গল্প

বাম ডান

চরম উদাস এর ছবি
লিখেছেন চরম উদাস (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৩/১০/২০১৪ - ১:৩০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

- দুনিয়াতে যতদিন ধরে উপর থাকবে ততদিন নিচ থাকবে, শাসক থাকলে শোষিত থাকবে, শ্রেণী থাকলে শ্রেণীবিভাগ থাকবে, বুর্জুয়া থাকলে প্রতিবাদী থাকবে, ডান থাকলে বাম থাকবে।
এক দমে বলে যেতেন কমরেড কামরুল ভাই। কামরুল ভাই আমাদের পাড়ার বাম নেতা। তিনি জন্ম থেকেই বাম। ভাত খান বাম হাত দিয়ে, লেখেন বাম হাত দিয়ে, ব্যাডমিন্টন খেলেন বাম হাত দিয়ে, মেজাজ খারাপ হলে আমাদের থাপ্পড়ও দেন বাম হাত দিয়ে। মাঝে মাঝে পারুল আপার বাম হাত ধরার চেষ্টা করেন নিজের বাম হাত দিয়ে। বাম হাত দিয়ে বাম হাত ধরা মোটেও সহজ কাজ নয়। সেটা হাত ধরা কম, হ্যান্ডশেক বেশী হয়। কামরুল ভাই শুধু বাথরুমের কাজকর্ম করেন ডান হাত দিয়ে। বাকি সবকিছুতে বাম। এমনকি শহরের মূল অংশ থেকে বড় রাস্তা দিয়ে আমাদের পাড়ায় ঢুকতে হলে ডানের গলিতে ঢুকতে হয়। কামরুল ভাই সেটা না করে একটু এগিয়ে গিয়ে পরের গলিতে বামে মোড় নেন। তারপর আবার বাম, তারপর আবারও বামে মোড় নিয়ে সোজা এসে পাড়ায় ঢুকেন। আড়ালে সবাই তাকে কামরুল না বলে তাই বামরুল বলে ডাকে। তিনি পাত্তা দেন না। এটাকেও পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন।


সাকরাইন

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ১৫/১০/২০১৪ - ৫:৫০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাকাট্টা বাকাট্টা হৈহৈ হৈহৈ। প্রবল চিৎকার চ্যাঁচামেচির মাঝে একটা সপ্নের পতন। সাকরাইন। পুরান ঢাকার পৌষ সঙ্ক্রান্তির উৎসব। ঘুড়ির উৎসব। যখন সাকরাইনের কথা মনে পরে যায় মনে হয় আগের জন্মের কোন মধুর সপ্ন দেখে এই মুহূর্তে জেগে উঠলাম। পৌষের শেষদিন জানুয়ারির মাঝামাঝি ১৪ বা ১৫ তারিখ। চারদিকে শুধু ঘুড়ি,ঘুড়ি আর ঘুড়ি। সাদা, হলুদ, লাল,নীল, বেগুনি গোলাপি সবুজ কোন রঙ নেই তাই খুজে দেখার মত।


অপ্রত্যাশিত বিদ্যুতের চমক

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: মঙ্গল, ১৪/১০/২০১৪ - ২:০৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গল্পের সুত্রপাতের গল্প-

তিনি মাঝে মাঝে গল্প লেখেন। সবগুলো ঠিক গল্প হয়ে উঠতে পারে না। তবু একজন স্থায়ী পাঠকের মনোযোগ পেয়ে তিনি লেখালেখি জারি রেখেছেন। এই পাঠক তাঁর লেখার ঠিক ভক্ত নয়। যদিও তাঁর সব গল্প মনোযোগ দিয়ে পড়ে। গল্পের রেটিং করে, সমালোচনা করে, মাঝে মাঝে উৎসাহও দেয়। লেখক সেদিন একটা নতুন সিদ্ধান্ত নিলেন। পাঠকের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহনে একটা গল্প হোক। কিন্তু এত রাতে কোথায় খুঁজবে পাঠককে। তাছাড়া ভৌগলিক দূরত্বও কম নয়। হোক দূর, হোক রাত, এখন ইন্টারনেট যুগ, এই যুগে পৃথিবীতে কিছুই দূর নয়, কোন সময়ই অসময় নয়। কিছু মানুষ আছে যাদের গরু খোঁজা করে বাস্তবে কোথাও পাওয়া না গেলেও ইন্টারনেটে বা ফেসবুকে ২৪ ঘন্টাই খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তিনিও যথারীতি খুঁজে পেয়ে গেলেন পাঠককে। দূরবর্তী পাঠক তখন ঘুম থেকে উঠে নাশতা করতে বসেছে মাত্র। প্রস্তাব পেয়ে প্রথমে দোনোমোনো করলেও অবশেষে সে রাজি হয়েছে গল্প সৃষ্টির অংশীদার হতে। লেখক এখনো জানেন না কি গল্প হবে। গল্পের কাহিনী না জানলেও তার একটা চটকদার নাম ঠিক করা হয়েছে- "অপ্রত্যাশিত বিদ্যুতের চমক"।


ও ময়ূর, পাখা মেলে দাও (১ম পর্ব)

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ১৩/১০/২০১৪ - ১:২৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এক.


