Warning: Creating default object from empty value in i18ntaxonomy_term_page() (line 34 of /var/www/sachalayatan/s6/sites/all/modules/i18n/i18ntaxonomy/i18ntaxonomy.pages.inc).

গল্প

লক ডাউননামা : কদম আলী!

সুমন চৌধুরী এর ছবি
লিখেছেন সুমন চৌধুরী (তারিখ: শুক্র, ১৫/০৫/২০২০ - ১১:৩৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কদম আলী পিৎসা ভালোই বানায়। শুধু পিৎসা না বেশ কয়েক ধরণের ইতালীয় পাস্তাতেও তার হাত পাকা। ফাব্রিৎসিও কাসিয়া রীতিমতো হাতে ধরে ইতালীয় রান্না শিখিয়েছেন। সে অনেক কাল আগের কথা। কদম আলীর তখন জার্মানীতে মোটে মাস ছয়েক।


চিত্ররেখার হীরার আংটি

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ২৬/০৪/২০২০ - ৯:৪২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

একটু চুপ থেকে চিত্ররেখা বলল, আমাকে বিয়ের সময় চেতন সিং ছোট একটা মণ্ডপ করেছিল গড়ের মাঠে। আমার বাবা পবন সিং রান্ধাওয়া আর দাদা পরাগ সিং বিয়ের পুরোটা সময় চোখ মেলে তাকিয়েছিল। একটা কথাও তারা বলেনি, এমনকি চোখের পলক ফেলতেও তারা ভুলে গিয়েছিল। কেন জানেন?

কেন?

চিত্ররেখা মাথা এগিয়ে ফিসফিস করে বলল, কারণ চেতন সিং তাদের মাথা কেটে বল্লমে বসিয়ে মণ্ডপে রেখেছিল। কাটা মাথা কি কথা বলতে পারে?


বিমূর্খদর্পনগরে বিষম বিবাদ

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ০৬/০৪/২০২০ - ১:৪৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভবানন্দ কহিল, তাহা দেখিয়াছি, তাহারে দেখিয়াছি, তিমির কুন্তলিনী নিশীথিনীর ন্যায় ঘোরতর কৃষ্ণবর্ণ।
জীবানন্দ লম্ফ দিয়া দক্ষিণ হস্ত মুষ্টিবিদ্ধ করতঃ, কৃশকায় চৌপায়ায় সশব্দে চাপড় মারিয়া কহিল, অবিশ্বাস করতঃ, এক্ষণে হত্যা দিব, আমি দিবালোকে স্পষ্টতর দর্শন করিয়াছ, উহা উজ্জ্বল নীলাভ শ্যাম বর্ণ।


লক ডাউননামা : এখনো পোলাপান

সুমন চৌধুরী এর ছবি
লিখেছেন সুমন চৌধুরী (তারিখ: মঙ্গল, ৩১/০৩/২০২০ - ১১:০৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

রহিম বাদশা এখনো পোলাপান। দ্বাদশ শ্রেণী শেষ করে উচ্চমাধ্যমিকের অপেক্ষায়। মোটামুটি গুছিয়ে এনেছে সবকিছু। তার মধ্যে এই লক ডাউন। সঠিকবেঠিক সবসময় সবাই বাড়িতে।

টেস্ট পেপারগুলি টেবিলের উপরেই ভৌগলিক অবস্থান বদলাতে থাকে। কাল থেকে পরীক্ষা শুরু হলেই ফাটিয়ে ফেলবে মেজাজ বাড়িময় ভন্ ভন‌্ করে। ঘরের মধ্যে ষোলগুটির কোর্ট বানিয়ে হাঁটে। হাঁটতে থাকে রহিম বাদশা।


সাহস

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ১৫/০১/২০২০ - ১২:০৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

দুবাই এয়ারপোর্টে সময় কাটানো তেমন কোন কঠিন ব্যাপার না, কিন্তু রফিকের ব্যাপার আলাদা। সুদৃশ্য দোকান গুলোয় ঢুঁ মারার ইচ্ছে তার কখনোই হয়না। চারপাশে দেশবিদেশের নানা রকম মানুষের শশব্যস্ত দৌড়াদৌড়ি দেখেও অনেকের বেশ সময় কেটে যায়, রফিকের সেটাও ভাল লাগেনা। কোন লাউঞ্জে বসে রাজকীয় ডিনার কিংবা স্টারবাকসে বসে কফি খাওয়াতেও কোন আগ্রহ পায়না, একটা সময়ে বুকশপে বই হাতাতে মন্দ লাগত না, আজকাল সেটাও ভাল লাগেনা। বুড়ো হয়ে য


