ক্ষুব্ধ কলম থেকে যে সমস্ত শব্দের উত্থান
ওগুলো কবিতা নয়, ক্ষোভ নয়--
যন্ত্রণার ইতিহাস যতটা কলমে থাকে
তার থেকে অধিক্ষণ থেকে যায়
স্পর্ধিত ঝড়ের লজ্জ্বায়।
ওগুলো যন্ত্রণাও নয়, তাই বলি
আমার অতীত থেকে যতকিছু গুল্ম-বৃক্ষচয়
সমূলে সামনে আসে; তার সাথে
মৃত মানুষের সহবাস
শ্যাওলায় মুখ ঘষে
উঠে আসে যেই সরিসৃপ
উঠে আসে গুপ্তঘাত, পরিতৃপ্ত যত পূর্বাপর
তাকে তুমি নিজের পায়ের পাতা থেকে
আমি দুই চোখ ভরে দেখি
ঘাসের ঠোঁট ঘুরেঘুরে
ঝরছে সকালের শিশির।
তোমায় ক্ষমা করলাম।
যতটা দুঃখ দিয়ে তুমি
আমার বেঁচে থাকা কেড়ে নিলে
তার জন্য কিছুই বললাম না !
তুমি তোমার সোনার হরিণ নিয়ে
বেঁচে থাক চিরকাল
নিত্য নতুন গান নিয়ে
আর ছুটে আসব না !
আজ পহেলা মে। মে দিবস, মহান মে দিবস। সারা বিশ্বের জন্য এদিনটি শ্রমিকদের মুক্তিগাঁথা হলেও বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য এটি প্রহসন ব্যতীত আর কিছু নয়। ১৯৭১ সালের পূর্বে পরাধীন কালের কথা বাদ দিলাম, স্বাধীনতা অর্জনের ৪২ টি বছর চলে গেলেও আমাদের শ্রমিকদের কোন স্বাধীনতা নেই, মুক্তি নেই; তারা আজও পুঁজীবাদ আর কর্পোরেট বাণিজ্যের শেকলে আবদ্ধ।
বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির একটি হল সমাজতন্ত্র। এটি প্রচলিতভাবে সংজ্ঞায়িত সমাজতন্ত্র না হলেও ন্যূণতমভাবে রাষ্ট্র রাষ্ট্রের সকলের জন্য সমান দৃষ্টি রাখবে সে দাবিটি রাখে। কিন্তু এ দাবিটি বাংলাদেশের জন্য বারবার অসার হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে। গরিবেরা বরাবরের মতনই নিগৃহীত, শ্রমিক শ্রেণিটি আরো বেশি অবহেলিত।
আসুন, আমরা এই নিভৃত চাঁদের ছায়া থেকে
কিছুটা ব্যবস্থা করি হেঁয়ালী সবুজ
কিছুটা আশ্রিত হোক সুখ ও সম্ভোগ
নেশার মতন তীব্র রাত
চেয়ারে অথবা শূন্যে
কিছুটা নিঃশব্দে বসে থাকি
নিশুতি পাহাড়ে বসে
প্রথম মহুয়া পান হলো
অন্ধকার- তার সঙ্গে বসবাস করা
সুশ্রী মাধুর্য নাচে চন্ডালিনী কিংবা
মাতাল হাতির পাল-- বীরভূমে
আসুন কিছুটা করি রাজনীতি
সামাজিক চিন্তাভাবনা
অথবা প্রেম, শুভ কিছু রচনার পাঠ
চেম্বার থেকে আমি ফিরছি
তুমি ইমার্জেন্সী কল এ যাচ্ছ অপারেশন থিয়েটারে
আমাদের ক্রসিং হয় সিড়ির মাঝ পথে
তুমি বললে হ্যালো
আমার মূখে হতাশার মূচকি হাসি
গত চব্বিশ ঘন্টায় এই একটা 'হ্যালো'
তোমার কাছ থেকে আমার একমাত্র পাওয়া ।
আমাদের বাবুটার গৃহকর্মীটার সাথে সখ্যতা হয়েছে খুব
যাক বাবা বাচাঁ গেল, আমাদের মাঝেও হাফ ছাড়া ভাব
বাবুটার মূখে বেশ আঞ্চলিক টোন- 'আমি'কে বলে 'মুই'
কথা ছিলো সুবিনয়, ’আমাদের ধর্ম হবে ফসলের সুষম বন্টন’,
কথা ছিলো, আমি তুমি আর সে; রহিম, রাম আর রহিমার মেয়ে,
বিশুদ্ধ সবুজে সাজাব, মৃগ আর বাঘে, সুন্দরবন।
কিন্তু কী দুঃসহ বোধ! রহিমার মেয়ে কী দেবে প্রবোধ?
চেয়ে দেখ, রামচন্দ্র ঘোষ, আমাদের ধর্ম শুধু হয়ে যায় 'মদীনা সনদ'।
কী আর বলবো তোকে, প্রভু, ঝেড়ে ফেলা নিক্তি-
তুলোর হিসাব ডাকঘর-চিঠি রোমশ মেঘের দিন
এসমস্ত নিয়ে শুধু নিবিড় গল্প বাড়ে
গল্পের হিসেবের বিভেদের ঐক্য শুধু বাড়ে
নিশ্চল ঝিমোচ্ছি দেখে
হাজার অসুখ- তার
কাঁপানো গর্জন বাড়ে
আমায় দেখেছো প্রভু- নিরীহ সাইকেলে
ব্যর্থ ঠেঙিয়ে চলা জলা মাঠ ঘন জঙ্গল
ওপাশে পাহাড়ে বসে প্রভু তুমি এ কেমন
রাম-নাম বৈষ্ণবীর কেত্তন শোনাও
আমার তো প্রিয়বোধ অবশিষ্ট নেই
এখন জানি মানুষ কেন
মনের সাথে আপোষ করে
ভালবাসার রুমাল যখন
পড়ে থাকে , পাপোষ- ঘরে