বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী: লাল ফিতেয় বেঁধে নিয়েছি শৈশবের ডাঙ্গুলি

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি
লিখেছেন আশরাফ মাহমুদ (তারিখ: বুধ, ১৭/০২/২০১০ - ৭:১১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী: লাল ফিতেয় বেঁধে নিয়েছি শৈশবের ডাঙ্গুলি
=========================================


'কবে ফিরবে?'
'ঠিক নেই। তবে কাজ শেষ হলেই রওয়ানা দিয়ে দিব।'
'আমার জন্য কিছু আনবে না?'
চোখ তুলে তাকায় স্বর্ণা, অরণ্যের ভিতরটা শুকিয়ে খরার মাঠে চাতক। এখনো টাই বাঁধতে পারে না নিজে, স্বর্ণাই করে। কী জানি হবে!
'সেকি। আমি ফিরে আসব, সেটাই কি বড় পাওয়া নয়?' অরণ্য হাসে।
সে কথা বলে না।
কী আনবে তা গোপন রেখে স্বর্ণার কপালে একটি চুম্বনপত্র লিখে দেয় ঠোঁটের উৎকর্ষতায়।
পা বাড়ায়।
সৌরশক্তি চালিত গাড়িটির চালক সে নিজেই। আজ বাইরে প্রচুর সামন্ত-রোদ।


মেলাঘর ছিমছাম ছোট্ট শহর। আগরতলা থেকে মাত্র ৫৩ কিলোমিটারের দূরত্ব। আগরতলা প্রযুক্তি ও শিল্পের ছোঁয়ায় টুইটম্বুর হয়েছে সেই কবে ২০২৫ সালে। সে তুলনায় ২০৩০-এ মেলাঘর সদ্য গোঁফ গজানো কিশোর। মূলকারণ, বাঙালিরা। এখনো ওরা সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরে আছে। ২০১৯ সালের দিকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে ত্রিপুরা স্বায়ত্বশাসন লাভ করে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে শুধু সরকারী খাজনা ও সেনাবাহিনী বিষয়ক দায়বদ্ধতা আছে: আর সব কিছুর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকারই।

অরণ্যের কাজ পড়েছে এখানে।
মেলাঘরের মাটিতে। অফিস ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে নীরমহলের পাশাপাশি। অফিস ব্যবস্থাপক নিলয় আহমেদের বাড়িতে। সে নিজেই চেয়েছে, পর্যটনের আবাসে থাকলে কেমন পর পর মনে হয়; দূর কোথাও বেড়াতে এলে বা কাজে গেলে স্থানীয় কারো বাসায় ঠাঁই নিতে চেষ্টা করে।
আগরতলা, মেলাঘর ও সংলগ্ন শহরগুলোতে গত কয়েকবছর ধরে (মূলত প্রযুক্তির বিস্তারের শুরু থেকে) জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। অথচ জন্মহার স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চ!
অরণ্য কাজ করে বেসরকারী 'শুভালক্ষ্মী মানব জিন গবেষণা কেন্দ্র'-এ। ত্রিপুরার একটি মানবতা সংস্থা তাদের সাহায্য চেয়েছে।
তাই এখানে আসা।
এই নীরমহলের দেশে।
এখানে প্রচুর ঘাস আর প্রজাপতির ডানা।


নরনাথ ছোটখাট মানুষ। পেটা শরীর, ভারী ঘাড়ের উপর ছোটখাট মাথা। মুখে সারাক্ষণ ছেলেমানুষি হাসি লেগে থাকে। তবে সে হাসি চোখ স্পর্শ করে না। প্রায়শ।
অরণ্য থাকে নরনাথের কাছারিভবনে। অফিস থেকে ঠিক করে দেয়া। অতিথির যত্ন নরনাথ আর তার বউই করে। এক হালি মেয়ে আছে ওদের।
নরনাথের আচরণ দেখে মনে হয় সে মেয়েগুলোকে নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মাঝে আছে। একে-তাকে ধমকাচ্ছে।
নরনাথের প্রপিতামহ বাঙলাদেশ থেকে আসা। দেশ ভাগের আগে চাকুরী করার জন্য এসেছিল, ফিরতে পারে নি আর।
অরণ্য পরিস্থিতি নিয়ে নরনাথের সাথে কথা বলার চেষ্টা দিল, কয়েকবার। সুবিধে করা গেল না। নরনাথ এড়িয়ে যায়। অবশ্য স্থানীয় লোকজন স্বাভাবিকভাবে কথা বলে না; মনে হলো।


পরবর্তী সপ্তাহ দুয়েকে সারমেয় জীবন কাটল অরণ্যের। দিনে এখানে ওখানে ঘুরে তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করে, মানুষের কাছ থেকে পেটকথার যোগান নেয়। আর রাতের বেলা খেয়েদেয়ে গাঢ় বিশ্রাম। ভোরের আদুল রোদের গন্ধ শুঁকে ঠিকই জেগে যায় নরনাথের কবুতরঝাঁকের মতো। এখানে ভোর হয় তাড়াতাড়ি। সূর্যের শ্বশুরবাড়ি আশপাশে নিশ্চয়!

অনেক কষ্ট করে সে হামিদ লালের ঠিকানাটা জোগাড় করল। হামিদ লাল কমরেড জ্যোতি বসুর ভাবশিষ্য! ত্রিপুরায় যখন বাঙালিরা অস্ত্বিস্ত রক্ষার লড়াইয়ে একনিষ্ঠ তখন জ্যোতি বসুর ভাবার্দশে উদ্ধুদ্ধ হয়ে হামিদ লাল ও তার বন্ধুরা গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে; চিকিৎসকের উমদা চাকরী ছেড়ে দিয়ে।
পরবর্তীতে ভারত সরকার যখন নত স্বীকার করে তখন হামিদ লালকে রাজনীতিতে আসার পরামর্শ দেয় অনেকে। অথচ অভিমান করে সেসব ছেড়েছুঁড়ে তিনি ঘরামি-জীবন যাপন করছেন।
অরণ্য গেল কথা বলতে। লোকটা এখনো খবরের ডিপো।

