ডেনীয় প্রণরেনী

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি
লিখেছেন আশরাফ মাহমুদ (তারিখ: শনি, ১৯/০৩/২০১৬ - ৯:০৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


তার সাথে কথাসন্ধি The Danish Girl চলচ্চিত্রটির প্রসঙ্গ ধরে অথবা আমাদের দুজনেরই পছন্দ এডি রেডমেইনের (Eddie Redmayne) অভিনয়। এডির সাথে আমার পরিচয় The Theory of Everything এর মাধ্যমে- হকিঙের বিভিন্ন লেখা ও আত্মকথা পড়ে তার জীবনকে আমি যেভাবে কল্পনা করে নিয়েছিলিম সেটি ফুটিয়ে তুলেছিলো এডি চমৎকারভাবে; এমনকি হকিং অনেক সাক্ষাৎকারে এডির প্রসংশা করেছে তাকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করেছে বলে।

সে বলে, দেখো, আমি বলি, আচ্ছা। তারপর নিজের স্বভাব বশে ডুবে যাই কাজে, হার্ডডিস্কে সংশোধিত স্মৃতির মতো এখনো জমানো আছে প্রায় ৩০০+ চলচ্চিত্র, দেখার সময় নেই, অথবা সময় দেখা দেয় না। সিগারেট শেষ হয়ে এলে ফুরিয়ে যাওয়ার বেদনাবোধ থেকে আরেকটি সিগারেট ধরানোর মতো তার সাথে কথা বাড়ানো উপায় হিসেবে এই চলচ্চিত্র দেখতে বসে যাই। দুইদিনে শেষ হয় এই ঘন্টা দুয়েকের চলচ্চিত্র, আমি যে ছিলাম গতজন্মে কচ্চপের কুড়ানো অবসর।


আমার একটা বাজে অথবা অদ্ভুত স্বভাব আছে। যেকোনো বই, চলচ্চিত্র ইত্যাদি পেলে আমি পড়া অথবা দেখা শুরুর করার পাশাপাশি শেষের উপসংকারটুকু পড়ে নিই অথবা দেখে নিই। হয়তো আমার কাছে গন্তব্যের চেয়ে ভ্রমণ ভালো লাগে এইসবে। আমি দেখি কীভাবে লেখক আমাকে সে সমাপ্তির দিকে ধাবিত করে, কীভাবে চলচ্চিত্রকার আমার মনোযোগ ধরে রাখে- দেখাও তোমার জাদু, কী সে মকশো। সমাপ্তি হচ্ছে যে এডি অথবা লিলি মারা যায় শেষে।


The Danish Girl ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র, প্রেমময়- তবে এই প্রেম কেবল শরীরের নয়; মনের-ও, শরীর ও মনের টানাপোড়েন নিয়ে, যেখানে ভ্রান্তি আছে, অভিযোগ আছে, আছে অতল চিন্তার শেষে শূন্যতার ট্রেনের শব্দের মতো না-শোনা তুষারের গান। ইংরেজদের বানানো। পরিচালক টম হুপার ( Tom Hooper)। ২০০০ সালে প্রকাশিত ডেইভিড এবারশফের (David Ebershoff) এই নামের উপন্যাস অবলম্বনে, তবে গভীর চাঞ্চল্যের বিষয় এটি ডেনীয় চিত্রশিল্পী-যুগল লিলি এল্বে (Lili Elbe) এবং গার্দা ওইগেনারের (Gerda Wegener) জীবনকে মোটাদাগে ভিত্তি করে । এডি রেডমেইন লিলি চরিত্রে, এলিসিয়া ভিকান্ডার (Alicia Vikander) ওইগেনার চরিত্রে অভিনয় করেন।


যখন দেশে ছিলাম তখন আমাদের বাসার সামনের দোকানগুলোর একটি ছিলো ফুলের দোকান, বিয়ে জন্মদিন অনুষ্ঠানাদিতে ফুল সরবরাহ করে, কনে বর বিয়ের গাড়ি ঘর কামরা এইসব সাজায়; নাম ছিলো মজনু পুষ্পালয়। সেখানে সুমন নামে এক আঁকিয়ে কাজ করতো, তার কাজ ছিলো সাইনবোর্ড কারুকাজ ইত্যাদি করা। আমি চিত্রশিল্প তেমন বুঝি না, কিছু ভালো লাগলে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকি, মনের মাঝে একটি বিজন ধূসর ঘাসের মাঠ জেগে ওঠে, সেখানে কিনারা নেই, যেনো আমি হাঁটছি, কোনো শব্দ নেই, নিজের হাঁটা পায়ের শব্দ-ও নেই, অথচ বুকের ভেতর কী এক প্রবল আবেগ হুহু করা- নয়ের নামতা ভুলে মার খাওয়া বাচ্চা ছেলেটির বেদনা নিয়ে কী এক অদম্যতায় হেঁটে যাই, আর পিছনে ফিরে ফিরে তাকাই, চিত্রশিল্প মানে আমার কাছে এইটুকু, গোপন সরল পাপের মতো একান্ত। সে বিচারে সুমন ভালো ছবি আঁকতো না, অর্থাৎ ভ্যান গগ-পিকাসো-জয়নুল-সুলতান-ডালির শতাংশের চল্লিশ-ও নয়। তবে সে আমার চেয়ে ভালো আঁকতো। আমার জীবনে কিছু গোপন বেদনা আছে, অন্যতম হলো ছবি আঁকতে না পারা আর গান বাজনা করতে না পারা। সুমন আমার এই গোপন বেদনাকে আরো প্রলুব্ধ সজাগ উসকে দিয়েছিলো- হয়তো সে কারণে তার সাথে আমার বন্ধুত্বতা হয়, যদিও বয়েসে সে আমার কাছ থেকে চার কি পাঁচ বচ্ছর বড় ছিলো, যদিও সে আমার মতো ভালো ছেলেদের মতো ইস্কুলে যেতো না, যদিও সে সিগারেট খেতো দুদারসে, যদিও তার মা ছিলো না। তবুও আমাদের বন্ধুত্বতা হয়েছিলো।

