Warning: Invalid argument supplied for foreach() in _fb_social_comments_seo_view() (line 304 of /var/www/sachalayatan/s6/sites/all/modules/fb_social/plugins/fb_plugin/comments.inc).

আপডেটেড: ব্ল‌্যাক সোয়ান ইভেন্ট

সিরাত এর ছবি
লিখেছেন সিরাত (তারিখ: মঙ্গল, ২৬/০৭/২০১১ - ১০:১৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নাসিম তালেবের 'দ্য ব্ল‌্যাক সোয়ান' বইখান পড়ে আমার মনে হয়েছে, ব‌্যাটা যদি দু'লাইন পর পর অর্থনীতিবিদদের গালি না দিতো, আর নোবেল পুরষ্কারকে 'নো বেইল' পুরষ্কার না বলে বেড়াতো, পুরষ্কারখানা তার নিজের হলেও হতে পারতো! হাসি

এমি ওয়াইনহাউসের মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে সম্প্রতি একটা আলোচনায় জড়িয়েছিলাম। বেশি বিস্তারিত না বলে এদ্দূর বলা যায়: শিল্পস্রষ্টাকে নিয়ে আমার আগ্রহ শিল্পের থেকে অনেকক্ষেত্রেই বেশি হয়ে যায় একপর্যায়ে (ওয়াইনহাউসের জীবনযাপন নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু আপত্তি আছে)। জোনাথান ফ্রানজেন পড়ে মুগ্ধ হয়ে লোকটার জীবন নিয়ে গবেষণা করতে করতে আবিষ্কার করে ফেললাম ডেভিড ফস্টার ওয়ালেস আর ডন ডিলিলোকে; ফস্টার ওয়ালেসের সৃষ্টির থেকে ব্যক্তি লেখক নিজে অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং হয়ে উঠেছিলেন। একই জিনিস দেখছি নবকুমার বসুর 'চিরসখা' আর শরদিন্দুর ঐতিহাসিক উপন‌্যাসগুলো পড়তে গিয়ে। চোখ টিপি

তালেবকে নিয়ে আমার মোটামুটি সেরকম আগ্রহ হয়েছিল। এর অনেকটাই মিটেছে ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েলের 'হোয়াট দ্য ডগ স' রচনা-সংগ্রহ পড়ে। তাছাড়া বইটিতে তালেব নিজেও লেবাননের গৃহযুদ্ধকে ব্ল্যাক সোয়ান বোঝাতে গিয়ে নিজের জীবন নিয়ে বেশ বলেছেন। ভদ্রলোকের লেখার ধরণ দারুণ লিটারারি; পড়তে বেশ রসময়, যদিও ডানে-বামে গালির ফোয়ারা; বেশ আক্রমণাত্মক। কেন ভদ্রলোক এই বইটা লিখলেন, তা নিয়ে সামনে একটু বলার ইচ্ছাও রইলো। কিন্তু এখন মোদ্দাকথা - তালেব হেব্বি ইন্টারেস্টিং একজন লোক! হাসি

*

ব্ল‌্যাক সোয়ান বইটা বুঝতে আমার এখনো বাকি আছে। তালেব মোটামুটি এক বড়মাপের দার্শনিক। তবে সব দার্শনিকেরই দার্শনিক হয়ে ওঠার পিছনে কিছু কারণ থাকে। সেটা পড়ে কমু (নবকুমার বসু পড়ে আমার বারে বারে মনে হয়েছে সাহিত‌্যিকভাবে 'পূর্ববঙ্গীয় ভাষা' ব‌্যবহার গুরুত্বপূর্ণ; জাস্ট একটা সাপোজিশন; কেউ চেইতেন না; কমুর কৈফিয়ৎ আর কি!)।

যা বুঝলাম তা থেকে এট্টুক বলি:

ব্ল্যাক সোয়ানের ডোমেইন হল 'অজানা অজানা', 'আননোন আননোন'।

নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকেই একটা উদাহরণ দেই।

আমার আগামী ৩১ তারিখ রাত সাড়ে নয়টায় ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে ১ তারিখ সকাল আট-টায় নিউ ইয়র্কে পৌঁছার কথা। এটা 'ঘটনা'।

আমি মনে করি এটা সফল হওয়ার সম্ভাবনা ৯০% এর মত। ১০% চান্স সফল হবে না। আমি প্রথম বিশ্বের নাগরিক হইলে চান্সটা হয়তো ৯৫% হইতো। যাউকগা।

