০১.
পড়ছিলাম ঋতুপর্ণঘোষের সাক্ষাৎকার। কবেকার জানি না। অনেক আগের হয়তো। কথা বলছিলেন তার বিজ্ঞাপন ও ছবি বানানোর নানা অনুষঙ্গ নিয়ে। ছবিতে রং-এর ব্যবহার নিয়েও বললেন অল্প-স্বল্প। একজায়গায় জানালেন নিজের ছবিকে “ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি” বলে বিজ্ঞাপিত করার অনাগ্রহের কথা। বললেন, বায়ান্ন জনের ছবি কখনো ঋতুপর্ণের একার ছবি হতে পারে না। আর এক জায়গায় ক্যামেরার সামনে কখনো কাজ করবেন কী না প্রশ্নের উত্তরে স্ট্রেইট এবং খুব কনফিডেন্টলি বললেন, “না”।
[justify]দেখলাম সঙ্গীত মানুষকে কেমন মোহনীয় করে তুলতে পারে, দেখলাম একটি পাখি উড়ে গেল ডানা ঝাপটিয়ে-- আর ছড়িয়ে যেতে যেতে শুনিয়ে গেল কোনো এক অচিন দেশের গান-- ভুলভুলাইয়া।
এসব মোহগ্রস্ত দিনলিপি অন্যকেউ লিখে গেছে আগে, লিখে দূরে চলে গেছে একাকী--হাস্যলিপিকার। শুধু তার হর্ষধ্বনি ইতি-উতি লেগে আছে। দূরে সরে যাওয়া ভালো, রমণীর গভীর নাভীর মতো নির্জনে পড়ে থাকার চেয়ে দূরে সরে যাওয়া ঢের ভালো।
[justify]১.
সে এক অদ্ভুত মায়াভরা গ্রাম, মুখ তুললেই আকাশ, নক্ষত্র, মেঘ, ছায়াপথ, মহাবিশ্ব। কত কত ভাঙা পাড়... কত বজ্র... কত ঘূর্ণিঝড়... মাথাভর্তি স্বপ্ন আর কুলকুল বাঙালির স্বর... পাতার আওয়াজ পেলে নিজের ভেতর থেকে চমকে উঠে দেখি পাশে মেঘ... মহা-মহা তারা... আহা সময়-- ফ্লোরসেন্ট স্বপ্নের মতো বড়ো বেশি কম্পনপ্রিয়-বড় বেশি পতঙ্গ স্বভাব।
ফসল, তুমি কি জানো প্রেমিক আলপথ্
তোমাকে বানান-চিন্তা দিয়েছে দুঃখের?
বলো তো অ’ মানে ধান... এই বাংলাদেশে
প্রেমে প’ড়বো বারবার রাখালের বেশে
-বিভাস রায়চৌধুরী
সকালে ঘুম ভেঙ্গে প্রতিদিন শুনি 'আমরা করবো জয়’
হারমোনিয়ামের রিডে তার আঙুলগুলো কিছুটা ত্রস্ত-বিষাদমাখা
অনেকটা বহুদূর ঘুরে আসা
ঘোড়ার ক্ষুরধ্বনির মতো ক্লান্ত--নুয়েপড়া
সারাটাদিন গানের ভেতরকার করুণ সুরখানি আমাকে নাড়াতে থাকে
তুমি নেই, তবু কিছু ছায়া জেগে আছে
তাতে বৃথা বৃষ্টিপাত--সমুদ্রঘুম
যে যাবার সে বহুদূর চলে গেছে--একা
এলোমেলো হাওয়ায় পায়ের কাছে উড়ে এলো কিছু ধুলো
এতোকাল ভুল বিশেষণে ইতি-উতি অপ্রস্তুত পড়ে থাকা
বলে গেল সুপ্রভাত; শিউলিভোর !
শুধু, মাঝে-মাঝে জলের সাথে ভাসতে-ভাসতে
কিংবা ছড়িয়ে যেতে-যেতে তার ছবি ভেসে আসে
মনে পড়ে
সেই কবে সে গানের সাথে ভেসে গেছে
কালস্রোতে !