কয়েক বছর পরে আমাদের পাকা দালান হবে বলে সেইসব দোকান উঠিয়ে দেয়া হয়েছিলো, সুমনদের মজনু পুষ্পালয় অন্য কোনো লাইলীর টানে অন্যত্র ঠাঁই নিয়েছিলো, আমাদের যোগাযোগ কমে, বন্ধুত্বতা অনেক তাপে চুম্বকের চুম্বকত্ব হারানোর মতো হারিয়ে যায়। একদিন, প্রায় বছর দুয়েক বাদে, শুনি সুমন আত্মহত্যা করেছে। আমি মনাহত হয়েছিলাম, অবাক হই নি, সৃষ্টিশীল একজন মানুষ আত্মহত্যা করেছে এটি আমাকে অবাক করে না, আমি নিজেকে-ও চিন্তা করেছি্লাম দুয়েক বা তিনেক অনেক আগে। আমি শুধু সেদিন সারা বিকেল সন্ধ্যে সারা শহর হেঁটেছিলাম, যেনো আমি পেরিয়ে যাচ্ছি ধূসর ঘাসের ময়দান, হাঁটছি, কোনো শব্দ নেই, নিজের হাঁটা পায়ের শব্দ-ও নেই, অথচ বুকের ভেতর কী এক প্রবল আবেগ হুহু করা...


লাজুক স্বভাবের লিলির সাথে ওইগেনারের পরিচয় চিত্রবিদ্যালয়ে, ওইগেনারই আগবাড়িয়ে কথা বলে, আমন্ত্রণ জানায়, অবশেষে চুম্বন বিয়ে। ওইগেনার টের পায় এডি বা লিলির "অস্বাভাবিকতা" অর্থাৎ সে পুরুষ হয়ে-ও তার ভেতরে পুষে রাখা নারীর কথা অনেক পরে। ওইগেনারের চিত্রের জন্য এডি বা লিলি প্রায় মেয়ে সেজে অঙ্গবিন্যাস করতো, ওইগেনার জানতো না কী এক দুর্বার চঞ্চলতায় যেনো পরমাণবিক বোমায় একটি নিউট্রন দিয়ে শুরু করা যে বিভাজন হাজার লাখ নিউট্রনকে মুক্ত করে দেয় তেমনি সে লিলিকে জাগিয়ে তোলে, তার ভেতরের নারীটিকে, যে একবার জেগেছিলো এক বাল্যবন্ধুর খেয়ালি চুম্বনে, অতপর এভাবে। ওইগেনার প্রথমে যৌনক্রিড়ার একটি অংশ হিসেবে এডির লিলি সাজা বা নারীদের পোষাক পরাকে মেনে নিলে-ও ক্রমশ সে তার স্বামীকে ফিরে পেতে চায়...

Gerda Wegener: I need to see Einar.
Lili Elbe: Let me help, please.
Gerda Wegener: I need my husband, can you get him?
Lili Elbe: I can't.
Gerda Wegener: I need to talk to my husband, and I need to hold my husband. Can you at least try?
Lili Elbe: I'm sorry.

অথচ লিলি ততোদিনে নিজেকে আবিষ্কার করে নিয়েছে, নিজের আবেগ কামনা অভিসার ইত্যাদি উদ্দেশ্য ওইগেনারকে গিয়ে নয়, সে অন্যকে চায়, অন্য পুরুষকে, যেহেতু সে নারী। ওইগেনার আর সে পাড়ি জমায় প্যারিসে, চিত্রপ্রদর্শনীর জন্য। ওইগেনার লিলির সেই বাল্যবন্ধুকে খুঁজে বের করে, তাদের মাঝে এক তরঙ্গ জেগে ওঠে, তবে ওইগেনার তখনো লিলিকে ভালোবাসে, লিলিকে চায়, সে নিজেকে সামলে রাখে। লিলি এখানে এই ডাক্তারের কাছে ওইখানে অই মনোবিজ্ঞানীর কাছে ধরণা দেয় নিজেকে নিজের মতো করে পাবার জন্য। অবশেষে একজন তুখোড় প্রগতিশীল সার্জনের দেখা মেলে, সে নিজের লিঙ্গপরিবর্তনের জন্য অপারেশন করায়। সবাই তাকে বিদায় জানায় ইস্টিশনে।

তার সেই বাল্যবন্ধু বলে,

Hans Axgil: I've only liked a handful of people in my life, and you've been two of them.

সে টিকে না, হারিয়ে যায়। ওইগেনার উড়িয়ে দেয় লিলির ওড়না, মুক্ত বাতাসে, সমুদ্রের কাছে, পাহাড়ে, যেসব দৃশ্য উঠে এসেছিলো লিলির চিত্রকলায়। সে ওড়না উড়ে যায়, যেনো লিলি হারিয়ে গিয়ে-ও অনেক মুক্ত বিহঙ্গ, আকাশের শামিয়ানা যার বিস্তার, যেনো এতোদিনে সে শরীরের উর্ধ্বে উঠে এসেছে।


সে এক অন্ধপাখি, রৌদ্রকল্লোলে সে ঘুরে ফিরে হিলিয়াম-লঘু ছেঁড়া পালকের স্মৃতি নিয়ে...
যে শরীরে সে সেই নেই
সে কেবল যন্ত্রণাকমল, বুঝবে না এই শরীরে কে জেগে থাকে অন্য শরীরমন- আস্বাদের আলপিন বিদিয়ে;
জলে ভাসা এক্রিলিকের বিন্যাসের মতো চেতনা, এই টানাপোড়েন
অন্তর্লীন মোমসন্ধ্যের গায়ে হেলান দেয়া সমুদয় চাহনিসংকট
কে উঁকি দিয়ে চাইলে দৃশ্যের পানসি
ভেসে যায় যতো স্বপ্নহীন মানুষের সব নৈশস্নিগ্ধতা


