ব্যানার: মুস্তাফিজুর রহমান
নীড়পাতা | সন্দেশ | লিংকস | আড্ডাঘর

Primary Links:

‹ পুরোনো ব্লগসব ব্লগনতুন ব্লগ ›

মুখবন্ধের আগে


লিখেছেন জিফরান খালেদ (তারিখ: বুধ, ২০০৮-০৯-১০ ১৯:৩০)
ক্যাটেগরী: |

এখানটা অন্ধকার।

পেছনে ফিরে তাকালাম, টানেলের শেষ প্রান্তের মতো আলোকবিন্দু দেখা যায় কিনা। এই জায়গাটি(ও) অচেনা, একটু এগোনোর পর বুঝতে পারি - আরও কেউ দাড়িয়ে আছে। একজন লোক। অপরিচিত। বুঝতে পারি...

এটা কোন জায়গা?
ঠিক জানিনা, কিভাবে কিভাবে এসে পড়লাম... আমি আমার পরিচিত এক জায়গা খুঁজছিলাম। তারপরে...
কোত্থেকে?
বলতে পারছিনা,

একটু ইতস্ততঃ করলেন বোধহয়, একটু পরেই শুনতে পেলাম,

এখানে সবকিছু কেমন যেন অদ্ভুত...
হুমম...মানে... ?

প্রশ্ন করতে ইচেছ করতে করছিলনা, তারপরও ধারাবাহিকতার খাতিরে মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল, আমি একটু অন্যমনষ্ক হলাম।

যেমন ধরুন, কোথাও গেলেই, যেখানেই যাই, মনে হয় - এখানে আগেও এসেছি, অথবা, কোনদিনই আসিনি, আর সেই পরিচিত জায়গাটার মতই লাগে সবগুলো জায়গাকে, এইটাও সমস্যা। আমি ঠিক বুঝতে পারছিনা কি করবো আসলে...

বুঝতে পারলাম লোকটি তাকিয়ে আছে জবাবের জন্যে বোধকরি। আমি কিছু একটা মনে করার চেষ্টা করছিলাম, তাই বললাম,

আমারও প্রায় সেরকমই

এটুকু কেন বললাম তা নিয়ে চিন্তিত হলাম খানিকটা তারপর ফের মনে করার চেষ্টা করা শুরু করলাম।

এরপর আর কিছু বলার থাকলনা, বা বোধহয়, ইচ্ছে হলো না; লম্বা দেখতে একটা বিরতি নেমে এলো। বাতাস নেই, আসলে, আছে কি নেই - বুঝতে পারছিনা, অবশ্য আমার শরীর এখনো ঘামহীন; আমাদের দুজনের নিঃশ্বাসের ক্ষীণ আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি শুধু, মাঝে মাঝে তা-ও আদৌ শুনতে পাই কিনা - সন্দেহ হয়। লোকটির নড়াচড়ার আওয়াজ পাই। আমার কিছু একটা মনে পড়া উচিত এমনভাবে আমি আকাশের দিকে তাকালাম, কিছুই দেখা যায়না, এরকম গাঢ় অন্ধকার, মনে মনে আফসোস হচেছ - ...

আমি নিচে তাকালাম একবার, লোকটি কোথায়, আমি চারিদিকে দ্রুত দৃষ্টি ঘোরাই, নিঃশ্বাসের আওয়াজ পাচ্ছি মনে হচ্ছে, আমি আরও উৎকর্ণ হলাম, কিছুই তো শুনছি না। না, না, এই তো, কিন্তু, ... এরপর চুপচাপ দাড়িয়ে আছি, বা বসে, অথবা শুয়ে, কোনো একভাবে, এটি আসলে গুরুত্বহীন, বাজে ব্যাপার এখন... আমার মনে পড়তে লাগলো এর আগের লোকগুলার কথা। এই লোকটির মতি ছিল নাকি তারা? না না। ভুল হচ্ছে। ওটা একটি ছোট ছেলে ছিল। তার নাম ছিল...

একটি ট্রেন আসছে। ট্রেনের আওয়াজের মতই অন্ততঃ, কিছু বলতে যাব, তার আগেই অপরজন বলে উঠলেন,

শুনছেন?

