আর্মেনীয় গণহত্যা: ঘাসফড়িংদের পাখসাট

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
লিখেছেন ফারুক ওয়াসিফ (তারিখ: বুধ, ৩০/০৪/২০০৮ - ৭:১৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মূল লেখার লিংক
১৯১৫ সাল। তুরস্কের আনাতোলিয়া প্রদেশে তখন ফসল পাকার ঋতু। দশবছরের অ্যারাক্সির মনে পড়ে, সেবার ফসলের ক্ষেতে অনেক ঘাসফড়িং নামতে দেখে গ্রামের প্রবীণরা আঁতকে উঠেছিল। তারা জানে এটা অমঙ্গলের চিহ্ন। সেই বসন্তেই সৈন্যরা এসেছিল। তাদের হাতে মারা যায় প্রায় ১৫ লাখ খ্রিস্টান আনাতোলিয়। আজকের তুরস্কে সেই হত্যাযজ্ঞকে নীরবতায় ঢেকে রাখা হয়েছে। কিন্তু ভারতে গণহত্যা অভিনন্দনের বিষয়।
২০০২ সালে গুজরাটে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর একটি গণহত্যা হয়েছিল। গণহত্যা শব্দটি আমি সচেতনভাবেই ব্যবহার করছি এবং মনে রাখছি জাতিসংঘের গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি বিষয়ক সম্মেলনে গৃহীত সংজ্ঞার ২য় অনুচ্ছেদটি। গণহত্যাটি শুরু হয়েছিল একটি রেলওয়ে কোচে ৫৩ জন হিন্দু তীর্থযাত্রীকে পুড়িয়ে মারাকে কেন্দ্র করে। কারা এটি করেছে তা আজও অমীমাংসিত। কিন্তু প্রতিহিংসার নামে পরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে ২ হাজার মুসলিমকে কচুকাটা করা হয়। গুজরাট সরকার এবং তখনকার প্রশাসনের মদদে সংগঠিত ফ্যাসিস্ট জঙ্গি ও সশস্ত্র খুনীর দল এটা করে। গণধর্ষণ করে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় মুসলিম নারীদের।
ধ্বংস করা হয় মুসলিমদের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও দরগা। দেড় লাখ মানুষকে ঘরবাড়ী থেকে উচ্ছেদ করা হয়। আজ তারা বস্তির নোংরা পরিবেশে পানি, বিদ্যুত, স্বাস্থ্যসেবা ছাড়া বাস করছে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসাবে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোনঠাসা অবস্থায়। অন্যদিকে পুলিশ ও বেসরকারি খুনীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। একে দেখা হয়েছে স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে। এই স্বাভাবিকতার সুবিধা নিতে ভারতের দুই প্রধানতম শিল্পপতি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, গুজরাট হলো লগ্নি পুঁজির স্বপ্নের মঞ্জিল।
জাতীয় গণমাধ্যমে প্রথমদিকে কিছু হৈ চৈ হলেও তা বেশিদূর গড়ায়নি। গুজরাটে এটা বরং গর্বের ব্যাপার, হিন্দুত্ব প্রতিষ্ঠার ব্যাপার। এর হোতা মুখমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখন জাতীয় বীর। বিজেপি এখন তাকে অন্য রাজ্যে প্রচারের কাজে লাগাচ্ছে। গুজরাটের গণহত্যা কঙ্গো, রুয়ান্ডা এবং বসনিয়ার গণহত্যার তুলনায় কিছুই না। সেখানে মৃতের সংখ্যা ১০/২০ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ১৯৮৪ সালেও ভারতে ৩ হাজার শিখকে দিল্লির রাজপথে হত্যা করা হয়। সেবারেও হত্যাকারীদের কিছু হয়নি। গুজরাটের গণহত্যা আরো বিরাট-বিস্তৃত পরিকল্পিত কর্মসূচির অংশ। গুজরাট কাহিনী আমাদের জানাচ্ছে যে, ফসল পাকতে শুরু করেছে এবং ঘাসফড়িংয়ের দল ভারতের মূল ভূখণ্ডে নামতে শুরু করেছে।
গণহত্যা মানবজাতির অতি পুরাতন অভ্যাস। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় এর অবদান বিরাট। ইউরোপে যখন একদিকে সীমিত মাত্রায় হলেও গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে, নাগরিক অধিকার স্বীকৃত হচ্ছে; তখন একইতালে উপনিবেশগুলোতে চলছিল কোটি কোটি মানুষকে সাবাড় করা গণহত্যা। আজ তারা অস্বীকার করছে যে, তারা সেরকম কিছু করেছিল। হিরোশিমায় এক লহমায় এক লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার ভাব এমন যেন খুনীরা কোনো খুন করেনি, নিহতরা মরেনি। ঘটে যাওয়া গণহত্যা অস্বীকার করা মানে নতুন গণহত্যা ডেকে আনা।
