পরজীবি

খেকশিয়াল এর ছবি
লিখেছেন খেকশিয়াল (তারিখ: বুধ, ২১/০৫/২০০৮ - ৪:১১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

জুবেই কিছু বলল না, ওভাবেই শুয়ে রইল । মাথার নিচে হাত বদল করল কেবল ।
'মহোদয়, আমি জানি আপনি কে । আপনি জুবেই, জুবেই কিবাগামি । আমি আপনাকে দন্দ্বযুদ্ধে আহবান করছি ।'
গালের মশাটাকে দুই আঙ্গুলে ধরে ছেড়ে দিল জুবেই । খড়ের টুপির ছেড়া জায়গাটা ঘুরিয়ে নিয়ে আসল চোখে । ছেলেটা আঠার কি উনিশ হবে । এত রাতে এরা আসে কোত্থেকে ! কি জ্বালাতন রে বাবা !
'তুমি ভুল করছ ছোকরা, আমি জুবেই ফুবেই নই । আর এখন একটু ঘুমুতে দাও, বিরক্ত করো না ।' বলেই ওপাশ ফিরল জুবেই । এক মুহূর্ত .. কি জানি বাতাস কাটল সাঁই করে ! মাটি ফাঁক হয়ে গেল কাতানার আঘাতে.. জুবেই ততক্ষনে দশ হাত উপরে ! টুপি সামলে নিচে নামলে পর দেখতে লাগল ও ছোঁড়াটাকে, বাম হাত কাতানার উপর রেখে । ছোঁড়াটা হাসছিল মৃদু ।
'পাঁচটি খোকা কথা বলে
বাতাস পিছে জুবেই চলে ...
ছোট থাকতে শুনেছিলাম, বাবার মুখে । তখন বুঝতাম না, এখন বুঝলাম । আপনার মত এত দ্রুত কাউকে আমি দেখিনি এর আগে' কাতানা বাগিয়ে বলতে থাকে ছোড়া ।
'তোমার নাম কিহে'
'তাকেশি, তাকেশি ইয়োনো বলে সবাই'
'আমাকে মারতে চাও কেন ? টাকার জন্য ?'
মুচকি হাসে ছোঁড়া, বলে 'আর কি ? আপনার মাথা দেখাতে পারলেই আমি বড়লোক'
মন খারাপ হয়ে যায় জুবেই-র । কাতানা দু হাতে বাগিয়ে ধরে বলে, 'তুমি অনেক ছোট, এখনো সময় আছে, ফিরে যাও । তোমাকে মারতে খুব খারাপ .. ' কথা শেষ করতে পারে না জুবেই, লাফ দিয়ে তেড়ে আসে তাকেশি । মাঠের পারের গাছগুলোয় কঁকিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করে কিছু পাখি, কাতানার ঠুং ঠাঙ্গে ঘুম ভেঙ্গে গেছে ওদের । ডুবতে থাকা চাঁদের আলোয় ঝলকে উঠে ওদের কাতানা, যেন মেলায় নতুন কোন আতশবাজির খেলা ।

হাঁপিয়ে গেছে তাকেশি । তবু ছোঁড়ার এলেম আছে বলতে হবে । কাতানা চালাতে পারে বেশ ।
'তোমার গুরু কেহে ?' চেঁচিয়ে উঠে জুবেই ।
স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তাকেশি, কিছু বলে না ।
'কিহে ছোঁড়া, কথা কানে যায় না ?' হঠাৎ তেড়ে যায় তাকেশি, জুবেইও তাই চাইছিল । সরে লাফ দেয় ও বিশাল, কাতানা বাগিয়ে নামে ওর ঘাড় বরাবর, আর ঠিক তখনই ! .. জুবেই টের পায় ওইটার অস্তিত্ব, ভয়াবহ ভাবে ! হাঁ করে ওকে কামড়াতে এসেছিল ওটা, দ্রুত.. তাকেশির পেট চিরে বেরিয়ে । কোপ দেবার আগেই আবার ঢুকে গেল তাকেশির পেটেই । জুবেই দেখল ঠিকই, কিন্তু বিশ্বাস করতে পারল না । তাকেশি তখন এক হাতে পেট ধরে হাঁপাচ্ছে । কাতানা খাপে পুরে বিরক্তিভরে জুবেই বলল,
'জনাব তাকেশি, তা মহোদয় বলবেন কি, ইহা কি ঘটিল ?'
'আমাকে মাফ করবেন জুবেই, কিন্তু বিশ্বাস করুন, আপনি ছাড়া আমার আর কোন আশা ছিল না । আমি জানতাম শুধু আপনিই আমাকে রক্ষা করতে পারবেন এই শয়তানের হাত থেকে ।'
'শয়তান ?'
'হ্যাঁ শয়তান, একটু জিরিয়ে নেই বলছি' ।

