পাগল: কাহলীল জিবরানের দ্য ম্যাডম্যান থেকে টুকরো অনুবাদ

কর্ণজয় এর ছবি
লিখেছেন কর্ণজয় (তারিখ: শুক্র, ০৭/০৬/২০১৯ - ১২:৪৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


কীভাবে আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম,
তুমি জানতে চেয়েছিলে।
অনেক অনেক কাল আগের কথা,
অনেক দেবতাদেরও তখন জন্ম হয় নি
একদিন খুব গভীর ঘুম ঘুমিয়ে উঠে দেখলাম
আমরা সবগুলো মুখোশ চুরি হয়ে গেছে।
সাত সাতটা মুখোশ,
যেগুলো পরে সাত জন্মের মতো ঘুরে বেড়িয়েছি,
নিজেকে সাজিয়েছি-
সবগুলোই কারা জানি নিয়ে চলে গেছে।

রাগে বেরিয়ে পড়লাম মুখোশ ছাড়াই
‘চোরের দল, অভিশাপ নেমে আসুক তোমাদের ওপর‘
চিৎকার করতে করতে
ব্যাস্ত রাস্তা ধরে ছুটে গেলাম।

রাস্তায় ভিড় করা মানুষগুলো
আমাকে দেখে কেউ হাসতে লাগলো
কেউ কেউ আবার ভয় পেয়ে
বাসার ভেতরে লুকিয়ে গেলো।

ঝলমলে বাজারের কাছাকাছি আসতেই
“পাগল, পাগল“
বিদ্রুপ কানে ভেসে আসলো। চমকে তাকিয়ে দেখি
কেতাদূরস্ত তরুণ। সাজানো। নিপাট।

সূর্য তখন আমার মুখোশহীন নিরাভরণ মুখে চুমু খেতে শুরু করেছে.
টের পেলাম,সে আমার আত্মাকে জড়িয়ে ধরলো এই প্রথমবারের মতোন
আর প্রথমবারের মতো আমার হৃদয়ও
সূর্য’র প্রতি ভালোবাসায় উজ্বল হয়ে উঠলো।

ভেতর থেকে টের পেলাম
ঐ মুখোশগুলোকে আমি আর চাই না।
“যারা আমার মুখোশগুলো চুরি করেছে তাদের মঙ্গল হোক।”
চিৎকার করে সেই চোরদের আশীর্বাদ করলাম।

এই হলো আমার পাগল হওয়ার গল্প।
পাগলামীকে আমার কাছে মনে হলো
নিরাপত্তার চাঁদরে মোড়া এক অবারিত স্বাধীনতার মতো।
একাকীত্বের স্বাধীনতা
আর আর আমাদের ভেতরের যা কিছু আমাদের বন্দি করে রাখে
তার ভয় থেকে মুক্ত।

যদিও নিরাপত্তা নিয়ে খুব বেশি গর্ব করার কিছু নেই।
জেলের মধ্যে বন্দী কয়েদীও
আরেকজন কয়েদীর থেকে
নিরাপদেই বেঁচে থাকে।


নতুনের আনন্দ

কালরাতে একটা নতুন কিছু করলাম।
আর তখনই দরজার শয়তান আর দেবদূত এসে
লড়াই করতে শুরু করলো।
ওদের একজন চিৎকার করে বলছিল- এটা পাপ।
আর অন্যজন জোর দিয়ে বলছিল, এটা পূণ্য।


মন্তব্য

অবনীল এর ছবি

ভালো লাগলো। মূল ভাবার্থ এবং কাব্যরস ঠিক রেখে কবিতা অনুবাদ কি দুরহ কাজ তার খানিকটা আন্দাজ পেয়েছি দু একবারের ব্যর্থ চেষ্টা থেকে। এ দিক দিয়ে আপনার প্রচেষ্টা সফল সেটুকু বলতে পারি। আরো চাই।

___________________________________
অন্তর্জালিক ঠিকানা

কর্ণজয় এর ছবি

ধন্যবাদ- অনুবাদ করি নি কখনও। আপনার মতোই এ-ও হয়তো এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা। তবে আরও কয়েকবার ব্যর্থ হওয়ার ইচ্ছেতো আছে-

সুপণ শাহরিয়ার এর ছবি

কাহলীল জিবরানের লেখা বরাবরই ভালো লাগে। এটাও ভীষণ ভালো লাগল।

তারেক অণু এর ছবি

চলতে থাকুক, কাহলিল ওস্তাদের ম্যানহাটানের ডেরায় এবার গেছিলাম, যেয়ে দেখি সেই ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

অবনীল এর ছবি

ফিফথ এবং সিক্সথ এভিনিউ এর মাঝখানে টেনথ স্ট্রীটে উনার স্টুডিও এপার্টমেন্ট আছে জেনেছি। সেটা ভেঙে ফেলা হয়েছে ?

___________________________________
অন্তর্জালিক ঠিকানা

এক লহমা এর ছবি

হাততালি অনুবাদ ভাল লেগেছে।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।