিচার একই মাপে দরকার তাদের সাথে এইখানে আমার একটা দ্বিমত হয়েছে। সেটা যতটা না নীতিগত তারচেয়ে বেশি কৌশলগত। সচলায়তনের নীড়পাতায় যুদ্ধাপরাধের বিচার কিভাবে সেই পোস্টটা দেখতে পারেন (উপরে বাম পাশে লিংক ঝোলান আছে)। কন্টেক্সট বুঝতে সুবিধা হতে পারে।

যুদ্ধাপরাধীর বিচার অবশ্যই ন্যায়বিচারের একটা অংশ। কিন্তু দেখার বিষয় যে যুদ্ধাপরাধীরা এখন প্রায় সব দলেই মিশে গেছে। এখন দলিয় হিসাবে যদি যুদ্ধাপরাধী টার্গেট করার চেষ্টা করা হয় তাহলে বিএনপি আর আওয়ামি লীগের মধ্যে যদি যুদ্ধাপরাধীরা থাকে তারা বেচে যায়। জামাতের রাজনীতি অনাকাংখিত খুব ভাল কথা। যুদ্ধাপরাধের বিচার করলেও যদি এরা রাজনীতি করে বেচে বর্তে থাকে তাহলে যারা অবাক হবেন তাদের মধ্যে আমিও একজন। কথা হচ্ছে সচলায়তনে একটা জনপ্রিয় থিম আছে যেমন 'বরাহশিকার' সচেতনতার খাতিরে খারাপনা, কিন্তু এখানে আবার সেই ক্যাডার বাজির মত ব্যপার আছে। সেটা আমার ভাল লাগেনি। চুপ করেই ছিলাম কিন্তু সচলের ক্ষমতাশিল দের হেজমনির উদাহরন টানতে বুঝাতে একবার বলেই ফেলেছিলাম। (সেই থেকে অনেকের ভোকাবুলারিতেই এই হেজমনি শব্দটা ঢুকে গেছে; সত্যি বলতে গেলে সচলিয় শব্দ হিসাবে এর প্রবর্তন আমার খারাপ লাগেনি; একবার ভাবসিলাম হেজমনি ধারনাটার ব্যাখ্যা করে একটা পোস্ট দিব, কিন্তু এই মজাটা নষ্ট করার ইচ্ছা হয়নাই) এখন শিবির আর ছাত্রলীগের মধ্যে যেই সব টিট ফর ট্যাট চলছে সেগুলো দেখলেই হয়ত আমার বক্তব্য পরিষ্কার হবে। সচলায়তনেও দেখা যাবে এই বিষয়ে শিবিরকে ঠ্যাঙ্গাতে না পারার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ি করা হচ্ছে। দুঃখনক হচ্ছে এই সচলায়তনে অনেকে মনে করেন একজন শিবির সমর্থককে যদি নিজহাতে মারা যায় সে যেন পুন্যের কাজ।

আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধের সুবাদে আমরা একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছি সেটাকে রাষ্ট্রে পরিনত করতে হবে। আর দেশকে রাষ্ট্রতে পরিনত করতে হলে এর অন্তর্গত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালি করতে হবে। শিবিরকে কেন আমার বা আপনার পেটাতে হবে। আজকে রাষ্ট্র শক্তিশালি হবার স্বপ্নের মানে হল এমন একটা পরিবেশ যেখানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারিদের ফাঁসি বিচারের নিজস্ব নিয়মে হবে এটা আশা করতে পারা। বিএনপি চাইলেই যেন সেটা ঝুলিয়ে দিতে না পারে। আমি মনে করি রাজনীতিতে আমাদের চেষ্টা যদি রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের অন্তর্গত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালি করার দিকে আসত তাহলে ন্যায়বিচারের হাত ধরেই যুদ্ধাপরাধের বিচার হত।

শক্তির দরকার এজন্য যাতে কে ক্ষমতায় আসল গেল তার উপর যেন ন্যায়বিচারের সংজ্ঞা নির্ভর না করে। ছাত্রলীগের ক্যাডাররা শিবিরের ক্যাডরকে মারলেও তাকে যদি আদালতে সম্মুখিন হতে হয় (এবং ভাইস ভার্সা) তবে সেটা হচ্ছে ন্যায়বিচার। যদি শিবির নিষিদ্ধ হয় সেটাও বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। জানিনা আপনার প্রশ্নগুলোর সদুত্তর হলো কিনা। যদি মনে করেন আপনার কোন প্রশ্ন না বুঝে উত্তর দিয়েছি তাহলে প্রশ্ন পরিষ্কার করতে পারেন। [আলোচনাটা চাইলে ফেসবুক বা ইমেইলেও rz_uddin এট yahoo.comহতে পারে]। আমি একটু ক্লান্ত এই বিষয়টা নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমন সামাল দিতে দিতে। তাই আপাতত কাউকে বিতন্ডা শুরু করার শুরু করার সুযোগ দিতে চাইনা। আশা করি আপনি বুঝতে পারবেন।
তবে আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।

