ঘরে মেকুর- বাইরে কুকুর’ নীতির কারণে আমাদের বাড়িগুলোতে কুকুর পোষা বড়োই কঠিন। এই আইনের দ্বারা বিড়াল নিশ্চিন্তে ঘরে প্রবেশাধিকার পেলেও কুকুরে সীমারেখা দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। কুকুরের জন্য এটুকু শেখা বেশি কঠিন ছিল না। ঘরে ঢোকামাত্র কঞ্চি-চালান আর বাইরে যাওয়া মাত্র একটা দুইটা বিস্কুট কি রুটির টুকরা দিয়ে কয়েকদিন প্রশিক্ষণ দিলেই কুকুর তা শিখে নিতো। কিন্তু শিয়াল আর টলায় ভর্তি আমাদের গ্রামে ঘরের
নতুন বছরে আমাকে দেয়ালের শ্যাওলা-ময়লা ঘষে তোলার কাজে ব্যবহার করা রংমিস্ত্রিদের খরখরে ব্রাশটাকেই টুথব্রাশ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে; কারণ মানুষের পেট-পাছা-ঘাড়-গর্দান-ঠ্যাং-মাথার মতো মুখের হা অত বেশি ছোটবড়ো হয় না বলে বাজারে টুথব্রাশের সাইজেও যেমন বেশি তারতম্য নেই তেমনি মানুষের আরামপ্রিয়তার কারণে ব্রাশের আঁশগুলো খুবই তুলতুলে নরম...
প্রতীক্ষা নাটকে হড়বড় করে সাকুল্যে দুইটা ডায়লগ দিয়ে জীবনে একবার মাত্র মঞ্চে ঢোকার অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্যারিকেড চারিদিক নাটকে বেশ বড়ো একটা চরিত্র পেয়ে গেলাম। ‘ব্যারিকেড চারদিক’ হাবিবুল ইসলাম হাবিবের লেখা পথনাটক। নির্দেশনা দিচ্ছেন আক্তার ভাই। জেলবন্দী তিন বামপন্থী ছাত্রনেতার একজন কেন্দ্রীয় চরিত্র; তার প্রেমিকা-টেমিকা আছে ক্যাম্পাসে; সেই চরিত্রটা মারুফের। তার সাথে দুইজন পাতি নেতা; একজন দেয়ালে চিকা মারার সম
অমুক ভাইয়ের চামড়া; তুলে নেবো আমরা... কাউয়ার গলায় মুক্তার হার; মানি না- মানব না...
ঘর ঝাড়ু– দিতে কিংবা কেটলিতে করে চা এনে সবাইকে খাওয়াতে এখন আর জাতে ধরে না। তক্তা কাটা কিংবা হাতুড়ি পেটানোতো এখন এনজয়ই করি। কিন্তু মাথায় ঠাঠা ফেলল গ্রুপের নতুন নাটকের সুভেনির প্রকাশনা। নতুন নাটক উপলক্ষ্যে সুভেনির প্রকাশ হবে জেনে খুশিই হয়েছিলাম; ভেবেছিলাম সুভেনিরে একটা মারাত্মক লেখা লিখে দেখিয়ে দেবো অভিনয় কিংবা বাংলা উচ্চারণ না জানলেও লেখায় আমি এইসব গোঁয়ার গোবিন্দের নাগালের কতটা বাইরে। কিন্তু সুভেনি
আমার এক ফুপু। যুদ্ধে স্বামী হারানোর পর বিয়েশাদি না করে দেড় বছরের ছেলেটাকে বড়ো করে তুললেন। পড়াশোনা রাজনীতি নাটক আর চাকরি করতে করতে একদিন জন্ডিস বাঁধিয়ে ধুপ করে ছেলেটা মরে গেলে ফুপু একদম ঝিম মেরে গেলেন। তার এই অবস্থায় সবাই ঠিক করল ফুপু যদি ঘুরে ঘুরে সবার বাড়িতে কিছুদিন করে থাকেন তাহলে হয়ত ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন...
ভেঙে পড়ার আগে নিজেকে একটু ঠেস দিয়ে দাঁড় করাতে হয় যাতে ফটোগ্রাফার ভেঙে পড়ার সবগুলো ভাঁজে ফোকাস শার্প করে নিতে পারে। ভেঙে পড়ার আগে একটু নড়েচড়ে ভেঙেপড়া সবগুলো ভাঁজে আলো ঢুকতে দিতে হয় যাতে ফটোগ্রাফার সবগুলো ভাঁজ ঠিকঠাকমতো ক্যামেরাবন্দী করতে পারে। ভেঙেপড়ার আগে একটু সোজা হয়ে ফটোগ্রাফারের রেডি-ওয়ান-টু-থ্রি শুনে ঝুপ করে ফ্রেম বুঝে একসাথে ভেঙে পড়তে হয় যাতে ভেঙেপড়ার অ্যাকশনগুলো ফটোগ্রাফিতে জীবন্ত হয়ে উঠে...
ইস্কুলে কোনো অমেরুদণ্ডী প্রাণীর রচনা লিখেছিলাম কি না মনে নেই; আমাদের সবগুলো রচনাই ছিল শোয়ানো মেরুদণ্ডের গরু-ছাগল-ভেড়া-মহিষের মাহাত্ম্য কারণ এই শ্রেণির মেরুদণ্ডগুলা চারটা খুঁটির উপর লম্বালম্বি শুয়ে থাকে বলে শিং-খুর-নাক-কান-লেজ নিয়ে কয়েকটা বাক্য লিখে সরাসরি চামড়া ছিলে চামড়ার রপ্তানিমূল্য কিংবা ছিলা চামড়ায় লবণ মাখানোর কৌশল কিংবা সেই চামড়ায় বানানো জুতা-মোজা-ব্যাগের বর্ণনা দিয়ে লম্বায়প্রস্থে রচনা বড়ো ক
বৃষ্টি ঝরাতে হলে হাত উল্টো করে প্রার্থনা করতে হয় কিংবা মেঘমল্লার গাওয়া তানসেন হতে হয় কিংবা কাদাকুদো মেখে ব্যাঙের বিয়ে দিতে হয় কিংবা মেঘ দে পানি দে বলে আব্বাসউদ্দিনের মতো জিকির করতে হয় কিংবা নিদেনপক্ষে স্বচ্ছ শাড়িপরা সিনেমার নায়িকা নাচাতে হয়...
কয়েকদিন আগে নাট্যকর্মীদের একটা রবীন্দ্রমন্থন আড্ডা গড়াতে গড়াতে এসে পড়ে গান্ধারীর আবেদন- কর্ণ-কুন্তী সংবাদ আর বিদায় অভিশাপ; তিনটি কাব্যনাটিকায়। তিনটাই রবীন্দ্রনাথের মহাভারত পুনর্লেখন কিংবা পুনর্পাঠ। আমি ভাবার চেষ্টা করি রবীন্দ্রনাথ কি এই তিনটা কাহিনীর বাইরে মহাভারতের আর কোনো কাহিনী পুনর্লেখন করেছেন?