দ্বিতীয়জন

বইখাতা এর ছবি
লিখেছেন বইখাতা (তারিখ: শুক্র, ০৯/০৪/২০১০ - ২:০০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(১)

আজকাল আমি হঠাৎ হঠাৎই কেমন বিভ্রান্ত হয়ে যাই। বিভ্রান্তিটা নিজেকে নিয়েই। এই যেমন সব কাজ শেষে লাইটটা নিভিয়ে শুতে যাব, চোখ চলে গেল বাইরের আঁধারে। পায়ে পায়ে জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়াই। নিস্তব্ধ রাত। জবা গাছটার ঝাঁকড়া জমাট ছায়ায় জোছনার জাফরি কাটা আঙিনা। ফিনফিনে বাতাস। কালচে জবার হাতছানি। রাতের প্রাণীদের চলাফেরার খস্ খস্ শব্দ। মনে হয় যেন বাইরের আলো-আঁধারিতে কিছু একটা আছে। প্রবল ইচ্ছা জাগে বাইরে ছুটে যাবার। আবার একইসাথে প্রবল অনিচ্ছা পা দুটো চেপে ধরে মেঝের সাথে। ভয় করে, মনে হয় কিছু একটা ঘটবে যেন, শুধু আমার বাইরে যাবার অপেক্ষা। আবার, এই এখন যেমন এক কাপ চা নিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে, দিনের পত্রিকায় চোখ বুলাতে বুলাতে চায়ে চুমুক দিতে যাবো আর তখুনি হয়তো মনে হবে, আমার কি এই মুহূর্তে এখানেই বসে থাকার কথা ছিলো ?! মনে হয় যেন ভুল সময়ে ভুল জায়গায় বসে আছি! চেতনার ভাঁজে ভাঁজে অচেনা দাগ। কেমন বিভ্রান্ত লাগে, বিরক্তও লাগে এইসব সময়ে। শাহেদ ব্যাপারটাকে একটুও পাত্তা দিতে চায় না। এসব নাকি আমার সাময়িক মানসিক দুর্বলতা, স্মৃতি-আচ্ছন্নতা। বলে, ‘তোমার স্মৃতিকাতরতা কমাও’। জানিনা ! আমি শুধু জানি, আমি আগে এমনটা ছিলাম না। আমার এই বিভ্রান্তি বা মনের দুর্বলতা বা স্মৃতি-আচ্ছন্নতা যেটাই হোক না কেন, এর শুরু বছর কয়েক আগে। তনিমার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা শুরু যেদিন থেকে, ঠিক সেদিন থেকেই, অথচ টের পাইনি তখন।
‌‌
(২)

তখন ছিলো প্রখর মধ্যাহ্ণ। রোদে পুড়ছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট। সারি সারি গাড়ি জ্বলন্ত রোদে ভাজাভাজা। ভেতরের মানুষগুলি সিদ্ধপ্রায়। অথচ অফিসের কড়া-হিম ঘরে জমাট নিস্তব্ধতা। খুব মনোযোগ দিয়ে একটা রিপোর্ট পড়ছিলাম। হঠাৎ -

- ‘মরে যাবো আপু! খুব শীগগিরই! সে চায় না আমি বেঁচে থাকি।‘

আচমকা কানের কাছে চাপা কণ্ঠে এইরকম কথা শুনলে কার না প্রাণটা হাতের মুঠোয় চলে আসে! চমকে উঠে তনিমার দিকে তাকাতেই একটু স্বস্তিবোধ করি। নাহ্, ওর চেহারায় তো কোনো ভয় বা আতংকের ছাপ নাই। বরং কেমন একটা বিব্রত ভাব। যেন মুখ ফসকে একটা বেফাঁস কথা বলে ফেলেছে।

এই মেয়েটাকে আমি বেশ পছন্দ করি। অফিসে আমাদের সবারই ছোট ছোট দল আছে – আড্ডা দেয়ার, বাইরে খেতে যাবার, হঠাৎ করে সবাই মিলে সিনেমা দেখতে যাবার। তনিমা কোনো দলেই নাই। কথা বলে খুব কম। হাসতে দেখেছি কদাচিৎ। চুপচাপ নিজের কাজ করে যায়। সুন্দর মুখটা প্রায় সবসময় বিষণ্ণ - যেন কোনো সীমাহীন অন্তর্গত যন্ত্রণাকে চাপা দিতেই মেয়েটা নাজেহাল সারাক্ষণ। মায়া লাগে। আমি মাঝেমাঝেই ওর পাশে বসি, এটা সেটা কথা বলি, ভাব জমাতে চেষ্টা করি। তনিমা পাত্তাই দেয়না আমাকে। আর সেই মেয়েটাই হঠাৎ এমন একটা কথা বলে বসবে – এ আমার কল্পনারও বাইরে ছিলো।

