| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
‘হোয়াট ইজ ইয়োর লাস্ট নেম?’
‘ইসলাম’।
‘ইসলাম! দেয়ার ইজ নো ইসলাম ইন দিজ কান্ট্রি...দেয়ার ক্যান্ট বি এনি ইসলাম ইন ইউএসএ...হোহোহো’
সরকারের জরুরী সংস্থা ফিমার (FEMA) ইন্সপেক্টররা ঘূর্ণিঝড়ে দুর্গত এলাকার বাড়িঘরগুলো পরিদর্শন করছে। আমার সাথে যে ইন্সপেক্টরের এপয়েন্টমেন্ট তার আসার কথা ছয়টায়। আমরা এসে পড়েছি চারটায়। কিন্তু এসে দেখি বাসার অবস্থা খুবই খারাপ। ফ্রিজের খাবার পচা গন্ধে বমি আসার অবস্থা। আমি তাই বাইরে দাঁড়িয়ে ইন্সপেক্টর খুঁজছি, যদি আগেই পাওয়া যায়। হাতে কম্পিউটার, বুকে ব্যাজ ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়ানো একজনকে জিজ্ঞেস করলাম ফিমার ইন্সপেক্টর কিনা। ব্যাটা জিজ্ঞেস করে লাস্ট নেম কি। তার লিস্টে নাম না থাকলে সে ইন্সপেকশন করবে না।
এর আগে এপার্টমেন্ট অফিসে গিয়েছিলাম। ভিতরে বিদ্যুত না থাকায় বাইরেই চেয়ার পেতে ম্যানেজার বসে আছে। আমাকে দেখেই এগিয়ে এল –‘তোমাদের এপার্টমেন্ট পার্মানেন্টলি ছেড়ে দিতে হবে, আমরা এ জায়গা বন্ধ করে দিচ্ছি’। ‘ছেড়ে দিতে হবে মানে? আমরা এখন কোথায় থাকব, তোমরা কি আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিবে না!’ ‘স্যরি’। ‘স্যরি মানে? তোমাদের সাথে আমার লীজ আছে ডিসেম্বর পর্যন্ত’। ‘স্যরি, দ্য লীজ ওয়াজ ওভার ডিউরিং দ্য স্টর্ম’। আজ ঈদের আগের দিন। পৃথিবীর নানা জায়গায় এখন কত আনন্দ-ফূর্তি। শুধু এখানেই মনে হয় সবকিছু এসে থমকে গেছে। এখন আমি আমার সাত মাসের অন্তসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে কোথায় যাব? শুধু এই শ্মশানভূমিতেই না, আশেপাশের কোন শহরেই এখন কোন বাসা খালি নেই।
আমি ফিরে গেছি একাত্তরে। একাত্তরের ছাব্বিশে মার্চ সকালে এমনি করেই আমার বাবা হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিলেন আমার অন্তসত্ত্বা মাকে নিয়ে। ঢাকা শহর তখন পালাচ্ছে হানাদারের ভয়ে, পঁচিশে মার্চের কালো রাতের ভয়াল স্মৃতি নিয়ে। কিন্তু আমার বাবার কোথাও যাবার জায়গা নেই; চট্টগ্রাম তখন অনেক দূর। অবশেষে আমার মায়ের আশ্রয় হয়েছিল মুন্সীগঞ্জের এক জংগলে। যুদ্ধের সময় অপুষ্টি আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জন্ম নেয়া আমার সেই একমাত্র বোন বেশিদিন বাঁচে নি। আমার মেয়েটা বাঁচবে তো? কেন জানি সব উদ্ভট চিন্তা মাথায় এসে ধরে।
