| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
মৃদু আলোয় গাছগুলো অস্পষ্ট
দেখা যায়, একটি নির্জন
পুকুরের ঘাট; দুটো রমণীর বেঁচে
থাকার শব্দ; ঘাসের সবুজ রঙে
অন্ধকারের খোলা স্পর্শ;
পাখিদের চিৎকার থেমে যাচ্ছে,
অলস কোলাহল এই হেমন্তসন্ধ্যার
নম্র স্তনে;
রাস্তায় দুটি ভাঙা
ওয়াইনের বোতাল;
বহুদূর গ্রামের একটি সরু
পথ, কবরের কাছে শীতল সামুদ্রিক
বাতাস; হলুদ পোড়ো জমির
ওপর চাঁদের ফিকে আলো বসে নেই,
নরোম চাদরের মতো নীরবতা
ভেঙে দেয় মানুষের আর্দ্র নিঃশ্বাস;
খুব উঁচু বিচ্ছিন্ন ছাঁদে অস্ফুট প্রেমময়
উচ্চারণ - মৃত্যুর প্রতি;
একটি শিশুর চোখে জীবনের
বিস্ময় - মেঘগুলোকে ছোঁয়া হয়নি কোনোদিন,
খাতায় আঁকা নক্ষত্র ...
কোনো বিরল দ্বীপে কিছু কেঁটে-যাওয়া
ঘুড়ি, দূরাগত শব্দপুঞ্জ ফ্যাকাশে, সেখানে
প্রাচীন পাখি কঙ্কাল হয়ে আছে;
অবশেষে, দুটো লন্ঠন নিভে যায়।
শোনা যায়না আর কোনো লক্ষীপেঁচার
অদ্ভুত ডাক, হেমন্তসন্ধ্যায় আর শোনা যায়না
একটি মশার গুঞ্জন;
হেমন্তের সন্ধ্যায়, আর শোনা যায়নি
পৃথিবীতে,
আঁধখোলা জানালার কাছে, -
আমাদের অবসাদময় নির্লিপ্ত ধ্বনি,
আর শোনা যায়নি ... ...
১৩/০৩/০২
২
একটি নির্জন
পুকুরের ঘাট; দুটো রমণীর বেঁচে
থাকার শব্দ;
চমৎকার চিত্রকল্প !
অভিনন্দন।
(রণদীপম বসু)
৪
খুব উঁচু বিচ্ছিন্ন ছাঁদে অস্ফুট প্রেমময়
উচ্চারণ - মৃত্যুর প্রতি;
একটি শিশুর চোখে জীবনের
বিস্ময় - মেঘগুলোকে ছোঁয়া হয়নি কোনোদিন,
খাতায় আঁকা নক্ষত্র ...
কোনো বিরল দ্বীপে কিছু কেঁটে-যাওয়া
ঘুড়ি, দূরাগত শব্দপুঞ্জ ফ্যাকাশে, সেখানে
প্রাচীন পাখি কঙ্কাল হয়ে আছে;
-- ডুবে গেলাম জিফরান ভাই। বাইশ ফিট কবিতার জলে ডুবে গেলাম।
আছিলেন কই এদ্দিন?
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে
৫
বাইশ ফিটের ব্যাপারটা বুঝলাম না... তুই কি ছাঁদ পর্যন্ত উচ্চতার ব্যাপারে বলতেসস?
তবে, ফ্রেইস হিশেবে খারাপ হয় না এই কবিতার জলের ব্যাপারটা... আরো কিছু বানা...
৬
খুব উঁচু বিচ্ছিন্ন ছাঁদে অস্ফুট প্রেমময়
উচ্চারণ - মৃত্যুর প্রতি;
একটি শিশুর চোখে জীবনের
বিস্ময় - মেঘগুলোকে ছোঁয়া হয়নি কোনোদিন,
খাতায় আঁকা নক্ষত্র ...
কোনো বিরল দ্বীপে কিছু কেঁটে-যাওয়া
ঘুড়ি, দূরাগত শব্দপুঞ্জ ফ্যাকাশে, সেখানে
প্রাচীন পাখি কঙ্কাল হয়ে আছে;
আহা! আহা!
---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল
৮
হ। অনেকটা জীবনানন্দীয় হইছে।
১০
হেমন্তের সন্ধ্যায়, আর শোনা যায়নি
পৃথিবীতে,
আঁধখোলা জানালার কাছে, -
আমাদের অবসাদময় নির্লিপ্ত ধ্বনি
১৪
এইরকম কবিতা পুরনো হইলেও ভালো... পুরনো স্টকই উজাড় কইরা দেন... তাই পড়ি...
১৫
নজরুল ভাইরে আমার পাঠক হিশাবে বেশ পসন্দ... কবিতা দেখলেই পিঠে চাপড় মারেন... মনে হয় - কি না কি লিখসি... আসল কথাটা যদি পাড়তেন রে ভাই...
১৬
মনে হল একটা অদ্ভুত সুন্দর চলচ্চিত্র ! চমৎকার ! তালি !
-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'
১৮
কবিতার সবচেয়ে মজার বিষয় হলো সময় ও বয়স দুটোই ফিল করা যায়। বুঝলাম চার বছর আগের জিফরান আর এখনকার জিফরানে বিস্তর ফারাক! যদিও এটাই স্বাভাবিক......ভালো লাগলো চার বছর আগের নিঃষঙ্গ হৃদয়টাকে......হা হা হা।
২০
খুব ভালো লাগলো।
আপনার লেখার সাথে এই আমার প্রথম পরিচয়।
মনে হ'লো বিশ্বচরাচরে নেমে এসেছে এক অদ্ভূত নিরবতা
আর আমার চোখের সামনে কেউ উল্টে যাচ্ছে জীবনের নির্জন পৃষ্ঠাগুলো।
মুগ্ধ হলাম।
সৈয়দ আখতারুজ্জামান
২২
হায় জিফরান,তুমিও....
২৪
জীবনানন্দ যখন রূপকের সার্থক প্রচলন শুরু রেন কবিতায় তখন সমালোচকেরা তাঁকে ডাকতেন 'মতো' কবি বলে। কারণ তাঁর কবিতায় নাকি টেবিলের মতো, চেয়ারের মতো উপমা থাকবেই। অথচ বাংলা কবিতায় এখন রূপকের ছড়াছড়ি জীবনানন্দের পথ ধরেই।
কবি জিফরান খালেদের কবিতায় আমরা আরেকবার স্বাদ পেলাম একটি সাজানো দৃশ্যপট ঘুরে আসার।
১
ছ'বছর আগের লিখা। আমি সবে কবি হবো হবো ভেবে মাতোয়ারা। জীববাবু ও জর্জিয়ান আমলের কবিরা ব্যপক জ্বালাচ্ছিল। বিশেষ করে ড্রিঙ্কওয়াটার বদমাশটা। তো, সে আমলের লিখা। সচলে কবিতার সংখ্যাধিক্যে নিজের অপরাধী ভূমিকা স্বীকার করে নিচ্ছি।