হিমু এর ছবি

আপনি ১৯৭১ সালে বেঁচে থাকলে বলতেন, পাকিস্তানী আর্মির বিরুদ্ধে আপনাকে বা আমাকে যুদ্ধ করতে হবে কেন? এমন একটা শক্তিশালী রাষ্ট্র বানাতে হবে, প্রতিষ্ঠানগুলি এমন শক্তিশালী করতে হবে যাতে ইয়াহিয়াই যেন টিক্কা খানের বিচার করে।

আপনার মোদ্দা কথা হচ্ছে যা-ই হোক না কেন, জামাতকে হয়রানি করা যাবে না।

জামাতের রাজনীতি বাংলাদেশের জন্মের এক বছরের মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সংবিধানের মাধ্যমে। পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে বিচার বিভাগ একে প্রকারান্তরে পুনরায় নিষিদ্ধ করেছে। গায়ের জোরে কেউ করেনি।

এইবার খুব বেসিক প্রশ্ন, জামাতের রাজনীতি বন্ধ হলে আপনার জ্বলে ক্যান?

ছাগুবান্ধব রিয়াজ সাহেবের কাছে উত্তর আশা করবো।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সিরাত এর ছবি

রিয়াজ ভাই,

আপনি হিমুভাইয়ের সাথে এটা নিয়ে ই-মেইলে আলোচনা করে সেটার বেসিসে একটা সামারাইজড পোস্ট দেন। আমি শিওর আপনি বুঝবেন কেন এই অনুরোধটা করলাম। চোখ টিপি

এইটা ব্যক্তিগত অনুরোধ, না মানলে নাই।

হাসিব এর ছবি

খোলা ময়দানে আলাপ আলোচনা করতে অসুবিধা ?

হাসিব এর ছবি

আসলে ৭১ সালে ২৬শে মার্চ সকালে আমাদের সবার প্রথম প্রেসক্লাবের সামনে একটা বিজ্ঞানসম্মত মানববন্ধন করে পুরান ঢাকার মেজিস্ট্রেট কোর্টে আইনসম্মত উপায়ে একটা ফৌজদারি মামলা ঠোকা উচিত আছিলো । তা না করে এইসব ফ্যাসিবাদি বাঙ্গালিরা অবৈজ্ঞানিক ও বেআইনি "গন্ডগোল" শুরু করে দিলো !

হাসিব এর ছবি

যারা মনে করেন জামাতের রাজনীতি বন্ধ হওয়া আর যুদ্ধাপরধের বিচার একই মাপে দরকার তাদের সাথে এইখানে আমার একটা দ্বিমত হয়েছে।

কেনু কেনু ? জামাত যে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারি একটা দল সেইটা কি ভুলে গেছেন নাকি ? আর জামাত টিকায় রাখা মানে তাদের ঐ পৈশাচিক আইডিওলজিরে বাড়তে দেয়া । ঐটার সুযোগ দেয়া উচিত বলতে চান ?

জামাতের রাজনীতি অনাকাংখিত খুব ভাল কথা। যুদ্ধাপরাধের বিচার করলেও যদি এরা রাজনীতি করে বেচে বর্তে থাকে তাহলে যারা অবাক হবেন তাদের মধ্যে আমিও একজন।

হে হে হে । রগকাটা সংস্কৃতি ওদের কয়েকটা নেতারে ঝুলালে উঠি পাবে এই ধারনাটা বিনোদনমূলক ।

সচলায়তনেও দেখা যাবে এই বিষয়ে শিবিরকে ঠ্যাঙ্গাতে না পারার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ি করা হচ্ছে।

৮৮ নাম্বার মন্তব্যে সিরাতরে উপরে একটা অনুরোধ করতে গেছিলাম । কি মনে কৈরা করি নাই । অনুরোধটা হৈলো নিজের বাচাল জিহ্বা আর কারো মুখে প্রতিস্থাপিত করতে না চেষ্টা করা । এইখানে আপনি কোন সচল এই জাতীয় কাজ করবে এইটা কিভাবে মনে হৈলো ?

