| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
আজিজ মার্কেটের সাথে আমার পরিচয় ৯১সালের দিকে।
তখনো পিজি মার্কেটের সিলভানার (তখনকার সিলভনার খাবারের টেস্ট সত্যিই মনে রাখার মতো) পাশের করিডোরে মতো জায়গায় লিটল ম্যাগ বিক্রি হতো। একদিন হঠাৎই চোখে পরলো একটা ছোট্ট বইয়ের দোকান। উকি দিয়ে মাথা খারাপ হবার মতো অবস্থা। তারপর নিয়মিত আসা যাওয়া। এরই মাঝে সেই দোকানের পার্টনার হওয়া। কিন্তু দীর্ঘ দিন পরেও পার্টনারশীপের অস্থিত্ব টের না পেয়ে অনেক কসরতের পর শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ঢাবি'র দুএকজন ছাত্রনেতার বদান্যতায় সেই বন্ধন ছিন্ন করা। তারপর অনেকদিন ক্ষোভে আর আজিজ মুখো হইনি।
কিন্তু নাড়ের টান ছিন্ন করি কী করে? তাই আবারো ফিরে আসতে হয়েছে এই অজিজ মার্কেটে। আমি যখন আজিজে আস্তানা গাড়ি-ততদিনে বাহার ভাইয়ের নিত্য উপহার (নিত্যপ্রকাশ=ব্যার্থতা=নিত্যউপহার) এর রমরমা ।এরপর থেকে একটা দুইটা করে করে এখন আজিজে কাপড়ের দোকানের ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই অবস্থা। খুব সম্প্রতি অনেক পুরনো প্রতিষ্টানকে মালিক উঠে যাবার নোটিশ দিয়েছেন। আমাদের মতো অনেকের ভাড়া প্রত্যাশার বাইরে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কারণ ঢাকার অনেক চেইন শপ আজিজে তাদের শোরুম খোলার জন্য নাকি কাড়ি কাড়ি টাকা নিয়ে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে।
কিন্তু সমস্যায় পরেছি আমরা যারা এই মার্কেটে প্রিন্টিং এজেন্ট কিংবা ছাপোষা প্রকাশকের কাজ করি তারা। এই উর্দ্ধমুখি ভাড়া আর কাপড়ের ভীড়ে আমরা কি টিকে থাকতে পারবো? কি হবে আজিজের আড্ডা গুলোর আর তার নাম-বদনামের?(দোহাই একুশে টিভি তে "আজিজ মার্কেট" দেখে কেউ কোনো ধারনা নিবেন না)।
২
দেখা যাক। সবুরে মেওয়া ফলে কী না।
---------------------------------------------------------
আমাকে ডাকে আকাশ, বোঝে মাটি হাওয়া জল
বোঝে না মানুষ আর বিনাশী মুদ্রার ছল
৩
বাণিজ্য!
৪
তুমি নাজিব তারিকে বাঙ্গালের মতো টিশার্টে কবিতা ছাপাতে পারো
তাতে পোশাকও হয়
সাহিত্যও হয়
আর না হলে ডারউইনকে একটা সালাম দিয়ে বিদায় হও...
৫
আপনি তো স্যার অনেক টি-শার্ট পরেন। এই পর্যন্ত কয়টা কবিতা টি-শার্ট কিনেছেন?
---------------------------------------------------------
আমাকে ডাকে আকাশ, বোঝে মাটি হাওয়া জল
বোঝে না মানুষ আর বিনাশী মুদ্রার ছল
৬
আমি বরং দূরে থেকেও দুটো কিনে ফেলেছি। এবার ভাবছি গেলে এক বস্তা কিনে বন্ধুদের গিফট করব।
৭
[quote=আহমেদুর রশীদ
তখনকার সিলভনার খাবারের টেস্ট সত্যিই মনে রাখার মতো
ঠিক ।
৮
আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম...
---------------------------------------------------------
আমাকে ডাকে আকাশ, বোঝে মাটি হাওয়া জল
বোঝে না মানুষ আর বিনাশী মুদ্রার ছল
৯
আজীজ মার্কেট থেকে বইয়ের বাজার উঠে যাবে... এটা ঠেকানোর বোধহয় আর কোনও উপায় নাই। কারন বইয়ের বাণিজ্যের চেয়ে পোশাকের বাণিজ্য এখানে উজ্জ্বল ভয়ানক।
আমরা এখানে যেতাম বই পড়তে কিনতে আড্ডাইতে... আমাদের সন্তানেরা এখানে যাবে কাপড় কিনতে... আগে আড্ডার টপিক ছিলো দেরিদা ছফা ভাই... কয়দিন পরে আড্ডা হবে শাড়ি গহনা নিয়া... দেশ তো এগিয়েই যাচ্ছে!