আমার ফেলে যাওয়া গাড়িটাকে পেয়েছি ঠিক যেখানে রেখে গিয়েছিলাম সেখানেই। পার্থক্য শুধু ঝড়ের সময় গাড়ী পুরোটা পানির নীচে ছিল। অনেক কষ্টে দরজা খোলার পর দেখি ইঞ্জিন আর স্টার্ট নেয় না। পোস্ট অফিসের পাশে বিশাল পার্কিং লট-কে নগর কর্তৃপক্ষ এখন ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করছে। ইতিমধ্যে সেটা ৬০-৭০ ফিট উঁচু হয়েছে। বললাম আমার গাড়ি ভাগাড়ে ফেলতে চাই। তাও নিবে না। বলে আগে নাম লেখাও, আমরা বাই রোটেশনে ফেলব। আমার অত সময় নাই। একজন সহৃদয় প্রতিবেশীকে গাড়ির চাবি বুঝিয়ে দিয়ে আসলাম, যা ইচ্ছা করো।
চার্চের পাশ দিয়ে আসার সময় দেখলাম রিলিফ দিচ্ছে খাবার। বউকে বললাম- এইটাই তো বাকী ছিল, চলো নিয়ে আসি। একটা বক্সে চিকেন উইথ ম্যাশ পটেটো, একটা চকলেটের প্যাকেট আর পানি। পানি আর চকলেট রেখে চিকেনটা ফেলে দিলাম।
আমি নাস্তিক হতে হতে পুরোদস্তুর ইউটার্ণ নিয়ে আস্তিক হওয়া একজন মানুষ। আমার বন্ধুরা বিজ্ঞানের নানা মার-প্যাঁচ কষে ধর্মগ্রন্থের ভুলভাল ধরে স্রষ্টা নেই- প্রমাণে যখন ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে, আমি তখন হাসি। আমার স্রষ্টা তো কিতাবে থাকে না। আমি স্রষ্টাকে কিতাবেও খুঁজি না। বরং এইসব দুঃসময়গুলোতেই যেন মাঝে মাঝে খুঁজে পাই।
‘বাহিরের এই ভিক্ষা ভরা থালি/এবার যেন নিঃশেষে হয় খালি/অন্তর মোর গোপনে যায় ভরে/প্রভু তোমার দানে, তোমার দানে, তোমার দানে’।
৩
আসলেই কোথায় আছেন বলেন তো?
৪
কিছুই বলার নেই। মনটা খারাপ হয়ে গেল।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
Life is what happens to you
While you're busy making other plans...
- JOHN LENNON
৫
এসব কী বলছেন?
আপনারা কোথায় আছেন কীভাবে আছেন?
আপনার স্ত্রী ভালো আছেনতো?
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস
৬
তানভীর ভাই,
আপনি অনেক সাহসী মানুষ। আমার মাঝে মাঝে ভয় হয়, অনেক ভালো আছি। কখনও আল্লাহ খুব খারাপ কিছুতে ফেললে ঘোর আস্তিক থেকে য়ু টার্ন নিয়ে ঘোর নাস্তিক হয়ে যাবে, ভীষণ রকমের ভীতু মানুষ আমি, তাই।
দোআ রইলো আপনাদের তিনজনের জন্যই। আমি আশা করছি এখন তখনের চেয়ে ভালো আছেন।
৭
আশা করছি শিগগীরই এই অবস্থার শেষ হবে। অনেক শুভকামনা রইলো আপনাদের দু'জনের জন্য, এছাড়া এতদূর থেকে আর কিছুই করার নেই -
এখনো কি গ্যালভেস্টনে আপনারা?! নাকি কলেজপার্কেও এই অবস্থা?
৮
ভাই এই অবস্থা ঐখানের তা ভাবতেও পারছিনা, বিশ্বাস হওয়া তো তার পরের ব্যাপার। কেউ বললেও বিশ্বাস করতাম না হয়তো। কিন্তু বিপদের এতদিন পরেও ওদের এ অবস্থা কেন?
