Warning: Creating default object from empty value in i18ntaxonomy_term_page() (line 34 of /var/www/sachalayatan/s6/sites/all/modules/i18n/i18ntaxonomy/i18ntaxonomy.pages.inc).

কবিতা

আত্মপ্রশ্ন

মূর্তালা রামাত এর ছবি
লিখেছেন মূর্তালা রামাত (তারিখ: রবি, ২১/০৫/২০১৭ - ১২:১৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বলো তুমি কেমন মানুষ?

ভেতরে কি পাহাড়, নদী
তার পাশে পথ; পথিক চাইলে হাঁটতে পারে?

আছে আকাশ? মেঘলা দুপুর—
গাছের ছায়ায় রাখালরা কি মনের সুখে বাঁশী বাজায়?

জানলা আছে? চুল ওড়ানো ফুলের বাতাস?
রোজ বিকেলে চিঠির আশায় কেউ কি বলো
দাঁড়িয়ে থাকে?

মানুষটা কি এমন তুমি?

পাল তোলা এক মনের মাঝে ‘বউ কথা কও’ পাখি পোষো,
যত্ন করে ছড়িয়ে রাখো সোনালী ধান উঠোন জুড়ে—


অপরাজিতা

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: বিষ্যুদ, ২০/০৪/২০১৭ - ৪:৪২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

একদিন সব ভেঙে গিয়েছিল একলহমায় । সম্পর্কটাকে পরিত্যক্ত বাড়ির মতন পেছনে ফেলে পথে বার হয়ে গিয়েছিল তারা দু'জনেই । তিল তিল করে গড়ে ওঠা বহু সুখদুঃখের মুহূর্ত মালা থেকে ছিঁড়ে যাওয়া মুক্তোর মতন ছড়িয়ে পড়েছিল ধুলোয় বালিতে বাতাসে জলে আগুনে শূন্যে ।


আমাদের মায়েরা

মাহবুবুল হক এর ছবি
লিখেছেন মাহবুবুল হক (তারিখ: শুক্র, ২৪/০২/২০১৭ - ৪:৫৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

‘আমাদের বয়স হয়েছে, খোঁজ রাখবেন’-
কত সহজে মা বলে যেতে পারলো কথাটি
আমাদের মায়েরা সেই অমোঘ বাক্যে
বিচলিত হল না, একটু হয়তো ঝরে পড়লো
সন্ধ্যার বনজ অন্ধকার শূন্যতা থেকে শেষ আলোটুকু
নিংড়ে নিয়ে আমাদের মায়েদের মুখে ছড়িয়ে দেয়
তাদের হাসি শালবনের বাতাসে সহজ ভঙ্গিতে তোলে মর্মরধ্বনি
পরস্পরের চোখে বহুদিনের গড়া সংসারকে পূর্ণ রেখে
আমাদের মায়েরা এখন
ফাল্গুনের এই বনের মত নিঝুম, নির্জন।


পাণ্ডুলিপি পুড়ে যায়

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি
লিখেছেন ত্রিমাত্রিক কবি (তারিখ: বুধ, ২২/০২/২০১৭ - ২:০০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আলেকজান্দ্রিয়া থেকে অমর একুশ,
নালন্দা থেকে শুদ্ধস্বর,
জালুস্কি থেকে কম্বোডিয়া,
অভিজিৎ থেকে এন্ড্রোমিডা -
পুড়ে যাচ্ছে তীব্র দহনে।

দহন মূলত রূপান্তর, গ্রহণ মূলত সাময়িক পলায়ন;
যাত্রা মূলত ক্ষণস্থায়ী অবস্থানের সীমায়িত সমাকলন;
স্থির সংকল্প মূলত নির্বিকার যাত্রার মতো গতিময়।

পুড়ে যাচ্ছে জাউরাক, জিবাল আর বিশাখা;
পুড়ে যাচ্ছে চিত্রলেখা, প্রত্যুষ, প্রতীতি;


পাবলো নেরুদার দুটি কবিতা

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ২১/১২/২০১৬ - ৭:৫১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অরণ্যে নিখোঁজ

অরণ্যে নিখোঁজ, কালচে শাখাটি ভেঙ্গে
তৃষ্ণার্ত ঠোঁটে তুলে নিলে তার ফিসফাস,
শোনা যায় বৃষ্টি-রোদন মেঘের কণ্ঠ,
বোবা ঘণ্টার গান, আহত মনের দীর্ঘশ্বাস।

বহুদূর হতে পৃথিবীর পথে
উন্মেষের এই আর্তি তার নিগূঢ় গোপনে,
পল্লবের ছায়াতে হার মানে যেন
আধ-ভেজা ধূসরতার তীব্র শরতে।

ধীর জাগরণে টুটে গেলে সেই অরণ্য-স্বপন,
শাখাটির গান ঠোঁটে শিষ হয়ে আসে,
ঘোর লাগে মনে- তীক্ষ্ণ সুবাসে।