কিছুদিন আগে বাহার ভাইয়ের সাথেও এইটা নিয়া কথা হইতেছিলো... এমনকি যে বইয়ের দোকান উঠবে তা না শুধু... শঙ্কা আরো সুদূর প্রসারী... আজীজ মার্কেটে চেইন ফ্যাশন হাউজগুলা দোকান নেওয়ার কথা ভাবতেছে... এই যদি অবস্থা হয় তাইলে নিত্য উপহারদেরও সেখানকার ভাত উঠবে ধারনা করি।
একতলায় শুধু বইয়ের দোকান দুই তলায় কাপড়ের দোকান আর তিনতলায় খাবারের দোকান... এইরকম বিভাজনের নীতিতে গেলে একটা সমাধানে আসা সম্ভব হয়তো। কিন্তু সেইটা হবে বইলা মনে হয় না। মার্কেটওয়ালারা তো বাণিজ্যই করতে আসছে তাই না?
কি আর করা... ভবিষ্যতে নাতি নাতনীদের কাছে গল্প করার একটা উপলক্ষ্য পাইলেন আর কি...
তবে লীলেন ভাইয়ের আইডিয়াটাও ভালো... শাড়িতে ওড়নায় আর টিশার্টে কবিতা ছাপানোর জন্য এখনি লাইন ঘাট করেন... পরে চান্স নাও পাইতে পারেন... সমস্যা কিছু নাই... রবীঠাকুর জীবনানন্দের কবিতার পাশে আপনের কবিতা একই শাড়িতে ছাপা হবে... গর্ব কইরা বলতে পারবেন...
১০
নিত্য উপহার নিজেই চেইন শপ হয়ে যাচ্ছে।
বিক্রি হলে শাড়ি-ওড়না ইত্যাদি ইত্যাদি সব কিছুতেই কবিতা ছেপে দিতে পারবো।
---------------------------------------------------------
আমাকে ডাকে আকাশ, বোঝে মাটি হাওয়া জল
বোঝে না মানুষ আর বিনাশী মুদ্রার ছল
১২
লিটিলম্যাগ আন্দোলনের মতো করে লিটিলড্রেস আন্দোলন করা যেতে পারে ।
"শুদ্ধস্বর" এপ্রিল সংখ্যা সুতি কাপড়ে আর ডিসেম্বর সংখ্যা সিল্ক কাপড়ে প্রকাশ করা যায় ।
১৩
ভাইরে, চিন্তাতো শুদ্ধস্বরের সংখ্যা নিয়ে না। কারণ ওইটা সব সময় গাটের টাকা দিয়েই বের করি। ১ম সংখ্যা বের করতে গিয়ে বিক্রি করেছিলাম সখের ক্যামেরা। এমনি আরো কাহিনী আছে।
কথা হলো গিয়ে আজিজ মার্কেটের আবহ ও পরিচয় বদলে যাওয়া নিয়ে।
---------------------------------------------------------
আমাকে ডাকে আকাশ, বোঝে মাটি হাওয়া জল
বোঝে না মানুষ আর বিনাশী মুদ্রার ছল
১৪
সেটাই তো বললাম ।আগে গাঁটের পয়সা খরচ করেছেন , এবার চেষ্টা করেন কিছু উদ্ধার করার ।
সাহিত্যও হল , কিছু টাকা পয়সাও হল ।
১৫
হাহাহাহাহা, অনেকদিন পর জেবতিক ভাইকে দেখলাম
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
১৬
লিটিল ড্রেস বলতে আপনে আসলে কি বুঝাইতে চাইতেছেন? বিদেশীরা যেইসব পরে? তবে তাই হউক...
১৭
ওইটা কেমন রে ভাই?
