ব্যানার: মুস্তাফিজুর রহমান
নীড়পাতা | সন্দেশ | লিংকস | আড্ডাঘর

Primary Links:

‹ পুরোনো ব্লগসব ব্লগনতুন ব্লগ ›

ক্ষমো হে মম দীনতা


লিখেছেন তানভীর (তারিখ: শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ০৪:১৫)
ক্যাটেগরী: | | | |

সেদিন এক দাওয়াতে গিয়েছিলাম। বাঙালী দাওয়াত; তবে বাংলাদেশী মনে হয় তাকে কোনভাবেই বলা যায় না- বরং ‘ভারতীয় বাঙালী নেমন্তন্ন’ হিসেবে বেশ মানানসই। যদিও আয়োজক দাদা-বৌদি দু’জনই বাংলাদেশের এবং ‘বাংলাদেশী দাওয়াত’ ভেবেই গিয়েছিলাম!

ঘটনা তবে খুলেই বলি। দাদা-বৌদি থাকেন কাছেই অন্য একটা শহরে, আমাদের বিশেষ স্নেহ করেন। এখানে আসার পর থেকে তাঁর বাসায় যেতে জোরাজুরি করলেও নানান ঝামেলায় কখনো যাওয়া হয় নি। কিন্তু শেষমেষ আর পারা গেল না। কিন্তু গিয়েই যে ধাক্কাটা খেলাম তা ভুলতে হয়ত অনেক সময় লাগবে।

আমেরিকা এসে ‘মাইনরিটি ফিলিংস’ কী জিনিস তা ভাষা, ধর্ম, গাত্রবর্ণ থেকে শুরু করে করে সবকিছুতে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। তবে এখানে আইনত কড়াকড়ি এবং সাদা চামড়াদের প্রায় সবার মুখে ভদ্রতার মুখোশ আঁটা থাকায়- ‘মাইনোরিটি’ ব্যাপারটা সহজে ‘ইগনোর’ করা যায়। কিন্তু বাঙালীর মনে হয় এটা রপ্ত করে উঠতে আরো অনেক সময় লাগবে। ঐ বাড়ীতে যাবার কিছু সময় পরে আবিষ্কার করলাম- এত লোকজনের ভীড়ে এখানে আমি এবং আমার স্ত্রী ছাড়া আর কোন মুসলিম নেই এবং বাকী সবাই যেখানে তাদের সুশীল শান্তিনিকেতনী এবং ‘হ্যাঁগো-ওগো’ ভাষা দিয়ে খাঁটি পশ্চিমবঙ্গীয় তথা ভারতীয় হতে চাইছে; সেখানে আমরাই কেবল আমাদের ‘ক্ষ্যাত বাঙাল ভাষা’ এবং ধর্ম পরিচয়ের কারণে সবার অস্বস্তির কারণ হচ্ছি। আমাদের পাংশুটে অবস্থা দেখে বৌদি শেষে বলেই ফেললেন- ‘তোমাদের আসলে “সব বাংলাদেশীদের” সাথে একসাথে দাওয়াত দেয়া উচিত ছিল’।

‘সব বাংলাদেশী’ মানে? তবে এখানে যেসব বাংলাদেশী সন্তান প্রাণপণে ভারতীয় হতে চাইছে এরা কারা? একজনকে প্রথমে মনে হল ভারতীয়- তাঁর স্ত্রী দেখতে ঠিক ‘কাহানী ঘর ঘর কি’ বা ঐ জাতীয় কোন সিরিয়ালের নায়িকা এবং মুখে ‘হ্যাঁগো-ওগো’ শুনে নিশ্চিত হয়ে নিলাম ভারতীয়। কিন্তু ভদ্রলোক যখন মুখ খুললেন তাঁর মুখ দিয়ে টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জের ‘ক্ষ্যাত বাঙাল ভাষাই’ বের হয়ে এল। আমি তো খুশী, যাক পাওয়া গেল একটা দেশী ভাই। কিন্তু আমার নাম শুনেই ভদ্রলোকের মনে হয় মাথা খারাপ হয়ে গেল। দাদা যখন তার সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন আমি বুয়েট থেকে পাশ করেছি তখন তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন- ‘বুয়েটে তো মালোয়ানদের জন্য আলাদা একটা হোস্টেল আছে, তাই না?’ প্রশ্ন শুনে আমি স্তম্ভিত। এ কি ধরণের প্রশ্ন? এ কি ধরণের সভ্যতা? কিছু দুশ্চরিত্র বাংলাদেশে হিন্দুদের ‘মালাউন’ বলে কুৎসিত একটা শব্দ ব্যবহার করে জানি; কিন্তু তার জন্য আমাকেই কেন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে? তাও বিদেশে এইভাবে একটা দাওয়াতে! সবাই তখন আমার দিকে তাকিয়ে আছে- আমি যেন এক অপরাধী ‘মুসলিম’ কুকুর, আমি যেন এক হিন্দু নির্যাতনকারী, মালাউন উচচারণকারী ‘বাংলাদেশী’!