আওয়াজের ব্যাপারে নিঃসন্দেহ হলাম। লোকটার গলাটা কেমন জানি, ইতঃস্তত ধরণের...

কিন্তু কিছু একটা মিলছেনা; এখানে, এই রাস্তায়, বা জায়গায়, যতদূর মনে হয়েছে, কোনো রেললাইন নেই; অনেকক্ষণ তো হাঁটলাম। ট্রেনের শব্দ ক্রমশঃ কাছে আসছে। এদিকেই আসছে বলে মনে হয়। অথচ রেললাইন নেই। নেই প্ল্যটফর্মো। এখানেই কি হেঁটেছি? পুরোটা নয়। না, পুরোটা ঘুরে দেখিনি। পুরোটা হাঁটতে গেলে তো অন্য কোনো অচেনা জায়গায় চলে যেতে হয়, ভয়টা ছিল, লোকটিকে হারাতে চাইনি বুঝতে পারলাম অন্যদের মতো। কোথাও মেঝে পেয়েছি, কোথাও ঘাস, মনে হয় জলা-ও স্পর্শ করেছি কোথাও, গোড়ালিটা হালকা ভেজা, রেললাইন পাইনি, যদিও ট্রেনটা এদিকেই আসছে, কোথাও নিশ্চয়ই হবে ... আমি উদ্বিগ্ন হয়ে দাড়ালাম, টের পাই আমার একেবারে পাশে এসে দাড়িয়েছে লোকটি। লোকটি কি একট শব্দ করলো, সেও কি রেলের ব্যাপারটি... ট্রেন আসছে এদিকেই।

ট্রেন এসে একেবারে আমাদের সামনে দাড়িয়ে গেল, একটু আগে যেখানে দাড়িযেছিলাম, কোনো শোরগোল নেই, ট্রেনটি অল্প অল্প কাঁপছে, হাতড়ে হাতড়ে একটি কামরায় উঠে পড়লাম আমরা, সেটি খালি। খুব দ্রতই প্রচন্ড বেগে ট্রেন ছুটে চলল, বাতাসের ঝাপ্‌টা এসে পড়ছে মুখে, আমি হাতড়ে জানালা বন্ধ করতে চাইলাম। লোকটি আমার হাত শক্ত করে ধরে আছে। আমরা জায়গাটি হতে সরে যাচ্ছি। আর কোথাও কোনো যাত্রী নেই?

ট্রেনের চলার আওয়াজটা কেমন নিথর, খুব গভীর বনে, নিঝুম নৈঃশব্দে ক্রমাগতঃ ঘাস মাড়িয়ে গেলে যেরকম শব্দ হয়, সেরকম অনেকটা,... আমার বনের কথা মনে পড়ে গেলো। আমি বেশ খানিকটা স্বস্তি পাই এতে। অনেকগুলো পাখি ও গাছের রঙ নিয়ে ভাববার চেষ্টা করলাম। লোকটি অনেকক্ষণ কোনো কথা বলছেনা। তার হাতের মুঠো শিথিল? ট্রেনে অন্য যাত্রী নেই? আমি ভুল বুঝতে পারলাম এবার। তাই, তাড়াতাড়ি মনে রাখা শুরু করলাম ট্রেন কতবার কোনদিকে মোড় নিল, কয়বার থামলো।

আমি বাতাস টের পেলাম না এরপর আর। লোকটি আমার পাশ থেকে সরে একটু দূরে বসেছে। ট্রেন কোথাও থামেনি এখনো। এরপর ট্রেনটি কতবার কতদিকে ঘুরল, হিসাব রাখতে রাখতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম, এবং একসময় হাল ছেড়ে দিলাম। লোকটি ঘুমিয়ে পড়েছে, শব্দহীন ঘুম। আমরা যে কোথাও যাচ্ছি, এটুকু বুঝতে পারছি, কিন্তু...