ঘরটা বিধবা নারীর মতো নির্জন। আশপাশে প্রচুর গাছ ঝুলে বাড়িটার উপর সবুজ নিঃশ্বাস ফেলছে।
লুঙ্গি পরে উঠোনে বসা হামিদ লাল। আশপাশে কয়েকজন নারী পুরুষ ঘিরে আছে।
'আপনি কে?' শরীরধারী একটা লোক চোখ নাড়িয়ে জিজ্ঞেস করতে গিয়ে মাথা নাড়ায়!
'আমাকে চিনবেন না। আমি হামিদ লালের সাথে কথা বলতে চাই।'
'যা বলার আমাদের সামনে বলেন। উনারে আমরা একলা রাখি না।'
'আমাকে একাই কথা বলতে হবে। বেশি না, মিনিট বিশেক মাত্র।'
লোকটা হঠাৎ ড্রাগন হয়ে যায়। গাঢ় নিঃশ্বাস ফেলে বিকালের অস্তগামী সূর্যটাকে আরেকটু লাল করে দিয়ে বলে উঠে, 'এ হালায় দেখি জোঁক টাইপের। আব্বে, অই, বললাম না; উনার সাথে একলা কথা কওনের রেওয়াজ নাই।'
অরণ্য বিপন্ন বোধ করে।
নত মাথাটা আস্তে আস্তে উপরে তুলে হামিদ লাল। বলে উঠেন, 'কালু, তোমার গলাবাজি এখনো কমল না।' অরণ্যর চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বলে উঠে, 'কী কথা?'
'আমাকে চিনবেন না। একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে কথা বলতে চাই, একা।'
'আজকাল আমার মাঝে কোন জরুরী কথা নাই।'
'আমি..........আমি..........হাওয়াকড়ি।'
অরণ্য মাথা নিচু করে।
হামিদ লাল অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বয়োবৃদ্ধ বটবৃক্ষের মতো ভারী হয়ে উঠেন। তারপর উজ্জ্বল চোখে বলে, 'কামরুল বেঁচে আছে?'
অরণ্য আশপাশে তাকায়। সে কথা বলে না।
হামিদ লাল হাত নাড়েন, 'কালু, সবাইরে নিয়া ঘরে যাও। আমি ওর সাথে একা কথা বলব।'
'কিন্তু--'
'এই আমার কোন ক্ষতি করবে না। বেশি কিছু করতে চাইলে জানালা দিয়া নজর রাখো।'
অরণ্য একটি মোয়া টেনে নিয়ে বসে।
'চাচা মরে গেছে। কয়েক বছর পরেই। শরীরে অনেক অসুখ ভর করেছিল।'
'কী বলিষ্ঠ ছিল! আমার এই শরীর কবে গেছিল। পায়ে তিনটা গুলি খাইছিলাম, পুরা ধরা- সে নিজের জীবন বাজি রেখে ক্যাম্পে আনছিল।'
'আমি জানি। তার একটা ডায়েরী পাওয়া গিয়েছিল। আমি সংকেতটা সেখান থেকেই জানতে পারি!'
হামিদ লাল মৃতবন্ধুর কথা মনে করে কবরের নিস্তব্ধতা নিয়ে বসে থাকেন। কয়েকটা জোনাকী এলেবেলে আগরবাতি জ্বালাবার উপক্রম করে, এই ক্লান্তিহীন অন্ধকারে।
'কী কথা?' একটু চুপটাপ 'কিছু খাবে? এখানের ডাবের পানি অনেক মিষ্টি।'
'না না। বেশিক্ষণ থাকব না। এসেছিলাম- আপনি হয়তো জানেন..........বাঙালি হ্রাসের বিষয়টা।'
'লাভ নাই।'
'মানে?'
'আমার সন্দেহ হয় যে এটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।'
'কীরকম?'
'আমরা যখন আন্দোলন শুরু করি তারো আগে থেকে বাঙালিদের উপর বৈষম্য চলছিল। অনেকটা ১৯৭১-এ ফাকিস্তান হানাদার বাহিনীর মতো..........বুদ্ধিজীবিদের মেরে ফেলা..........তবে এরা আরেকটু বিশালাকারে করে..........নতুন বাচ্চা হলে তার মস্তিষ্কের গঠন বিশ্লেষণ করে বুদ্ধিমত্তার সম্পর্কে ধারণা লাভ করা হয়- তারপর'
'আমি বুঝতে পারছি না। দুঃখিত। শুরু থেকে বলুন।'
'তুমি তো জানোই যে আমি, তোমার চাচা এরা বিজ্ঞানী কাম চিকিৎসক ছিলাম। আমাদের গবেষণার বিষয় ছিল সদ্য নবজাতকদের নিউরনগুচ্ছ অন্য মস্তিষ্কে স্থানান্তরিত করে স্মৃতিবিলুপ্তি ঠেকানো। যেমন ধরো- বয়েস বাড়ার সাথে সাথে স্মৃতিপ্রকোষ্ঠে না চাইতে-ও ভাঙচুর শুরু হয়; চিকিৎসা বিজ্ঞানের অবদানে দীঘল জীবন পেলে-ও স্মৃতি নষ্ট হয়ে অর্কমণ্য হয়ে পড়ে মানুষগুলো।'
'হ্যাঁ, তারপর?'
'বয়েসের সাথে সাথে নিউরনগুলো বা স্নায়ুকোষ নষ্ট হতে থাকে, উৎপাদন কমতে থাকে, শুকিয়ে যায়। ফলে মানুষ চিন্তাক্ষমতা হারায়, স্মৃতি লোপ পেয়ে ভুলে যায় সড়কের পরিক্রমাসমূহ। দেখা গেলো যে নবজাতকদের (যারা পঙ্গু বা ক্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে অথচ মস্তিষ্ক সচল তারা) স্নায়ুকোষগুচ্ছকে বয়ষ্ক মতিষ্কে স্থাপন করা যায়। অনেকটা গাছের কান্ড দিয়ে কলম করার মতো, কিন্তু এক্ষেত্রে উল্টো রকমের। প্রতিবাবান লোকটি বয়েসের সাথে সাথে নিজের স্নায়ুকোষ হারালে-ও স্থাপিত নিউরনগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও উপাদান নিয়ে বাড়তে থাকে। ফলশ্রুতিতে নিউরননদীর এ'কূল ভাঙে, অই কূল গড়ে। নবজাতকের নিউরনগুচ্ছ স্থাপন করা হয় জেনেটিক প্রকৌশল, ক্লোনিঙের মাধ্যমে; কিন্তু প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়ার জন্য জাতিবাচক, ভাষিক, রক্তের গ্রুপ, গঠনকাঠামো, লিঙ্গ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যকে প্রাধান্য দেয়া হয় এবং এদের মাঝে মিল থাকতে হয়।'
'এটা তো সাংঘাতিক! আপনাদের সময়ে এই নিয়ে গবেষণা চলছিল?'
'হুমম। গোপনে। কিন্তু তারপরে তো বিপ্লব শুরু হয়.....শুনেছি সেসব গবেষণালব্ধ উপাত্ত বিছিন্নবাদিদের হাতে গিয়ে পড়ে।'
'ভয়াবহ।'
'আমার মনে হয় সরকার-ও জড়িত। বাঙালি জাতি বড়ই অভাগা।'
'হুম।'
'আমি তোমাকে কয়েকটা ঠিকানা দিচ্ছি। তুমি আরো তথ্য পাবে। আমার নিজেরই সবকিছু মনে নেয়।'

সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে হামিদ লালের দেয়া উৎসসমূহ থেকে অনেক তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করল। সবকিছু মিলিয়ে অরণ্য একটি খসড়া রিপোর্ট লিখল। ভয়ংকর সব ব্যাপার।
মেয়েদের কিনে নেয়া হয়। ছেলেদের-ও, কিন্তু আনুপাতিকহার কম। শুধু এখানে না। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে।
যন্ত্রাবলি, বিজ্ঞানের অপত্য দানগুলো যতই এগিয়ে নিয়ে যাক না কেন পৃথিবী এখনো মানুষের কৃতদাস। মানুষ ও পৃথিবী পরষ্পরের বাড়িদরজা।
প্রতিভাবান মানবদের স্মৃতিবিপর্যয় ঠেকাতে একটি গুপ্তসংঘটন তৈরী হয়।
ত্রিপুরায় বাঙালিরা এর শিকার। লোভে পড়ে, কন্যাসন্তানকে অচ্ছুক ভেবে অনেকে বিক্রি করে দেয়। যদি-ও বাবা-মা বা অভিভাবককে জানানো হয় যে সন্তানদের জ্ঞানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তারা অন্যস্থানে ভালোই আছে। অনেকসময় অপহরণ করা হয়, গুম করে ফেলা হয়।

গুপ্তসংগঠনটি টাকার বিনিময়ে মাথা বেঁচে। যদি-ও আইনগত অথবা নৈতিকতার দিকদিয়ে বিষয়টি বাজে রকমের, তবু-ও মানুষ মুদ্রার দু'পিঠই ধারণ করে।
বাঙালি আন্দোলনের কারণে ত্রিপুরার স্থানীয় সরকারের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের সূক্ষ্ম বিরোধ থাকার কারণে কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে না, বা চুপ করে থাকছে। অনেকটা সাঁতার না জানা লোক জলে ছেড়ে দিয়ে চলে আসা।
গুপ্তসংগঠনটির নাম বেশ মুখরোচক। 'মানববুদ্ধিমত্তা বিকাশক।' অরণ্য রিপোর্ট তৈরী করে নিল; কালকের মাঝেই পাঠিয়ে দিবে।
বিকালের দিকে ফোন দিল স্বর্ণাকে।


লোকটাকে দেখে আপাত কিছু মনে হয় না। অন্তত অরণ্যের। বাঁহাতে চারটা আঙুল, অন্য একটি আঙুল একখানা গল্পের জন্ম দিয়ে কবেই হারিয়ে গেছে। শার্টের বোতাম খোলা, মাঝে মাঝে উড়াল বাতাস এসে বুকের লোমকাশে ঢেউ তুলে; এসব দৃশ্যে স্বাভাবিকভাবে লোকটির অন্যমনস্কতা বা প্রগলভতা প্রকাশ পায়।

অরণ্যের গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে।
বাইরে নাকিবর্ষা।
গাড়ি চালানো আর কিছুই না। স্বয়ংক্রিয় চালনাতে দিয়ে রাখে, গাড়ি আপন গতিতে চলে। লোকটা শুধু মাঝে মাঝে দিকনির্দেশনা দেয়।
অরণ্য ব্যাগের উপর আঙুলগুলো ছড়িয়ে রেখে, উঠোনে খুদ ছড়িয়ে দেয়ার মতো; যেন পরিচিত কেউ কইতর হয়ে এসে স্বাদ নিবে। এই তথ্যউপাত্তগুলো অনেক আগুন ধরাবে, অরণ্য ভাবে, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ইত্যাদি বিভিন্নতায়।
অরণ্য ভ্রাম্যফোনে বই পাঠে মনোযোগ দিল। পাশের সিটের উপর প্রতিফলন ফেলে ডিসপ্লে তৈরী করা হয়েছে।
কেন জানি হঠাৎ চোখ তুলে তাকাল। পাহাড়ি পথ। একটা বাঁক আসছে। সড়কের দুপাশে বৃক্ষের স্থাবর মিছিল। আরে..লোকটা ঘুমিয়ে পড়েছে নাকি? এভাবে চললে তো গাড়ি গিয়ে গাছগুলোর সাথে ধাক্কা খাবে, নতুবা ছিঁটকে পড়বে বাইরে!
অরণ্য চোখ তুলে তাকাল লোকটির দিকে। তার ঠোঁটে কি আলতো হাসি?
জ্ঞান হারানোর আগে দু'টো জিনিস ঠাঁহর করতে পারল অরণ্য। যে গাছটাতে বাড়ি খেয়েছে সেটা কড়ই গাছ। হাতটা বেকায়দায় বুকের নিচে চলে গেছে। মাথার বাঁপাশটা ফেটে রক্ত পড়ছে; জমা হচ্ছে হাতের তালুতে। রক্ত জমে কয়েকটি জবাফুল ফুটে আছে!