আমি যখন প্রথমে স্তম্ভিত এবং পরে নিজেকে বেশ অপরাধী অপরাধী ভেবে (যদিও জানি না কেন) এই কিম্ভুত প্রশ্নের কী উত্তর দেয়া যায় চিন্তা করছি, আমাকে রক্ষা করতে তখন পেছন থেকে আরেক ভদ্রলোক উত্তর দিলেন- ‘বুয়েটে সব ধর্মের সবাই সব হলেই থাকতে পারে, কোন বাধ্যবাধকতা নাই। কিন্তু মাইনরিটিদের ধর্ম-কর্ম-আচার-অনুষ্ঠানের সুবিধার জন্য বুয়েটে আলাদা একটা হল আছে, তাই সবাই সেখানে থাকতেই প্রেফার করে- এর পেছনে অন্য কোন কারণ নাই’।

আমি তখন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। কৃতজ্ঞচিত্তে ভদ্রলোকের সাথে গিয়ে পরিচিত হলাম। তিনি সত্তর দশকে বুয়েটের কেমিকৌশল থেকে পাশ করেছেন। আমি তার তিরিশ বছর পরে বুয়েট থেকে বের হয়েছি শুনে তিনি তাঁর ছেলেকে ডেকে এনে পরিচয় করিয়ে দিলেন- ‘উই গ্রাজুয়েটেড ফ্রম দ্য সেইম স্কুল’। ছেলে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে; ত্রিশ বছর আগে তার বাবা কেমন ছিল সেটাই হয়ত কল্পনা করতে চেষ্টা করে। বাকী সময় আমি এই দাদার সাথেই আলাপ করি, অন্যদের সাথে কথা বলার প্রবৃত্তি হয় না আমার- সবার আলাপের বিষয়বস্তু তখন ভারত চীনের সাথে পেরে উঠবে কিনা, শচীন-সৌরভ, পাক-ভারত রাজনীতি, আমেরিকার অর্থনীতি ইত্যাদি ইত্যাদি। বাংলাদেশ এদের আলোচনাতেই নাই। আমাকে দেখে একজন অবশ্য ‘বাংলাদেশের রাজনীতির কী অবস্থা’ জানতে চাইলেন। আমি কিছু বলার আগেই ‘মালোয়ান’ প্রসঙ্গ যিনি তুলেছিলেন তিনি খ্যাক খ্যাক করে বললেন- ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যত অন্ধকার, পাক-ভারতের তবু আশা আছে, বাংলাদেশের কোন আশাই নাই’। মনে হল বাংলাদেশের প্রতি, বাংলাদেশীদের প্রতি, মুসলমানদের প্রতি বিশাল এক ক্ষোভ এই ভদ্রলোক বয়ে চলেছেন।

যাই হোক, আমি যখন বুয়েটের সেই দাদার সাথে বসে পুরনো দিনের গল্প করছি তখন কলকাতার এক দিদিমণি এসে আলাপে যোগ দিলেন। একটু পরে তিনি দাদাকে বললেন, ‘সে কি, তুমি ওপার থেকে এসেছো জানতাম না তো, আমি তো ভেবেছিলাম তুমি বুঝি এপারের’। দাদা শুনে লজ্জা পেলেন, আমিও পেলাম সেই সাথে। না হয়, এরা ভারতীয়ই হতে চায়, তাই বলে বাংলাদেশ থেকে এসেছে এই পরিচয়টুকুও দিতে আপত্তি!

