বিকেলের পথে
সবুজ গমের শীষে প্রায়বিলুপ্তরোদ, সাদাফুল ফুটে আছে পথে, কেউ
কাউকে কী পুরোপুরি বঞ্চিত করে ? বিপুল উৎসবে শূন্যের সাথে মাটি,
কথা বলে এখানে, ঝিঁঝিঁর নিস-ব্ধপংক্তি মনোবৈকল্য নাড়ে, পাখিরা বুনোগন্ধের
অর্চনা করে, কচি আপেলের গুটি আমাকে দেখে, কামড়িয়ে খায় ; টকস্বাদে
কামনা আমাদের চাঁদমুড়ি দিয়ে হাঁটে। বিকেলের পথে কেউ কাউকে কী
মশক মিছিল
মেঘের মতো থমথমে মন নিয়ে ফুলের দিকে তাকালে, আপেলগুলো
ঝরে পড়ে আছে, পাখিদের অনিহাও দেখলে। ছোট্ট খালের ধারায়
গড়িয়ে যাবে সন্ধ্যা, দূরে জ্বলে গেছে যদিও দুই-একটি প্রদীপ। ধোঁয়া-ধোঁয়া
হাতছানি দেয়, উঁচু ঐ পর্বত ? একটু দাঁড়ালে, ‘পৃথিবীর এসব কী অযাচিতই
লিখে যাচ্ছি’? ভাবনার পায়ে আবার হাঁটছো, মুখের উপর মশক মিছিল।
পাখিরা সব গাঢ়কাক
১.
একেবারে মেঘে ঢাকা নিশী, জলবিন্দু হয়ে এসেছো, অঝোরে নামবে
নাকি ? ঘাস ভিজে গেলে বসতে কষ্ট হবে, পাতারা কাঁদো কাঁদো হলে
বতাসের দু:খ বাড়বে, ঝিরিঝিরি কাঁপাতে পাতা,- কী হয়েছে কী ? পথে পথে
কাঁদে কারা, ঘরহীন মানুষের কথা শোনে নাকি কেউ ? ভাবছো কী আর
কাব্য লিখে কী হবে ? মেঘ কী পৌঁছিয়ে দেবে ? ‘এঁ বিরহে মরি’!
২.
চলে যাও ফিরে- কষ্ট হয় দেখতে, হঠাৎ রোদ নিভে যেভাবে পথের পরে
আমার জন্য তোমরা কেউ কোথাও দু:খ পেওনা
আমি অনেক ভালো আছি। মেঘের উপরে হাত
রাখতে পারি, ভাসতে পারি শূন্যে বলতে পারি :
আমি দু:খহীন এক তরণী
ছায়াপথে তারা-নদীর যাত্রী,
ভারহীন যা"িছ ভেসে। শুধু,
যে কজন কাচাবাজারের ব্যাপারি
কবিকে মাপতে চেয়েছিল দাঁড়িপাল্লায়
ওদের তোমরা বলেদিও- তাদের বাটকারা নাই।
আমি এতোটা হালকা।
এখন,
মেঘের সাথে থাকি
একদিন কিছু কান্নারত মুখ হাটছে দেখি
আমার পিছু পিছু
কোন এক বিকেলে নির্জন পথে একলা পেয়ে
ওরা টান্ দিয়েছিল আমাকে
খুব জোরে হাত ধরে
পথের পাথরে বসে আমিও কেঁদেছিলাম
ওদের সঙ্গে
ফুলেরা পড়ছিল পাথরে ঝরে
করুণ এক কান্না যেন কোথা থেকে আসে
বৃষ্টির শব্দের মতো
আমাকে তুমুল ভিজিয়ে দিতে
আসে কুয়াশার জাল বিছিয়ে বিছিয়ে
আমি যেন পলাতক
আমাকে ধরে নিতে
আসে পৌরাণিক নায়িকার মতো
প্রেমের নূপুর পায়ে
অন্ধকার এসে বসেছে পাতায়, মনে হলো অভিমান,
খানিক আগে সংসারে দেখেছি। ঢেকে যাবে রাত ধীরে
এই গাঢ় সবুজ, ধুয়ে দেবে শিশির। তার আগেই পাতাগুলো
মাথা ঝাকিয়ে বলল তপ্ত-ধরণী, পথিকও ক্লান্ত বুঝি ; এতদিন
পর মনে পড়লো? যেমন বলেন এই অর্ধেক সংসারের- অধিষ্ঠাত্রী,
অন্ধকার করে মুখ। কে কতটুকু পারে, কাকে কতটুকু দেওয়া যায়?