ডাক্তার: আঘাত..পুরো অংশ
নরনাথ: যোগাড় দিতে পারি..
ডাক্তার: এছাড়া উপায় নেই...
নরনাথ: নিজে-ও হাত পাতি


একটি সমুদ্র, সে তলিয়ে যাচ্ছে। একটি মেয়ে তলিয়ে যাচ্ছে। পায়ে ক্যাম্বিশের জুতো। মেয়েটার কোন নাকফুল নেই, হাতে ওটা কি? চুড়ি? একটা হাঙর এসে পাশ কেটে যায়। একটা বাইসাইকেল। ফ্রকের ডানা মেলে তার পিছনে দৌড়ায় সে। একটা নালায় সাইকেলসুদ্ধ গিয়ে পড়ে ছেলেটি। মেয়েটি হেসে কুটিকুটি, `ভাইয়া।` ডুবে যাচ্ছে..ডুবে যাচ্ছে...মেয়েটি চিৎকার করে উঠে। একটা চাঁদ লুকিয়ে পড়ে মেঘের ঠোঙ্গায়। `চানাচুচুরররর...ডালভাজা...চানাচুচুরররর...ডালভাজা...।` দু`পয়সার দোকানদার হেঁটে হেঁটে চলে যায়। `আইসক্রিম খাব।` শীতকালে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগে।
মেয়েটি তলিয়ে যায়। অরণ্য একবার জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়ে।


দূর থেকে দেখলে মনে হয় কুঁড়েঘর। ছাদের `পরে কয়েকটি নারিকেল গাছের শাখাবিস্তার। বাঙলো বাড়িটি নরনাথের। অরণ্য এসেছে স্বাস্থ্য উন্নতির জন্য হাওয়া বদলাতে। নরনাথের গ্রামের বাড়িতে প্রচুর সম্পত্তি- বাড়িটি খোলামেলা জায়গায়।
অরণ্য হাঁটতে বের হলো। একটা কী যেন ঝোঁপ থেকে বের হয়ে দেবরের সামনে নতুন বউ`র মতো আমার ঝোঁপেই লুকিয়ে গেল। দূরে একটা মাঠে ছেলেমেয়েরা বিদ্যুতিক ঘুড়ি উড়াচ্ছে।
`সুতো ধরে টান দাও।`
`পারি না তো।` সুতো টান দিতে গিয়ে সে পড়ে যায়। অরণ্য মাথা চেপে ধরে বসে যায়। দুর্ঘটনাটার পরে থেকেই এসব হচ্ছে। নিজের চিন্তার সাথে এলোমেলো চিন্তা ভর করে। মনে হয় কেউ একজন ভিতরে কথা বলছে। ছবি সাজাচ্ছে।
উফ্!


`একলা একলা বাইরে যাইয়েন না, কই থেকে কী হয়।`
`বেশি দূর যাই নি। একটু হাঁটতে বের হয়েছিলাম।`
`যাইহোক।` নরনাথ সময়ক্ষেপণ না করে অন্দরমহলে চলে গেল। সে এখান এসে লুঙ্গি পরে। বাতাসে লুঙ্গির খুঁট দোল খায়।
রাতে ঘুম হয় না। হঠাৎ হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। শরীর ঘেমে উঠে, যেন নদীর বান ডেকেছে, স্বর্ণার কথা ভাবে; সে এসে এই বানে বড়শি ফেলুক। ধরুক না দু`য়েকটা মাছ!
তীব্র যন্ত্রণা হয়। মাথাটা চেপে ধরে ঝিম মেরে বসে থাকে।
স্বর্ণা এসব জানে না। নরনাথকে বারণ করেছিল না জানাতে। অফিসের অনেক হয়তো জানে।
জলের তেষ্টা পেয়েছে। মনে হচ্ছে নিজের ঘাম নিজেই খেতে পারবে। অরণ্য হাতড়ে পাকঘরে গিয়ে দাঁড়ায়। জল কোথায়? ওই যে অবয়ব- ওটি কি জলের গেলাস? দুয়ার খোলা, এলেবেলে বাতাস এসে সিঁথি কেটে যায় এলোমেলো চুলে। ওগো বাতাস, তুমি জল হয়ে যাও।
হাত বাড়িয়ে গ্লাস নিতে গিয়ে জগটি হাত লেগে পড়ে গেল মেঝেতে। ঢাকনাটা ভেঙে গেছে। অন্য একটি জগ বসে আছে টেবিলে। সেটার ঢাকনা নিয়ে লাগিয়ে দিল এটায়; জল ঢেকে রাখার জন্য।
পিছনে নিশব্দে এসে সাহাবী হয়েছে নরনাথ। তার চোখ ঘুমহীনলাল।


আবারো তলিয়ে যায়। মেয়েটি কান্না করে উঠে। সাইকেলটি বাতাসের পিছনে ঘুড়ি হতে চায়। বৃষ্টিগুলো জমতে থাকে গানের উঠোনে। উঠোন তলিয়ে যায়। মেয়েটি তলিয়ে যায়। দু'গাছি চুল ভেসে উঠে। চুলগুলো জলের উপর ঢেউ। ঢেউের পিছে নৌকা। নৌকাতে বুড়ো মানুষ। নৌকাটি তলিয়ে যায়।


