গল্প

রূপান্তর

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ১৪/০৪/২০১৪ - ৯:৫৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ঘরটা অন্ধকার। এর দেয়াল কাঁচের। এর ভিতর যে বসে আছে সে কিছু দেখছে না। কাঁচের অপর পাশে যারা বসে আছে তারা তাকে দেখছে। দেখছে ৩৫ বছর বয়সী এক লোক বসে রয়েছে কাঁচ ঘেরা ঘরের ভিতর। সুঠাম দেহ। চোখ দেখলে মনে হয় সেখানে রয়েছে এক অদ্ভুত শীতলতা। কোন দয়ামায়া নাই সেখানে। আসলেই তাই। এই লোকটা একটা ঠাণ্ডা মাথার খুনি। এ পর্যন্ত ৪৭ জনকে হত্যা করেছে সে। তার টার্গেট একাকী পথিক। রাস্তার পাশ থেকে তুলে নিয়ে তাদের তিল তিল করে নির্যাতন করে হত্যা করে এবং তাদের রান্না খেয়ে ফেলত।


বিচ্ছু ভাগনের কাণ্ড

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ১৩/০৪/২০১৪ - ১০:৩৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমার ভাগনের মতো এমন বিচ্ছু ছেলে আর আছে কিনা সন্দেহ। তের মাস বয়সে ও যখন মাত্র অল্প অল্প হাঁটতে শিখলো তখনি ও ঘরের সবকিছু ফেলতে শুরু করলো। আর যখন ও দৌড়াতে শিখলো তখন ঘরের সব বয়সের লোকজনও ওর পিছু পিছু দৌড়াতে শুরু করলো। ঘরের কারো কোন নিস্তার নেই। চায়ের কাপ, গ্লাস, বাবার চশমা এমন কোন জিনিস নেই যে ও ভাংগে নি। কেউ আদর করে কোলে নিলে হয় নাকে বা গালে রাম খামচি দেবে বা যদি দাঁড়ি গোফ থাকে তো তা ধরেই জোরে টান দ


মজিদ এবং তার বিশ্বাস (শেষ অংশ)

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ১৩/০৪/২০১৪ - ১২:৩৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ডিজিম্যানিয়া

তীরন্দাজ এর ছবি
লিখেছেন তীরন্দাজ (তারিখ: শুক্র, ১১/০৪/২০১৪ - ৪:১৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গরমের দিনের সকালটা বিচ্ছিরি, নোংরা, ছয়দিনের ঘামে ভেজা গামছার মতো। মোটর সাইকেলের ভটভট, ফেরিওয়ালার চেঁচামেচি, চায়ের স্টলে মমতাজের গান, রিকশাওয়ালার ঝগড়া, রেডিওতে সরকারের গুণকীর্তন, সবকিছু মিলে মিশে বিকট এক বোম্বেটে মাছি হয়ে কানের কাছে অবিরত ভনভন করে। সেই সাথে বাকী দিনটির কথা ভাবতে গেলে বুকের ভেতরে হাজারো গরিলার প্রলয় নাচন শুরু হয়ে যায়। দিন বাড়ার সাথে সাথে বাড়তেই থাকে গরিলাদের নর্তন কুন্দন। রাতে ফ্যান


তৈলচিত্রের আছর

চরম উদাস এর ছবি
লিখেছেন চরম উদাস (তারিখ: বিষ্যুদ, ১০/০৪/২০১৪ - ১০:৩৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

- একদিন সকালবেলা পরাশর ডাক্তার নিজের প্রকাণ্ড লাইব্রেরিতে বসে চিঠি লিখছিলেন। চোরের মতো নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে নগেন ধীরে ধীরে
- ধীরে ধীরে
- জ্বী, ধীরে ধীরে
- না না মানে একটু ধীরে ধীরে পড়ুন। কি নাম নাম বললেন ডাক্তারের?
- জ্বী, পরাশর ডাক্তার
- আর রোগী?
- নগেন
- বদলে ইসমাইল ডাক্তার আর মাহমুদ রোগী করে দিন
- জ্বী আচ্ছা, কিন্তু কেন?
- লেখা ছাপতে চান?
- চাইতো।