- ‘কে চায় না তুমি বেঁচে থাকো ?!’ তনিমা চুপ। একটু দিশেহারা ভাব। বলবে নাকি বলবে না, দ্বিধাগ্রস্ত।
- ‘তুমি এসব কথা কাউকে বলবে না প্রমিস করো আগে।‘

কী সমস্যা! কাউকে বলবো না তা কী করে হয়। যদি বিপদ আপদ হয় কোনো! ভাবলাম, প্রমিস তো করি, তারপর বিপদ বুঝলে অন্য কাউকে বলা যাবে! প্রমিস করলাম। তারপরও দেখি মেয়ে কোনো কথা বলে না।

- ‘কী হলো ! বললে না কে চায় না তুমি বেঁচে থাকো !!’
- ‘জানিনা।’ তনিমার সংক্ষিপ্ত জবাব।

(৩)

সারারাত কী-সব হাবিজাবি স্বপ্ন দেখলাম। যেন আমি আছি সবার মাঝেই অথচ কেউ আমাকে দেখছেনা, আমি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে যাচ্ছি অথচ কেউ আমাকে শুনছেনা; আবার আমাকেই দেখলাম সবার মাঝে – হাসছে, কথা বলছে, গান গাইছে অথচ সে ‘আমি’ তো আমি নই – সে যেন অন্য কেউ – অসহায় লাগছিল খুব।

পরপর চারদিন কাজের চাপ গেল খুব। তনিমার সাথে কথা বলার সুযোগ পেলাম না। একটা দুর্বোধ্য ভয় আর কী কারণে জানিনা চাপা টেনশন, টিপটিপে মাথাব্যথা নিয়ে পার করলাম দিনগুলি।

দেখি, তনিমা বসে আছে কম্পিউটারের সামনে, খুটখাট করছে কীবোর্ডে। আমি যে ওর দিকে তাকিয়ে আছি এটা ও বুঝতে পারছে নিশ্চিত। কিন্তু একবারের জন্যও মুখ তুলে এদিকে তাকাচ্ছে না। ভাবলাম, মতলব কী মেয়েটার। আর মুখ খুলবে না নাকি ?! কিন্তু ওইটুকু বলে থেমে গেলে তো আমার এই অস্বস্তি আর টিপটিপে মাথাব্যথা থামবে না। কী করি ! অফিস থেকে বেরিয়ে একটা মেসেজ পাঠালাম। ‘মীনাবাজারের সামনে অপেক্ষা করছি। জলদি এসো। জরুরী। খুব বড় একটা সমস্যায় পড়েছি।’ ডাহা মিথ্যা কথা। কিন্তু কাজ হবে জানতাম। সচরাচর মিথ্যা বলিনা এমন একটা সুখ্যাতি আছে আমার। সেটার সুযোগ নিলাম আর কি!

একটা প্রায় নির্জন কোণে কফির কাপ সামনে আমরা দু’জন – ছোট টেবিলের এপাশে আর ওপাশে। অনেকক্ষণ চুপচাপ। আমি অপেক্ষা করছি। তনিমা নিজেই শুরু করুক। একসময় হঠাৎ, যেন গভীর ষড়যন্ত্রে মত্ত এমন ভঙ্গিতে, কপাল কুঁচকে, টেবিলের ওপর দিয়ে অনেকটা ঝুঁকে, সামনের দিকে এগিয়ে এলো তনিমা,

- ‘তুমি কি জানো, কেন আমি হোস্টেলে থাকি?’