যদি শিবির নিষিদ্ধ হয় সেটাও বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

এই হাইকোর্ট দেখানো জামাতিদের পুরনো কৌশল । ৫ম সংশোধনি বাতিল হয়ে খুব ঝামেলা হয়ে গেলো দেছি মন খারাপ

রিয়াজ উদ্দীন এর ছবি

এইখানে আপনি কোন সচল এই জাতীয় কাজ করবে এইটা কিভাবে মনে হৈলো ?

এইট আসলে ভবিষ্যত কালের কথা না বর্তমান বা ঘটমান অতীতের কথা।
নীড় সন্ধানীর এই পোস্টটা এবং মন্তব্যগুলা একটু দেখেন। কিছু পাইলেও পাইতে পারেন।

বাকি ব্যপারগুলাতে আপনাদের জ্ঞান অনেক বেশি। কাজেই মনমত প্রজেকশন করে নেন। আমার বক্তব্য যদি বোধগম্য নাও হয় আপাতত এই কাসুন্দি ঘাটার আমার ইচ্ছা নাই। ধ্রুব বর্ণনের প্রশ্নের উত্তরটা দেয়া দরকার মনে হল দিলাম। সেখানেই বলেছি এই বিষয়ে বিতন্ডা শুরু হোক এটা আর চাচ্ছি না। যেটা বলার দরকার ছিল সেটা বলেছি। এখন আপনাদের দেয়া ট্যাগ থেকে নিজেকে বা আমার পরিবারকে বাঁচাতে হলে আরো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে? না সেই রাস্তায় যাবার বাসনা নাই।

হাসিব এর ছবি

এখন আপনাদের দেয়া ট্যাগ থেকে নিজেকে বা আমার পরিবারকে বাঁচাতে হলে আরো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে?

নারে ভাই । অলরেডি কেপিটেস্ট পজিটিভ কাউরে নতুন করে কিছু প্রমানের তকলিফ সহ্য করতে বলবো না ।
(ট্যাগবিরোধি আন্দোলনের কর্মিরা আইজকা আমারে মাইরাই ফেলবে মন খারাপ )

তয় ভাই আপনি আরো বেশি বেশি কমেন্ত করেন । ব্যাপকস হয় আপনার কমেন্তগুলান ।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

অলরেডি কেপিটেস্ট পজিটিভ কাউরে নতুন করে কিছু প্রমানের তকলিফ সহ্য করতে বলবো না ।

সেটাই।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

পদ্ধতি নিয়ে চলমান আন্দোলনের কিছু ব্যাপারে আপনার ভালো না লাগা আছে। কিন্তু নীতিগতভাবে আপনি একমত। পার্থক্যগুলো মিটমাট করার জন্য, এ নিয়ে যুক্তিতর্ক করার জন্য সচলায়তনের চেয়ে ভালো জায়গা থাকার কথা না। আমি পাই নি। এখানে অধিকাংশ সময় সবাই যুক্তির বশবর্তী থাকে।

"কীভাবে" এটা একটা জটিল প্রশ্ন। কেউ আসলে খুব পরিষ্কারভাবে জানে না, কীভাবে। তবে জানার চেষ্টা করছেন। সেখানে একজনের চিন্তার ফলাফল আরেকজন থেকে ভিন্ন হতে পারে। "কীভাবে", সেটা সংক্রান্ত বিকল্প ধারণাগুলো নিয়ে নিশ্চয়ই এখানে আলোচনা/কথা বলা যায়। এরকম না ভাবলেই চলে যে এখানে অল্প কিছু মানুষই কেবল পদ্ধতি নির্ধারণের কর্তা, বাকিরা কেবল তার অনুসরণকারী। মানুষের বলার টোন ভিন্ন। কিন্তু সবাই আসলে বোঝার চেষ্টা করছেন। সবাই এখানে তার মতামত রাখছেন। আপনি রাখছেন। তবে আলাপ আলোচনায় কোনো বিশেষ বক্তব্য থেকে কোনো ভুল বার্তা প্রকাশ পাচ্ছে কিনা এই প্লাটফর্ম থেকে, সেটাও অনেকের কনসার্ন। এটার সমাধান আমি জানি না।

