কবিতা

পাবলো নেরুদার ভালবাসার সনেট - ৬১

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ১৪/০৯/২০১৪ - ১১:২৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভালবাসা তার লম্বা লাঙ্গুলে
একরাশ অদম্য, কর্কশ কাঁটার রেখাপথ রেখে যায়,
আর আমরা দু'জন চোখ মুদে পার হই এ বেভুল পথ,
যেন কোনো জখম আমাদের চিরে ফেলতে না পারে দু'খণ্ডে।

অপরাধী কোরো না তোমার জলভরা চোখ,
তোমার হাত তো বিদ্ধ করেনি তরবারি,
তোমার পদতল খোঁজেনি এ পথ,
এক ঘট শ্যামল বিষণ্ণ মধু, নিজেই এসে ভরেছে হৃদয় তোমার।

যখন বিপুল ঢেউ-তোলা প্রেম, আমাদের লুফে
আছড়ে ফেলে বিশালকায় পাথরের গায়, সে আঘাতে


পাবলো নেরুদার ভালবাসার সনেট - ৩৮

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শুক্র, ২৯/০৮/২০১৪ - ৮:০৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

তোমার বাড়িটা দুপুরের রেলগাড়ির মত,
মৌমাছির ব্যস্ত গুঞ্জন, ডেকচির বাষ্পীয় শিস
শিশিরের কীর্তিকলাপ প্রপাতের স্বর হয়ে ঝরে,
তোমার গলায় বেজে ওঠে তালগাছের উৎফুল্লতা।

হালকা নীল দেয়ালটি, গ্রামীণ ডাকপিওনের মত
গেয়ে-ওঠা টেলিগ্রাম হাতে, পাথরের ওপর ঝুঁকে কথা বলে,
আর ওই ওখানে, দুটো ডুমুর গাছের সবুজ ধ্বনিময়তার মাঝখানে,
নিঃশব্দে হেঁটে যান হোমার।

এখানে নেই নাগরিক ধ্বনি, নেই কান্না,


পাবলো নেরুদার ভালবাসার সনেট - ৪২

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৪/০৮/২০১৪ - ১১:১০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সমুদ্রের নোনা ঢেউয়ে ঝলকায় মুহূর্ত,
হলদে আকরিকের তীব্রতায়, মধুর সোনালী জৌলুসে,
ঝঞ্ঝার বিক্ষোভ যার বরফি পাথুরে কেলাসকে
ভাঙতে পারেনি এতটুকু

সূর্যালোক, আগুনের শব্দে বেজে ওঠে চড়চড়,
মৌমাছির মত গুনগুন করে,
ব্যস্ত রাখে নিপুণ আঙুল, সবুজ পাতায় ঢেকে নেয় মুখ,
গাছের তামাম উচ্চতায় শিস দেয় ঝিলমিলে, ফিসফিসে রূপকথা।

আগুনের ক্ষুধা আর আঁচ নিয়ে, সামান্য পাতায়,


। এক জোড়া ঠোঁট ।

রণদীপম বসু এর ছবি
লিখেছেন রণদীপম বসু (তারিখ: মঙ্গল, ১২/০৮/২০১৪ - ৯:৫৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


...
তখনো কি জানতাম-
একজোড়া ঠোঁট মানে একরাশ নিঃসঙ্গতা শুধু !


পাবলো নেরুদার ভালবাসার সনেট - ৩১

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ১২/০৮/২০১৪ - ৪:২৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমার অস্থি যে তোমার, প্রিয়তমা,
মহিষী আমার; তোমার মাথায় দখিনা বনের পাতা,
সুগন্ধী ঘাস-মুকুট পরাই; মাটির বোনা দোপাটি ফুল,
সবুজ সম্মান, তোমারই প্রাপ্য।

তোমাকে যে ভালবাসে, সে পুরুষের মত, তুমিও এসেছ
বনভূমি-আপরিসর থেকে। যে মাটি এনেছি আমরা দুজন,
তার ঘ্রাণ আমাদের রক্তে। আমরা দুটি লোকজ মানুষ
নগরে পথ হাঁটি বিভ্রান্ত ধাঁধায়, পৌঁছনোর আগেই বন্ধ না হয় যেন হাট।


লঞ্চডুবির খবর

ফারুক হাসান এর ছবি
লিখেছেন ফারুক হাসান (তারিখ: সোম, ১১/০৮/২০১৪ - ১০:০২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমার কফির পেয়ালা উল্টে নষ্ট হল খবর, আজকের খবর।
ইবলিশের জিহবার মতন কালো কফি
হামাগুড়ি দিয়ে ভিজিয়ে দিল শুষ্ক, জরাজীর্ণ অক্ষরগুলি
কালির মেদবহুল হেডলাইন।

আমি তোমাকে সত্যিকারের অসহায় মানুষের উদাহরণ দেই -
সেই মানুষটি - ডুবন্ত লঞ্চের কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন ঋত্বিক
যার দৃষ্টির সামনে শ্রাবণ মাসের সন্দিগ্ধ আকাশ, আকাশের নিচে আজ্রাইলের চোখ ঘূর্ণায়মান উদ্দাম ঢেউ


আমি এখন বড় হয়েছি, বেড়ে উঠেছি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি
লিখেছেন ত্রিমাত্রিক কবি [অতিথি] (তারিখ: রবি, ১০/০৮/২০১৪ - ৫:৫৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মাকে বলা কথা

আমি এখন বড় হয়েছি, বেড়ে উঠেছি,
জ্ঞান বুদ্ধি পাকা হয়েছে, এইতো বেশ করে খাচ্ছি,
আমি এখন অনেক কিছু বুঝতে পারি, মা।
জানো? আমি অনেক অনেক বই পড়েছি, গান শুনেছি।
তোমার কথা এখন আমার খুব বেশি আর মনে পড়ে না।
আমার এখন অনেক কিছু করার আছে, বুঝবে না মা।
অনেক কিছু বুঝছি বলেই, জানছি বলেই,
বিশ্ব এখন আমার দিকে তাকিয়ে আছে, তাঁদের কথা ভাবতে হবে।
তুমি এসব বুঝবে না, মা।


প্যালেস্টাইন/ ১

শাহীন হাসান এর ছবি
লিখেছেন শাহীন হাসান (তারিখ: সোম, ০৪/০৮/২০১৪ - ৫:৪৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্যালেস্টাইন/ ১

মুখে ভয়াল এক পাথর গোজা
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি
বয়ে যাচ্ছে রক্তের নদী।
ধুঁয়া আর অগ্নিকুণ্ডলি স্পর্শ করছে আকাশ
সারি সারি মৃত শিশুর লাশ,
আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি।
এই রক্ত-নদীর পিতৃ-পরিচয়, উৎস-মূলে -
কোন বাড়ির রক্তমাখা হাত, জোয়ার ভাটার টান,
কোন জাতির বিশ্ব-শোষণ সর্বনাশা লোভ,
সবাই জানে, কিন্তু মুখ খুলছে না কেউ ।

এদের নাকি অতীত খারাপ,


পাবলো নেরুদার ভালবাসার সনেট - ২২

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ০৩/০৮/২০১৪ - ১:৪৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভালোবেসেছি তোমায় বহুবার, দেখার আগেই,
মনে পড়েনি তবু একবারও, চিনিনি তো চাহনি তোমার,
কে বা খোঁজে নীলকণ্ঠ ফুল ঝাঁ ঝাঁ দুপুরের রোদে?
গমের সুগন্ধের মত অধরা প্রেম ছিলে তাই।

অথবা আবছায়া ছিলে যেন জুনের ভরা জোছনায়
সুদূর আঙ্গলে, ধরে ছিলে পানপাত্র ঠোঁটের কোনায়,


তোর চোখেতে পড়লে এ চোখ

ঝরাপাতা এর ছবি
লিখেছেন ঝরাপাতা (তারিখ: বিষ্যুদ, ৩১/০৭/২০১৪ - ৮:২৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

তোর চোখেতে পড়লে এ চোখ
বিদ্ধ করে কোন্ শরে?
অচেনা এক শিহরণ, কেন
শরীর জুড়ে ভর করে?

নাকের ডগায় জমাট বাঁধা
বিন্দু বিন্দু শিশির-ঘামে,
ঘুম-ভাঙ্গা সব মেঘের মতো
পাখির ডানায় স্বপ্ন নামে।

তোর পায়ের ওই পায়েলখানি
বাজে যখন নম্র লাজে,
কেমন জানি একলা লাগে,
মন বসে না আর কাজে।

ডাগর দুটো আঁখির তারায়
সাত সাগরের ঢেউ খেলে,
তার বানেতে যাচ্ছি ভেসে
কেউ কি তা জানতে পেলে?

তোর ছোঁয়াতে গোলাপ ফোটে