প্রায়শ্চিত্ত

Sohel Lehos এর ছবি
লিখেছেন Sohel Lehos [অতিথি] (তারিখ: বুধ, ০৮/১০/২০১৪ - ১:২৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রাচীন সাবিনো গাছের ডাল পালার ফাঁক দিয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। সিঁদুর লাল সূর্যটা এক রকম তাড়াহুড়ো করে ডুবে গেল। এক ঝাঁক পাতি হাঁস প্যাক প্যাক করে ডুবন্ত সূর্যটাকে ধাওয়া করে উড়ে গেল পশ্চিম দিকে। সূর্য মরে যাবার পরও হালুদ লাল একটা আভা ঝুলে রইল আকাশের ক্যানভাসে। আস্তে আস্তে আঁধার হল চারদিকে। বড্ড ক্লান্তি নিয়ে রাত নামল ওয়াহাকা'র আকাশে।


হাবিব মনসুরের চিঠি - শেষ পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ০৫/১০/২০১৪ - ৪:০৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(প্রথম পর্বের পর)

ভারত সাগর, ১৬০৭। মাঝারি আকারের চৈনিক জাহাজ হায় ছাঙ এর ডেক। ভোর।

জাহাজের সর্বময় কর্ত্রী পী না’র কপালে গভীর ভাঁজ। গুমোট জাহাজের পরিবেশ গতকাল থেকে। গতকালের ঝড়ে বেঁচে বের হওয়া যাবে এইটা অনেকেই বিশ্বাস করেনি, এরকম পাহাড়ের সমান উঁচা ঢেউ দেখে কলজের জোর ধরে রাখা শক্ত। সেইটা থেকে বাঁচা গেছে সত্য, কিন্তু আরেক কঠিন সমস্যা তৈরি হয়েছে। খাবার নেই।


তীর্থযাত্রী

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শনি, ০৪/১০/২০১৪ - ৩:১৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পাঞ্জাবির পকেটের কাছে এক কোণা ছিঁড়ে যাওয়াতে কুদ্দুস মিয়া খুব দুঃখ পায় মনে। তার দু’টো শার্ট, একটা পাঞ্জাবি। কোনও বিশেষ উপলক্ষ থাকলেই সে পাঞ্জাবিটা পরে। আজকের এটাও একটা উপলক্ষ। তার গন্তব্য শরীফউদ্দীন ইমামের বাড়ি – ৬৪, মদীনাবাগ। অনেক কষ্ট করে সে এই ঠিকানাটা জোগাড় করেছে। শরীফউদ্দীন ইমাম তাদের গ্রামেরই মানুষ, ডগরীবাজার জামে মসজিদে ইমামতি করেছিলেন বহুদিন, কুদ্দুস মিয়া তাকে ছেলেবেলা থেকে দেখে এসেছে। বউ মরে যাওয়াতে আর ছেলের চাকরি হওয়াতে গ্রাম ছেড়ে শরীফউদ্দিন ইমাম ঢাকায় চলে এসেছিলেন।


আনন্দ নগর

চরম উদাস এর ছবি
লিখেছেন চরম উদাস (তারিখ: শনি, ০৪/১০/২০১৪ - ১:০১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

স্বামী পটলানন্দ ভরপেট খেয়ে ধ্যানে বসার পাঁয়তারা করছিলেন। শিষ্য গোবরানন্দ দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে তাকে থামাল।
- এইবার কতদিনের জন্য বসছেন স্বামী?
- দুই তিন মাস। বেশীও হতে পারে।
- ঝামেলাটার একটা সুরাহা করে যেতেন আগে।
স্বামী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,
- এইবার কি ঘটনা?
- আপনাকে নিয়ে ঘটিনন্দ গ্রুপের সাথে বাটিনন্দ গ্রুপের মারামারি হয়েছে।

গোবরানন্দ বলে যায়। স্বামী উদাস মুখে ঘটনা শুনতে থাকেন।


হিঙ্কলি রোড কর্নার

নজমুল আলবাব এর ছবি
লিখেছেন নজমুল আলবাব (তারিখ: বিষ্যুদ, ০২/১০/২০১৪ - ১১:০২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[justify]মোড়ের পাশের ফুলের দোকানটা বন্ধ হয়ে গেলো।


আপাততঃ সুসংবাদ

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: বিষ্যুদ, ০২/১০/২০১৪ - ১:৪৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

দুপুরে কেন্টিনের পচা তেলাপিয়ার মাছের ফ্রাই চুবানো ঝোল দিয়ে ভাতের গেরাসটা নিয়ে যখন মোচড়ামুচড়ি করছিল ঠিক সেই সময়ে সরফরাজের বাম পকেটের মোবাইলটা ক্যাঁক ক্যাঁক করে আর্তনাদ করতে শুরু করলো।