মজিদ এবং তার বিশ্বাস

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ০৯/০৪/২০১৪ - ৯:০৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[justify]মজিদ ঠিক বুঝে উঠতে পারেনা উহু্‌ শব্দটা সে কি দুঃস্বপ্নের ঘোরে নিজে করেছে? স্বপ্নের অংশ ছিলো? নাকি তার পাশে শুয়ে থাকা বউটি করলো। কিন্তু হঠাৎ এই ঘুম ভেঙে যাওয়ায় সে মনে মনে খুব বিরক্ত হয়। পৌষের হাড়কাপানো ঠাণ্ডায় আধো ছেঁড়া কাঁথার ভেতর থেকে মাথা বের করে শব্দের উৎস খোঁজারও প্রয়োজন বোধ করলোনা সে। পেপার মোড়ানোর পরও বেড়ার ফাঁক চিরে ঠিকই বাতাস ঢুকছে মজিদের বস্তির ঘরটিতে। এ যেন এক হিমঘর!


তানপুরা

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ০৯/০৪/২০১৪ - ১:৫৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১।
মনসুর সাহেবের সাথে আমার পরিচয় পর্বটা ছিল বেশ অদ্ভুত।সে প্রায় বছর পনের আগের কথা।মাস্টার্স শেষ করে বেসরকারি একটা কোম্পানিতে ঢুকেছি।মোটা অংকের বেতন পাচ্ছি।মেস ছেড়ে কলাবাগানে ছিমছাম একটা দুইরুমের ফ্ল্যাট নিয়ে উঠে পড়লাম।শুধু সংসারটাই যা শুরু করা বাকি।


হয়ত সুলতা জানে

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি
লিখেছেন ত্রিমাত্রিক কবি [অতিথি] (তারিখ: মঙ্গল, ০৮/০৪/২০১৪ - ২:২৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভাবছি।

অলস দুপুর, টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে বাইরে, এখানে যেমন পড়ে অনেকটা সেরকম টুপটাপ। বৃষ্টির ছাট থেকে কাচে লেগে যাওয়া পানির ফোঁটা খুব সন্তর্পনে জানালার কাচ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অভিকর্ষের টানে। আমি তাকিয়ে আছি সেই অনিবার্য পতনের দিকে, তাকিয়ে আছি জানালা দিয়ে বৈশিষ্ট্যহীন একলা আকাশের দিকে। চিৎ হয়ে শুয়ে আছি, আর ভাবছি। আমি বেশ ভাবি, মাঝেসাঝে, এই আবজাব, অর্থহীন, অলস, বৈশিষ্ট্যহীন, অমৌলিক আর এলোমেলো সব ভাবনা।


জু-কিপার

তাহসিন রেজা এর ছবি
লিখেছেন তাহসিন রেজা [অতিথি] (তারিখ: সোম, ০৭/০৪/২০১৪ - ৬:৩০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এই নতুন চিড়িয়াখানায় বদলি হয়ে আসার পর থেকে বদরুল হুসেনের মন খুব খারাপ। “ এ কোথায় এসে পড়লাম রে বাবা!” বদরুল মনে মনে প্রায়ই এই কথা ভাবে। এই একমাস আগেও বদরুল দেশের সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানার জু-কিপার ছিল। বদরুল নিজে হাতে চিড়িয়াখানাটা গড়ে তুলেছিল তিলে তিলে। কত ত্যাগ তিতিক্ষা কত পরিশ্রম সে দিয়েছিল ওইখানে। কত নতুন নতুন সব প্রাণী সে সংগ্রহ করেছিল গত পনের বছর ধরে!


শূন্য পাতা

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ০৬/০৪/২০১৪ - ৯:৫৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১.
ট্রেনে চড়লেই নিঝুমের ঘুম পায়; দেশে থাকতে এই অভ্যাসটা ছিল না, জার্মানিতেই এই নতুন অভ্যাসটা তৈরি হয়েছে। চার-পাঁচ জন মিলেও যদি ট্রেনে চড়ে, তবুও আশাপাশের গল্পকে পায়ে ঠেলে সে ঘুমিয়ে পড়ে; আর একা থাকলে তো কথাই নেই। তবে মাঝে মাঝে এর ব্যত্যয় ঘটে; আর তখন দড়জার দিকে তাকিয়ে যাত্রীদের উঠানামা দেখে কিংবা জানালার দিকে তাকিয়ে কখনো অতীত দেখে আর কখনোবা দেখে ভবিষ্যত।