| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
এই শহরের পথে পথে ঘোরার ও প্রতিটা গলি চিনে নেবার একটা বাসনা ছিল শুরুতে। ইচ্ছে ছিলো প্রতিটা জায়গা থেকে চাঁদ চট্টগ্রামে যে রেলওয়ের অফিস আছে, সেখানের মতনই কি আশ্চর্য অলৌকিক হয়ে ওঠে? কিন্তু, এই বছর দেড়েকের বেঁচে থাকায় পরিচিত রাস্তা জুড়ে হাঁটবার সময় ছাড়া ওভাবে ওপরের দিকে তাকানো হয়ে ওঠেনি আগন্তুক গলিগুলো হতে। না, হয়নি। তবে, আজকাল কামলা থেকে ফিরবার সময় প্রায়শঃ বাসের জন্যে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণ। রাতের বাস। দেরি হয় বেশ খানিকটা। তখন একা একা মেঘের ছবি মুখস্থ করা ছাড়া উপায় থাকে না।
জুনের শুরুর দিকে পরীক্ষা শেষ হবার দেখলাম আগের যে কামলাটা ছিল, ওইটা আওয়ার দিতেসে না। তো, এই লন্ডন শহরে কামলার জন্যে আগে বাইর হই নাই, এইবার হইতে হলো। মদ্যপানের প্রতি একটা বর্ণনাতীত নিরাসক্তি থাকার পরেও আমাকে বারের বা পাবের কাজ খুব টানতো। স্বল্পবসনা নারীদের জন্যেই বোধহয়। তাই ঠিক করলাম, পানীয়ে কোনো রুপ তেমন জ্ঞান না থাকা স্বত্ত্বেও আমি শুধু বারটেন্ডারের কাজই খুঁজবো। তো, দেখতে দেখতে, বারে বারে ধর্ণা দিতে দিতে, একটা বেশ বিখ্যাত বিশাল এক পাবে কাজ হয়েও যায়। এবং প্রথম পাঁচ মিনিটে আমারে লাগার আর সাইডারের কিছু মূল নমুনা দেখায়ে বারে দাড় করায়ে দেয়া হইলো। একে তেমন কিছু জানি না, তারপর মাতালেচ্ছু নরনারী, যাকে বলে - মরার উপর হাতির পা। আমি চোটপাট না করেই কাজ করে গেলাম। কিন্তু, দিন শেষে প্রত্যেকে এইটা জেনে বাসায় গেল যে - নাহ, এই ছেলেটা আসলেই আগে কখনো বারে কাজ করে নাই।
বার বা ক্লাবে মূলতঃ সব বর্ণের মানুষই সমান ভাবে যায়। ইউরোপীয়ানরা একটু বেশি লন্ডনের ক্লাব গুলোতে। বিশুদ্ধ ফ্যাকাশে আংরেজরা এলিট ক্লাবে ক্লাবিং করে বোধকরি। তবে, পাব হইলো যারে বলে পুরাই একটা আংরেজ কালচার। এই খানে যে কাস্টমার ডেমগ্রাফিক আছে, সেইটা আমার অভিজ্ঞতায় দেখলাম, নিরানব্বই শতাংশ সাদা আঙ্গরেজ, বাকিরা ইউরোপিয়ান, এশিয়ান মিলায়া। এইটা একটা আচানক ব্যাপার মনে হইসে।
বেশিরভাগ পাবই ফ্রি হাউস। মানে, যতক্ষণ ইচ্ছা আড্ডাও। তাই দেখা যায়, একটা গ্রুপ বিকালে ঢুকসে তো আর উঠবার নাম নাই। মেইন যে ঘন্টা আসে ঐটা পরবার পরেও এক্কেরে খেদায়া না দিলে যায় না। আড্ডাইতেই থাকে। কেনাকিনির বাড়াবাড়ি নাই। একটা পাইন্ট কোরস লাইট (সবচেয়ে কম দামী লাগার) লইয়া বইসা থাকন যায় সারাদিন। কেউ কিছু বলতে পারবে না। তবে, এরা বসে থাকার পাবলিক না। গিলতেই আসে। একেকজন গড়ে কম সে কম সাত থেকে আট পাইন্ট লাগার টানে বইলা আমার হিসাব।