জ্ঞান ফিরল পরেরদিন বিকালে। আশ্চর্য, নরনাথ তাকে হাসপাতালে নেয় নি!
চুপচাপ বিছানায় পড়ে থেকে ভাবতে লাগল অরণ্য। বেশি গভীরে গেলে আবার মাথায় যন্ত্রণা শুরু হয়। টেবিলের উপর তার ফাইলটা রাখা। সেদিকে তাকিয়ে নিজেকে নিজের মতো করে পেল। মেয়েটা কে? ওর ছেলেবেলার কেউ? দুর্ঘটনায় মানুষ শোকে শিশু হয়ে যায়। তবে কি তার শৈশবের স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে? নরনাথ তাকে খুঁজে পেল কীভাবে? সেখানে তার চিকিৎসা হয়েছে সেটা তো হাসপাতাল ছিল না। অনেকটা ব্যক্তিগত চিকিৎসালয়ের মতো। মেয়েটা তলিয়ে যায় কেন? স্বপ্নে আসে? অরণ্যের কান্না পায়। হাউমাউরে কেঁদে দেয়ালের টিকটিকিটার দৌড় বাড়িয়ে দিল সে।
তবে কী? ব্যস্ত পদক্ষেপে সে ফাইলটার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। লাল ফিতেটা ঘরের নিরবতার মতো গাঢ় পড়ে আছে। না, কিছু খোঁয়া যায় নি। লাল ফিতে! মেয়েটার কি লাল ফিতে ছিল? পরক্ষণেই শরীরে হিমস্রোত খেলে গেল। মেয়েটার নিউরনগুচ্ছ তার মস্তিষ্কে স্থাপন করা হয়েছে! দুর্ঘটনায় নিশ্চয় তার স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে ছিল বা আশংকাজনক ক্ষতি হয়েছিল। নরনাথ কি শুধু চাকুরী বাঁচাতে এই কাজটা করেছে? নিউরনগুচ্ছ স্মৃতি-পক্ক-না-হওয়া দু'তিন বছরের বাচ্চাদের কাছ থেকে নেয়া হয় যেন স্মৃতি-ক্নফ্লিক্ট না হয়। কোন এক অসাবধানতায় বা ইচ্ছাকৃতভাবে তার ক্ষেত্রে সেরকম হয় নি! একটা মেয়ের স্মৃতি নিয়ে তাকে আজীবন চলতে হবে। তলিয়ে যাওয়া...সাইকেলের পিছনে দৌড়ানো.....বাউন্ডুলে নৌকা! অরণ্য মাথা চেপে ধরে বসে পড়ে। টিকটিকিটা দৌড় থামিয়ে পাশাপাশি দেয়ালে, কান্নায় সে আরেকটু কাছে চলে এল; আগের ভয় নেই।

শূন্যতা
চাকুরীচ্যুত হবে, শাস্তি হবে, সংসার হারাবে; সব হারানোর সময় এখন। অরণ্যের। অথচ তার দোষ নেই। তবু-ও।
অথচ মানুষ ঝরে যায় একা শিরীষের পাতায় একটি জল হয়ে।
নীরমহলের কাছে হিংসুটে নদী বয়ে যাচ্ছে। সে আরো জল চায়, আরো জলকুমারী চাহে। আকাশে এক থালা চাঁদে তারাখইগুলোকে জমা করছে বিজন রাত!
অরণ্য তীরে এসে দাঁড়ায়। এক পা জলে, এক পা বালিতে। বাঁ হাত দিয়ে বাম কান চেপে ধরে ডান হাতে পকেট থেকে বের করে আনে পিস্তলটি।
পিস্তলের গঠন যেন লাল ফিতেয় বাঁধা শৈশবের সেই ডাঙ্গুলির কাঠি!

[ডিসেম্বর, ২০০৯]


মন্তব্য

তিথীডোর এর ছবি

সামন্ত- রোদ, সূর্যের শ্বশুরবাড়ি, ঘরামি জীবন,
বিধবা নারীর মতো নির্জন নদী,
উপমাগুলো দারুণ!!!

নীরমহল মানে কি?

টুইটম্বুর, নিঃশব্দ, সংলগ্ন: তিনটে টাইপো আছে...

সব্যসাচী লেখককে চলুক

--------------------------------------------------
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

নীরমহল সম্পর্কে জানতে এখানে টিপি দাও।
ঠিক করলাম। দুই টাকা বেশি বখশিস দিলাম। চোখ টিপি
==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আশরাফ ভাই,

সব ঠিকাছে। কিন্তু বাংলাদেশকে বাঙলাদেশ লেখা এখনো আমার কাছে রিডিকুলাস লাগে।

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

ভাইয়া, বাঙলাদেশ তো অশুদ্ধ না।
১। স্বয়ং বাংলা একাদেমি'র মতে বাঙলাদেশ ও বাংলাদেশ উভয়ই শুদ্ধ বানান।
২। বাঙালি এভাবে লেখা হয়, সেটা-ও একটা প্রভাবক।
৩। বাঙলাদেশ তো হাজারজনে লিখছে। দুই দশক ধরে। আমার চেয়ে চালবাজ লেখক-কবিরা ব্যবহার করেছেন, কেউ বকা দেয় নি।

(আপনার কাছে কি বাঙলা বানানের প্রমিত রীতির পিছনের ডকুমেন্টগুলো আছে? যেমন ধরেন- কেন কী কারণে রীতিগুলো সুপারিশ করা হয়েছে? থাকলে একটু পাঠাবেন। আমি একটা পোস্ট দিতে পারি।)

পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ রইল।

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ডকুমেন্ট আমার কাছে নাই। অন্যরা হয়ত দিতে পারবেন।

বাংলাদেশ বানান 'ঙ' দিয়ে হবে না কেন এই লেখার ৯ নম্বর মন্তব্যে বলেছি।

কে কোন উদ্দেশ্যে লিখেছেন সেটা অন্য ব্যাপার। তাঁরা এই বানানটি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বাংলাদেশ- এই বানান যেহেতু সবাই ব্যবহার করছেন সেইদিকে থাকাই ভাল। এগুলো নিয়ে অনেক হেজামনি আছে। এক সময় বাংলাদেশ বানান করার সময় বাংলা এবং দেশ একসাথে ছিল না। এটা হয়ত জানেন। সব পেরিয়ে আমরা এখন বাংলাদেশ বানানে লিখি।

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

ং এবং ঙ এর ব্যাপারটা তো অই পোস্টেই বলেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো একাদেমির মতে দুটো বানানই শুদ্ধ- সুতারাং যে কেউ একটা বেছে নিতে পারে।
আমি কী উদ্দেশ্যে লিখি তা নিশ্চয় আপনার কাছে পরিষ্কার? বাংলা এবং দেশ মিলিয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হলে (তার-ও পূর্বে বঙ্গদেশ বা বাঙলাদেশ-কে পরিবর্তন করে) আরেকটু সহজ ও সুন্দর করার জন্য (ও ভাষিক সংগতির জন্য) বাঙলাদেশ ব্যবহারে আপত্তি নেই; আমার।
তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে (কিঞ্চিৎ আশঙ্কা-ও) যে আপনার কাছে আমাকে হাস্যম্পদ হিসেবে থাকতে হবে। আমি দুঃখিত।