আমার পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা মনে পড়ল। সেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা একজন ডাক্তার অধ্যাপক আছেন। কিন্তু তিনি নিজেকে পরিচয় দেন ভারতীয় হিসেবে। আমরা বাংলাদেশী অনুষ্ঠানে তাঁকে ডাকলে তিনি যান না, কিন্তু ভারতীয়দের অনুষ্ঠানে তাঁকে সবসময় দেখা যায়। মেডিকেল লাইনে ভারতীয়দের ভাল লবিস্ট গ্রুপ আছে। ভারতীয় পরিচয় দিলে প্রমোশন ইত্যাদিতে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। এমনকি কারো চাকরী চলে গেলে বিশাল ভারতীয় গ্রুপের লবিং-এর জোরে আবার চাকরী ফিরে পাওয়া যায়- এমন উদাহরণও আছে। এসব সুবিধার জন্যই কি তিনি বাংলাদেশী পরিচয় দেন না বা এই দাওয়াতে যারা আছে তারা কেন দেয় না- এটা আসলে আমার বোধগম্য না। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে হিন্দু নির্যাতন হয়েছে তা ঠিক, কিন্তু তারা তো বেশিরভাগ গরীব মানুষ। সন্ত্রাসীর কোন ধর্ম নাই। যারা ধর্মের নামে হিন্দু নির্যাতন করেছে, তারাই আবার অন্য অজুহাত দিয়ে মুসলমানদের ওপরও অত্যাচার করেছে। সাকা চৌধুরীই তার বড় উদাহরণ। কিন্তু যারা গরীব দেশের টাকায় বুয়েট, মেডিকেলে পড়ে বিদেশে গিয়ে ভারতীয় বনে যায়, দেশে তারা কখনো নির্যাতনের শিকার হয়েছিল- এমন উদাহরণ মনে হয় খুব কম।

যাওয়ার আগে আমি আরেকটা ভুল করলাম। বুয়েটের সেই দাদাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম দেশে শেষবার কবে গিয়েছিলেন। উনি বলেছিলেন পাঁচ/ছয় বছর আগে মাকে দেখতে গিয়েছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম তাঁর মা বাংলাদেশে কোথায় থাকে। উনি কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন। তারপর বললেন, ‘শেষ যেবার দেশে গিয়েছিলাম, তখন মাকে ভারতে রেখে এসেছি’। এরপর আমরা দু’জনেই থম ধরে বসে থাকি, আমাদের কথা আর আগায় না। এই অপরিচিত মানুষটার জন্য আমার কান্না পেতে থাকে। আহা রে, দেশ ছাড়ার কষ্ট। আমি তো তবু বিদেশে থাকি একদিন দেশে ফিরে যাব বলে, এই লোক আর কখনো ফিরে যাবে না। খুব বলতে ইচ্ছে হল- ‘আরেকটু চেষ্টা করে দেখতেন দাদা, লোকে মারত, ধরত, না হয় উচ্ছেদ করত, তবু মাটি কামড়ে পড়ে থাকতেন দাদা নিজ দেশের মাটিতে; এইভাবে শিকড় উপড়ে ফেলতে পারলেন?’- আমার কিছু বলা হয় না।


গড় রেটিং
( ভোট)
লিখেছেন তানভীর (তারিখ: শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ০৪:১৫)
উদ্ধৃতি | তানভীর এর ব্লগ | ৫২টি মন্তব্য | ৬৪৮বার পঠিত

Views or opinions expressed in this post solely belong to the writer, তানভীর. Sachalayatan.com can not be held responsible.

নিঝুম এর ছবি
১ | নিঝুম | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ১৫:১০

আপনার কষ্টটা বুঝতে পেরেছি । কিছু বলার নেই ।
--------------------------------------------------------
... বাড়িতে বউ ছেলেমেয়ের গালি খাবেন, 'কীসের মুক্তিযোদ্ধা তুমি, কী দিয়েছ আমাদের'? তিনি তখন আবারো বাড়ির বাইরে যাবেন, আবারো কান পাতবেন, মা জননী কি ডাক দিল?


স্নিগ্ধা এর ছবি
১.১ | স্নিগ্ধা | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ১৯:২৫

নিঝুম, আপনার আগের মন্তব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে দেখলাম আপনি সেটা বদলে দিয়েছেন - ধন্যবাদ সেজন্য।


নিঝুম এর ছবি
১.১.১ | নিঝুম | রবি, ২০০৮-০৮-১০ ০৭:৪৮

সমালোচনা থেকে বাঁচার মজাই আলাদা ...
--------------------------------------------------------
... বাড়িতে বউ ছেলেমেয়ের গালি খাবেন, 'কীসের মুক্তিযোদ্ধা তুমি, কী দিয়েছ আমাদের'? তিনি তখন আবারো বাড়ির বাইরে যাবেন, আবারো কান পাতবেন, মা জননী কি ডাক দিল?


সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি
১.১.১.১ | সংসারে এক সন্ন্যাসী | রবি, ২০০৮-০৮-১০ ০৭:৫২

কিন্তু নিঝুম, আপনি যা লিখেছিলেন, ভীষণ আপত্তিকর ছিলো।
মুছে দিয়ে ভালো করেছেন। ‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
মৌমাছির জীবন কি মধুর?


