বিতর্কটির কি সুরাহা করা যায়?

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
লিখেছেন ফারুক ওয়াসিফ (তারিখ: সোম, ০৭/০৪/২০০৮ - ৬:২৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এটি যিনি লিখেছেন তিনি আমার একটি লেখায় (ছয়খানা ঘোড়া...) আহত হয়েই লিখেছেন। আমার মনে হল সভায় এটি হাজির করলে বিষয়টা আরো খোলাসা হয়। একাত্তর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষওয়ালাদের আবেগের খোপ থেকে তাহলে বেরোবার সুযোগ হয়। একাত্তরের স্বার্থেই তা দরকার মনে করি। তিনি এটা দিয়েছিলেন মন্তব্য হিসাবে। আমার বক্তব্য নতুন করে বলার দরকার আছে কি-না জানি না কিন্তু সতীর্থদের অকপট মন্তব্য দরকার। এই হল জনৈক উত্তীও'র লেখাখানি।

''উত্তীও (যাচাই করা হয়নি) | বিষ্যুদ, ২০০৮-০৪-০৩ ২২:১৫

সম্প্রতি ফারুক ওয়াসিফের লিখা " ছয়খানা ঘোড়া, দশজনা জেনারেল লাগ ভেলকি লাগ " শিরোনামের লিখা নজরে এল, সে লিখার সূত্র ধরেই আমার বর্তমান লিখার অবতারনা। ভারতের বড়ভাই সুলভ আচরনের মর্মযাতনা এবং এর রূপক প্রতিবাদই তাঁর লিখার মূখ্য বিষয়।
বিভিন্ন বিষয়কে এক সূত্রে গাঁথা একটু কষ্টকর বৈকি। এক সূত্রে গাঁথতে গিয়েই ফারুক ওয়াসিফ টেনে এনেছেন দশ জন জেনারেলের কথা এবং কার্যত অক্ষম আক্রোশে সম্মান প্রদর্শন দূরে থাক অসম্মানিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধের দশ জন সহযোদ্ধাকে।
ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ঠ্রগুলোর সাথে বিমাতাসুলভ আচরন সর্বজনবিদিত। এই আচরনের দুই ভয়ঙ্কর শিকার বাংলাদেশ এবং নেপাল। আমি মনে করতে পারিনা স্বাধীনতার পর ঠিক কোন ইস্যুতে ভারতের আচরন স্বাভাবিক ছিল! তিন বিঘা করিডোর, গঙ্গার পানি চুক্তি, সীমান্তে বেড়া, পুশইনের মত ন্যাক্কার জনক ঘটনা সবই বিমাতাসুলভ আচরনের বহিঃপ্রকাশ। এ সব কিছুই ছাড়িয়ে যায় চাল ইস্যু। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হবার পরও অভিনব পন্হায় চুক্তি ঠেকিয়ে দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
এ বিষয়ে একাত্মকতা প্রকাশ করি ফারুক ওয়াসিফের সাথে। আমার বর্তমান লিখার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ভারতের দশ জন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল , যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের স্বপক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন।
দেখা যাক ফারুক কিভাবে সহযোদ্ধা দশ জেনারেলকে নিয়ে আসলেন। তিনি লিখেছেন
" ছয়খানা ঘোড়া সীমান্তে দাঁড়াইয়াছিল ট্রয়ের ঘোড়ার মতোই, সওয়ারহীন। আমরাই তাহাদের আনিলাম, রাখিলাম এবং দেখিলাম ঘোড়ার পেট হইতে কথা নয়. জেনারেল বাইরায়। এঁনারা একেকজনই একেকটা দেশ জয় করিতে সেয়ানা, তায় আবার দশজনা।"
কাউকে সম্মান জানানো বা না জানানো একান্তই লেখকের ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্তু কাউকে অসম্মানিত করার অধিকারটুকু বোধ হয় লেখকের নেই। আমার লেখনীর এতটুকু ক্ষমতা নেই যে , আমার মুক্তিযুদ্ধের আবেগ প্রকাশ করতে পারব। পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে যিনিই মুক্তিযুদ্ধের সাথে একাত্মকতা ঘোষনা করেছেন , তিনি যে কোন জাতীয়তাবাদের ধারকই হউন না কেন, তিনি আমার কাছে পরম সম্মানীয়।
একজন গিন্সবারগ লিখেছিলেন " সেপ্টেম্বর ইন যশোর রোড "। একজন সমর সেন, যিনি জাতিসংঘে ভারতের মুখপাত্র ছিলেন, একাত্তরে চিৎকার করেছেন বাংলাদেশের জন্য। একজন ভিনদেশী সাংবাদিক হয়ত শুধুমাত্র সংবাদ সংগ্রহের জন্যই একাত্তরে ঢাকায় অবস্হান করেছিলেন। তাঁদের সবাই ভিন্ন ভিন্ন জাতীয়তাবাদের ধারক এবং বাহক।
যখুনি সেই সাংবাদিকের লেখনী মুক্তিযুদ্ধে বাঙালীর পক্ষে কথা বলে, যখুনি ভারতের রাষ্ঠ্রদূত বা রাশিয়ার রাষ্ঠ্রদূত জাতিসংঘে একাত্তরের বাংলাদেশকে তুলে ধরেন তখুনি জাতি, ধর্ম , জাতীয়তাবাদ তাঁরা হয়ে উঠেন মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা।
ফিরে যাই ফারুক ওয়াসিফের লিখায় , ঘোড়ার পেট থেকে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় টেনে বের করেন দশ জন জেনারেলকে , যাঁরা কিনা সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন। ট্রয়ের ঘোড়া থেকে সৈন্যরা বেড়িয়েছিল আরেকটি দেশ ধ্বংশের জন্য ,সহযোদ্ধা জেনারেলরা কি এতটাই অসম্মানের যোগ্য ?''


মন্তব্য

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

একটি কথা, যাঁরা লেখকের সঙ্গে একমত হয়ে মার্কিং করতে চান, তাঁরা আলাদা করে যার যার মন্তব্যের সঙ্গে দিতে পারেন অথবা লেখকের অনুমতি নিয়ে তাঁর স্বনামে এটিকে রূপান্তরিত করে সেখানেও দিতে পারেন।
কিংবা যেভাবে হয় সেভাবেও হতে পারে, সবাই বুঝে নেবে এই মার্কিং উত্তীও'র জন্য।
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

ঘটনা হইতেছে উত্তীয় মহাশয় আবেগের আছরে যুক্তি খোয়াইয়াছেন প্রতীয়মান হয়। ভারতের জনগণ যেই ত্যাগ স্বীকার করিয়াছেন বাংলাদেশের জন্য তাহা প্রতিদানযোগ্য নহে। তবে কিনা ভারত রাষ্ট্র, যাহা ঠাকুর-যাদবদিগের আজন্ম খেদমতগার, তাহাকে পবীত্রবস্তু গণ্য করায় আপত্তি থাকে বৈকি! ভারতরাষ্ট্রের দাক্ষিণ্য ব্যতিরেকে অচ্ছুৎ বঙ্গালমুলুকের স্বাধীনতাপ্রাপ্তি হইতো না জাতীয় আকুতি, মুক্তিযুদ্ধের যেই ইতিহাসের মুখে তড়িঘড়ি কাফন চাপিয়া ধরে তাহা হইল, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের সশস্ত্রসমরাভিমুখী জাগরণ, গর্ভে গণযুদ্ধের ভ্রুণ ধারণ করিয়া ছিল, যাহা শেঠজীদের কপালে রেখাবৃদ্ধি করিতেছিল। সেই ১৬ ডিসেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার অপরাহ্ন হইতে অদ্যাবধি ২২ পরিবারের সঙ্গে আরো যে সহস্রাধিক ক্রোড়পতি, গণপতির গণ্ডারোহণ করিয়াছেন, টাটা-বিড়লা-গোদরেজ-আগারওয়াল-ঝুনঝুনওয়ালারা তাহাদিগের পরমারাধ্যজন। যেই মঙ্গলময় শেঠজীরা শতগুণ উদ্বৃত্তের লালসে ক্ষুধার অন্নে প্রস্তরচুর্ণ মিশ্রণের দুরূহ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করিতে পারেন, বিনামূল্যে দাক্ষিণ্য বিতরণ তাহাদের ক্ষেত্রে ইনফুলুয়েঞ্জাক্রান্ত মন্ডুকের ন্যায়। সেনাপতিরা কাহারা? তাহারা ভারত রাষ্ট্রের প্রশিক্ষিত ঠ্যাঙাড়ে বাহিনির গোদা পালোয়ান। কর্তার ইচ্ছা ব্যতিরেকে তাহারা ক্লীব।



ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ


ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ

দিগন্ত এর ছবি

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হবার পরও অভিনব পন্হায় চুক্তি ঠেকিয়ে দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি তো সবসময়েই সাবজেক্ট টু ট্রেড পলিসি। সুতরাং এটা প্রথম ঘটনা নয় সরকারি ইন্টারভেনশনের। এটা আমদানী-রপ্তানী হোক বা বিদেশী বিনিয়োগ, সরকারী সিদ্ধান্ত তো প্রভাব ফেলবেই। এবার বিশ্বজুড়ে খাদ্য-সঙ্কট চলছে, তাই সরকার রপ্তানী বন্ধ করছে। শুধু ভারত নয়, রপ্তানী বন্ধ করেছে চিন, মিশর আর আরো অনেক রপ্তানীকারী দেশ। সুতরাং ভারতের একা দোষ দেখে লাভ কি? এখন সিদ্ধান্ত ঠিক কি না সেটা যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেও ঠিকঠাক জানে না। কিন্তু তাদের তো এই সিদ্ধান্ত নিতেই হবে কারণ সামনে ভোট।