এক বুড়ারে চিনি আমি। আমি বারে যেইখানে দাড়ামু, সেইখানে আসে। কোনো কথা হয় না। হাসিটাই কথা। সে ঘন্টা পর পর দুই বোতল মিডিয়াম ড্রাই ওয়েস্টন সাইডার কিইন্যা বয়া পড়ে। বারো তেরো বোতল সে হাপিশ করে প্রতিদিন। আরেক বুইড়া আসে, সে গিনিজ ছাড়া কিছু গিলে না। সে আইরিশ বইলাই কিনা, এইটা আমি জিগাইসিলাম। সে মাতাল মাতালের মত কইরা কইলো, এইটা ছাড়া আমি চল্লিশ বছর কিছু খাই না। এইটা বেস্ট।
আমার উত্তর, তা তো বটেই, তা তো বটেই।
এই বুইড়া কম পক্ষে পনের থেকে বিশ পাইন্ট গিনিজ সাবাড় করে। পাবটা একটা বিরাট রেলস্টেশনের কাছে আর অফিস এরিয়ায় বইলা নিয়মিত খদ্দের যেইটা একটা পাবের বৈশিষ্ট্য, সেইটা এইটার নাই। নিয়মিত যারা, এরা সবাই বেশ বয়ষ্ক। বুড়া বয়সে একা একা বইস্যা গিলে। কেউ আগের বুড়ার মত শুধু গিনিজ, কেউ শুধু কারলিং, কেউ কোরস। বড় লয়্যাল ড্রিঙ্কার এরা প্রত্যেকেই। কিন্তু, এই দিনভর মদ্যপান, এই বয়স, একা একা বসে থাকা, পরিচয়ে জানি - সন্তানরা দূরে দূরে, স্ত্রীর সাথে অনেক আগে ছাড়াছাড়ি... আমার একটু খারাপই লাগে কেন জানি... তাই, সময়ে সময়ে এদের লগে আলাপে জমি...
এক আইরিশ দম্পত্তি আছে। ভদ্দরলোক টুপি পরা। জানালার কাছে উচুঁ টেবলটাতেই বসেন তারা শুধু। ওই একটা টেবলেই। বুড়ি মনে হয় না আইরিশ। আফ্রিকান অরিজিন বুড়ির। কিন্তু কথা আংরেজ। বড় হাসিখুশি ভালমানুষ চেহারা। বুড়ার চেহারা মশকারি করতে থাকা ছোকরার মতন। তো, এই বুড়া আমাগো মধ্যে যারেই কাসে পায়, তারেই ধরে একেকটা ধাঁধাঁর জন্যে। তার প্রশ্নগুলাও বড় অদ্ভুত। আমি একশভাগ ভুল উত্তর দিই। সে বড় মজা পায়। আমারে একদিন জিগাইলো - এক থেকে একশর ভিতর নয় সংখ্যাটা কয়বার? আমি কইলাম, এগারোবার। সে কইলো, নাহ, বিশবার। তারপর বলতে শুরু করলো, একানববই, বিরানববই... ঐ মহিলা হাসতে হাসতে শ্যাষ। আমিও আমার বিকট হাসি দেই।
তবে, সবচেয়ে পেরেশানি নারীদের লইয়া। আমি পারতপক্ষে এগোরে সার্ভ করি না। নাহ, এদের প্রকট সৌন্দর্যে আমি উদ্বেলই থাকি, কিন্তু মেয়েরা যে এত কমপ্লিক্যাটেড ড্রিঙ্কার, সেইটা তো ওগোর সৌন্দর্যের ওপর লিখা নাই। বেশিরভাগই লাগার বা বিয়ার ধরে না। ওয়াইন হইলে ঠিক আসে। তা না। জটিল জটিল সব স্পিরিটস চাইবো। ঐটা আসে, সেইটা আসে? এটা দেয়া যায় না