বৃষ্টির ঘ্রাণ পাচ্ছি,
জলের ঘ্রাণ পাচ্ছি,
জলমগ্নতায় কার অতল হৃদয়ের
কলরব শুনতে পাচ্ছি ।
এ কার নুপুর-নিক্কণ সকরুণ সুরে
আজো কাঁদে করোতোয়ার কচুরীর দামে?
রেণুকা? সে তো চৌদ্দ বছর আগেই
ভোকাট্টা হয়ে গেছে গোলাপী ঘুড়িটার মতো!
সেই ঘুড়ি, সেই নিরুদ্দেশ ঘুড়ি কতবার ছলে-বলে
আছড়ে পড়েছে রেনুকাদের ছাদে।
যতবারই কুড়োতে গিয়েছি
ততবারই বিদ্ধ হয়েছি শান্ত গভীর দু’চোখের মায়ায়।
(১)
আজ ফাগুনের ফুলগুলি সব ইচ্ছে করে মনের ভুলে,
পথ হারিয়ে যাক জড়িয়ে তোমার দীঘল কুন্তলে।
মন পবনের ভেলায় ভাসুক রোদ্দুরের ওই সুরগুলি,
যাক ছুঁয়ে যাক বসন্ত রং তোমার মনের ঘুলঘুলি।
(২)
এসো সব ক্রন্দন হাহাকার
এসো সব নিসীম শূন্যতা
ধূলির গর্ভে ফুটায়েছ যে ফুল
নিয়ে যাও তার স্নিগ্ধতা।
(৩)
চিবুক ছুঁতে গিয়ে হঠাৎ ছুঁয়ে দিলাম চুল,
সেটাই ছিলো ভুল আমার সেটাই ছিলো ভুল।
অনেকদিন পরে আবারো ক্যাকটাস। আর এবারের ক্যাকটাসগুলো বেশ দুষ্ট। কতটা খোঁচা লাগবে সেটা পাঠকই বলুক!!
***********************************************
মানুষ নেবে বিদায় মানুষের কাছ থেকে
মানুষের হাতে জন্মাবে ধারালো নখর !
অসহায় বোধ যাবে বাণপ্রস্থে, নাও শিখে
শ্বাপদের হিংস্রতা... রক্তের স্বাদ প্রখর !
************************************************
১.
_________________________
ওরা আর কতটুকুই জানে?
শুধু আমিই জানি ভ্রমের বিলাস,
মুখের মুখোশ, নিত্য বাহাস।
আদ্যপান্ত জানা আমার
অজানা নয় অক্ষাংশ-দ্রাঘিমা
কত হাত বদলাও, কত হাতে হও জমা!
ওরা আর কিইবা জানে?
কেবল আমিই জানি ভিতর-বাহির,
রঙের খেলা, ভুলের তিমির।
মুখবন্ধ জানা আমার
এই দিচ্ছি লিখে শেষ পাঠ।
জল গড়িয়ে চলে
পতনেই বুঝি জলের আজন্ম সুখ,
বাধা পেলে প্লাবন ডাকে,
ভাঙ্গনের স্রোত ভাসায় ফুল্লরার বুক।
ও মেয়ে,
তুমি কি গো জলকন্যা?
কেবলই আপন খেয়ালে চলো?
ডুবসাঁতারে সঙ্গে নিলে
কী'বা এমন ক্ষতি হতো বলো?
এই জনমে নাইবা হলো,
রইলো আরো হাজার জীবন....
তোমার সাথে স্নানে যাবো
জেনে নিয়ে জলের সমীকরণ।
ভাসাও, ভাঙ্গো কিংবা মারো করে আস্ত বরফ জমাট,
জলের তোড়েই খুলবো সেদিন তোমার সকল বদ্ধ কপাট।
নদী কি পারে- তার গহীন অতলে
জন্মান্তরের যত সঞ্চিত ব্যথা
উপচে দিতে ঢেউয়ের ছলাৎছলে ?
নারী কি পারে- এমনি অবহেলে
মুছে ফেলতে দেহের সন্তাপ
ঐ খরস্রোতা নদীর জলে ?
যদিও পূণ্যার্থী ছিলাম না কখনোই,
তবুও নদীকে নারী ভেবেই গিয়েছিলাম তীর্থস্নানে
ছুতেঁ চেয়েছিলাম জলের শরীর, মৃত্তিকা পলল,
অঞ্জলি পেতে নিতে বেহুলার খোঁপা থেকে খসে পড়া ভাঁটফুল-
হায়- সেখানে ভাঙ্গনের উল্লাস, শোনিতের ধারা ,
এইখানে নদী ছিলো, ছিলো করতোয়ার স্বচ্ছ সলিল-দুপুরবেলা বৃন্দাবন মাঝির উদাস কন্ঠের গান-পাঠশালা ছুট ফুলকিশোরীদের দুরন্তপনা। এই খানেই ছড়িয়ে ছিলো বট-অশ্বত্থের মায়াবতী শিকড়- প্রাগৈতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভের মতো তারা সগৌরবে দাঁড়িয়েছিলো আকাশকে আড়াল করে, বহু বহু নাগরিক ক্রুরতাকে উপেক্ষা করে। ঠিক পাদদেশেই ছিলো পরেশ সাধুর আস্তানা, আরো ছিলো সর্পকন্যা বিধুয়ার সাথে হাওয়ায় হাওয়ায় জড়ানো গোপ ...
ঝরে পড়াই প্রকৃতির নিয়ম -
আর সে নিয়ম মেনেই পাতারা ঝরে পড়ে বেলা-অবেলায়।
মেঘেদের বিবাগী করে বৃষ্টিও লুটিয়ে পড়ে ধূলির আঙিনায়।
ভোর রাতে তারা ঝরে....
দিন শেষে ফুল ঝরে....
ঝরে যাওয়া পালকেরাও ডানা মেলে চলে সুদূর দিগন্তে .....
পরাজিত স্বপ্নেরা ঝরে পড়ে নতমুখে, বলে- 'বিদায় বন্ধু বিদায়'।
কত জানালায় জমাট অভিমানগুলো জল হয়ে ঝরে পড়ে
রাত জেগে রাতকে পাহারা দেয়ার আত্মপ্রবঞ্চনায়।
কষ্টগুলো, ভুলগুলো কিংব ...
১.
দু'চোখের উত্তাপে পুড়ি,
ছুঁতে চাই যত,
মৌনতা ভেঙ্গে হেসে ওঠো তুমি
জলপ্রপাতের মতো।
২.
অনেকটা পথ হেঁটে এসে দেখি
দাঁড়িয়ে আছি পথের শুরুতে,
একি বিভ্রম!
তরুছায়া খুঁজে বেড়ানো শূন্য মরুতে?
৩.
তোমাদের শহরে
পরাজিত স্বপ্নদের আজ নিষিদ্ধ বসতি,
একটি বুনোফুল
ফোটে যদি প্রাসাদ প্রাচীরে, বলো কি ক্ষতি?
৪.
ও মন, কেন্ তুমি পক্ষী হইবার চাও?
দিবানিশি কেন্ তুমি দু:খের গান গাও?
যাইবা বুঝি এই অবেলা...