আর ভারত বালাদেশের মতই গরীব দেশ, সুতরাং ভারতের কাছ থেকে কোনো রকম সাহায্যের আশা না করে বরং প্রতিদ্বন্দিতার জন্য তৈরী হলেই ভাল। আমেরিকায় আসার পরে বুঝেছি যে তৃতীয় বিশ্বে আমরা প্রথম বিশ্বের ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্টে বেঁচে থাকি। আর একই ডাস্টবিনে একাধিক ভিখারী গেলে কি হয় নিশ্চয় জানেন ...
---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

দুঃখিত সময় মতো মন্তব্য না দেয়ার জন্য।
ভারতের মোট চাল মজুদের পাঁচ লাখ টন এখন বিক্রির মাধ‌্যমে অর্থ পরিশোধ করায় বাংলাদেশের। বিক্রিত জিনিষ না দেয়াটা ট্রেড পলিসির অন্তর্গত নয়। আর বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এই টাকা পরিশোধ করেছে ভারতের চাল ব্যান করার আগেই। উপরূন্তু ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে ঢাকায় এসে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সিডরের পটভূমিতে। এখন কথা না রাখার যুক্তি কী? চাল যদি না-ই দেবে তাহলে হাজার হাজার টন চল সীমান্তে ট্র্যাকে করে এনে দাঁড় করিয়ে রাখা কেন?
এসবের আড়ালে একটা দরকষাকষি চলছে। সেটাই ভারতের আধিপত্যবাদী রাজনীতির প্রকাশ।
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

দিগন্ত এর ছবি

বিক্রির মাধ‌্যমে অর্থ পরিশোধ করায় বাংলাদেশের।

আপনি কি নিশ্চিত যে টাকা চলে এসেছে? তথ্যসূত্র? আমার ধারণা ছিল লেটার অব ক্রেডিটও হয় নি।
---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

আমি মনে করি না যে, আমরা তাদের উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেঁচে থাকি। উচ্ছিষ্ট না অধিকার না ন্যায্য তা নির্ভর করে কে কীভাবে দিচ্ছে এবং কে কীভাবে নিচ্ছে। আমাদের শাসকেরা নিজেদের ভিখিরি মনে করে সেই সূত্রে আমরাও ভিখিরি এটা সত্য। কিন্তু আমাদের শোষণ করেই তারা বেঁচে থাকে। অসম বাণিজ্য, ঋণ-ব্যবসা, পণ্যের অতি শুল্ক হার তো রয়েছেই এখন ডলার কিনতে হচ্ছে চড়াদামে। ডলার এখন বিনিময় মাধ্যম নয়, ডলার হলো পণ্য এবং আমেরিকা নিজের ইচ্ছামতো তার দাম বাড়িয়ে রাখতে পারছে আন্তর্জাতিক অর্থকরী সংস্থাগুলোর ওপর প্রভাবের বলে।
দারিদ্র্য-অনুনন্নয়নেরও লম্বা ইতিহাস আছে। সেসব থাক। আমাদের সরকার এবং আমাদের প্রত্যেকের আপস, গাফিলতি অযোগ্যতার সুযোগ কেউ নিলে তাকে গালি দিয়ে সুখ পাওয়া যায় বটে কিন্তু তা যদি নিজেদের সংশোধনের জন্য না হয়ে তাতে আত্মরতি ভিন্ন কোনো ফায়দা নাই।
...........................................................................................
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

তানভীর এর ছবি

ভারতের কাছ থেকে কোনো রকম সাহায্যের আশা না করে বরং প্রতিদ্বন্দিতার জন্য তৈরী হলেই ভাল।

FYI, বাংলাদেশ ভারতের কাছে কোনরকম সাহায্য প্রত্যাশা করে না। শুধু আশা করে বড় প্রতিবেশী হিসেবে ভারত ফেয়ার গেম খেলবে। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধ থেকে শুরু করে বর্ডারে গ্যাঞ্জাম ইত্যাদি নানা কারণে বাংলাদেশের জনগণ ভারতের উপর বিরক্ত। বাংলাদেশ তো ভারতের কাছে চাল চায় নি। ঘূর্ণিঝড়ের সময় ভারত দেবে বলে এখন পিছপা হয়েছে। কথা দিয়ে কথা রাখতে না পারা- এটা নিশ্চয়ই ভাল কোন কূটনীতির মধ্যে পড়ে না!

=============
"আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে"

দিগন্ত এর ছবি

ঘূর্ণিঝড়ের সময় ভারত দেবে বলে এখন পিছপা হয়েছে।

- আপনি কি সঠিক জানেন যে ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেবে বলে পিপা হয়েছে? আমি তো শেষ এই খবর পেয়েছি। তার আগে সরকার চাল রপ্তানী করার জন্য ঠিকাদারী সংস্থাগুলোর সাথে যে চুক্তি হয়েছিল তার জায়গায় সরাসরি সরকারি সূত্রে চাল দেবার কথা বলেছে। আমি বাংলাদেশের কাগজের লিঙ্ক দিলাম। আর দেশের খাবারের ঘাটতি নিয়ে এখানে পড়তে পারেন।

শুধু আশা করে বড় প্রতিবেশী হিসেবে ভারত ফেয়ার গেম খেলবে।

- ফেয়ার গেমের সংজ্ঞাটা কে ঠিক করবে?আমার বক্তব্য ডিসপিউট মেটাতে তাহলে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হওয়াই উচিত। আর আপনি যেমন "ফেয়ার গেমের" কথা বলেন সেটা আর কোন কোন দেশ খেলে?
---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তানভীর এর ছবি

আর আপনি যেমন "ফেয়ার গেমের" কথা বলেন সেটা আর কোন কোন দেশ খেলে?

আমাদের তিন দিকেই তো ভারত আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে আছে। আর কোন দেশের দিকে আমাদের তাকাবার অবকাশ বা প্রয়োজন আছে কি?

আমার বক্তব্য ডিসপিউট মেটাতে তাহলে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হওয়াই উচিত

এটা তো ...হাইকোর্ট দেখানোর মত যুক্তি হয়ে গেল! ভারত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নদী আইন লংঘন করেই বাংলাদেশকে পানির নায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করে। সীমান্তের অন্যান্য ইস্যু তো আছেই। ফারুক ওয়াসিফ সাহেব সাংবাদিক মানুষ। উনি এসব বিষয়ে আরো ভাল বলতে পারবেন।

আপনি কি সঠিক জানেন যে ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেবে বলে পিপা হয়েছে?

আমি এই পোস্টের প্রেক্ষিতেই আমার মন্তব্য করেছি যেখানে বলা হয়েছে ঠিকাদারের সাথে চুক্তি কেন্দ্রীয় সরকার রদ করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রতিশ্রুত ৫ লাখ টন চালের বাইরে ভারত থেকে আর কোন চাল আমদানীর ব্যাপার আছে কি না আমি জানতাম না। আপনার দেয়া লিংক থেকে দেখতে পাচ্ছি ৫ লাখের মধ্যে মাত্র বার হাজার টন চাল এসে এ পর্যন্ত পৌঁচেছে! বাকী চাল মনে হয় আগামী নভেম্বরে আরেকটা ঘূর্ণিঝড় এলে পরে আসতে পারে হাসি

=============
"আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে"

দিগন্ত এর ছবি

"আমাদের তিন দিকেই তো ভারত আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে আছে। " - এটা ভৌগলিক সত্য, কিছুদিনের জন্য হলেও এখন এটা বদলানোর উপায় নেই।

কি আশ্চর্য সময়ের কথা তো কিছু বলা ছিল না হাসি. 5 লাখ টন চাল কি সঙ্গে সঙ্গে আসতে পারে? ধাপে ধাপেই আসবে ... আপনি সময়ের ব্যাপারটা নিজের মত এখন বলছেন। সুতরাং পিছপা হবার প্রশ্ন নেই, দেশে খাদ্যসংকট বলে দেরী হচ্ছে।

"জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নদী আইন" - এটা সম্পর্কে বিশদ জানতে চাই, আপনি কোনো লিঙ্ক দেন। আমি পেলাম না ...
---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তানভীর এর ছবি

লিংক-১ (RTF Doc)

লিংক-২

লিংক-৩ (এটা জাতিসংঘ সমুদ্র আইন লঙ্ঘন সম্পর্কিত)

গুগলে খুঁজলে আরো অসংখ্য লিংক পেয়ে যাবেন। কেন পেলেন না বুঝলাম না হাসি

ঘূর্ণিঝড়ের সময় চালের প্রতিশ্রুতি বিপর্যয় পরবর্তী সময়ে চাল দরকার বলেই তো দেয়া হয়েছে নয় কি? যখন চালের দরকার থাকবে না, তখন চাল দিয়ে কি লাভ!

=============
"আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে"

দিগন্ত এর ছবি

লিঙ্কগুলোর মধ্যে কোনোটিও তো জাতিসংঘের নয়। প্রথমটি একজনের রিসার্চ পেপার। কিন্তু ওনার কথায় যুক্তি আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবেও বাংলাদেশের কথা সমর্থন করি এ বিষয়ে। কিন্তু সমস্যার সমাধানে কোর্ট (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস) ছাড়া আর কোনো উপায় আছে বলে মনে হয় না। কারণ এ নিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক আইন নেই আবার ভারতে কোনো সরকার এই মুহূর্তে এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাকে ভোটে ভুগতে হবে। আরেকটা পথ হল সার্কব্যাপী কোনো চুক্তি (নেপাল, ভুটান সমেত) - যার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

দ্বিতীয়টা রিভার-ইন্টারলিঙ্ককিং নিয়ে যেটা বাস্তবায়ন হয় নি (হবেও না)।

তৃতীয়টা ডেইলি স্টারের কোনো লেখা, হারুন উর-রশিদের। এটা নিয়ে আমি নিজের ব্লগে লিখেছিলাম অনেককাল আগে। আমি ওনার কথায় যুক্তি কিছু খুঁজে পাই নি। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে এরকম কেস (নদী/সমুদ্রসীমা) অনেক চলে। এটা বোঝার জন্য আমি আগের সব কেস গুলোর রিপোর্ট পড়েছি। আমার মনে হয়নি ওনার দাবী যুক্তিযুক্ত। আপনিও আগে পড়ে নিন। তবে, একটা কেস করলে ঠিকঠাক বোঝা যাবে কার কথা ঠিক।

---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

দিগন্ত এর ছবি

যখন চালের দরকার থাকবে না, তখন চাল দিয়ে কি লাভ!