নাহ্ । আমি জানিনা। জানতে ইচ্ছাও করেনি কখনো।

- ‘কারণ আমার ভাইবোনরা আমাকে ভয় পায়। আমাকে পছন্দ করেনা।‘ কান্না চাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বুঝি! কেমন লাগলো গলাটা!। ভেবে পেলাম না, এই নিরীহ মেয়েটাকে ভয় পাবার কী আছে !
- ‘কেন ভয় পায় জানো ?’ এ প্রশ্ন তো আমারও! আমি জানতে চাইলাম না। ও নিজেই বলবে, বুঝতে পারছি ।
- ‘আমি ওদের কষ্ট দেই !’ মানে! কীসের কষ্ট!
- ‘কিন্তু জানো, আমি চাইনা ওদের কষ্ট দিতে, একেবারেই চাইনা। ‘সে’ আমাকে বাধ্য করে, আমি তখন কেমন যেন হয়ে যাই..আর ..জানো...ওরা কেউ যখন কষ্ট পায়...যন্ত্রণায় ছটফট করে.....কান্নায় চোখ লাল টকটকে হয়ে যায়....তখন আমার খুব ভালো লাগে...শরীরের ভেতরটা আরামে অবশ হয়ে যায়....তুমি নিশ্চয়ই আমাকে ঘেন্না করছো এখন.......’ – কী বলি! এমন আজগুবী কথা আমি শুনিনি কোনোদিন। বর্ষার দিনে সারাদিন ব্যাপী একটানা একঘেঁয়ে সুরে যেমন বৃষ্টি হয়, ঠিক তেমনি একসুরে একটানা - যেন প্রলাপ বকতে থাকে তনিমা আর আমি শুনতে থাকি.......শুনতে শুনতে...........
.............মাত্র কয়েকটা মিনিট। চোখ ধাঁধাঁনো কৃত্রিম আলো নিবু নিবু হয়ে ঝপ করে আমাদের চারপাশটা অন্ধকার হয়ে যায়। অসহ্য – দমচাপা স্তব্ধতা- হাড় কাঁপানো শীত আর আমি কাঁপতে কাঁপতে দেখি, দাঁড়িয়ে আছি এক অসুস্থ, প্যারালাইজড, মধ্যবয়স্ক নারীর শিয়রে – তাঁর নির্জীব চোখ - ঠেলে বেরিয়ে আসছে যেন – বিরামহীন গড়িয়ে পড়ছে পানি; কষ্টে, প্রচন্ড মানসিক যন্ত্রণায় থির থির কাঁপছে মুখের শিথিল চামড়া আর তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে কুৎসিত মুখভঙ্গিতে কুৎসিত শব্দস্রোত উগড়ে দিচ্ছে তনিমা। কয়েকটা সেকেন্ড – আর সইতে না পেরে আমি পালাতে গিয়ে পথভুলে আবার এক ধুলোভরা আসবাব ভর্তি, এলোমেলো, দরজা-বন্ধ এক ঘরে। দেখি – প্রাণভয়ে ছুটছে একটা সাদা, লোমশ ছোট্ট আদুরে বেড়াল, – পেছনে একটা মোটা লাঠি হাতে বালিকা তনিমা । খাটের নিচটা, আলমিরার পেছনটা, বুকশেলফের বইয়ের আড়াল – কারো কাছে আশ্রয় নাই ! – নাগাল পেতেই নেমে আসছে তনিমার হাতের লাঠি – শীতে আমার শরীরের রক্ত জমে যাবে প্রায়, ভয়ে চোখ বুঁজতেই দেখি দাঁড়িয়ে আছি এক নির্জন, প্রখর রোদের তাপে প্রায় গলে যাওয়া পিচের রাস্তার এক মাথায় আর খালি পায়ে, গলা পিচ মাড়িয়ে হাঁটছে তনিমা, উত্তপ্ত দুপুরের আঁচে মুখ লাল, যন্ত্রণায় মুখ বেঁকে গেছে কিছুটা, যেন থামতে চাইছে খুব কিন্তু পারছে না....হাঁটছে, হেঁটেই যাচ্ছে, আমি অনিচ্ছায় অসহায় দাঁড়িয়ে রাস্তার একপাশে – তখুনি হাতের এক ধাক্কায় দেখি আমার কফির কাপ ঠান্ডা কফি নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষমান ।

তনিমার কথা কখন শেষ – আমি টেরই পাইনি। দেখি – এইটুকু সময়ের মধ্যেই যেন ওর বয়স বেড়ে গেছে কয়েক বছর। এই মেয়েটা অসুস্থ! প্রবলভাবে অসুস্থ। কিন্তু কেউ কেন টের পেলনা এই ব্যাপারটা! ভাবলাম, ওকে হয়তো এখন আমার কিছু সান্ত্বণাবাক্য শোনানো উচিত।

- ‘বুঝলাম, কিন্তু তুমি তো আর নিজের ইচ্ছায় এই কাজগুলি করনা, তাই না ?!’
- ‘নিজের ইচ্ছায়ও করেছি !’
- ‘কী করেছো ?!’
- ‘খুন করেছি !’

মানে!! এইবার হতভম্ব আমি। মেয়েটা বলে কী ! কিন্তু তনিমা আশ্চর্যরকম নির্বিকার !

- ‘দাদী খুব বিরক্ত করতো শেষ বয়সে। ঘ্যানঘ্যান করতো সারাদিন। কথা না শুনলে গালাগালি করতো। একদিন ভাবলাম – এই বুড়িটা মরলেই তো পারে – মরে না কেন ! পরদিন বিকালে দাদী মরে গেল। স্ট্রোক।‘
কিন্তু এতে কি কিছু প্রমাণিত হয় ! কারো মৃত্যুকামনা করা আর সত্যি সত্যি খুন করা কী এক জিনিস হলো ?!
- ‘কলেজে একটা ছেলে খুব বিরক্ত করতো আমাকে। হাতটাত ধরতো সুযোগ পেলেই। একদিন ভাবলাম – এই ছেলেটা মরলেই তো আমি বেঁচে যাই। মরে না কেন ?! এর একসপ্তাহ পরে মরে গেল ছেলেটা । ফুটবল খেলতে গিয়ে পা কেটে গেছিলো কীসে যেন। এক রাতের জ্বরে শেষ।‘

আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে দিচ্ছে তনিমা আরো কিছু মৃত্যুর গল্প শোনাবে। কিন্তু এসব শোনার মত মনের জোর আমার নাই এখন। ঘাবড়ে গেছি। আর কিছু শুনতে চাইনা। মেয়েটাকে থামানো দরকার!