তন্দ্রা এসে গিয়েছিল, কতক্ষণ কেটে গেছে? হাতড়ে হাতড়ে বুঝলাম লোকটি উপুড় হয়ে ঘুমুচেছ, শব্দহীন ঘুম, ট্রেনটি কোথাও থেমেছে? কোথায় জানি উঠেছিলাম? হঠাৎ আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, আগের জায়গাটির কথা, জাযগাগুলোর কথা, আস্তে আস্তে আমি ভুলে যাচ্ছি, যদিও এটি কেন, কিভাবে ঘটছে, বুঝতে পারলাম না। পুরো ব্যাপারটি খুব অল্প সমযের জন্যে ধরতে পারি, এবং আমার নিজেকে খানিকটা অসহায় মনে হতে থাকে...

...ট্রেনটি হঠাৎ থেমে গেল, হুড়োহুড়ি করে আমরা নেমে গেলাম, যেন এখানেই নামার কথা ছিল। ট্রেনটি অল্প কিছুক্ষণ দাড়িয়ে চলে গেল, এই জায়গাটিতে আমাদের সাথে কেউ নামেনি? চারিদিকে তাকালাম, এখানেও অন্ধকার। ট্রেনটি কোন দিকে গেল, তাও বুঝতে পারছিনা। কোথায় নামলাম, জায়গাটা কেমন, কিছুই ঠাহর করতে পারলাম না।

চলুন, আগের জায়গায় ফিরে যাই,
হ্যা? ও... কোনটা?
যেখান থেকে উঠলাম ?
কোনখান থেকে উঠলাম?
ঐ যে...

কি বলতে চাচ্ছে লোকটা, কিছুই বুঝলাম না, বা বোঝার চেষ্টা করলাম না, এ সত্ত্বেও, তারপর, আমরা উল্টো দিকে হাঁটতে লাগলাম, যদিও কোনটি উল্টো দিক, এ নিয়ে প্রশ্ন করা যায়, এবং যেহেতু সবকটা দিকই উল্টো হতে পারে, আবার উল্টোটাই যে ঠিক, সে-নিয়েই ইচ্ছে করলে সন্দেহ করে দাড়িয়ে থাকা যায় অনেকক্ষণ, তাই দিকের প্রশ্ন অবান্তর এখন। জায়গাটা কোথায়, কোন দিকে এসব অগ্রাহ্য করে আমরা, আমি ও অপরিচিত লোকটি, এই নতুন অচেনা জায়গা হতে পুরোনো অচেনা জায়গায় ফিরে যেতে থাকলাম...

০৯/০৮/০৩
ঈষত পরিবর্তিত


গড় রেটিং
( ভোট)
লিখেছেন জিফরান খালেদ (তারিখ: বুধ, ২০০৮-০৯-১০ ১৯:৩০)
উদ্ধৃতি | জিফরান খালেদ এর ব্লগ | ২৮টি মন্তব্য | ২৩৫বার পঠিত

Views or opinions expressed in this post solely belong to the writer, জিফরান খালেদ. Sachalayatan.com can not be held responsible.

স্নিগ্ধা এর ছবি
১ | স্নিগ্ধা | বুধ, ২০০৮-০৯-১০ ১৯:৪০

জিফরান, গল্প ভালো হয়েছে! তুমি তো দেখি বুদ্ধদেব বসু'র ভাষায় বলতে হয় - এক 'অনুরোদ্ধারনীয়' দার্শনিক হাসি (হুমম, শব্দটা ঠিকঠাক মনে আছে কিনা সন্দেহ হচ্ছে!)


জিফরান খালেদ এর ছবি
১.১ | জিফরান খালেদ | বুধ, ২০০৮-০৯-১০ ২০:২৬

হাহাহা... এক্কেরে বড়বোনসুলভ পিঠ চাপড়ানি... বেশ বেশ...

শব্দ ঠিক আসে। তবে, দিলেন তো আমারে ফেলায়া! আপনার মতো সেমান্টিক্স জানন মাইনষেও যদি সেমান্টিক্সের কামরে দার্শনিক বইলা গালি দেন... হায় হায়, কই যামু?

