অনুবাদ

দরজা চোর - ১

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ২৭/০৭/২০১৫ - ১২:৫৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এমআইটিতে ছাত্রদের বিভিন্ন গ্রুপ আছে, ফ্রেটার্নিটি বলে এগুলোকে। প্রত্যেক ফ্রেটার্নিটিই নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রদের দলে নিতে নবীন বরণের মত একটা অনুষ্ঠান করতো, সেই অনুষ্ঠানকে বলা হত স্মোকার পার্টি। ইহুদি ছাত্রদের একটা ফ্রেটার্নিটি ছিলো, নাম ‘ফাই বেটা ডেল্টা’। এমআইটিতে যাবার আগেই নিউ ইয়র্কে তাদের একটা সভায় ডাক পেয়েছিলাম। তখনকার দিনে ইহুদি অথবা ইহুদি পরিবারে বড় হওয়া ছেলেদের জন্য ওই একটাই জায়গা ছিলো। ইহুদিদের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য আমার আলাদা করে তেমন কোনো ইচ্ছা ছিলো না, আর দেখলাম ধর্মীয় ব্যাপারে ফাই বেটা ডেল্টার খুব একটা কড়াকড়িও নেই। সত্যি বলতে কি, আমি ধর্ম বিশ্বাস বা পালন কোনোটাই করতাম না। ওখানকার কয়েকজন আমাকে এটা সেটা জিজ্ঞেস করলো, তারপর দুয়েকটা উপদেশও দিলো। একটা উপদেশের কথা মনে আছে - ওরা বলেছিলো আমি যেন প্রথম বছরেই যেন ক্যালকুলাস পরীক্ষা দিয়ে দিই, তাহলে পরে আর ক্যালকুলাস কোর্সটা নিতে হবে না। উপদেশটা কাজে লেগেছিলো। ওই ফ্রেটার্নিটির ছেলেদের ভালোই লাগলো, তাই আমি ওদের সাথেই যোগ দিই। আর যে দুজন আমার সাথে কথা বলতে এসেছিলো, পরে আমি তাদেরই রুমমেট হয়েছিলাম।


বরবটি

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ১৯/০৭/২০১৫ - ১১:০৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

একবার গরমের সময়ে আমি একটা হোটেলে কাজ করেছিলাম, বয়স তখন সতেরো কি আঠারো হবে। হোটেলটা চালাতেন আমার এক খালা। ওখানে কাজ করে কত পেতাম এখন আর মনে নেই - হবে হয়তো মাসে বিশ-বাইশ ডলার। ওখানে আমি একদিন এগারো ঘণ্টা আরেকদিন তেরো ঘণ্টা করে কাজ করতাম। আমি ছিলাম একই সাথে ডেস্ক ক্লার্ক আর বাসবয়। বিকালে যখন আমি ডেস্ক ক্লার্ক হিসেবে বসতাম, তখন আমার কাজ ছিলো একজন পঙ্গু মহিলার কাছে দুধ নিয়ে যাওয়া। ঐ মহিলার কাছ থেকে একটা পয়সাও বখশিশ পাইনি কোনোদিন। আসলে পৃথিবীটা এমনই, সারাদিন খেটেও কিছুই পাওয়া যায় না, কিন্তু সেটাই করে যেতে হয় দিনের পর দিন।


‘চিন্তা’ করে রেডিও মেরামত!

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ১৫/০৭/২০১৫ - ২:২৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমার বয়স যখন বারো, তখন আমার বাড়িতে একটা ছোটখাটো ল্যাব বানিয়েছিলাম। জিনিসপত্র রাখার জন্য ছিলো একটা পুরনো কাঠের প্যাকিং বাক্স। একটা হিটার ছিলো (সেটাতে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বানানোর কাজেই লাগতো সবসময়)। আরও ছিলো একটা স্টোরেজ ব্যাটারি, আর একটা ল্যাম্প ব্যাঙ্ক (সিরিজ/প্যারালেল সমন্বয়ে সাজানো কতগুলো বাল্ব)।