- ‘আমার খালাতো বোন ছিল খুব সুন্দর দেখতে আর খুব ভাল গান গাইতো। আমার মাঝে মাঝে মনে হতো আমার আব্বা বুঝি আমার চেয়ে ওকেই বেশি ভালবাসে। ভাবতাম – আমার আব্বার ভালবাসায় ভাগ বসায় মেয়েটা - ও মরে না কেন ?! কয়েকদিন পরেই ওর ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নদীতে গোসল করার সময় পানিতে ডুবে মরে যায় ও।‘

অসুস্থ! মেয়েটা ভয়ানক অসুস্থ। চিকিৎসা দরকার ওর । কী করে বুঝাই এইসব মৃত্যুর সাথে কোনো সম্পর্ক নাই ওর। কীভাবে বললে বিশ্বাস করবে!

- ‘কিন্তু জানো – আমি এসব কিছুই চাইনি আসলে...তুমি হয়তো বিশ্বাস করছো না...কিন্তু আমি সত্যিই এসব চাইনি...এসব ’সে’ চায় ..আমার ভেতরে যে থাকে....আমার শরীর..আমার হাত..পা...মাথা....সবই তার হয়ে যায়...অথবা এ সব হয়তো তারই.....আমি একটা মুখোশ মাত্র....তার ছায়া ...'সে' আমাকে যন্ত্রণা দেয়.......কষ্ট দেয়...এসব চাইতে বাধ্য করে......আমি টেরই পাইনা কখন ‘সে’ জেগে ওঠে আমার ভেতর...তুমি বলো ওর কি বেঁচে থাকা উচিত...কী করবো আমি বলতে পারো...?’

এই প্রলাপের কী উত্তর দেবো !

- ‘ ‘সে’ আমাকে আজকাল লোভ দেখায় জানো! মৃত্যুলোভ! বিছানায় শুয়ে ফ্যান ঘুরতে দেখি... মনে হয় ওড়নাটা ফ্যানে বেঁধে...বা টেবিলে একটা ব্লেড ...ব্লেডটা নিয়ে কব্জির কাছে ধরে একটা টান দিলে...বা ধরো ফল কাটার ছুরিটা কেমন পড়ে থাকে! ...ধরে পেটে ভেতর বা গলায়...হাতের তালুটা কেমন শির শির করে! ...কিন্তু আমি মরতে চাই না আপু...কিছুতেই মরতে চাই না....আমি বাঁচতে চাই...’

আমি যদি আর এক সেকেন্ডও ওর সামনে বসে থাকি আমি নিজেই অসুস্থ হয়ে যাবো। প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে এলাম বাইরে – বাইরে খোলা বাতাস ফুসফুসে টেনে নিয়ে মনে হলো আমি যেন এইমাত্র বেঁচে উঠলাম আবার। কয়েকটা মিনিট – হঠাৎ ঘাড়ের কাছে তনিমার নিঃশ্বাস – ফিসফিস করে ঢেলে দিলো কানের মধ্যে কয়েকটা শব্দ –
- ‘আপু, একটু ভেবে বলো তো, তুমি কি তোমার হাতকে বিশ্বাস করো ?’

(৪)
পরদিন অফিসে গেলাম না। রাতে ঘুম হয়নি। শরীর খারাপ লাগছিল। অনেক ভেবেও সিদ্ধান্ত নিতে পারলাম না শাহেদের সাথে তনিমার সমস্যাটা নিয়ে আলোচনা করবো কিনা। মেয়েটাকে চিকিৎসা করানো দরকার । দেশে ভালো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কারা আছেন, কীভাবে এদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেবো...তনিমাকেই বা কিভাবে বলবো চিকিৎসার কথা..একা একা এসব পারবো না আমি। কিন্তু আর কার সাথেই বা এসব শেয়ার করা যায় ! অফিসের কারো সাথে তো অবশ্যই না !

জানি না কেন আমাকে তনিমা এড়িয়ে চললো কয়েকদিন। অনেক চেষ্টা করেও ওকে অতিরিক্ত একটা কথাও বলাতে পারলাম না। খুব অভিমান হলো আমার। ওর কথা এত মনোযোগ দিয়ে শুনলাম, নিজের মতো করে যতটুকু পারি বুঝানোর চেষ্টা করলাম আর তার বিনিময়ে এইরকম ব্যবহার! ঠিক আছে! আমিও আর কথা বলার চেষ্টা করবো না। নিজের সমস্যা নিজেই বুঝুক। কিন্তু পরপর দুইদিন তনিমাকে অফিসে না দেখে এই আমিই আবার অফিস থেকে তনিমার হোস্টেলের ঠিকানা নিয়ে চলে গেলাম ওর হোস্টেলে।