১০% এর মধ্যে মেজর ধরা খাওয়ার চান্স নিম্নরূপ:

১। ঢাকা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সমস‌্যা (আমি একটা ব‌্যাকপ্যাক নিয়া ঘুরি, আর এসি মিলানের গেঞ্জি বা ফতুয়া-জিনস নিয়া; ছোট সাইজ দেখে লোকজন পাত্তা দেয় না, আর একটা ব্যাকপ্যাক দেখে গোলমাল পাকায়! গতবার ড্রাগনএয়ার হুদাকামে পেইন দিসিলো; বেসিকালি ঘুষ চেয়ে বসছিল মনে হইলো; এবার এমিরেটস কি করে দেখি।)

২। দুবাই বিমানবন্দরে সমস‌্যা (দুই ঘন্টার ট্র্যানজিট; অল্প সমস‌্যাতেই প্লেন খোয়াবো।

৩। আমেরিকায়/ জেএফকে ইমিগ্রেশন ইত্যাদি সমস‌্যা। তোমারে দিমু না ঢুকতে, মনোয়ার হোসেন নাম ব্ল্যাকলিস্টেড। যাহোক এন্ডারস বেহরিং খ্রিস্ট-কায়েদাগিরি করে আর লাদেনমামু মরে আশা করি উপকার করেছেন। তবে কাগজপত্র সিলছাপ্পড় নিয়ে গোলমাল লাগলে ব্যাপক মুশকিল।

ব্ল্যাক সোয়ান পড়ার আগ পর্যন্ত এগুলি মোটামুটি ছিল আমার 'জানা অজানা'। সারফেসের এক পরত তলে প্লেন ক্র্যাশ, হাইজ্যাকিং এগুলোও মাথায় ছিল; ধরেন সব মিলায় তিন সেকেন্ড। এগুলিকে অজানা অজানা আর জানা অজানার মধ‌্যে ফালায় দেই।

এবার অজানা অজানা?

ধরেন এইফালাকুলের মত আবার কোন আগ্নেয়গিরি ছাই আর ধোঁয়া ছাড়া শুরু করলো? এবার ধরেন কাতলা - আইসল্যান্ডেরই, এইফালাকুলের আব্বা?

ধরেন ঢাকা এয়ারপোর্টে যাইতে গিয়ে আমার গাড়ি এক্সিডেন্ট করলো?

ধরেন কালকে গোসল করতে গিয়া পা পিছলায় কমোডে মাথা ঠুকে রক্তক্ষরণ হয়ে আমি হাসপাতালে?

ধরেন আমার মা-র কালকে স্ট্রোক হইলো?

মন খারাপ

হাসি

জীবন বড়ই ভঙ্গুর রে ভাই!

ধরেন ঢাকায় কালকে একটা ভয়াব‌হ ভূমিকম্প হইলো? আমার ফ্ল্যাট ধইসা গেল, বা এয়ারপোর্টের রানওয়ে ফাইটা গেল?

আমার ব্ল্যাক সোয়ান পড়ে এই কারণেই পুরা প্যারাডাইম শিফট হয়ে গেসে!

*

আজকের মত যাওয়ার আগে, ডেভিড হিউমের এই মন্তব‌্যটা একটু মনোযোগ দিয়ে পড়েন: হাসি

"No amount of observations of white swans can allow the inference that all swans are white, but the observation of a single black swan is sufficient to refute that conclusion."

১৭৯০ পর্যন্ত সব রাজহাঁস ছিল সাদা।

তারপর আসলো অস্ট্রেলিয়া। ভিক্টোরিয়া। হাসি

ব্ল্যাক সোয়ান।

*

লক্ষ‌্যণীয়:

১। আমার উপরের লেখায় *প্রকৃত* অজানা অজানা-র কোন উদাহরণ নেই। থাকলে সেটা আমার হাইপোথেসাইজ করতেই কষ্ট হতো। তবে আমার মতে এখানেও একটা কন্টিনাম কাজ করে; সম্ভাব্যতার।

২। ব্ল্যাক সোয়ানকে পরিসংখ্যানের ভাষায় 'ফ্যাট টেইল' তত্ত্ব দিয়ে অনেকটা কাভার করা যায়। (কৌস্তুভ কই? চোখ টিপি )