- কি আর করা, দেশে চাল কতটা মজুদ আছে সেটাই যেখানে সংশয়!! তাও আমার মনে হয় পরবর্তী দুমাসে চাল আসবে। তার সাথেই বাংলাদেশের এবার ভাল বোরো উৎপাদন মিলে চালের দাম কমিয়ে দেবে।
---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

বলতে ভুলে গিয়েছিলাম ফেয়ার গেম নিত্য চলে সীমান্তে। নিত্য বাংলাদেশিদের তারা পাখির মতো মারে। উল্টাটা কী ঘটা সম্ভব? কোনো সার্বভৌম দেশ এতটা মানতে পারে না। আর রৌমারিতে বিএসএফ কী নায়র খেতে ঢুকেছিল? আমার ফরহাদ মজহারের মতো বিডিআরের বীরত্বে ভক্তি নাই। কৃতিত্বটা গ্রামবাসীর। তারপরও বিডিআর অস্ত্র ধরার অপরাধে সেই বিডিআর চিফের চাকরি চলে গিয়েছিল।
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

দিগন্ত এর ছবি

এটা নিয়ে আমাদের কাগজে উলটো খবর আসে হাসি ... আমি কি করে জানি বলেন তো কোনটা সত্যি?
---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- বিতর্কটা ভালো লাগছে। কিন্তু একটা জায়গায় কেমন খটকা লাগলো। আপনি ডেইলী স্টারের লিংক দিয়েছেন মন্তব্যে, যার মানে দাঁড়ায় আপনি বাংলাদেশের খবরের কাগজেও চোখ বুলান নিয়মিত। কিন্তু এ ব্যাপারটায় কী করে আপনার দৃষ্টি কেবল 'আপনাদের কাগজে'ই সীমাবদ্ধ রইলো!

আপনি ধরে নিলাম বাংলাদেশের খবরের কাগজে বিশ্বাস রাখেন না, তাহলে উল্লেখ করা লিংকগুলো দিলেন কী করে! বিশ্বাস না করেই!
_________________________________
<সযতনে বেখেয়াল>

দিগন্ত এর ছবি

খবর পড়া আর বিশ্বাস করা অনেক আলাদা ব্যাপার। আমি আজকাল আর কোনো খবরকেই বিশ্বাস করি না, সবাই নিজের নিজের দৃষ্টিভঙ্গী আর লিমিটেড রিসোর্স ব্যবহার করে লেখে ... ভারত-পাকিস্তান খবর আমি ভারতের কাগজে পড়লে পাকিস্তানের কাগজেও পড়ার চেষ্টা করি। বিশ্বাস বলে ঠিক কিছু হয় না, হয় পয়েন্ট অব ভিউ সম্পর্কে জ্ঞান আর কনসিস্টেন্সি অব স্টান্স। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ বলে ধরে নিই - আর কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছই না।

---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

ব্যবসায়ি ব্যবসায়ি লেনদেনই এত কাল হয়ে আসছে। হঠাৎ সরকারি ভাবে কেন? কারণ চালের বিনিময়ে তারা যা চায় তা সরকার ছাড়া আর কেউ দিতে পারে না। সেটা দেবার জন্যই চাল নিয়ে চালাচালির মাঝপথে ভারত সফরের ব্যাপারটি ঘটল। এখন সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। সে বিষয়ে যাওয়ার আগে চালের মধ্যে আরেকটু থাকতে চাই।
বাংলাদেশের সরকারগুলোর ভারতকে ব্যালান্স করার মধ্যে পাতলা চাতুরি আছে। তারা কখনো পাকিস্তান (মুসলিম ভ্রার্তৃত্বের নামে), চীন (পূর্বমুখী কূটনীতির নামে) ও আমেরিকার (গণতন্ত্র ও সন্ত্রাসদমনের নামে) কোলে আশ্রয় নিতে যায়। তখন ভারতও টাইট দেয়। চাল নিয়ে ঝামেলার শুরু এ সরকার যখন পাকিস্তানমুখী হলো। এবং তাদের মাধ্যমে আর সিডরের বরাতে যেই মার্কিন বাহিনী এখানে ঢুকে পড়ল সেই ভারত চাল নিয়ে বেঁকে বসল। মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হলে প্রণব মুখার্জি এলেন এবং চাল দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। ঐ একই বৈঠকে তিনি বন্দর সুবিধাসহ ট্রানজিটের কথা তুললেন।
ভারত আদতে চায় ট্র্যানজিট, বন্দর এবং গ্যাস ও টাটার বিনিয়োগ। সেভেন সিস্টার্সে ভারতীয় বৃহত পুঁজির বাজার এবং সামরিক নিয়ন্ত্রণ শক্ত করার জন্য দ্রুত বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে রেলরাস্তা করলে ব্যয় কমে ২ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা। কাজটাও সহজ হয়। আগরতলা থেকে আখাউড়া হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত। সঙ্গে সঙ্গে এডিবি বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নে চাপ দেয়। ভারতীয় প্রাধান্যে থাকা এডিবি ও বিশ্বব্যাংক কার হয়ে কাজ করে? তারা টাকাও দিতে চায়। পাশাপাশি যমুনা ব্রিজে যেহেতু ফাটল সেহেতু তারা আরেকটি রেলব্রিজ বানানোর প্রজেক্টও দিয়েছে কলকাতা-চট্টগ্রাম ট্রানজিটের জন্য। রোড ট্রানজিটের জন্য তামাবিল থেকে সিলেট হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে চায়। এসব দরকার কেবল সেভেন সিস্টার্সের জন্যই নয়, পূর্ব এশিয়ায় বাণিজ্য বা বাজার খোলার জন্য। আমাদের দুই প্রতিবেশী চীণ ও ভারতের দানবীয় উত্থান ঘটছে। এদের বাজার চাই, রিসোর্স চাই। চীন আফ্রিকায় জেঁকে বসছে, ভারত ঢুকতে চাইছে পূর্ব এশিয়ায়। আর বাংলাদেশ তো হাতের পাঁচ। আর এটা বাস্তবায়নে সাহায্য করছে ডব্লিউবি ও এডিবি।
আমার মনে হয় এই দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করলে বুঝতে কিছুটা সুবিধা হয়।
আপনারা কী খেয়াল করেছেন, বাস সার্ভিস ও রেল সার্ভিস চালু হয়েছে। এবং চট্টগ্রাম বন্দর উন্মুক্ত করা হয়েছে গত মাসে। বাকিগুলোও হবে। ফুলবাড়ীর কয়লা খনিতে টাটা নামে-বেনামে ঢোকার চেষ্টা করছে। এসবের বিনিময়ে এ সরকার সমর্থন চায় খাদ্য চায়।
এখন যারা এ সরকারকে অবৈধ মনে করেন তাদের কাছে প্রশশ্ন অবৈধ সরকারের টিকে থাকার মাসুল ও ক্যামোফ্লেজ আপনারা মানবেন কিনা।

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

দিগন্ত এর ছবি

হঠাৎ সরকারি ভাবে কেন?

এটা আপনি একরকম কারণ দেখেন আমি আরেকরকম দেখি। ঠিকাদারী সংস্থাগুলো রপ্তানী করার নামে বাজার থেকে চাল কিনে 'হোর্ডিং' করে বাজারে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে এই অভিযোগের পরেই এই সিদ্ধান্ত। আপনি আমাদের একটা খবর পড়ে নিন।

এর পরে আপনি যা যা লিখেছেন প্রায় সবই খাঁটি সত্যি কথা। একটা একটা করে দেখি -

"ভারত আদতে চায় ট্র্যানজিট, বন্দর এবং গ্যাস ও টাটার বিনিয়োগ। "

একদম সত্যি কথা। শেষেরটা বাদ দিতে পারি কারণ গ্যাস সরাসরি পাচ্ছে না বলেই ওটার প্রশ্ন আসে। রোড ট্রানসিট চাওয়ার মধ্যে আমি তো কোনো অন্যায় দেখি না, পাকিস্তানের সাথেও এই ইস্যুতে কথা চলছে।

"ফুলবাড়ীর কয়লা খনিতে টাটা নামে-বেনামে ঢোকার চেষ্টা করছে। "
- টাটাকে বাদ দিয়ে কিছুদিন পরে চলাটাই সম্ভব হবে না। বেনামে টাটা এখন অনেক জায়গায় ... জাগুয়ার, কোরাস বা টেটলিও টাটার। এরপরের লক্ষ্য মোটোরোলা। তাহলে এবার বলুন দোষটা কি টাটার না ডিলটার? ডিল যদি ভাল দেয় তাহলে টাটাও ভাল, খারাপ দিলে টাটা খারাপ। এটাই ব্যবসা। জিনিস যখন আপনি বাজারে কেনেন তার ওপর দাম লেখা থাকে না, দাম নির্ধারিত হয়। দাম ঠিক হলে কেনা আর না হলে না কেনা ... আজো দেখলাম এসার স্টিল কথা চালাচ্ছে বাংলাদেশে স্টিল তৈরীর ব্যাপারে।

বাংলাদেশের সরকারগুলোর ভারতকে ব্যালান্স করার মধ্যে পাতলা চাতুরি আছে।

দেখেন এটা ভারতকেও করতে হয়। ভারত এই লুকোচুরি খেলাটা খেলে আমেরিকা (দাদা), চিন (শক্তিশালী প্রতিবেশী) আর রাশিয়ার (পুরোনো বন্ধু) সাথে। কূটনীতিতে এটা খুবই স্বাভাবিক। আপনি হয়ত জানেন যে চিন নিয়ে আমেরিকার এত মাথাব্যাথা তাকে আমেরিকাই একদিন তুলেছে কারণ সোভিয়েতকে ব্যালেন্স করার জন্য তাদের দরকার ছিল। এখন ভারতের সাথে একই সম্পর্ক।

কিন্তু সব মিলে একটা ব্যাপার - আমি কিন্তু এই কূটনীতিতে ভারত বা চিনের কোনো দোষ দেখি না। ভারতে না খেতে পাওয়া জনসংখ্যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার দ্বিগুণ আর চিনে সমান। ভুখা পাবলিক খাবারের জন্য মরিয়া হবে সেটা নিয়ে অবাক হবার কি আছে?

