অতিথি লেখক এর ব্লগ

অভিযোজন

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ২২/০৪/২০১৫ - ৫:১৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

যেহেতু আজ বৃষ্টি হয়নি আর অফিস থেকে বেরুতেও দেরি হয়েছে তাই অনেকটা হালকা চালেই ওঠা সম্ভব হয়েছে বন্ধু পরিবহণে। শাহজাদপুর বাস স্ট্যান্ডের টং দোকান থেকে প্রাণ ডাল ভাজার প্যাকেট কিনে নিয়ে অনেকটা আয়েশি ভঙ্গিতেই বাসে উঠা গেলো। যদিও বাসের ভিতরে দাঁড়িয়ে থাকার ভবিতব্যকে বদলে দেয়ার মতো বড় কোনো অঘটন শহরটাতে ঘটেনি বলে দাঁড়িয়েই থাকতে হলো। তবু যেহেতু বৃষ্টি হয়নি আর ভদ্রস্ত অফিসগুলো আগেই ছুটি হয়ে গেছে তাই এখন পর্যন্ত কেউ পা মাড়িয়ে দেয়নি। এমনকি ভীড়টা এতোটাই সহনীয় যে, আমি ডালভাজার প্যাকেটটা খুলে খাওয়া শুরু করার আশায় একটু পরপর নেড়েচেড়ে দেখছি। মাঝে মাঝে তাকিয়ে দেখছি চারপাশ। সবকিছুকেই ধীর মাধুর্যমণ্ডিত মনে হচ্ছে। এই মনে হওয়া অবশ্য বন্ধু পরিবহণের থেমে থাকার কারণেও হতে পারে। শাহজাদপুর থেকে উঠার পর এটি বেশিদূর আগায়নি। বাসের ড্রাইভার জানালা দিয়ে মুখ বের করে উদাস মনে বসে আছে।


'জোছনা ও জননীর গল্প' এবং কিছু ভুল তথ্য

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ২০/০৪/২০১৫ - ৩:৩৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[আমি যে আজ সচলে কিছু একটা লিখতে যাচ্ছি এর কোনো দায়-দায়িত্বই আমার না, সকল দায়-দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিবেন আয়নামতি এবং ষষ্ঠ পাণ্ডব। ওনাদের সাথে আমার পরিচয় গুডরিডস সূত্রে এবং কিছুদিন ধরে আমি ওনাদের ঝাড়ির উপরে আছি এবং ওনাদের ঝাড়ি খেয়ে আমার বোধোদয় ঘটায় (কারো কারো মতিভ্রম ও মনে হতে পারে) ব্লগে পোস্ট করছি। এটি একটি বুক রিভিউ। যা আমি গুডরিডসে লিখেছিলাম তার সামান্য পরিবর্তিত ভার্সন।]


মাকড়শা

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৬/০৪/২০১৫ - ১০:১৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বিকেল ৫টা বাজতে না বাজতেই আজ আড্ডা ছেড়ে উঠে পরলো রাফি। অনেকদিন ধরেই যাব যাব করে যাওয়াই হচ্ছে না। মা’র জন্য একটা শাড়ি কিনতে হবে। পহেলা বৈশাখের আগে আর মাত্র একটা দিনই আছে হাতে! মা নিজেই যদিও শপিং করবে তবুও সবসময়ই রাফি নিজে থেকেও কিছু একটা কিনে দেয়। আড়ংএ গেলেই মনে হয় তাড়াতাড়ি হবে - দামাদামির ঝামেলা নেই।


অন্তর্ধান (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব)

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ১৪/০৪/২০১৫ - ১:০২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অন্তর্ধান (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব)

(৩)

‘১২ নম্বরকে আর বেশিদিন রাখা যাবে না। বুঝতে পারছো?’ রমজান ঘরে ঢুকতেই শুরু করেন যুবায়ের মাহমুদ। ঘরটা একটু আলো-আঁধারিতে। তূলনামূলক অন্ধকারে বসে কথা বলছেন যুবায়ের। বরাবরই তাই করেন। রমজান তখনো ধাতস্ত হয়নি পুরোপুরি। বড় সাহেবের ডাক শুনে একরকম ছুটতে ছুটতেই এসেছে সে। এরকম জরুরী তলব সাধারণত তিনি করেন না। কী কারণ তাই ভাবছিলো রমজান। আসার পথে সোবহানের সাথে এ নিয়ে কথা বলারও চেষ্টা করেছে। যদিও রমজান ভালো করেই জানে যে এই চেষ্টা অহেতুক। কারণ রমজানই হচ্ছে বড় সাহেবের ফাস্ট হ্যান্ড। সোবহান তার পরে। এর পাশাপাশি আর কেউ আছে কিনা তা অবশ্য রমজান জানে না। রমজান অনেক কিছুই জানে না, এই যেমন বড় সাহেব। রমজান শুধু জানে অনেক বড় সরকারি কর্মকর্তা। ব্যাস এইটুকুই।