চাঁদ ডুবে গেছে ততক্ষনে । চারদিকে এক অদ্ভুত গন্ধ । আগুন জ্বালিয়ে বসল ওরা । তাকেশি শুরু করল তার গল্প,
'জ্ঞান হবার পর থেকে আমি মা বাবা কাউকে দেখিনি । আমাকে বড় করেছিলেন আমার এক পিসী । আগলে রাখতেন আমাকে সব সময়ে । এমনকি কারো সাথে দেখা করতে দিতেন না পর্যন্ত । আমি ছিলাম বড়ই একলা । খেলার সঙ্গী বলতে ছিল একটা বিড়াল । একদিন ঘুমুচ্ছি, আধো ঘুমে মনে হল কি জানি খাওয়ার শব্দ । চোখ মেলে দেখি তখন শয়তান টাকে । ড্রাগনের মত পাকিয়ে বের হয়েছে ওটা, আমারই পেট থেকে । পাশে পড়ে ছিল বিড়ালটার অর্ধেক দেহ, বাকিটা চিবুচ্ছিল ও আয়েশ করে । আমি দেখে ফেলেছি বুঝতেই চোখের নিমিষে চলে যায় ও আমার পেটে । আমি ভয়ে পিসীকে খুঁজে বের করি, সব কথা বলি । উনি তখন বলতে থাকেন সব । আমার জন্মের সময়ই নাকি আমার মা মারা যান । আর একটু পরেই ওটা বেরিয়ে আসে আমার পেট থেকে । সবাই মেরে ফেলতে চেয়েছিল ওটাকে । কেউ পারেনি, অনেক দ্রুত চলে ও । আহতও করেছিল অনেককে । আমার বাবা আমাকে নিয়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন । গ্রামবাসী বাদ সাধে, আমাকে মেরে ফেলতে বলে । বাবা ওদের ঠেকাতে গিয়ে মারা যান, পিসীই আমাকে লুকিয়ে নিয়ে আসে উনার গ্রামে । শয়তানটা আমার সাথেই বড় হতে থাকে । ওর জন্য শুকোতে পারে না আমার এই ঘা, আবার ব্যাথাও করে না একটুও, ওর জন্যই হয়ত । আস্তে আস্তে নতুন জিনিস বুঝতে পারি । দেখি ও আমাকে সবসময় আগলে রাখে, রক্ষা করে, নিজের জন্যই । এত সুন্দর একটা বাসা নষ্ট হয়ে গেলে ওরই তো ক্ষতি । আমি অনেকের সাথেই লড়েছি, কেউ পারেনি ওকে মারতে । আমাকে মারতে দেয় না ও । আত্মহত্যাও করতে দেয়নি ও আমাকে । আমি আর পারছি না । আমার অনেক কষ্ট হয় । আপনি আমাকে রক্ষা করুন । '
জুবেই শুনছিল সব ঘাস চিবুতে চিবুতে । পুবে তখন আকাশ লাল হতে শুরু করেছে মাত্র ।
'কই দেখি বাছাধনের চেহারাখান' বলে ছোট ছোরাটা ছুড়ে মারল ও তাকেশির মাথা লক্ষ্য করে । নিমিষেই বেরিয়ে এল ওটা, প্যাচানো নাড়িভুড়ির পেশী থাকলে যেমন দেখাবে ঠিক ওরকম দেখতে । মাথার এক বাড়িতে উড়িয়ে দিল ছোরাটা ।
