(অজুহাত এক: স্প্যানিশ আমার জানা ভাষা নয়। ভাব প্রকাশ ও গ্রহণের দৌড় বাংলা আর টার্জান ইংরেজি পর্যন্ত। ও হ্যাঁ টেনিদার মতো তুম নেহি জানতা টাইপ হিন্দিও কিছুটা বুঝি সে আলাদা কথা। যা বলছিলাম, স্প্যানিশ থেকে সরাসরি অনুবাদ করা তাই আমার দ্বারা সম্ভব না। আবার কবিতা ইংরেজি ঘুরে বাংলায় আসলে সেটার আসল রস কতটা থাকে সেটাও একটা প্রশ্ন। কবিরা ভালো বুঝবেন এসব ব্যাপার, আমার মতো লোকেদের এইসব আলাপ না চালানোই ভালো।
কোন ক্লাসে পড়েছিলাম এই কবিতা এখন তা আর মনে নেই। সিক্সে কি সেভেনে কি এইটে। তবে মনে আছে ইংরেজী বইটার পৃষ্ঠাগুলো হালকা লালরঙা ছিল। পাতাগুলো ওলটালেই নিউজপ্রিন্টের মিষ্টি গন্ধটা এসে নাকে টোকা দিত। মা খুব যত্ন করে সবগুলো বইয়ের মলাট করে দিত। তার উপর আমি সুন্দর করে লিখে রাখতাম বইটার নাম।
গ্রুপস্টাডি
অন্ধ ছিলাম আমরা;
প্রথমে বর্ণ পরিচয়,
অতঃপর শব্দ পরিচয়
অমনি অসতর্ক শব্দ গুলো উড়তে লাগল সাদা-কালো মেঘদের ছুয়ে ছুয়ে
সিমফুল ঠোট গুজে নেমে এল নতুন বউয়ের মত রোদ।
আমরা গন্ধ শিখলাম;
নিকষ কালো রাত্রির টাটকা গন্ধ
মিটিমিটি জ্বলা জোনাকি পোকার গন্ধ
আর উদাসীন, চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা মৃতপ্রায় নদীটির গন্ধ ।
আমরা গন্ধ শিখলাম;
বেশ উন্মুল হয়ে আছি
সিক্ত পলিমাটি কখন যে ধুলোকণা হয়ে গ্যাছে, কে জানে।
এইরূপ একটা বিবর্তন বুঝি সংগত ছিলো,
উনিশশো উননব্বই কুড়ে খায় গোড়া থেকে
ভবিষ্যতও নির্বাক, স্বপ্ন-হীন-ঠিকানা-বিহীন – ভবঘুরে,
সময় ভারী সর্বনাশী, তান্ডব ঝড়ে আলুথালু,
শুধু এক অজানা বিবমিষা বেড়ে ওঠে -
আর আমাদের বাগান, শেকড় থেকে কেবলই দূরে সরে যায়।
আমি যে কবি হব সেটা আমি টের পেয়েছিলাম একেবারে ন্যাদাবেলায়। তখনও মুখের কথা ফুটেছে, কি ফোটেনি, তখন থেকেই নাকি আমার সব কিছুতে এক অদ্ভুত ছন্দ। একবার কান্নার সুর উঠলে, সেই সুরে শুধু বাড়ির মানুষ না, একেবারে পাড়া-প্রতিবেশী সহ সবাইকে মাতিয়ে তুলতাম। সে নাকি এক এলাহি কাণ্ড। এরকম কথা ছোট বেলা থেকেই শুনে শুনে বড় হওয়া। তাই যখন স্কুলেই ভর্তি হয়েছি কি হইনি, হলেও বড়জোর কেজি ক্লাস বা এক-ক্লাসে পড়ি, তখন এক
টাপুরটুপুর মন ভালো নেই
সকালটা আজ ভোরবেলাতেই
মেঘের সাথে ভাব করেছে, যাচ্ছে ঝরে, যাচ্ছে ঝরে...
জানালাটা পাতার ভিড়ে আনমনা মন
প্রাপক বিহীন পত্রগুলো জলের মতন
কোথায় কখন কার কাছে যায় কার কাছে যায়, এমন করে!
পাতায় পাতায় জলের ফোঁটা সূত্রবিহীন সুতোর টানে
কেবল ঝরে কেবল ঝরে --- আকাশ জানে
মেঘ জানেনা জলের খবর,
জল জানে কি!
খুব দেখেছি
গন্ধ-সোঁদা জলের বহর
মৃত্তিকাতে ঢেউ গুনে যায় সব-প্রহরে;
সুবর্নরেখা
--------------
শূন্যতার গল্প বলি;
কান পেতে শোন গ্লাসে শব্দ হয়ে গড়িয়ে যায়
তরল জোহান্সবার্গের
উপচে পড়া মেঘ গ্লাসের কাঁচ বেয়ে বেয়ে
সিরামিক বাটি
ঝাঁঝালো চানাচুর,
এবং গোলাপি নখ;
জল না হোক, যতটুকু মেঘ ঠোঁটের কার্নিশে
আমার শূন্য গ্লাসে ঢেলে দাও -
বৃষ্টির গান শোনাই।
হ্যাংওভার
---------------------
কালো প্যান্ট
সাদা শার্ট
ম্যাচিং টাই
রিমলেস গ্লাস
আলোর সারপ্লাস
"I walked into a cocktail party..."
মানে একটি চিড়িয়াখানা
পুশি ক্যাট, টমি ডগ
ম্যাচিং কাপল
কাপল ম্যাচিং,
মিস্টার সেন, মিসেস ইসলাম
সাদা হাত
কালো হাত
মাল্টিকালার হাত
সব আলিঙ্গন বদ্ধ এবং একাকী
"I ate a sandwich of pure meat; an
Enormous sandwich of human flesh"
ধনুক এর ছিলায় টান টান হয়ে
এক বিষণ্ণ তীর
তার তো পাখি হওয়া মানেই অপরাধ
ভুল খোঁজা নীড়
তার জন্য রাখা বুলস আই , অন্তত বিদ্ধ
এ শহরে সব নিয়ম নিঃপাতনে সিদ্ধ
ক্লান্ত ধনুক, একের পর একে
দিকভ্রান্ত তীর এর ছুটে চলা দ্যাখে
ক্রমাগত ইলাস্টিক ফ্যাটিগ
তাকে, করে তোলে বৃদ্ধ
এ শহরে সব নিয়ম নিঃপাতনে সিদ্ধ
- অপ্রকৃতিস্থ
জীবন কি থামে কখনও
অস্তাচলের পথে?
প্রাণোৎসবে উচ্ছল,
বহুমাত্রায় বর্ণিল জীবন কি থামতে পারে কখনও!
যেমন থামেনি ৫২, ৭১, ৯০ এ।
মানুষ যখন অমানুষে পরিণত হয়,
মরণকামড় দেয় হিংস্র শ্বাপদের মত
জীবন এগিয়ে চলে তখনো।
পায়ে না পারলে হাতে,
হাত অচল হলে গড়িয়ে গড়িয়ে
সুমহান কিছুকে ছোবার আশায়,
অজানাকে জানার আশায়,
কখনো স্রেফ হতাশাগ্রস্ত ভাবেই- এগিয়ে চলে।
জীবনের সার্থকতা কোথায়?