কঙ্গোয় বিশ লাখ মানুষ মেরে ফেলা হলেও কার্যত তার কোনো সংবাদ বিশ্ববাসী পায়নি। কেন? ইরাক আগ্রাসনের আগে কেবল অবরোধেই মারা গিয়েছিল প্রায় দশ লাখ মানুষ। একে কি গণহত্যা বলা হবে? এটা নির্ভর করে আইন কে বানাচ্ছে তার ওপর। কে বানায় আইন বিল কিন্টন নাকি কোলের শিশু হারানো ইরাকি জননী? বিশ্বের সব থেকে ধনী ও প্রতাপশালী রাষ্ট্র যেহেতু আমেরিকা, সেহেতু সে মনে করে গণহত্যা অস্বীকার করার অধিকার তার আছে। কলম্বাস যে দিনটিতে আমেরিকায় পা রেখেছিলেন তার স্মরণে আমেরিকা এখনও কলম্বাস দিবস পালন করে। অথচ সেদিন থেকেই শুরু হয় ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম গণহত্যা; পৃথিবী থেকে মুছে যায় লাখ লাখ ইন্ডিয়ান আদিবাসী। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নব্বই ভাগকেই তারা শেষ করে দেয়। আমেরিকার দ্বিতীয় গণহত্যা ঘটে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর। তিন কোটি আফ্রিকিকে অপহরণ করে দাস হিসাবে বিক্রি করা হয়। এদের অর্ধেকই মারা যান জাহাজের খোলে করে পাচারের সময়। কিন্তু ২০০২ সালে সেই আফ্রিকার ডারবানে বর্ণবাদ বিরোধী সম্মেলন থেকে ওয়াক আউট করে আসতে পারে মার্কিন প্রতিনিধিরা। তারা দাসত্ব ও দাসব্যবসাকে অপরাধ হিসাবে স্বীকার করতে নারাজ। তাদের যুক্তি সেসময় তো দাসপ্রথা বেআইনী ছিল না! অতএব দাস হত্যাও বেআইনী নয়! যুক্তরাষ্ট্র এখনও স্বীকার করতে চায় না যে, হিরোশিমা, নাগাসাকি, ড্রেসডেন ও হামবুর্গে তাদের বোমায় লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু অপরাধ ছিল; ছিল গণহত্যা। ঊনিশ শতকের শেষ ভাগে ব্রিটিশরা তাসমানিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ এলাকায় এক কোটিরও বেশি আদিবাসীকে হত্যা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বা গোপনে ১০০টি দেশে ৪০০ বার সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে। এর মধ্যে ভিয়েতনামে তিরিশ লাখ মানুষ (জনসংখ্যার দশ শতাংশ) মেরে ফেলাও আছে। এর কিছুকেই তারা যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যা হিসাবে স্বীকার করতে নারাজ। এভাবে গণহত্যার অস্বীকৃতি ডেকে নিয়ে আসে নতুন নতুন গণহত্যা।
ইসরায়েল সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বের ইতিহাসে জঘন্যতম গণহত্যার ধ্বংসস্তূপের ওপর। নিজেদের ওপর এত বড় গণহত্যা সয়েও ইসরায়েলিরা ষাট বছর যাবত কী করে আসছে ফিলিস্তিনে, দখল করা ভূমিতে? তাদের জবরদখলি বসতি স্থাপন ছড়াচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের পানি সরবরাহের ওপর কায়েম হয়েছে দখলীসত্ব। 'নিরাপত্তা দেয়াল' বানিয়ে ফিলিস্তিনীদের তাদের তে-খামার থেকে, শিশুদের স্কুল ও হাসপাতাল থেকে, মাকে তার সন্তানদের থেকে আলাদা করে দিচ্ছে।
এর সবই করা হয়েছে আধুনিকতা, প্রগতি ও গণতন্ত্রের নামে। এটা কোনা কাকতাল নয় যে, ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের যে রাজনৈতিক দলটি আর্মেনিয়ায় গণহত্যা চালিয়েছিল তার নাম ছিল 'কমিটি ফর ইউনিয়ন এন্ড প্রগ্রেস'। হিটলার এবং মুসোলিনিও ছিলেন প্রগতির ধ্বজাধারী। আমেরিকার ইরাক ও আফগানিস্তান, কসোভো ও ভিয়েতনাম সবই তো গণতন্ত্র ও প্রগতির রক্তাক্ত পদচিহ্ন। আদভানীর বিজয় রথও প্রগতি ও আধনিকতার নামে যাত্রা করেছে।
ঘাসফড়িংয়ের দল ডানা মেলেছে। আমরা কি তার পাখসাট শুনতে পাচ্ছি?