---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

চলুব, চলুক। তবে চাল নিয়ে চালাচালি দিয়ে বা এটা ওটা নিয়ে রাষ্ট্র হিসাবে ভারতের চলন আর রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের চলনের এটা ওটার মধ্যে কাহিনীটা আসলে কী সেটা দেখা দরকার। আর একাত্তরের ইতিহাসের মধ্যেও এই বিষম সম্পর্কের আদি খোঁজা যেতে পারে।
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে, মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

দিগন্ত এর ছবি

একাত্তরের ইতিহাসের মধ্যেও এই বিষম সম্পর্কের আদি খোঁজা যেতে পারে।

- কি ভাবে এটা জানি না ... তবে একাত্তরের ভারত আর বাংলাদেশ উভয়ের স্বার্থ একই দিকে ছিল। সুতরাং, একাত্তরে একজোট ... পরে যখন স্বার্থ বিপরীত তখন জোটও ভেঙে যায় ... কূটনৈতিক সম্পর্কে খুবই স্বাভাবিক। এখন আমেরিকার সাথে বন্ধুত্ব কারণ দেশের অর্থনীতি আমেরিকা-নির্ভর। ইজরায়েলের সাথে সম্পর্ক ভাল কারণ সস্তায় অস্ত্র বিক্রি করে। আবার WTOর ময়দানে আমেরিকা ইজরায়েলের সাথে আদায়-কাঁচকলায় ... স্বার্থ যেখানে বিরোধী !!
---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

একাত্তরের ভারত আর বাংলাদেশ উভয়ের স্বার্থ একই দিকে ছিল।

মন্তব্যটা খুবই সাধারণীকৃত মনে হলো। এটা ঠিক যে একাত্তরে বাংলাদেশ এবং ভারতের বন্দুকের নলের লক্ষ্য ছিলো একই। কিন্তু স্বার্থ উভয়ের এক ছিলো কি? বাংলাদেশ চেয়েছিলো একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, ভারতের কি তা দরকার ছিলো? সোজা করে বললে, ভারতের প্রয়োজন ছিলো পাকিস্তানের ডানা মুচড়ে তার দম্ভ খর্ব করা। তাতে পূর্ব সীমান্তে তাদের মাথাব্যথার কিছু উপশম হয়। আর তখনকার সাত কোটি মানুষের বাংলাদেশ ভবিষ্যতের বাণিজ্য-বাজার হিসেবে খুব মন্দ হওয়ার কথা নয়।

আমি এই উদ্দেশ্যগুলির কোনোটাকেই অসৎ বা অযৌক্তিক বলছি না। শুধু বলতে চাই যে একাত্তরে বাংলাদেশের ও ভারতের সাধারণ স্বার্থ অভিন্ন ছিলো এটা মানা যাচ্ছে না।

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

দিগন্ত এর ছবি

দুঃখিত আমি আমার কথাটা ঠিকঠাক বোঝাতে পারিনি। ব্যাপারটা আপনি ঠিকই বলেছেন। ভারতের উদ্দেশ্য ছিল ততক্ষণাত প্রতিরক্ষা খাতে সময় কমানো আর বাজার তো পরে। আমি আপনার সাথে একমত ... উদ্দেশ্য আলাদা কিন্তু প্রতিদ্বন্দী একই ...
---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

এভাবে বলা যেতে পারে, ৭১ এ ভারতের সহযোগীতা বাংলাদেশের জন্য 'প্রয়োজন' ছিল আর বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের 'স্বার্থ' ছিলো । দুটো মিলে মিশেই ঘটনার ঘনঘটা ।
বাংলাদেশের 'প্রয়োজন' শব্দটি নিয়ে তর্কের অবকাশ নেই । ভারতের সহযোগীতা সেই মাত্রায় দরকার ছিলোনা কিংবা ভারতের সহযোগীতা ছাড়া ও বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পারতো-এই সব হাইপোথিসিস ঘটনা সম্পাদনের পর করা যেতেই পারে তবে এতে বাস্তবতা বদলে যায়না আর ফারুক ওয়াসিফের পোষ্টে এই তর্ক ঠিক যৌক্তিক ও হয়না ।
সুমনের মন্তব্যই আসলে প্রকৃত ছবিটা তুলে ধরে । তবে এও তো অস্বীকারের উপায় নেই এই জেনারেলরা ও সশরীরে যোদ্ধা ছিলেন '৭১ । বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের উদ্ভবে যে পরিমানেই হোক তাদের অবদান আছে । পেশাদারী দায়িত্বের বাইরে ও অনুধাবনের ব্যাপার থাকে । ভারতের যে কয়েক হাজার সৈনিক এই ভূ-খন্ডে নিহিত হয়েছেন তাদের পরিবার ও পরবর্তী প্রজন্ম কিন্তু এই ভূ-খন্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে গেছে ।
কিন্তু আমরা এসবের স্বীকৃতি দিলাম কই?

গতকাল যে আমার প্রান বাঁচিয়ে ছিল,আগামীকাল প্রান বাঁচানোর জন্য তার সাথেই আবার আমার ডূয়েল লড়তে হতে পারে । সেটা সমস্যা না ,সমস্যা হলো আজকের লড়াইয়ের জন্য আমি যদি গতকালকে অস্বীকার করি তাহলে আমার নীতিগত অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয় ।

সাদাচোখে ভারতীয় জেনারেলদের আগমন,তাদেরকে সম্বর্ধনা দানের মধ্যে কোন সমস্যা দেখিনা । এই উদ্যোগ আরোআগেই নেয়া যেতো, আরো আগেই ভারতের সাধারন জনগনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারতো বাংলাদেশ ।
ধন্দ লাগে-এইসব কিছু কেনো এই অস্বাভাবিক সময়ে?

মনে পড়ে-শেখ হাসিনার শাসনামলের শেষের দিকে ভারতের কোন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ঘটা করে ডক্টরেট ডিগ্রী দিয়েছিল, ডিগ্রীপ্রদান অনুষ্ঠানে তার কপালে সিঁদুর লাগিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছিল (ধারনা করছি এটা নির্দোষ সংস্কৃতি), অনুষ্ঠানের উপস্থাপক তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বদলে মুখ্যমন্ত্রী সম্বোধন করেছিলেন ( ধরে নেই এও নির্দোষ ভুল)-- কয়দিন পরের নির্বাচনের কালে হাসিনা কিন্তু টের পেয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানের ছবি আর মুখ্যমন্ত্রী উপাধি তাকে কতোটা বাঁশ দিয়েছে ।

তীব্র খাদ্যসংকট ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার এ সময়ে ও যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী জোরালো হয়ে উঠছে, প্রথম বারের মতো সেক্ট্র কমান্ডাররা একত্র হয়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন এ বিষয়ে-ঠিক সে সময়ে ভারতীয় অবঃ জেনারেলদেরকে নিয়ে আসা, তাদের মুখ দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী করানো, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের তাদেরকে সম্বর্ধনা দান-- আমি তীব্র সন্দেহ করি এসবই জল্পাই সরকারের ফন্দী ,সাধারন মানুষের ভেতর সন্দেহের বীজ় ঢুকিয়ে দেয়া যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে গড়ে উঠা আন্দোলনের পেছনে ভারত আছে ।- জামাত যেমন প্রচার করে ।

xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx
...অথবা সময় ছিলো;আমারই অস্তিত্ব ছিলোনা