সে যাক, ধন্যবাদ। ভাল থাকেন।


স্নিগ্ধা এর ছবি
১.১.১ | স্নিগ্ধা | বুধ, ২০০৮-০৯-১০ ২০:৪৯

আরে দাদারে! সেমানটিক্সের নড়বড়ে চালাখান দাঁড় করাও কিসের উপরে? যার যার দর্শন/standpont এর উপরে না? সেজন্যই তো বলা ......

গালি ভাবলা ?!?! ছিহ্‌ হাসি


জিফরান খালেদ এর ছবি
১.১.১.১ | জিফরান খালেদ | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ০৩:৫৬

হাহাহা... না না... তা ভাবি নাই। তবে কিনা, মাইনশে তা-ই মনে করি কিনা... হেহে...

নোমেনক্লেচারের ব্যাপারটা, কিভাবে চিহ্নিত করা হয় ঘটনা বা বাস্তবতাকে, অবাস্তবতার ভিতরে ঢুকে যাওয়া (জাদুবাস্তব যে অনুঘটক) , এইগুলা লয়া একটা ম্রিয়মান ততপরতা বলতে পারেন...

আবারো ধন্যবাদ জানাই।


অতিথি লেখক এর ছবি
২ | অতিথি লেখক | বুধ, ২০০৮-০৯-১০ ২০:৩১

হুম...... কঠিন দার্শনিক তত্ত্ব ।
............এই নতুন অচেনা জায়গা হতে পুরোনো অচেনা জায়গায় ফিরে যেতে থাকলাম... এই লাইন টা দারুন ।
নিবিড়


জিফরান খালেদ এর ছবি
২.১ | জিফরান খালেদ | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ০৩:৫৮

কঠিন? মাইন্ড খাইলাম...

আপনার পাঠ মনযোগী, এইটা বুঝতে পারলাম।


সুমন চৌধুরী এর ছবি
৩ | সুমন চৌধুরী | বুধ, ২০০৮-০৯-১০ ২০:৪৩

ভালৈছে



অজ্ঞাতবাস


জিফরান খালেদ এর ছবি
৩.১ | জিফরান খালেদ | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ০৫:২৩

সত্যাসত্য? আপনার থিকা আরেকটু বেশি শব্দ আশা রাখসিলাম... হা দুনিয়া!


সুমন চৌধুরী এর ছবি
৩.১.১ | সুমন চৌধুরী | শুক্র, ২০০৮-০৯-১৯ ২২:৫৪

সংক্ষিপ্ত মন্তব্য এক ধরনের টাস্কি দেঁতো হাসি



অজ্ঞাতবাস


১০

জিফরান খালেদ এর ছবি
৩.১.১.১ | জিফরান খালেদ | রবি, ২০০৮-০৯-২১ ২০:৩৬

টাস্কি? হাহাহা... আমি ভাবলাম পোলিশগো টিস্কির কথা কন নাকি কোনো?

টাস্কি দেওনটা ঠিক হয় নাই... অহম খাইসে মাইন্ড... হাহাহা... হুদাই...


১১

হাসান মোরশেদ এর ছবি
৪ | হাসান মোরশেদ | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ০৫:১৫

লেখাটা কি আগে কোথাও পড়েছি জিফরান?
মানে, এই অচেনাবৃত্ত বন্দী গল্পটা খুব চেনা মনে হচ্ছে ।
-------------------------------------
"শিয়রের কাছে কেনো এতো নীল জল? "


১২

জিফরান খালেদ এর ছবি
৪.১ | জিফরান খালেদ | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ০৫:২৫

হাহাহা... নাহ ভাই, এই প্রথম এইটা বাইর হইলো... আমার পরিচিত অনেকেই এইটা কাগজাকারে পড়সে, তবে, সেইটা আমাগো ভিতরে...