---------------------------------------------------------
আমাকে ডাকে আকাশ, বোঝে মাটি হাওয়া জল
বোঝে না মানুষ আর বিনাশী মুদ্রার ছল
১৮
আজিজ মার্কেট থেকে বইয়ের দোকান সবকটাই উঠে যাবে, এটা হতেই পারে না। তবে বেশি ভাড়া ও কাপড়ের দোকানের চাপে আগামী পাঁচ বছরে বইয়ের দোকান আরো কমে যাবে এটা ঠিক। বড়ো দোকানগুলোতে এখনো এখানে যে পরিমাণ বই বিক্রি হয়, তাতে আরো বেশি ভাড়া দিয়ে দোকান চালাতেও তাদের খুব অসুবিধে হবে না। অবশ্য সব দোকানের বিক্রি যে ভালো না সেটা তো আমরা সবাই জানি, কাজেই এরা বিলীন হয়ে যাবে নির্ঘাৎ।
................................................................
আমার সমস্ত কৃতকর্মের জন্য দায়ী আমি বটে
তবে সহযোগিতায় ছিল মেঘ : আলতাফ হোসেন
১৯
" অতিকায় ডাইনোসর লোপ পাইয়াছে, ক্ষুদ্রাকায় পিপিলীকা টিকিয়া আছে" -এইই মোদের ভরসা।
---------------------------------------------------------
আমাকে ডাকে আকাশ, বোঝে মাটি হাওয়া জল
বোঝে না মানুষ আর বিনাশী মুদ্রার ছল
২০
হায়, সিলভানা, সিনোরিটা, ম্যারিয়েটা, পাঠক সমাবেশ, আহমদ ছফা এবং উত্থান পর্ব!
আকাশ ও মেঘের কাছে আমার কোনো মিনতি নেই। সব মিনতি তোমাদের কাছে -- ভালোবেসো!...
২১
ম্যারিয়েটার কথা মনে পড়লে চোখে পানি চলে আসে। ভদ্রলোকের সাথে শেষ সময় দেখাও হয়নি। শেষ দেখায় বলেছিলাম একসময় এসে আরো কিছু বিজ্ঞাপনপর্ব নিয়ে যাবো। তারপর বেশ কিছুকাল বাদে একদিন আজিজে গিয়ে দেখি উল্টোদিকের দোকানে তাঁর ফটোগ্রাফ ঝুলছে।
২২
এটা খুবই দুঃখজনক হবে...তবে আমার মনে হয় মুজিব ভাইয়ের কথা সত্য হবে। সব দোকান একবারে উঠাতে পারবে না...
রিজভী
------------------------------------------------
কেউ যাহা জানে নাই- কোনো এক বাণী-
আমি বহে আনি;
২৩
অর্থনীতির প্যাঁচ।
২৪
(দোহাই একুশে টিভি তে "আজিজ মার্কেট" দেখে কেউ কোনো ধারনা নিবেন না)।---------- একুশেতে কি দেখায়? দেখিনি কোনদিন---- শুধুই ফ্যাশন সাইজগুলো নাকি?
আর এত নিরাশের কিছু নাই ------- আমার মতন অলেখকেরও এখনও একমাত্র ভালবাসার আড্ডা যখন আজিজ তখন লেখক সমাজের কথা চিন্তা করাতো বাতুলতা ----- যদিও বিষয়টা রিস্কি ----- কিন্তু এই মার্কেট -এর কতগুলো কবি সাহিত্যিক দিয়েই তো দেশী সংস্কৃতি হাল আমলের ফ্যাশনের দরজায় ধাক্কা মারল----এ কি কম?
.....................................................................................
সময়ের কাছে এসে সাক্ষ্য দিয়ে চ'লে যেতে হয়
কী কাজ করেছি আর কী কথা ভেবেছি..........
২৫
- কী আর বলবো!
সেই নাইনটিন সেভেন্টি ফোর থেকে দেখে আসেছি আজিজের ঘটনা।
_________________________________
<সযতনে বেখেয়াল>
২৬
কাপড়ের দোকান!!!!!!!!
আমি ২০০৩ সালের শেষে জার্মানীতে আসার আগ পর্যন্ত কাপড়ের দোকান বলতে ম্যারিয়েটার উল্টোদিকে একটা। এখন কি পাঠক সমাবেশ, একুশে, তক্ষশিলা, শ্রাবণ, বইপত্র, বিদিত, প্যাপিরাস এগুলি নেই?
২৮
রশীদ ভাই কিন্তু আজিজের কাহিনী নিয়ে ( মানে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা নিয়ে ) একটা সিরিজ চালু করতে পারেন। আর কেউ না থাক, আমি অন্তত লাইনে আছি, জানিয়ে দিলাম।
১
ধৈর্য্য ধরেন,পারবেন।
এত সহজ আপনাদের উচ্ছেদ করা?