গামছা - সকল কাজের কাজী

আবু রেজা এর ছবি
লিখেছেন আবু রেজা [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৭/০৮/২০০৮ - ৪:০২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমরা যারা গাঁয়ে থাকি তারা তো জানি, গাঁয়ে নাইতে যাওয়াটাও যেন একটা উৎসব। আমাদের জন্যে একটা মজার নাওয়া-নাওয়া খেলা। বাড়ি থেকে অল্প দূরে বিল-ঝিল, বড় পুকুর কিংবা নদীতে নাইতে যেতে হয়। নাইতে যেতে হয় এবাড়ি ওবাড়ি হয়ে, কারো বাড়ির পিছন দিয়ে, কারো হেঁশেল মাড়িয়ে, কারো উঠোন পেরিয়ে। যেতে যেতে একজন আরেকজনকে হাঁক ছেড়ে ডাকে, চল, নাইতে চল। এভাবে হয়তো নাইতে যাওয়া একটা দলই গড়ে ওঠে।
নাইতে যেতে প্রথমেই যার খোঁজ করা হয়, সে হলো গামছা। নাওয়া শেষে গা মোছার জন্যে তো অবশ্যই, নাওয়ার আগে বা নাওয়ার জন্যও গামছা প্রয়োজন। কেউ হয়তো নাওয়া-শেষে পরার কাপড় আনতে ভুলে গেছে। চিন্তা কী? গামছা তো আছেই। গামছা পরেই পুকুরে নেমে পড়া। তারপরই দাপাদাপি, একজন আরেকজনের গায়ে পানি ছিটানো। গামছা গোল করে হাওয়া ঢুকিয়ে পানিতে ভেসে থাকার চেষ্টা, গামছায় জল ভরে গায়ে ঢালা, আরো কত কী!
ছেলেবেলায় পড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা বারবার মনে পড়ে যায়-
আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে,
বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে।
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি,
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।

চিকচিক করে বালি, কোথা নাই কাদা,
একধারে কাঁশবন ফুলে ফুলে সাদা।
কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক,
রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক।

