কবিতা

কিন্তু কন্‌ফেশান?

মৃন্ময় আহমেদ এর ছবি
লিখেছেন মৃন্ময় আহমেদ (তারিখ: মঙ্গল, ০৯/০৪/২০১৩ - ১১:৩৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অবাক হবার কিছু নেই-
আমি এখনো ঠিক সেই আমিটাই আছি।

আমার আমিত্ব বিসর্জনের কালে শুধু ঘূর্ণি, শুধু গহ্বর-
অন্ধকার, নীরব, নির্জন অর্ধরজনী-বিলাসী অবিশ্বাসী-মনন
আর
সজল প্রবণতা হারিয়ে আত্মঘাতী-উড়াল অভিসারী-শরীর;
অথচ,
কোষে কোষে কামাননিনাদ- চঞ্চল, অস্থির এক বিরলতা।
অতঃপর,
শৃঙ্খলাসৃষ্টির শেষ চেষ্টায় রচিত হয় শেকল বাঁধার গান
পরিত্যাগের নির্বাসনে ঘরে ফেরে চিরচেনা শুদ্ধ অভিমান।


জোছনার ফেরীয়ালা

মূর্তালা রামাত এর ছবি
লিখেছেন মূর্তালা রামাত (তারিখ: বুধ, ০৩/০৪/২০১৩ - ১১:৫০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সোনায় মোড়ানো ছাত্রলীগের যদি হইতা
দিনেদুপূরে চাপাতি দিয়া তামাম বিশ্বজিতরে টুকরা টুকরা কইরাও
প্রাইমিনিস্টারের হাত থিকা নিতা পারতা শ্রেষ্ঠ সাঁতারুর পুরস্কার;
যদি হইতা ছাত্রদলের কেউ, কাদের মোল্লারে সত্যায়ন দিয়া জিব্রাইলের ডানায়,
লাশের অপেক্ষায় ককটেল ফুটাইতে ফুটাইতে তুমি
পথে প্রান্তরে উড়াইয়া দিতা ম্যাডামের গোলাপী হরতাল
আর খোয়াবে দেখতা হাওয়া ভবনের ম্যাজিক রিয়ালিজম;


সত্য জানে সত্যভাষণ, নিজের ভাষায় অনুবাদে

তানিম এহসান এর ছবি
লিখেছেন তানিম এহসান [অতিথি] (তারিখ: সোম, ০১/০৪/২০১৩ - ১০:৫৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পহেলা এপ্রিল, ২০১৩: ভুলে-ভরা ফুল! ভুলে ধরা প্রজাপতি ভুল ছড়া শিখিয়েছে,
ভুল সংকল্পে শিখে ফেলা ব্যাকরণ, সমাস -- মানুষ পণ্যের প্রতিরূপ হয়ে গেছে,
বিক্রি হয়েছে সদা সবাই; শেকড়ে জ্বালানী পুড়াই প্রশাখা’তে জমে যায় দাহ,
শাঁখা সব বৈরাগ্য জেনেছে, পাতায় পাতায় উনুনে’র সনাতন জ্বলুনি প্রত্যহ;
প্রতিটি আলোর শীর্ষ ধরে রাখে বনানী’র উচ্চতর যে বৃক্ষ তার নাম থাকে কি কোন?


প্রতিভাস

মণিকা রশিদ এর ছবি
লিখেছেন মণিকা রশিদ (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৮/০৩/২০১৩ - ৫:৫২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অশ্রু শিশির রাতে শেফালীর
কমলা রঙের স্নিগ্ধ বোঁটা
ধোঁয়ার অন্ধকার মানবিক ভুলগুলো
ঝরে পড়ে টুপটাপ--ক্ষমার আদলে
সন্ধ্যা কি ফিরে গেছে, ফিরে গেছে, ফিরে গেছে এসে?

একটি জোনাকি যদি ফুল বলে ভুল হয়
একটি আলোকবিন্দু-থাকবে তো
থাকবে তো, ফেলে আসা পথ- দুঃখ
যতখানি মনে হয়, অমসৃন হয়তো
ততখানি নয়- কতিপয় সমর্পণ
ততখানি জীবিতের বাসনার হুঁ হুঁ
দীর্ঘশ্বাস! ঢেকেছে সময়!