চলচিত্রটির মূল উপাদ্য হচ্ছে রূপান্তরকামি বা ট্রান্সসেক্সুয়ালদের (transsexual) মানসিক সংগ্রাম যাপনের অসহায়ত্ব। সেক্স বা যৌনচিহ্ন হচ্ছে একজন ব্যক্তির জৈবিক বা শারীরিক গঠনচিহ্ন, অর্থাৎ শারীরিকভাবে নারী বা পুরুষ হওয়া- যেমন পুরুষদের শিশ্ন মেয়েদের যৌনি থাকা ইত্যাদি। অন্যদিকে লিঙ্গ হচ্ছে ব্যক্তি নিজেকে কী মনে করে- নারী না কি পুরুষ, সে নারী হয়ে-ও নিজেকে ভেতরে পুরুষ ভাবতে পারে, পুরুষ হয়ে-ও নিজেকে নারী ভাবতে পারে। সমাজবিজ্ঞান অবশ্য লিঙ্গের আরো ব্যাপক সংজ্ঞা দেয়- সংস্কৃতি ও প্রথাকেন্দ্রিক অবস্থা আচার ইত্যাদি মিলিয়ে, যেমন পুরুষরা অনেক সংস্কৃতিতে পরিবারের কর্তা ইত্যাদি। লিঙ্গপরিচয় ব্যাধি (gender identity disorder) হচ্ছে আপনার জৈবিক যৌনগঠনের সাথে আপনার লিঙ্গের গরমিল অনুভব করে মানসিকভাবে ভোগা, অর্থাৎ আপনি শারীরিক গঠন অনুসারে পুরুষ হলে-ও (পুংজননেন্দ্রি়) আপনি নিজেকে নারী ভেবে মানসিক দুরাবস্থায় ভুগলে। এদেরকে রূপান্তরকামি বলে, অনেকে অবশ্য সঠিকভাবে পুরুষ-থেকে-নারী রূপান্তরকামি (male-to-female transsexuals) ও নারী-থেকে-পুরুষ রূপান্তরকামি (female-to-male transsexuals) হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন, অনেকে রূপান্তরকামি শব্দটাই পছন্দ করেন না। আমাদের মনোবিজ্ঞানীদের বাইবেল বা কোরান ডিএসএম-৫ (DSM-V; Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders by American Psychiatric/Psychology Association, APA) অনুসারে লিঙ্গপরিচয় হচ্ছে বিপরীত-লিঙ্গের সাথে নিজেকে খুব শক্তিশালীভাবে ও অটলভাবে সনাক্ত করা, এই ব্যক্তি নিজের জৈবিক বা জন্মগত যৌনতা নিয়ে গভীর অস্বস্তি অস্বচ্ছন্দতায় ভুগেন এবং বিপরীতলিঙ্গের একজন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। যেমন, করিম জন্মগতভাবে পুরুষ হলে-ও সে নিজেকে নারী বা মেয়ে ভাবে এবং মনে করে সে যদি নারী হতে পারতো, এইসব চিন্তা তাকে কুরে কুরে খায়, মানসিক অশান্তিতে রাখে। এই ধরণের ব্যক্তিরা মনে করেন যে তারা "ভুল শরীরে বসবাস" করছেন, এবং অনেকসময় তারা এতো বেশি মানসিক অশান্তি বা চাপে ভুগেন যে তারা ঠিক মতে "স্বাভাবিকভাবে" কাজ করতে পারেন না। একটি বিষয় মনে রাখা দরকার যে লিঙ্গপরিচয় ব্যাধিকে যৌনপ্রবৃত্তি বা যৌনঝোঁক বা যৌনাকর্ষণের (sexual orientation/sexual attraction) সাথে তালগুলিয়ে না ফেলা, লিঙ্গপরিচয় ব্যাধির ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিপরীত লিঙ্গের একজন হতে চান, অন্যদিকে যৌনাকর্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিপরীত লিঙ্গ বা সমলিঙ্গের প্রতি যৌনলিপ্সা অনুভব করে।

অনেক বাবা-মা তাদের শিশুসন্তানদের মজা করে আদর করে বিপরীত লিঙ্গের জামাকাপড় পরান বা বিপরীত লিঙ্গের একজনের মতো আচার-আচরণ করতে নিষেধ করেন না, এটি কিন্তু স্বাভাবিক, অনেক বাচ্চারাও খেলার বশে এইসব করে, এতে দোষের কিছু নেই। অনেকক্ষেত্রেই বয়েস বাড়ার সাথে সাথে এইসব আর থাকে না, তবে লিঙ্গপরিচয় ব্যাধিতে ভোগা অনেক প্রাপ্তবয়ষ্ক ব্যক্তিই ছোটবেলায় এইসব সাজগোজ বা আচার আচরণের কথা বর্ণনা করেন, যেমন, ছোট একটি ছেলেশিশু বারবি পুতুল নিয়ে খেলা করে নিয়মিতভাবে। দেখা যায় যে এই ব্যাধিতে ভোগা অনেক ছেলেরাই নিজেদের সমকামী বা দ্বিকামী (bisexual) হিসেবে চিহ্নিত করেন বড় হলে (Zucker & Bradley, 1995), অনেক গবেষক মনে করেন যে বাচ্চাদের লিঙ্গপরিচয় ব্যাধিতে রোগনির্ণয় (diagnosis) না করা, কারণ অনেক বাচ্চারাই কৈশোরে বা প্রাপ্তবয়ষ্ক হলে এই ব্যাধিতে আর ভুগে না (Lev, 2005)। তবে কৈশোর বা প্রাপ্তবয়ষ্ক যেসব ব্যক্তি এই ব্যাধিতে ভুগেন তারা সাধারণ তাদের পছন্দের লিঙ্গের মতো সাজতে স্বাচ্ছদ্যবোধ করেন, তবে বিপরীতভূষিত বস্তুকামের (transvestic fetishism) তুলনায় এই ব্যাধিতে যারা ভুগেন তারা প্রকৃতই বিপরীত লিঙ্গের পোশাক ও সজ্জায় স্বাভাবিকবোধ করেন, কিন্তু বিপরীতভূষিত বস্তুকামের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিপরীত লিঙ্গের মতো সাজেন যৌনোদ্দেজনা বা যৌনানন্দের জন্য (Buhrich & McConaghy, 1978)। আত্মনারীপ্রীতি (autogynephilia) হচ্ছে নিজেকে একজন স্ত্রীলোক বা নারী হিসেবে কল্পনা করে যৌনভাবে উত্তেজিত হওয়া বা যৌনানন্দ লাভ করা, অনেক গবেষক একে লিঙ্গপরিচয় ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করেন না।