বিগত ২০০ বছরে রাজশাহীর বন্যপ্রাণীর ইতিহাস

তারেক অণু এর ছবি
লিখেছেন তারেক অণু (তারিখ: মঙ্গল, ১৪/০৭/২০১৫ - ৫:১৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পদ্মার চরে ঘড়িয়াল দেখি নি আমরা কোনদিনই, আগে গেলেই শুশুকের দেখা মিলত, এখন কালেভদ্রে উঁকি দিয়ে আমাদের ধন্য করে পদ্মার এই ডলফিনেরা। বন্যপ্রাণী বলতে দেখেছি কেবল শিয়াল, বেজি, গুইসাপ, বাদুড়, সাপ আর পাখি। তাই ১৯১৬ সালে ছাপা L S S O’malley রচিত রাজশাহী গ্যাজেটর-এ রাজশাহী অঞ্চলের সেই আমলের নানা পশু-পাখির কথা পড়ে ভাবলাম অসাধারণ কিন্তু করুণ সেই ইতিহাস বাংলা করেই ফেলি, অন্তত জানিয়ে রাখি কী হারিয়েছি আমর


তারপর মৃত্যুর পর

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বিষ্যুদ, ২১/০৫/২০১৫ - ১১:৪৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মূলঃ

টেরি প্রাচেট (ডেথ এন্ড হোয়াট কামস নেক্সট)
অনুবাদঃ তাহমিদ-উল-ইসলাম

একবার এক দার্শনিকের দুয়ারে মৃত্যু কড়া নাড়লো। দার্শনিক তার স্বভাবসুলভ গাম্ভীর্য নিয়ে মৃত্যুকে বলেন, "এখন তুমি বুঝতে পেরেছ যে আমি একই সাথে জীবিত এবং মৃত।"


মনুষ্যজাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস- অধ্যায়ঃ ১ (২/২)

নিটোল এর ছবি
লিখেছেন নিটোল [অতিথি] (তারিখ: রবি, ২৬/০৪/২০১৫ - ৯:০৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(আগের পর্ব- লিংক)

রাঁধুনে প্রজাতি

[justify]
শীর্ষে উঠার পথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ ছিল আগুনের নিয়ন্ত্রণ। অল্প কিছু মানব প্রজাতি ৮ লক্ষ বছর পূর্বে মাঝে মধ্যে আগুন ব্যবহার করতো। তবে ৩ লক্ষ বছর আগে থেকে, হোমো ইরেক্টাস, নিয়ান্ডারথাল এবং হোমো সেপিয়েন্সের পূর্বপুরুষেরা নিয়মিতভাবে আগুন ব্যবহার করা শুরু করে। ফলে মানুষ পেল আলো ও উষ্ণতার একটি নির্ভরযোগ্য উৎস, এবং শিকারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো সিংহ থেকে বাঁচার জন্য পেল মারাত্মক একটি অস্ত্র। নাতি-দীর্ঘকাল পরেই, মানুষেরা ইচ্ছে করেই প্রতিবেশের বন-জঙ্গল জ্বালিয়ে দেওয়া শুরু করে। খুব সতর্কভাবে পরিচালিত অগ্নিকাণ্ড দিয়ে একটি অনুর্বর জঙ্গলকে তৃণভূমিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব ছিল যেটি থাকবে শিকারে পরিপূর্ণ। তদুপরি, আগুন নিভে আসলে, উদ্যোগী মানুষেরা পোড়া বনভূমি ঘুরে দগ্ধ পশুপাখি, বাদাম আর কন্দ-মূল তুলে আনতে পারত।

কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে সবচেয়ে অসাধারন যে বিষয়টি ঘটেছিল সেটি হলো- রান্নার উদ্ভাবন।


মনুষ্যজাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস- অধ্যায়ঃ ১ (১/২)