নিঝুম এর ছবি
১.১.১.১.১ | নিঝুম | রবি, ২০০৮-০৮-১০ ০৭:৫৭

আমারো তাই মনে হচ্ছিলো । আসলে ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা গুলো সম্ভবত ইউনিভার্সেল নয় । বিচ্ছিন্ন ঘটনাই মাত্র । কাউকে দুঃখ দিয়ে থাকলে আমি অত্যন্ত দুঃখিত ।
-------------------------------------------------------
... বাড়িতে বউ ছেলেমেয়ের গালি খাবেন, 'কীসের মুক্তিযোদ্ধা তুমি, কী দিয়েছ আমাদের'? তিনি তখন আবারো বাড়ির বাইরে যাবেন, আবারো কান পাতবেন, মা জননী কি ডাক দিল?


তানবীরা এর ছবি
২ | তানবীরা | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ০৪:৪৬

বাংলাদেশের হিন্দু যারা বিদেশে থাকেন, তাদের নিরানব্বই ভাগ কোলকাতার চিপাচাপায় মানে আশে পাশে কোলকাতার বাইরে ফ্ল্যাট বা বাড়ি কিনে। তবে এরা কেল্টু গুলিরে কিপটা বলে গালি দেয় ঠিকই কিন্তু টাকা পয়সা রাখে ওখানেই, বাংলাদেশে না। যাক গা, বাংলাদেশে যা ওভার পপুলেশন, নিমক হারাম কিছু কমলে খারাপ না। এখানে আমি দেখেছি হিন্দুরা কেনো যেনো আমাদের আপন ভাবতে পারে না। সব সময় একটা লুকানো লুকানো চোর চোর ভাব রাখে। কোলকাতার বাংগালীরা বরং এদের থেকে অনেষ্ট আর ওপেন।

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে


হিমু এর ছবি
২.১ | হিমু | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ০৫:১৪

আপনার এই মন্তব্য পড়ে মনে হলো, তানভীর ভাইয়ের বর্ণনা করা পার্টির কোন এক দিদিমণির বাংলাদেশী কাউন্টারপার্টকে দেখতে পেলাম।


হাঁটুপানির জলদস্যু


সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি
২.২ | সংসারে এক সন্ন্যাসী | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ০৫:৪৪

@ ‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍তানবীরা

উদ্ধৃতি
রেসিজাম নেই এমন জায়গায়ই বোধ হয় নেই আজ আর এই পৃথিবীতে।

আরেক লেখায় আপনার লেখা মন্তব্যটির সত্যতা পেলাম আপনার এই মন্তব্যে।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
মৌমাছির জীবন কি মধুর?


হাসান মোরশেদ এর ছবি
২.৩ | হাসান মোরশেদ | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ০৬:২২

উদ্ধৃতি
যাক গা, বাংলাদেশে যা ওভার পপুলেশন, নিমক হারাম কিছু কমলে খারাপ না।

চমৎকার মন্তব্য ।

ধরুন আমার নাম হাসান মোরশেদ নয়, বরং আমি মাহিন্দ্র রায় । ২০০১ এর নির্বাচনে আমি কাজ করেছিলাম যে দলের জন্য তারা গো-হারা হারলো । নির্বাচনের রাত থেকে শুরু হলো বিজয়ীদের উল্লাস । নারকীয় উল্লাস । উল্লাসের শিকার হাসান' রা নয় স্পষ্টভাবে রায়-রাই । আমাদের পুরো গ্রাম আক্রমন হলো, বাড়ীঘর জ্বালানো হলো, আমি পালিয়ে গেলাম, ঘরে সদ্য কিশোরী বোন- দল বেঁধে ওরা এলো- আমার মাকে ওদের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করতে হলো-'বাবারা একজন একজন করে এসো, আমার মেয়েটার বয়স কম'
মা ও বোন দুজনকে ছিবড়ে খেয়ে যাওয়ার সময় জানিয়ে গেলো -বাঁচতে হলে আগামীকালই দেশ ছেড়ে যেতে হবে ।

তানবিরা, আমি কোন গল্প বলছিনা । ২০০১ এর অক্টোবরে বাংলাদেশের অনেক গ্রামেই এরকম ঘটনা ঘটেছে ।

এই আমি মাহিন্দ্র রায় যদি কোন সুযোগে বিলেত আমেরিকা যেতে পারি -আপনার ঐ কথিত নিমক খাওয়ানো দেশের সাথে হারামীগিরি করলে আমাকে কি খুব দোষ দেবেন?