লিঙ্গপরিচয় ব্যাধি কিন্তু অনেক দুর্ল্ভ। যদিও এই বিষয়ে গবেষণা অনেক কম, তবে নেদারল্যান্ডের এক গবেষণা দেখা গেছে যে প্রায় ১১৯০০ পুরুষে একজন এবং প্রায় ৩০৪০০ নারীতে একজন লিঙ্গপরিচয় ব্যাধিতে ভুগেন, তবে যেহেতু এই ব্যাধিকে ঘিরে অনেক সামাজিক লজ্জা বা কলঙ্ক কাজ করে এবং অনেক দেশে (মুসলিম দেশগুলোতে) এটিকে সহজভাবে নেয় না সেসব দেশে বা সেইসব ক্ষেত্রে অনেকে নিজেকে সামাজিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন না লিঙ্গপরিচয় ব্যাধিতে ভোগা একজন হিসেবে (Bakker, van Kesteren, Gooren, & Bezemer, 1993)। সাধারণ ২-৪ বছর বয়েসের মাঝেই বাবামায়েরা তাদের সন্তানের এই 'অস্বাভাবিকতা' ঠাহর করেন। ২৭৫ টি রেফারেলের উপর ভিত্তি করে প্রাপ্ত গবেষণা মতে লিঙ্গপরিচয় ব্যাধি সাধারণত ছেলেদের মাঝে মেয়েদের তুলনায় প্রায় ৬.৬ গুণ বেশি (Zucker, Bradley, & Sanikani, 1997)। Zucker এবং অন্যান্যদের (1997) মতে এর কারণ হয়তো সামাজিক, কারণ সামাজিকভাবে হয়তো ছেলেদের ব্যবহারে এই বিপরীতলিঙ্গের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়, কিন্তু মেয়েদের বেলায় হয়তো অনেক বেশি সীমা অতিক্রম করতে হয়, কিংবা মেয়েটিকে হয়তো ইঁচড়েপাকা হিসেবে দেখা হয়, অস্বাভাবিকভাবে নয়। আবার সাম্প্রতিককালে চালচলনের কারণে মেয়েরা ছেলেদের পোশাক পরলে সেটিকে দোষের কিছু হিসেবে দেখা হয় না, বরং 'আধুনিক মেয়ে' হিসেবে দেখা হয়, অথচ ছেলেদের ক্ষেত্রে এমনটি নয়।

লিঙ্গপরিচয় ব্যাধিতে আক্রান্ত অনেক ব্যক্তিই প্রায় উদ্বেগ বা দুশ্চিতায়, এবং বিষণ্নতায় ভুগেন। ছোটবেলায় লিঙ্গপরিচয় ব্যাধি দেখা দিলে এটি ও বিচ্ছেদজনিত উদ্বেগ ব্যাধি (separation anxiety disorder) একত্রে দেখা দিতে পারে (Bradley & Zucker, 1997)।

সাম্প্রতিক গবেষণা নির্দেশ করে যে লিঙ্গপরিচয় ব্যাধির অনেক জৈবিক কারণ আছে। নিউরোইমেজিং গবেষণায় দেখা গেছে যে যৌন উদ্দীপক বস্তু বা ছবির ক্ষেত্রে এবং মানসিক কাজের ক্ষেত্রে পুরুষ-থেকে-নারী রূপান্তরকামিদের স্নায়ুবিক তৎপরতা বা সক্রিয়তা (brain activation) বিষমকামি পুরুষদের তুলনায় ভিন্ন, যদিও এইসব গবেষণার অন্যতম ক্রুটি হচ্ছে ছোট স্যাম্পল সাইজ এবং রূপান্তরকামি রোগীদের নেয়া হরমোন চিকিৎসার প্রতিক্রিয়ার প্রভাব (Schoning et al., 2010; Gizewski et al., 2009)।

