মাহবুব লীলেন এর ব্লগ

গণ একাকিত্ব কিংবা পারিবারিক বৃদ্ধাশ্রম

মাহবুব লীলেন এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব লীলেন (তারিখ: বুধ, ২০/০৭/২০১১ - ৮:৪৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমার এক ফুপু। যুদ্ধে স্বামী হারানোর পর বিয়েশাদি না করে দেড় বছরের ছেলেটাকে বড়ো করে তুললেন। পড়াশোনা রাজনীতি নাটক আর চাকরি করতে করতে একদিন জন্ডিস বাঁধিয়ে ধুপ করে ছেলেটা মরে গেলে ফুপু একদম ঝিম মেরে গেলেন। তার এই অবস্থায় সবাই ঠিক করল ফুপু যদি ঘুরে ঘুরে সবার বাড়িতে কিছুদিন করে থাকেন তাহলে হয়ত ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন...


প্রাপ্তিযোগ

মাহবুব লীলেন এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব লীলেন (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৭/০৭/২০১১ - ৪:১৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভেঙে পড়ার আগে নিজেকে একটু ঠেস দিয়ে দাঁড় করাতে হয় যাতে ফটোগ্রাফার ভেঙে পড়ার সবগুলো ভাঁজে ফোকাস শার্প করে নিতে পারে। ভেঙে পড়ার আগে একটু নড়েচড়ে ভেঙেপড়া সবগুলো ভাঁজে আলো ঢুকতে দিতে হয় যাতে ফটোগ্রাফার সবগুলো ভাঁজ ঠিকঠাকমতো ক্যামেরাবন্দী করতে পারে। ভেঙেপড়ার আগে একটু সোজা হয়ে ফটোগ্রাফারের রেডি-ওয়ান-টু-থ্রি শুনে ঝুপ করে ফ্রেম বুঝে একসাথে ভেঙে পড়তে হয় যাতে ভেঙেপড়ার অ্যাকশনগুলো ফটোগ্রাফিতে জীবন্ত হয়ে উঠে...


অদণ্ডী

মাহবুব লীলেন এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব লীলেন (তারিখ: সোম, ২৭/০৬/২০১১ - ১০:১৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ইস্কুলে কোনো অমেরুদণ্ডী প্রাণীর রচনা লিখেছিলাম কি না মনে নেই; আমাদের সবগুলো রচনাই ছিল শোয়ানো মেরুদণ্ডের গরু-ছাগল-ভেড়া-মহিষের মাহাত্ম্য কারণ এই শ্রেণির মেরুদণ্ডগুলা চারটা খুঁটির উপর লম্বালম্বি শুয়ে থাকে বলে শিং-খুর-নাক-কান-লেজ নিয়ে কয়েকটা বাক্য লিখে সরাসরি চামড়া ছিলে চামড়ার রপ্তানিমূল্য কিংবা ছিলা চামড়ায় লবণ মাখানোর কৌশল কিংবা সেই চামড়ায় বানানো জুতা-মোজা-ব্যাগের বর্ণনা দিয়ে লম্বায়প্রস্থে রচনা বড়ো ক


আষাঢ়ে

মাহবুব লীলেন এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব লীলেন (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৬/০৬/২০১১ - ১২:১৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বৃষ্টি ঝরাতে হলে হাত উল্টো করে প্রার্থনা করতে হয় কিংবা মেঘমল্লার গাওয়া তানসেন হতে হয় কিংবা কাদাকুদো মেখে ব্যাঙের বিয়ে দিতে হয় কিংবা মেঘ দে পানি দে বলে আব্বাসউদ্দিনের মতো জিকির করতে হয় কিংবা নিদেনপক্ষে স্বচ্ছ শাড়িপরা সিনেমার নায়িকা নাচাতে হয়...


রবীন্দ্রনাথের বিদায় অভিশাপ; সাম্প্রতিক বিশ্বরাজনীতির পৌরাণিক রূপরেখা

মাহবুব লীলেন এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব লীলেন (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৪/০৪/২০১১ - ৩:১০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কয়েকদিন আগে নাট্যকর্মীদের একটা রবীন্দ্রমন্থন আড্ডা গড়াতে গড়াতে এসে পড়ে গান্ধারীর আবেদন- কর্ণ-কুন্তী সংবাদ আর বিদায় অভিশাপ; তিনটি কাব্যনাটিকায়। তিনটাই রবীন্দ্রনাথের মহাভারত পুনর্লেখন কিংবা পুনর্পাঠ। আমি ভাবার চেষ্টা করি রবীন্দ্রনাথ কি এই তিনটা কাহিনীর বাইরে মহাভারতের আর কোনো কাহিনী পুনর্লেখন করেছেন?