উদ্ধৃতি
সব সময় একটা লুকানো লুকানো চোর চোর ভাব রাখে। কোলকাতার বাংগালীরা বরং এদের থেকে অনেষ্ট আর ওপেন।

আপনার এই পর্যবেক্ষন ও মারাত্নক সত্য । নিজের দেশের ভেতর যখন সংবিধান ও আচার মিলে কাউকে সারাক্ষন সংখ্যালঘু হয়ে থাকতে হয় তার মধ্যে চোর চোর ভাব আসবেই । কোলকাতার বাংগালী যে ওখানে সংখ্যায় লঘুত্বের বোঝা বয়না- তাই তার অনেষ্ট আর ওপেন হতেও বাঁধে না ।

-------------------------------------
"এমন রীতি ও আছে নিষেধ,নির্দেশ ও আদেশের বেলায়-
যারা ভয় পায়না, তাদের প্রতি প্রযোজ্য নয় "


১০

মনজুরাউল এর ছবি
২.৩.১ | মনজুরাউল | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ১৩:১৫

এর চে'ভাল ব্যাখ্যা আর হয় না। ধন্যবাদ।

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......


১১

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি
২.৪ | ইশতিয়াক রউফ | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ১১:৫৭

মানতে পারলাম না।


১২

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
২.৫ | সুবিনয় মুস্তফী | সোম, ২০০৮-০৮-১১ ০৭:০৯

নিমকহারাম শব্দটা না লেখলে হয়তো মন্তব্য করতাম না। তবে কতভাবে বাঁশ খাওয়ার পরে একটা মানুষের "নিমকহারাম" হওয়া সঙ্গত আছে, একটু বলবেন? নীচে কিছু লিংক পাবেন। পড়ে নিজেকে আরেকটু শিক্ষিত করে তুলবেন, এই কামনায়।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর


১৩

আলমগীর এর ছবি
৩ | আলমগীর | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ০৫:১৮

ইজি, ব্রাদার ইজি।
সামলে আপা সামলে।


১৪

এলোমেলো ভাবনা এর ছবি
৪ | এলোমেলো ভাবনা [অতিথি] | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ০৫:৪৪

এপার ওপারে সবখানেই ভাল মন্দ দটোই আছে। ওপার বাংলার অনেক বাঙ্গালীকে দেখেছি কেবল বাংলায় কথা বলার লোভে আনেক বাংলাদেশী আড্ডায় নিয়মিত অংশ নিতে। এর ব্যতিক্রম ও অবশ্যই আছে।

এপার ওপার নির্বিশেষে সুংখ্যালঘুদেরকে হেঁয় করাটা মনে হয় আমাদের জাতিগত চরিত্র। প্রবাসে আমরা সবাই শেকড় উপরানো... বাঙ্গালী, বাংলাদেশী কোনটাই আর আমরা নই। আমাদের এখন একটাই পরিচয় আমরা সবাই অভিবাসী।


১৫

হাসান মোরশেদ এর ছবি
৫ | হাসান মোরশেদ | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ০৬:১২

উদ্ধৃতি
‘আরেকটু চেষ্টা করে দেখতেন দাদা, লোকে মারত, ধরত, না হয় উচ্ছেদ করত, তবু মাটি কামড়ে পড়ে থাকতেন দাদা নিজ দেশের মাটিতে; এইভাবে শিকড় উপড়ে ফেলতে পারলেন?’- আমার কিছু বলা হয় না।

না বলে ভালোই করেছেন ।
লোকের মার খেয়ে, ভিটেমাটি উচ্ছেদ হয়ে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারনে বোনের ধর্ষন চোখের সামনে দেখার পর ও কাউকে তথাকথিত শিকড় উপড়ে না ফেলার অনুরোধটুকু না করাই ভালো ।

-------------------------------------
"এমন রীতি ও আছে নিষেধ,নির্দেশ ও আদেশের বেলায়-
যারা ভয় পায়না, তাদের প্রতি প্রযোজ্য নয় "


১৬

ধ্রুব হাসান এর ছবি
৬ | ধ্রুব হাসান | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ০৬:৪১

উদ্ধৃতি
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে হিন্দু নির্যাতন হয়েছে তা ঠিক, কিন্তু তারা তো বেশিরভাগ গরীব মানুষ। সন্ত্রাসীর কোন ধর্ম নাই। যারা ধর্মের নামে হিন্দু নির্যাতন করেছে, তারাই আবার অন্য অজুহাত দিয়ে মুসলমানদের ওপরও অত্যাচার করেছে। সাকা চৌধুরীই তার বড় উদাহরণ।