৩। নাসিম নিকোলাস তালেব একজন লেবানিজ গ্রিক অর্থোডক্স খ্রিষ্টান।

৪। ব্ল্যাক সোয়ানের আসল এপ্লিকেশন বড় নাম্বার নিয়ে; মানবজীবন এদিকদিয়ে 'প্রয়োগের' ভাল ফিল্ড নয়। সে বিষয়ে সামনে আসবে। উদাহরণস্বরূপ আমি ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আমার জীবনে ব্ল্যাক সোয়ান ইভেন্ট হবেই। নাসিম তালেব গ্যারান্টি নিতেন/ অপশন কিনতেন যে গোলমাল একটা লাগবেই। তবে এটা যাকে বলে গ্রস ওভারসিম্পলিফিকেশন।


মন্তব্য

আশফাক এর ছবি

অনেকদিন পর লিখলেন, ভাইয়া।
ব্রেক নিলেন নাকি?

সিরাত এর ছবি

ব্রেক নেওয়া ৬০-৬৫% কারণ! হাসি

The Reader এর ছবি

অনেক দিন পর লেখা পেলাম ... ভাল লাগলো । নিয়মিত লেখা দিন । হাসি

কৌস্তুভ এর ছবি

দাদা, এত ঝাপসা করে লিখলে হবে? ব্ল্যাক সোয়ান থিওরির খুব অল্প অংশই তো তুমি উল্লেখ করলে - নাসিম তালেব একজন ফিনান্সিয়াল ইকোনমিস্ট, তাঁর বইটায় যে স্ট্যাট নিয়ে প্রভূত কচলাকচলি তা তো কিছুই বললে না, পড়ে মনে হচ্ছে শুধু 'ভাআআআস্ট আননোন' নিয়েই ওঁর ঘাঁটাঘাঁটি।

এই যে কইছ, "১৭৯০ পর্যন্ত সব রাজহাঁস ছিল সাদা। তারপর আসলো অস্ট্রেলিয়া। ভিক্টোরিয়া।" - এর মানে কী? কিছুই তো বুঝলাম না!

ব্ল্যাক সোয়ান থিয়োরির যে অংশটা তুমি লেখায় বলেছ, সেটার মূল বক্তব্য এই, যে 'we don't know what we don't know'। মানছি, কিন্তু এটা নিয়ে সাধারণ জীবনে আকুল হয়ে পড়ে লাইফের প্যারাডাইম শিফট করে ফেলার কোনো কারণ দেখি না।
জীবনে অজানা জিনিস অসংখ্য আছে, আর অসংখ্য বলেই সেগুলোকে পর পর লিস্টি করতে করতে সেগুলো নিয়ে ভাবনাচিন্তার কোনো উপায় নেই - ১ ২ গুনতে গুনতে তো আর ইনফিনিটি অবধি পৌঁছনো যায় না!
আর 'প্রকৃত অজানা'-র মধ্যে যেগুলোয় তোমার কিছু করণীয় নেই, সেগুলো নিয়ে ভেবে মরারও কিছু নেই - আজ ঢাকার উপর একটা মেগা-উল্কাপাত হলে তুমি কী করতে পার? আর যেগুলোয় কিছু করণীয় আছে, সেগুলো সম্পর্কে লোকের এমনিই সাবধান থাকা উচিত - হাঁদার মতন কেউ থোড়াই পায়ে তেল মেখে বাথরুমে নাচানাচি করতে থাকে যে আছাড় খেয়ে পড়ে মাথা ভাঙবে।

বাকি প্ল্যাটো হ্যানত্যান মেটাফিজিকাল কচকচি আমার বয়ে গেছে!

----

অন্য অংশটায়, যেটা গাণিতিক, সেটায় ওনার বক্তব্যে খানিকটা যুক্তি আছে। উনি বলছেন, অজানা জিনিসের স্পেস অসীম, এবং তার মধ্যে আমাদের ধারণার প্রায় বাইরে এমন বিচ্যুতিও ঘটতে পারে জানা বা অনুমিত জিনিসের থেকে। এইটাকে বলছেন ব্ল্যাক সোয়ানের গাণিতিক রূপ, এবং এরকম ঘটনার থেকে আমাদের রোবাস্টনেস থাকা উচিত। এটা তো আপ্তবাক্য, প্রশ্ন হল এর জন্য ওনার প্রেসক্রিপশন কী?