তিনতলা । একটা মাঝারি আকারের ঘর। তিনটা বিছানা। তিনটা ছোট টেবিল। ঘরের দুইটা অংশ বেশ পরিষ্কার। তনিমার জায়গাটা অগোছালো। বিছানার চাদর ময়লা। তনিমার গায়ের কাপড় ময়লা। তনিমার চেহারায় জমে থাকা মন খারাপের ময়লা। আমার দিকে তাকালো সে। কেমন নির্বিকার, নিষ্প্রাণ দৃষ্টি! খুনীর মতো! মনে হতেই নিজেকে গালি দিলাম একটা। ছি! তনিমার আবোলতাবোল কথাতে আমার মাথাটাও খারাপ হয়ে গেলো নাকি! তারপরও নিজের অজান্তেই শিউরে উঠলাম। নোংরা বিছানায় বসতে ইচ্ছা করছিল না। কিন্তু চেয়ারে বইয়ের গাদা। বিছানাতেই বসলাম। বললাম – ‘কী ভাবছো ?’

- ‘দেখছি !’
কেন জানিনা আমার হাতের লোমগুলো দাঁড়িয়ে গেল দুর্বোধ্য ভয়ে! এসবের মানে কী! আমিও কী পাগল হয়ে যাচ্ছি নাকি! খটখটে দিনের আলোয়, হাজার রকম শব্দের মাঝে ভয় পাওয়ার তো কিছু নাই!

- ‘কী দেখছো ?’ তনিমাকে এমন আনমনা আবার একইসাথে ভীষণ তিক্ত, হতাশ কখনো দেখিনি।

- ‘ধোঁয়া!’
আবার প্রলাপ বকছে মেয়েটো। এখানে কোথাও ধোঁয়ার নামগন্ধও নাই!

- ‘রান্নাঘর । ভেতরে গাঢ় ধোঁয়া। ঘন কুয়াশার মত ধোঁয়া। মাটির চুলায় কাঠ ঠেলে আম্মা ফুঁ দিয়েই যাচ্ছে। আম্মার চোখ টকটকে লাল। দরজা বন্ধ। কী করে একটু ধোঁয়া বাইরে গেল – আর লোকটা ছুটে এসে রান্নার কাঠ দিয়ে আম্মাকে কী মারটাই না মারল – মারতে মারতে গায়ের কাপড় খুলে গেল আম্মার – তারপরও লোকটা মারতে মারতে ....আম্মার ফরসা গায়ে দগদগে লাল কাটা.....আর লাল রক্ত......’
- ‘কে লোকটা ?’
তনিমা কোন উত্তর না দিয়ে আমাকে দেখলো কিছুক্ষণ।
- ‘আমার আব্বা !’
কী ভয়ংকর। তনিমা এত নির্বিকারভাবে বলছে কী করে এসব কথা !
- ‘তুমি...তুমি আর তোমার ছোট ভাইবোনেরা কোথায় থাকতে তখন ?!’ প্রশ্নটা বোকার মত হয়ে গেল কিনা ভাবছি!
- ‘পাশেই দাড়িয়ে থাকতাম! ওরা আব্বার ভয়ে শব্দ না করে কাঁদতো ।’
- ‘আর তুমি ?!’
- ‘আমি ?! .....আমি শুধু দেখতাম......দেখতাম আম্মার সাদা ধবধবে গায়ে লাল লাল দাগ.....লাল রক্ত......আচ্ছা, তোমার কি কোনো সাদা শাড়ি আছে? ধবধবে সাদা ? আমাকে ধার দেবে একদিন ?!’

মেয়েটা পিশাচ ! কেমন যেন ঘেন্না লাগলো আমার। মনে হলো, চলে যাই। কিন্তু আরো বেশি জানার ইচ্ছাটাও কম ছিলো না। বসেই রইলাম। তারপর, একটু ইতস্তত করে প্রশ্নটা করলাম-

- ‘তোমার আব্বা তোমাকে মেরেছ কখনো ?’ তনিমা ভীষণ অবাক হয়ে তাকালো আমার দিকে.......
- ‘আমাকে ?! আমাকে মারবে আমার আব্বা !?’

লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। আর থাকতে পারবো না আমি এই মেয়েটার কাছে – টের পাচ্ছি, আবার যেন আমি অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছি একটু একটু করে ! কিন্তু আমি আর কোনো কুৎসিত দৃশ্য দেখতে চাই না, আর কিছু ভাবতে চাইনা, জানতেও চাইনা!

ফিরে আসতে গিয়েও ঘুরে দাঁড়ালাম। আমার দিকেই তাকিয়ে আছে ও – কেমন সন্দেহ হলো, এই কি আমার চেনা তনিমা নাকি তনিমার ‘সে’ ! আমি একটুও বুঝতে পারিনি – না চাইতেও মুখ দিয়ে কেন জানি প্রশ্নটা বেরিয়ে গেল –

- ‘...ইয়ে..মানে ...তোমার কি কখনো মনে হয়নি....মানে তোমার আব্বাকে নিয়ে.......তোমার আম্মাকে এত কষ্ট দিতো.....মনে হয়নি.......তোমার আব্বা.....মানে.......মরে না কেন?...’