ভাই আপনার লেখার অনেকাংশের সাথে একমত হলেও উদ্ধৃতির প্রথম অংশটি পরে মনে হলো আপনি একপেশে ইতিহাস রমোন্থন করছেন। গরীব মানুষ সবসময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার টার্গেট কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ (যারা সম্ভ্রান্ত বলে পরিচিত ছিলেন)-ও এর স্বীকার। আপনি সালাউদ্দিন সাহেবের কথা বললেন, আমি আপনাকে আরো এক ডজনেরো বেশী আওয়ামী-বিএনপি শীর্ষ নেতার নাম বলতে পারি যারা বেশ কিছু হিন্দু চৌধুরী পরিবারের সম্পদ ৪৭ থেকে ৯০ পর্যন্ত (মোটা দাগে যদি হিসেব কষেন) দখল করে সম্পদশালী হয়েছেন। শুধু তাই না আপনি সম্ভবত রাউজানের সাবেক আওয়ামী লীগের এম পি ঝুনু-কে চেনেন (যে আবার কাদের চৌং-এর চাচাতো ভাই), এই লোক বিএনপি ক্ষমতা থাকা অবস্থায় রাউজানের এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের একমাত্র ছেলেকে তার লালদীঘি-র বাসায় খুন করে ঐ পরিবারের লালদীঘির পাড়ের ঐতিহ্যবাহী বিশাল বাড়ীটি দখলে নেন। পরে অবশ্য তার কিছুদিন পলাতক থাকতে হয়, কিন্তু আলটিমেইটলী বাড়ী্টি তার দখলে চলে যায়। এরকম কম করে ৩০টি ঘটনা শুধু চট্টগ্রাম থেকেই উদ্ধৃতি দিতে পারি। আমার এখনো মনে আছে এরশাদের সময় ভারতে যখন বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হয়, তখন আওয়ামী-বিএনপি নির্বিশেষে সবাই মিলে হিন্দু বাড়ী ভাংতে গেছিলাম (এই ঘটনার জন্য আমার আজো অনুশোচনা হয়, যদিও ঐ ঘটনার মাঝখানেই আমরা কিছু তরুন নিজের ধর্মের লোকের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে কিছু মানুষকে বাচাঁতে পেরেছিলাম; কিছু নারীকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলাম)! সো ভাই গরীব মানুষ প্রধান টার্গেট কখনোই ছিলোনা, সবসময় সম্পদশালী হিন্দুরাই ছিলো এবং আছে মূল টার্গেট।

আমাদের মনে হয় এই বিষয়গুলো আরো গভীরভাবে ভাবা উচিত। আজকে আমাদের যেসব হিন্দু ভাইয়েরা পশ্চিমবঙ্গে বসতি গাড়ছেন নীরবে, তার কারণ কিন্তু লুকিয়ে আছে নানা সময়ে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলোর মাঝে। আমরা দেশ হিসেবে মাইনোরিটি গ্রুপকে নিরাপত্তা দিতে পারিনি; যদিও আমাদের দেশের বেশীর ভাগ মানুষ মোটেও সাম্প্রদায়িক নন, তারপরও এ কথা অস্বীকার করা যাবেনা। একটা দেশ যদি পরোক্ষভাবে কিছু দুষ্ট লোকের অপরাধকে সমর্থন করে যায়, তখন নিজ দেশের মানুষের একটি অংশ আর নিজের দেশকে আপন ভাবতে পারেনা। ঠিক একই পক্রিয়ায় আজকে পাহাড়ের লোকজনও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জাতীয়বাদী হয়ে উঠতে পাড়ছেননা। তার কাছে ঐ বোধের কোন মূল্যই নেই; বরং সুযোগ পেলে অপকার করতেই তার মন চাইবে। তাই আজকের বাংলাদেশের গোটা হিন্দু সম্প্রদায় যদি এই হীনমন্যতায় ভোগে তার দায় কোনভাবেই একপেশেভাবে তাদের উপর বর্তায় না; এই দায় আমাদেরও! ঠিক একি কান্ড ঘটে চলেছে ভারতেও; ওখানে মুসলিমরা, বিশেষ করে সুবিধে বঞ্চিত মুসলিমরা যে হীনমন্যতায় ভোগে তাই তাকে প্রলুদ্ধ করে নিজের দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে। রাষ্ট্রের এই দ্বি-মুখী নীতি যতদিন না বন্ধ হচ্ছে ততোদিন এই হিংসার রাজনীতি থামার কোন লক্ষন দেখিনা। হয়তো মাঝে-সাঝে কমবে আর মাঝে মাঝে বাড়বে, এই যা।