নিটোল এর ছবি
লিখেছেন নিটোল [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৬/০৪/২০১৫ - ৭:৩০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ইউভাল নোয়া হারারি ইতিহাস পড়ান হিব্রু ইউভার্সিটি অব জেরুজালেমে। তাঁর রচিত বেস্টসেলার Sapiens: A Brief History of Humankind সম্প্রতি বেশ আলোড়ন তুলেছে। এরই মধ্যে এই বইটি প্রায় ৩০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বইটিতে লেখক মানব জাতির বিবর্তন থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিপ্লবের নানা বিষয় অত্যন্ত দারুণভাবে বর্ণনা করেছেন। সবচেয়ে আগ্রহোদ্দীপক ব্যাপার হলো, বিভিন্ন বিশ্লেষণে তিনি ব্যবহার করেছেন বিবর্তনীয় জীববিদ্যার নানা সিদ্ধান্ত। বইটির বাংলা অনুবাদ শুরু করার দুঃসাহস দেখিয়েছি। অনুবাদ নিয়ে সকলের মতামত কামনা করছি। যে কোনো ধরনের ভুলত্রুটি শুধরে দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।


টু কিল এ মকিংবার্ড! - হারপার লী

দুষ্ট বালিকা এর ছবি
লিখেছেন দুষ্ট বালিকা (তারিখ: মঙ্গল, ১৪/০৪/২০১৫ - ১২:৪৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম অধ্যায়

একবার জেমের বাম হাত কনুই থেকে বেশ বাজেভাবে ভেঙে যায়। জেমের বয়স তখন প্রায় তেরো। অবশ্য কিছুদিন পরেই ও বুঝতে পারলো এই ভাঙা হাত নিয়ে ফুটবল খেলায় কোনও সমস্যা হবে না। আর এটা বোঝা মাত্র এই পুরো ঘটনা কিছুদিনের মধ্যেই ভুলে গেলো জেম। ওর বাম হাতটা অবশ্য ডান হাতের চেয়ে ছোট ছিলো। দাঁড়ানো বা হাঁটতে থাকা অবস্থায় হাতটা শরীরের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে বেঁকে থাকতো। এ নিয়ে ওর কিন্তু একটুও মাথাব্যথা ছিলো না। ফুটবল খেলতে সমস্যা নেই, তার মানে কোনোকিছুতেই আর ওর সমস্যা নেই!


হাবুলের জলদস্যু জাহাজ

আব্দুল গাফফার রনি এর ছবি
লিখেছেন আব্দুল গাফফার রনি [অতিথি] (তারিখ: সোম, ২৩/০২/২০১৫ - ৪:৩৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

লেখক মাহবুব আজাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। তাঁকে চিনি হিমুদা হিসেবে। সচলের মাধ্যমে। তাঁর প্রায় সব লেখাই আমার পড়া। আসলে পড়তে বাধ্য হই। লেখার যেমন ধার-ভার, তেমনি ঠোঁটকাটা স্বভাবের মানুষ, তাঁর ব্যক্তিত্বের কাছে মনে মনে সবসময় আমি কুঁকড়ে থাকি। তবে তাঁর লেখা পড়ে নাড়া খাই, গোয়েন্দা ঝাকানাকা হাসিয়ে কাঁদিয়ে মারে। তাঁর গল্পের কথাও জানি। আমি যখন সেবাতে ছিলাম সেসময় তাঁর এক অতিপ্রকৃতিক উপন্যাসিকা ছাপা হয়েছিল। কী বলব, সবগুলোই মুগ্ধ করার মতো। কিন্তু তাঁর ছোটদের গল্পের কথা একেবারে অজানা ছিল আমার। অণুদার মুখে প্রথম শুনলাম “হাবুলের জলদস্যু জাহাজ” এর কথা।


ঈশপের গল্প (১১৬ - ১২০)

এক লহমা এর ছবি
লিখেছেন এক লহমা [অতিথি] (তারিখ: সোম, ২৩/০২/২০১৫ - ৪:৩৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে রচিত ভিনদেশী এই গল্পগুলি স্থান-কালের সীমানা পেরিয়ে আজো আমাদের চেনা জগতের কথা বলে যায়।