মনে করা হয় যে গর্ভকালীন অবস্থায় বিভিন্ন যৌন হরমোনের আধিক্য অথবা স্বল্পতার কারণে কিংবা হরমোনের পরিমাণের উনিশ-বিশ হওয়া লিঙ্গপরিচয় ব্যাধির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। মানুষ ও অন্যান্য অনেক শ্রেষ্ঠ বর্গভুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের যেসব সন্তানের মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে সেক্স হরমোন গ্রহণ করেন বিভিন্ন কারণে সেইসব সন্তানরা প্রায় বিপরীত লিঙ্গের মতো আচরণ করেন কিংবা তাদের শারীরিক কোনো না কোনো ক্রুটি দেখা দেয়, যেমন, যেসব মেয়েদের মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে সংশ্লেষিত প্রোগেস্টিন (progrestin; পুরুষালি হরমোনের পূর্বপদার্থ (precursor)) গ্রহণ করেন গর্ভকালীন জরায়ুসংক্রান্ত রক্তপাত এড়ানোর জন্য সেইসব মেয়েরা প্রায় "টমবয়" বা "গেছোমেয়েদের" মতো আচরণ করে প্রাকবিদ্যালয়ে (Ehrhardt & Money, 1967)। এবং যেসব বাচ্চাছেলেদের মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে মেয়েলি হরমোন গ্রহণ করেছেন তাদের ছেলেরা কম ক্রীড়াপারদর্শী হয়ে থাকে এবং তারা তাদের ছেলেবন্ধুদের তুলনায় রুক্ষ বা হাতাহাতি ধরণের খেলায় কম অংশগ্রহণ করে থাকে (Yalom, Green, & Fisk, 1973)। যদিও এইসব ছেলেমেয়েরা লৈঙ্গিক আচরণের ক্ষেত্রে 'অস্বাভাবিক' রকমের নয়, কিন্তু তাদের মাঝে বিপরীত লিঙ্গের আচরণ বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। যদিও গর্ভকালীন অবস্থার যৌন হরমোন মাপা অনেক দুরূহ এবং বাচ্চা ও মায়ের জন্য বিপদজনক হতে পারে, একটি মোটামুটি বিকল্প উপায় হচ্ছে যে তর্জনী ও অনামিকার তুলনামূলক দৈর্ঘ্য মনে করা হয় যে গর্ভের এন্ড্রোজনের (androgen) পরিমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট (Manning, Scutt, Wilson, & Lewis-Jones, 1998)। পুরুষ-থেকে-নারী রূপান্তরকামিদের ক্ষেত্রে, তর্জনী ও অনামিকার তুলনামূলক দৈর্ঘ্য অ-রূপান্তরকামি পুরুষদের তুলনায় মেয়েদের তর্জনী ও অনামিকার তুলনামূলক দৈর্ঘ্যের মতো হয়ে থাকে (Schneider, Pickel, & Stalla, 2006)। যদিও আঙুলসমূহের তুলনামূলক দৈর্ঘ্য একটি ব্যাপক জনপ্রিয় পরিমাপ, তবে গর্ভাবস্থার এন্ড্রোজেন পরিমাণ নির্ণয়ের মাধ্যম হিসেবে এর নির্ভরতা ও সঠিকতা এখনো আরো ব্যাপক গবেষণার বিষয়ক ও সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। তবে দেখা গেছে যে দুই শ্রেণীর রূপান্তরকামিরাই (পুরুষ-থেকে-নারী ও নারী-থেকে-পুরুষ) এবং লিঙ্গপরিচয় ব্যাধিতে ভোগা ছেলেরা সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় বেশিভাগ ক্ষেত্রে বাঁ-হাতি হয়ে থাকে (Zucker, Beaulieu, Bradley, Grimshaw, & Wilcox, 2001)।

এছাড়া সাম্প্রতিক গবেষণা ক্রোমোজোমাল ও শারীরবৃত্তীয় অস্বাভাবিকতাকে-ও নির্দেশ করে। যেমন- নারী-থেকে-পুরুষ রূপান্তরকামিদের ক্ষেত্রে তাদের শরীর অধিক পরিমাণে পুরুষালি হরমোন তৈরি করে (Dessens, Slijper, & Drop, 2005)।

পরিবেশের প্রভাব-ও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সাক্ষাৎকার ও ব্যক্তিগত আলোচনা থেকে দেখা যায় যে লিঙ্গপরিচয় ব্যাধিতে আক্রান্তদের ছোটবেলায় বিপরীত লিঙ্গের আচরণকে নিষেধ করা হয় নি, ক্ষেত্রবিশেষে উৎসাহিত-ও করা হয়েছে, যেমন, নারী আত্মীয়াগণ হয়তো মেয়েলি ধরণের বাচ্চাকে বউ সাজান অথবা মায়ের মতো করে সাজিয়ে তুলেন, এইসব ঘটনা নিয়মিত বা বেশি ঘটলে সেটি বাচ্চাদেরকে তাদের জৈবিক লিঙ্গ ও লৈঙ্গিক আচরণের ক্ষেত্রে দ্বিধান্বিত করতে পারে।

একটি কথা মনে রাখা দরকার যে লিঙ্গের ধারণা সামাজিকভাবে গঠিত। অধিকাংশ দেশ ও সংস্কৃতিতে নারী ও পুরুষ এই দুই যৌন শ্রেণি থাকলে-ও অনেক সংস্কৃতি বা দেশে এর রকমভেদ আছে, যেমন বাঙলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ডে আন্তঃযৌনচিহ্নের ব্যক্তি বা হিজড়াদের দেখা মেলে। অন্যান্য অনেক মানবিক আচার-ব্যবহার, শারীরিক গঠন ইত্যাদির প্রকাশ একটি সন্ততি (Continuum) ধরে ঘটে তেমনি মানুষের যৌনতা, যৌনতার প্রকাশ ইত্যাদিও একটি সন্ততি ধরে ঘটে, সাদাকালোর মতো দ্বিবাচক নয়।

সামাজিক চৈতন্য পরিপ্রেক্ষিত (social cognitive perspective) অনুসারে, মানুষের লিঙ্গ ধারণা গড়ে ওঠে সমাজের অন্যান্য সদস্যদের পর্যবেক্ষণলব্ধ শিক্ষা থেকে, অন্যান্যদের আচার ব্যবহার দেখে, নিজের আচারব্যবহারের প্রতি অন্যান্যদের প্রতিক্রিয়া কী কী, এবং পরিবার ও সমাজ দ্বারা লিঙ্গ-অনুযায়ী অনুমোদিত ব্যবহারের জন্য পুরষ্কৃত ও তিরষ্কৃত হওয়ার মাধ্যমে (Bussey & Bandura, 2004)। যেমন একটি নির্দিষ্ট বয়েসের পরে ছেলে "পুরুষদের" মতো কাজ করলে বা পুরুষদের মতো সাজলে সবাই বাহ বাহ করে কিংবা "বাবা বা মায়ের মতো সাজা" ইত্যাদি। এইসব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চাপ সাধারণ ছেলেমেয়েদেরকে তাদের নিজ নিজ লিঙ্গ-অনুযায়ী অনুমোদিত ব্যবহারে "বাধ্য" করে। কিন্তু, এতো কিছুর পরে-ও ক্ষেত্রবিশেষে, লিঙ্গপরিচয় ব্যাধিতে ভোগা ব্যক্তিগণ মনের করেন যে তারা বিপরীত লিঙ্গের একজন, এবং তারা ভুল শরীর নিয়ে আছেন।