আর সবশেষে যে কথাটি ব্যক্তি মানুষ হিসেবে বলতে চাই তা হলো, আসলেই এসমস্ত ঘটনা (যার শিকার আপনি) আমাদের ভীষনভাবে পীড়া দেয়। একসময় যে দাঙ্গা ছিলো অভিশাপের মতো, এখন তাই যেন হয়ে উঠেছে আশীর্বাদ! ভারত যেহেতু দক্ষিন এশিয়ার রাজা, তাই নিজেকে ভারতীয় বানাতে আমার এই ভাইদের (সবাই কোন ভাবেই নয়) কসরত দেখে কষ্টই লাগে। যদিও আখেরে এতে হয়তো তাদের কিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক লাভ যোগ হয়! কিন্তু এই বিশেষগুনের অধিকারী শুধু এরাই নন, আরো কিছু তালিকা এদের সাথে যোগ করতে চাই। যেমন ধরুন কিছু চরম প্রগতিশীল লোকজন দেখবেন যারা দুই ঈদে বাড়ী ছেড়ে দূরে বা দেশের বাইরে হলিডে কাটাতে যান। ঈদ পালন করা তাদের সম্মানে লাগে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এরাই আবার ঘটা করে পূজা-পার্বন পালন করে সংস্কৃতির নামে; তখন আবার তার সেই স্ববিরোধী কর্ম হালাল হয়ে যায়! এই নিয়ে আমার দুই শিক্ষকের সাথে ছাত্র জীবনে সম্পর্কই নষ্ট হয়ে গেছিলো। আরে ভাই পাঠার মাংসো যদি খাওয়া যায়, তো গরু কি দোষ করলো? খাওয়া-দাওয়া, সামাজিকতাতো মজার জিনিষ, একে কেন ধর্মের নামে দূরে ঠেলা (এসবের কিছুতেই আস্থা না রেখেও আমি কেমন দিব্যি সামাজিক, হা হা হা...) ?


১৭

bdhindu এর ছবি
৭ | bdhindu (যাচাই করা হয়নি) | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ০৭:২৩

‘আরেকটু চেষ্টা করে দেখতেন দাদা, লোকে মারত, ধরত, না হয় উচ্ছেদ করত, তবু মাটি কামড়ে পড়ে থাকতেন দাদা নিজ দেশের মাটিতে; এইভাবে শিকড় উপড়ে ফেলতে পারলেন?’

আপনার অনুরোধের উদ্দেশ্য বুঝতে পারলাম না। আপাত দৃষ্টিতে সহানুভূতিশীল মনে হচ্ছে। আবার মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রত্যেক হিন্দু সম্পত্তি দখল, প্রত্যেক হিন্দুকে খুন, প্রত্যেক হিন্দু নারীকে যেন ধর্ষণ করার সুযোগ পাওয়া যায়, সেজন্য আমাদেরকে থাকতে বলছেন। তাই কি?

নাকি প্রতিদিন হিন্দু ধর্ম ও সমাজকে নিন্দা করে যেসব বই প্রকাশ করা হয় সেগুলো পড়ার জন্য?


১৮

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
৮ | ষষ্ঠ পাণ্ডব | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ১১:২১

এই আলোচনার প্রেক্ষিতে সবার কাছে আমার বিনীত প্রশ্ন। ১৯৭১ সালের পরে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমান হিন্দু ভারতে চলে গেছেন, ভারত থেকে সেই পরিমান মুসলিম কি বাংলাদেশে এসেছেন? অথবা, ১৯৪৭ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত বর্তমান পাকিস্তান থেকে যে পরিমান হিন্দু ভারতে চলে গেছেন, ভারত থেকে সেই পরিমান মুসলিম কি পাকিস্তানে চলে গেছেন এবং যাচ্ছেন? সম্ভবতঃ আমার সব প্রশ্নের উত্তরই "না" হবে। এর কারন এমনটা নয় যে ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের সাথে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের সাথে আচরিত আচরন করা হয় না। বরং সেখানকার প্রায়শঃ ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দেখলে আমরা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে শিউড়ে উঠি। সুতরাং শুধুমাত্র অত্যাচার আর বৈষম্যমূলক আচরনের জন্য এদেশের হিন্দুরা দেশত্যাগ করেন বা গোপনে পশ্চিমবঙ্গে সম্পদ করেন তা মানতে পারি না। এর পেছনের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারনগুলোকেই আমার কাছে মূখ্য বলে মনে হয়। নয়তো নিশ্চিতভাবেই সংখ্যালঘু হবেন বা বৈষম্যমূলক আচরনের শিকার হবেন জেনেও এত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী মুসলিম পশ্চিমা খ্রীষ্টান-প্রধাণ দেশগুলোতে ঠাঁই গাড়ছেন কেন?