স্বপ্নযাপন

মাহবুব লীলেন এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব লীলেন (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৭/০৪/২০১১ - ২:৩১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

তখন মেঘলা দিন। পরানমাঝির মাথার উপরে পুরোনো খড়ের চাল; পায়ের নিচে চাল চুঁইয়ে পড়া পানিতে কাদাকাদা মেটেল মেঝে আর বাঁশের খুঁটিগুলো নরম মাটিতে পড়োপড়ো প্রায়...


দ্বিখণ্ডিত স্বপ্নতালুক

মাহবুব লীলেন এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব লীলেন (তারিখ: রবি, ২৭/০৩/২০১১ - ৫:১৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ত্রিপুরা রূপকথা অনুযায়ী পশুপাখির দৃষ্টিতে মানুষ হলো ফালিফালি করে কাটা এক অদ্ভুত প্রাণী। হাতির ঠ্যাঙের মতো একটা মাংসখণ্ডকে প্রথমে নিচের দিক থেকে অর্ধেক ফেড়ে বানানো হয়েছে তাদের পা। পাশ থেকে ধারালো ছোরা দিয়ে লম্বালম্বি দুইফালি মাংস ফেড়ে বানানো হয়েছে হাত। তারপর মুগুরে থেঁতলানো হাতপায়ের চ্যাপ্টা মাথা কেটে কেটে বানানো হয়েছে পাঁচফালি আঙুল...


লালন রবীন্দ্রনাথ মুজিবনগর; রাজমিস্ত্রির খপ্পরে কুষ্টিয়ার তিন অনাথ আশ্রম

মাহবুব লীলেন এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব লীলেন (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৪/০৩/২০১১ - ৬:৩০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রায় দশ বছর পর কুষ্টিয়া গেলাম। শুকনা গড়াই নদী হেঁটে পার হয়ে নসিমনে চড়ে প্রথমেই শিলাইদহ ঠাকুরবাড়ি। ঠাকুরবাড়িতে কেন যেন যেতে যত ভাল্লাগে যাবার পরে আর তত ভাল্লাগে না। উঠানে ঢোকার পর তাও যতটুকু ভালোলাগার রেশ থাকে; বাড়ির ভেতরে ঢুকলেই তা একেবারে শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকে। বহুবারই তো গেলাম। কিন্তু সেই একই অনুভূতি; অন্ধকার ঘরে রবীন্দ্রনাথের কয়েকটা ছবি আর ঘুণে ধরা ঠাকুরবাড়ির পুরোনো কিছু ফার্নিচার...


বৈতল

মাহবুব লীলেন এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব লীলেন (তারিখ: রবি, ০৬/০৩/২০১১ - ৫:২২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সিলেটের মতো দুনিয়াতে অত বেশি জায়গার নাম কোনো শহরে আছে কি না আমার জানা নেই। এক নামের জায়গায় দাঁড়িয়ে বিড়ি টানলে ছাই গিয়ে পড়ে অন্য নামের জায়গায়। প্যাডেল আড়াই চক্কর ঘুরে আসার আগেই রিকশা চলতে শুরু করে বদলে যাওয়া নামের রাস্তায়। মেয়েরা যেখানে গেট দিয়ে ইস্কুলে ঢোকে সে জায়গা থেকে হেড মিস্ট্রেস যেখানে দাঁড়িয়ে ছাত্রীদের স্কুলে আসা তদারকি করেন সে জায়গার নাম ভিন্ন। আবার যখন তারা যার যার ক্লাসে গিয়ে বসে তখন হয়ত


শৈশবচারী

মাহবুব লীলেন এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব লীলেন (তারিখ: বুধ, ২৩/০২/২০১১ - ৬:১৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সিলেটের ভারুয়ারা জানে ভারের ব্যালেন্স। দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলতে হলে তারা দুপাশে ওজন সমান করে কাঁধ ঠেকায় বাঙের মধ্যখানে। সমতলে হাঁটার সময় তারা বাঙের সামনের দিক ছোট রেখে পেছনে বাড়তি ওজনের সাথে ভারসাম্য করে হাঁটার গতির। আর পাহাড়ে উঠা কিংবা ঢালু বেয়ে নামার সময় তারা দুই কাঁধে বাঙ নিয়ে আড়াআড়ি আগায়...