মন্তব্য

সুমন চৌধুরী এর ছবি

এখন কথা হচ্ছে কিভাবে কম খরচে মরা যায়.......



ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

বিশ্ববাপী খাদ্য সংকট সৃষ্টি করা। এমনিতেই অর্থনীতিবিদ সামির আমিনের তথ্যমতে বিশ্বের তিনশ কোটি মানুষের জীবিকা সংস্থানের কোনো ব্যবস্থা নিওলিবারেল অর্থনীতিতে রাখা হয় নাই। ওটাও কি গণহত্যার আয়োজন নয়?


মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

তাতো বটেই। তারপর পরিকল্পিতভাবে পৃথিবীর বিশেষ এলাকার জনগোষ্ঠিকে পুষ্টিহীনতায় ভুগিয়ে তাঁদের ক্রমশ মেধাশুণ্য করাও অপেক্ষাকৃত ধীর গতির গণহত্যার আয়োজন।

এইসব সমর্থন করতে তৈরী হচ্ছেন ঝাঁকে ঝাঁকে ভাড়াটে সমাজবিজ্ঞানী। সামাজিক ডারউইনবাদের মতো তত্ত্ব গেলানো হচ্ছে তাঁদের। কিছুই যখন করতে পারবানা তখন মরো!!..............



ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ

হিমু এর ছবি

ঊনিশ শতকের শেষ ভাগে ব্রিটিশরা তাসমানিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ এলাকায় এক কোটিরও বেশি আদিবাসীকে হত্যা করে।

এই তথ্যে একটু সমস্যা আছে বোধহয়। এক কোটি আদিবাসী এই দুই ভূখন্ডে কখনোই ছিলো না। তবে তাসমানিয়ায় ১০০% আদিবাসী নির্মূল করেছিলো বৃটিশরা।


হাঁটুপানির জলদস্যু

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

আমি বিভিন্নসময় বিভিন্ন জায়গায় এ সংখ্যাটিই দেখেছি বা কিছু বেশি। তারপরও চেক করা দরকার। আপনিও পেলে জানাবেন।


মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

আর্মেনীয় জেনোসাইডের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর পুনশ্চঃটি হলো গণহত্যার দীর্ঘ ছয় বছর পরে এক আর্মেনীয় সার্ভাইভার কর্তৃক তালাত পাশার হত্যাকান্ড। ১৯১৫ সালের জেনোসাইডের সময় তালাত পাশা ছিলেন অটোমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গণহত্যার মূল হোতাদের একজন ছিলেন এই তালাত।

অপর দিকে আর্মেনীয় সার্ভাইভারের নাম ছিল সঘোমন তেহলিরিয়ান। ১৯২১ সালে বার্লিনে গিয়ে তালাতকে খুঁজে বের করে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করেন সঘোমন। তার স্বজাতি নিধনের যোগ্য প্রতিশোধ।

(অথচ আমাদের নিজামী হয় কিনা স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রী...)