আপনার মন্তব্য পাইলাম না কিন্তুক... ভাল আসেন আশা রাখি।


১৩

হাসান মোরশেদ এর ছবি
৪.১.১ | হাসান মোরশেদ | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ০৫:৩০

মন্তব্যটা আসলে প্রথম মন্তব্যের মধ্যে লুকানো ছিলো । অচেনাবৃত্তের গল্পটা চেনা চেনা লাগছে কারন হয়তো অবচেতন ভাবে এই গল্পটা আমার ভাবনার মধ্যে ও আছে, ঠিক এই কাঠামোতে না হোক অন্য কোন ভাবে- একটা পরিনতিহীন পৌনঃপুনিক চলা ।
-------------------------------------
"শিয়রের কাছে কেনো এতো নীল জল? "


১৪

জিফরান খালেদ এর ছবি
৪.১.১.১ | জিফরান খালেদ | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ০৫:৪৫

সেইটা ভাই আমি বুঝতারসিলাম। আপনার আরো একটু বিশদ কথন চাওয়া থেকেই এইটা কওয়া।

আমিও এইটা বলতে চাচ্ছিলাম যে হয়তো আপনিও এইটা ফিল করেন... তয়, গোস্তাখী হয়া যাওয়ার ভয়ে আর লই নাই...

এইখানে আরো বেশ কিছু ব্যাপারে কাম আসিলো... পাব্লিকের পায়ের তলা দিয়া গেল সব... হেহে...


১৫

স্নিগ্ধা এর ছবি
৫ | স্নিগ্ধা | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ০৬:০০

উদ্ধৃতি
এইখানে আরো বেশ কিছু ব্যাপারে কাম আসিলো

জিফরান, আঁতেল ভাব দেখাবার জন্য বলছি না, সত্যি সত্যিই জানতে চাই কি কি ধরতে পারি নি মন খারাপ

নামটা 'মুখবন্ধের আগে' কেন?

উদ্ধৃতি
যেহেতু সবকটা দিকই উল্টো হতে পারে, আবার উল্টোটাই যে ঠিক, সে-নিয়েই ইচ্ছে করলে সন্দেহ করে দাড়িয়ে থাকা যায় অনেকক্ষণ, তাই দিকের প্রশ্ন অবান্তর এখন

এটা মুখবন্ধেরও আগের কথা? তারপর আসবে অন্যান্য প্রশ্ন/ধাপ/বোধ?

নোমেনক্ল্যাচারের উম্মোচন বা ডিসকোর্স ডিসাইফারের ব্যাপারটা কিন্তু আমার কাছে ঠিক স্পষ্ট না - এটা কি বাস্তবতা -> যাদুবাস্তবতা -> বাস্তবতা -> পরাবাস্তবতা -> যাদুবাস্তবতা-> বাস্তবতা -> ... এরকম কোন সারক্যুলার/স্মুথ ট্র্যান্সফর্মেশন বোঝাচ্ছিলে?


১৬

জিফরান খালেদ এর ছবি
৫.১ | জিফরান খালেদ | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ০৬:৪৪

হাহাহা... আপনে তো আমার আতেল বড় বোনই... আমি এইটা গর্ব কইরাই কই... হেহে...

আমিও বুঝতেসি না, আলোচনার ঝাপি খুলবো কিনা। যাই হোক, আপনার প্রশ্নের উত্তর দিয়া শুরু করি।

ধরে নেয়া যাক, বাস্তবতার অনুঘটক লইয়াই এই ক্যারাক্টার দুইটা। আমরা পূর্ববর্তী ঘটনার কিছু অ্যাবসার্ড কথন পাই... যেইটা পরের সৃতিলোপ পাওয়ারে ভেলিডেইট করতে চায়।

যেভাবে ন্যারেশান আগায়, তাতে কন্সেপ্টুয়লাইযেশানের ব্যাপারটা ধরা পড়ার কথা। 'বন', 'রেললাইন', 'আকাশ',... যেইভাবে মিলানোর চেষ্টা করা হয়, সেই হিশেবে একটা এ প্রায়রি চেষ্টা বইলা প্রতীয়মান হয়। 'দিক', 'জায়গা' এইগুলাতেও সেই ব্যাপারটা থাকার কথা।