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

হাসান মোর্শেদ যে ‌'প্রয়োজন' ও 'স্বার্থে'র ঐক্য দেখেছেন একাত্তরে আমিও তার সঙ্গে একমত। তার খুব ভেতরে না গিয়ে কেবল দুটো প্রশ্ন তোলা যায় :
এক. একাত্তরের লড়াই রাজনৈতিক লড়াই। একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারই এ বিষয়ে যা করার অধিকার রাখে। অতি কৃতজ্ঞতাবোধও সার্বভৌমত্বের পাতলা পায়খানা ঘটায়। শেখ মুজিব তা করতে গিয়ে মুখ পুড়িয়েছিলেন। একবার ভাবুন তো, কেন তিনি ২৫ মার্চ রাতে প্রেতপুরী ঢাকায় একা বসে রইলেন কিন্তু ভারতে গেলেন না? আগরতলা পর্বেই তিনি ভারতের প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছিলেন। একাত্তরের পরের নতুন বিশ্বাসের খেসারতও তাঁকে ও তাঁর দলকে আজো দিতে হচ্ছে।
যাই হোক মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল রাজনৈতিক সরকারের দায়িত্বে। ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশে এসেছিল ভারতের রাজ. সরকারের নির্দেশে। আমাদের উচিত সরকারিভাবে ভারতীয় জনগণ ও সরকারকে সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। যে কতিপয় জেনারেল এসেছেন তাদের যেখানে বলা হতো তাঁরা সেখানেই যেতেন। সেটা তাদের চাকুরি। কিন্তু তাঁরা অবশ্যই সম্মানিত হতেন যদি তাঁরা যে সেনাবাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতায় সেই বাহিনীর আমন্তণে না এসে সরকারি আমন্ত্রণে আসতেন। তাঁরা জানেন না এ আগমনের কী ফল? তাঁরা কাকে বৈধতা দিচ্ছেন তা তাদের জানা উচিত। আমি কোনো ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা দিবসে তাদের আমন্ত্রণ জানানোর পক্ষপাতি নই। এ জাতীয় যে কোনো জিনিষ ঘটতে পারতো ১৬ ডিসেম্বরে। বিজয়ের সঙ্গেই তাঁদে সম্পর্ক। আমাদের জাতীয় দিবসের গৌরব ও মর্যাদা কোনো বিদেশি জেনারেলতে উৎসর্গ করতে পারি না।
দ্বিতীয়ত: জেনারেল জ্যাকব বিজেপি করতেন এবং তাদের হয়ে কাশ্মীর ও পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীত্ব করেছেন। তিনি ঘোষিত ইসরাইলের বন্ধু এবং ইসরাইল একটি মৌলবাদী ধর্মীয় ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র।
তৃতীয়ত: তাঁর কল্যাণেই আমাদের বিজয় দিবস ভারতের বিজয় দিবসে পরিণত হয়েছে। আমরা গাল ফূলিয়ে বললেও আন্তর্জাতিক ইতিহাসে এটা ভারতের কাছে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ দিবস হিসাবে গণ্য হয় এবং বলা হয় এর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের জন্ম হয়। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ।
এ বিষয়ে ভারত পরিষ্কার। ৩ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত ভারত মুক্তিবাহিনীকে সহায়তা করেছে। তারপরে যুদ্ধকে ছিনতাই করার মাধ্যমে বিজয়কেও ছিনতাই করে নিয়ে গেছে।
চতুর্থত: বন্দি ৯৩ হাজার পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে তারাই ছেড়ে দেয় সিমলা চুক্তি করে। সিমলা চুক্তির অংশীদার বাংলাদেশ ছিল না। আমাদের জিগ্গেসও করা হয়নি। এভাবে মূল অপরাধীদের ছেড়ে দেয়ায় বিচার আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে জেনে রাজাকারদেরও ক্ষমা করতে হয়।
ষষ্ঠত পানি, ফারাক্কা, টিপাইমুখ ইত্যাদি প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতের তেমন কিছু করার নেই। কাশ্মীরে গণভোট বিষয়ে ভারত জাতিসংঘের সিন্ধান্ত তোয়াক্কা করেনি। আন্তর্জাতিক আদালতের রায় ম্যান্ডেটরি নয়।
সপ্তমত: ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান শঙ্কর রায় চৌধুরী বাংলাদেশে এসে সাক্ষাতকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন (ভোরের কাগজ, তারিখ মনে নেই) যে, ভারতকে সহযোগিতা না করলে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে। সেটা জঙ্গি উত্থানের সময়। একজন গবেষক লক্ষ্য করেছেন, বেশিরভাগ জঙ্গি হামলাগুলো হয়েছিল টাটার সঙ্গে ইস্পাত ও গ্যাস নিয়ে বৈঠকের ঠিক আগে আগে।
ভারতে বিপুল গরিব থাকলেও ভারত গরিব নয়। তার উচ্চপ্রবৃদ্ধি রক্ষার জন্য চারপাশের অঞ্চলের রিসোর্স ও বাজার তার চাই। তার উদ্বৃত্ত টেকনোরাতিকে আশেপাশের দেশে রপ্তানি করা চাই। আর এর জন্য প্রতিবেশীকে রাজনৈতিকভাবে কাবু করা চাই। এটা শুরু হয় মোশাররফের সঙ্গে ভারতের সমঝোতার পর। তারপর তারা তাদের পশ্চিম ফ্রন্ট বন্ধ করে বাংলাদেশে নতুন ফ্রন্ট খোলে। গত কয়েক বছরে ভারতীয় মিডিয়া নিরন্তর বাংলাদেশকে মৌলবাদী প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। প্রতিনিয়ত। ভারতের শাসকশ্রেণী তার অভ্যন্তরে নিম্নবর্গ ও দলিতকে যেভাবে বর্ণবাদী কায়দায় হেয় ও পর্যুদস্তু করে সার্কের মধ্যে সেভাবে সে অন্য রাষ্ট্রকে নিম্নবর্ণের মনে করে। তাদের কাছে তো মুসলমান মানে তো ধর্মান্তরিত হরিজন। এর প্রকাশ থাকে তাদের দাদাগিরিতে। এখন ভারত-মার্কিন-ইসরাইল অক্ষশক্তি হয়েছে। সেটাও কি ভারত রাষ্ট্রের রূপান্তর চিহ্নিত করে না?
এরকম ভুরিভুরি উদাহরণ দেয়া যায়। এবং বলাবাহুল্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রও সমান অপরাধী হলেও সমান সমান অপরাধ করার সামর্থ্য তো তার নেই। তাই সে আমেরিকার বা পাকিস্তানের কোলে বসে ভারতকে সামলানোর বৃথা কোশেশ করে। গণবিচ্ছিন্ন শাসকদের কেবলা না ধরে উপায় কি?
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে, মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

দিগন্ত এর ছবি

জেনারেল জ্যাকব বিজেপি করতেন এবং তাদের হয়ে কাশ্মীর ও পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীত্ব করেছেন। তিনি ঘোষিত ইসরাইলের বন্ধু এবং ইসরাইল একটি মৌলবাদী ধর্মীয় ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র।

- এই সূত্রগুলো প্রায়ই আইন্সটাইন আর স্পিলবার্গের ক্ষেত্রেও খাটে। সুতরাং তাদেরো একই দলে রাখুন হাসি ... আপনি তো আগের পোস্টে রীতিমত ধর্ম তুলে রেসিস্ট অ্যাটাক করেছেন জেনারেল জ্যাকবকে দেখলাম। তাই এটা নিয়ে আমি কোনো আলোচনায় যাব না। শুধু একটা তথ্যগত ভুল হল জ্যাকব কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীত্ব করেননি। আর ওনার কোনো লেখায় আমি পাইনি যে উনি একাত্তরে বাংলাদেশের কৃতিত্ব খাটো করার চেষ্টা করেছেন।

তাঁর কল্যাণেই আমাদের বিজয় দিবস ভারতের বিজয় দিবসে পরিণত হয়েছে।
- এটা নিয়ে অনেক বিবাদ পড়েছি, তথ্যের অসম্পূর্ণতার কারণে আমি এ নিয়েও আলোচনা করব না।

এভাবে মূল অপরাধীদের ছেড়ে দেয়ায় বিচার আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে জেনে রাজাকারদেরও ক্ষমা করতে হয়।
- এখানে আপনি তো নিজের দোষটা পরের ঘাড়ে চাপাচ্ছেন। রাজাকাররা তো বাংলাদেশেই বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ অভিযোগ সবই দেশেই ছিল - আজকে অনেক কম, একাত্তরে খুঁজলে আপনি ঘরে ঘরে রাজাকারদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেতেন। সিমলা চুক্তি করতে ভারত বাধ্য ছিল কারণ রাশিয়া আর আমেরিকার চাপ ছিল তার পেছনে। একই চাপে পড়ে খুবসম্ভব বাংলাদেশও রাজাকারদের বিচার করে নি।

পানি, ফারাক্কা, টিপাইমুখ ইত্যাদি প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতের তেমন কিছু করার নেই।
- তথ্যসূত্র? আমি তো জানি উরুগুয়ে বনাম আর্জেন্টিনা কেস চলছে।

একজন গবেষক লক্ষ্য করেছেন, বেশিরভাগ জঙ্গি হামলাগুলো হয়েছিল টাটার সঙ্গে ইস্পাত ও গ্যাস নিয়ে বৈঠকের ঠিক আগে আগে।
- এই গবেষণা কি বিজ্ঞানসম্মত? গবেষক কি বাংলাভাই বলে কারোর নাম শুনেছেন?

ভারতে বিপুল গরিব থাকলেও ভারত গরিব নয়।

এটা যদি সত্যি হত কি ভাল হত হাসি ... আমি নিজেই কি খুশী থাকতাম। তা আপনি এই সিদ্ধান্তে পৌছবার জন্য কি কি তথ্য ব্যবহার করেছেন? আর আপনার কমেন্টটা কি পরস্পরবিরোধী নয়? গরিব হবার দুটো মাপকাঠি আমি জানি - গড় আয় আর না খেতে পাওয়া লোকের সংখ্যা ... কোনটিতে ভারত ভাল?

"ভারতের শাসকশ্রেণী তার অভ্যন্তরে নিম্নবর্গ ও দলিতকে যেভাবে বর্ণবাদী কায়দায় হেয় ও পর্যুদস্তু করে সার্কের মধ্যে সেভাবে সে অন্য রাষ্ট্রকে নিম্নবর্ণের মনে করে। তাদের কাছে তো মুসলমান মানে তো ধর্মান্তরিত হরিজন। "
- অতি-সরলীকৃত রেসিস্ট কমেন্ট। কোনো উত্তর দেব না। আপনার সূত্র মেনে ভারত নেপালকে তো ভাল মনে করার কথা ... নেপালে কত উচ্চবর্ণের হিন্দু হাসি ...