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

তুলিরেখা এর ছবি

কবি-কবি লেখা।
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

তুলিদি', আপনি নিজেই একজন কবি।

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

আশরাফ ভাই, লেখাটা খুবই চমৎকার। মানে গদ্যের কথা বলছি।
তবে সঙ্কোচ নিয়েই বলি, এরকম কাব্যময় গদ্যের সাথে সায়েন্স ফিকশন একটু অসুবিধা লাগবে পাঠকের। ভিন্ন একটা স্টাইল সন্দেহ নেই। চমৎকার নিরীক্ষা নিঃসন্দেহে।
তবে কাব্যময় গদ্য মনে একটা অন্যরকম মুডের জন্ম দেয়। সেখানে এই অতিবিজ্ঞান টার্মগুলোতে হোঁচট খেতে হয়।
আর আপনি আসলে একটানা এতগুলো সায়েন্স ফিকশনের বিষয় এনেছেন, সেটা পড়তে এবং বুঝতেই সময় লেগে যাচ্ছে বেশ খানিক। এতগুলো টার্ম আসলে উপন্যাসে ব্যবহার করলেই ভালো। একটা ছোট গল্পে এত জিনিস মাথায় নেয়া কঠিন।
আমার মতামত বললাম। আপনি পজিটিভলি নেবেন কাইন্ডলি।
আপনার গদ্য বড় দারুণ। এটা একটা মজার জিনিস, এরকম গদ্যে সায়েন্স ফিকশন পড়া। স্রেফ একটামাত্র দুর্দান্ত টুইস্ট দিয়ে, আর কোনো সায়েন্সের এত নতুন নতুন জটিলতায় আমাদের মতো মুখ্যু পাঠককে না ফেলে আরেকটা গল্প দিন না!
সায়েন্স ফিকশনের একটা নতুন ধারা দেখতে পাচ্ছি! হাসি
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

কাব্যময় গদ্য কিনা জানি না, আমার লেখালেখি এরকমই। অন্যমুড জন্ম দিলে তো ভালো, শুধু সেটা ধনাত্নক হলে হবে।
লেখালেখির ক্ষেত্রে আমার প্রিয় উপকরণের যোগান হলো পরাবাস্তব। তবে আমি বাস্তবের সাথে একটা মিলবন্ধন রাখি, রাখতে চাই। বিজ্ঞানকে শুধু নিরসহীন বিজ্ঞান হিসেবে কিংবা সাহিত্যকে শুধু মনভোলানো সাহিত্য হিসেবে নিতে আমার দ্বিধা আছে। লেখালেখির ক্ষেত্রে সে প্রভাবটা আসে।
অনেকগুলো টার্ম না হলে-ও বিষয় একটাই- নিউরনগুচ্ছ পুনঃস্থাপিত করে স্মৃতিবিপর্যয় ঠেকানো। বিপ্লব, সমাজ, জাতি এসব হেনতেন এসেছে কাহিনীর জন্য। হ্যাঁ, আপনি সঠিক- আরো বিশদাকারে লেখা যেতো। এব্যাপারে আমার সীমাবদ্ধতা আছে- একটু আলসে টাইপের। একারণে উপমা, ঈশারা-ইঙ্গিতে কাজ সারি।
এখন একটা প্রশ্ন। আপনি কি এই লেখা পাঠে একটু অস্বস্তি ছাড়া অন্য কোন অসুবিধায় পড়েছেন? মানে সায়েস ফিকশন যেরকম হয় তারচেয়ে অন্যরকম হলে একজন পাঠক হিসেবে আপনার মূল্যায়ন কী হবে তা জানালে উপকৃত হতাম।
আর নিজের লেখালেখির ব্যাপারে যেকোন সমালোচনা খোলামনে নিই। অনেকে গালি দিলে-ও ধন্যবাদ দিই।
আপনার মন্তব্য মাথায় রইল, অনেক কাজে লাগবে। বিনীত।
==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

আশরাফ ভাই, সায়েন্স ফিকশন লিখতে গেলে এখন আমরা একটা টাইপেই লিখি। সেটা হচ্ছে মুহাম্মদ জাফর ইকবালীয় টাইপ।
উনি অনেক ভালো লেখেন, সন্দেহ নেই। কিন্তু বাংলা ভাষার বিজ্ঞান ভিত্তিক কল্পকাহিনী আরো অনেক ভালো এবং ভিন্নধর্মী লেখকের অপেক্ষায় আছে।
একটা ব্যাপার বলি।
সায়েন্স ফিকশনের যে জিনিসটায় আমরা দ্রবীভূত হই, সেটা হচ্ছে তার প্লট।
একটা দুর্দান্ত কাহিনী। তার মধ্যে একটা বা একাধিক টুইস্ট।
আর সায়েন্স ফিকশন তো আসলে সেই ঘটনাই যেটা এই সময়ের উপাদানে লেখা বা বোঝানো মুশকিল। এর জন্য চাই ভবিষ্যতের কাল্পনিক উপাদান।
নতুন ভাষাভঙ্গিতে তা লেখা সম্ভব বলেই আমি আপনার এই নিরীক্ষায় আগ্রহী এবং আশাবাদি।
তবে কাহিনীটা সেরকম চাই। টুইস্ট চাই। বিজ্ঞানের সেই চমক চাই। যুক্তি দিয়ে এমন একটা নাটকীয় জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেবেন পাঠককে, টেনশনে হাত ঘেমে যাবে।
জাফর ইকবাল তো খুব সরল ভাষায় লেখেন। আরো অনেক রকম ভাষাতেই সায়েন্স ফিকশন লেখা সম্ভব। আপনি একটা ভাষা দেখাবেন সেই প্রত্যাশায় আছি। আছি মগজে কামড় দেয়া প্লটের অপেক্ষায়।
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

