মুস্তাফিজ এর ব্লগ

ভবঘুরের নেপাল

মুস্তাফিজ এর ছবি
লিখেছেন মুস্তাফিজ (তারিখ: সোম, ১০/১২/২০১২ - ৯:০৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নিধির বাবা, নূপুরের জামাই, আমাদের নজরুল ভায়ের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে এটা একটা ভিডিয়ো ব্লগ।


১০১টা ছবির গল্প-দশ

মুস্তাফিজ এর ছবি
লিখেছেন মুস্তাফিজ (তারিখ: মঙ্গল, ০৯/১০/২০১২ - ১০:৫৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমার পেছনে বাইকের আওয়াজ। স্ট্যানলী পার্কের চারদিক ঘুরে আসা ষোল কিলোমিটার এই রাস্তায় মানুষ আর বাইক সমান সমান। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ বাইক নিয়ে পার্কের চারদিক সমুদ্রের পাড় ধরে চক্কর দেয়। আমি এঁদের ব্যতিক্রম, এসেছি হেঁটে হেঁটে ঘুরবো বলে। এরই মাঝে পেছনে থেকে আসা আরো কয়টা বাইক আমাকে পেরিয়ে গেলেও এটা থেমে আছে বুঝতে পারি। আঁড় চোখে তাকিয়ে দেখলাম পাশের পাথুরে পাহাড়ের দেয়ালে তিনি বাইক ঠেস দিয়ে রেখে গুহা মতন একটু জায়গায় ঢুকে পড়েছেন। তার পরই গুহা থেকে ভেসে আসে অদ্ভুত এক সুর, আমি কান লাগিয়ে শুনতে শুনতে মোহাবিষ্ট হয়ে যাই। আমি দাঁড়িয়ে থাকি, শুনতে থাকি পাথুরে দেয়ালে ধ্বাক্কা খেয়ে কেঁপে কেঁপে বেরিয়ে আসা সেই গান।


১০১টা ছবির গল্প-নয়

মুস্তাফিজ এর ছবি
লিখেছেন মুস্তাফিজ (তারিখ: বুধ, ২৬/০৯/২০১২ - ১১:০৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমার চোখের সামনে ছেলে দুটো তরতর করে পাহাড় বেয়ে উঠতে থাকে। আমি পারি না। নিচে দাঁড়িয়ে ওদের নাম ধরে ডাকি, এই মাতিস এই জহুর, সাবধান, পাথর কিন্তু পিছলা। কিন্তু কে শোনে কার কথা? ওরা উঠতে থাকে হালকা সবুজ রঙের শ্যাওলা পড়া পাথর বেয়ে। সমবয়সি বলে ওদের ভেতর মিল বেশ। কেউ একটা কিছু করতে চাইলে অন্যজনেরও তা করা চাই। সকালে রওনা দেবার সময় গাড়ির পেছনের সিটে মাঝখানে না বসা নিয়ে দুজনের ভেতর একটু ঠেলাঠেলি হলেও মুহূর্ত পরেই আবার গলাগলি ভাব।


১০১টা ছবির গল্প-আট

মুস্তাফিজ এর ছবি
লিখেছেন মুস্তাফিজ (তারিখ: মঙ্গল, ১০/০৭/২০১২ - ৮:৪৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

চৌধুরি মঈনউদ্দিন। ১৯৭১ সালে জন্ম নেয়া ‘আল বদর’ বাহিনী যার ব্রেনচাইল্ড। মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে নির্যাতনকেন্দ্র স্থাপনের পেছনেও মঈনুদ্দিনের পরামর্শ ছিলো অন্যতম। সাংবাদিক সহকর্মী এ এন এম মোস্তফার সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির তিন রাতের মাথায় তাঁকে রাতের অন্ধকারে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় মোহাম্মদপুরে। এরপর তার লাশও আর পাওয়া যায়নি। একই রকম ভাবে আরো অনেকের সাথে সাংবাদিক নাজমুল হক, সিরাজুদ্দিন হোসেন, মোফাজ্জল হায়দারদেরও তুলে নিয়ে যায় মঈনুদ্দিন। দেশ স্বাধীনের পর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের নির্যাতনকেন্দ্রে পাওয়া যায় মঈনুদ্দিনের হাতে লেখা দলিল যার পাতায় পাতায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নাম আর বাসার ঠিকানা। এমনকি সপ্তাখানেক আগেই আরেক সহকর্মী সাংবাদিক আতিকুর রহমানের বাসার ভুল ঠিকানা যা তিনি কেবলমাত্র মঈনুদ্দিনকেই দিয়েছিলেন।
সে সময় ঢাকা থেকে প্রকাশিত পূর্বদেশ পত্রিকা ছিলো মঈনুদ্দিনের কর্মস্থল। অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি পত্রিকার মূল রচনাও লিখে থাকতো মঈনুদ্দিন। বর্তমানে লন্ডনের সবচাইতে বড় ইস্ট লন্ডন মসজিদের দায়িত্বে থাকা এই যুদ্ধাপরাধী সে সময় পত্রিকার পাতায় কী লিখতো তার ছবি আজকে আমাদের ছবির গল্পে।