তীরে তীরে ছেলেমেয়ে নাহিবার কালে
গামছায় জল ভরি গায়ে তারা ঢালে।
সকালে বিকালে কভু নাওয়া হলে পরে
আঁচলে ছাঁকিয়া তারা ছোট মাছ ধরে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোট নদীর কী চমৎকার বিবরণ দিয়েছেন! ছোট নদীর হাঁটুজলে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নাইতে নামে। তারা গামছায় জল ভরে গায়ে ঢালে। সে এক মজার খেলা জমে ওঠে! শহরে অবশ্য এসবের বালাই নেই।
নাওয়া শেষে তো গা মোছার পালা। এই গা মোছার জন্যও চাই গামছা। দুপুরে নাওয়ার পরই খাওয়া। খাওয়া শেষে হাত-মুখ ধোয়া। হাত-মুখ মুছতেও তখন চাই গামছা।
পরিশ্রমের পর, রোদ গায়ে মেখে ঘরে ফিরে ঘাম মুছতে গামছা লাগে। হাত-মুখ ধুতে, ধোয়ার পর হাত-মুখ মুছতেও গামছার দরকার।
খুব ভোরে চাষী ভাই রওয়ানা দিয়েছে মাঠের দিকে। কাঁধে কী? লাঙল। আর কী? কাঁধে একটি গামছাও আছে। গামছার একদিকে খুঁটে বাঁধা আছে চিড়ে-গুড়-মুড়ি।
‘বাবা ভাত এনেছি।’ - বলছে চাষীর ছেলে।
এই যে, ছেলে বাবার জন্য পান্তা এনেছে কেমন করে? একটা সানকির মধ্যে পান্তাভাত আর বাসি তরকারি-ডাল গামছায় বেঁধে নিয়ে এসেছে। চাষী ভাই হাত-মুখে একটু পানি দিয়ে, গামছায় মুখ মুছে, গামছা বিছিয়েই খেতে বসে গেল। খাওয়া শেষে চাই কি ধারে কাছের কোনো গাছের ছায়ায় গামছা বিছিয়েই একটু গড়িয়ে নিল।
মারো টান হেঁইও...। আরো জোরে হেঁইও...। কয়েকজন শ্রমিক সুর করে বলছে, আর গাছের গুঁড়ি টানছে। কোমরে বাঁধা গামছা। মাঝি দাঁড় বায়, গুন টানে কোমরে গামছা বেঁধে। শরীরের শক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্যই কোমরে এই গামছা বাঁধা। কোনো কাজ করার আগে আমরা যেমন বলি, কোমরে গামছা বেঁধে লেগে যাও। তার মানে, শক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগাও।
আবার, কুলি-মজুর যারা মুট বয়, তারা গামছা পেঁচিয়ে বিড়া বানিয়ে মাথায় দিয়ে বোঝা চাপায়। কিংবা মাথায় গামছা পেঁচিয়ে তার উপর বোঝা চাপায়। কাজ শেষে বিশ্রাম দরকার। গামছা দিয়েই একটু হাওয়া করে গা জুড়িয়ে নেয়। রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্যও গামছায় মাথা ঢাকে তারা। মশা-মাছি তাড়ায় গামছা দিয়েই। আর শীতকালে গামছা দিয়ে মাথা-কান ঢেকে রাখে কনকনে বাতাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে।
গাঁও-গেরামে অনেকেই গামছা কাঁধে নিয়েই বাজারে রওনা দেয়। সঙ্গে থলে নেই। তাতে কী! গামছা তো আছে! চাল-ডাল-লবণসহ আরো নানান সওদা বেঁধে নেয় গামছায়।
ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বিকেল বেলায় খেলতে নেমেছে মাঠে। কী খেলা হবে? কেউ হয়তো বলল, কানামাছি। কেউ বলল, রুমালচোর। কানামাছি খেলতে চোখ বাঁধার জন্য তো কিছু চাই। রুমালচোর খেলতে গেলেও রুমাল দরকার। দুটোই চলে গামছা দিয়ে। হয়ও তাই। হাতের কাছে গামছাটাই সহজে পাওয়া যায়।
ছোট সোনামণিদের বউ সাজার শখ চাপলে এই গামছা পরেই লাল-টুকটুকে বউ সেজে তাদের ইচ্ছে পূরণ করে।
গরু চরাতে যাওয়া রাখাল ছেলেরা নদীর ধারে বটতলায় একত্রে মিলে। কেউ বাঁশি বাজায়। কেউ বা মিছেমিছি রাজপুত্তুর সাজে। গামছায় পাগড়ি বাঁধে। মিছেমিছি মুকুট বানায় গামছা দিয়েই।
বৈশাখ মাসে আম কুড়ানোর ধুম পড়ে যায়। লবণ-মরিচ সঙ্গেই থাকে। ছুরি বা চাকু না থাকলেও চিন্তা নেই। গামছা আছে তো! আম গামছায় মুড়ে গাছের গোড়ায় আছড়ালেই কেল্লা ফতে! আম ফেটে আঁটি বেরিয়ে পড়বে।
ভাদ্র মাসে তাল পাকে। পাকা তালের রস আর রসের পিঠা কী মজা! শুনলেই জিবে জল আসে। তালের রসের মধ্যে কিন্তু তেতো অংশ থাকে। এই তেতো ছাড়াতে হলে, গামছায় বেঁধে রস ঝরাতে হয়।
বর্ষা শেষে যখন খাল-বিলের পানি শুকিয়ে যায়, তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা হাঁটুজলে গামছা পেতে মাছ ধরে। মাছ ধরা শেষ হলে গামছায় মাছ বেঁধে বাড়ি ফেরে।
কোনো উৎসবে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনে রান্না করে বাবুর্চিরা। তারা নতুন গামছা ছাড়া রান্না করতেই বসবে না। এটা পুরনো রেওয়াজ। আজকাল কোনো অনুষ্ঠানের মঞ্চসজ্জার কাজেও গামছা ব্যবহার করতে দেখা যায়।
মিষ্টি বানাতেও গামছা লাগে। মিষ্টি তৈরির জন্য দুধ থেকে ছানা তুলতে হয়। ছানার মধ্যে থাকে কিছু তরল অংশ। এই তরল অংশ ছাড়ানোর জন্য ছানা গামছায় বেঁধে ঝরাতে হয়।
এতো সেবা দানের পরও কি গামছা মহাশয়ের রেহাই আছে? গামছা একেবারে পুরনো হয়ে গেলে আমরা ওটাকে লেপা-মোছার ন্যাকড়া বানাই। কিংবা ঘরের ঝুল ঝাড়ার কাজে লাগাই। আমাদের প্রতিদিনের কাজে গামছা কত জরুরী! তা কি আমরা ভেবে দেখেছি কখনো?
শুধু কী তাই! আমাদের কথায়, ভাষা ও সাহিত্যে গামছার ব্যবহার কম নয়। এই যেমন আমরা বলি, গলায় গামছা দেওয়া। এর অর্থ হলো, গলায় গামছা দিয়ে কাউকে লাঞ্ছনা করা, অপমান ও জবরদস্তি করে কোনো কিছুতে বাধ্য করা। গামছা ডলা-এর অর্থ হলো গামছা দিয়ে মর্দন, গোসলের সময় গামছা দিয়ে যেভাবে গা পরিষ্কার করা হয়। গামছা বাঁধা-এর অর্থ হলো গামছায় বাঁধা বা গামছা দিয়ে বাঁধা। ব্যাকরণের ভাষায় এসব শব্দমালা বাগধারা। এসবের ব্যবহার আছে বাংলা ভাষায়।
বাগধারার ব্যবহার দেখব আমরা একটি কবিতায়। কবিতাটি লিখেছেন পল্লীকবি জসীম উদ্দীন। এ কবিতায় উল্লেখ আছে গামছা বাঁধা দইয়ের কথা। কবিতাটি পড়ি-
আমার বাড়ি যাইও ভোমর,
বসতে দেব পিড়ে
জলপান যে করতে দেব
শালি ধানের চিড়ে।