প্রায়শই

ক্রেসিডা এর ছবি
লিখেছেন ক্রেসিডা [অতিথি] (তারিখ: মঙ্গল, ২৯/১১/২০১৬ - ৪:০৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রায়শই
(নামতা'কে)
___________________________

শৈশবের প্রিয় সাইকেলের ট্রেইনিং হুইলের মতো
তোমার দুই বেণী,
চোখে স্বাভাবিক কাঁজল; পরিপাটি চুলের ভাঁজে
এলোমেলো রঙিন ক্লিপ

গরমে গলে যাওয়া ঘন চকলেটের মতো
অসময়ের আবদার; অথবা
গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে আধো আধো বোলে
'বাবা; পানি খাব।'

গ্লাস ভরা হাতে দেখি গভীর ঘুমে, এই স্বচ্ছ
জলের মতো

তোমার গোলাপি ঠোঁট;


সুন্দরবনের গান

শাহীন হাসান এর ছবি
লিখেছেন শাহীন হাসান (তারিখ: শুক্র, ০৫/০৮/২০১৬ - ৯:০৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

তোমরা বুকে ধরো মাথায় রাখ দেশের মাটি ছুঁয়ে শপথ করো
প্রাণ দেবো তো গান দেবো না, দেবো না সুন্দরবন
ফিরে যাও বিশ্বরাজন

আমরা রুখেই দেবো কয়লার গাড়ি ময়লা জঞ্জাল আর
মহাজনের থলে ভরা কালো বিড়াল।
রুখে দেবো জঙ্গিবাদের ব্যবসা এবার

তোমরা ভয় পেয় না সুন্দরী বন, সবুজ পাখি, সুর ভুলো না
আগুনমুখি পশুর নদী, প্রাণীকুল ছেড়ো না সুন্দরবন
আমরা রুখেই দেবো ষড়যন্ত্রের বাণ


চিঠিযুগ

মূর্তালা রামাত এর ছবি
লিখেছেন মূর্তালা রামাত (তারিখ: রবি, ২৪/০৭/২০১৬ - ৬:১৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমি তোমার কাছের মানুষ হবো।

এত্তো কাছে, মনে হবে বাড়ির পিছে
সরিষা ক্ষেত, মৃদু নদী- জলের সারস
অতীতে তার কোল ঘেঁষা পথ-

মনে হবে লতানো লাউ, জানলা খুলে
হাত বাড়ালেই পাখি পাখি গাছের ছায়া,
ঘাসের ঘাড়ে হেলেঞ্চাতে শুকনো পাতায়
মুখ ডোবানো রোদের আরাম-

উঠোন ভরা শাকসব্জি, পুঁইয়ের মাচা
পাটির ওপর ছড়িয়ে দেয়া চালতা আচার
মনে হবে, নিজেরই সব- বুনো ফুলের
ছোট্ট বাগান- কপাল থেকে চুল সরানোর


কথাট্রয়

মূর্তালা রামাত এর ছবি
লিখেছেন মূর্তালা রামাত (তারিখ: সোম, ১৮/০৭/২০১৬ - ৮:১৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কথা কিন্তু কথার নিচে মুখোশ পরা,
মিথ্যা হয়ে লুকিয়ে আছে ট্রয়ের ঘোড়া।

দরজা খুলে আনছো তাকে ভেতর বাড়ি,
মিষ্টি হেসে রাখছো যেন বন্ধু ভারি।

কথার পেটে লুকিয়ে যারা ছদ্মবেশে,
খেলনা হয়ে আত্মহারা তোমায় ঘেঁষে।

একটু পরে রাজপ্রাসাদে কথার সুরে,
চাঁদের মতো যখন তুমি আকাশ জুড়ে-

গুপ্ত খুনি ওই কথারা হঠাৎ এসে,
তোমার জিভে আলতো করে পড়বে বসে।

তখন তুমি নিজের কথা হারিয়ে তাতে,


দুঃখওয়ালা

মূর্তালা রামাত এর ছবি
লিখেছেন মূর্তালা রামাত (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৪/০৭/২০১৬ - ২:৫০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পেতে পেতে দুঃখ এখন
দিতেও পারি,
তবু আছি আগের মতোই
অসংসারী-

অগোছালো ছিলাম যেমন
ইচ্ছামতো-
ভেঙে গড়ে নতুন আবার
ভাঙাই যেতো,

সবকিছু আছেই তেমন
কেবল জানি,
ভালোবেসে দুঃখ দেয়ার
মন্ত্রখানি-

লোকে ডাকে দুঃখওয়ালা
যদিও আমি,
হেসে হেসে মিহিন আঘাত
কমই জানি-

দিতে পারি দুঃখ যেটুক
নিজের মতো,
আহা, যদি ওটুক শুধুও
তোমার হতো!

সিডনি, জুন- ২০১৬।