গল্প

আমার আর্টিস্ট না হওয়া এবং মানিক ভাই

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ১৫/১২/২০১৪ - ৬:১৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমি একদম আঁকতে পারি না এখন, অথচ হয়তো আমার খ্যাতি এখন দেশজুড়েও হতে পারত !

ছেলেবেলা থেকেই অবশ্য আর্টের প্রতি তীব্র অনুরাগ ছিল। সবাই বলত, বাহ সামিনের তো খুব ভাল আঁকে! অন্য বাচ্চারা যখন কম্পিউটারে ভিডিও গেমস, বাইরে খেলাধুলা করত, আমি একমনে এঁকে যেতাম। আর্টের যে কোন কম্পিটিশনে আমি যে ফার্স্ট হব এটা যেন নিয়মই হয়ে গিয়েছিল। আমি গ্রামের দৃশ্য আঁকতাম, কলসি নিয়ে গ্রামের বঁধু যাচ্ছে এটা ছিল আমার প্রিয় সাবজেক্ট। এছাড়া মাঝি নৌকা চালাচ্ছে, কৃষক ক্ষেতে কাজ করছে, বাচ্চারা গাছে উঠছে এগুলো আমি অনায়াসে এঁকে ফেলতাম। পেন্সিল কালার, প্যাস্টেল কালারে আমি ভাল হলেও জলরংটা একেবারেই পারতাম না। একদম ছ্যাঁড়াবেড়া করে ফেলে আর্টের মুডটা উঠে যেত, আর বসতেই ইচ্ছে করত না।


সো হোয়াট

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা সাদিয়া [অতিথি] (তারিখ: সোম, ১৫/১২/২০১৪ - ১২:৪১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাসা থেকে বের হতে না হতেই মাসুদ করিম সাহেবের কেনা এ্যাপেক্সের নতুন কেডস জোড়া থকথকে গোবরে আটকে গেল। স্ট্রিট লাইটের আলোতে চারপাশ বেশ ভালই দৃশ্যমান তবু কেন যে তিনি গোবর দেখলেন না ঠিক বুঝতে পারছেন না। বরং তার মনে হচ্ছে গোবরের স্তূপ ফেলা হয়েছে তিনি রাস্তায় পা রাখবার পর পরই। আজকের সকালটাই শুভ ছিল না, সেখানে সন্ধ্যা শুভ হবে আশাই করা যায় না। সকালে ঘুম ভাঙতেই তিনি বাম পা’টা নাড়াতে পারছিলেন না। রাতের নির্ধা


বিধাতা

মুখফোড় এর ছবি
লিখেছেন মুখফোড় (তারিখ: রবি, ১৪/১২/২০১৪ - ৮:০৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাঘের বড় উপদ্রব। মানুষ অস্থির হইয়া উঠিল। গরু বাছুর, শেষে মানুষ পর্যন্ত বাঘের কবলে মারা পড়িতে লাগিলো। সকলে তখন লাঠি সড়কি বর্শা বাহির করিয়া বাঘটাকে মারিল। একটা বাঘ গেল- কিন্তু আরেকটা আসিল। শেষে মানুষ বিধাতার নিকট আবেদন করিল- "ভগবান, বাঘের হাত হইতে আমাদের বাঁচাও।"

বিধাতা কহিলেন- আচ্ছা।


পাহাড়ি ফুল

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ০৮/১২/২০১৪ - ৭:১৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[justify]পায়েলের নানুমণিকে সবাই যাদুমণি বলে ডাকে।

কেমন করে এ নাম হল কেউ জানে না। এটা কিন্তু নিছক আদর বা ওরকম কিছুর নাম নয়। উনাকে জিজ্ঞেস করলে বৃদ্ধা মিটমিট করে হাসেন। পায়েলের মা অবশ্য বলেন, আম্মা যখন সুস্থ ছিলেন তখন নাকি বেশ ভাল ম্যাজিক দেখাতে পারতেন। সে কারণেই সবাই তাকে এ নাম দিয়েছিল। তিনি ম্যাজিক শিখেছিলেন তার বড় ভাইয়ের কাছে। উনি ছিলেন শখের যাদুকর। পায়েলের নানুমণি হাত সাফাইয়ের ম্যাজিক প্রাকটিস করে করে এমন দক্ষ হয়ে গিয়েছিলেন যে তার বড় ভাইয়ের থেকেও হাত সাফাইটা তিনি ভাল করতে পারতেন। আজকাল অবশ্য দেখেন না একদমই। সামনেই একটা চোখের অপারেশন করতে হবে। ডাক্তার নাকি বলেছেন, ডায়াবেটিকসটা কন্ট্রোলে আসলেই নাকি অপারেশন হবে।


শিকার

খেকশিয়াল এর ছবি
লিখেছেন খেকশিয়াল (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৪/১২/২০১৪ - ১০:১০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