আর একটি বিষয়। ১৯৪৮ সালের পর ভারত উপমহাদেশের কোন দেশে কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে বলে আমি মনে করি না। যা কিছু হয়েছে তার সবই একতরফা ভাবে, ঠাণ্ডা মাথায়, নির্বিচারে হিন্দু নিধণ বা মুসলিম নিধণ।

===============================
তোমার সঞ্চয় দিনান্তে নিশান্তে পথে ফেলে যেতে হয়


১৯

অরূপ এর ছবি
৯ | অরূপ | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ১২:২২

পোস্টটা আরো সতর্ক হয়ে লেখা উচিত ছিল। টোন ও বর্ননার জন্য অফেনসিভ মনে হতে পারে ক্ষেত্র বিশেষে।

মাইনোরিটি না হলে মনে হয় তাদের সুখ-দুঃখ-ভাবনা-চেতনা ঠিক বোঝা যাবে না। লেখক ও মন্তব্যকারীরা যদি না সেই জুতোয় পা ঢুকান, তাহলে বক্তব্যের সত্যাশ্রয়ী হবার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

বিষয়টি স্পর্শকাতর, সেটা মনে রাখা জরুরী..
ধর্ম-বর্ন-জাতীয়তা যেন সচলদের দৃষ্টি আচ্ছন্ন না করে


২০

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি
৯.১ | আনোয়ার সাদাত শিমুল | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ১২:৩৫

উদ্ধৃতি
মাইনোরিটি না হলে মনে হয় তাদের সুখ-দুঃখ-ভাবনা-চেতনা ঠিক বোঝা যাবে না। লেখক ও মন্তব্যকারীরা যদি না সেই জুতোয় পা ঢুকান, তাহলে বক্তব্যের সত্যাশ্রয়ী হবার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

একমত ।


২১

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি
৯.২ | ইশতিয়াক রউফ | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ১৩:০২

কথাটা আগেও বলেছি কোথাও মনে হয়। সংখ্যালঘু জীবনের জ্বালাটা কেমন, সেটা প্রবাসে এসে বুঝেছি। এ-দহন চামড়ার ভেতরে, তাই মূলধারার কেউ চট করে বুঝতে পারে না। তাই 'ভালই তো আছে!' ভেবে ফেলা যায় খুব সহজেই।


২২

আলমগীর এর ছবি
৯.৩ | আলমগীর | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ১৪:০৭

লেখাটা খুব দ্রুত, ঘটনার পর পরই লেখা হয়েছে মনে হচ্ছে; ভাবনা-চিন্তার কোন সুযোগ লেখক নেননি। সব কিছুকেই নেগেটিভ ভাবে দেখা হয়েছে।

লেখা+মন্তব্য আরো অনেকের মনে কষ্ট দেবে।


২৩

মনজুরাউল এর ছবি
১০ | মনজুরাউল | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ১৩:২৫

মেজরিটি সব সময় ই মাইনোরিটিকে রিজেক্ট করে ,কনডেম করে। করেই। সেটা সব ধর্মের বেলাতেই সত্য। সাদাচামড়ারা একটু সহনশীল সেটা পরমতসহিষ্ণুতার কারণের চে'তাদের সমাজে ধর্মাধর্মির
বাড়বাড়ন্তি কম সেকারণে। রিলিজিয়ন ব্যাপারটা একাধারে সফ্ট,হার্ড এবং স্পর্শকাতর , তাই এসব বিষয় না তোলাই ভাল।

.......................................................................................
আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে
চারদিকের নিষেধ আর কাঁটাতারের ভিতর
তবু প্রতিদিন রক্তের সমুদ্রে সাঁতার জানা
হাজার শিশুর জন্ম দেয় যারা মানুষ......


২৪

তানভীর এর ছবি
১১ | তানভীর | শনি, ২০০৮-০৮-০৯ ১৫:০৩

কিছু মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখানে আমার অবস্থান পরিস্কার করে বোঝানোর প্রয়োজনীয়তাবোধ করছি।

১। আমি এখানে একটা ঘটনার উল্লেখ করেছি মাত্র এবং যে ঘটনায় আমি নিজেই ছিলাম ‘মাইনরিটি’। মাইনরিটি হিসেবে আমার মনে যে ভয়ংকর অনুভূতিগুলোর উদ্রেক হয়েছিল- তার বিবরণ লিপিবদ্ধ করাই এ লেখার উদ্দেশ্য। সেদিন সেখান থেকে ফিরে আমি এবং আমার স্ত্রী আলাপ করছিলাম (বেচারীর সাথে সেদিন কোন দিদিমণিই কথা বলে নি)- দাওয়াতে আমাদের যে অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা হলো, তা যদি দেশে বা প্রবাসে আমাদের নিজেদের সংখ্যাগুরু কোন দাওয়াতে যদি আমাদের কোন সংখ্যালঘু বন্ধু-বান্ধব বা অতিথির হয়-