রিকালেকশানের যে ব্যাপারটা আসে এবং পরবর্তীতে স্মৃতিলোপের যে ব্যাপারটা সেইটা মজবুত রাখতে গেলে প্রি-কন্সিভড এম্পিরিক্যাল এলিমেন্টস সমেত যে টেক্সট সেইটা তৈরি করা যায় না। করলে সেইটা কন্ট্রাডিক্ট করে। তাছাড়া ইঙ্গিতের ব্যাপারসমূহ বা রূপকধর্মীতার জন্যে আমি সবকিছু খুলে কওয়া পাঠকের পাঠাধিকার কেড়ে নেয়া মনে করি।

রেললাইন ছাড়াও রেলে কইরা যাওনের ব্যাপারটা খুব তাড়াতাড়ি ঘটে। সেইটা পাঠকরে তেমন নাড়া দেয় কি? যদি না দেয়, তাইলে এই অবাস্তবতা বা কন্সেপ্টুয়েলাইজড যে সেন্স অফ কন্ট্রাডিকশান এর ভিতর ঢুকে সেইটারে বাস্তবতার নিরিখে ট্রিট করনরে আমরা জাদুবাস্তবতার কৌশল কয়া থাকি। সেই নয়া বাস্তবতায় বা অবাস্তবতায় একটা নতুন ঘটনা সেটা যেন অমোঘের মতো কইরা কোথাও নাইমা যাওয়া। বা, বলতে পারেন, ঠিক আগের সিনের ফেরত আসা। সেই লোকটার পরিচিত উপস্থিতিই শুধু একটা বিরাট পার্থক্য।

'নতুন', 'পুরানো' এইগুলা দিয়া যেইভাবে প্লেস ডিনোট করা হইতেসে সেইটা কিভাবে নামকরণের ব্যাপারটা হয়, তার একটা ইঙ্গিত হয়তো দেয়...

লিখার নাম লয়া কিছু কইলাম না... আপনে যেভাবে ধরলেন সেইটা আপনার বোঝাতে ঠিক থাকলে হইলো।

বুঝাইতে পারসি নাকি শয়তান মালুম!


১৭

স্নিগ্ধা এর ছবি
৬ | স্নিগ্ধা | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ১০:৫০

হাসি


১৮

স্নিগ্ধা এর ছবি
৭ | স্নিগ্ধা | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ১০:৫৩

-


১৯

মূর্তালা রামাত এর ছবি
৮ | মূর্তালা রামাত | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ১১:৩৮

গল্প ভালো হইছে।
কিন্তুর সার্তের এরকম একটা উপন্যাস পড়েছিলাম বোধ হয়।
তাই মজা পেলাম না।


২০

জিফরান খালেদ এর ছবি
৮.১ | জিফরান খালেদ | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ১৬:২৭

মজা দিতে পারি নাই বলে দুঃখিত। মজার জন্যে লিখি নাই যদিও।

আচ্ছা, সার্ত্রের কোন গল্পটার কথা বলতেসেন? একটু দয়া করে জানাবেন কি? আমি সার্ত্রে যা পড়সি, সেইটাতে এইটা ধরতেসে না, বাদ গেলেও যাইতে পারে। একটু কাইন্ডলি জানায়েন।


২১

কীর্তিনাশা এর ছবি
৯ | কীর্তিনাশা | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ১৩:৩৪

ভালো লাগছে। হাসি
-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।


২২

জিফরান খালেদ এর ছবি
৯.১ | জিফরান খালেদ | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ১৬:২৯

তাই? বেশ বেশ...


২৩

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি
১০ | অতন্দ্র প্রহরী | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ১৭:২৭

হুমম, পড়লাম। কিন্তু কমেন্ট করার আগে দাঁড়ান আরেকবার পড়ে আসি! দেঁতো হাসি
________________________________
বিষন্নতা ছোঁয় আমায় মাঝে মাঝেই, কখনো কি ছোঁয় না তোমায়?


২৪

জিফরান খালেদ এর ছবি
১০.১ | জিফরান খালেদ | শুক্র, ২০০৮-০৯-১২ ০৭:০৬

হাহাহা... ভালা ভালা!

কমেন্ট তো আর পাইলাম না...