"তোমরা ছেলেরা এতো অগোছালো কেনো?" নাক মুখ কুঁচকে বলে লাইনা। কাঁধের ব্যাগটা নামিয়ে রেখে ধপ করে পড়ে বিছানায়। মাতাল চোখে চারদিক দেখে শুয়ে শুয়ে। ঘরটা মাঝারি আকৃতির, সারা ঘরে হাবিজাবি জিনিসপত্রে ভরা। বইগুলো সব কম্পিউটার ডেস্কে ডাই করে রাখা।

"বিয়ার চলবে নাকি?" জেসন জিজ্ঞেস করে, বিছানায় এলিয়ে পড়ে।

"না বাবা, অনেক খেয়ে ফেলেছি। মাথাটা এমনিতেই কেমন ধরে আছে।"


চিহ্ন

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা সাদিয়া [অতিথি] (তারিখ: বুধ, ০৩/১২/২০১৪ - ১:৫৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সকাল সাড়ে নয়টায় লিমা কোর্টের বারান্দায় এসেছে। দুইজন পুলিশ লিমার কাকা আফসারের বাসায় যেয়ে লিমা আর ওর বাবা জয়নালকে এখানে নিয়ে এসেছে। আগের দিনই থানা থেকে পুলিশ যেয়ে বাড়িতে খবর দিয়ে এসেছিল। জয়নাল মিয়ার গত কয়দিনের অস্থিরতার সাথে সেই থেকে যুক্ত হয়েছে ভয়। মেয়েকে নিয়ে কোর্টে জবানবন্দি করাতে হবে! কোর্টে গেলে কী হবে? কী হয়? কী এক অচেনা দুর্ভাবনায় জয়নাল মিয়া সারা রাত বিছানায় ছটফট করেছে!


বোবায় ধরে যখন

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: শনি, ২৯/১১/২০১৪ - ৯:০২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নেহারুল বার বার জ্যামিতি বাক্স খুলে দেখে নিচ্ছিলেন, ভেতরে সবকিছু ঠিক আছে কি না। কাঁটাকম্পাস, চাঁদা, প্লাস্টিকের ছয় ইঞ্চি রুলার, পেন্সিল, পেন্সিলকাটুনি, পেন্সিলমুছুনি, প্রবেশপত্র, "আল্লাহু" লেখা একটা পিতলের ছোট্ট বোতাম। প্রতিবার জ্যামিতি বাক্স বন্ধ করার পর তাঁর মনে সন্দেহের একটা কাঁটা রুই মাছের ছোটো কাঁটার মতো ঘাই দিচ্ছে কেবল। সবকিছু কি নিয়ে এসেছেন তিনি? কোনো কিছু বাদ পড়েনি তো?


রাজকুমারী চাঁদনিবালার ছবি - প্রথম পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ২৩/১১/২০১৪ - ৯:১৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বারো বছর বয়েসী রাজা জগৎ সিং আমার দিকে তাকিয়ে বড়দের মত গম্ভীর গলায় বললেন, নাম কবুতর ফারুক ঠিক আছে। কোন অসুবিধা নাই। তবে নামটা তোর তেলাপোকা ফারুক হলে আজই তোর গর্দান নিতাম।


পরিচয়

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ১৯/১১/২০১৪ - ৩:৩৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[justify]আমি প্রথমে গেটের সামনে এসে থমকে গেলাম।


পরজীবী

আব্দুল গাফফার রনি এর ছবি
লিখেছেন আব্দুল গাফফার রনি [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৬/১১/২০১৪ - ৬:৪৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পর্দা করা ফাতেমার ধাঁতে নেই। নদীতে অর্ধউলঙ্গ হয়ে গোসল করে। ঘাটেই কাপড় পাল্টায়। পরপুরুষ হলে কী হবে, বাপের বাড়ির লোক বলে কথা। কেউ বেগানা নয়। কিন্তু এখন থেকে ওসব আর চলবে না।
অবশেষে মৌলভি রাজি হয়। বাদ-যোহর পড়াবে। তবে সম্মানীটা একটু বেশি দিতে হবে। জনপ্রতি মাসিক দুশো টাকা। মেয়েছেলেরা রাজি হয়। এ যুগে দুশো টাকা খুব বেশি নয়।

পরদিন থেকেই মৌলভির ক্লাস বসে। ফাতেমার ঘরের দাওয়ায় চাটাই পেতে। মৌলভি সুর করে, ‘পড়ে আলিফ জবর আ, বে জবর বা...’। পড়াশেষে আধঘন্টা দীন ইসলামের বয়ান। ফাউ। শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী, বাবা-মার সাথে কী আচরণ করতে হবে তার তালিম দেয় মৌলভি। স্বামীর পায়ের নীচে স্ত্রীর বেহেস্ত--এ কথাটা বার বার মনে করিয়ে দেয়।