স্রোতস্বিনী নির্ঝরনী

ফকির লালন এর ছবি
লিখেছেন ফকির লালন (তারিখ: সোম, ০৪/০৫/২০০৯ - ১০:০৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কনার সাথে দেখা হিথ্রো এয়ারপোর্টে।

কনার একহাতে তার মেয়ে, আরেক হাতে প্যারাম, সেখানে আধো ঘুমে তার আর এক মেয়েই হবে, এসব নিয়ে সে নাকাল হচ্ছিলো - তিনি শাড়ী পড়া দেখে সাহায্য করতে গিয়ে আবিষ্কার করলেনঃ কনা। সেই এক এবং একমাত্র অদ্বিতীয়া। দু একটা অনর্থক বাক্য বলে তিনি কনার হ্যান্ড লাগেজে সামালালেন, অযথাই হাসলেন। একবার ইচ্ছে করছিলো কফি খেতে বলেন, কিন্তু সাহস হলোনা। তাই তাকে তার সিটে সেটল করে শুধু কদ্দিনের জন্য ঢাকা যাচ্ছে জানলেন। ঠিকানা বা ফোন নাম্বার জানতে চাইলেন না। ইচ্ছে হলোনা।

কনাও কোন কিছু জানতে চাইনি। হয়তো ওনার মতোই সেও আধো, হাল্কা ওনার খোঁজখবর রাখে। অথচ অনেক কথাই সে জানতে চাইতে পারতো। তার মতো তুখোড় পাড় খাওয়া লোকও কেন অনেক আগের কোন এক সন্ধ্যায় এনড্রিন খাবার মতো কাঁচা কাজ করেছিলেন, অথবা কেন হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেননি – এসব গুরুতর প্রশ্নতো দূরের কথা, কোথায় গিয়েছিলেন, কি কাজে - এসব মামুলি প্রশ্নও সে করেনি। বোধকরি সে কারনেই কথাবার্তা এগোলোনা।

ঢাকায় নেমে কনার সাথে কোন কথাই হলোনা। বোর্ডিং ব্রীজে কেউ একজন তার নাম নিয়ে অপেক্ষা করছিলো বোধহয়, দূর থেকে এক লোককে কনার হ্যান্ডলাগেজ সহ তার সাথে ইমিগ্রেশনের কাউন্টারে দেখলেন। তিনি যখন ইমিগ্রেশন পেরোলেন, দেখলেন কনার সেই লোক লাগেজট্রলী সহ তাকে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

কনাকে একবারও পিছু না ফিরতে দেখে ওনার মন খারাপ হলো, একটু অবাকও হলেন, এদ্দিন পর নিজের এরকম যুবকানুভূতি হতে দেখে। একা একা হাসলেন। কোথাও কোথাও বুঝি বয়স আটকে থাকে। গাড়ীতে উঠে মনে হলো, বাচ্চাদুটোর নামও জিজ্ঞাসা করা হয়নি। খারাপ লাগলো, এতই পুরাতন আর আত্মচিন্তায় মগ্ন ছিলেন যে অবধারিত প্রশ্নটাও করা হয়নি।

(করলে, এই গল্পের ছানাটা অন্যরকম হতে পারতো, কেননা মেয়েদুটোর একটার নাম, নির্ঝরনী; অন্যটার স্রোতস্বিনী। সেই সময়ে সাহিত্য পত্রিকায় ওনার অনেক প্রকাশিত কবিতার কোন একটার নাম ছিলো – ‘স্রোতস্বিনী নির্ঝরনী’। যদি ওনাদের আবার কখনও দেখা হয়, অন্য কোথাও, অন্য কোনদিন, এবং যদি তখন আরো কিছু ব্যক্তিগত আলাপ হয়, তবে সেদিন এই গল্পটাকে একটা মা-গল্প করে পূনরায় লেখার ইচ্ছে রইলো।)


মন্তব্য

মূলত পাঠক এর ছবি

সুন্দর! সত্যিকারের ছোটো গল্প।

নিবিড় এর ছবি

মা গল্পের অপেক্ষায় রইলাম হাসি


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

হিমু এর ছবি
ফকির লালন এর ছবি

ভাই হিমু,

শুধরে দেবার জন্য ধ্ন্যবাদ। সন্দেহ ছিলো, এবং সে কারনেই ভুলটা ক্ষমার অযোগ্য। ভবিষ্যতেও দেবেন কিন্তু। আমার উপকার হবে, কৃতজ্ঞ থাকবো।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ভাল্লাগলো।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

ফকির লালন এর ছবি

ধ্ন্যবাদ।

সিরাত এর ছবি

পড়িলাম।

অভিষেক [অতিথি] এর ছবি

ভালো লেগেছে। এরকম আরো অনেক চাই।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।