On the road of Experiences: ০১

কর্ণজয় এর ছবি
লিখেছেন কর্ণজয় (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৫/০১/২০১৮ - ২:৪৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

I see them dancing somewhere in the moonlight
চাঁদের আলোয় ওরা নেচে চলেছে।
ছেলেটা বলছিল, এই দৃশ্যটা ও দেখে ফেলেছিল। ‘আপনিই বলেন, আপনি দৃশ্যটা দেখে ফেলেন
Somewhere in Alaska, somewhere in the sun
I hear them singing a song for all lovers
A song for the two hearts beating only as one
আলাস্কার হিম তুষার শুভ্র প্রান্তর
ওরা নেচে চলেছে। কোন বাজনা বাজছে না। শুধু বুরফ কুঁচি মেশানো বাতাসের শব্দ ছাড়া। আমি টের পেলাম, কোথাও ওরা নাচছে। গান গাচ্ছে। গানের শব্দগুলো আর ওদের নেই। ওদের হুদয়গুলো এক হয়ে গিয়ে যারা ভালবাসে তাদের হয়ে উঠেছে।
ছেলেটা বলছিল, সেই গানটা যদি আপনি শুনে ফেলেন-
‘আপনার জীবন আর আগের মত থাকবে না।’,
আমি ছেলেটার চোখে তাকাই। জ্বলজ্বল করছে। রাতের তারার মতো।
মেয়েটা চা নিয়ে আসলো। আমি হাসি। দুজনকে কী অপূর্ব লাগছে।  
To see the darkness, to listen within
To answer in kindness, to ever begin
To ever be gentle, to always be strong
To walk in the wonder, to live in the song
ছেলেটা গিটার হাতে গান ধরে। ডেনভারের গান। আমি ডেনভারকে দেখতে পাই। একটা ঈগলকে দেখি আকাশে উড়তে। ঘোড়ার ক্ষুরের শব্দ ভেসে আসে।
বুকের মধ্যে ভালবাসা থাকলে আপনি অন্ধকারেও কান রাখতে পারবেন। শুনতে পাবেন, অন্ধকারও আলোর কথাই বলছে।
‘জীবনটা আসলে গানের মধ্যে কাটিয়ে দেয়া, আর কি ‘, মেয়েটা বললো।
আমি হাসি। ওদের গল্পটা আমাকে অবাক করে না। মুগ্ধ করে। আমি জানি পৃথিবীতে সবাই নয়, কেউ কেউ গান করে নিতে পারে। ওদের কারণে এই পৃথিবীর সুন্দরকে চেনা যায়।

ওদের গল্পটা খুব খুব সরল।
ছেলেটা আর মেয়েটা পাশাপাশি থাকতো। একদিন ছেলেটা ঘরের মধ্যে বিভোর হয়ে জন ডেনভারের  A song for all lovers গানটা শুনছিল। গান শেষে চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলো,মেয়েটি। গানের মুগ্ধতা এখনও কাটে নি। মেয়েটির দিকে তাকিয়ে হাসে ছেলেটি।
‘সুন্দর না, গানটা?’
‘হ্যা।’
‘যাবে?’
‘কোথায়?’
‘এই গানটার ভেতরে।’
‘ হ্যা’।
সেই শুরু হলো এই গানটার ভেতরে তাদের হেঁটে যাওয়া। গানটাকে তারা জীবনে টেনে নিয়ে এসে গানের ভেতরে তারা চলে যায়। সে অনেক কাল আগের কথা। এখন তাদের সংসার হয়েছে। সন্তান হয়েছে। সে পথগুলো খুব সহজ ছিল না। ছেলেটা আর মেয়েটি ছিল আলাদা ভাষার মানুষ। ভিন্ন জাতির। ধর্মও আলাদা।  তাই পরিবার আর সমাজ দুটো্ই তাাঁদের ছেড়ে এই অচেনা অজানা জায়গায় চলে আসতে হয়েছিল।
‘কিন্তু আমি কিছু হারাই নি। বরং গোটা পৃথিবীটাই পেয়েছি। মানুষও তাই। পৃথিবীর সব মানুষকেই এখন নিজের আপন মানুষ মনে হয়।’
মেয়েটি বলে, ‘শোনো- সন্ধ্যা নামছে।
এতক্ষণে খেয়াল হয়। সত্যি তাই, সন্ধ্যা নামছে। তবে কি ওরা আমাকে চলে যেতে বলছে। মনের মধ্যে একটা সংশয় ওঠে।
’এখন কোনদিকে?’ ছেলে জানতে চায়।
চলে যাই, মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই। উঠবো মেয়েটার কথা শুনে চমকে যাই।
‘মরুভূমিতে ঝড় উঠেছে।’
ছেলেটাকে দেখি বিভোর হয়ে কোথায় হারিয়ে গেছে। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখি, সেও। দুজনে হঠাৎ নাচতে শুরু করে। তাদের নাচের মুদ্রার সাথে সাথে টের পাই কোথা থেকে বাতাস উঠতে শুরু করেছে। বাতাসটা গরম। ওরা নেচে চলে। বুঝতে পারি, আমি আর এখানে নেই। মুরুভূমিতে চলে গেছি। ওরা ওখানে নাচছে।
ঝড় আরও বেড়ে ওঠে।


মন্তব্য

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA