পায়ের ড্রেসিং করা হয়েছে। ডাক্তার এখন পা সম্পূর্ণ রাখতে পারার ব্যাপারে আশাবাদী।
আজকে পিঠের সাপোর্ট ছাড়া খাটে পা ঝুলিয়ে বসতে পেরেছে।
সিমন ভাই, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।
দেশপ্রেম এর এক লেবাস পড়ে ছিলেন রাজা বেশ,
নতুন লেবাস দিতে হবে গায় এখন সময় শেষ।
এখনি সময়, পাল্টাতে হবে নাহলে যে আছে ভয়,
পাছে লোকে সব দেখে ফেলে, আর তুই রাজা(কার) কয়।
কোথায় পাব এমন পোশাক যা কিনা মানাবে গায়,
সবার গায়ে মলিন পোশাক, আমাকে কি শোভা পায়।
চেয়ে দেখি আজ আশে পাশে যারা পরে আছে সাধারণ,
দেশপ্রেমের এক পুরাতন পোশাক , যত আম জনগণ।
শাহবাগ
-শেখ ফেরদৌস শামস ভাস্কর
অ্যারিজোনা, যুক্তরাষ্ট্র
চলো চলো চলো যাই
শাহবাগ যে ডাকছে ভাই
তরুণ সমাজ
জেগেছে আজ
রাজাকারদের রক্ষা নাই।
তুমি হেঁটে গেছো রক্ত চাদরে মোড়া
রাজপথ ধরে। আর বেশি নেই যেতে।
টগবগ করে ছুটেছে কালের ঘোড়া,
অবিরাম ছোটা, কিসের হদিস পেতে?
ভুলে গিয়ে ভয় যত পরাজয় জীবনের ঢালা ছাঁচে,
বাঙালির দিন বদলে গিয়েছে ফেব্রুয়ারির পাঁচে!
ক্রুদ্ধ মানুষে ক্ষুব্ধ স্লোগানে শাহবাগ জুড়ে ঝড়...
আমাকে নতুন জন্ম দিয়েছে প্রজন্ম চত্বর!
বাঁধতে পারে নি সাধের চাকরি, ঘরে বিছানার সুখ,
আমাকে টেনেছে অচেনা অদেখা রোদে পোড়া কিছু মুখ!
বিদ্রোহী আমি, ছিলাম কদিন আগেও স্বার্থপর...
আমাকে নতুন জন্ম দিয়েছে প্রজন্ম চত্বর!
শিল্পী ফেলেছে রঙতুলি আর গায়ক ভুলেছে গান,
শাহবাগে জ্বলছে আগুন আকাশ ছোঁয়া
লক্ষ মানুষ লক্ষ প্রাণে মত্ত হাওয়া
রাজাকারের ফাঁসীর দাবি, মানতে হবে
ঝড় উঠেছে লক্ষ কণ্ঠে কলোরবে
গনগণে এই লাভার স্রোতে দেশটা ভাসে
আগুন দ্যাখো বসন্তের এই লাল পলাশে
আগুন দ্যাখো চতুর্দিকে বিশ্ব জোড়া
আসছে ধেয়ে মেঘের মতো বজ্র-ঘোড়া
মানতে হবে-রাজাকারের ফাঁসীর দাবি
আল-বদর আর আল-শামসরা কই পালাবি?
শুনতে কি পাস্ এই আগুনের পদধ্বনি?
রক্ত রাঙা মাটি তোদের পাপের খনি
ততক্ষণে জেগে ওঠে পাখি
অসমাপ্ত গান থেমে যায়
দুই চোখে রেশমের ঘুম
প্রতিচ্ছবি পেলব আয়নায়!
যখনি সে বখাটের মত
চায় খুব স্পষ্ট- ডাকে, দেখে,
তাহাদের আমাদের ঘুম
নির্ঘুম দূরত্ব দেখে শেখে!
উল্কার মত সেই আলো
দুইহাতে মেঘ ঠেলে চলে
তার হাতে সমস্ত সকাল
বিকেলের পাখি তার কোলে!
এই শীত রাতভর জাগে
দিগন্তে পূবালির আলো
তোমায় জানিনা এতটুকু
তোমার তো জানাশোনা ভালো!
ছুঁয়ে দেখ,- জল নই আমি
বিকেলের পথে
সবুজ গমের শীষে প্রায়বিলুপ্তরোদ, সাদাফুল ফুটে আছে পথে, কেউ
কাউকে কী পুরোপুরি বঞ্চিত করে ? বিপুল উৎসবে শূন্যের সাথে মাটি,
কথা বলে এখানে, ঝিঁঝিঁর নিস-ব্ধপংক্তি মনোবৈকল্য নাড়ে, পাখিরা বুনোগন্ধের
অর্চনা করে, কচি আপেলের গুটি আমাকে দেখে, কামড়িয়ে খায় ; টকস্বাদে
কামনা আমাদের চাঁদমুড়ি দিয়ে হাঁটে। বিকেলের পথে কেউ কাউকে কী
মশক মিছিল
মেঘের মতো থমথমে মন নিয়ে ফুলের দিকে তাকালে, আপেলগুলো
ঝরে পড়ে আছে, পাখিদের অনিহাও দেখলে। ছোট্ট খালের ধারায়
গড়িয়ে যাবে সন্ধ্যা, দূরে জ্বলে গেছে যদিও দুই-একটি প্রদীপ। ধোঁয়া-ধোঁয়া
হাতছানি দেয়, উঁচু ঐ পর্বত ? একটু দাঁড়ালে, ‘পৃথিবীর এসব কী অযাচিতই
লিখে যাচ্ছি’? ভাবনার পায়ে আবার হাঁটছো, মুখের উপর মশক মিছিল।
পাখিরা সব গাঢ়কাক
রাতের শব্দগুচ্ছে চাঁদ উঁকি দিয়ে যায়- অন্ধকার দ্বিখন্ডিত
তোমার রাত্রির তীরে আছড়ায় প্রসন্ন বিকেল
স্টেশান স্পর্শ করে নিয়ত চলে গেছে দূরগামী মানুষ,
পাথর, মালবাহী যান
সমস্ত সংসার ঘিরে মোহিত এটুকু সময়
এইটুকু অপেক্ষার ঢেউ!
অবকাশ নিলো খুলে জন্মের নীল চোখ, দ্রাবিড় রক্তের ধাঁধাঁ
বড় ব্যথা শূন্যতা।
নগরে অগন্তুক; এখনো আঁকড়ে আছি পিতৃপুরুষের ঋণ সশব্দ গ্রাম্যতা!
বাইরে বাঁশির ডাক- ভেতরের উষ্ণ জানালা
লতা তোমায় করছি মনে, অনেক করে, বুঝছো লতা,
পড়ছে মনে, ভাসছে চোখে, সেই সময়ের উচ্ছলতা,
বইছে বাতাস, উড়ছে তাতে তোমার চুলের গুচ্ছলতা,
আর তুমি না আমার দেয়া গোলাপ খোপায় গুঁজছো লতা।
তোমায় ছাড়া জীবন যাপন আমার ছিলো তুচ্ছ লতা,
হঠাত দেখি চলার পথে আমার ত্রুটি খুঁজছো লতা,
আমার উপস্থিতির চাপে নিজের সাথে যুঝছো লতা,
তাই আঁধারে হারিয়ে গেলাম সাঙ্গ করে উজ্জ্বলতা।
একটা সময় আসবে যেদিন আমায় তুমি খুঁজবে লতা,