১০
মিতা মন খারাপ কইরেননা । জীবনের প্রতিটা ক্ষণই মনে হয় এক একটা পরীক্ষা। আর মানুষ সারা জীবনই এই পরীক্ষা দিতে থাকে। এই পরীক্ষার কোন প্রশ্ন কোনদিন কমন পড়েনা।
---------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে
১১
আমরা এখন কলেজ স্টেশনে। বলতে গেলে ভালোই আছি। ঝড়ের পর আইল্যান্ডে গিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হলেও পরে ইউনিভার্সিটি থেকেই এখানে তিন মাসের জন্য হাউজিং দিয়েছে। শুধু আমরাই না, আইল্যান্ডে ইউনিভার্সিটির মেরিন ক্যাম্পাস এখন পুরো ফল সেমিস্টারের জন্য ক্লাস-অফিসসহ মূল ক্যাম্পাস কলেজ স্টেশনে রিলোকেট করেছে। ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১৮০০-১৯০০ জন মানুষ। ২০০৯-এ হয়তো বা আবার আগের জায়গায় ফিরে যাওয়া হবে।
অবস্থা ঝড়ে যা খারাপ হয়েছে তারচেয়ে বেশি মনে হল ঝড়ের পরে কেউ কোন কাজ করছে না, যেটা একটু চেষ্টা করলেই ঠিক করা যেত। ময়লা পরিষ্কার করতেও যদি কন্ট্রাকটর দিয়ে করানো লাগে, তাহলে আর কি বলা যায়! আইল্যান্ডে সব হাউজিং পরিবেশ দূষণ আর বিদ্যুত অব্যবস্থার নামে বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে সব ইন্স্যুরেন্স থেকে টাকা খাবার ধান্ধা। কে বলে শুধু বাংলাদেশ দুর্নীতিবাজ? এইখানে এইসব আরো বেশি হয়।
= = = = = = = = = = =
ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত
আমরা ঘুচাব তিমির রাত
বাধার বিন্ধ্যাচল।
১২
যারা বড়ো তারা কত কিছু করে! কিন্তু ওসব বলতে নেই। তাহলে নাকি ছোট মুখে বড়ো কথা হয়ে যায়!
তারা মানবাধিকারের বারোটা বাজিয়েও আবার সারা পৃথিবীর মানবাধিকার রক্ষার নামে খবরদারি করে, দুর্নীতির রাশি রাশি সমুদ্র বানিয়েও অন্যদের পুকুর দেখে চিৎকার করে। বজ্জাতের হাড্ডি শালারা।
এই দুঃসময় থাকবে না, কেটে যাবে।
................................................................
তোমার হাতে রয়েছি যেটুকু আমি, আমার পকেটে আমি আছি যতটা, একদিন মনে হবে এটুকুই আমি, বাকি কিছু আমি নই আমার করুণ ছায়া
১৩
ক্যাটরিনার পর ফিমা'র নামে যে সব সমালোচনা শুনেছিলাম, দূর্ভাগ্যবশতঃ আপনাদের সেটারই হাতে নাতে প্রমাণ মিললো !
১৪
ফিমা'র এক্টিভিটিস বরং অন্যদের চেয়ে ভালো দেখলাম, যারা সবাই হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে। যদিও এক হারামজাদা ইন্সপেক্টর আমার কপালে পড়েছিল, তবু অন্তত একমাসের বাড়িভাড়া পেয়েছি ফিমা'র কাছ থেকে। আর আমার এপার্টমেন্ট আমার ডিপোজিটের টাকাও ফেরত দেয় নি, লীজ নষ্ট হয়ে গেছে বলে।
= = = = = = = = = = =
ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত
আমরা ঘুচাব তিমির রাত
বাধার বিন্ধ্যাচল।
১৫
খুব খারাপ লাগছিল মূল পোষ্টটা পড়ে। কিন্তু আপনার শেষের উত্তর গুলো দেখে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছি। আপনাদের দুজনের এবং আপনার অনাগত "পরীর" জন্য অনেক শুভকামনা রইলো।
কল্পনা আক্তার
.............................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা
১৬
ভীষণ মন খারাপ হল, তানভীর! যদি আর একটুও কিছু করতে পারতাম! শুধু শুভকামনা ছাড়া আমার কী আর করার আছে?
১৮
অকল্পনীয় !
মন খারাপ হলো খুব, তানভীর।
কেটে যাক দুঃসময়।
...........................
সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন
১৯
তানভীর ভাই, আমি জানি আপনি পারবেন। দুঃসময় সবসময় থাকে না। সময়ের সাথে সাথে কেটে যাবেই। আপনারা তিনজন ভালো থাকুন, এই কামনায়
২০
খুব খারাপ লাগছে পড়ে!
অনেক শুভকামনা। আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে দ্রুত।
-----------------------------------
... করি বাংলায় চিৎকার ...
১
এত খারাপ অবস্থা এটা তো ধারণাই ছিল না ...
এখন কেমন আছেন আপনারা? কোথায় আছেন?
................................................................................
objects in the rear view mirror may appear closer than they are ...