শালি ধানের চিড়ে দেব,
বিন্নি ধানের খই,
বাড়ির গাছের কবরী কলা,
গামছা-বাঁধা দই।
কোনো একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,গামছা-বাঁধা দই কী? তিনি বলেছিলেন, গামছা বাঁধা দই হলো ঘন, গাঢ় দই, যা গামছা দিয়ে বাঁধা যায়। গামছায় বেঁধে দিব্যি বাড়ি বইয়ে নেওয়া যায়। একটুও চুইয়ে পড়বে না গামছায় বাঁধা দই। আরেকজন বললেন, আসলে এর অর্থ হলো, গামছায় পাতা দই। তাহলে প্রশ্ন আসে, গামছায় দই পাতে কীভাবে? এর উত্তর দিতে পারবেন যারা দই-মিষ্টি বানান।
আসলে গামছার গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। ভিজলে চট করে শুকিয়ে যায়। মানে, নাওয়া সেরে বাড়ি ফিরতে ফিরতেই পিঠের উপর গামছা শুকিয়ে যায়। সফরে বাক্স-প্যাঁটরায় খুব কম জায়গা নেয় গামছা। ধোয়ার ঝক্কি-ঝামেলাও কম। দামেও কম।
এক সময় লোকজন গামছা পরিধান করত। গামছাকে পোশাক পরিচ্ছদের অংশ হিসেবে মনে করা হতো। এখনো কেউ কেউ কখনো-সখনো গামছা পরে। আচ্ছাদন হিসেবে গামছা ব্যবহার করে। এখন গামছা বা গামছার নকশার কাপড় দিয়ে তৈরী ফতুয়া বা ছেলোয়ার-কামিজ পরতে দেখা যায়।
এবার গামছা শব্দের আভিধানিক অর্থ কী তা জেনে নেই। অভিধান অনুযায়ী গামছা শব্দের অর্থ হলো- গা মোছার জন্য ব্যবহার করা হয় এমন এক প্রকার কাপড়ের টুকরা। একে গামোছাও বলা হয়।
গামছার ব্যবহার কবে থেকে শুরু হয়েছিল সে ইতিহাস আমাদের জানা নেই। ধারণা করা হয়, অনেককাল আগে যখন মানুষ কাপড়ের ব্যবহার শিখেছিল, তখন থেকেই গামছা ব্যবহার করে আসছে। তবে, তখন এখনকার মতো এতো রঙ বেরঙের গামছা নিশ্চয় ছিল না।
গামছা সম্পর্কে তো অনেক কথা শুনলাম। এবার গামছার বুনন কৌশল জানব। গামছা বোনা হয় তাঁতে। গামছা বোনার জন্য সাধারণত দুই ধরনের তাঁত ব্যবহার হয়। এক হলো গর্ত করা তাঁত। একে বলে পিট লুম। আরেক হলো প্যাডেলে চালিত তাঁত। এর নাম চিত্তরঞ্জন লুম। এছাড়াও আছে পাওয়ার লুম। তবে গামছা বুনতে হাতে চালানো তাঁতই বেশি ব্যবহার হয়।
গামছা তৈরিতে কী কী লাগে? চাই সুতা, চাই রঙ। বুনন শিল্পীকে সুতা কিনতে হয়, রঙ কিনতে হয়। সুতা বিক্রি হয় পাউন্ড হিসেবে। ব্যাস অনুযায়ী সুতাকে কাউন্ট হিসেবে বিভিন্ন সংখ্যায় চিহ্নিত করা হয়। তুলা থেকে সাধারণত ৩২ থেকে ১০০ কাউন্টের সুতা তৈরি হয়। কাউন্ট চিহ্নিত হয় জোড় সংখ্যায়। যেমন: ৩২, ৩৪. ৩৬ .... এভাবে। সাধারণত ৩২ থেকে ৬৪ কাউন্টের সুতা দিয়ে গামছা বোনা হয়।
সুতা থাকে লাছি আকারে। গামছা বোনার আগেই সুতাতে রঙ ও মাড় দেওয়া হয়। রঙ ও মাড় একই পাত্রে গুলে তাতে সাধারণত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সুতা ভিজিয়ে রাখতে হয়। তারপর লম্বা বাঁশে ঝুলিয়ে রোদে শুকানো হয়। রঙ গুলানোর জন্য ম্যানথল নামের এক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়।
রঙ পাকা করার জন্য অনেক বেশি সময় ধরে অর্থাৎ ৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা সুতা রঙের মাঝে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এছাড়া রঙের সঙ্গে সোডা মিশিয়ে প্রায় ঘণ্টা খানেক জ্বাল দিতে হয়। পাকা রঙ বেশি স্থায়ী হয়। তবে গামছায় সাধারণত কাঁচা রঙই বেশি ব্যবহার করা হয়। মাড় হিসেবে ব্যবহার হয় ভাতের মাড়, বার্লি ইত্যাদি। একই গামছায় বিভিন্ন রকম চেক ও রঙ ফুটিয়ে তোলা হয় বিভিন্ন রঙের সুতা দিয়ে।
গামছা বিভিন্ন মাপের হয়। যেমন: ছোট, বড়, মাঝারি। তবে সাধারণত সবচেয়ে বড় গামছার দৈর্ঘ্য হয় ৪ হাত, প্রস্থ পৌঁনে ২ হাত। ছোট গামছার দৈর্ঘ্য হয় দেড় হাত, প্রস্থ পৌঁনে ১ হাত এবং মাঝারি গামছা বিভিন্ন মাপের হয়।
গামছা, শাড়ি, লুঙ্গি ইত্যাদি সব ধরনের কাপড়ের দুটো দিক থাকে। একদিক টানা, আরেক দিক পোড়েন। টানা হলো দৈর্ঘ্য। আর পোড়েন হলো প্রস্থ। গামছার টানায় নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পোড়েন বোনা শেষ হলে ইঞ্চি দুয়েক আঁচল রাখা হয়। পুরো টানা বোনা শেষ হয়ে গেলে এই আঁচলের অংশে কেটে প্রতিটি গামছা আলাদা করা হয়। গামছা জোড়ায় জোড়ায় ভাঁজ দিয়ে পাইকারী বিক্রি করা হয়। এরপর তা খুচরা ব্যবসায়ীর মাধ্যমে গিয়ে পড়ে ব্যবহারকারীর হাতে। এখান থেকেই শুরু হয় গামছার জটিল এবং কঠিন জীবন।
শেষ হলো আমার গামছার কাহিনী .........
নটো গাছটি মুড়ালো
গামছার কাহিনী ফুরালো।