কাহিনীতে টুইস্ট আনতে গেলে গল্পের অবয়ব বিশদ হয়ে যায়, সেটা একটু পীড়াদায়ক। তবে পাঠককে আমি টেনশনে রেখে হাত ঘামানোর পক্ষপাতি না, বরং পাঠোত্তর সে একটু ভাবুক (সেটা ভাষা, বিজ্ঞান, আঙ্গিক যেকোন কিছু নিয়ে হতে পারে) এটুকু চাওয়া।
মহাত্মা জাফর ইকবালের যেমন আশরাফ মাহমুদ হয়ে উঠা হবে না, তেমনি আমার-ও জাফর ইকবাল হয়ে উঠা হবে না; বড়জোর আমি তার রাজ্যে জমিবিস্তার করতে পারি- কিন্তু অযাচিত কিছুতে আমি আগ্রহী নই।
আপনার মন্তব্য মাথায় থাকল। দেখি ভবিষ্যতে প্লটের দিকে মনোযোগী হব। ফলোআপের জন্য কৃতার্থ।

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

অনন্ত [অতিথি] এর ছবি

কবিতার মত সায়েন্স ফিকশন! অন্য রকম লাগল। বিষয়বস্তু নিয়ে আমারো আগ্রহ আছে। এরকম আসলেই একসময়ে সম্ভব হবে।
আর সাধারণ পাঠক হিসেবে আমিও "বাঙলাদেশ" লেখা দেখতে অভ্যস্ত না, যদিও নিয়মকানুন তেমন জানি না।

সবশেষে, আপনি ঈ অনুচ্ছেদের একদম শেষে অরন্য লিখতে গিয়ে অনন্ত লিখেছেন হাসি

===অনন্ত===

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

সম্ভব হলে তো মানবজাতির জন্য শুভ কিছু। বাঙলাদেশ আমার কাছে কোমল লাগে, একটু আদুরে মনে হয়। আর কয়েকটা কারণ উপরে বলা হয়েছে। আগ্রহ থাকলে এই পোস্টে-ও উঁকি দিতে পারেন।
ঠিক করলাম। শুভকামনা, অনন্ত।

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

অতিথি লেখক এর ছবি

নিরীক্ষার প্রশংসা করছি ।
তবে গল্পটার না!

স্নায়ুকোষ , নিউরণগুচ্ছ,ভ্রাম্যফোন বাংলা টার্ম গুলা কেন যেন খাপ খেল বলে মনে হল না মন খারাপ

আমি পড়ে আরাম পাই নি ।
আপনার অন্য সব গদ্য পড়া হয় নিয়মিতই ।
ভাল ও লাগে ।
কিন্তু এখানে হোঁচট খেয়েছি ।

তবে এই ধারার কি হয় আগ্রহ নিয়ে দেখব অবশ্যই!
কারণ আমি সাই ফাইএর পাংখা!!

বোহেমিয়ান

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

স্নায়ুকোষ, নিউরনগুচ্ছ ইত্যাদি তো আমি নিজেই পড়েছি হাই ইস্কুলে পড়ার সময়! (প্রাসঙ্গিক যে এরপর আমি প্রবাসে)। আর ভ্রাম্যফোন আমার বানানো- ওয়্যারলেস ফোন বা মোবাইল ফোনের জন্য। আমি নির্মলেন্দু'র মুঠোফোন শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম একটা গল্পে, একজন বলল যে নিজে একটা শব্দ বানাও।
সম্ভবত আপনাকে বলেছি যে আমি বাঙলা ভাষায় ইংরেজি শব্দের অহরহ নষ্টামিতে উৎসাহ বোধ করি না (কারণগুলো পূর্বে বলেছি)।
পাংখা হলে ভালো, আমার আবার তালপাখার বাতাস ভালো লাগে। চোখ টিপি

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

নীল রোদ্দুর এর ছবি

অরণ্য নামটা আমার খুব বেশী প্রিয়... কাউকে এই নাম ব্যবহার করতে দেখলে মনে হয়... ইস, আমার প্রিয় নামে ডেকে ফেলল... মন খারাপ
বাচ্চা মেয়ে কিনা আমি!

আমি অনেক দিন ধরেই নতুন ধরনের সাইন্সফিকশন পড়তে চাচ্ছিলাম... আজ পেয়ে গেলাম একটা, সাথে একটা নতুন স্টাইল। দুইটার জন্য আলাদা করে অনেক ধন্যবাদ দিতে চাই। হাসি

অরণ্যের রিভলবার ... ব্যাপারটা মানতে পারলাম না... একদমই না। মানুষ এভাবে থেমে গেলে পৃথিবী আমৃত্যু থেমেই থাকবে। এইভাবে থেমে যাওয়া কাপুরুষতা। মন খারাপ.
--------------------------------------------------------
যখন প্রাণের সব ঢেউ
জেগে ওঠে, কথা বলে, রক্তের আশ্চর্য কলরবে
বৃষ্টির দুপুরে মনে পড়ে
বর্ষার মতন গাঢ় চোখ মেলে তুমি আছ দু'দিনের ঘরে।।
[শামসুর রাহমান]

-----------------------------------------------------------------------------
বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

নীল, মনছোঁয়া মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। অরণ্য নিয়ে সিরিজ করার ইচ্ছে আছে। অনেকটা মাসুদ রানা টাইপের- একেকটা গল্পে একেক কাহিনী কিন্তু নায়ক একই। এরপূর্বে-ও একটা গল্প লিখেছিলাম।

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

নীল রোদ্দুর এর ছবি

তাইলে আমি কি করব! আমিও তো অরণ্য সিরিজ করার প্ল্যানে ছিলাম। ইতিমধ্যে একটা লিখে বসে আছি। আমার নাম পছন্দ হলে লিখতে গেলে শুধু ঐ নামই চলে আসে। কয়দিন অর্ণবে ধরছিল। অরণ্য কে তখন গুপ্তধনের মত রেখে দিছিলাম...