তনিমা খুব অদ্ভুত দৃষ্টিতে দেখলো আমাকে কিছুক্ষণ– আমার পা থেকে মাথা পরর্যন্ত – টের পেলাম, কেঁপে উঠলো । উত্তর দেবে না মনে করলেও তনিমা কিন্তু জবাব দিল!

- ‘না ...মনে হয়নি...মনে হয়না...’
এক মুহূর্ত দেরী না করে – একলাফে কয়েকটা সিঁড়ি পার হয়ে নেমে আমি চলে এলাম বাইরে - মানুষের জঙ্গলে – এসে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

(৫)

আচমকা বৃষ্টিতে হঠাৎ ফাঁকা রাস্তা। বৃষ্টির পানি ফোঁটায় ফোঁটায় গড়িয়ে পড়ছে আমার চুল বেয়ে কানের লতি ছুঁয়ে আমার ঘাড়ে, গলায় – শরীরের সাথে ভিজে চুপচুপে হয়ে যাচ্ছে আমার মনটাও। ধুয়ে যাক সব ধূলা, আমাকে ঘিরে রাখা অস্বস্তি, বিষণ্ণতা। ধুয়ে যাক আমার শরীরে তনিমার অসুস্থতার ছোঁয়া, মাথার ভেতর থেকে তনিমাকে নিয়ে যত ভাবনা। ওই মেয়েটার কথা আমি আর ভাববোনা একটুও।
বাসায় ফিরে এককাপ গরম চা নিয়ে বসেছি বারান্দায়, চা-য়ে চুমুক দেবো, চোখ পড়ে গেল আমার হাতের ওপর! বুকের ভেতর যেন ছলকে উঠলো রক্ত। তনিমাকে সুস্থ করা দরকার। আমার নিজের স্বার্থেই ! ফোনটা তুলে নিয়ে তখুনি ডায়াল করলাম শাহেদের নাম্বারে। তনিমা নিজেও জানেনা – ওর সাহায্য দরকার।

(৬)

আমি খুশি। ভীষণ খুশি। বুকের ওপর থেকে বড় একটা ভার নেমে গেল যেন। তনিমাকে যে এত সহজে কাউন্সেলিং- এর জন্য রাজি করাতে পারবো এটা আশাতীত ছিলো। তবে এজন্যই থেকে থেকে একটা অস্বস্তি খোঁচা দিয়ে যাচ্ছে আমার মনের ভেতরে। এত সহজে তো তনিমার রাজি হয়ে যাওয়ার কথা না! কোথাও একটা গরমিল আছে। একটা সমস্যা আছে। আমি ধরতে পারছি না।

তনিমা খুব বুঝদারের মতো মাথা ঝাঁকিয়ে, মৃদু হাসি মুখে, আমার কথা শুনে গেল। আমার সাথে কাউন্সেলিঙে যেতে রাজিও হয়ে গেল ! কথা শেষে ও ফিরে যাচ্ছিল, ওকে ডাকলাম। একটা কথা মনে হলো হঠাৎ! একটা হঠাৎ জেগে ওঠা প্রশ্ন। তখন তো আর বুঝিনি - না ডাকলেই হতো! তনিমা আমার দিকে ফিরে তাকাতেই শিউরে উঠলাম – এ কে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ?! তনিমা ?! নাকি ‘সে’ ?! এই চোখ, এই দৃষ্টি কি তনিমার ?! এভাবে কি আমার দিকে তনিমা তাকিয়েছে কখনো ! নাকি এটা নিছক মনের ভুল !

- ‘আচ্ছা তনিমা, তোমার কি কখনো মনে হয়েছে ...মানে ধরো.... আমি...আমাকে নিয়ে..ওই যে তোমার যেমন মনে হয়...’মরে না কেন’’ ?!

তনিমা হো হো করে হেসে উঠতেই আমি ভীষণ লজ্জা পেয়ে গেলাম। ছি ! একেবারে বোকার মত একটা প্রশ্ন করে ফেলেছি। কী মনে করলো মেয়েটা! আমিও হেসে ফেললাম - লজ্জা চাপা দিতে!

- ‘আপু, তুমি হাঁটতে খুব ভালবাসো, তাই না ?’ আমি অবাক। হঠাৎ এমন প্রশ্ন!
- ‘হুম। ঠিক!’
- ‘তুমি বলছিলে একদিন, আমি শুনেছি, বাসায় যাবার সময় তুমি রিক্শা ছেড়ে দিয়ে কিছুটা রাস্তা হেঁটেই যাও।’
ভাল লাগলো আমার। কবে কাকে বলেছিলাম, মেয়েটা মনে রেখেছে!