ভারত বনধ, মার্চ-১ পোষ্টার

মুস্তাফিজ এর ছবি
লিখেছেন মুস্তাফিজ (তারিখ: বুধ, ২৯/০২/২০১২ - ১২:১৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

poster


১০১টা ছবির গল্প-সাত

মুস্তাফিজ এর ছবি
লিখেছেন মুস্তাফিজ (তারিখ: মঙ্গল, ২৮/০২/২০১২ - ১২:৩৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

লাল ইটের একটা বাড়ির দিকে আঙুল তুলে হান্নান ভাই বলেন, “বুঝলেন্নি মুস্তাফিজ ভাই, ঐগুলান সব মুসলমানরা বানাইছে।” সেদিকে তাকিয়ে জিনিসটা কী ঠিকমতন ঠাহর করার আগেই তা পাহাড়ের আড়ালে চলে গেলো। আমি বললাম, বুঝলাম না, মানে দেখতে পেলাম না। উনি হি হি করে হাসতে হাসতে এক্সিলেটরে আরো জোরে চাপ দেন। দুপাশের পাহাড়, তার মাঝে মাঝে জলপাইয়ের বাগান, একটা দুইটা বাড়ি আরো দ্রুত আমাদের ছেড়ে যেতে থাকে। হান্নান ভাইয়ের ছোট্ট কনভার্টেবল তার সর্বোচ্চ গতিতে ছুটে চলে গ্রানাডার দিকে। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দের সাথে ভেসে আসে হান্নান ভাইয়ের গলা “আপনি শুধু রাস্তায় স্পিড ক্যামেরা খেয়াল কইরেন।”


রঙের দুনিয়া

মুস্তাফিজ এর ছবি
লিখেছেন মুস্তাফিজ (তারিখ: বুধ, ২১/১২/২০১১ - ১:২৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভ্যাঙ্কুভারে আসার পর কয়েকদিন রঙ দেখতে দেখতে মাথা খারাপ অবস্থা।
আমার আর মাতিসের কোন কাজ নাই। ওর স্কুল ছুটি হলে বিকেলে আমরা দুজন ঘুরি, রাস্তায়, পার্কে, ট্রেইলে।
ঘুরতে ঘুরতে রঙ দেখি, এইসব রঙ ...


অসুন্দরের সুন্দরবন-২

মুস্তাফিজ এর ছবি
লিখেছেন মুস্তাফিজ (তারিখ: সোম, ১৯/১২/২০১১ - ৪:০১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আগের পর্ব, অসুন্দরের সুন্দরবন