এবং বলাবাহুল্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রও সমান অপরাধী হলেও সমান সমান অপরাধ করার সামর্থ্য তো তার নেই।

- এটা দিয়ে আপনার বাকি সব প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়ে যায় হাসি.
---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

হ্যাঁ, উনি কাশ্মীর নয় গোয়া ও পাঞ্জাবের গভর্নর ছিলেন। এ বিষয়ে লিংক http://en.wikipedia.org/wiki/J._F._R._Jacob
ধর্মীয় ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ইসরায়েলকে এবং তার একনিষ্ঠ সমর্থককে নিন্দা করা যদি রেসিস্ট মনে হয় এবং দিনের পর দিন ধরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে মৌলবাদী ও জঙ্গি বলে চিহ্নিত করা যদি আপনার কাছে রেসিজম মনে না হয়, তাহলে আপনার কাছে ব্যাপারটা বোঝার জন্য আমি ধরনা দিয়ে রাখলাম।
বাংলা ভাই কার প্রোডাক্ট? কেন বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা রাজশাহী গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এসব তথ্য ব্যাখ্যা করবেন কি? আমি মনে করি না, জেএমবি-ই জঙ্গিবাদের একমাত্র হোতা। আরো পক্ষ আছে এবং তারা সকলেই ইসলামের অনুসারী নয়। কিছু প্রমাণ পরে দেব।
কেবল মেইনস্ট্রিমের সংবাদপত্র তা নিউ ইয়র্ক টাইমস বা বাংলাদেশের কোনোটা হোক আমি মনে করি না তার মাধ্যমে সত্য জানা সম্ভব। এমবেডেড জার্নালিজম বাংলাদেশের হয়। আপনার মিডিয়া-পঠিত বাংলাদেশ আর আমার ক্রিটিকালি দেখা বাংলাদেশ এক নয় ভাই। কী করা যাবে!
জ্যাকব প্রসঙ্গে : তিনিই পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজক ও পরিকল্পনাকারী। নিয়াজিকে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে. হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা আসছে, তাদের হাতে পড়ার আগেই আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করুন, আমরা আপনাদের নিরাপত্তা দেব। তখন তার সঙ্গে ছিল মাত্র তিন হাজার সৈন্য। কিন্তু চমকের গুণে মনোবলহীন নিয়াজি রাজি হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের আসার আগেই তড়িঘড়ি করে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান ঘটে।
এখানে কি আপনি কোনো সমস্যা দেখতে পান না?
আপনার বাকি প্রশ্নের উত্তর দেব আলাদাভাবে। এখন অফিসে তাই লিখতে পারছি না। দুঃখিত।
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

দিগন্ত এর ছবি

ধর্মীয় ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ইসরায়েলকে এবং তার একনিষ্ঠ সমর্থককে নিন্দা করা যদি রেসিস্ট মনে হয় এবং দিনের পর দিন ধরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে মৌলবাদী ও জঙ্গি বলে চিহ্নিত করা যদি আপনার কাছে রেসিজম মনে না হয়

- দুঃখিত আপনি আমার মুখে কথা বসাচ্ছেন, আপনি ইন্টারনেট ঘেঁটে বের করে নিন আমার অসংখ্য কমেন্টের মধ্যে থেকে কবে এবং কোথায় এগুলোকে আমি রেসিজম বলিনি। আর কোনো সংবাদপত্র রেসিস্ট বলে আমিও রেসিস্ট হব - এরকম যুক্তি আমি মানি না। আমাদের দেশেও এরকম অনেক সংবাদপত্র আছে আপনাদের দেশেও আছে - গত পাঁচ বছর টানা বাংলাদেশের সব সংবাদপত্র পড়ার দরুণ আমি মোটামুটি বুঝেও গেছি কোন সংবদপত্র কি লেখে।

তিনিই পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজক ও পরিকল্পনাকারী। নিয়াজিকে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে. হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা আসছে, তাদের হাতে পড়ার আগেই আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করুন, আমরা আপনাদের নিরাপত্তা দেব। তখন তার সঙ্গে ছিল মাত্র তিন হাজার সৈন্য। কিন্তু চমকের গুণে মনোবলহীন নিয়াজি রাজি হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের আসার আগেই তড়িঘড়ি করে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান ঘটে।

আমি এই ঘটনাটা প্রথম শুনলাম, এবং আমি খুব খুশী এটা জেনে যে উনি শত্রুদের ভয় দেখিয়ে বিনা রক্তপাতে যুদ্ধ জিতেছেন। এর উল্টোটা বললে হয়ত যুদ্ধ চলত অনেককাল। যুদ্ধ বেশীদিন চলাটা কারোও কাম্য নয় - তাই না?

উনি কাশ্মীর নয় গোয়া ও পাঞ্জাবের গভর্নর ছিলেন।

গভর্নর আর মুখ্যমন্ত্রী এক ব্যাপার নয়। গভর্নর হতে গেলে সিলেক্টেড হতে হয়, মুখ্যমন্ত্রী হতে গেলে ভোটে জিততে হয়। জ্যাকব কোনোকালে ভোটে দাঁড়াননি বলেই আমি জানি। তবে পাঞ্জাবে বা কোলকাতায় উনি যথেষ্ট জনপ্রিয়।

---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

আমি কিন্তু আমার পুর্বোক্ত মন্তব্যের উপসংহার টেনেছি ঐ অবিশ্বাসটুকু দিয়েই ।
যদি স্বাভাবিক সময়ে রাজনৈতিক সরকারের আমন্ত্রনে জেনারেলদের আগমন ঘটতো অবশ্যই স্বাগত জানাতাম,সরকারকে দেরীতে হলেও একটা কাজ সম্পাদনের জন্য ধন্যবাদ জানাতাম ।
কিন্তু এই অস্বাভাবিক সময়ে সামরিক সরকারের এইসব ছেলেভুলানো আয়োজনকে বিশ্বাস করার কোন সুযোগ নেই বিশেষ করে যখন প্রমানিত হয়ে গেছে এই সামরিক সরকার ও তার পুর্বসুরীদের মতোই রিভার্সগেম খেলতে বেশ আগ্রহী ।
এই মুহুর্তে আমার উপলব্দি এটাই, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীকে নিঊট্রালাইজ করা এবং এই দাবীতে গড়ে উঠা জনমতকে বিভ্রান্ত করতে এই আয়োজন বেশ সহায়ক হবে ।

আপনি যে সব পয়েন্টে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের ঠিকুজি তুলে ধরেছেন- অন্ধ না হলে তো দ্বিমতের কোন সুযোগ নেই । মুজিব প্রসংগ যখন এসেছে তখন এটা ও আবার মনে করা দরকার- ১৫ আগস্ট যখন হত্যাকান্ড ঘটে তখনো কিন্তু বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তি কার্যকর, ভারত চুক্তিবদ্ধ ছিলো সার্বিক সহযোগীতার ।
১৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ের ভারতীয় কুটনীতি ও ভুলে যাওয়া ভালো নয় হাসি । জেনারেল জিয়া থেকে শুরু করে জেনারেল এরশাদ হয়ে জেনারেল মইন-স্কল জেনারেলরাই ঐ মক্কায় গিয়ে হজ্জ্ব করে এসেছেন ।

xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx
...অথবা সময় ছিলো;আমারই অস্তিত্ব ছিলোনা

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

অতিথি লেখক এর ছবি

সহমত@হাসান মোরশেদ।

কালবেলা

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

@হাসান মোরশেদ

"এই জেনারেলরা ও সশরীরে যোদ্ধা ছিলেন '৭১ । বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের উদ্ভবে যে পরিমানেই হোক তাদের অবদান আছে । পেশাদারী দায়িত্বের বাইরে ও অনুধাবনের ব্যাপার থাকে । ভারতের যে কয়েক হাজার সৈনিক এই ভূ-খন্ডে নিহিত হয়েছেন তাদের পরিবার ও পরবর্তী প্রজন্ম কিন্তু এই ভূ-খন্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে গেছে । কিন্তু আমরা এসবের স্বীকৃতি দিলাম কই?"

একমত ।

গতকাল যে আমার প্রান বাঁচিয়ে ছিল,আগামীকাল প্রান বাঁচানোর জন্য তার সাথেই আবার আমার ডূয়েল লড়তে হতে পারে । সেটা সমস্যা না ,সমস্যা হলো আজকের লড়াইয়ের জন্য আমি যদি গতকালকে অস্বীকার করি তাহলে আমার নীতিগত অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয় । "

একমত।

মনে পড়ে-শেখ হাসিনার শাসনামলের শেষের দিকে ভারতের কোন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ঘটা করে ডক্টরেট ডিগ্রী দিয়েছিল, ডিগ্রীপ্রদান অনুষ্ঠানে তার কপালে সিঁদুর লাগিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছিল (ধারনা করছি এটা নির্দোষ সংস্কৃতি), অনুষ্ঠানের উপস্থাপক তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বদলে মুখ্যমন্ত্রী সম্বোধন করেছিলেন ( ধরে নেই এও নির্দোষ ভুল)-- কয়দিন পরের নির্বাচনের কালে হাসিনা কিন্তু টের পেয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানের ছবি আর মুখ্যমন্ত্রী উপাধি তাকে কতোটা বাঁশ দিয়েছে ।

যথার্থ বলেছেন । ঐ ছবিটি (হাসিনার কপালে সিদুর ) ক্যাপশনসহ
ইনকিলাব ছেপে তার বারটা বাজেয়েছিল ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

"একাত্তরে একজোট ... পরে যখন স্বার্থ বিপরীত তখন জোটও ভেঙে যায় ... কূটনৈতিক সম্পর্কে খুবই স্বাভাবিক।" (দিগন্ত )

তাই আমি মনে করি '৭১ এ ভারতের ভুমিকার নির্মোহ মুল্যায়ন হোক । র' তত্ত্বাবধানে মুজিব বাহিনী গঠন নিয়ে জেনারেল অরোরারাও প্রশ্ন তুলেছিলেন ।

৭২-২০০৮ এ ভারত , পাকিস্তান, আমেরিকা, চীন , রাশিয়া ভাল মন্দ ভুমিকা আলাদা ভাবে আসুক ।

এইখানে আমরা শুধু একাত্তর এ ভারত বিষয়ে থাকি ।

দশ জেনারেল এর আগমনকে সিনিয়রদের মধ্য থেকে যদি কেবল ফরহাদ মজহার প্রশ্ন তুলতেন আর তরুনদের মধ্য থেকে ফারুক ওয়াসিফ তবে ব্যাপারটাকে জামাতি বা অতি বাম বলে পাশ কাটান যেত কিন্তু আবদুল গাফফার চৌধুরি যখন সমকালে সন্দেহ প্রকাশ করেন তখন কি বলা যায় ?