'হুম বেশ মজার তো ! তা ওটা দেখে কিভাবে ? এতটুকু শরীরে থাকেই বা কই ?'
'আমি জানি না, কিছুই জানি না' হতাশ গলায় বলে তাকেশি ।
'হুম .. যাই হোক, উঠে দাঁড়াও । যা বলি শুনো মনোযোগ দিয়ে । আমি বলা মাত্র ওই গাছের দিকে দৌড়ানো শুরু করবে, ঠিক আছে ?'
'ঠিক আছে'
হাতে ওর সরু সুতলিটার মাথা একটা পাথরে বেঁধে নিল জুবেই । বাম হাতে কাতানা আর ডান হাতে সুতা সহ পাথর ঘুরাতে ঘুরাতে বলল, 'দৌড় দাও !'
তাকেশি ছুটছিল, বুঝতে পারল পিছন থেকে ছুটে আসছে জুবেইর কাতানা । তারপরই, বেরিয়ে আসল ওটা, সামনে থেকে ঘুরে সজোরে চাঁটি দিল কাতানাটায়, ততক্ষনে অনেক দেরী করে ফেলেছে ওটা । জুবেইয়ের শক্ত সুতলিটায় পেঁচিয়ে গেল ওটা , তাকেশির দেহ থেকে বেরিয়ে এল সম্পূর্ণভাবে । একটু দূরে পড়ে গেল তাকেশি । ওটা তেড়ে যাচ্ছিল জুবেইয়ের দিকে । অনেক দ্রুত ওটা । সাপের মত ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারে । জুবেইকে নাচতে হল বেশ ওটার সাথে । এক সময় প্যাঁচানো সুতোয় টান খেল ও, সাথে জুবেইয়ের কাতানার কোপ । বেশ কিছুক্ষন দাঁপড়ে মরে গেল ওটা ।
'আপনাকে অনেক ধন্যবাদ জুবেই, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ' বলে থাকে তাকেশি, ওটার দিকে তাকিয়ে থেকেই । জুবেই কিন্তু দেখছিল তাকেশিকেই । কিভাবে যেন শুকিয়ে যাচ্ছে ও, নীল হয়ে যাচ্ছে ওর শিরা-উপশিরা ! চমকে উঠে জুবেই,
'তাকেশি ! ...'
হড়হড় করে বমি করতে থাকে তাকেশি, রক্তবমি । শুকিয়ে যেতে থাকে অদ্ভুত দ্রুততায় । মাটিতে শুয়ে পড়ে ও , মুখের কোনে ফুটে উঠে এক অদ্ভুত হাসি ।
'কি ভুল ! কি ভুল ! হাহা ...'
'মানে ? ভুল মানে ?' বলে উঠে জুবেই
'আমরা মনে করেছি ও বোধহয় পরজীবি, আমার দেহে বাসা গেড়ে আমাকে শুষে যাচ্ছে । হা হা .. ব্যাপারটা পুরোটাই উলটো ... বরং আমিই ছিলাম আসলে পরজীবি, ওর শরীরের পরজীবি .. ও বাঁচত বলেই আমি বাঁচতাম ।'
'কিন্তু .. ও তোমাকে সহ্য করত কেন ? তোমাকে মেরে ফেলত না কেন ?'
'জানিনা .. হয়ত.. হয়ত আমাকে পছন্দ করত খুব ..'