একটু? ঠিক এই পরিমাণ না হইলে আমি খাইতে পারি না... ধুরো, মর জ্বালা, কাপড় একটু কম পড়সত আর দেখতে ভাল বইলা কি এইভাবে জ্বালাবি নাকি? বারগামী সুন্দরী নারী দেখলে, আমার আজকাল মুখে আন্ধার জমে... তবে, বারে কাজের ফলে নারীরা একটু সমস্যার সৃষ্টিও করসে। আমি আন্ধা মানুষ। তারপরো, এই তীব্র অন্ধত্ব উপেক্ষা কইরা চশ্মা পড়ি না, মাইয়াদের জন্যেই। যে পরিমাণ উতকৃষ্ট দেহবল্লরীর মুখোমুখি হইতে হয়, তাতেই আমার হৃদয় দিনে অনেকবার জখম হয়। আর, পাবে তো ... কি আর কমু... তবে, রিসেন্ট একটা জায়গায় পড়সি, ব্রিটিশ ললনাগো, ইয়ে, মানে, ইয়ে, যারে কয় পোস্টেরিয়র, সেইটা নাকি বিশ্বসেরা নির্বাচিত হইসে। আমি পুরা একমত। লগে, তাগো উন্মুক্ত পদযুগলো যোগ করা যায়। এই সব দেখতে দেখতে কবে যে আমার বুকটাই ফাইট্যা যায়, কে জানে... ভাইসব, দোয়া রাইখেন।
এই কামলা, কিঞ্চিত পড়াশোনা আর নানাবিধ ব্যাক্তিক ঝামেলায় দিন কাইটা যায়। বার বার মনে হয় কিছু একটা ভুল হইতাসে। কিন্তু সেইটা যে কি, ধরতে পারি না। আমাগো বাসায় কাম করতো - হারুন, ট্রেনে চাপা পড়সিল, তার কথা মনে পড়ে, দুইটা বন্ধু, মারা গেল কত তাড়াতাড়ি, তাগোরেও... বাপের কথাই আজকাল মনে পড়ে খুব বেশি। কেন যে মনে পড়ে? সুনীলের ‘আরামদায়ক দুঃখবোধ’ টাই সত্য হয়া ওঠে তাইলে?
নিঝুম মামা নিউক্যাসলে। ধ্রুব মামা ব্যাস্ত। কারো সাথেই ওভাবে যোগাযোগ হয় না। আজকে স্টেপনি গ্রীন স্টেশানের পাড় ধইরা হাঁটতে হাঁটতে একা লাগতেসিল খুব। একটা কল দিলেই এইটা কাঁটানো যাইতো। কিন্তু, এই কি সমাধান? লাইব্রেরী গেসিলাম এশবেরির একটা কবিতার বইয়ের জন্যে। সেই লাইব্রেরীও আমারে আজ ফেরত পাঠাইলো। তুহিন মামা একটা অনুবাদের কাজ দিসিলেন, এখনো করা হইলো না। পরশুর মধ্যে শেষ করবো অবশ্যই। শপথ অনাগত জোছনা রাতের... তারপর নিজে নিজে ভাঁড়ের হাসি...
আজকে চাবি বানাইতে হইবো। চাবি হারায়া বড় বিপদে পড়সি। আর, গত পরশু বহু বহুদিন পর একটা বঙ্গীয় কোবতে লিখা হইলো। আমার এইখানে দেয়া যাবতীয় লিখাই বহু আগের। বহু বহু আগের। এইটা একদম ফ্রেশ। এই দুনিয়ার কিছুই যায় আসবে না জেনেও কেন মনে হয় কিছু লিখতে হবে? কেন জাদুর মতো শব্দ জেগে ওঠে মাথায়? নার্সিসাসের আত্মকথন বইলা?
কি জানি...
কবিতা উতসর্গ আমি করিনা কখনো... সেইটা উপরিউক্ত নার্সিসিজম লয়া সচেতন থাকি বইলাই হইতো... কিন্তু, আমার বহুদিন পর লিখা এই বাংলা কবিতাটা স্নিগ্ধা আপাকে উতসর্গ করলাম...