৪.
আমি রাজু ডাকাতের সাথে হাত মেলালাম। লম্বা, শক্ত, কড় পড়া হাত, ধরে থাকলাম কিছুক্ষণ। পুরো ঘরটায় কবরের অদ্ভুত নীরবতা কিছু সময়ের জন্য। নিরবতা ভেঙে ডানা ঝাপটিয়ে একটা পেঁচা উড়ে গেলো উপর দিয়ে, ঘরের পেছনে কাঠের মাচায় টহল দেয়া ডাকাতদের কারো হেঁটে যাবার মচমচ শব্দ শোনা গেলো, একই সময় কোনো কারণে ভয় পাওয়া একপাল হরিণের ছুটে চলার শব্দ বাম দিক থেকে এসে ডানে মিলিয়ে যেতেই রাজু ডাকাতের সহকারী কথা বলে উঠে “আপনার কেমন লাগছে?” তার দিকে তাকালাম, রাজস্থানি পাগড়িতে দারুণ দেখাচ্ছে, তাকে দেখে ছোটবেলায় দেখা নওয়াব সলিমুল্লার ছবির কথা মনে পড়ে গেলো, ডাকাত দলের ভেতরেও তাহলে রাজা প্রজার ভেদাভেদ থাকে, মানসিক শক্তির অভাব থাকলে পোশাকের মাধ্যমে নিজের তফাৎটা অন্যদের বুঝিয়ে দেয়। হাসি পেলো আমার, ওর কথার সরাসরি জবাব না দিয়ে পরিস্থিতি আমার অনুকূলে রাখার জন্য উলটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম “হঠাৎ করে বাইরের জগতের কারো সাথে পরিচিত হয়ে আপনাদের কেমন লাগছে?”


অসুন্দরের সুন্দরবন

মুস্তাফিজ এর ছবি
লিখেছেন মুস্তাফিজ (তারিখ: রবি, ১১/১২/২০১১ - ৩:৩৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১.
দুই তিনটা বৈঠা মেরেই থেমে গেলো ওরা, বাকি পথটুকু চলে এসেছি স্রোতের টানে, আমি যে ট্রলারে ছিলাম সেখান থেকে ঘাটে বাঁধা ট্রলারগুলো হাত পঞ্চাশেক দূরে। অতটুকু পেরুতে সময় লাগেনা। বসেছিলাম নৌকার পেছনে, ঘাটে ট্রলারের গায়ে নৌকা লাগতেই চালকদের একজন বললো- “সাবধানে উঠে আসেন, আপনাকে সামনের ফরেস্টের ট্রলারের উপর দিয়ে যেয়ে ঐ ট্রলারে নামতে হবে, সেখান থেকে ঘাটে উঠবেন। মাথা ঝাঁকিয়ে পেছন থেকে উঠে ফরেস্টের ট্রলারের ছাদ পেরিয়ে এপাশে চলে এলাম, নীচে যখন নামছি কেবিনের দরজা খুলে ওদের অফিসার মুখ বের করে ফিস্‌ফিসিয়ে বললেন যান, ভয় পাবেন না, আপনি যতক্ষণ থাকবেন আমার ট্রলার এখানেই এদের ট্রলারের সাথে লাগানো থাকবে।“ আমি কোন কথা না বলে বনবিভাগের ভাড়া করা ট্রলার থেকে নীচের ট্রলারে পা রাখলাম।
নিকষ কালো আলকাতরা মাখা ছাদবিহীন সেই ট্রলার লম্বায় চল্লিশ ফুটের মতন, মাঝের অর্ধেক ত্রিপল দিয়ে ঢাকা, এর নীচে শুয়ে থাকা মানুষের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়, ত্রিপলের ঢাকনার বাইরে দু’পাশেই বস্তা ফেলে বাংকারের মতন বানানো, ট্রলারের মাথায় সোলার প্যানেল আর একটা ছোট এন্টেনা। আমি নীচে নামতেই বাংকার থেকে কালো গেঞ্জি আর হাফপ্যান্ট পড়া বন্দুক হাতে একজন উঠে সালাম দিয়ে আমার হাত ধরে বললো “ডাকাতের নৌকায় স্বাগতম”।


ইফতার কান্ড

মুস্তাফিজ এর ছবি
লিখেছেন মুস্তাফিজ (তারিখ: শুক্র, ১২/০৮/২০১১ - ২:৪০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বেলা এগারোটায় অপুকে ফোন দিলাম। বলে আমরা আপনার বাসার আশেপাশেই আছি, আসছি। আমরা বলাতে বুঝলাম সিলেট থেকে আরো কেও এসেছে। কে হতে পারে ভাবতেই প্রথমেই উজানগাঁর নাম মনে এলো। আমি বিছানা ছেড়ে নামতে নামতেই নীচ থেকে দারোয়ানের ফোন, সিলেট থেকে দুজন লোক এসেছে, আমাদের বাসায় আসতে চায়, কথাবার্তা সন্দেহজনক বলে আমার কাছে জানতে চাইছে উপরে পাঠাবে কীনা।