অক্কে, চালায় যান... দুইজনের দুই অরণ্য নিয়ে মাঝে মাঝে আলোচনায় বসা যাবে.. দেঁতো হাসি.

এক্ষনি একপ্রস্থ হয়ে যাক, আমার অরণ্য স্বপ্নবাজ। আপনার অরণ্য তো বস, শুধু শেষটাই না মরলেই হত... দেঁতো হাসি
--------------------------------------------------------
যখন প্রাণের সব ঢেউ
জেগে ওঠে, কথা বলে, রক্তের আশ্চর্য কলরবে
বৃষ্টির দুপুরে মনে পড়ে
বর্ষার মতন গাঢ় চোখ মেলে তুমি আছ দু'দিনের ঘরে।।
[শামসুর রাহমান]

-----------------------------------------------------------------------------
বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

হা হা। আচ্ছা, আমি তাহলে অন্য আরেকটা নাম পছন্দ করে নেব।
অরণ্য কি বিশেষ কেউ? চোখ টিপি হা তা তো সত্যি! সে তো মরে গেছে! আগে খেয়াল করা উচিত ছিল। মন খারাপ

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

নীল রোদ্দুর এর ছবি

না না, আরেকটা নাম খুঁজে নিলে তো দুই অরণ্য কে নিয়ে আলোচনায় বসা যাবে না।

আর অরণ্য? মস্তিস্কের নিউরন গুলো তো অবশ্যই বিশেষ। অরণ্য একটা ক্যানভাস, যেখানে আমি ছবি আঁকি। আমি না আঁকলে ক্যানভাসটা কষ্ট পায়। হাসি.
--------------------------------------------------------
যখন প্রাণের সব ঢেউ
জেগে ওঠে, কথা বলে, রক্তের আশ্চর্য কলরবে
বৃষ্টির দুপুরে মনে পড়ে
বর্ষার মতন গাঢ় চোখ মেলে তুমি আছ দু'দিনের ঘরে।।
[শামসুর রাহমান]

-----------------------------------------------------------------------------
বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

বুঝতে পারলাম, উপলব্ধি করলাম। হাসি

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

দুর্দান্ত এর ছবি

সুন্দর গল্প। একই গল্পে টাই-লুঙ্গীর সাথে সৌরশক্তি-জিনগবেষনা দেখবো ভাবিনি। তবে কল্পকাহিনী তো।
---
আপনি ত্রিপুরা গেছেন? সেখানের লোকে বাঙালী (আসলে বেশীরভাগই কুমিল্লার) লোকেদের কি ভাবে জানেন? কল্পনার রাজ্যে যদি গন্ডগোল একটা লেগেই যায়, তাহলে কে কার থেকে ভেঙে আসতে চাইবে, এটা নিয়ে আরো অনেক দৃশ্যকল্প হতে পারে, কি বলেন?
---
রাজনৈতিক কল্পনাটা বোঝা গেছে, কিন্তু বৈজ্ঞানিক কল্পনা কোথায়? ২০৩০ এ কেন, এখানে যা যা বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের আভাষ পেলাম, তা তো আজকেই আছে। নাকি কিছু ভুল বুঝলাম?

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

টাই-লুঙ্গীর ব্যাপারটা অতি সাধারণ। ঢাকায় অরণ্য ফুলবাবু- টাই পরে; ত্রিপুরায় নরনাথের কাছে লুঙ্গী সহজলভ্য- অরণ্য অতিথি হিসেবে সম্মান করেছে।
সৌরশক্তির ব্যাপারটা চায়ের (স্নায়বিক গবেষণা) সাথে বিস্কুট। চোখ টিপি
===================
ত্রিপুরা যাই নি। আপনার মন্তব্যে আগ্রহ পেলাম। একটু বিস্তারিত বললে উপকৃত হব।
===================
আমি যতদূর জানি এখনো পর্যন্ত এই প্রযুক্তি সহজলভ্য কিংবা সাফল্যজনক নয়। তবে অনেকে এই বিষয়ে গবেষণায় হাত দিয়ে থাকতে পারেন। শুনেছি অর্থায়ন, নৈতিকতা, রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বিষয়টি এখনো পরিকল্পনায়। আপনি কি সুনির্দিষ্ট কিছু পাঠ করেছেন?

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার আইডিয়াটাকে প্রশংসা করতেই হবে! প্রথাগত সাইন্স ফিকশন থেকে ভিন্নধারার আইডিয়া হাততালি!
উপরে অনেক অনেক সুন্দর মন্তব্য এসেছে, আমি শুধু এটুকু যোগ করতে চাই যে, গল্পটি কিন্তু পাঠক-ফ্রেন্ডলি নয়!
অর্থাৎ, গল্পের ঘটনাপ্রবাহের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সাধারন পাঠককে বেশ খানিকটা ঘাম ঝরাতে হচ্ছে!

আমি আপনার লেখা খুব পছন্দ করি! এবং আমি আশা করি ভবিষ্যতে আপনারও একটা গল্প-সঙ্কলন আমরা বইমেলায় পাব (ইতিমধ্যেই কিছু বের হয়েছে কিনা, এটা অবশ্য জানি না দেঁতো হাসি)! আমার অনুরোধ থাকবে, আপনার সেই গল্প-সঙ্কলনে এই গল্পটিকে অবশ্যই রাখবেন, কিন্তু একটু ঘষা-মাজা করে নিয়েন, যাতে পাঠক বেশ সহজেই গল্পটার ভেতরে ঢুকে যেতে পারে!

যাই হোক, বেশ শিগগিরই কিন্তু এরকম সাইন্স-ফিকশন আরো আশা করছি আপনার কাছ থেকে!

কাকুল কায়েশ

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

হা হা, অক্কে অক্কে, সবার মন্তব্য কাজে লাগবে।
না, আমার কোন গল্প সংকলন বের হয় নি। মূলত ব্লগে আর লিটল-ম্যাগসমূহে লেখালেখি করি আপাতত। দেশে না যেতে পারার কারণে বই প্রকাশে বিঘ্ন ঘটছে।
ভালো থাকবেন।

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

তমিজ উদদীন লোদী এর ছবি

ভালো লাগলো।

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

বিনীত।

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।