তুলিরেখা এর ব্লগ

দেশবিদেশের উপকথা-ঈনীয়াসের পাতালযাত্রা(রোমান)

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: শুক্র, ০৭/০৯/২০১২ - ৬:৪৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ট্রয় নগরীর এক বীর যোদ্ধা ছিল ঈনীয়াস। তার মা স্বয়ং দেবী ভেনাস আর বাবা অঞ্চিসেস। অঞ্চিসেস ট্রয়ের রাজা প্রায়ামের জ্ঞাতিভাই হলেও সামান্য মেষপালকের জীবন কাটাতেন। এদিকে দেবীমহাশয়া ছেলেকে খুব ছোটোবেলাতেই ছেলের বাপের কাছে রেখে চলে যান, নিশ্চয় নানা দৈব কার্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, মাঝে মাঝে বোধ হয় ছেলেকে দেখে টেখে যেতেন।


দেশবিদেশের উপকথা-দেবী বেন্তেন ও নাগরাজ(জাপানী)

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: বুধ, ০৫/০৯/২০১২ - ২:৩০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নাগরাজ থাকতো এক বিরাট জলাশয়ে, গভীর সেই জলাশয়ের নিচে পাথুরে গুহায় সে থাকতো, তাকে দিনের বেলা দেখা যেতো না। কিন্তু রাতে সে উঠে এসে চারিপাশের গ্রামের গরু ছাগল ইত্যাদি তো ধরে নিয়ে যেতোই, মানুষের শিশুদেরও ধরে নিয়ে যেতো। আক্রমণের সময় তার ভয়াবহ চেহারা দেখে লোকে আতঙ্কে নীল হয়ে যেতো, বাধা দেওয়া তো দূরস্থান। সে দিনে দিনে সব লোকের কাছে হয়ে উঠলো মূর্তিমান বিভীষিকা, তার ধ্বংসতান্ডবে হাহাকার পড়ে গেলো গ্রামে গ্র


আনন্দপুর

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: বুধ, ২২/০৮/২০১২ - ৩:০১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যাই, দেখি নারকেল গাছের সারি। কান্ড বেয়ে গোলমরিচের লতা উঠেছে। বৃষ্টির কণারা লেগে আছে লতার গায়ে আর পাতাগুলোর উপরে। রোদ্দুর পড়ে ঝিকিয়ে উঠছে কেমন! ভিজা হাওয়ায় নারকেল গাছগুলো মস্ত মস্ত পাতা নাড়িয়ে খুব আহ্লাদ করছে। ঠিক যেমন বলে দিয়েছিলো প্রীতি।

ছোট্টো হাসি শুনে চমকে তাকাই, দেখি পাশের জঙ্গল থেকে প্রণতি বেরিয়ে আসছে, হাতে নীল রঙের ফুল। আমি বললাম, "আনন্দপুরে যাবে?"


উর্বীরূহ

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: রবি, ১৯/০৮/২০১২ - ৩:২১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১। প্রায়ান্ধকার ঘরে চুপ করে বসে আছি সেই দুপুরের পর থেকে। একদম চুপ। দূরের টেবিলের উপরে হালকা ডোমপরানো লাল আলোটা জ্বলছে, থ্রী-ডি মুভি ক্যামেরা যুক্ত আলট্রা-মাইক্রোস্কোপ সিস্টেমও সেই একইরকম সেট করা আছে। মাইক্রোস্কোপ-স্টেজের উপরে সেই স্লাইড, তাতেই সেই ভয়ানক স্যাম্পেল। সবচেয়ে আধুনিক অ্যানালাইজার যুক্ত আছে সিস্টেমে, স্ক্রীণে ত্রিমাত্রিক প্রোজেকশন করে করে সংখ্যাতালিকা দিয়ে দিয়ে নির্ভুলভাবে দেখিয়ে দিয়ে


নদীর ঢেউ রে

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: সোম, ১৬/০৭/২০১২ - ৪:৩৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