আমার আপাত ধারণা, নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা দোষের না। বিশেষ করে কমিউনিটি ব্লগিং এর যে প্লাটফর্মের অধিকাংশ মানুষের অজস্র ধ্যান-ধারণা, অনুভূতি অনেক কাছাকাছি। অনেক সচলকে দেখি তাদের ধারণার ভিন্নতাগুলো নিয়ে ব্যাপক তর্ক করছেন, তারপরেও পরদিন মিলেমিশে আছেন। মনোমালিন্য হয়ে গেলে তো পুনরায় যুক্তি-তর্কে আগ্রহ পাওয়া কঠিন। কিছু মিল আছে বলেই হয়ত মনোমালিন্য ওসব ক্ষেত্রে শেষমেশ ঘটে না। সম্ভবত মিলগুলো স্পষ্ট না হলে ভিন্নতাগুলো ঘনিষ্ঠতা হারায়।

ভাববেন না আপনাকে উপদেশ দিচ্ছি। আমি কেবল আমার ধারণাগুলো বলছি। আপনার লক্ষ্য আর পূর্বানুমান অনুযায়ী আপনি আপনার ক্রিয়া বাছাই করবেন আপনার এভেলেবল অপশন থেকে। এই এভেলেবল অপশন সেটের কার্ডিনালিটি রিডিউস না হওয়ার সংক্ষিপ্ত নাম যদি হয় স্বাধীনতা, তবে সেটা অটুট আছে দেখে আমি আনন্দিত হাসি । আপনি আমার উত্তরগুলো দেবার চেষ্টাই করেছেন। আপাতত তাই আর জিজ্ঞাসা নেই। এই যাত্রা ক্ষান্ত দেই।

----------------------------------
~জীবন অনেকটা জড়ই, কিন্তু অনন্য!~

হিমু এর ছবি

আবারো হাই তুললাম এই পোস্টে।

আপনার কথা শুনে মাঝে মাঝে মনে হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্য জামায়াতে ইসলামিকে ভোটের বৈতরণী পার করে আনতে হবে।

আপনি যে কীভাবে এইখানে এখনও আছেন এতো ছাগুবান্ধবতার পর, সেটা আপনার আর মডারেশনের কাছে আমারও প্রশ্ন।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

মূলত পাঠক এর ছবি

এতো মন্তব্যের পরে আর বলার বিশেষ কিছু থাকে না, লেবু কচলে তেতো হয়ে গেছে। এই গিয়ানজাম থেকে বেরিয়ে এসে নতুন লেখা দাও সিরাত, পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

সিরাত এর ছবি

সকল মন্তব্যকারীকে অনেক ধন্যবাদ, কিছু মন্তব্যকারীকে বিশেষ ধন্যবাদ। আমি প্রতিটি মন্তব্য কম করে হলেও দু'বার পড়েছি। হাসি

যারা ই-মেইল বা মেসেজ বা চ্যাট করেছেন, তাদেরও। আমি ভাবসিলাম একটু দূরে থাকুম, কিয়ের কি, রক্ষা নাই! অফিস, জিমেইল, ফেসবুক। এইটা একটু চিন্তারই বিষয়। মন খারাপ 'বদনিশা'। মন খারাপ বেস্ট হইতো সচলায়তন আমারে বের টের করে দিলে। দেঁতো হাসি

গতকাল এ নিয়ে বেশ কিছু চিন্তাও করেছি। আপনাদের মন্তব্যে আমার 'উন্নতি'-ও হয়েছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তবে হয়তো সকলের আশানুরূপভাবে সবক্ষেত্রে নয় (অনেকে চেয়েছেনও তো কন্ট্রাডিকটরি জিনিস চোখ টিপি )। সামনে হয়তো দেখা যাবে কি হল।

যারা আমার মন্তব্যে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, যৌক্তিক বা অযৌক্তিক যেই কারণেই করে থাকি - ভাই, আই অ্যাম সরি। ধরেন আমি বা আপনি যদি কালকে মইরা যাই? তাইলে? এই একটু ঝগড়া-ঝাঁটি, মারামারি - এসবই তো জীবনের মজা, তাই না?

আমিও কয়েকজনের মন্তব্যে আঘাতপ্রাপ্ত হইসি, কিন্তু কি আর, আঘাত ছাড়া আনন্দে মজা কি? আর এগুলি আসেও একই বান্ডিলে।

এইসব বিষয়ে নিয়েৎশে সাহেবের ভাল কয়েকটা উক্তি ছিল, কিন্তু ল্যাপটপটা হ্যাং করলো আবার। হাসি থাক!

সাবিহ ওমর এর ছবি

রিঙ্গা রিঙ্গা রোসেস
আ পকেট ফুল অফ পসিস
নিটশা! নিটশা!
উই অল ফল ডাউন!

ফরিদ এর ছবি

নিটশা পড়িনাই মাগার এইটা মনে হয় খারাপ ফিট করেনা এইখানে ।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।