বিষাদগ্রস্ত বিষণ্নমুখ
শুণ্য চোখের দৃষ্টি ।
হাহাকার রব মুছে দেয় সব
শেষরাতে নামা বৃষ্টি ।
নিঠুর জীবন নিঠুর ধরণী
কাঁটাবেধা খালি পা ।
বৃথা আক্রোশ অসহায় রোষ
নোনা ঘামে ভেজা গা ।
কত বেদনায় অশ্রুসজল
ক্ষীণ হয়ে আঁখি দৃষ্টি
তবু যত ক্ষোভ মুছে দেয় সব
শেষরাতে নামা বৃষ্টি ।
দিগন্তপানে মিলেছে অতীত
মধুময় সব স্মৃতি ।
আজ সেই পথে একলা পথিক
পথই তার সমব্যথি ।
পিপাসা তোমার মিটবে কি আস্বাদে
সেই ভেবে ভেবে গোধূলি থিতোয় সাঁঝে
রঙিন মুখোশ ছুঁড়ে ফেলে নীল খাদে
জন্মালে ফের ক্লেদজ কুসুম মাঝে
জলের গেলাস জলের গেলাস
রাতের প্রহর বাড়ে
বুকের ভেতর তেষ্টা জমে
আবছা অন্ধকারে।
মেঘে ঢাকা পড়ে যাওয়া তারাগুলো মেঘ সরে গিয়ে
হঠাৎ করে সারা আকাশে দৃশ্যমান হয়ে উঠলে আমি চমকে উঠি
কয়লার খনি খুঁড়তে খুঁড়তে হঠাৎ করে হীরার দ্যুতি ঝলক দিলে
ক্লান্ত শ্রমিকের লোভী চোখ যেভাবে চমকে উঠে ঠিক সেভাবেই।
আমার তখন মনে পড়ে যায় ঋত্বিকের ছবিটির কথা,
ঝিলের পাড়ে বসে হংসধ্বনির আলাপ গাইতে থাকা অনিল চ্যাটার্জি
কিংবা ছেঁড়া চটি জুতা নিয়ে হাঁটতে থাকা যে মেয়েটিকে খুকী ভেবে
একদা এখানে পাহাড় ছিল,
একদা এখানে সাগর ছিল,
ছিল অপরূপ নিসর্গ,
ছায়াময় প্রকৃতি,
পাখির কূজন
আর প্রকৃতির সন্তানেরা -
হোয়াইকংয়ের আদিবাসীরা।
ওদের হয়ত
গোলা ভরা ধান ছিল না,
গোয়াল ভরা গরু ছিল না,
পুকুর ভরা মাছ ছিল না,
কিন্তু ওরা তো পাহাড়ি-
প্রকৃতিতেই জন্ম,
বেড়ে ওঠা,
মৃত্যু।।
ওদের কোন বৈষয়িকতার বালাই নেই,
মুখ ভরা হাসি ছিল,
গলা ভরা গান ছিল,
প্রাণ ভরা খুশী ছিল,
মুজিব নামে যে খোকাটি টুঙ্গিপাড়ায় জন্মে ছিল
কিশোর বয়স থেকেই তার দেশপ্রেমটা মর্মে ছিল
দেশকে ভালোবাসা তার সদাই সকল কর্মে ছিল
মোদের হয়ে চাবুক সম পাক শাসকের চর্মে ছিল
বৈষম্যহীন আচরণটা সদাই সকল ধর্মে ছিল
অগ্নিবীণা কন্ঠে তার আর গীতাঞ্জলি মর্মে ছিল॥
বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুজিব যখন যুক্ত হল
স্বাধীনতার ভিত্তিটাও অনেক খানি পোক্ত হল
অসংখ্য বার কারাবরণ এবং কারামুক্ত হল
এক বন্ধুই বলেছিল, ‘ একা লাগবেনা আর
কিনে ফেল একটা গীটার অথবা বেহালা
কিংবা নিদেনপক্ষে সস্তা দামের বাঁশের একটা বাঁশি।
গীটারের ছয়টা তারে আঙুল ছোঁয়ালেই দেখবি
অদৃশ্য এক জগত থেকে ছুটে এসেছে ছয়টা অপূর্ব ঋতু,
তাদের রূপ তোর অচেনা, তাদের গল্প তোর শোনা হয়নি কোনদিন,
দেয়ালজুড়ে দেখবি তখন ফুটে উঠেছে ফসলের ঊজ্জ্বল মাঠ
একটু আগের বিষন্ন ঘরে যেন হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়েছে
আজ আমার সব আছে
শুধু ভালোবাসা ছাড়া।
আমি আমার ভালোবাসা ফেলে এসেছি
রৌদ্রজ্জ্বোল করতলে
জীবনের বিন্যস্ত সজ্জা ছেড়ে
পলাতক কাপুরুষের মতো
আমি পালিয়ে এসেছি
জীবনের আলোকিতো চৌকাঠ পেরিয়ে।
মূলতঃ আমি একটা আকাশের কথা বলছি
--------------------------------------------
চকচকে মেঝেতে চৌকোনা রোদ্দুর;
মূলতঃ আমি একটা আকাশের কথা বলছি
যেটা জানালাপ্রসূত,
তার পাশে বাসি সর জমা চায়ের কাপে
কিছু মৃত পিঁপড়ে;
একটু দূরে বইয়ের তাক, কিছু গোছানো বই; আর
ধুলো জমা বিষাদমনস্ক শোপিসের কলোনী;
মূলতঃ আমি তোমর জন্মদিনের কথা বলছি;
অথবা তোমর ফিরে আসার সম্ভাবনার কথা ভেবে
‘মহুয়া-মিলন’ স্টেশনে পৌঁছুবো বলে
ঝোলাভর্তি চারুময় রোদের স্বপ্ন নিয়ে
আমরা আচ্ছন্ন সেতারের মতো
ট্রেনের কামরায় উঠে বসেছিলাম...
আমাদের চারদিকে সোনালি চিলের মতো
অমলকান্তি দিনের উড়াল...
বাতাসে ছড়ানো নির্মল আগুনের ফুলকি...
আমাদের বুকপকেটে আকাশভর্তি নক্ষত্রের মতো
জোনাকির ঝিকিমিকি আলো...
তাজা কৃষ্ণচূড়ার মতো
রক্তের বুদবুদে প্রেম মাখামাখি হয়ে আছে।
দিন আসে...দিন চলে যায়...