অন্যান্য মানসিক বৈকল্য বা ব্যাধির ক্ষেত্রে আমরা মনোবিজ্ঞানিরা চেষ্টা করি রোগীর চিন্তাচেতনার ধারা, আবেগ অনুভূতিকে পরিবর্তন করতে, অনেকক্ষেত্রে আচরণ পরিবর্তনের জন্য-ও চেষ্টা করা হয়। তবে লিঙ্গপরিচয় ব্যাধিতে আক্রান্তদের জন্য সর্বোত্তম চিকিৎসা হচ্ছে ব্যক্তি নিজেকে যে লিঙ্গশ্রেণির সদস্য মনে করে সেই লিঙ্গে পরিবর্তন করা, অর্থাৎ করিম নিজেকে নারী মনে করলে হরমোন চিকিৎসা, লিঙ্গপরিবর্তন সার্জারির মাধ্যমে তাকে নারী হতে দেয়া, তার মনের সাথে শরীরের মিল তৈরি করা। মনোচিকিৎসা বা সাইকোথেরাপি দিলে-ও সেটি মূলত রোগিকে নতুন লিঙ্গের আনুষঙ্গিক অবস্থা, চিন্তা চেতনা ব্যবহার ইত্যাদির সাথে সামঞ্জস্য বা তাল মিলিয়ে চলানোর জন্য সাহায্য করা, এবং সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে পুরো ব্যাপারটিকে ঘিরে সমাজ ও পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া অনাকাঙ্খিত অবস্থা, অসদাচরণ, অনুভূতিগত বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা বা খাপ খাইয়ে চলতে শেখানো।

ছেলেমেয়ে এবং কিশোরকিশোরিদের জন্য বিদ্যমান চিকিৎসা অনেক বিতর্কীয় বিষয়। অনেকে মনে করেন এইসব চিকিৎসা ছেলেমেয়েদের উপযোগী নয় বা অনৈতিক এবং এতে করে শিশু কিশোরদের উপর সমাজের বেঁধে দেওয়া যৌনতা বা লিঙ্গের ধারণাকে চাপিয়ে দেয়া হয়। তবে এটি সত্য যে ছেলেমেয়ে বা কিশোরকিশোরিরা যদি তাদের লিঙ্গ-ভূমিকার সাথে সামঞ্জস্য সুসংগত আচরণ করে তবে বন্ধুবান্ধব ও অন্যান্যদের কাছে থেকে কম সমস্যার মুখোমুখি হয়ে বা আন্তর্সম্পর্কীয় সমস্যা কম দেখা দেয়।

অনেক মনোবিজ্ঞানি আবার মনে করেন যে ছোট থেকেই ইন্টারভিন করা ভালো, যদি ছোট থাকতেই ছেলেমেয়েদেরকে সাহায্য করা যায় তবে তারা বড় হতে হতে সহজে খাপ খাইয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে তারা লিঙ্গ পরিবর্তন করলে-ও রূপান্তরটি তাদের জন্য অপেক্ষাকৃত "সহজ" বা কমঝামেলার হয়।

যেহেতু লিঙ্গপরিবর্তনের অস্ত্রচিকিৎসা সারাজীবনের একটি সিদ্ধান্ত, এবং ফেরার পথ নেই একবার পা বাড়ালে- অনেক অস্ত্রচিকিৎসক দ্বিধাবোধ করেন এই অস্ত্রচিকিৎসা করতে। বর্তমানে World Professional Assoication for Transgender Health এর Standards of Care for Gender Identity Disorders (2001) উল্লেখিত নির্দেশনামা অনুসারে রূপান্তরকামিদের চিকিৎসা পদ্ধতি যাছাই করা হয়। এই নির্দেশনামা অনুসারে কিছু কিছু শর্ত অবশ্যই পূরণ হওয়া লাগবে লিঙ্গপরিবর্তনের অস্ত্রচিকিৎসার আগে- যেমন, লিঙ্গপরিচয় ব্যাধি সংক্রান্ত রোগনির্ণয়, এক বা অধিক মনোচিকিৎসক থেকে পরামর্শ নেয়া বা তাদের সাথে কাজ করা, এবং অস্ত্রচিকিৎসার আগে কমপক্ষে এক বছর হরমোন চিকিৎসা থাকাকালীন বিপরীত লিঙ্গের একজন হিসেবে বাস করা বা আচরণ করা। কিছু কিছু গবেষকদের মতে অনেক রোগি নানা ভুল তথ্য দেন বা ঘটনা বর্ণনা করেন অস্ত্রচিকিৎসার জন্য মনোনীত হতে, যেমন, অনেকে বলেন যে ছোটবেলা থেকে তাদের এই অসুখ বা তাদের জন্য বিষয়টি অসহ্যকর বা তাদের কোনো বিপরীতভূষিত বস্তুকাম নেই, কিংবা তারা সমকামী অথবা তারা এমন কিছু রোগি বা ঘটনা খুঁজে বের করেন যাদের অবস্থা তাদের অনুকূলে কাজ করে, যেমন, 'আমার এক বন্ধু, রহিম, লিঙ্গপরিবর্তন করেছে এক বছর আগে, সেই থেকে সে সুখী আছে, আমি-ও সুখী হতে চাই, আমার-ও লিঙ্গপরিবর্তনের অস্ত্রচিকিৎসা করা দরকার' ইত্যাদি (Lev, 2005)। তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, লিঙ্গপরিবর্তনের অস্ত্রচিকিৎসা মানসিক ও শারীরিকভাবে স্বাভাবিক ও ধনাত্মক ফলাফল বয়ে আনে, এবং অনেকের যৌন কার্যক্ষমতার উন্নতি হয় (Klein & Gorzalka, 2009)। যদিও কিছু কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা-ও ঘটে তবে সেইসব অস্ত্রচিকিৎসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে, যেটিতে প্রত্যক্ষভাবে কিছু করার থাকে না বা আগে থেকে টের পাওয়া যায় না।