আর্মেনীয় হত্যাকান্ড নিয়ে চমৎকার দুটো বই উৎসুক পাঠকদের জন্যে।
- ফ্রান্তস ভেরফেলের উপন্যাস The Forty Days of Musa Dagh
- পিটার বালাকিয়ান-এর বিশাল ইতিহাস The Burning Tigris

-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

অনিকেত এর ছবি

চমৎকার কিছু তথ্যের যোগান দিলেন।

ধন্যবাদ।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

বিষয়টা থেকে আমার একটা কথা মনে হয়। আমাদের ব্যক্তিগত সংকল্প বা ঘৃণা বোধের জোর বোধহয় খুবই কম। ধন্যবাদ পুনশ্চ'র জন্য। তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ।


মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

এভাবে গণহত্যার অস্বীকৃতি ডেকে নিয়ে আসে নতুন নতুন গণহত্যা।

কি ভয়ংকর সত্য এই, আমাদের জন্য ও ।

আর্মেনিয়ার এই গনহত্যার বিষয়টি কয়েকদশক চাপা পড়ে থাকার পর এখন আবার আলোচনায় উঠে এসেছে,সেই সাথে আবার শুরু হয়েছে তুরস্কে সংখ্যালঘু আর্মেনিয়ানদের উপর জাতীয়তাবাদের আক্রমন । গতবছর জানুয়ারী নিহত হলেন পত্রিকা সম্পাদক 'HRANT DINK'

সেই সময়ের একটা লেখা আছে এখানে
একজন আর্মেনিয়ানের মৃত্যু ও আমার শীতল অনুভূতি

আপনার অনুবাদের ভাষা প্রাঞ্জল ।

----x----
...অথবা সময় ছিলো;আমারই অস্তিত্ব ছিলোনা

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

এটাই মানবজাতির গভীর গভীরতর অসুখ। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আছে গণহত্যার বীজ।
এখন এই ইস্যুটা তোলার একটা পাল্টাপাল্টি রাজনীতিও আছে মনে হয়। যেমন তিব্বতের বেলাতেও ঘটছে। তিব্বত নিয়ে ইউরোপ আমেরিকা ততটাই করছে যতটা চীনকে বিব্রত করা যায় অলিম্পিকের প্রাক্কালে। কিন্তু তিব্বতিদের জন্য কিছু করছে না। তুরস্কের বেলাতেও এটা মনে হয়।


মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

তারেক এর ছবি

চলুক
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে

_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে

অনিকেত এর ছবি

দারুন লেখা

বিপ্লব রহমান এর ছবি

এর সবই করা হয়েছে আধুনিকতা, প্রগতি ও গণতন্ত্রের নামে।

যেনো মৃত বেশ্যার ঠোঁটে লিপস্টিক!

অরূন্ধতি রায়ের চিন্তার স্বচ্ছতা ও গভীরতা বরাবরই খুব ভালো। আর অনুবাদটিও ভালো লাগলো। অনেক ধন্যবাদ।


আমাদের চিন্তাই আমাদের আগামী: গৌতম বুদ্ধ


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

আমিও এই পয়েন্টার ওপর এর সবই করা হয়েছে আধুনিকতা, প্রগতি ও গণতন্ত্রের নামে। জোর দিতে চাই, আগের যুগে কোথাও যদি ধর্ম ও জাতীয়তাবাদের নামে করা হয়ে থাকে, তবে এখন তা করা হচ্ছে, আধুনিকতা, প্রগতি ও গণতন্ত্রের নামে এবং বলা ফরজ 'উন্নয়নের' নামেও।
ধন্যবাদ পয়েন্টটা তুলে আনার জন্য।


মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

jummo এর ছবি

Will you please write also abot CHT? The CHT Peoples also experienced genocide.

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।