‘তোমারে কইছিলাম চেয়ারম্যান সাবের নামটা ইয়া বড় বড় কইরা লেখতে, যাতে দুইমাইল দূর থেইকা মানুষ নামডা পড়তে পারে। এইগুলান কী লেখছো? পড়তে তো অণুবীক্ষণ যন্ত্র আনতে হইবো!’
চিৎকার করে কথা বলায় রমিজ উদ্দিনের মুখ থেকে দলা দলা থুতু ছিটকে পড়ছে সামনের লোকটির গায়ে। লোকটি নির্বিকার দাঁড়িয়ে আছে বেকুবের মত।
১
সকাল থেকেই ঝর ঝর বৃষ্টি হচ্ছিল। এখন একটু কমেছে। উঠানের ওপাশে রান্নাঘরটা। মা ধোঁয়া উড়িয়েই যাচ্ছিলেন। একটা মোড়ায় বসেছিল রিফাত। পাশের উঠানটা একটু ঢালু। উঠানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তৃপ্তি। ওদের বারান্দায় বসে তন্ময়, টুলের উপর।
-এই মেয়ে ঘরে আয়।
[justify]দুপুরে ভাত খাওয়ার পর থেকে মাথায় কেমন জানি একটা চিনচিন করে ব্যথা করে। গত দুইদিন ধরে একনাগারে বাসায় শুয়ে বসে দিন কাটাচ্ছি। একবার ভাবি, একটু বাইরে গিয়ে ঘুরে আসি। পরে আবার ভাবি, থাক। এরপর বেরোই। নিচে নামার সময় দেখি বাইরের কলাপসেবল গেটটা তালা দেয়া। নীচতলায় এক নতুন ভাড়াটে এসেছে। কলাপ্সেবল গেট খোলা-বন্ধের ব্যাপারে সে খুব সিরিয়াস। গেট খুলে তালা না লাগিয়ে বেরিয়ে যাই। পেছন থেকে গেট বন্ধ করার আওয়াজ
গ্রামের একটি ভোর
১.
‘’আচ্ছা, এ দেশের মানুষ ৭১ এ যুদ্ধ করেছিল কেন?’’ চিন্তাটা গত কয়েকদিন ধরে উদয় হাসানের মাথায় ক্ষণে ক্ষণে ক্ষরিত হচ্ছে!
হাঁটতে ভীষণ ক্লান্ত লাগছে লেদু মিয়ার। চান্দিনা বাজার যেতে আরো এক মাইল হাঁটতে হবে। এক সময় দশ মাইলের টানা হাঁটা কাবু করতে পারেনি লেদু মিয়াকে অথচ এখন এক মাইল হাঁটতেই ভীষণ কষ্ট হয়। একেই হয়ত বলে বয়সের ভার! কত দ্রুত যেন জীবন থেকে ষাটটি বছর কেটে গেল।
ঐ যে আকাশে চক্কর কাটছে, ওগুলো কি শকুন?
আসাদুল হক ভাবতে ভাবতে কখন প্রশ্নটা উচ্চারণ করে ফেলেন, নিজেও টের পান না। পাশের চেয়ারে বসে একটা পুরনো ম্যাগাজিনে চোখ বুলাচ্ছিলো আলী সুজা, সে চোখ তুলে তাকিয়ে ঘোঁৎ করে একটা শব্দ করে বলে, "ঢাকা শহরে শকুন আসবে কোত্থেকে?"