মুদ্রার অপর পিঠ এ আবার দেখছি , ঐ সমকালের আবু সাইদ খান আর সচল ব্লগার থার্ড আই কে ।

বিধায়, ফারুক এর মত আমরাও চাই , বির্তক এর সুরাহা হোক এখানেই।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার আকার ও বিকার নিয়ে স্বতন্ত্র একটা পোস্ট দেয়ার বাসনা ছিল। দেখা যাচ্ছে তা তর্কের মাঠেই মারা পড়ল। কী করা যাবে আর! চলুক চলুক!
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে, মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

মরে নাই মরে নাই...ফুঁ দ্যান....



ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

দিব যে সাতজনে মিলিয়া চম্পাকাণ্ডের বেশি কিছু তো হয় না? সাত বীরশ্রেষ্ঠে কি আর বঙ্গদেশ উদ্ধার হইবে?
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

ফারুক ওয়াসিফ লিখেছেন:
"দিব যে সাতজনে মিলিয়া চম্পাকাণ্ডের বেশি কিছু তো হয় না? সাত বীরশ্রেষ্ঠে কি আর বঙ্গদেশ উদ্ধার হইবে?"

হবে , আমি আশাবাদী যদিও জমেছে অনেক মেঘ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

না মানিক, আমি বলছিলাম আমরা মাত্র সাতজন এখানে লিপ্ত আছি। এই সাতজনের আগ্রহেই কি এ বিতর্ককে প্রথম পৃষ্ঠায় নিয়ে যাওয়া যায়! কথাটা সংকোচ থেকে বলা।
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে, মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

স্বতন্ত্র পোস্ট স্বতন্ত্র মাত্রা সৃষ্টি করতে পারে বা করবে।



ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

না ফারুক, আপনি যে অর্থে ৭ জন mean করেছেন আমি ঐ অর্থেই comment করেছি । সহস্র গাঁধার চেয়ে একজন বাঁঘ কি যথেস্ট নয় ?

আমি নিজের Experience এ দেখেছি একজন ব্যক্তির সার্মথ্য সংগঠন বা দলের চেয়ে কম নয় ।

আমি আর আইন বিভাগের এক ছাত্রী মিলে (মানে সাকুল্যে ২ জন) আফ্গানিস্তান এ লাদেন কে খুজার অজুহাতে আমেরিকার বোমা হামলা দ্বারা নারী ও শিশু সহ নিরপরাধ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে mass signing campain শুরু করেছিলাম , পরে আমাদের support করেছিলেন সিরাজুল ইসলাম চোধুরী , আবুল কাশেম ফজলুল হক, আনু মুহম্মদ, এম এম আকাশ প্রমুখ ।

Lacs were signed with comments. Tv and Print Media published news coverage. The signed books were submitted to UN.That's all.

সুতরাং একজন ফারুক বা সুমন বা তানভির বা দিগন্ত বা বিপ্লব বা হাসান মুরশেদের চিন্তাকে গুরত্বহী্ন মনে করার কারন নেই।

Thesis আসুক, Anti thesis আসুক if any. Synthesis হো্ক ।

এভাবেই উঠে আসুক সত্য । লজিকাল হলে দিগন্ত ভাই তা' মানবে বৈকি , যেহেতু তিনি যুক্তিবাদি।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

ধ্রুব হাসান এর ছবি

আশা করি সুস্থ ও সবল বাঘ হয়ে উঠুন।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

আমারও তাই আশা যে. একদিন সবাই আমরা বাঘ হব আর দেশটা হবে চিড়িয়াখানা।
...........................................................................................
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

ইনশাল্লা
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

[quote=ফারুক ওয়াসিফ
"আগরতলা পর্বেই তিনি ভারতের প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছিলেন। "

আগরতলা পর্বে তিনি কি ছিলেন ?তাজউদ্দির এর বাসায় শেখ মুজিব এর সাথে meeting e লে ক মোয়েজ্জম কে তিনি consent দেননি বলেই জানি ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

প্রথমবার মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে আগরতলায় গিয়ে হতাশ হয়েছিলেন। তারা তেমন সহযোগিতা করেনি বা কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাক্ষাত পাননি। আমার ধারণা ভারত তখন পর্যণ্ত বাংলাদেশ বিষয়ে স্বাধীনতা প্রশ্নে আগ্রহী হয়ে ওঠেনি।
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

শেখ মুজিব আসলেই আগরতলা গিয়েছিলেন নাকি?
কোন প্রামাণ্য তথ্য থাকলে জানাবেন তো । দরকার আছে ।

xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx
...অথবা সময় ছিলো;আমারই অস্তিত্ব ছিলোনা

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

দুর্দান্ত এর ছবি

জম্পেশ তর্ক।

কে যেন বলেছিল, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে স্থায়ী শত্রু বা বন্ধু নেই, স্থায়ী শুধু দেশের স্বার্থ। ভারত চীন আর আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের মানুষের ভবিষ্যত বাঁধা - এ সত্যের বিপক্ষে কোন যুক্তি টেকে?

বাংগালী জাতীয়তাবাদ, ৭১ আর আজকের জল্পাই দাঁড়ি টুপি ঢাক গুড়গুড় এই সত্যের কারন নয়, অন্যতম উপসর্গ।

পুরানো সেই দিনের কথায় ভবিষ্যতের উপলব্ধিটা আরো জোড়ালো হয়ে আসুক। নস্টালজিয়ার উতপাদন ক্ষমতা সীমিত, কিন্তু ভবিষ্যতচিন্তার খোলা জানালা দিয়েই সম্ভাবনার আলো আসে।