ত্রিমাত্রিক

খেকশিয়াল এর ছবি
লিখেছেন খেকশিয়াল (তারিখ: বিষ্যুদ, ১২/১২/২০১৯ - ২:২৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মশানে : প্রথম পর্ব

রাত্রির তৃতীয় প্রহর। নিস্তব্ধ চারিধার। কিয়ৎক্ষণ পূর্বেও শূলাবিদ্ধদিগের কাতর আর্তনাদ, আত্মীয়াদির চিৎকার আর শৃগাল শকুনীদের মড়া আধমড়া লইয়া টানাটানিতে বধ্যভূমি নারকীয় হইয়া ছিল। নিকটবর্তী শ্মশান হইতে চিতার কাষ্ঠ বিদীর্ণ হইবার শব্দ শোনা যাইতেছিল। এখন প্রকৃতি সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ। হয়তো অন্যান্য দণ্ডীদিগের মৃত্যু হইয়াছে। শবদাহ করিয়া বাড়ির পথ ধরিয়াছে শ্মশানবন্ধু সকল। শৃগাল শকুনীরাও সরিয়া পড়িয়াছে নিজ নিজ ক্ষুন্নিবারণ শেষে। কিন্তু চমরবাল এখনো মরে নাই। তার প্রাণবায়ু এখনো দেহ হইতে নির্গত হয় নাই। আশ্চর্য হইয়া অনেকক্ষণ ধরিয়া তাহাই দেখিতেছিল বুঝি এক শিবা, এক্ষণে সেও সরিয়া পড়িল। নড়িল না শুধু মশাল হাতে এক যুবক। চমরবাল অস্ফুটে কী জানি কহিতে চাহিলো, বোঝা গেল না। হয়তো আকুতি, হয়তো বা তার তীব্র যন্ত্রণার প্রকাশ।


পুতুলবন্দী

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শনি, ০৭/১২/২০১৯ - ৭:৩৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[justify]সন্ধ্যা সাতটা পেরুতেই বাসটা একরাশ ধুলো আর কালো ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে যশোর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাঘেরপাড়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দিল। বাসের নামটা এতক্ষন তারেক সাহেবের চোখে পড়েনি। ড্রাইভারের সামনে একদম সামনের আসনে বসার কারনে সামনের কাঁচের উপরে লেখা নামটা চোখে পড়ল, “বাঘেরপাড়া ভি আই পি এক্সপ্রেস”। দেখেই তিনি মনে মনে মুচকি হাসলেন। এই বুঝি ভি আই পি বাসের অবস্থা, তার উপর আবার এক্সপ্রেস!


রুদাই

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ২৪/১১/২০১৯ - ১০:৪৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(দু বছর আগে সচলে কয়েকটা কিস্তি দেয়ার পর গল্পটা নিয়ে আর বসা হয়নি। আজ শেষ করে মনে হচ্ছে ঘাড় থেকে একটা বোঝা নামলো )

এক।।

এরা মাঝে মাঝেই জানতে চায়, আমি কোথা থেকে এলাম। আমি বলি, একটা ভালব টেনে। আর সে ভালবটা ছিলো সুতোয় বাঁধা।

তখন সবাই অবাক বিস্ময়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে, ভালব সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই এদের, সুতো জিনিসটাও অচেনা। আমি নিজেও বুঝিয়ে বলতে পারিনা, আমার কিছু মনে নেই। এদের কৌতূহল অবশ্য ওই পর্যন্তই, খুব বেশি ঘাটায় না। আমিও নিবিষ্ট মনে কাজ করে যাই।

এখানে সবার একটাই কাজ, ছাঁকনদারি করা। আমি ছাড়া আরও একশ একুশ জন ছাঁকনদার রয়েছে এই তল্লাটে। আমরা সোনালি স্রোত থেকে রুদাই সংগ্রহ করি। ছাঁকনদার শব্দটি শুনে মনে হতে পারে আমরা বুঝি সার বেঁধে ছাঁকনি হাতে দাঁড়িয়ে থাকি আর সোনালি স্রোতটা এলেই ঝাঁপিয়ে পড়ি রুদাইয়ের খোঁজে। আসলে তা নয়।