তোমার বাদামী চোখ, কিউপিড


সূর্য

তাপস শর্মা এর ছবি
লিখেছেন তাপস শর্মা [অতিথি] (তারিখ: শুক্র, ২২/০৩/২০১৩ - ৯:০৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমি স্বদেশকে নিয়ে লিখতে বসেছিলাম
কঠিন পোড়ামাটি তখন আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে
তখন আমাদের ওলাওঠা দিন চলছিল
অতৃপ্ত ছায়াপথের জৌলুশে


ঠিক সময়ের ভুল কাব্য

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি
লিখেছেন ত্রিমাত্রিক কবি [অতিথি] (তারিখ: সোম, ১৮/০৩/২০১৩ - ১:৫৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১। ভুল

ভুলপথে বিস্তর হেঁটে যেতে পারি,
ভুল ঠিকানাও হতে পারে ঘরবাড়ি,
ভুল করে ভুল হাতে দিতে পারি ফুল,
ভুল হাত ভালবেসে ভুলের মাশুল।
ভুল খামে এঁটে দিয়ে ভুলভাল চিঠি -
ঠিকানাও ভুল সেঁটে ভুল বাসে উঠি।

নদ-নদী কী বুঝে যে ভুল পথে ছোটে,
পাড়ি দিয়ে মহাদেশ, লোনাজল জোটে!

২। ফর্দ

মগজে বিষাক্ত সংস্কার,
চেতনায় বিশ্বাসের বিষ,
কিছু অভ্যাস, প্রাত্যহিক অহংকার,


বোকাদের পদ্য ০৬৮

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: রবি, ১৭/০৩/২০১৩ - ৭:১৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

হঠাৎ ঝড়ে জাহাজ ভোলে দিক
আকাশ মোছে তারার হাতের ছাপ
সাগর ফোঁসে গোখরো সাপের ছাও
ঢেউয়ের মেয়ে খলখলিয়ে হাসে
নাবিক তুমি একলা কোথায় যাও?


এমনটাই কথা ছিলো

পোড়া মাটি এর ছবি
লিখেছেন পোড়া মাটি (তারিখ: শনি, ১৬/০৩/২০১৩ - ৮:০৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

স্বার্থের সমান পৃথিবীতে আর কিছু আছে?

বন্ধুর সংজ্ঞাতো সকলেই জানি
ঘুড়ির আকাশ কখনো অসীম নয়
বারবার বলা কথা তবুও বক্তব্য পাল্টায়
আড়ালে আবডালে
প্রাণ খুলে যে-কথা কোকিল বলে গেলো
কতজন কাক তার গূঢ়ার্থ বোঝে?
সৌজন্যবোধের শেকলে বাঁধা পড়ে থাকে ভদ্রসাধুজন
বাক্য-প্যাঁচ পিছলে বেরোয় বন্ধু-উকিলেরা

তোমার গলায় জড়ানো কী দারুণ ফাঁস!
তুমি বোঝো ব্যথা - দিকহারা সমস্ত কম্পাস।


উত্তরাধিকার

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শুক্র, ১৫/০৩/২০১৩ - ১০:৫৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কখন জানি জানালার পাশে বসে
কবিতার বই হাতে বিকেলের গন্ধমাতাল।
বুক ভরে বেখেয়ালি বাতাসের ঝড়,
আর চিবুকে তোমার কিছু এলোমেলো চুলের আলপনা।
বাহিরে বৃষ্টি, ভেজা পাতায় ভেজা পাখির ঘর;
উষ্ণ নিঃশ্বাসে ঝাপসা জানালার কাঁচ, অথবা ঝাপসা চোখ
অস্পষ্ট ধোঁয়াটে আকাশের টুকরো,
ঘরের বাহিরে আর এক ঘর। আর এদিকে-
আমরা, যুবক ও যুবতী, ছুয়ে দেবার সংকোচে বিলীন।
অনন্তকালের মুঠোয় কয়েকটি ভেজা মুহূর্ত!


যে লিখছে সে তুমি, আমি নই

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ১৩/০৩/২০১৩ - ৯:১৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

তুমি দারাও এসে জানালার পাশে, সার্শীতে
তোমার গরম নিঃশ্বাসের ছাপ
আমার কবিতা লিখবার খাতা- গভীর রাত্রিতে
তারা জেগে উঠবে, বাড়বে নিলয়-অলিন্দের উত্তাপ।
কুয়াশা ফেরত শিশির কণায় লিখছে চোখের ভাষা-
ওভিদের প্রাচীন গ্রীক মনের বিশ্বাস,
আমার চিন্তায় ঘোর ট্র্যাজিক পরিণতি, আর সর্বনাশা
তোমার চোখে অগণিত কবির সর্বনাশ।
যে লিখছে সে তুমি, আমি নই, আমি নই এই পৃথিবীর,
আমি শুধুই রাতের অন্ধকার-