মহাক্ষুদ্রসময়! আসলে আমি বলতে এসেছিলাম- হে ধরিত্রী নিষিক্ত হও।
....
এটা বরেন্দ্র ভূমি, প্রাচীন ইতিহাস।
আর এই বুঝি বেদম মতিহার ঃ এক
দঙ্গল পা, সবুজ গালিচা বেছানো চত্বর
হেঁটে আসছে, আমিন হাদী নূরুল দীনু বুলবুল।
শিশির মাড়িয়ে আসছে, মুক্তি মিতা লীনা বেবী বেলা
আর মুন। আমাদের পলাতকা যৌবন। সকালের স্বর্ণময়
সূর্য কিরণ উদ্ভাসিত করছে এই তারুণ্যের শহর, ধীরে
ধীরে জাগ্রত হচ্ছে এক আমলকী বয়স। খুলে গেছে রবীন্দ্র
কলাভবন, নজরুল উৎসব মঞ্চ আর সব বিদ্যানিকেতনীর
পুরোন টাইপমেশিন, লোহার হরফ, নাট-বল্টু, কল-কবজা,
ভাঙ্গা-দরজা, কাষ্ঠের টুকরো, চাল থেকে খসেপড়া টালি,
এককোণে পাতা দুটো জংধরা লোহার টেবিল
কিছু যেন বলবে,
বিলুপ্তির যোগসূত্রধরে?
মধ্যবর্তীদরজা-
বন্ধ-ঘোষণা করেছে ঘুণেখাওয়া গাদাকরা চেরাইকাঠ, টালি
আর ভেঙেপড়া দেয়ালের ভগ্নস'প। বাইরের দরজা দিয়ে অন্য
কয়েকটি কামরায় যাওয়া যায়। একটিতে, তীব্রকাচ ছিটিয়ে
খসেপড়ে আছে কয়েকজোড়া জানালা ;
(বরেষু ইশ্তিয়াক চৌধুরী সেলিম কে )
তুই কী জানিস দীপঙ্কর :
সেলিম আজকাল কোথায় থাকে?
নিঝুম পাড়ায় মতির সাথে,
আমাদের মাছ ধরতে যাবার কথা
ছিল। চদ্র-আসক্তির সেই দিনগুলো ;
সেই বিল, বিলের উপমা ;
বাবুল আর শিলার শহর-
তাদের বিচ্ছেদের ফরিদপুর, এখন
কেমন আছে? একসাথে দেখতে যাবার
কথা ছিল আমাদের।
জানালার পাশে বসে কল্পনার সুতোয় বেঁধে, রঙিনচিল উড়নোর
খুব চাপ দিয়ে জমিয়ে ফেলেছে কিছু জল
অনুভূতি তার হাতের মধ্যে
একবার সমুদ্রের সান্নিধ্য চেয়েছিলাম
উৎসের কাছে মানুষ যায়
জলের দর্পনে দেখেছিলাম অখণ্ড এক জলজ মুখ
তখনই একটা শক্ত হাত
অন্যশরীরে রূপান্তরিত হচ্ছিল
আমার কিছু নতুন অনুভূতি
সৃষ্টির আগে সৃজ্যকে
কিছুকাল কী থাকতে হয় স্রষ্টার সঙ্গে
আমিও গড়েছি ঘর
যেমন কবিতার সঙ্গে শব্দের একান্ত ঘর
অপেক্ষা করছি,