আমরা থাকি সবুজ তল্লাটে। এখানকার ঘর-বাড়ি-রাস্তা-ঘাট এমনকি আমরা, সব কিছুই সবুজ রঙের। সোনালি স্রোতটা তরল নয়, অনেকটা বাষ্পের মতো, আবার ঠিক বাষ্পও নয়! কেউ জানেনা কী এর উৎস। কখনো দীর্ঘক্ষণ, কখনো অল্পক্ষণ, যখন আসে চতুর্দিক প্লাবিত করে চলে যায়। আমাদের সবুজ তল্লাট ফুলে ফুলে ওঠে রুদাইয়ের ভারে। স্রোত চলে গেলে আটকে পড়া রুদাইগুলোকে জড়ো করে বড় রাস্তাটার মোড়ে নিয়ে যাই আমরা, পৌঁছে দেই আরেকটা দলের কাছে। ওই দলে আছে একুশ জন, ওরা থাকে বাদামি তল্লাটে, যেখানে আমাদের যেতে মানা। এক দুজন যে চেষ্টা করেনি তা নয়, কোন এক বিচিত্র কারণে বড় রাস্তার মোড়টা পেরুনো যায়না।


ক্ষীরোদরঞ্জনের গ্লানি কিংবা নিরবালা দেবীর রক্তস্নান

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: শনি, ২৩/১১/২০১৯ - ২:১৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(সতর্কতা:এই গল্পে এমন কিছু রক্তাক্ত সত্য বিবরণ আছে যা দুর্বল হৃদয়ের জন্য সহনশীল নাও হতে পারে)

দেশকালসময় সবকিছুর উর্ধে চলে যাবার পরও ক্ষীরোদরঞ্জন নাথ কিছুতেই দৃশ্যটা ভুলতে পারছেন না। নিরবালা দেবী তাঁর স্ত্রী হলেও তার মাথার উপর নিজের কাটামুণ্ডুটি এভাবে হাজির হবে ব্যাপারটা তিনি মেনে নিতে পারেননি। তখনো তার চক্ষু মুদে আসেনি। তিনি স্পষ্ট দেখতে পেয়েছেন কয়েক সেকেণ্ডের সচেতন অচেতনের মাঝামাঝি ভাষাতীত এক মুহুর্ত ছিল সেটি। কাট্টলীর নাথ পাড়ার সবগুলো প্রাচীন বৃক্ষ, সমুদ্রের হাওয়া, চৈতালী ঝড় ক্ষীরোদরঞ্জনের সাথে একমত। তাঁর কোন অভিযোগ নেই কারো কাছে। তবে সেই ঘটনার পর থেকে তিনি শুধু ঘুরে ঘুরে সেই খুঁটিটার কাছে ফিরে আসেন। যে খুঁটির নীচে ঠেস দিয়ে বসে ছিল নিরবালা দেবী। আসলে ঠেস দেয়নি, একটা পাটের দড়িতে বাঁধা ছিল নিরবালা দেবীর শরীরটা।


বুড়োদেওয়ের সাক্ষাৎ

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: শনি, ২৬/১০/২০১৯ - ৭:১৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

লালদেড়ে প্রৌঢ়ের গায়ে কড়া ক্ষারে কাচা খানিক-রোঁয়া-ওঠা ক্ষৌম কুর্তা যেন আরেকটু ফেঁপে উঠছিলো তারই খনখনে ধমকে, "...গেরস্ত বাড়ির বৌ-ঝির কাপড় তুলে চোরডাকাত খুঁজতে হচ্ছে রাজার ঠোলাকে? আরে একেই কি বলে সভ্যতা...?" পাশে সন্ত্রস্ত মুখে দাঁড়িয়ে তার কিশোরী মেয়েটি, দু'হাত ঘাগড়ায় চেপে রেখেছে সে, কিন্তু ভারি টুলটুলে তার চেহারাটি, আমার চোখ তার দিকেই ফিরছিলো একটু পরপর।