রাসেল এর ছবি

অন্তর্জালিক সীমান্ত সংঘাত দেখলাম অনেক ক্ষণ। ফারুক ওয়াসীফের বক্তব্য যতটুকু অনুমাণ করা যায় সেটা ভারতের চাল রাজনীতি নিয়ে বিতৃষ্ণ মানুষের জবানবন্দি। এ জন্যই ভারতের সীমান্ত ডিঙিয়ে আসা ১০ জেনারেলের সাথে আরও কিছু মন্ত্রনা পাচার হয়ে এসেছে বাংলাদেশে এমন অনুমান তার- সাংবাদিক মানুষেরা বাটাসের গন্ধ শুঁকেও অনেক রহস্য উদঘাটন করে ফেলতে পারে- তবে ভেতরে সংশয় থাকলে তুমুল মার্ক্সবাদী বিশ্লেষণও মাঝে মাঝে করুণ সাম্প্রদায়িক এবং বর্ণবাদি অনুশীলন হয়ে যায়। আক্ষেপ সেখানেই- আজ যখন মাননীয় বিজ্ঞ হিসেবে আসছে আব্দুল গাফফার চৌধুরির কলামের কথা তখন মনে রাখতে হবে এই মানুষটার বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি কতটুকু। তিনি লন্ডন থেকে পশ্চিমা বাতাস শুঁকে বাংলাদেশের বারুদের গন্ধ পান, সেখানে সামরিক কিংবা বেসামরিক কিংবা জঙ্গী কিংবা র য়ের অনুপান খুঁজে পান। তার এই যোগ্যতাকে সম্মান করতেই হয়।
আমার ফারুক ওয়াসিফের বক্তব্য এবং এটা উপস্থাপনের ধরণ আপত্তিকর মনে হয়েছে, সময় সময় সেখানে ভারতভীতির জুজুর অস্তিত্ব ছিলো। ভারতের আভ্যন্তরীণ বাজারের অবস্থা যাই থাকুক না কেনো ভারত যখন ঘোষণা দিয়েছে তারা ৫ লক্ষ টন চাল রপ্তানি করবে তখন সেটা দিয়ে দেওয়াই বাঞ্ছনীয়। আমি এ জায়গাটাতে সহমত-
বাংলাদেশের চালের সংকটে অবশ্য ভারতের নিজস্ব দায় নেই- বাংলাদেশের চালের এবং তেলের দাম বাড়ানোর পেছনেও ভারতের সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত নেই- এটা যদি নেহায়েত একাডিমিক বিশ্লেষণ হতো তাহলেও একটা যুক্তির উপস্থাপনা থাকতো। ব্যক্তিগত অনুভাবনার খাতায় কারো ভারত বিরোধিতা থাকলেই বা কি? তথাকথিত ইসরাইলের দুঁদে নাগরিক জ্যাকব কোনো ভাবে ইসরাইলের ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে আসে নি। আমি আবরও দুঃখিত হয়ে বলছি- ফারুক ওয়াসিফের এই বর্ণবাদী আচরণ কিংবা দৃষ্টিভঙ্গিতে আহত বোধ করেছি-
বিস্তারিত আলোচনায় অনেক কিছুই এসেছে- সীমান্তে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর গুলিবর্ষণ- নিরিহ নাগরিকের মৃত্যু এবং বিডিআর এর কর্তার বরখাস্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনাতে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপের নির্লজ্জ প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়- আমি মেনে নিলাম এটা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি মারাত্বক আঘাত- তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য থেকে আসা নানাবিধ পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্তা এবং কর্মীদের আগমন এবং তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়মিত মুচলেকা দেওয়া আদতে কিসের ইঙ্গিত?
গীতা পসি নিয়মিত বৈঠক করছেন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে - চাল রাজনীতির সাথে এটা সম্পর্কিত নয় তবে সার্বভৌমত্বের সাথে সম্পর্কিত। এসব আলোচ্যসূচি বহির্ভুত আলোচন বাদ দিয়ে ১৯৭১এর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবদান এবং তাদের আচরণের বিশ্লেষণ করা যেতে পারে- জ্যকব নিয়াজিকে আত্মসমর্পনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলেন, পাকিস্তানিদের নিজেদের বন্দি হিসেবে ভারতে চালান করেছিলেন।
ভারতের সর্বাত্মক আক্রমনে যাওয়ার কারণ ছিলো পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানের হামলা।
এই ঘটনাটা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সমসাময়িক একটা ঘটনা। তবে ২৬শে মার্চ থেকে চলে আসা স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে নেহায়েত উপরিপাতনের ঘটনাটা ইয়াহিয়ার সিদ্ধান্তের ভুল- কিংবা সে সময়ে পাকিস্তানের জেহাদী জোশ উস্কে দেওয়ার জন্য একটা গৃহীত পদক্ষেপ। বাংলাদেশের ভুখন্ড যার অস্তিত্ব প্রবাসী সরকার গঠন করবার পর থেকে ভারত মেনে নিয়েছে এবং কলকাতায় প্রবাসী সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক কার্যকলাপ, প্রবাসী সরকারের ডাকটিকেট ছাপানো এবং নিজস্ব মূদ্রা ছাপানো কাজে সহযোগিতা- এবং ইউরোপে ইন্দিরা গান্ধীর সফর এবং ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানের বিভিন্ন পদক্ষেপ- সবটাতেই হয়তো পাকিস্তান ভাঙবার ষড়যন্ত্র ছিলো-
ফারুক ওয়াসিফের এই কথাটার সাথে কিভাবে যেনো এপ্রিলে এর মে মাসে প্রচারিত পাকিস্তান বেতারের ভাষণ আর অভিভাষণের সুর পাওয়া যায়।
এটাকে নিছক সাম্প্রদায়িকতা বলা যায় না।
ভারতের বাজার সম্প্রসারণের জন্যই ভারত মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছিলো এই সত্য!!! মেনে নিতে ফারুক ওয়াসিফের আপত্তি নেই- তবে মাঝে মাঝে রজ্জুতে ডাইনোসর ভেবে নেওয়ার বাতিক রীতিমতো আশংকাজনক। ভারতের বর্তমান ভুমিকা, বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের আমন্ত্রনে জ্যাকব সহ ১০ জন জেনারেলের আগমনে হয়তো আমাদের উগ্র ডানপন্থী উজবুকদের সামান্য সুবিধা হবে, উগ্রজাতীয়তাবাদের চর্চার একটা ক্ষেত্র তৈরি হবে- তবে মাঝে মাঝে উজবুকদের বারুদের সলতে তৈরি করে দেওয়ার কাজটা বামপন্থী মতবাদের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিরাই নিদারুন সচেতনতার সাথে করে থাকে।
আমি দিগন্তের ধারাবাহিক জবাব পড়লাম, সীমান্ত সংঘাত এবং রাজনৈতিক পাঠ, ভারতের বঞ্চনার ইতিহাসও পাঠ করলাম, অনেককেই এতে সহমত হতে দেখলাম- ফারাক্কা বাঁধ তৈরি করে বাংলাদেশের পানি মেরে খাওয়া এবং ভারতের সীমান্তে পাখির মতো মানুষ মেরে ফেলার বিষয়টা সম্পর্কে আমি অবগত থেকেই বলতে চাই- সীমান্তে অনেকেই চোরাচালানের কাজটা করে থাকে- গরুর পেটের নীচে নিজেকে বেঁধে মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে। গরুর পেটের নীচে বেঁধে মনিহারি সামগ্রী পাচার করছে- এবং স্থানীয় সাংবাদিকের বরাতে চলে আসছে ভারতের বিএসএস বিনাউস্কানিতেই গুলি করছে-
ফারুক ওয়াসিফ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে নিজেদ দেশ দর্শন করেন না জেনে ভালো লাগলেও দেখা গেলো জুজুর কাল্পনিক কল্পনার বিস্তার আর দেশের বিভিন্ন সংবাদ পত্রে প্রকাশিত কলাম আর সংবাদকণিকাই তার তথ্যের মূল ভিত্তি-
আশা করছি তিনি অন্তত বিশ্লেষণে অসাম্প্রদায়িক এবং অবর্ণবাদী থেকে তার বক্তব্যের কথিত উপসংহারে ভারতের ঘৃন্য সাম্রাজ্যবাদী নীতি নিয়ে বিস্তারিত লিখবেন।
তার আগ পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করি আসলেই এই ভারতবিরোধিতার ইস্যুটা মীমাংসা হওয়া সম্ভব কি না?

------------------------------------

আমি তো গণে নেই বিচ্ছিন্ন একা
সঙ্ঘে সমুহে নেই সঙ্ঘমিতা।

ধ্রুব হাসান এর ছবি

জ্যাকব প্রসঙ্গে আপনার ব্যক্তব্যের সাথে সহমত।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

গরুর পেটের নীচে করে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ও যদি বিএসএফ গুলি করে মারে,সেটা ও কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন ।
তবে এই আইন লংঘনের অপরাধ যে ভারত একাই করে তা নয় । ভারত>পাকিস্তান>ইরান>তুরস্ক>গ্রীস>স্পেন>ফ্রান্স>ইংল্যান্ড এই রুট ব্যবহার করে যারা ইংল্যান্ডে এসে ঢুকে তাদের অনেকেই প্রান হারায় ভারত,পাকিস্তান ও ইরানের সীমান্ত রক্ষীদের গুলীতে । ইউরোপের সীমানায় আসার পর চিত্র বদলায় ।

xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx
...অথবা সময় ছিলো;আমারই অস্তিত্ব ছিলোনা

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

দিগন্ত এর ছবি

যদি বিএসএফ গুলি করে মারে,সেটা ও কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন ।

- এটাই তো আমি আপনাকে বোঝাতে পারছি না। যেহেতু আইন লঙ্ঘন, তাই এটা আদালতে গেলেই ভাল। ভারত সরকারের থেকে ক্ষতিপূরণ দাবী করে ICJ তে গেলেই হয়। ফারাক্কা সম্পর্কেও আমার একই মত।

যাহোক এ নিয়ে অনেক কথা হয়ে গেল। আর নয় ... এখানেই আমি সমাপ্তি টানলাম। যদি আপনি/আপনারা আরো আলোচনা করতে চান তাহলে আরেকটা পোস্ট দিন।

---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

দেখুন, সবসময়ই গুলি করে শক্তিশালী রাষ্ট্র সেটা মেক্সিকো-আমেরিকা সীমান্তই হোক আর ভারত-বাংলাদেশই হোক। এবং আন্তর্জাতিক আদালতে এর বাধ্যতামূলক মীমাংসা হয় না। ভারত না মানলে কিছু করার নাই। জাতিসংঘে প্রস্তাব পাশ করা যায়। তবে তাতেও বাংলাদেশ সবার সায় পাবে না। কারণ আইন সবলের পক্ষে। কাশ্মীর ইস্যুই দেখুন না, সবাই ভারত ও পাকিস্তানকে কাশ্মীরীদের মুরুব্বি মেনে নিয়েছে। ওদের গণভোটে ফয়সালা হতে পারে না?
..........................................................................................
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

দিগন্ত এর ছবি

ওদের গণভোটে ফয়সালা হতে পারে না?
আপনি হয়ত জানেন না গণভোটের যে প্রস্তাব জাতিসংঘ পাশ করিয়েছিল তাতেও কাশ্মীরীদের হয় ভারত নাহয় পাকিস্তানকে বেছে নিতে বলা হয়েছিল। আর তাছাড়া কাশ্মীরে যে বৌদ্ধ ও হিন্দু পৃথক ভাষাভাষি মানুষ আছে তাদের জন্যও আলাদা করে কিছু বলা নেই। সুতরাং মানুষের কিছু বলার নেই। ভারত আর পাকিস্তান নিজেদের স্বার্থেই ঘাড়ে চেপে আছে এদের, উভয়েই গণভোট না হবার কারণ হসাবে অন্যেকে দায়ী করে এসেছে।

আন্তর্জাতিক আদালত নিয়ে আমি একটা পোস্ট দেব। সবার জানা দরকার ...
---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

হ্যাঁ আরেকটা পোস্টই উত্তম।
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে, মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

হ্যাঁ আরেকটা পোস্টই উত্তম। চাল আমার বড় প্রসঙ্গ নয়। সেকারণে প্রথম থেকেই সেটা এড়াতে চেয়েছি। ফুটনোটে আসতে পারতো যে, চালের সঙ্গে বা এই সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার প্রশ্নের সঙ্গে ট্রানজিট, বন্দর ইত্যাদি জড়িত। আমার প্রসঙ্গ রাষ্ট্র হিসেবে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কের ইতিহাস ও রাজনীতি। এ বিষয়ে স্বাগতম। দ্বিতীয় কথা প্রচ্ছন্ন সাম্প্রদায়িকতা যদি আমার মধ্যে এসে থাকে, আমি আমার পুরো বক্তব্য রিভিউ করে দেখব, তারপর জানাব। ফরিয়াদিকে সবসমই বিবাদি মনে হয়, কেননা সে স্থিতাবস্থা ভাংতে চায়_ যে স্থিতাবস্থা বশ্যতার ভিতে গড়া।
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
মনে হয় তবু স্বপ্ন থেকে জেগে
মানুষের মুখচ্ছবি দেখি বাতি জ্বেলে

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

ফারুক ওয়াসিফ লিখেছেন:
"আমার প্রসঙ্গ রাষ্ট্র হিসেবে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কের ইতিহাস ও রাজনীতি। এ বিষয়ে স্বাগতম। "

আমারও আগ্রহ এখানেই।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।