- ‘এই যে তুমি হাঁটতে হাঁটতে বাসায় যাও, রাস্তায় কত বাস যায়...ধরো একটা বাস যদি পেছন থেকে তোমাকে চাপা দিয়ে...আমার কী মনে হয় জানো...এই যে মেয়েটা আমার ব্যাপারে এতকিছু জানে...এত নাক গলায় আমার ব্যক্তিগত জীবনে...আমার আর ‘তার’ মাঝে....বিরক্তিকর কিন্তু এই ব্যাপারটা! ...মাঝে মাঝে মনে হয়.....মেয়েটা মরে না কেন ?!’

পেটের ভেতর থেকে সবেগে সব উঠে আসতেই আমি তনিমাকে ঠেলে বাথরুমের বেসিনে হড়হড় করে বের করে দিলাম সব।

(৭)

সেদিন আমি এক পাও হাঁটিনি রাস্তায়। একটা মানসিক বিকারগ্রস্ত মেয়ে কী বললো না বললো তাতে এতো পাত্তা দেয়ার কিছু নাই জানি। তারপরও আমি শাহেদকে ফোন করে বললাম আমাকে বাসায় পৌঁছে দিতে। নামলাম একেবারে বাসার সামনে। টানা পাঁচদিন অফিসে গেলাম না। ফোন বন্ধ রাখলাম। এরপর চাকরিটা বাঁচাতেই সকালে উঠে ভয়ে ভয়ে রওনা দিলাম অফিসে।

অফিসের লিফ্ট দিয়ে উঠতে উঠতে ভাবছিলাম কী কৈফিয়ত দেব - কোনটা বেশি বিশ্বাসযোগ্য হবে! বেশিক্ষণ ভাবতে হলো না। চারতলায় নেমেই টের পেলাম কিছু একটা হয়েছে। সবাই এত চুপচাপ আর গম্ভীর কেন!
- ‘কী হয়েছে রাকিব ?! ’
- ‘তুই খবর পাসনি? তোর সাথেই তো বেশি ভাব ছিলো ওর!’ সর্বনাশ। এরই মধ্যে কী হয়েছে তনিমার!
- ‘তনিমা ?’
- ‘হুম! মারা গেছে গত পরশু!’
এত আচমকা আর সোজাসাপ্টা জবাব দিল রাকিব যে আমার মাথাটা ঘুরে উঠলো হঠাৎ। কিছু একটা ধরে শক্ত হয়ে দাঁড়াবো ভেবে হাত বাড়াতেই দেখি আমার পাশে কিছু নাই!

তাহলে শেষ হলো সব! তনিমার সাথে আমার শেষ দেখা যেমনই হয়ে থাকুক, প্রবল হতাশায় কান্না পেল আমার। পারলাম না। সব আমার দোষ! কী দরকার ছিল ভীতুর ডিমের মতো পাঁচদিন বাসায় মুখ গুঁজে পড়ে থাকার! কী ভাবছিলো তনিমা এই পাঁচদিন ?!

- ‘কীভাবে করলো সুইসাইড ?’
রাকিব অবাক হয়ে তাকায় আমার দিকে।
- ‘তনিমা তো সুইসাইড করেনি!’
- ‘তাহলে ?!’
- ‘হোস্টেলে ফেরার পথে, রিক্শা ছেড়ে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল.....পেছন থেকে একটা বাস এমে চাপা দিয়ে...সাথে সাথে মারা গেছে...’।

চাকরিটা আমি ছেড়ে দিয়েছি। তনিমা আমাকে ছাড়েনি। আচমকা এই অনুভূতি আমার গোটা অস্তিত্বে অকল্পনীয় ত্রাসের সঞ্চার করলে আমি দেখি – এখনো বসে আছি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে – চায়ের কাপ ধরা আমার হাত - অচেনা লাগে। কেন কে জানে আবার অনেকদিন পর সেই গা শিউরানো অনুভূতি; বুঝলাম না কখন ফেলে দিয়েছি কাপ, টেবিলে মাখামাখি চা....গড়িয়ে গড়িয়ে.....চুঁইয়ে চুঁইয়ে, ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ছে মেঝেতে টপ্ টপ্ করে...আমি দু’হাত মেলে টেবিলে, বসে আছি – নড়তে পারছি না ভয়ে....নিজেকে বিশ্বাস নাই আমার ...... নিজের হাতকেও বিশ্বাস নাই আমার।

০৮/০৪/২০১০


মন্তব্য

s-s এর ছবি

ঠিক এ মুহুর্তে মরারও সময় নেই ব্যস্ততায়, তারপরও লিখছি শুধুমাত্র গল্পটা পড়ে অনেকদিন আগের রহস্য পত্রিকার স্বাদ ফিরিয়ে দেওয়ায়। ব্র্যাভো!

বইখাতা এর ছবি

এত ব্যস্ততার মাঝেও সময় করে বড় গল্পটা পড়েছেন, মতামত জানিয়েছেন, সত্যি খুব ভালো লাগছে। ধন্যবাদ।

মর্ম এর ছবি

এতো রাতে এসব গল্প পড়া কি উচিত? ভয় লাগেতো!