দায়
এরচেয়েও দূরে যাওয়াটাই হতে পারতো গন্তব্য
এবং আমি গন্তব্যের শব্দপুঞ্জ দেখে দেখে পদক্ষেপের ওপরের
আকাশ কেমন হবে, সেটা ঠিক করে চলি অহর্নিশ।
দুঃখিত শাদা পাতার মতোন যাবতীয় পথে ফোস্কা পড়ে লাবণ্যের
এবং আমি উতসাহিত কোলাহলে আওয়াজ তুলে তুলে
প্রিয় অক্ষরকে আরো দূরে যেতে বলি।
আরো দূরে।আরো খানিকটা দূরে।
তবু সান্ধ্যআলোয়,
সমস্ত ইতিহাস ভেঙ্গে কেন শুধু আমার বোবা পাখির কথা মনে
পড়ে যায়? আমি তবে নিরবতার কাঠিন্যে এইবার
রুদ্ধ হবো? হবো উদ্ধতপ্রায় হারানো কিশোরচোখ?
কেন পাখির কথা মনে পড়ে? কেন মনে পড়ে?
দূরের চেয়েও দূরে তাকানোটাই হয়তো যথেষ্ঠ ছিলো,
বিষাদসহ দৃষ্টি স্পষ্ট দেখতে পায় না খুব, এবং এর মাঝেও
আমি সীমিত করে চলি পুরনো মানুষের দায়। আমার সাথে
অনেকদূর পর্যন্ত সহজিয়া সমাজের ভালবাসা হেঁটেছিল। অনেকদূর
পর্যন্ত জলীয় রঙ আটকে গিয়েছিল মৃত প্রত্যয়ের কাছে।
সেইসব পড়ে আছে কোথাও, এবং কেও বলছে,
ছিঁড়ে যাওয়ার জন্যেও প্রখ্যাত
ঘুঁড়ি ওড়ে মাঝে মাঝে।
আমি আবারো শোকবার্তার মতো করে ভাবি, -
এরচেয়েও দূরে যাওয়াটাই হয়তো গন্তব্য হতে পারতো,
আরো অনেক দূরের ভবি-স্মৃতি আমাকে ক্লান্ত করলেও,
সেইখানেই হয়তো শব্দপুঞ্জ খুঁজে পেতো তার ভাঙ্গনের দরিয়া।
অথচ, সমস্ত ইতিহাস থেকে একটা বোবা পাখির কথাই মনে
পড়ে যায় আমার! কেন সে পাখির কথা মনে পড়ে?
কেন মনে পড়ে?
এরপর,
পথ ও আঙ্গিনা।
আগামীর মহাকালে শ্লোক।
অগ্রজের শেখানো স্বর সেখানে সুললিত
ম্রিয়মান -
‘কিছুই নয়,
নিরবতা ভাল মনে হয়’।
২
এরচেয়েও দূরে যাওয়াটাই হতে পারতো গন্তব্য
কোন পাঠকের নিজের না মনে হবে এই বাক্য?
মনের গভীর তলদেশ ছুঁয়ে যাওয়া একটা বর্ণিল বিষাদকে স্পর্শ করে ফেলবার আনন্দ পেলাম কবিতাটায়। বর্ণিত পটভূমি (আমি সেভাবেই নিচ্ছি) কবিতাটার সাথে একাত্ম হতে সহায়তা করল খুব।
ভালো লাগল সৈয়দ আহমদ শামীম-এর কবিতাটাও।
................................................................
তোমার হাতে রয়েছি যেটুকু আমি, আমার পকেটে আমি আছি যতটা, একদিন মনে হবে এটুকুই আমি, বাকি কিছু আমি নই আমার করুণ ছায়া
৪
"শপথ অনাগত জোছনা রাতের..."
শপথ অতো মিষ্টি হলে তো রাখার সম্ভাবনা যায় অনেক কমে, তাই হয় না? ![]()
লেখা পড়ে মজা পাইলাম।
কবিতাটা অদ্ভুতরকম ভালো হয়েছে।
...........................
সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন
৬
এরচেয়েও দূরে যাওয়াটাই হতে পারতো গন্তব্য
ভালো লাগলো বেশ। অনেকদিন পর আপনার কবিতা পড়লাম।
কিন্তু একটা জিনিস বুঝতেছি না... পরপর দুইটা ব্লগ পড়লাম বার, পাব, মদ এইসব নিয়া... এখন সন্ধ্যাকাল...
আপনেরা আসলেই খারাপ... দিলেন মাথা খারাপ কইরা...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
৭
হাহাহা... ব্যাপারটা আমার ইচ্ছাকৃত ছিলো না... আমি দেবার পরে দেখি অতিথি লেখকের লিখাটা আসে... আগে দেখতে পাইলে দিতাম না... সে যাক, কবিতা ভাল লাগসে বইলা ধন্যবাদ... মদ্যপান কমায়ে দেন, মাথায় এখন মাইয়া আসে না?