মন্তব্য

জুলিয়ান সিদ্দিকী এর ছবি

ভালো লাগলো সেই সঙ্গে আরেকটা যোগ করছি- গামছা পরে কালকাটানো। ভীষন দারিদ্রের মধ্য দিয়ে সময় পার করাকে বোঝায়।

গামছা দিয়ে আরেকটা ব্যাপার হয়।:
আমার ছোট ছেলের বয়স দিন কয়েক পর মাত্র তিন বছর হবে। সে নাকি তার মায়ের কাছে বায়না ধরেছে যে, তাকে লুঙ্গি কিনে দিতে হবে। বড় হলে চলবে না। তার কোমর থেকে পা অবধি ঠিকমত হওয়া চাই। কিন্তু বাজারে এমন পিচ্চিদের জন্য কি লুঙ্গি পাওয়া যায়? তখন কী আর করা! অগত্যা গামছা কেটে সেলাই করে তাকে লুঙ্গি বানিয়ে দিয়েছে তার মা। দেঁতো হাসি

____________________________________
ব্যাকুল প্রত্যাশা উর্ধমুখী; হয়তো বা কেটে যাবে মেঘ।
দূর হবে শকুনের ছাঁয়া। কাটাবে আঁধার আমাদের ঘোলা চোখ
আলোকের উদ্ভাসনে; হবে পুন: পল্লবীত বিশুষ্ক বৃক্ষের ডাল।