দিগন্ত থেকে ছুটে আসে ঢেউয়ের পর ঢেউ, তার চূড়ায় চূড়ায় সুর বসাই, কথা বসাই। বসিয়ে যাই হাসিকান্না, চুম্বন-অশ্রু, গরমভাত ও ক্ষুধার গল্প। বসিয়ে দিই জলপাই বনের হাওয়া, জ্বরের ঘোর, ঘুম, স্বপ্ন। যত্ন করে বসাই বৃষ্টিবিন্দুদের, বসাই চিকমিকে বিদ্যুৎ ও বাজের হুঙ্কার। অসীম একখানি গানের মধ্যে মিশে থাকা কথা সুর ছন্দ তাল লয়ের মতন ওরা থাকে, ওদের শুরু নেই, শেষ নেই কোনো। কেজানে কোথা থেকে আসে অবাক হাওয়া-তারারা দপদপ করে,


দেশবিদেশের উপকথা- সাগর থেকে সাগরে (আইরিশ উপকথা) (২)

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: বিষ্যুদ, ১২/০৭/২০১২ - ৫:১৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আগের পর্ব এখানে
কয়েকদিন পরেই শুরু হয়ে যায় সাজো সাজো রব। বরণ ও তার বন্ধুদের নির্দেশমতন নৌ-কারিগরেরা তৈরী করতে থাকেন মস্ত মস্ত তিনটি নৌকা।


দেশবিদেশের উপকথা-সাগর থেকে সাগরে( আইরিশ উপকথা )

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: বুধ, ০৪/০৭/২০১২ - ৩:৪০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এক ছিলো সাগরঘেরা দেশ, উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম যেদিকেই যে যাক না কেন পথ শেষ হয় নীল সমুদ্রের তীরে। দেশটা একটা বিরাট দ্বীপ।
সেই দেশে এক ছেলে ছিলো, লোকে তাকে ডাকতো বরণ বলে, তার বাবামা প্রয়াত, ভাইবোনেরাও সব নিজের নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। নিজের বাসায় একাই থাকতো বরণ, কাজকর্ম করতো সারাদিন, বিকাল থেকে সন্ধ্যে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দিতো, তারপরে পানভোজনশালা থেকে খেয়ে দেয়ে বাড়ী ফিরে ঘুমাতো।


দেশবিদেশের উপকথা- এক আশ্চর্য কবি(ওয়েলসের উপকথা )(২)

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: শুক্র, ২৯/০৬/২০১২ - ৫:৩৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আগের পর্ব এখানে
গিহনকে নিয়ে সে ঝুড়ি নদীতে ভাসতে ভাসতে চললো, চললো আর চললো। তারপরে দিনের শেষে সন্ধ্যাবেলার রাঙা আকাশের নিচে সে ঝুড়ি এসে ঠেকলো পাড়ে।


দেশবিদেশের উপকথা-এক আশ্চর্য কবি (ওয়েলসের উপকথা)

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: বুধ, ২৭/০৬/২০১২ - ১২:২৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এক দেশে ছিলো এক যাদুকরী। সে নানা যাদু তো জানতোই, আর জানতো নানা বনৌষধির গুণাগুণ। সেই সব বুনো লতাপাতা থেকে সে নানারকম ওষুধবিষুধ তৈরী করতে পারতো।


পরাবৃত্ত

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: বুধ, ১৩/০৬/২০১২ - ৯:৩২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অরণ্যা থাকতো একটা গোল গন্ডীর ভিতরে, একটা বৃত্ত। কিন্তু বৃত্তটাকে দেখা যেতো না। অরণ্যা যখনই চলতে চাইতো, সোজা চলতে চলতে একজায়গায় পৌঁছে কিছুতেই আর তার থেকে দূরে যেতে পারতো না, আবার ফিরে আসতে হতো চেনার দিকে। কেবল সে দূরের একটা নদীর আভাস দেখতো সে, একটা নীলচে পাহাড়ও যেন দেখতে পেতো, আর ওর মনে হতো কোথায় দূরে দূরে দূরে কী যেন রয়েছে অচেনা। কী অপূর্ব সেই অচেনা! কেন সে সেখানে যেতে পারে না?