৮
কবিতা সুন্দর।
শুধু এভাবে না দিয়ে আলাদা পোস্টে দিলে
ভালো হতো না?
পাবের মতো চমতকার জায়গা পৃথিবীতে নেই
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস
১০
এই সব দেখতে দেখতে কবে যে আমার বুকটাই ফাইট্যা যায়, কে জানে... ভাইসব, দোয়া রাইখেন।
দোয়া রইলো, ভাইধন । সামলে চলুন ,বাকি দিনগুলি ।
আমি আবারো শোকবার্তার মতো করে ভাবি, -
এরচেয়েও দূরে যাওয়াটাই হয়তো গন্তব্য হতে পারতো,
ভালো লাগলো বড় !এইবার অভিনন্দন গো ভাইধন ।
---------------------------------------------------------
'...এইসব লিখি আর নাই লিখি অধিক
পাতার তবু তো প্রবাহেরই প্রতিক...'
১২
কেন পাখির কথা মনে পড়ে? কেন মনে পড়ে?
আপনারও কি মাঝে মাঝে পাখি-জনম লাভের ইচ্ছে হয়?
কবিতা অতীব.... চমৎকার হয়েছে। সেই সাথে লেখাটাও।
এরকম আরো নতুন নতুন কবিতা আশা করছি। একটা দু:খ সবসময়- যাদের হাতে কবিতা অনুপম হয়ে ধরা দেয়, তারা স্বেচ্ছা নির্বাসনে যায় কবিতাকে ছেড়ে, আর যাদের শত সাধনা করতে হয় কবিতার শরীর গড়তে তারাই চেষ্টা করে যায় প্রতিনিয়ত।
১৪
কি করবো, বুঝছি না - ধন্যবাদ দেবো, নাকি চমৎকার এই কবিতাটা শুধু অনুভব করবো, না কি আবার হতবাক হয়ে ভাববো -"এত কমবয়সে এই (ডেঁপো
) ছেলেটা এরকম লেখে কি করে!"
দূরের চেয়েও দূরে তাকানোটাই হয়তো যথেষ্ঠ ছিলো,
বিষাদসহ দৃষ্টি স্পষ্ট দেখতে পায় না খুব, এবং এর মাঝেও
আমি সীমিত করে চলি পুরনো মানুষের দায়।
কেন যেন মনে হচ্ছে, ঐ তিনলাইন তোমার জীবনদর্শনই আসলে
১৫
কিছু করবার দরকার নাই... জীবনদর্শনও ঝকমারি জিনিস... পোষাবে না...
তারচে, ভাল থাকেন, সুস্থ থাকেন।
১
কবিতার শেষের দুইটা লাইন আমার অত্যন্ত প্রিয় অগ্রজ কবি সৈয়দ আহমেদ শামীমের লিখা একটি নামহীন কবিতা থেকে নেয়া। কবিতাটি তিনি আমার সম্পাদিত 'নামহীন' ছোট কাগজটিতে দেন প্রথম। বহুদিন যোগাযোগ নেই। কবিতাটি আমার পড়া শ্রেষ্ঠতম কবিতার একটি। এই দুর্দান্ত নিভৃতচারী কবির কবিতাটি তুলে দিচ্ছি -
সৈয়দ আহমদ শামীম
হয়তো প্রকৃত উত্তর নেই
মানুষ নেহাৎ বেঁচে থেকে একঘেয়েমির ভাষা অবদি ভুলে যায়
ক’জন প্রশ্ন ভালোবাসে
হয়তো আমাদের গন্তব্যের কান বোধগম্য কিছু কিছুই বলবে না
শুধু প্রশ্ন শুনতে ভালোবাসে।
চুপ-ইতিহাস থেকে দল বেধে প্রশ্ন উঠে আসে
তার সুস্থির নিরবতা দেখে আমরাই কথা বলে উঠি
তারপর ঘটে কী যে
আমাদের করুণ মুখে কার যেন হাসি খেলে যায়
কিছুই নয়
নিরবতা ভালো মনে হয়