পুরো চলচিত্রে যে ব্যাপারটি আমার কাছে আশ্চর্য মধুময় মনে হয় তা হলো লিলিকে ঘিরে ওইগেনারের সমর্থন ও সহায়তা, মানসিকভাবে তাকে ঠেক দেয়া। এমন জীবনসঙ্গী পেলে জীবন অনেক নির্ভার হয়ে যায়। নিজেকে অকুল নদীর মতো ঘুরেফিরে লিলির ঘাটে জড়ো করা।

চলচিত্রের নিমার্ণ ভালো, ক্যামেরা বা দৃশ্যায়ন চমৎকার, তবে অস্কার বা বড় পুরষ্কার পাওয়ার মতো মানের নয়, দেখে চোখের আরাম হয়, আসক্তি আসে না। কিছু কিছু চিত্রায়ন দেখে মনে হয় সেই সময়, ১৯২০-১৯৩০ কে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টায় কিছুটা কমতি ছিলো, বিশেষত সামাজিক অবস্থাকে উন্নত ও মানুষের মিথস্ক্রিয়াকে বড় বেশি প্রাঞ্জল মনে হয় অথচ সেই সময়ের অবস্থা একটু অবনতির দিকে হওয়ার কথা।

একটি জিনিস চলচিত্রকার চমৎকার তুলে ধরেছেন, মানসিক ব্যাধি বা রোগের চিকিৎসাব্যবস্থা ও সেই ব্যাধিকে ঘিরে মানুষের প্রতিক্রিয়া ও চিন্তাভাবনা। মনোবিজ্ঞানের ইতিহাসে কিছু কালো দাগ আছে। রেডিয়েশন বা তেজস্ক্রিয়া ব্যবহার করে রোগ সারানো, মানসিক রোগ মাত্রই ভয়ংকর এই ভাবনা নিয়ে ব্যক্তিকে চার দেয়ালে আটক করে রাখার প্রবণতা, কিংবা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলা বা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দেয়া ইত্যাদি; এইসব বেশ ভালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।


সুমনা, কতোটা কথার সূত্র ধরে কার্পাসের দেশে উড়ে আসে যূথ বরফের রেণু...

তথ্যসূত্র

American Psychiatric Association. (2013). Diagnostic and statistical manual of mental disorders (DSM-5®). American Psychiatric Pub.

Bussey, K., & Bandura, A. (2004). Social Cognitive Theory of Gender Development and Functioning.

Bradley, S. J., & Zucker, K. J. (1997). Gender Identity Disorder: A Review of the Past 10 YearsG. Journal of the American Academy of Child & Adolescent Psychiatry, 36(7), 872-880.

Bakker, A., Kesteren, P. V., Gooren, L. J., & Bezemer, P. D. (1993). The prevalence of transsexualism in the Netherlands. Acta psychiatrica scandinavica, 87(4), 237-238.
Buhrich, N., & McConaghy, N. (1978). Two clinically discrete syndromes of transsexualism. The British Journal of Psychiatry, 133(1), 73-76.

Buhrich, N., & McConaghy, N. (1978). Parental Relationships during Childhood in Homosexuality, Transvestism and Transsexualism*. Australian and New Zealand Journal of Psychiatry, 12(2), 103-108.

Dessens, A. B., Slijper, F. M., & Drop, S. L. (2005). Gender dysphoria and gender change in chromosomal females with congenital adrenal hyperplasia. Archives of Sexual Behavior, 34(4), 389-397.

Ehrhardt, A. A., & Money, J. (1967). Progestin‐induced hermaphroditism: IQ and psychosexual identity in a study of ten girls∗∗. Journal of Sex Research, 3(1), 83-100.

Gizewski, E. R., Krause, E., Schlamann, M., Happich, F., Ladd, M. E., Forsting, M., & Senf, W. (2009). Specific cerebral activation due to visual erotic stimuli in male-to-female transsexuals compared with male and female controls: an fMRI study. The journal of sexual medicine, 6(2), 440-448.

Klein, C., & Gorzalka, B. B. (2009). Continuing Medical Education: Sexual Functioning in Transsexuals Following Hormone Therapy and Genital Surgery: A Review (CME). The Journal of Sexual Medicine, 6(11), 2922-2939.

Lev, A. I. (2006). Disordering gender identity: Gender identity disorder in the DSM-IV-TR. Journal of Psychology & Human Sexuality, 17(3-4), 35-69.

Manning, J. T., Scutt, D., Wilson, J., & Lewis-Jones, D. I. (1998). The ratio of 2nd to 4th digit length: a predictor of sperm numbers and concentrations of testosterone, luteinizing hormone and oestrogen.Human reproduction, 13(11), 3000-3004.

Schneider, H. J., Pickel, J., & Stalla, G. K. (2006). Typical female 2nd–4th finger length (2D: 4D) ratios in male-to-female transsexuals—possible implications for prenatal androgen exposure.Psychoneuroendocrinology, 31(2), 265-269.

Schöning, S., Engelien, A., Bauer, C., Kugel, H., Kersting, A., Roestel, C., ... & Heindel, W. (2010). Neuroimaging differences in spatial cognition between men and male-to-female transsexuals before and during hormone therapy. The journal of sexual medicine, 7(5), 1858-1867.

Yalom, I. D., Green, R., & Fisk, N. (1973). Prenatal exposure to female hormones: Effect on psychosexual development in boys. Archives of General Psychiatry, 28(4), 554-561.

Zucker, K. J., & Bradley, S. J. (1995). Gender identity disorder and psychosexual problems in children and adolescents. Guilford Press.

Zucker, K. J., Bradley, S. J., & Sanikhani, M. (1997). Sex differences in referral rates of children with gender identity disorder: Some hypotheses. Journal of Abnormal Child Psychology, 25(3), 217-227.