২৫

সুমন সুপান্থ এর ছবি
১১ | সুমন সুপান্থ | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৯-১১ ১৯:৫৩

তাছাড়া ইঙ্গিতের ব্যাপারসমূহ বা রূপকধর্মীতার জন্যে আমি সবকিছু খুলে কওয়া পাঠকের পাঠাধিকার কেড়ে নেয়া মনে করি।

তোমার নিজের কথা দিয়েই শুরু করা যাক,জিফরান। কথা হলো এইটাই ।পাঠককুল কে ভোদাই ঠাওরিয়ে আমরা যে হরহামেশাই অতিকথনের বন্যায় , এরপর কি হইলো...হইলো গিয়া... টাইপের তথ্য,আর মজাদার মশলায় ভরপুর করে তুলি নিজেদের কর্মখানিকে , তাতে 'গল্প'র বদলে শেষমেশ থাকেন শুধু 'গল্পকার'! আর পাঠকেরা উহ,আহ বলে বলে নিজের মাথা আর লেখকের পিঠ চাপরে চলেন সমানে !
তুমি এইদিকে যাও নি , সেই লোভ তোমাকে পায় নি দেখে প্রীত বোধ করছি ।

পুরো গল্পটা পড়েছি ২ বার । স্নিগ্ধা আর তোমার মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যে বুঝেছি কিছু আর বাকীটা থেকেছে অ-বুঝা !
তাই শরনাপন্ন হওয়া মহামতি রবিঠাকুরের-

বুঝেছি কি বুঝি নি
সেই তর্কে কাজ নাই
ভালো আমার লেগেছে যে
রইলো সেই কথাই

---------------------------------------------------------

আমার কোন ঘর নেই !
আছে শুধু ঘরের দিকে যাওয়া


২৬

জিফরান খালেদ এর ছবি
১১.১ | জিফরান খালেদ | শুক্র, ২০০৮-০৯-১২ ০৭:০৭

ধন্যবাদ ভাইয়া...


২৭

তারেক এর ছবি
১২ | তারেক | শুক্র, ২০০৮-০৯-১২ ০৯:৩৬

উদ্ধৃতি
পাঠককুল কে ভোদাই ঠাওরিয়ে আমরা যে হরহামেশাই অতিকথনের বন্যায় , এরপর কি হইলো...হইলো গিয়া... টাইপের তথ্য,আর মজাদার মশলায় ভরপুর করে তুলি নিজেদের কর্মখানিকে , তাতে 'গল্প'র বদলে শেষমেশ থাকেন শুধু 'গল্পকার'
- সুমন ভাইয়ের এই কথাটাই অসাধারণ হইছে। পাঠকের বোঝার স্পেস দেওয়াটা... চিন্তার জন্য একটা ফিল্ড তৈরি করা যাইতে পারে, কিন্তু চিন্তাটা যেন স্বাধীন হয়। এই স্বাধীনতা দেওয়ার ব্যাপারটাই এই গল্পের প্রতি আমারে আকৃষ্ট করসে বেশী। মানে ভুলা ভাল চিন্তার স্বাধীনতা ও । আপনি তো জানেন ই প্রথমবার পড়ার পর আমি কিরকম উলটা চিন্তা করসিলাম। দেঁতো হাসি

পরিবর্তিত কাজগুলো গল্পটাকে আরো অনেক বেশি মজবুত করসে বলে আমার ধারণা। আর গল্পটা আবার পড়ার সুযোগ দিসেন এইজন্য কৃতজ্ঞতা।

_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে


২৮

জিফরান খালেদ এর ছবি
১২.১ | জিফরান খালেদ | শুক্র, ২০০৮-০৯-১২ ১৮:৪৫

হেহে... তুই তো দেখি এক্কেরে অফিসিয়াল ভাষায় পিঠ চাপড়ায় দিলি... বেশ বেশ... ভাল ছেলেগুলা নিয়া এইটা একটা ঝামেলা... (খারাপ অর্থে কই নাই কিন্তু, মাথায় রাখিস... তোর তো আবার বাজে স্বভাব, কিছু একটা হইলেই কাম্যুর ক্যারাকটারগুলার মতো ছটফটাস... হাহাহা... দিলাম তো ডুবায়া! হেহে)


নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
ফায়ারফক্সান » কেন?

লগইন করুন