শেষ চৈত্র্য আর প্রথম বৈশাখের গল্প

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ১৩/০৪/২০১৫ - ১২:০৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পহেলা বৈশাখের আগের দিনটি অবধারিতভাবেই চৈত্র্য সংক্রান্তি ঠিক যেমন মাঘ মাসের প্রথম দিনটির আগের দিন পৌষ সংক্রান্তি। একটা মাস বা বছর শেষ না হলে নতুন মাস বা বছর শুরু হওয়ার প্রশ্ন নেই। বাংলা পঞ্জিকায় ‘পহেলা’ তারিখের আগে তাই ‘সংক্রান্তি’ রয়ে গেছে সবসময়। আর তার সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের ছোটবেলার পহেলা বৈশাখগুলোও শুরু হতো চলে যাওয়া বছরের সমাপনী দিনটির রেশ নিয়েই। আজকের শহুরে সংস্কৃতির মতো কেবল একটি দিনকে লাল-


মুসান্দামে মেঘ-বৃষ্টি-রোদ

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শনি, ১১/০৪/২০১৫ - ৩:৪৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মুসান্দামে প্রথম বার ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা আগেরবার বলেছিলাম - দ্বিতীয়বার যাওয়ার গল্পটা লিখব লিখব করেও হয়ে উঠে নি। আজ মনে হলো লিখেই ফেলি - ঘুমের ঘোরে লিখা, অজান্তে কোনো ভুল চুক হয়ে গেলে পাঠক নিজ গুনে ক্ষমা করে দিবেন দয়া করে।

একঘেয়ে ছকবাঁধা জীবন থেকে মুক্তি পেতে ফেব্রুয়ারির এক সকালে চারটি গাড়ির কাফেলা নিয়ে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম মুসান্দামের উদ্দ্যেশে।দুবাইতে সেই সাত সকালেই খটমটে রোদ্দুর - আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছিল বৃষ্টি হবে, কিন্তু মেঘের তো ছিটে ফোটাও চোখে পড়ছে না। তবু কেন যেন জ্যাকেটটা নিয়েই নিলাম । চারটে গাড়ির কাফেলা নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম - শারজাহ পেরুতে না পেরুতেই দেখি মেঘের আনাগোনা শুরু। রাস আল খাইমাহ তে ঢুকতেই মুষলধারে বর্ষণ - ছুটির দিনে খালি হাইওয়ে ধরে আমাদের গাড়ি ঝুম বর্ষায় চলছে – দু’পাশে ভেজা বালির মরুভূমি - যারা ড্রাইভিং পছন্দ করেন তাদের জন্য দারুন ভালো লাগার আবহাওয়া।


অন্তর্ধান

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শনি, ১১/০৪/২০১৫ - ২:৪৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(১)


এক একদিন প্রতিদিন-১১

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ০৭/০৪/২০১৫ - ১১:৫২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১।
সে অনেক অনেক দিন আগের কথা। একমাথা ঢেউ খেলানো এলোমেলো চুলের মেয়েটির বড্ড বকবকানীর স্বভাব। দিনভর তার অনাবশ্যক মুখরতায় সবার ক্লান্তি আসে। মা-ঠাম্মা বলেন, সে কথা বলতে শেখার পর থেকে শুধু কথা বলে যেতেই শিখেছে, চুপ থাকতে শেখেনি একটুও। ঠাম্মা বলেন, বালিকার বাস কথার রাজ্যে, তাই ওকে চুপ করে থাকা শেখানোর চেষ্টা করেও লাভ নেই কোন। বালিকা কিন্তু আসলেই চুপ থাকতে চায়, ঝামেলা বাঁধায় গল্পগুলো। শহর থেকে বাড়ি আসবার সময় মায়ের জন্য বাবার কিনে আনা লাল পেড়ে সুন্দর শাড়ীটার গল্প, বড়দি-দাদার বইয়ের 'কাজলা দিদি'র গল্প, রোজ সন্ধ্যায় 'ঠক্কে' বলে ডেকে ওঠা বাড়ীর সামনের আঙিনায় বুড়ো অশ্বত্থের কোটরে লুকানো সেই তক্ষকের গল্প; আরো কত কত...। সেসব গল্প সবাইকে না বলে তার চলতে চায় না একটুও,পেটের মধ্যে এত্ত কথা জমিয়ে রেখে তার ঘুম-খাওয়া-খেলা কিচ্ছু হতে চায় না। কিন্তু তার কথা শোনার মত নিঃসংশয় এবং আগ্রহী শ্রোতা তার মেলেই না দিনভর। সে অপেক্ষায় থাকে, সন্ধ্যের।


সেফটি পিন

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বিষ্যুদ, ০২/০৪/২০১৫ - ৯:৪৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

------সেফটি পিন-----