Zucker, K. J., Beaulieu, N., Bradley, S. J., Grimshaw, G. M., & Wilcox, A. (2001). Handedness in boys with gender identity disorder. Journal of Child Psychology and Psychiatry, 42(6), 767-776.

ব্যক্তিগত ব্লগে পূর্বপ্রকাশিত


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

চমৎকার লেখা, ছবিটা আপনাকে নাড়া দিয়েছে দেখা যাচ্ছে হাসি

আমি নিজে ১০ মাস বয়সী একটি মেয়ের বাবা, তাই আপনার লেখার এই অংশটুকু আমার মনোযোগ কেড়ে নিলো

অনেক সাক্ষাৎকার ও ব্যক্তিগত আলোচনা থেকে দেখা যায় যে লিঙ্গপরিচয় ব্যাধিতে আক্রান্তদের ছোটবেলায় বিপরীত লিঙ্গের আচরণকে নিষেধ করা হয় নি, ক্ষেত্রবিশেষে উৎসাহিত-ও করা হয়েছে, যেমন, নারী আত্মীয়াগণ হয়তো মেয়েলি ধরণের বাচ্চাকে বউ সাজান অথবা মায়ের মতো করে সাজিয়ে তুলেন, এইসব ঘটনা নিয়মিত বা বেশি ঘটলে সেটি বাচ্চাদেরকে তাদের জৈবিক লিঙ্গ ও লৈঙ্গিক আচরণের ক্ষেত্রে দ্বিধান্বিত করতে পারে।

আমার কন্যাটির জন্মের আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম, "মেয়ে" বলতেই আমাদের মনে যে সীমাবদ্ধতাগুলি ভেসে ওঠে, সেগুলো সচেনভাবে এড়িয়ে গিয়েই তাকে মানুষ করার চেষ্টা করবো। যেমন "মেয়েরা এগুলো করে না, মা!" অথবা "আম্মু, মেয়েরা পুতুল নিয়ে খেলে, আর ছেলেরা গাড়ি", "মেয়েরা এতো জোরে শব্দ করে না, মা!" এই ধরনের কথাগুলো কখনৈ বলবোনা। বাচ্চার জন্মের আগেই পাওয়া কার-সীট/স্ট্রলার/খেলনা/জামা/কাঁথা খেয়াল করে দেখলাম, সবই গোলাপী রং এর! একটু আতংকিত হয়ে সব রংএর জিনিস কেনা শুরু করলাম।

আমাদের দেশে কেন জানি "পুর্ণাঙ্গ মানুষ"এর ধারণাটির সাথে "নারী" ধারণাটির মিল কম, বরং "পুরুষ" ধারণাটির মিল বেশী; তাই আমি মেয়েটিকে "পূর্ণাঙ্গ মানুষ" বানানোর চেষ্টা করতে গিয়ে দেশী "পুরুষ" ধারণাটির দিকে ঠেলে দিচ্ছি কিনা, সেটা মাঝে মধ্যে আমাকে ভাবায়। আপনার কথাগুলো আবারো ভাবালো।

এটুকু বুঝি, মানুষের একেকটি পরিচয় আসলে মানুষকে একটু আশ্রয়ের অনুভূতি দেয়। তার বাবা-মা কে, তার রাষ্ট্র কোনটি, তার ধর্ম কী এই পরিচয়গুলির মতই, তার লৈঙ্গিক পরিচয়টাও তাকে একটু খুঁটি দেয়। সেই হিসাবে লৈঙ্গিক পরিচয়টার দরকার আছে। এখন সেই পরিচয়ের ব্যাপ্তি কতটা হওয়া উচিৎ, সেই পরিচয় এত বড় হওয়া উচিৎ কিনা যে সেটা আবার তার ব্যাক্তিত্বের অন্যান্য দিকগুলোকেও নষ্ট বা পরিবর্তন করে ফেলে----সেটাই প্রশ্ন।

-----দিফিও

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

দুঃখিত অনেক দেরিতে উত্তর দিচ্ছি বলে।

আপনাকে সাধুবাদ আপনি আপনার মেয়েকে মানুষ হিসেবে বড় করতে চাচ্ছেন, কেবল নারী বা মেয়ে হিসেবে নয়। আমি-ও এই ধারণায় বিশ্বাস করি।
আপনি আমার লেখার যে অংশটি উদ্ধৃত করেছেন সেটি নিয়ে ভাবার বিষয় কিছু নেই। আপনার শরীরের তাপমাত্রা একটু বেশি বেড়ে গেলে কিংবা হালকা জ্বর হলেই যেমন বোঝায় না যে আপনি ক্যান্সার বা এইডসসে আক্রান্ত তেমনি লৈঙ্গিক ধারণার বাইরের যেকোনো আচরণ নির্দেশ করে না যে সেই ব্যক্তি লিঙ্গপরিচয় ব্যধিতে আক্রান্ত। বিষয়টা নির্ভর করে মাত্রা ও কতো বেশি হচ্ছে তার উপর। এই ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেকে অন্য লিঙ্গের একজন মনে করেন এবং তার শারীরিক লিঙ্গ পালটিয়ে অন্য লিঙ্গের একজন হতে চান। আমি কাউকে খুশি করা কিংবা ঘটনাবশত মেয়েদের মতো একদিন পোশাক পরলে যেমন পুরুষত্ব হারাবো না, তেমনি আপনার মেয়ে গোলাপি রঙ পছন্দ না করলে সে মেয়ে বা নারী বা স্ত্রীলৈঙ্গিক ধারণাকে ধারণ করে না এটি ভুল।

আর বাচ্চারা সাধারণ ৩-৫ বছরের আগে জেন্ডার ধারণাকে ততো বেশি শক্তভাবে ধারণ করে না, ৭-১০ বছরের সময়ে সেই ধারণায় কিছুটা ফেক্সিবিলিটি-ও আসে।

আশা করি আপনাকে উত্তর দিতে পারলাম।

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ উত্তরের জন্য!

---দিফিও

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।