উনি ইকোনোমিক্সে যেভাবে স্ট্যাট ব্যবহার হয় তা নিয়ে প্রভূত আপত্তি জানিয়ে কাজকর্ম আরো রোবাস্ট করতে বলছেন। ওনার কথাবার্তার প্যারাডাইম মূলত ইকোনোমিক্স-ই। এবং তাতে আমি সহমত। মার্কেট ক্র্যাশের মত বিশাল মাপের কিন্তু অতি-স্বল্প সম্ভাবনার ঘটনাগুলোকে আরো ভালোভাবে মডেল করা উচিত বলে আমরাও মনে করি।

যেকোনো অ্যাপ্লায়েড কাজেই, ইকোনোমিক্সেও, স্ট্যাট খুবই হালকা-পাতলা ভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে উচ্চগদিধারী সর্বশক্তিমান মাথামোটা (এই লাইনে) বসেরাও তা বুঝতে পারেন। তার ফলে, জটিল, শক্তিশালী স্ট্যাটিস্টিকাল থিয়োরি লাগানো শক্তভাবে নিষেধ। আমার পরিচিত ব্রিলিয়ান্ট বন্ধুদের দেখেছি, এই লাইনে গিয়ে চরম বিরক্ত হতে, কারণ বসে বসে এমএস এক্সেলে পাতি ডেটা নিয়ে যোগ-বিয়োগ-গড় করা, আর দশ বছরের পুরোনো ফর্মুলা লেখা ম্যাক্রো রান করানো। ভদ্রস্থ কোনো থিয়োরি লাগাতে গেলে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়। এরকম করা হয় মেডিকাল লাইনেও রোগের রিস্ক প্রেডিক্ট করতে গিয়ে।

আর এরকম লোকেরা সব জায়গাতেই সরল বলে 'নর্মাল অ্যাপ্রক্সিমেশন' লাগিয়ে দিতে পছন্দ করেন। এই নর্মাল মডেলে ইকোনোমিক্স ছেয়ে গেছে, ওনার এই আক্ষেপটা মোটেই ভুল না। এটারই একটা ভার্শন, গসিয়ান কপুলা মডেল, লাগিয়ে এক ম্যাথামেটিকাল ইকোনোমিস্ট বহু বাহবা পেয়েছিলেন, তারপর ওনার মডেল দিয়ে হাউকিং মার্কেটে এত ভুলভাল রিস্ক আসার পর মার্কেট ক্র্যাশ করে

এটার সমস্যা, উনি যা বলেছেন, তা ঠিকই, যে এটা বড্ড ভদ্র ডিস্ট্রিবিউশন, খুব এক্সট্রিম ঘটনার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। যারা ওইরকম প্রোবাবিলিটি বেশি দেয়, অর্থাৎ হেভি-টেল বা ফ্যাট-টেল, তাদের লাগানো উচিত।

কিন্তু মুশকিল যা শুনলাম (নিজে তো বইটা পড়ি নি), উনি নাকি সব দোষ স্ট্যাটিস্টিশিয়ানদের ঘাড়েই চাপিয়েছেন। দোষটা যে যারা অ্যাপ্লাই করছে, বা বলা ভালো সহজ কিন্তু লাভজনক হতে হবে এমন চাপ দিয়ে যারা অ্যাপ্লাই করা করাচ্ছে, সেই লোকেদের, সেটা উনি বলেন নি। স্ট্যাটে ওইরকম এক্সট্রিম ঘটনা মডেল করার জন্য অনেক থিয়োরি আছে, রোবাস্ট স্ট্যাটিস্টিক্স বলে আলাদা বিভাগই আছে। তাতেও কাজ না-ই হতে পারে, কিন্তু সেটা তো যারা অঙ্ক করছেন তাদের দোষ না - যারা ভুলভাল জায়গায় ওসব লাগাতে বলে, সেই বসেরা তো মার্কেট ক্র্যাশের সময়েও মোটা বোনাস পকেটস্থ করছেন!

---

আমার লেখাটাই তোমারটার চেয়ে লম্বা হয়ে গেল! তাই তো বলি, আরেকটু গুছিয়ে...

ফাহিম হাসান এর ছবি

ঘুম ভাঙ্গল শেষ পর্যন্ত!
ব্ল্যাক সোয়ান পড়া হয় নাই। নাসিমের নাম শুনেছি মাত্র। মন খারাপ

পিয়াল এর ছবি

Saifullah Al Ahad (Pial)
Notre Dame College, HSC 2002
Section: Geography (Nirmol Chondro Sir)

বন্ধু তোমার সাথে অবশ্য বন্ধুর মতো সম্পর্ক ছিল না!
আমি ছিলাম ফেল্টু ছাত্র!
রোলঃ ৪০২৩১১৯

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।