মানুষের ডানা থাকে এবং এই গল্প আমি ছোটবেলায় শুনেছি। হাত-পা ছাড়াও দুইটা ডানা তাদের। ঐ গুলা দিয়া তারা যেখানে খুশি উড়ে বেড়ায়। হঠাৎ খুব প্রিয় কোনো মানুষকে দেখতে ইচ্ছে হলে চোখের পলকে তারা সেখানে পৌঁছে যেতে পারে।
ছোটবেলায় সেই গল্প শুনে আমি ডানাওয়ালা মানুষ হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ডানাওয়ালা মানুষ হওয়া কি আর এত সহজ? চাইলেই কি আর ডানাওয়ালা মানুষ হতে পারে কেউ?
বড় হয়ে আবিষ্কার করলাম বড়-বড় ...
ভোলাগঞ্জের রাস্তা পুরোটাই ঘুমের উপর দিয়ে গেল। রাস্তায় দু'একবার ঘুম ভেঙেছে যদিও তা রাস্তার ঝাকুনিতে। ঘুমের ব্যাপারে আমার ভালই সুনাম আছে। যে কোনো অবস্থায় যে কোনো স্থানে আমি ঘুমোতে পারি। নৌকার ইঞ্জিনের পাশে ঘুমিয়ে আমি নির্দ্বিধায় পাড়ি দিতে পারি মাইলের পর মাইল।
ঘুম পুরোপুরি ভাঙল ভোলাগঞ্জ পৌঁছার মিনিট পাঁচেক আগে। তাও আমাদের সহযাত্রি ফখরুল ভাইয়ের চিৎকারে। চোখ মেলতেই দেখলাম সা ...
ভূগোল বিষয়ক
ভূগোল শিখতে গিয়ে বৃত্তের ফাঁদে পড়ে জেনেছি--সব পথই ফিরে ফিরে ধাঁধাঁ। কুটিল-জটিল যা-ই লিখে ফেলি--
লিখে ফেলি--পথিক হতে গিয়ে যে পথ হারিয়েছি ক্রোধে-- আমি তার বিন্দুমাত্র ফিরে পেতে নতমস্তকে বারবার ফিরে আসি পথে।
রহস্যলতিকা
রহস্যলতিকা, আজ বসে আছো ভেবে
তোমার ঘূর্ণনরীতি কেন্দ্রাভিমুখে ছুটে আসছে বারবার
ফলত তোমার যাপনরীতি কিছুটা স্থূল--জটিলরৈখিক
তাতে ঝুলে আছে তৈলাক্ত ভ্র...
যে আরো গভীরে নেমে যাচ্ছে
তার স্তুতি লেগে আছে বুকে
আমার বিছানা ভর্তি তার নিঃশ্বাসের শব্দ--
তাতে মৃত মানুষের ঘ্রাণ
প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়ার পর
তারা হাত পা মেলে উঠে আসে ঘরে
সারা ঘরময় তাদের পায়চারি
--ঝগড়া-বিবাদ
রাতশেষে তাদের পদচিহ্নগুলো
বাদুড়ের ডানার মতো কালো-- নিশ্চুপ
তবু
তাদের ডানায় এই কাঁচা হলুদের দাগ
কে লাগিয়ে দিয়ে গেল ভোরে
তোমার ইচ্ছের কথা সঞ্চিত আছে গুহামুখে
তোমার জন্য অপেক্ষায় আছে রোদ
তোমাকে কেন্দ্র করে বেড়ে উঠছে
দিনের প্রথম কোলাহল
অথচ তোমাকে কাঁপাচ্ছে ঋতুমতী মেঘ
তোমাকে কাঁপাচ্ছে বর্ষাযাপনের কলা
কত আলোকবর্ষ দূর হতে
ধূপগন্ধ ছড়াচ্ছে সেইসব মৃত মুখ
--তাদের বায়বীয় ডানা