___________________________
লাইগ্যা থাকিস, ছাড়িস না!

আবু রেজা এর ছবি

ধন্যবাদ জুলিয়ান ভাই।
পরবর্তী সংস্করণে আপনার ছেলের ঘটনা যোগ করে দেব।

যে জন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গ বাণী
সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

মূলত: পাঠক এর ছবি

ভারতের আসাম অঞ্চলে সম্ভবত: বহাগ (বৈশাখ) বিহুতে গামছা আদানপ্রদান এক সামাজিক প্রথা। অনেক ক্ষেত্রেই ঘরে বোনা গামছা দেয়ানেয়া হয়। আমার এক বন্ধু একবার তার দিদির হাতে বোনা গামছা উপহার দিয়েছিলো, মাপে ছোটো কিন্তু বাহারে তাঁতের চাদরের চাইতে বেশি সুন্দর, সাদা জমিতে টুকটুকে লাল আঁচল। হিন্দু ধর্মানুষ্ঠান ও লোকাচারে গামছা প্রায়ই হাজির থাকে, তা সে পৈতে-বিয়ে-পুজো যাই হোক। "সাউথ পার্ক"-এর দিশি গামছার বিলিতি তুতো ভাই টাওয়েলি-কে তো অনেকেই চেনেন, যে সক্কলকে কেবলই মনে করিয়ে দেয় যাতে কেউ সাথে টাওয়েল রাখতে না ভোলে কারণ you never know when you need a towel.

গামছা বাঁধা দই আসলে দইয়ের জল ঝরানোর টেকনিক, যে ভাবে ছানা আঁট করা হয় সেই পদ্ধতি। গ্রীক ইয়োগার্ট যে অত গাঢ় তার কারণ কি অ্যারিস্টটলিয় গামছা? কে জানে!

লেখাটির অধিকাংশ যদিও জানা প্রসঙ্গ, তবু গামছার ব্যবহার কত ব্যাপক সেটা বোঝাতে তার দরকার ছিল। লেখককে ধন্যবাদ।

আবু রেজা এর ছবি

অনেক অজানা তথ্য জানা হলো।
আপনাকে ধন্যবাদ।

যে জন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গ বাণী
সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

মুশফিকা মুমু এর ছবি

ওরা বাবা অনেক কিছু জানতে পারলাম, অনেক ভাল একটা গামছা রচনা করেছেন দেঁতো হাসি ২০/২০
------------------------------
পুষ্পবনে পুষ্প নাহি আছে অন্তরে ‍‍

------------------------------
পুষ্পবনে পুষ্প নাহি আছে অন্তরে ‍‍

আবু রেজা এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে। প্রশংসা সব সময় ভালো লাগে।

যে জন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গ বাণী
সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

শেখ জলিল এর ছবি

নটো গাছটি মুড়ালো
গামছার কাহিনী ফুরালো।
...নাহ্ । গামছার কাহিনী ফুরাবে না। আবহমান বাংলায় আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে জড়িয়ে থাকবে এই গামছা। যতোদিন বাংলায় খাল-বিল-নদী থাকবে, জেলে মাছ ধরবে, মাঝি নৌকা বাইবে, কৃষক ধান কাটবে ততোদিন থাকবে গামছার ব্যবহার।

..আবু রেজার প্রথম লেখা বায়োস্কোপ থেকেই আমি তার ভক্ত। এই পর্বে গামছার বিবিধ ব্যবহার ও বুনন কৌশল খুব ভালো লাগলো।
চলুক এই লোকজ ঐতিহ্যের সিরিজ। আমি নিয়মিত পড়বো।

যতবার তাকে পাই মৃত্যুর শীতল ঢেউ এসে থামে বুকে
আমার জীবন নিয়ে সে থাকে আনন্দ ও স্পর্শের সুখে!

আবু রেজা এর ছবি

আপনার কথাগুলো যেন কবিতা,
সুর দিলে গান হয়ে ইথারে ভেসে বেড়াবে।
ধন্যবাদ জলিল ভাই।

যে জন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গ বাণী
সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

রাফি এর ছবি

চালিয়ে যান রেজা ভাই।
আমিও আপনার এই সিরিজের একজন একনিষ্ঠ পাঠক।

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

---------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে
আমার প্রাণের কাছে চলে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে;
সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

আবু রেজা এর ছবি

ধন্যবাদ রাফি। আপনার কাছে এক ধরনের দায় বেড়ে যাচ্ছে। আপনার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব তো?

যে জন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গ বাণী
সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

হালিম এর ছবি

চমত্কার

আবু রেজা এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে।

যে জন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গ বাণী
সে জন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।