বেশ বড় গল্প, তবু একটানেই শেষ হলো। সুন্দর।

~~~~~~~~~~~~~~~~
আমার লেখা কইবে কথা যখন আমি থাকবোনা...

~~~~~~~~~~~~~~~~
আমার লেখা কইবে কথা যখন আমি থাকবোনা...

বইখাতা এর ছবি

উচিত না বোধহয় ! হাসি
একটানে পড়া গেছে জেনে ভালো লাগছে। ধন্যবাদ।

জুয়েইরিযাহ মউ এর ছবি

বেশ ভালো লাগলো আপু,
গল্পের শেষ পর্যন্ত পাঠকের উত্তেজনা ধরে রাখতে পেরেছে গল্পটা।

--------------------------------------
জানতে হলে পথেই এসো, গৃহী হয়ে কে কবে কি পেয়েছে বলো....


-----------------------------------------------------------------------------------------------------

" ছেলেবেলা থেকেই আমি নিজেকে শুধু নষ্ট হতে দিয়েছি, ভেসে যেতে দিয়েছি, উড়িয়ে-পুড়িয়ে দিতে চেয়েছি নিজেকে। দ্বিধা আর শঙ্কা, এই নিয়েই আমি এক বিতিকিচ্ছিরি

বইখাতা এর ছবি

ধন্যবাদ মউ। এত বড় গল্পের শেষ পর্যন্ত পড়ার আগ্রহ কারো থাকবে কিনা - এটাই ভাবছিলাম।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

গল্পের সাইজ দেখে ডরাইছি। পরশুদিন পড়ুম...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

বইখাতা এর ছবি

ঠিক আছে । হাসি

রেশনুভা এর ছবি
বইখাতা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

তিথীডোর এর ছবি

এক নিঃশ্বাসে পড়েছি...
উত্তম জাঝা!

--------------------------------------------------
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

বইখাতা এর ছবি

একটানে গল্পটা পড়া গেছে তাহলে। অনেক ধন্যবাদ তিথীডোর। হাসি

সাবিহ ওমর এর ছবি

ভয় পাইসি মন খারাপ

বইখাতা এর ছবি

আহা ! গল্পটা অতটা ভয়ের না তো ! অনেক রাতে পড়েছিলেন বুঝি। হাসি

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

ভালো লাগলো। এটা কী শুধুই গল্প? না কী সত্যি ঘটনার কিছু ছায়া আছে?

--------------------------------------------------------------------------------

বইখাতা এর ছবি

আমার ব্লগে আপনাকে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আপনি ঠিকই আন্দাজ করেছেন। গল্পটাতে সত্যি ঘটনার ছায়া আছে, যদিও সেটা খুবই অল্প। ধন্যবাদ আপনাকে।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যেয়ের একটা গল্প আছে। "গিন্নীমা" নাম, পড়েছেন নাকি ??? আপনার গল্পটা অনেক বিস্তৃত হলেও এইরকম ভূতুড়ে ট্রান্সফর্মেশন এ গল্পেও দেখছি...

অনিয়মিত গল্প লেখিকা নিয়মিত হোন...

_________________________________________

সেরিওজা

বইখাতা এর ছবি

নাহ্, পড়িনি। গল্পে ভূতুড়ে আবহ আনার ইচ্ছা আমার ছিলো না, অন্যরকমভাবে শেষ করতে চাইছিলাম। কিন্তু কীভাবে যেন এমন হয়ে গেল।
আমি তো নিয়মিত হতেই চাই, কিন্তু নানা কারণে সম্ভব হয়ে ওঠে না। ধন্যবাদ সুহান।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

খালাম্মা! কেমুন আছেন?

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

বইখাতা এর ছবি

খুব একটা ভালো নাইরে ভাই। পানি, বিদ্যুৎ এর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। মন খারাপ

নাশতারান এর ছবি

চমৎকার! খুব খুব ভালো লাগলো।

[ একঘেঁয়ে > একঘেয়ে, সান্ত্বণা > সান্তনা ]

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

"সান্ত্বনা" হাসি

নাশতারান এর ছবি

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

বইখাতা এর ছবি

ধন্যবাদ বুনোহাঁস ।
ভুল বানান ধরিয়ে দেয়ার আপনার এই পদক্ষেপ খুবই প্রশংসনীয়। ধন্যবাদ আপনাকে।

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

অসাধারণ লাগলো! এক নিঃশ্বাসে পড়ে গেলাম। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমান তালে এগিয়েছে কাহিনী। উত্তেজনাও ধরে রাখতে পেরেছেন গল্পের মেজাজ অনুযায়ী। খুব ভালো। আরও লিখুন।

বইখাতা এর ছবি

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পের গতি ধরে রাখা নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। আমার নিজেরই মনে হয়েছে কোথাও কোথাও একটু ঝুলে গেছে হয়তো, বদলে দেয়া উচিত। তাই গল্প ভালো লেগেছে জেনে আমারও ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।