জাপানী অ্যানিমি সিরিজ 'নিনজা স্ক্রল' এর "A Dragon Within" পর্বের কাহিনী অবলম্বনে


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

সুন্দর গল্প ! আরো লিখুন । ভাল থাকবেন হাসি

- এনকিদু

খেকশিয়াল এর ছবি

ধন্যবাদ, আপনিও ভাল থাকবেন ।

-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

এই রহস্য গল্পটা নিয়ে কারো কোনো কমেন্ট নেই দেখে অবাক হলাম! খুবই চমৎকার একটা গল্প! এরকম রহস্য গল্পের আমি ফ্যান! কৌশিকদা, কেন পাঁচতারা দিলাম, বুঝতে পেরেছেন তো? আরো চাই এরকম গল্প... আমার ধারণা, আপনার কাছে একটা রত্নভাণ্ডার আছে! চাই কিন্তু...
---------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়!

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

খেকশিয়াল এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ মৃদুলদা । জাপানী কিছু অদ্ভুত সুন্দর গল্প আছে, আমি গল্পগুলোর ভয়াবহ রকম ভক্ত , দেখি সামনে জাপানী রহস্যগল্পগুচ্ছ 'কোয়াইদন' থেকে অনুবাদ করার ইচ্ছা আছে । আমি জানি আপনারও একটা বড় ঝোলা আছে, আপনারও ছাড়তে হবে কিন্তু

-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

তীরন্দাজ এর ছবি

পুরোটাই এক নি:শ্বাসে পড়লাম। খুব ভাল লাগলো। আরো ভাল লাগলো আপনার অনুবাদের ধরন। আশা করি সামনে আরো পাবো..।

**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

খেকশিয়াল এর ছবি

ধন্যবাদ তীরন্দাজ ভাই, গল্পটা নিয়ে মনে খুঁতখুঁত ছিল । আপনারা যখন বললেন, তাহলে মোটামোটি ভালই হয়েছে কি বলেন হাসি

-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

দ্রোহী এর ছবি

চমৎকার গল্প। অসাধারণ..................

খেকশিয়াল /কৌশিক, আপনি এরকম গল্পগুলো নিয়ে একটা সিরিজ করলে খুব ভাল হয়। জাপানি অ্যানিম দিয়েই যখন শুরু করেছেন, আরও কিছু গল্প ছাড়ুন। আমরা পড়ি...........


কি মাঝি? ডরাইলা?

খেকশিয়াল এর ছবি

ধন্যবাদ দ্রোহী ভাই, আপিসের কাজের চাপটা কমলেই শুরু করে দেব ।

-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

দ্রোহী এর ছবি

অপেক্ষায় থাকব বলে দিলাম।


কি মাঝি? ডরাইলা?

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

আমিও অপেক্ষায় আছি!
---------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়!

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

শাহীন হাসান এর ছবি

ভাল-লাগলো, আরও পড়বার অপেক্ষায় রইলাম ...।
ভাল-থাকবেন।
....................................
বোধহয় কারও জন্ম হয় না, জন্ম হয় মৃত্যুর !

....................................
বোধহয় কারও জন্ম হয় না, জন্ম হয় মৃত্যুর !

খেকশিয়াল এর ছবি

ধন্যবাদ শাহীন ভাই, আপনিও ভাল থাকবেন ।

-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

উদাস এর ছবি

দ্রোহী ভাইয়ের সাথে একমত। এরকম গল্প নিয়ে একটা সিরিজ করেন। চমত্কার লাগলো।

অনিন্দিতা এর ছবি

বড় অদ্ভুত সুন্দর গল্প।
কাতানা মানে কী?

খেকশিয়াল এর ছবি

উদাস, অনিন্দিতা আপনাদের ধন্যবাদ । কাতানা হল জাপানী তলোয়ার ।

-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

অতিথি লেখক এর ছবি

আসলেই অসাধারণ লেগেছে গল্পটা!! এক নিঃস্বাসে পড়ে ফেললাম। ছাড়তে থাকুন একটানা। হাসি

---
স্পর্শ

খেকশিয়াল এর ছবি

ধন্যবাদ

-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।